বিনোদনের নামে ধর্মীয় পোশাকে কটাই-কাট্টুস আলীর নষ্টামি, জমিয়তের তীব্র প্রতিবাদ

বিনোদনের নামে ধর্মীয় পোষাকে নষ্টামির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সিলেট জেলা ও মহানগর জমিয়তের নেতৃবৃন্দ। রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে জমিয়ত নেতারা বলেছেন, দীর্ঘদিন থেকে সিলেটের বাসিন্দা হয়ে সিলেটি ঐতিহ্য রক্ষার নামে দাঁড়ি-টুপি, পাঞ্জাবি ইত্যাদি পোশাক নিয়ে ব্যাঙ্গ করে যাচ্ছে কটাই মিয়া আর কাট্টুস আলী নামের নাটকবাজরা। দিন দিন তাদের অপসংস্কৃতির মাত্রা বেড়েই চলেছে। যা আধ্যাত্মিক রাজধানী সিলেটের মুসলমানদের জন্য অশনিসংকেত।

বিবৃতিতে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম সিলেট জেলার সভাপতি মাওলানা শায়খ জিয়া উদ্দিন, মহানগর সভাপতি মাওলানা খলিলুর রহমান, জেলার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আতাউর রহমান, ও মহানগরের সাধারণ সম্পাদক হাফিজ মাওলানা ফখরুজামান এক বিবৃতিতে এসব অপসংস্কৃতির তীব্র প্রতিবাদ ও এদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য সিলেটবাসীর প্রতি আহবান জানান।

কনেযাত্রী এলেন বরের বাড়ি: প্রথা ভেঙ্গে বিয়ে করে আলোচনায় যে দম্পতি

কনে খাদিজা আক্তার খুশি এবং বর তরিকুল ইসলাম জয়।ছবির কপিরাইটUJJWAL MASUD
Image captionকনে খাদিজা আক্তার খুশি এবং বর তরিকুল ইসলাম জয়।

বাংলাদেশে বিয়ের যে প্রচলিত প্রথা সেটা ভেঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে চুয়াডাঙ্গার সদ্য বিবাহিত এক দম্পতি।

গত শনিবারের এই বিয়ের ছবি এবং ভিডিও ফেসবুকে অনেকেই শেয়ার করছেন।

বাংলাদেশের চিরাচরিত নিয়মানুযায়ী বর তার আত্মীয়-স্বজনসহ অন্যান্য সহযাত্রীদের নিয়ে কনের বাড়ি যান বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে। এবং সেখান থেকে কনেকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন।

কিন্তু চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলার হাজরাহাটি গ্রামের মেয়ে খাদিজা আক্তার খুশি এক্ষেত্রে উল্টো কাজটি করেছেন।

তিনি তার সহযাত্রীদের নিয়ে মেহেরপুর জেলার গাঙনি পৌরসভার চৌগাছা গ্রামের ব্যবসায়ী তরিকুল ইসলাম জয়ের বাড়িতে হাজির হন বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে।

বিয়ের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্রথাগতভাবে বিয়ের অনুষ্ঠানস্থলের প্রবেশমুখে যেভাবে বরকে বরণ করা হয়, তেমনি এই বিয়েতেও কনেকে ফুলের মালা পরিয়ে, মিষ্টি খাইয়ে বরণ করে নেন বরপক্ষের আত্মীয় স্বজন।

দেখুন ব্যতিক্রমধর্মী এই বিয়ের ভিডিও:

ব্যাতিক্রমধর্মী এই বিয়ে দেশজুড়ে বেশ সাড়া ফেলেছে

এরপর বর কনে আসনে বসে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। সব অতিথিদের আপ্যায়ন শেষে সন্ধ্যার দিকে বরকে নিয়ে কনে চলে যান তার বাবার বাড়িতে।

ব্যতিক্রমধর্মী এই বিয়ের অনুষ্ঠানকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উৎসাহের কমতি ছিলনা বলে জানিয়েছেন সেখানকার এক সাংবাদিক।

বিয়ের অনুষ্ঠান দেখতে বরের বাড়িতে যেমন উৎসাহী জনতা ভিড় ছিল তেমনি কনের বাড়িতে অনেক মানুষ জড়ো হন বলে তিনি জানান।

এই প্রথার বাইরের বিয়ের প্রস্তাবটি আসে মূলত বর তরিকুল ইসলাম জয়ের বাবা আবদুল মাবুদের পক্ষ থেকে।

“আমার বাবা ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সেক্রেটারি। তিনি অনেক জায়গায় বক্তব্য দিতে গিয়ে নারী পুরুষের সমান অধিকারের কথা বলেছেন। এবং তিনি কাজেও সেটা প্রমাণ করার জন্য আমাকে এভাবে বিয়ে দেয়ার চিন্তাভাবনা করেন।” বলেন বর তরিকুল ইসলাম।

তারা চেয়েছেন এই বিয়ের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নারী পুরুষের বৈষম্য দূর করার একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে।

এ ব্যাপারে কনে খাদিজা আক্তার বলেন, “ছেলেরা যদি পারে মেয়েদেরকে বিয়ে করে নিয়ে আসতে তাহলে মেয়েরা কেন পারবেনা। নতুন সিস্টেমে বিয়ে করতে পারে আমি অনেক খুশি। প্রথমে ভেবেছিলাম এভাবে বিয়ে করবো, ঠিক হবে কিনা। কিন্তু পরে আমি রাজী হই। এমন আনকমনভাবে বিয়ে এর আগে আর কেউ করেনি। বিয়েতে এজন্য অনেক আনন্দ হয়েছে।”

শুরুতে দুই পরিবারের আত্মীয়-স্বজন এবং পাড়া-প্রতিবেশী আপত্তি জানালেও পরে তারা রাজী হন। এবং সাদরেই এই প্রস্তাবকে গ্রহণ করেন।

বিয়ে বাড়ির অতিথিদের সঙ্গে বর কনে।ছবির কপিরাইটUJJWAL MASUD
Image captionবিয়ে বাড়ির অতিথিদের সঙ্গে বর কনে।

“অনেকে কোর্টে গিয়ে বিয়ে করেন, অনেকে মসজিদে বিয়ে করেন। আমরা ধর্ম মতে বিয়ে করেছি। কাজী ছিলেন, সাক্ষীরা ছিলেন। সেভাবেই বিয়ে রেজিস্ট্রি হয়েছে। বিয়ের আসল আনুষ্ঠানিকতা তো এটাই। সেটা তো আমরা ঠিকভাবেই করেছি। এখন অনুষ্ঠান কিভাবে হল না হল, সেটা নিয়ে কারা কী ভাবল, কী বলল সেটা আমাদের দেখার বিষয় না। একেক মানুষ একেকরকম ভাববে, এটা যার যার ব্যাপার” বলেন বর মিঃ ইসলাম।

বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে ফেরার সময় কনে ও তার পরিবার সাধারণ শোক বিহ্বল হয়ে কান্নাকাটি করেন।

কিন্তু এই বিয়েতে তাহলে ফেরার পরিবেশ কেমন। সেটা নিয়েও মানুষের আগ্রহের শেষ নেই।

এ ব্যাপারে মি: ইসলাম বলেন, “মা-বাবাকে ছেড়ে যেতে কষ্ট হয়েছে। তাদেরকে সালাম করে দোয়া চেয়ে ফিরেছি। পুরুষ মানুষ, সহজে চোখে পানি আসেনি ঠিক কিন্তু কষ্ট হয়েছে। তাই চুপচাপ ছিলাম।”

পুরুষ শাসিত সমাজে নারী পুরুষের সমান অধিকারের বহিঃপ্রকাশে এই প্রথা ভেঙ্গে বিয়ে করার বিষয়টিকে প্রতীকী বলে জানিয়েছেন কনে খাদিজা আক্তার।

বরের বাড়ি।ছবির কপিরাইটUJJWAL MASUD
Image captionচুয়াডাঙ্গায় বরের বাড়িতে সম্পন্ন হয় বিয়ের সব আনুষ্ঠানিকতা।
Design a site like this with WordPress.com
Get started