উপাধ্যক্ষ ড.মো.আব্দুস শহীদ এমপি সংসদের প্যানেল স্পিকার নির্বাচিত

রফিকুল ইসলাম জসিম :

মৌলভীবাজার-৪ আসনের (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ নির্বাচনী এলাকার) টানা পাঁচবারের সংসদ সদস্য  ও অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ  বীর মুক্তিযোদ্ধা উপাধ্যক্ষ ড. মোঃ আব্দুস শহীদ এমপি মহোদয় একাদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশনের সংসদ কার্যপরিচালনা কমিটির প্যানেল স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন।

রোববার ৮ সেপ্টেম্বর, বিকেল ৫ টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই অধিবেশন শুরু হয়। বিকেলে জাতীয় সংসদের প্রথম কার্য উপদেষ্টার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। অধিবেশনের শুরুর আগে সংসদের নিয়ম অনুযায়ী সংসদের কার্য পরিচালনা জন্য কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির সভাপতি মন্ডলীর প্যানেল স্পিকার হিসেবে অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ  বীর মুক্তিযোদ্ধা উপাধ্যক্ষ ড. মোঃ আব্দুস শহীদ এমপি মহোদয় কে নির্বাচিত করা হয়।


রেওয়াজ অনুযায়ী একাদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন পরিচালনার জন্য ৫ জন প্যানেল সভাপতি মনোনিত করেছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। এই প্যানেল সভাপতিগণ স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে অগ্রবর্তিতা অনুসারে সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
এ অধিবেশনে প্যানেল সভাপতিরা হলেন- আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ ড. মো: আব্দুস শহীদ, এনামুল হক, মৃণাল কান্তি দাস, কাজী ফিরোজ রশীদ ও জয়া সেনগুপ্ত।

সংসদ অধিবেশন শুরুর আগে বিকাল ৪টায় সংসদ ভবনে স্পিকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অধিবেশনের মেয়াদকাল নির্ধারণ করা হয়। প্রতিদিন বিকাল ৫টায় অধিবেশন শুরু হবে। তবে স্পিকার চাইলে অধিবেশনের সময় বাড়াতে বা কমাতে পারেন।
স্পিকারের সভাপতিত্বে কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে অংশ নেন সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া বৈঠকে অংশ নেন বিরোধীদলীয় উপনেতা রওশন এরশাদ, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, রাশেদ খান মেনন, চিফ হুইপ নূর ই আলম চৌধুরী, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া প্রমুখ।

বীর মুক্তিযোদ্ধা উপাধ্যক্ষ ড. মো: আব্দুস শহীদ এমপি রোববার এলাকাবাসীর কাছে মুঠোফোনে খুদে বার্তা (এসএমএস) পাঠিয়ে তাদের কাছ থেকে দোয়া চেয়েছেন। সফলভাবে যাতে এই দায়িত্ব পালন করতে পারেন এজন্য তিনি জাতীয় সংসদের সদস্যদের কাছেও সহযোগিতা কামনা করেছেন।

এমপির এই মর্যাদা লাভ করায় তাঁর নির্বাচনী এলাকার লোকজনও খুশি। তারা মুঠোফোন বা খুদে বার্তা পাঠিয়ে সাংসদকেও অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁর এই সম্মান প্রাপ্তিতে অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমেও অভিভন্দন জানিয়েছেন। 

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশনে সংসদে উত্থাপণের জন্য তিনটি সরকারি বিলের নোটিশ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া আগের অধিবেশনে অনিষ্পন্ন ২টি সরকারি বিল পাসের জন্য কমিটিতে পরীক্ষাধীন রয়েছে। এ দিকে বেসরকারি সদস্যদের কাছ থেকে ১টি বিলের নোটিশ পাওয়া যায়। এ ছাড়া আগে পাওয়া ও অনিষ্পন্ন ১টি বেসরকারি বিল রয়েছে।
এ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য ৭০টি ও মন্ত্রীদের জন্য ১ হাজার ৫৫৩টিসহ প্রাপ্ত মোট প্রশ্নের সংখ্যা ১ হাজার ৬২৩টি। সিদ্ধান্ত প্রস্তাব (বিধি ১৩১) ১০৯টি, মুলতবি প্রস্তাবের সংখ্যা (বিধি ৬২) ১৫টি ও মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশ (বিধি ৭১) ৬০টি পাওয়া গেছে। এর আগে গত ১১ জুলাই একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় তথা বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন শেষ হয়।

এরশাদকে ‘সফল রাষ্ট্রনায়ক’র স্বীকৃতি দিলো সংসদ

হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ। ফাইল ছবিSHARES

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে ‘সফল রাষ্ট্রনায়ক’ হিসেবে উল্লেখ করে জাতীয় সংসদে আনা শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। রোববার একাদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন শুরুর পর স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এ শোক প্রস্তাব সংসদে উত্থাপন করেন।

শোক প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এই সংসদ প্রস্তাব করছে যে, ‘হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে দেশ একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ, সফল রাষ্ট্রনায়ক এবং নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবককে হারালো। এ সংসদ তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ, বিদেহী রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সহমর্মিতা প্রকাশ করছে।’

শোক প্রস্তাবটি উত্থাপনের পর তার কর্মময় জীবন নিয়ে আলোচনা করছেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা। শুরুতেই বক্তব্য রাখেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্ন, ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারি প্রমুখ।

শোক প্রকাশ করলো আওয়ামী লীগও

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শোক প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়েছেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যরাও। বক্তব্যে তারা এরশাদের ভালো কাজগুলোর পাশাপাশি সমালোচনাও করেন। সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, তার নিজের নির্বাচনী এলাকা রংপুরে মেডিকলে কলেজ হাসপাতালের ব্যাপারে সব সময় আন্তরিকভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করতেন। একটি ছোট্ট জেলার জন্য তার যে মমত্ববোধ দেখেছি, বিশেষ করে রংপুরের জন্য ওই সময়ের জন্য মনে করি। একজন রাষ্ট্রপতি কিভাবে নিজের এলাকার জন্য এভাবে দরদ দেখায়?’

তিনি বলেন, এরশাদ জাতির জনককে শ্রদ্ধা করতেন। বিরোধী দলীয় নেতা থাকা অবস্থায় বার বার বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বক্তব্য রাখতেন। সবচেয়ে দুঃখজনক দুর্ভাগ্যজনক হলো এরশাদ ক্ষমতায় থাকতে জিয়াউর রহমানের পদ অনুসরণ করে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের আশ্রয় দিয়েছেন। এমনকি তিনি তথাকথিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কর্নেল ফারুকের মত ঘৃণিত খুনিকে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী করেছিলেন। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক দুর্ভাগ্যজনক এটা আমি ভুলে যেতে চাই, আজকের দিনে স্মরণ করতে চাই না। কিন্তু এ কথাগুলো বলছি এ কারণে যে, রেকর্ডে থাকবে।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য, সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু শোক প্রস্তাবের আলোচনায় মাত্র ১৭ সেকেন্ড সময় ব্যয় করেছেন। আমু বলেন, সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুজনিত কারণে শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা চলছে। আমি তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। দোসে-গুণে মানুষ সেগুলো আজকে আলোচনা না করাই ভালো। আমি তার আত্মার শান্তি কামনা করি- এই কথা বলেই তার বক্তব্য শেষ করেন তিনি।

যুব এশিয়া কাপের সেমিতে বাংলাদেশ

এক ম্যাচ হাতে রেখেই যুব এশিয়া কাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। রবিবার নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে নেপালকে হারিয়ে শেষ চার নিশ্চিত করে আকবর আলী, তৌহিদ হৃদয়রা।

রবিবার কলম্বোর পি সারা ওভালে নেপালকে ৬ উইকেটে হারায় বাংলাদেশ। ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচটিতে টস জিতে প্রতিপক্ষকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় বাংলাদেশ।শাহীন আলম, তানজিম সাকিবদের হতাশ করে স্কোরবোর্ডে বড় পুঁজি জমা করে নেপাল। ৮ উইকেটে ২৬১ রান করে দলটি। জবাবে অধিনায়ক আকবর আলী ও তৌহিদ হৃদয়ের দারুণ ব্যাটিংয়ে ৪ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

নিজেদের প্রথম ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। মঙ্গলবার স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গ্রুপের শেষ ম্যাচটি হবে গ্রুপ সেরা হওয়ার লড়াই। দুই ম্যাচের দুটিতেই জয় তুলে নিয়ে শ্রীলঙ্কাও নিশ্চিত করে ফেলেছে সেমিফাইনাল।

যুক্তরাষ্ট্রে গুলিতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নিহত

ছবি : সংগৃহীত  

বিদেশ ডেস্ক


যুক্তরাষ্ট্রে দুর্বৃত্তদের গুলিতে ফিরোজ-উল-আমিন (২৯) নামে এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। নিহত ফিরোজ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই-তে স্নাতক শেষ করে উচ্চতর ডিগ্রির জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান।

শনিবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের ব্যাটন রাউজ এলাকায় এক গ্যাস স্টেশনে ডাকাতদের গুলিতে ফিরোজ নিহত হন।

লুইজিয়ানা স্টেস্ট ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগে সাইবার সিকিউরিট’র ওপর পিএইচডি করছিলেন ফিরোজ। 

পুলিশ জানায়, স্থানীয় একটি গ্যাস স্টেশনে ক্লার্ক হিসেবে কাজ করতেন ফিরোজ-উল-আমিন। শনিবার সকালে সেখানে ডাকাতি করতে এসে সেখানে কর্মরত ফিরোজকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

নৃগোষ্ঠী নারী গণমাধ্যম কর্মীদের কথা!

রফিকুল ইসলাম জসিম :

 নৃগোষ্ঠী নারীরা বরাবরই পুরুষের সাথে মাঠে ঘাটে কাজ করে অভ্যস্ত। বরং নৃগোষ্ঠী কোন কোন সমাজে দেখা যায় পুরুষদের থেকে নারীরা বেশি কাজে লিপ্ত থাকে। বর্তমান সময়ে নারীরা আধুনিক চ্যালেঞ্জিং পেশায় যুক্ত হচ্ছেন। সে সব ক্ষেত্রগুলোতে নিজেদের দক্ষতা দিয়ে কাজ করে চলেছেন নৃগোষ্ঠী নারীরা। এমনই একটা চ্যালেঞ্জিং পেশা গণমাধ্যম কর্মী হিসেবে আমাদের নৃগোষ্ঠী নারীরা নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে চলেছেন। অনেকেই রিপোর্টিং, ডেস্ক এবং সংবাদ উপস্থাপনায় কাজ করে চলেছেন। তাদের মধ্য থেকে আমরা আজকে তিনজন নারী গণমাধ্যম কর্মীদের কাজ সম্পর্কে জানবো, জানবো তাদের এই পথচলার গল্প। আমরা এটিএন নিউজের স্পোর্টস রিপোর্টার জেনিয়া চিসিম, চ্যানেল ২৪ এসাইনমেন্ট ডেস্কের লুসিয়া চাকমা এবং চ্যানেল ২৪ এর সংবাদ পাঠিকা ও বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের অনুষ্ঠান উপস্থাপক সোহেলী চাকমার কথা আপনাদের শোনাবো।

জেনিয়া চিসিম
ক্রীড়া প্রতিবেদক, এটিএন নিউজ।


জেনিয়া চিসিম এটিএন নিউজে ২০১৭র মার্চে ক্রীড়া প্রতিবেদক হিসেবে যোগদান করেন। প্রায় ২ বছর হতে চলেছে তার সাংবাদিকতা জীবনের। বলা যায় পড়াশুনার বিষয় হিসেবে গনযোগাযোগ ও সাংবাদিকতার শিক্ষার্থী হওয়ার ফলেই পেশা হিসেবে সাংবাদিকতাকে বেছে নেয়া। এই বিষয়ে পড়তে এসে নিজের ব্যাক্তিগত ধরণের সাথে মিল পেয়েছেন বলে অন্যরকম এক বন্ধন ও ভালোবাসা জন্ম নেয় সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের প্রতি। দুইয়ে দুইয়ে মিলে চার হয়ে যাওয়া যেনোবা। তাইতো জেনিয়া চিসিমের কাছে সাংবাদিকতা কেবল একটা পেশা নয়, বরং অনেকটাই প্রচন্ড আবেগের ব্যাপার তার কাছে।

ক্রীড়া প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করার ব্যাপারে জেনিয়া চিসিমের ভাষ্য হলো, ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ ছিলো অনেক। নিজেও ক্রিকেট, ফুটবলসহ সব ধরণের খেলাধুলা করেছি। তাছাড়া আন্তর্জাতিক খেলাধুলা খবরাদি রাখতাম সবসময়। মোটকথাআমি খেলাধুলা ভালোবাসি।সে কারনেই ক্রীড়া সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছি। জেনিয়া চিসিম সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে নিজেকে ক্রীড়া প্রতিবেদকের থেকেও বরং একজন খেলোয়ার হিসেবে ভাবতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। সে কারনে কাজের ক্ষেত্রে খুব একটা বেগ পেতে হয়না বলেই তার বিশ্বাস। তবে আদিবাসী হিসেবে ভাষাগত সমস্যার সন্মুখীন হয়েছেন শুরুতে। কিন্তু কাজের প্রতি আন্তরিকতা থেকে সেই সমস্যা কাটিয়ে উঠেছেন, প্রতিনিয়ত চর্চার ভেতর দিয়ে।

তার পথ চলায় পরিবারের সবসময় সমর্থন ও উৎসাহ ছিলো। ছোটবেলা থেকে যেটাই করতে চেয়েছেন তাই করতে উৎসাহ যুগিয়ে গেছেন পরিবারের সকলে মিলে। ছোটবেলা অনেক দুরন্তপানায় কাটিয়েছেন। চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করেন জেনিয়া চিসিম। তাইতো ক্রীড়া প্রতিবেদকের মতন একটা চ্যালেঞ্জিং পেশার প্রতি এতোটা টান অনুভব করেন তিনি। সাংবাদিকতায় নিজেকে মেলে ধরতে চান এই নবীন সাংবাদিক। বাংলাদেশের অন্যতম খ্যতিমান সাংবাদিক মুন্নি সাহা সাংবাদিকতায় তার কাছে আদর্শ। সাংবাদিকতা করতে এসে সেই মুন্নি সাহার হাত ধরে এগিয়ে যেতে পারাকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।

আদিবাসী মান্দি জাতিগোষ্ঠির জেনিয়া চিসিমের জন্মস্থান ময়মনসিংহের ধোবাউড়া গ্রামে। প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন গ্রামের সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এরপর ২০০৮ সালে ধাইড়পাড়া উচ্চ মাধ্যমিক থেকে এসএসসি, ২০১০ সালে ইউনিভার্সিটি ওমেন্স ফেডারেশন কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ২০১৫-২০১৬ তে স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাশ করেন তিনি।

লুসিয়া চাকমা
অ্যাসাইনমেন্ট ডেস্ক, চ্যানেল ২৪।


সারাদিন কোন রিপোর্টার কোথায়, কখন, কেন ও কিভাবে যাবে এবং কোন সংবাদ কেমন গুরুত্ব পাবে বা কোন সংবাদটা কোথায় আছে তা দেখভাল করা অ্যাসাইনমেন্টডেস্কের কাজ। বলা যায় একটা সংবাদ মাধ্যমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই ডেস্ক। এ কাজেই যুক্ত রাঙামাটির চাকমা আদিবাসী মানুষ লুসিয়া চাকমা। ২০১৪ সাল থেকে তিনি এই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন চ্যানেল ২৪ এ।
নিজের কাজটুকু বেশ উপভোগ করেন লুসিয়া চাকমা। কাজটা সম্পর্কে জানেন বলেই হয়তো কাজটা উপভোগ করা যায় বলে তিনি মনে করেন। তাছাড়া দীর্ঘ সময় একই জায়গায় কাজ করার ফলে ভালো লাগাটা কাজ করে বেশি। কাজ করতে এসে আদিবাসী নারী হিসেবে খুব বেশি প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়নি তার। কাজ নিয়ে আপাতত কোন ভবিষ্যত ভাবনা নেই লুসিয়া চাকমার। তবে নিজের জাতির জন্য ভালো হয় এমন কিছু করবার ইচ্ছে রয়েছে ষোলআনা।
ছোটবেলা থেকেই তার মাকে তিনি দেখেছেন ঘরে-বাইরে সব কাজে তার বাবার সাথে অংশ নিতে। সংসারের যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে মায়ের ভূমিকা দেখে দেখে বড় হয়েছেন লুসিয়া চাকমা। নিজের ব্যাক্তিগত জীবনে মায়ের প্রভাব তাই সুদূরপ্রসারী হয়ে ওঠেছে। ফলে লুসিয়া চাকমার জীবনে অনুপ্রেরণার বড় একটা জায়গা জুড়ে রয়েছেন তার মা । লুসিয়া মনে করেন পড়াশুনা করলেই কেউ বড় মানুষ হয়ে যায়না, সে জন্যই সবসময় মানুষ হবার তাড়না নিজের ভেতর পুষে রাখেন।
বাবা-মার একমাত্র সন্তান লুসিয়া চাকমা রাঙামাটি সদরের কলেজ গেইট এলাকায় জন্মগ্রহন করেন। ২০০৩ সালে রাঙামাটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন। ২০০৫ সালে রাঙামাটি সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করার পর ভর্তি হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে। সেখান থেকেই স্নাতক ও ২০১২ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন তিনি।

সোহেলী চাকমা ত্রিপুরা
সংবাদ পাঠিকা, চ্যানেল ২৪।

সবাইকে সংবাদ জানানোর কাজ করেন একজন সংবাদ পাঠিকা। তাদের কন্ঠ ও উপস্থাপনার ভঙ্গিতে বিভিন্ন বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। সোহেলী চাকমা মানুষের কাছে সংবাদ উপস্থাপন করার কাজ করেন চ্যানেল ২৪ এ ২০১৭ সাল থেকে। তবে তার এই যাত্রা আরো আগে শুরু হয়েছিলো। ২০১৪ সাল থেকে বাংলাদেশ টেলিভিশনে চট্টগ্রাম কেন্দ্রের অনুষ্ঠান উপস্থাপনার মাধ্যমে তার এই অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছিলো। এখনো তিনি বিটিভিতে কাজ করে চলেছেন।এরপর ২০১৫-১৬ সালে এটিএন বাংলার শৈল-সমতল অনুষ্ঠানও উপস্থাপন করেন।
সোহেলী চাকমা সংবাদ পরিবেশনার কাজ বা অনুষ্ঠান উপস্থাপনার কাজকে ভালোবাসার কাজে পরিণত করেছেন। তার মতে পেশা ও আবেগের, ভালোবাসার মিশ্রন ঘটেছে এই উপস্থাপনার কাজে। তার ইচ্ছে আর যাই হোক এই উপস্থাপনার কাজ তিনি ছাড়বেননা কখনোই।
সোহেলী চাকমার জীবনে রয়েছে অন্য আরেক গল্প যেটা তার কাছে আনন্দের আবার অনেকের কাছেই সেটা ঈর্ষার। গল্পটা তার দ্বৈত সংস্কৃতির উত্তরাধিকারী হবার। মা ত্রিপুরা ও বাবা চাকমা হওয়ার সুবাদে এই দুই জাতিগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক আবহে বেড়ে ঊঠেছেন তিনি। দুটো সংস্কৃতিকেই ভালোবাসেন, নিজের করে নিয়েছেন।সোহেলী চাকমা কিংবা ত্রিপুরা দুটো নামেই তিনি স্বাচ্ছন্দবোধ করেন তাই। তবে মা যেহেতু বেশি সময় দিতো তাই ত্রিপুরা সংস্কৃতি ভাষা রপ্ত হয়েছে বেশি। ত্রিপুরা ছাত্র সংগঠনের কাজেও লিপ্ত ছিলেন পুরোদমে। কিন্তু এই বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির সাথে আনন্দে বেড়ে উঠার সাথে সাথে সয়তে হয়েছে লোকের নানান অবহেলা। চাকমা ছেলে-মেয়েরা তাকে ত্রিপুরা মেয়ে হিসেবে আলাদা করে দেখতো, আবার ত্রিপুরারা চাকমা বলে কিছুটা এড়িয়ে চলতো। সংগঠন করার পরও অনেকের কাছে নানান কথা শুনতে হয়েছে। কিন্তু এই সব কে কখনোই খুব আমলে নেননি তিনি। দৃপ্ত পায়ে এগিয়ে গেছেন এই দুই সংস্কৃতিকে সন্মান করে ও ভালোবেসে। কিন্তু তিনি এও মনে করেন যারা এমন দ্বৈত সংস্কৃতির বাহক সমাজের উচিৎ তাদের আরো বেশি উৎসাহ দেয়া, যাতে হীনমন্যতায় ভুগতে না হয়, জীবন চলার পথ থমকে না যায়।

বাবার সরকারী চাকুরীর ফলে সোহেলী চাকমার জন্ম হয়েছে গাজীপুরে, কিন্তু বেড়ে ওঠা খাগড়াছড়িতে। পড়াশুনায় বরাবরই ভাল সোহেলী চাকমার শিক্ষা জীবনের শুরু খাগড়াছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। এরপর এসএসসি পাশ করেন খাগড়াছড়ি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও এইচএসসি পাশ করেন খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ থেকে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাচ্যভাষা সংস্কৃত নিয়ে স্নাতকোত্তর করছেন তিনি। ভবিষ্যতে একটা অনাথ আশ্রম গড়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি, যেখানে মাতৃ-পিতৃহীন শিশুরা বেড়ে উঠতে পারবে সকল সম্ভাবনা নিয়ে।

মির্জা সাখাওয়াৎ হোসেনের পরিচালনায় নির্মিত হচ্ছে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘অর্জন-৭১’

মুক্তিযুদ্ধে পুলিশ বাহিনীর আত্মত্যাগ আর কৃতিত্বের কাহিনী নিয়ে মির্জা সাখাওয়াৎ হোসেনের পরিচালনায় নির্মিত হচ্ছে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘অর্জন-৭১’।

শনিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে হয়ে গেল এ সিনেমার সাইনিং ও আশীর্বাদ অনুষ্ঠান।

মুক্তিযুদ্ধে পুলিশ বাহিনীর আত্মত্যাগের কথা সিনেমার মাধ্যমে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়ায় নির্মাতাকে ধন্যবাদ জানান আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম।

তিনি বলেন, “এটা অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের বিষয়। মুক্তিযুদ্ধ শুধু নয় মাসের একটি ঘটনা নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে অনেক ত্যাগের ইতিহাস।”

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজকদের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আরও বেশি কাজ করার আহ্বান জানান নাসিম।


অনুষ্ঠানে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমান বলেন, পুলিশ একটি গর্বের ও অহঙ্কারের চাকরি। পুলিশকে নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র নিঃসন্দেহে একটি ভালো উদ্যোগ। আমি অনুরোধ করব, অন্য পরিচালকরাও যেন সামনে পুলিশকে নিয়ে সিনেমা তৈরিতে উৎসাহী হন।

‘অর্জন-‘৭১’-এর পরিচালক মির্জা সাখাওয়াৎ বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের প্রায়ই বলতেন মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে। আমার এ চলচ্চিত্রটি মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা নিয়ে। আশা করি সবার ভালো লাগবে।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের সদস্যরা থ্রি নট থ্রি রাইফেল নিয়েই পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ট্যাংক, কামান আর মেশিনগানের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। প্রথম সেই প্রতিরোধ যুদ্ধ পরে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে।

নির্মাতা মির্জা সাখাওয়াৎ বলেন, “মুক্তিযুদ্ধে শহীদ এগারোশ পুলিশ সদস্যের মধ্যে একজন ছিলেন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের মিয়া। তার আত্মত্যাগের কাহিনী নিয়েই মূলত সিনেমার গল্পটি তৈরি হয়েছে।”

এ চলচ্চিত্রের জন্য চিত্রনাট্য লেখার কাজে সহযোগিতার জন্য আব্দুল কাদের মিয়ার বড় মেয়ে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা নূর জাহান বেগম কিরণকে ধন্যবাদ জানান সাখাওয়াৎ।

যে পুলিশ সদস্যকে ঘিরে এ সিনেমার কাহিনী গড়ে উঠেছে, সেই এসআই আব্দুল কাদের মিয়া মুক্তিযুদ্ধের সময় ছিলেন পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

১৯৭১ সালের ২৭মার্চ তার নেতৃত্বেই দেবীগঞ্জ থানা ও আনসার ক্লাবের সামনে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। অনুগত পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে নিয়ে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন তিনি ।

এমনই এক সম্মুখ সমরে আহত কাদের স্ত্রী-সন্তানদের দেখতে বাড়িতে এলে রাজাকাররা তাকে পাকিস্তানি সেনাদের হাতে ধরিয়ে দেয়। তাকে থানায় নিয়ে নির্যাতন করার পর গুলি করে হত্যা করা হয়।

সাখাওয়াৎ বলেন, “মুক্তিযুদ্ধে পুলিশ বাহিনীর অংশগ্রহণ, রাজারবাগ আক্রমণ ও প্রতিরোধ যুদ্ধ, সারদা পুলিশ অ্যাকাডেমিতে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ, মুজিবনগরে বাংলাদেশ সরকারকে পুলিশের নেতৃত্বে গার্ড অব অনার দেওয়া এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা পুলিশ সদস্য আবদুল কাদের মিয়ার আত্মত্যাগ- সব নিয়েই এ সিনেমার চিত্রনাট্য সাজানো হয়েছে।”

এ সিনেমায় মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাদের মিয়ার চরিত্রে অভিনয় করবেন শতাব্দী ওয়াদুদ। আর তার স্ত্রী ফিরোজার ভূমিকায় দেখা যাবে চিত্রনায়িকা মৌসুমীকে।

সাইনিং ও আশীর্বাদ অনুষ্ঠানে মৌসুমী বলেন, “এই সিনেমায় তুলে ধরা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশের ভূমিকা। তারা কীভাবে মুক্তিযুদ্ধকে সফল করে তুলেছে এই চলচ্চিত্রে সেটিই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে একজন পুলিশ অফিসারের পরিবারের গল্পের মাধ্যমে। এটা একজন মহানায়ক না, বরং অনেক মহানায়ক, অনেক মুক্তিযোদ্ধার গল্প।”

‘অর্জন-‘৭১’ চলচ্চিত্রটির নায়িকা মৌসুমী আরো বলেন, চলচ্চিত্রটির স্ট্ক্রিপ্ট হলো মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় অধ্যায় নিয়ে। এর বেশি কিছু বলার সময় এখনও আসেনি। আশা করি ভালো একটি চলচ্চিত্র উপহার দিতে পারব।


অক্টোবরে সিনেমাটির চিত্রধারণ শুরু হবে। ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষে চলচ্চিত্রটির মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।

অধিকারকর্মী সংসদ সদস্য আরমা দত্ত, পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি আব্দুর রহিম খান, ‘অর্জন-৭১’ এর নির্বাহী প্রযোজক এস এম আবদুল হালিম বাশার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

রোহিঙ্গাদের জন্য নতুন আবদার

রোহিঙ্গাদের জন্য নতুন আবদার

নতুন রোহিঙ্গা ঢল আসার দুই বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সংকট সমাধানের লক্ষ্যে তেমন কিছুই করতে পারেনি বিশ্বসম্প্রদায়। জাতিসংঘ এবং প্রভাবশালী পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতিনিধিদের এখনো রাখাইনে যেতে দেয় না মিয়ানমার সরকার।এ দেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন ঝুলে গেছে। অন্যদিকে এ দেশেই রোহিঙ্গাদের জন্য নতুন নতুন আবদার জানাচ্ছে মানবিক সহায়তা দেওয়া বিভিন্ন সংস্থা।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা যায়, দুই দফা প্রত্যাবাসন শুরু করার উদ্যোগ ভেস্তে যাওয়া এবং ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গাদের বিশাল সমাবেশের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার বেশ কিছু সতর্কতামূলক উদ্যোগ নিয়েছে। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো রোহিঙ্গাদের অবৈধভাবে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহার বন্ধ করা। তবে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট সেবার ওপর কড়াকড়ি আরোপের পরিপ্রেক্ষিতে দৃশ্যত অসন্তুষ্ট মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা (আইএনজিও)।

ওই সংস্থাগুলো মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট সেবা দেওয়াই শুধু নয়, উন্নত অবকাঠামো নির্মাণ এবং অবাধ চলাফেরার সুযোগসহ এ দেশে রোহিঙ্গাদের নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের দাবি জানাচ্ছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে বলেছে, এ দেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের পানি ও স্যানিটেশন সেবা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। রোহিঙ্গারা অস্থায়ী শিবিরে থাকলেও তাদের পানি ও স্যানিটেশনের অধিকার পূরণ করতে বাংলাদেশ সরকার বাধ্য।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের ‘মানবাধিকার লঙ্ঘনের’ অভিযোগ তুলে তাদের ওপর থেকে বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।একই সঙ্গে সংস্থাটি রোহিঙ্গাদের জন্য জরুরি সাড়াদান কর্মসূচির বাইরে গিয়ে ‘শরণার্থী’ হিসেবে সুরক্ষা ও মানবাধিকার সমুন্নত রেখে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

বাংলাদেশ ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে এ দেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ‘শরণার্থী’ হিসেবে স্বীকৃতি না দিলেও শরণার্থী হিসেবে

প্রাপ্য অনেক সুবিধা দিচ্ছে। বিশেষ করে, জোর করে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর কথা ভাবছে না বাংলাদেশ। কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের চাপ কিছুটা কমাতে বাংলাদেশ এক লাখ রোহিঙ্গাকে নোয়াখালীর ভাসানচরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করলেও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার আপত্তিতে তা এখনো সম্ভব হয়নি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনই মূল লক্ষ্য।

এদিকে নিউ ইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডাব্লিউ) গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের চলাফেরার স্বাধীনতা, ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার দাবিসহ সাম্প্রতিক সময়ে চারজন রোহিঙ্গা নিহত হওয়ার বিষয়টি তদন্ত করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। রোহিঙ্গা শিবিরে বর্ধিত নজরদারি, শিবিরের বাইরে চলাফেরায় কড়াকড়ি এবং রোহিঙ্গা সমাবেশ আয়োজনে সহায়তা দেওয়া এনজিওগুলোর বিরুদ্ধে সরকারি সিদ্ধান্তের সমালোচনাও করেছে এইচআরডাব্লিউ।

সংস্থাটির এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেছেন, রোহিঙ্গাদের টেলিফোন যোগাযোগ ও চলাফেরার ওপর কড়াকড়িতে দুর্ভোগ বেড়েছে।

নিউ ইয়র্কে এ মাসেই হতে পারে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক : জানা গেছে, এ মাসের শেষ সপ্তাহে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও চীনের মধ্যে মন্ত্রীপর্যায়ের বৈঠক হতে পারে। গত ২২ আগস্ট রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন উদ্যোগ ভেস্তে যাওয়ার সময় কক্সবাজারে চীন দূতাবাসের রাজনৈতিক শাখার কূটনীতিকও উপস্থিত ছিলেন।

রোহিঙ্গা সংকট কিভাবে সমাধান হবে তা নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে এশীয় দেশগুলোর অবস্থানগত বড় পার্থক্য আছে। পশ্চিমা দেশগুলো এবং তাদের অর্থায়নে পরিচালিত এনজিওগুলো চায় রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফেরার আগে সেখানে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা হোক। অন্যদিকে এশীয় দেশগুলো মনে করে, ফিরে যাওয়াটাই মূল অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

এশীয় অঞ্চলের প্রভাবশালী একটি দেশের এক কূটনীতিক গত বৃহস্পতিবার নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, বিপদে পড়ে এ দেশে আসা রোহিঙ্গাদের অতিথি হিসেবে আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। এখন ‘অতিথিরা’ দাবি করতে পারে না যে দাবি পূরণ হওয়ার আগ পর্যন্ত তারা যাবে না।

ওই কূটনীতিক বলেন, মিয়ানমারের কাছে রোহিঙ্গাদের দাবি-দাওয়ার মধ্যে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়া ঠিক হবে না।

ঢাকার সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, চীন বাংলাদেশকে জানিয়ে দিয়েছে যে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের বিষয়টি তুললে মিয়ানমার রাজি হবে না।

সুখ খুঁজতে গিয়ে ইসলাম খুঁজে পেয়েছি

নওমুসলিমের কথা

মেলানিয়া জর্জিয়াস তাঁর পুরো নাম। ডিয়ামস নামেই অত্যধিক পরিচিত।ছিলেন ফ্রান্সের প্রথম র্যাপ গায়িকা। ১৯৯৯ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে প্রায় চার মিলিয়ন রেকর্ড বিক্রি হয়েছিল তাঁর। ২০০৮ সালে ইসলাম গ্রহণ করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলে ইসলাম গ্রহণের কারণ ব্যাখ্যা করেন। তাঁর সেই বক্তব্যের চুম্বকাংশ তুলে ধরা হলো।

২০০৭ সালে তাঁর একক বেশ কিছু অ্যালবাম প্রচুর জনপ্রিয়তা পায়। রেকর্ড বোর্ডেও নিয়ে আসে বিভিন্ন পরিবর্তন। কিন্তু এত সাফল্য ও সুখকর জীবন সত্ত্বেও তিনি ভীষণ উৎকণ্ঠা ও গভীর উদ্বেগ বোধ করেছিলেন। খুঁজে ফিরছিলেন সুখ নামের ‘সোনার হরিণ’।সুখের সন্ধান করতে গিয়ে খুঁজে পান ইসলাম।

অর্থবিত্ত, সাফল্য ও প্রভাব-প্রতিপত্তি—সব ছিল তাঁর জীবনে। তিনি বলেন, ‘অর্থ, সাফল্য ও শক্তি আমাকে খুশি-সুখী করতে পারেনি। সুখের সন্ধানে আমি অস্থির ছিলাম। আমি অনেক বেশি দুঃখ ভারাক্রান্ত ছিলাম। নিজেকে খুব একাকী ও নিঃসঙ্গ অনুভূত হতো। আমি জানতাম না, আল্লাহর সঙ্গে আমার কথা বলতে হবে। আমি যখন কোনো সুখের বিষয় কিংবা দুঃখের বিষয়ের মুখোমুখি হই তখন আল্লাহ আমার দোয়া-প্রার্থনা শোনেন। ’

যেদিন হিজাব পরিহিত তাঁর ছবি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়, সেই দিনটি কেমন ছিল সে সম্পর্কে ডিয়ামস বলেন, ফরাসিদের জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা ছিল। আমি কিভাবে এত পরিবর্তিত হলাম, এটি ভেবে তারা অবাক হয়েছিল। বাস্তবেই হিজাব তাদের কাছে অস্বাভাবিক একটি বিষয়। কারণ তারা শুধু আমাকে একজন গায়িকা হিসেবেই দেখে।

সৌদি আরবের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম আরব নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাবেক এই ফরাসি গায়িকা জানান, ইসলাম গ্রহণের পর প্রথম প্রথম তিনি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে খুব বেশি কথা বলতেন না। কারণ তখন কী বলতে হবে, তা তিনি জানতেন না। তিনি বলেন, ‘আশ্চর্যজনক হলেও সত্য যে যখন আমার আল্লাহর অস্তিত্বের প্রতি বিশ্বাস তৈরি হলো, তখনো আমি একজন খ্রিস্টান ছিলাম। উপরন্তু আমি জানতাম না আমার কী করণীয়। ’

তিনি বলেন, ‘এসব জিনিস, অর্থ, সাফল্য ও শক্তি আমাকে সুখ ও আনন্দ দিতে পারেনি। আমি সুখের সন্ধান করছিলাম। আমি খুব, খুব দুঃখ ভারাক্রান্ত ছিলাম। শত মানুষের মাঝেও নিঃসঙ্গ ও একা ছিলাম। ’

২০০৮ সালে তাঁর দুটি সংগীত সর্বাধিক বিক্রি হয়। এটি তাঁর অন্যতম সফল বছর। এ বছর তিনি সেরা ফরাসি শিল্পী হিসেবে এমটিভি ইউরোপীয় সংগীত পুরস্কার লাভ করেন। পাশাপাশি সেরা শিল্পী, সেরা অ্যালবাম ও সেরা সংগীত ইত্যাদি ক্যাটাগরিতে এনআরজেড মিউজিক অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হন।

জর্জিয়াসের জীবনে পরিবর্তন আসে তাঁর সৌসৌ নামের এক বান্ধবীর মাধ্যমে। যখন জর্জিয়াস তাঁর বাড়িতে বেড়াতে যান তখন তাঁর জীবনে দারুণ একটা প্রভাব পড়ে। সেই সময় সৌসৌর জর্জিয়াসকে অনুরোধ করেন, সন্ধ্যায় কয়েক মিনিটের জন্য নামাজ পড়তে যেতে। তখন জর্জিয়াস হঠাৎ করেই তাঁর বন্ধুর সঙ্গে প্রার্থনায় যোগ দেন। মুসলমানরা কিভাবে নামাজ আদায় করে, তা জর্জিয়াসের জানা ছিল না। এর পরও তিনি সৌসৌকে অনুসরণ করে ইবাদত করেন এবং জীবনে প্রথমবারের মতো আল্লাহর সামনে সিজদা করেন। তিনি বলেন, ‘আমি যখন তার সঙ্গে নামাজ পড়লাম তখন আল্লাহর সঙ্গে অলৌকিক যোগাযোগ অনুভব করেছি। আমি পুরোপুরি নিশ্চিত হয়েছি যে নিশ্চয় আল্লাহর অস্তিত্ব রয়েছে। আমি যখন নিজে নিজে সিজদা করলাম তখন আমি প্রভুর সঙ্গে আমার সম্পর্ক অনুভব করি। এ ছাড়া আমি যত বেশি কোরআন পড়ি আমার বিশ্বাস তত পোক্ত হয়। ’

জর্জিয়াসের বন্ধু এর পরই তাঁকে পবিত্র কোরআনের একটি কপি উপহার দিয়েছিলেন। মরিশাস ভ্রমণের সময় জর্জিয়াস এটি পড়তে শুরু করেন। জর্জিয়াস বলেন, ‘এটি একটি প্রত্যাদেশ ছিল। আমি গভীরভাবে নিশ্চিত হয়েছি যে সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব রয়েছে। আমি যত বেশি পড়ছিলাম তত বেশি দৃঢ়প্রত্যয়ী হয়ে উঠি। ততক্ষণে আমি এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করি। তবে আমি মনে মনে খ্রিস্টান ছিলাম। তখন দুঃখ ও মনঃকষ্টে ভুগছিলাম। ’

২০০৮ সালের ডিসেম্বরে জর্জিয়াস ইসলাম গ্রহণ করেন। মেলানিয়ার জীবন তখন সাফল্য-কীর্তি মধ্যগগনে। কিন্তু ইসলাম গ্রহণের পর হঠাৎ করে সব ধরনের গানের দৃশ্য ও জনসাধারণের দৃষ্টি থেকে পুরোপুরি আড়ালে চলে যান তিনি।

কিন্তু ২০০৯ সালে ফটোগ্রাফার তাঁকে পেয়ে বসেন। তখন তিনি ফ্রান্সের জেনিভিলিয়ার্সের একটি মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন। হিজাব পরিহিত ও মাথা থেকে পা পর্যন্ত আপাদমস্তক একটি বোরকায় নিজের শরীর আবৃত করে রেখেছিলেন তিনি। ফটোগ্রাফার যখন তাঁর ছবি তোলেন তখন তিনি নিজেকে দ্রুত সরিয়ে নেন।

ছবিগুলো প্যারিস ম্যাচ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হলে ফ্রান্সের মানুষ ও অন্য দেশে তাঁর ভক্তরা খুব অবাক হয়েছিল। কারণ ফরাসি সমাজ তাঁকে চিনত হিপ হপ সংগীতের আইকন হিসেবে, যিনি টাইট প্যান্ট ও ট্যাংক-টপ পরে সংগীত পরিবেশন করেন। ওই সময়টাতে জনসাধারণের জন্য ব্যবহৃত উন্মুক্ত জায়গায় হিজাব পরিধানে নিষেধাজ্ঞার একটি আইন পাস বিষয়ে ফ্রান্সে বিতর্ক চলছিল। ছবিগুলো সেই ‘বিতর্কের আগুনে ঘি ঢালে’। জর্জিয়াস তখন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন। ফলে তিনি জনবিদ্বেষের রোষানলে পড়েন।

২০০৯ সালের নভেম্বরে জর্জিয়াস মনে করেন, ইসলামের প্রতি তাঁর মনোনিবেশের কথা ভক্তদের কাছে ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি কী কারণে জীবনে পরিবর্তন এসেছে, তা স্পষ্ট করাও জরুরি। তখন শেষবারের মতো তিনি সংগীতে ফিরে এসে তাঁর একক অ্যালবাম ‘এসওএস’ থেকে ‘মরুভূমির শিশু’ গানটি প্রকাশ করেন।

গানে তিনি ফ্রান্সের সমাজের অসহিষ্ণুতা বর্ণনা করেন। পাশাপাশি উল্লেখ করেন যে তিনি ইসলাম গ্রহণের পর তাঁর সমাজ তাঁকে সমর্থন না করে অনেক দূরে ঠেলে দিয়েছিল। এবং তিনি অনুভূতির প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা না করে কোথাও একটি নতুন জীবন খুঁজছিলেন। এ ছাড়া একজন মুসলিম হিসেবে আত্মপ্রকাশের সময় তিনি কী অনুভব করছিলেন, তা তুলে ধরেন।

মুসলিম হওয়ার পর সামাজিকভাবে ঝামেলা সত্ত্বেও তিনি তাঁর জীবনের অন্য সময়ের চেয়ে শান্তিতে ছিলেন বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ইসলাম গ্রহণের আগে আমি আমার জীবনে খুব দুঃখ অনুভব করেছি। কারণ আমি বুঝতে পারিনি যে আমার প্রভুর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন আমার আবশ্যকীয় কর্তব্য ছিল। এখন আমার জীবনে ভালো-মন্দ যা কিছু হোক, আমি জানি আমার এমন আল্লাহ আছেন, যিনি আমার কথা শোনেন এবং আমার প্রার্থনার উত্তর দেন। ’

২০১৭ সালে জর্জিয়াস তাঁর স্বামী (ফ্রান্স-তিউনিশিয়ার সাবেক র‌্যাপ শিল্পী) ফৌজি তরখানির সঙ্গে সৌদি আরবে চলে আসেন। ফ্রান্সে চলমান ইসলাম ফোবিয়া এবং অন্যান্য অসুবিধা-কষ্ট থেকে দূরে থাকতে তাঁরা সৌদিতে বাড়ি তৈরি করে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তিনি এখন স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে সৌদিতে থাকতে পেরে অনেক খুশি ও আনন্দ প্রকাশ করেন।

সৌদিতে তিনি সাংসারিক কাজকর্মের পাশাপাশি লেখালেখি ও বিগ আপ প্রজেক্ট নামে নিজের একটি প্রকল্পে কাজ করছেন। প্রকল্পটির মাধ্যমে আফ্রিকার সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সহায়তা করা হয়।

আরবনিউজ

Design a site like this with WordPress.com
Get started