জয় ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, লেখক সম্পাদক

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির সভাপতি শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক রব্বানীকে সরিয়ে আল নাহিয়ান খান জয়কে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং লেখক ভট্টাচার্যকেসাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর)রাতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার পর এমন তথ্য জানা যায়।

দলটির সম্পাদকমণ্ডলীর একাধিক নেতা দাবি করেন, বর্তমান সভাপতি মো. রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে সরিয়ে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে কেন্দ্রীয় এই দুইনেতাকেদায়িত্ব দেয়া হয়।

এর আগে বেশ কিছু বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন শোভন ও রব্বানী।

ছাত্রলীগের পদ হারালেন শোভন ও রাব্বানী

ছাত্রলীগের পদ হারালেন শোভন ও রাব্বানী

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পদ হারালেন রেজওয়ানুল হক শোভন ও গোলাম রাব্বানী।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হলেন আল-নাহিয়ান খান জয় ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হলেন লেখক ভট্টাচার্য।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী পদত্যাগ করেছেন। শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর হাতে পদত্যাগ পত্র তুলে দেন তারা। বেশ কয়েকটি বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে আগে থেকেই সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন এই দুই নেতা।

গণভবন সূত্র জানায়, পদাধিকার বলে আল নাহিয়ান খান জয় ছাত্রলীগের ১ নম্বর ভাইস প্রেসিডেন্ট হওয়ায় সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন। আর লেখক ভট্টাচার্য এক নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক থাকায় তিনিই সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নিয়েছেন। তারা ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তাদেরকে দ্রুততম সময়ে সম্মেলন করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

বৈঠক সূত্র জানায়, শোভন-রাব্বানী সন্ধ্যায় গণভবন গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর হাতে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে যান। এ বিষয়ে পরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিস্তারিত বিফ্রিং করবেন।

পরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের জানান, ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটি বহাল থাকবে। কমিটির প্রথম সহ-সভাপতি ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ভারপ্রাপ্তের দায়িত্ব পালন করবেন। তারা ছাত্রলীগের কাউন্সিলের প্রস্তুতি গ্রহণ করবে।

উল্লেখ্য, বেশ কয়েকটি বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। গত ৭ সেপ্টেম্বর দলীয় ফোরামে ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতার বিষয়ে ক্ষোভও প্রকাশ করেছিলেন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক অভিভাবক ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিস্তারিত আসছে..

আমানি জু’মাং তাঁত’ নিয়ে গারো তরুণী মুনমুন নকরেক সিলখ্রিং-এর স্বপ্ন এবং এগিয়ে চলা

সেদিন জয়নাগাছা গ্রামে গিয়েছিলাম পীরেন স্নালের ছেলেমেয়ের খোঁজে, বাড়ির খোঁজে, তৎক্ষণাৎ চিন্তা করলাম, বেদুরিয়া গ্রামে গেলে কেমন হয়। যেই ভাবা সেই কাজ! বেদুরিয়া গ্রামে গিয়েই দেখি “আমানি জু’মাং তাঁত” খুব জোরেসরেই কাজ চলছে, গিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, কিসের কাজ চলছে? বললো,”চারটি উত্তরীয় অর্ডার আছে “। মনে মনে ভাবলাম, বাহ বেশ তো, তাহলে ভালোই চলছে।

“আপসানের “কর্ণধার মুনমুন নকরেক সিলখ্রিং দ্বারা পরিচালিত এবং উনার ছোট বোন নিঝুম নকরেক দেখাশুনার দায়িত্বে আছেন ও নিজেদের মায়ের জন্য উৎর্গকৃত এই “আমানি জু’মাং তাঁত” কুটির শিল্প। এই তাঁত ঘরে আপাতোত দুজন গারো মেয়ে কাজ করছে।জানা মতে, ট্রেনিং অবস্থায় উনাদের চলার মতো প্রাথমিক অবস্থায় তিন হাজার টাকা করে দিবে, ট্রেনিং শেষ হলে টাকার পরিমাণ আরো বাড়বে।

নিঝুম নকরেকের সাথে অনেক কথা হলো, কথা ফাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, কোথা থেকে শিখেছেন, কত টাকা লেগেছে ইত্যাদি ইত্যাদি। দিদি বলতে লাগলো, তুলি চিসিম, সুমনা চিসি(মাসি) এর মাধ্যমে আসকি পাড়া থেকে শিখে এসেছে, চার মাসে শিখার জন্য ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এই বছরের মার্চ মাস থেকে শুরু করে আগস্টের ৮ তারিখ পর্যন্ত শিখে এসেছে। শেখার মধ্যে ছিল, গান্না, উত্তরী বাতরেং, কুটুপ প্রভৃতি। তাঁত ঘর থেকে ঘুরে এসে, মুনমুন নকরেক (দিদি) এর সাথে ফেইবুকে যোগাযোগে করি। উনার সাথে কথোপকথনে অনেক কিছু উঠে।

জাডিল মৃ- কাদের অনুপ্রেরণায় এই কাজগুলো করছেন?

মুনমুন নকরেক – উদ্যোক্তা হওয়ার অনুপ্রেরণা নকরেক আইটির। আর এখান থেকেই আপসান এর পথচলা এবং সেখান থেকেই তাঁত নিয়ে কাজ করার আগ্রহ। তাঁতের কাজে হাত দেওয়া মূলত নিজের একটা তাগিদ থেকেই।

জাডিল মৃ-এই কাজ কত দূর পর্যন্ত নিয়ে যেতে চান?

মুনমুন নকরেক-তাঁত নিয়ে আমার পরিকল্পনার অন্ত নেই। আমি তাঁতকে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে দিতে চাই ও যুগযুগ ধরে যাতে এই শিল্পটা বেঁচে থাকে তার জন্যে কাজ করার চেষ্টা করছি ও করবো।

জাডিল মৃ- ভবিষ্যতে কী কী করার পরিকল্পনা আছে?

মুনমুন নকরেক-তাঁতে পোশাক ছাড়াও আরও অনেক ধরনের পণ্য বা জিনিস তৈরি করা হবে। এছাড়াও ভবিষ্যতে দকমান্দা তৈরিরও প্লান আছে ছেলে ও মেয়েদের এবং পাশাপাশি অন্যান্য জাতির পোশাক নিয়েও কাজ করার স্বপ্ন আছে।

জাডিল মৃ– আপনি কতজনের জন্য কর্মস্থান করতে চান?

মুনমুন নকরেক -তাঁত মূলত ঐতিহ্যবাহী পোশাক সংরক্ষণের পাশাপাশি নারীদের কথা ভেবেই গড়ে তোলা। ব্যবসা লাভের উদ্দেশ্যে নয় বরং এর দ্বারা অসহায় ও উপায়হীন নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষে গড়ে তোলা। আমি চাই ঘরে ঘরে তাঁত হোক কিন্তু কর্মসংস্থান যদি বলেন আমি বলবো হাজারও অসহায় নারীর জন্যে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারলে আমি সৌভাগ্য মনে করবো নিজেকে।

জাডিল মৃ- আমানি জু’মাং তাঁতের লক্ষ্য উদ্দেশ্য কী?

মুনমুন নকরেকআমানি জুমাং তাঁতঘর এর একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হল আমাদের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প ও পোশাককে বাঁচিয়ে রাখা। নিজেদের জাতির মাঝে এর গুরুত্ব তোলে ধরা সেই সাথে পুরো বিশ্বের কাছে নিজের সংস্কৃতিকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া। এবং এর পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।

জাডিল মৃ- “আমানি জু’মাং তাঁত ” ক্রেতাদের জন্য নতুন কী কী উপহার দিবে?

মুনমুন নকরেক – আমানি জুমাং তাঁত ক্রেতাদের সবসময় নতুন কিছু উপহার দিতে চায়। সেটা সময়ের সাথে সাথে আমরা চেষ্টা করে যাবো। শুধু পোশাক নয় এছাড়াও অনেকগুলো পণ্য থাকবে তাঁতের তৈরি কাপড়ে কিন্তু নিজস্ব ডিজাইন অবশ্যই প্রাধান্য পাবে।

মুনমুন দিদি আরো বলেন, “দিন মজুরি ৩০০*৩০ হলে ৯০০০ হাজার।কিন্তু সেখানে ১৫/২০দিন কাজ করার সুযোগ পায়। সে হিসেবে এখানে প্রতিদিন একদিন রবিবারে ছুটি। সেই হিসেবে তাদের বেতন দিবো তবে প্রোডাকশন অনুসারে হবে। যেমন একটা গান্নার মূল্য ৫০০ হলে ১০০, ১০০০হলে ২০০, ১৫০০ হলে ২৫০,২০০০ হলে ৩০০ টাকা হবে তাদের পারিশ্রমিক” ।

আপসান”আচিক পণ্যের জনপ্রিতা ও চাহিদার কথা ইতিমধ্যেই আমরা সবাই জানি, উনারা যে পরিকল্পনা এবং বাস্তাবায়ন করে চলছেন, অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। ইতোমধ্যে উনারা উদ্যোক্তা হিসাবে নিজের জায়গা মজবুত করে চলছেন, তার পাশাপাশি কর্মস্থান সৃষ্টি করছেন। এমনি করে যদি আরো উদ্যোক্তা সৃষ্টি হয়, তাহলে আমাদের জাতির জন্য নিঃসন্দেহে গর্বের এবং আমাদের অর্থনীতির ভিতও মজবুত হবে।

: ফ

জাদিল মৃ : তরুণ লেখক ও ব্লগার

পশ্চিমা পোশাকে ‘দুঃসাহসী’ সৌদি নারী

পশ্চিমা পোশাকে ‘দুঃসাহসী’ সৌদি নারী মশিল আল জালোদ

রক্ষণশীল দেশ সৌদি আরবের নারীরা অনেক বিধি-নিষেধের মধ্যে থাকেন। অল্প কিছুদিন হলো সে দেশের নারীরা গাড়ি চালানোর অনুমতি পেয়েছে, অনুমতি পেয়েছে ব্যবসা করারও। তবে এসব অনুমতি দেওয়া হলেও পোশাকে কোনো ছাড় দেওয়া হয়নি। বাড়ি থেকে বের হলেই তাদের বোরকা পরতে হয়।এমন নিয়ম-নীতির দেশেই এবার এক সৌদি নারী পশ্চিমা পোশাকে শপিং মলসহ নানা ‘পাবলিক প্লেসে’ গিয়ে দুঃসাহসের পরিচয় দিয়েছেন।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম মেট্রো.কো.ইউকে’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদির এ ‘দুঃসাহসী’ নারীর নাম মশিল আল জালোদ। কোনো সংকোচ ছাড়াই তিনি সৌদির রাজধানী রিয়াদের একটি শপিং মলে পশ্চিমা পোশাকে ঘুরে বেড়ান।

গত ৩ সেপ্টেম্বর ৩৩ বছর বয়সী এ নারী রিয়াদে পশ্চিমা পোশাকে ঘুরে বেড়ালে সম্প্রতি তা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের নজরে আসে।মশিল আল জালোদ সেদিন কমলা রঙের ব্লেজার পরেছিলেন।ব্লেজারের সঙ্গে সাদা টি-শার্টও নজরে এসেছে সবার।

বোরখার আড়ালে সৌদি নারীদের চুল দেখা যেখানে অসম্ভব, সেখানে তিনি খোলা চুলে রিয়াদের রাস্তায় ও শপিং মলে ঘুরে বেড়ালেন। বোরকার জায়গায় তার এ পশ্চিমা পোশাক সৌদি আরবের সামাজিক বাস্তবতায় দুঃসাহসিক না বলে উপায় নেই।

পেশায় মানবসম্পদ উন্নয়ন কর্মকর্তা জালোদ নারী স্বাধীনতা নিয়ে নিজের মতো করে আন্দোলনে নেমেছেন। হিজাব, বোরকা ছেড়ে শার্ট, ট্রাউজার পরেই এখন তিনি চলাফেরা করেন, অফিসেও যাচ্ছেন।

জালোদের এমন পশ্চিমা পোশাক পরা দেখে সৌদির অনেক নারীই উৎসাহিত হচ্ছেন। পোশাকের বাইরে এখন সৌদি নারীদের রূপচর্চাতেও পরিবর্তন এসেছে। বাড়ির বাইরে পার্লারে গিয়ে তারা নিজেদের চেহারার যত্ন নিচ্ছেন, যা একসময় ভাবাই যেত না।সৌদি আরব সরকারও ইদানীং নারীদের বিষয়ে তাদের নীতি কোমল করছে। সৌদির ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানও নারীদের স্বাধীনতা দানে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছেন। সৌদি নারীদের জন্য হিজাব, বোরকা আর বাধ্যতামূলক রাখা হবে না বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন সৌদি প্রিন্স।

মার্কিন সেনাবাহিনীর অফিসার বাংলাদেশি আফিয়া

বাবা ও মায়ের সঙ্গে আফিয়া
আফিয়া জাহান পম্পি (২০)। ছোটবেলায় মা-বাবার সঙ্গে অভিবাসী হয়ে আমেরিকায় যান আফিয়া। এখন পরিবারের সঙ্গে ব্রুকলিনের চার্চ ম্যাকডোনাল্ডে থাকেন তিনি।

সেখানেই পড়াশোনা। পাশাপাশি সংস্কৃতিও চর্চা করেন। বর্তমানে ফার্মিং ডেল স্টেট কলেজের ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সের শেষ বর্ষের ছাত্রী আফিয়া।

আফিয়ার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলার জমালপুর গ্রামে। চট্টগ্রাম শহরে ব্যবসা করতেন আফিয়ার বাবা মেজবাহ উদ্দিন। এরপর প্রায় দুই দশক আগে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে চলে যান সপরিবারে।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই তরুণী এখন মার্কিন সেনাবাহিনীর অফিসার। আফিয়ার এ অর্জনে আপ্লুত মা নুরুচ্ছাবাহ বলেন, ‘আমার মেয়ের জন্য দোয়া করবেন।’

মা-বাবার মতোই নিজের কৃতিত্বে খুশি আফিয়া জাহান। তিনি বলেন, ‘আমেরিকা আমাদের দেশ। এ দেশকে আমি আমার কাজ দিয়ে কিছু দিতে চাই। এ প্রত্যয় আমার শৈশব থেকেই।’

আফিয়া বাবা মেজবাহ উদ্দিন মিরসরাই অ্যাসোসিয়েশন এনএর বর্তমান সভাপতি। তিনি জানান, ‘আমেরিকা আমাদের অনেক দিয়েছে। এ দেশের সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে আমার মেয়ে নতুন এক স্বপ্ন-যাত্রা শুরু করেছে। আফিয়ার মা পূর্ণিমা আর দুই দশজন বাঙালি নারীর মতোই গৃহবধূ।’

তিন মেয়ে আর স্ত্রীকে নিয়ে মেজবাহ উদ্দিনের সংসার। অন্য দুই মেয়ে সাদিয়া ও পৃথা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী।

Design a site like this with WordPress.com
Get started