ভিজে চুলে গোসলের ভিডিও পোস্ট করলেন প্রভা! (ভিডিও)

সাদিয়া জাহান প্রভা

ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা। অল্পদিনেই বিজ্ঞাপন, নাটক, টেলিফিল্ম ও মেগা সিরিয়ালসহ সব জায়গাতেই নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন এই অভিনেত্রী। নিজের অভিনয় দিয়ে দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছেন তিনি।

এদিকে গতকাল (বুধবার) অভিনেত্রী নিজের ইনস্ট্রগ্রাম একাউন্টে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। আর সেটি পোস্ট করতেই হু হু করেই ছড়িয়ে পড়ে। ছবির ক্যাপশনে অভিনেত্রী লেখেন, গোসলের পরে…পুরুষের টাখনুর নিচে কাপড় পরার অপকারিতাযে মায়ের গান কাঁদাচ্ছে সবাইকে (ভিডিও)!খেলা শেষে পুকুরে ভাসল ভাই-বোনের মরদেহবারবিকিউ ও সিগারেটের গন্ধ আসে তাই প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগগ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিতে টাইগ্রেসরাসুস্থ হয়ে ফিরেছেন ৯৫ শতাংশ ডেঙ্গু রোগীট্রেনেই যাওয়া যাবে সিকিম

পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে অভিনেত্রী সাদা রঙ্গের একটি বাথ রোব পড়ে আছেন। আর হাত দিয়ে ভালবাসার চিহ্ন এঁকে আই লাভ ইউ বলছেন তিনি। আর এই ভিডিওতে ভিজে চুলে তাকে বেশ উষ্ণ এবং সুন্দর লাগছে বলেও কমেন্ট করেছেন অনেকে। 

এদিকে, ঈদের ছুটি শেষ করে জনপ্রিয় অভিনেত্রী আবারো নিজের কাজে ফিরেছেন। অভিনেত্রী নিজের চলমান ধারাবাহিক নাটকগুলোর শুটিং করছেন। এছাড়া কয়েকটি একক নাটকের স্ক্রিপ্ট হাতে আছে।

সাদিয়া জাহান প্রভার গোসলের ভিডিওটি দেখতে  

https://www.instagram.com/p/B2APeguB_em/?utm_source=ig_web_copy_link>>এখানে <<>>>এখানে <<< ক্লিক করুন

ফরিদপুর মেডিকেলে পর্দার দাম সাড়ে ৩৭ লাখ টাকা!

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ (ফেমিক) হাসপাতালে কোরিয়া থেকে কেনা হয়েছে সাড়ে ৩৭ লাখ টাকা দামের পর্দা। এত দাম দিয়ে পর্দা কেনা হলেও ব্যবহার নেই বছরের পর বছর। একইভাবে অভাবনীয় দাম দেখিয়ে কেনা বেশিরভাগ যন্ত্রই ফেলে রাখা হয়েছে।

২০১২ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি কেনা এবং আর্থিক অনিয়মে ঘটনায় ২০ আগস্ট হাইকোর্ট দুদককে এ বিষয়ে তদন্ত করে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেন।

জানা গেছে, ওই সময়কালে মেসার্স অনিক ট্রেডার্স ৫১ কোটি ১৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার ১৬৬টি যন্ত্রপাতি সরবরাহ করে। অনিক ট্রেডার্স ৪১ কোটি ১৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার বিল পেলেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ১০ কোটি টাকা যন্ত্রপাতির দাম বেশি দেখানোসহ বিভিন্ন অসংগতির কারণে আটকে দেয়। এ প্রেক্ষাপটে ২০১৭ সালের ১ জুন অনিক ট্রেডার্স বকেয়া আদায়ে হাইকোর্টে এটি রিট করে।

রিটের পর  স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের কাছে অনিক ট্রেডার্সের সরবরাহ করা ১০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতির একটি তালিকা চেয়ে পাঠান।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক কামদা প্রসাদ সাহা ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ওই ১০ কোটি টাকার বিপরীতে দামসহ ১০ আইটেমের যন্ত্রপাতির একটি তালিকা দেন।

ওই তালিকার সঙ্গে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত সরেজমিনে পরিদর্শনকালে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি ভিএসএ অনসাইড অক্সিজেন জেনারেটিং প্ল্যান্ট কিনতে খরচ দেখানো হয়েছে পাঁচ কোটি ২৭ লাখ টাকা। এ যন্ত্রটি হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডের পেছনে পশ্চিম পাশের রুমে স্থাপন করা  হয়েছে।

তিন বছর ধরে ওই কক্ষটি তালাবদ্ধ। তালায় জং ধরে যাওয়ায় হ্যাক্সো ব্লেড দিয়ে তালার কড়া কেটে কক্ষে ঢুকতে হয়েছে।

এ ছাড়া কোরিয়ায় তৈরি হাসপাতাল সার্টেইন সিসটেম ফর আইসিইউ/সিসিইউ শয্যা কিনতে তৈরি খরচ দেখানো হয়েছে ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। পরিচালক তার তালিকায় শয্যার পরিমাণ ‘একটি’ উল্লেখ করলেও এই ওয়ার্ডে ১৬টি শয্যা রয়েছে।

১৬টি শয্যার জন্য সাড়ে ১২ হাত দৈর্ঘ্য ও সাড়ে চার হাত প্রস্থ বিশিষ্ট আধুনিক পর্দা রয়েছে।

ওই পর্দার দাম ৩৭ লাখ ৫০ হাজার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে যন্ত্রপাতি থাকলেও কর্মকর্তা-কর্মচারী না থাকায় গত তিন বছর ধরে সিসিইউ ইউনিটটিতে কোনো কার্যক্রম নেই। ওই ওয়ার্ডের দায়িত্বে নিয়োজিত জ্যেষ্ঠ স্টাফ নার্স রাজিয়া সুলতানা জানান, তিনি প্রতিদিন এ কক্ষটি খোলেন দেখাশোনা করেন আবার বন্ধ করে দেন।

পরিচালকের প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনটি ডিজিটাল প্রসেসর সিস্টেম যা যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি উল্লেখ করে দাম দেখানো হয়েছে ১০ লাখ ২৫ হাজার টাকা। প্রকৃতপক্ষে ডিজিটাল প্রসেসর সিস্টেম যে মেশিনটি সরবরাহ করা হয়েছে সেটি কোরিয়ার তৈরি। এ যন্ত্রপাতিগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে না।

এভাবে ভ্যাকুয়াম প্ল্যান্ট’র দাম দেখানো হয়েছে ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এটি পুরোনো দন্ত বিভাগে স্থাপন করা হয়েছে। এই কক্ষটিও খোলা হয় না এবং এই যন্ত্রটিও ব্যবহৃত হচ্ছে না।

বিআইএস মনিটরিং সিস্টেম কেনা হয়েছে ২৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকায়। এই মেশিনটি অপারেশন থিয়েটারে স্থাপন করা হয়েছে বলা হলেও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

তবে স্টোরকিপার আব্দুর রাজ্জাক দাবি করেছেন, ‘এই মেশিনটি আছে হয়তো অন্য কোনো নামে কোথাও পড়ে আছে। ’

চারটি থ্রি হেড কার্ডিয়াক স্টেথিসস্কোপের দাম দেখানো হয়েছে এক লাখ ১২ হাজার পাঁচ শ টাকা। এর দুটি সিসি ওয়ার্ড ও দুটি মেইল মেডিসিন ওয়ার্ডের দুই ইউনিটে আছে। এগুলোর ব্যবহার হয়।

দুটি ফাইবার অপটিক ল্যারিনগোসস্কোপ সেটের একটি প্রসূতি  ওটিতে এবং একটি জেনারেল ওটিতে রয়েছে। এ দুটির দাম দেখানো হয়েছে ২৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

ছয়টি টোমেটিক স্কাব সিসটেম চালু আছে, যার দাম দেখানো হয়েছে ১৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

১০টি চাইনিজ সাকশন মেশিন অপারেশন থিয়েটারে আছে। দাম দেখানো হয়েছে তিন লাখ টাকা। বর্তমানে সেটি চালু আছে।

২০টি ড্র সিস্টেম ইকুইপমেন্টের দেখানো হয়েছে চার লাখ ৮৭ হাজার পাঁচ শ টাকা। আইসিইউ ওয়ার্ডে স্থাপিত। বর্তমানে ওয়ার্ড চালু না থাকায় কোনো কাজে লাগছে না।

মেডিকেল কলেজ উন্নয়ন ও বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি ক্রয়সংক্রান্ত প্রকল্পের অধীনে এ যন্ত্রপাতি কেনা হয়।

২০১২ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত মোট পাঁচজন চিকিৎসক প্রকল্প পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

এরা হলেন, আ স ম জাহাঙ্গীর চৌধুরী, এ বি এম শামসুল আলম, মো. ওমর ফারুক খান, গণপতি বিশ্বাস, আবুল কালাম আজাদ।

এর মধ্যে ওমর ফারুখ খান মারা গেছেন বলে জানা গেছে।

হাসপাতালটির তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক ডা. গণপতি বিশ্বাস বলেন, তিনি প্রকল্প পরিচালক থাকা অবস্থায় যন্ত্রপাতি ক্রয়ে দুর্নীতির কোনো ঘটনা ঘটেনি।

তিনি বলেন, আদালতে কোনো বিষয়ে মামলা হয়েছে কিংবা আদালত কী নির্দেশনা দিয়েছেন তা তার জানা নেই।

ফমেকের তৎকালীন প্রজেক্ট ডিরেক্টর ডা. আ স ম জাহাঙ্গীর চৌধুরী বলেন, আমি প্রথম প্রকল্প পরিচালক ছিলাম। যে কেনাকাটার কথা বলা হচ্ছে তা প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিল না। যা প্রকল্পের বিষয়ই ছিল না তার দায়ভার প্রকল্পের ওপর কেন বর্তাবে তা আমার বোধগম্য নয়।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বর্তমান পরিচালক কামদা প্রসাদ সাহা বলেন, আদালতের নির্দেশনা তিনি পাননি। পেলে তিনি আদালতের নির্দেশনা মেনে চলবেন। দুদক যদি তদন্ত করে তবে তাকে তিনি সহযোগিতা করবেন।

তিনি বলেন, ১০ কোটি টাকা যে সব যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে তার মূল্য কিছুটা অতিরিক্ত দেখানো হয়েছে বলে তার ধারণা।

তিনি বলেন বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।

ঘুরে দাঁড়াচ্ছে ঐক্যফ্রণ্ট, আসছে মহাসমাবেশ

রাজধানীর মাঠ থেকে একপ্রকার ছিটকে পড়লেও হারিয়ে যায়নি জাতীয় ঐক্যফ্রণ্ট। মান-অভিমান আর মতবিরোধ ভুলে আবার রাজনীতির মাঠে সরব হতে যাচ্ছে এ রাজনৈতিক জোট।

আগামী ২৯ অথবা ৩০ ডিসেম্বর ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এ সমাবেশ করার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। এতে ব্যাপক শোডাউনের মাধ্যমে রাজপথে তাদের উপস্থিতি জানান দেয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ধাক্কা সামলিয়ে এখন নতুন নির্বাচনের দাবিতে মাঠে নামতে যাচ্ছে ফ্রন্টের নেতাকর্মীদের। ঢাকার বাইরে বিভাগীয় শহরগুলোতেও পর্যায়ক্রমে সমাবেশ করবেন বলে জানিয়েছেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা।

বৃহস্পতিবার একটি জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে ঐক্যফ্রন্ট নেতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ড. কামাল হোসেনের সঙ্গ আমি বৈঠক করেছি। এবার বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি হবে বলে আমি আশাবাদী। কারণ, এভাবে একটি দেশ চলতে পারে না।

নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ

২০২০ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে এখনও কোনও ম্যাচ হারেনি বাংলাদেশ। অপরাজিত থেকেই নিশ্চিত করেছে বাছাই পর্বের ফাইনাল এবং মূল পর্ব। বাছাই পর্বে যে দুটি দল ফাইনালে খেলবে সে দুটি দলই খেলবে বিশ্বকাপে। সে হিসেবে এখন ফাইনাল ম্যাচটা নিয়ম রক্ষার তবে বাড়তি সম্মানের। হোক বাছাই পর্ব, চ্যাম্পিয়ন হবার আনন্দটা যে সব থেকে আলাদা!
গ্রুপ পর্বে যুক্তরাষ্ট্র, পাপুয়া নিউগিনি আর স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে সেমি-ফাইনালে আজ মুখোমুখি হয় আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে।

ফর্টহিলে টস হেরে প্রথমে ফিল্ডিং পায় বাংলাদেশ। তবে বোলিংয়ে নেমে আইরিশ মেয়েদের সুবিধা করতে দেননি ফাহিমা-সালমারা। পুরো ২০ ওভার খেললেও ৮৫ রানেই গুটিয়ে যায় আয়ারল্যান্ডের ইনিংস।

আইরিশ ইনিংসে বিশের ঘর পেরুতে পেরেছেন কেবল দুজন-অধিনায়ক লরা ডেলানি (২৫) আর এইমার রিচার্ডসন (২৫)। প্রেনডারগাস্ট করেন ১০ রান। বাকিরা দুই অংকও ছুঁতে পারেননি।

বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন ফাহিমা খাতুন। ৪ ওভারে মাত্র ১৮ রান খরচায় তিনি তুলে নেন ৩টি উইকেট।

লক্ষ্য ৮৬ রানের। অবশ্য আইরিশ বোলারদের তোপে পড়েছিল বাংলাদেশও। ৩০ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে হারের শঙ্কায়ও পড়েছিল টাইগ্রেসরা।

তবে সানজিদা ইসলামের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ইনিংসের ৯ বল বাকি থাকতেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পেরেছে লাল সবুজের প্রতিনিধিরা। ৩৭ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ৩২ রানে অপরাজিত থাকেন সানজিদা। এছাড়া রিতু মনি ১৫ আর ওপেনার মুরশিদা খাতুন করেন ১৩ রান। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর

আয়ারল্যান্ড নারী দল: ৮৫/১০ (২০ ওভার) রিচার্ডসন ২৫; ফাহিমা ৪-০-১৮-৩

বাংলাদেশ নারী দল: ৮৬/৬(১৮.৩ ওভার) সানজিদা ৩২*, রিতু ১৬,

ফলাফল: বাংলাদেশ ৪ উইকেটে জয়ী।

জাকির নায়েকের ভারতে ফেরা নিয়ে মাহাথিরের সঙ্গে মোদীর আলাপ

আলোচিত বক্তা ড. জাকির নায়েককে প্রত্যর্পণ নিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদের সঙ্গে আলাপ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার শঙ্কায় জাকির নায়ক দীর্ঘদিন ধরে ভারত ছেড়ে বিদেশে রয়েছেন। ২০১৭ সাল থেকে তিনি মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন।

আজ বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাশিয়ায় সর্ব-পূর্বের শহর ভ্লাদিভস্তকে পূর্বাঞ্চলীয় অর্থনৈতিক ফোরামের এক সম্মেলনের ফাঁকে মাহাথিরের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে জাকির নায়েকের বিষয়টি তোলেন মোদী। পরে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পররাষ্ট্র সচিব বিজয় গোখালে।

তার ভাষ্যে, মালয়েশিয়া থেকে জাকিরের প্রত্যপর্ণের বিষয়ে ভারতের অনুরোধের প্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত হয়, দু’দেশের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে যোগাযোগের মধ্যে থাকবেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, পররাষ্ট্র সচিব বিস্তারিত খোলাসা না করলেও একটি সূত্র জানিয়েছে, মোদী বিষয়টি উত্থাপনের পর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন।

যেহেতু এ ধরনের বিষয় শীর্ষ নেতৃত্বের (প্রধানমন্ত্রী) মাধ্যমে সুরাহা হতে পারে না, সেজন্য কীভাবে জাকির নায়েককে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে বিচারের মুখোমুখি করা যায়, এ ব্যাপারে দু’দেশের কর্মকর্তারা আলোচনা চালিয়ে যাবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের জুলাইয়ে ঢাকার গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলার পর বাংলাদেশ সরকারের তরফে অভিযোগ তোলা হয়, সন্ত্রাসীদের একজন জাকির নায়েকের বক্তৃতা শুনতো এবং তার বক্তৃতা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের উস্কানিদাতা।

তারপর থেকেই ভারতীয় সরকারের ‘জালে’ চলে আসেন জাকির নায়েক। বন্ধ করে দেওয়া হয় তার পিস টিভি ও পিস স্কুলসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয় তার সংগঠন ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশন (আইআরএফ)।

এতো ঘটনার সময় সৌদিতে ছিলেন জাকির নায়েক। চতুর্মুখী নিষেধাজ্ঞার পরিপ্রেক্ষিতে মুম্বাইয়ে জন্ম নেওয়া এ বক্তা জানিয়ে দেন, ভারতে ফিরছেন না তিনি। পরে তার বিরুদ্ধে মামলায় পরোয়ানা জারি হয়। একাধিক দেশ হয়ে জাকির পরে মালয়েশিয়ায় চলে যান।

মাহাথিরের আগের নাজিব রাজাক সরকার জাকির নায়েককে আশ্রয় দিলেও এখন মালয়েশিয়ায়ই নানামুখী বাধার মুখে পড়ছেন তিনি।

‘ধর্ম ও বর্ণ বৈষম্যে’র উসকানিমূলক মন্তব্যের কারণে কোনো অনুষ্ঠানে তার বক্তৃতা সম্প্রতি নিষিদ্ধ করে দেয় মাহাথির মোহাম্মদের সরকার। এমনকি তাকে সার্বক্ষণিক নজরদারিতেও রেখেছে সেখানকার কর্তৃপক্ষ।

অবশ্য জাকিরের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তদন্ত চালানোর ঘোষণার আগে মাহাথির মোহাম্মদ বলেছিলেন, জাকির নায়েককে ফেরত পাঠাতে ভারতের অনুরোধ তিনি শুনবেন না, কারণ সেখানে তার প্রাণ যেতে পারে।

-এটি

হেজবুত তাওহীদকে নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবীতে রাজধানীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

ইসলামী আক্বীদা সংরক্ষণ পরিষদ বাংলাদেশের আমীর ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন প্রধান, মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী বলেছেন, হেজবুত তাওহীদ নামক একটি সংগঠন আল্লাহ, নবী-রাসূল ও ইসলাম সম্পর্কে বানোয়াট মনগড়া কথাবার্তা বলে ও লিখে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। তারা এদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানকে ‘অমুসলিম’ বলে কটাক্ষ করছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী তারা ব্যতিত এদেশে সবাই নাকি অমুসলিম। তারা কুরআন-হাদীসের অপব্যখ্যা করে প্রতিদিন সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির গভীর পায়তারা করে যাচ্ছে। জিহাদের অপব্যখ্যা করে জঙ্গীবাদকে উস্কে দিচ্ছে। তাদেরকে এখন থেকেই আইনের আওতায় এনে নিষিদ্ধ করতে হবে।

আজ বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ইসলামী আক্বাীদা সংরক্ষণ পরিষদের উদ্যোগে হেজবুত তাওহীদকে নিষিদ্ধের দাবীতে আয়োজিত মানববন্ধনে সভাপতির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমীর মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, পরিষদের সমন্বয়কারী মুফতি আব্দুল্লাহ ইয়াহইয়া, মুফতি আ ফ ম আকরাম হুসাইন, মাওলানা সাজেদুর রহমান ফয়েজী, মাওলানা ইউসুফ মাহমূদী, মাওলানা আতাউর রহমান আতিকী, মুফতি যুবায়ের গণি ও মুফতি আবুল হাসান কাসেমী প্রমূখ।

মাওলানা মুজীবুর রহমান হামিদী বলেন, হেজবুত তাওহীদ মূলত হেজবুশ শয়তান। তারা ইসলাম, মানবতা ও দেশের শত্রু। হেজবুত তাওহীদের নামে তারা ইসলাম ধর্মকে বিকৃত করে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং ইসলামের দুশমনদের মনোরঞ্জন করে চলছে। তাদেরকে রুখে দাড়াতে হবে।

মুফতি আব্দুল্লাহ ইয়াহইয়া বলেন, ২০১৪/১৫ সালে যারা সরকারের কালো তালিকার আওতায় এসেছে। তারা আবার কিভাবে জনসম্¥ুখে প্রকাশ্যে তাদের উগ্র-সন্ত্রাসী কর্মকা- চালায়? অনতিবিলম্বে তাদের অপতৎপরতা বন্ধ করতে হবে।

মুফতি আ ফ ম আকরাম হুসাইন বলেন, হেজবুত তাওহীদ কোন ইসলামিক সংগঠন নয়। এদের মধ্যে তাওহীদের লেশমাত্রও নেই। মতিঝিলে যেমন ঝিল নেই তেমনি হেজবুত তাওহীদের মধ্যে তাওহীদ বলতে কিছুই নেই। তাদের পুরো মিশনই তাওহীদের বিপক্ষে।

মায়াবতী ট্রেলারেই জমে উঠেছে তিশা-রোহানের রসায়ন

আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি। আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকাসহ সারাদেশে মুক্তি পাবে নূসরাত ইমরোজ তিশা ও ইয়াশ রোহান জুটির ‘মায়াবতী’ সিনেমাটি। টিজার ও গানের পরে এবার প্রকাশ হয়েছে সিনেমাটির ট্রেলার। ২ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডের ট্রেলারে তুলে ধরা হয়েছে এই সিনেমার এক ঝলক তুলে ধরা হয়েছে।

ট্রেলারেই জমেছে তিশা-রোহানের রসায়ন। মধু হই হই বিষ খাওয়াইলা গানটির সঙ্গে দেখা যাচ্ছে তাদের। একটি দৃশ্যে দেখা যাচ্ছে হারমনি নিয়ে গান শিখছেন তিশা। ট্রেলার আভাস দিচ্ছে এই সিনেমার গল্পে আছে অনেক প্রেম, অনেক আনন্দ সাথে আরও আছে অনেক কষ্ট। এতে আছে একজন নারীর লড়াই ও প্রতিষোধের কাহিনী।সিনেমাটির কাহিনী, চিত্রনাট্য এবং পরিচালনায় রয়েছেন অরুণ চৌধুরী। এটি তার পরিচালিত দ্বিতীয় সিনেমা। গত বছর মুক্তি পেয়েছিল তার প্রথম সিনেমা ‘আলতাবানু’। গত ১৭ জুন সেন্সর সনদপত্র পায় ‘মায়াবতী’। ২ ঘণ্টা ২০ মিনিট ব্যাপ্তির এ ছবির গল্প গড়ে উঠেছে ‘ওমেন ট্র্যাফিকিং’ নিয়ে।

এই ছবিতে দেখা যাবে, ‘মায়া’ নামের এক কিশোরী ছোটবেলায় মায়ের কাছ থেকে চুরি হয়ে বিক্রি হয় দৌলতদিয়ার যৌনপল্লীতে। সেখানে বেড়ে ওঠে সে, সংগীত গুরু খোদাবক্স তাকে বড় করে তোলেন। এই সময় ব্যারিস্টার পুত্রের প্রেমে পড়েন মায়া।

ছবিটিতে আরও অভিনয় করেছেন ফজলুর রহমান বাবু, রাইসুল ইসলাম আসাদ, দিলারা জামান, মামুনুর রশীদ, ওয়াহিদা মল্লিক জলি, আফরোজা বানু, অরুনা বিশ্বাস, তানভীর হোসেন প্রবাল, আগুন প্রমুখ।

আমেরিকায় ইহুদিদের সরিয়ে দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় জনগোষ্ঠী হতে যাচ্ছে মুসলমানরা!

গত এক দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় দশ লাখ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মুসলিম জনসংখ্যার এই বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ২০৪০ সালের মধ্যে মুসলিমরা ইহুদিদের সরিয়ে দিয়ে আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় গ্রুপ হিসেবে আবির্ভূত হবে। মার্কিন গবেষণা সংস্থা ‘পিউ রিসার্চ সেন্টার’ এর একটি নতুন গবেষণা এই চিত্র ওঠে এসেছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে ঠিক কত সংখ্যক মুসলিম বাস করছে তার বিস্তারিত সংখ্যা নির্ণয় করা কঠিন, কারণ দেশটির সেনসাস ব্যুরো ধর্ম সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করে না। পিউ এর জনসংখ্যা গবেষণা এবং জরিপ ফলাফল অনুযায়ী, মোট মার্কিন জনসংখ্যার ১.১ শতাংশ হচ্ছে মুসলিম।

পিউ’র অনুমান অনুযায়ী, ২০০৭ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম জনসংখ্যা ছিল প্রায় ২.৩৫ মিলিয়ন। মুসলিম জনসংখ্যা দেশটির ইহুদি জনসংখ্যার তুলনায় অনেক দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ২০৫০ সালে মোট মার্কিন জনসংখ্যার মধ্যে মুসলিম জনসংখ্যা ৮.১ মিলিয়ন বা ২.১ শতাংশে পৌঁছাবে। প্রকৃতপক্ষে, প্রতি বছর গড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ১,০০,০০০ করে বৃদ্ধি পায়।

সারাদেশে ৪৬ বীরাঙ্গনাকে মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি

মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের হাতে নির্যাতিত সিলেটের ৬ জন সহ ৪৬ বীরাঙ্গনাকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি গেজেট সম্প্রতি জারি করেছে সরকার।

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) ৬২তম সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বীরাঙ্গনারা এ স্বীকৃতি পেল। এ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাওয়া বীরাঙ্গনার সংখ্যা ৩২২।

মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাওয়া বীরাঙ্গনাদের মধ্যে রয়েছেন, টাঙ্গাইলের মোছা. রবিজান বেওয়া, কিশোরগঞ্জের আমেনা খাতুন, ময়মনসিংহের জয়ন্তী বালা দেবী, দিনাজপুরের উম্মে কুলসুম বেওয়া, ফরিদপুরের আরতী রানী ঘোষ, বরগুনার দিপ্তী রানী পাল, যশোরের মোসা. সালেহা খাতুন, বাগেরহাটের তরুশীল, নাটোরের মালতি কান্তা, জয়পুরহাটের মোছা. ফিরোজা বেগম।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের মোসা. রহিমা বেগম, গোপালগঞ্জের রানী বণিক, বগুড়ার মীরা রানী সরকার, কুমিল্লার বেগম ফুলবানু, মাদারীপুরের চিন্তাময়ী বাড়ৈ ও আরোতী রানী সাহা, পিরোজপুরের তারামনি মিস্ত্রি, চট্টগ্রামের চত্মা চক্রবর্তী, রাজশাহীর মোসা. ফিরোজা বেগম, মোসা. আঙ্গুরা বেগম, ঝিনাইদহের নিহারী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হাজেরা ওরফে কুটি, শেরপুরের অজুফা ও মোসা. করফুলি, দিনাজপুরের মোসা. শেফালী বেগম, সিরাজগঞ্জের মোসা. আনোয়ারা বেগম এবং বগুড়ার মোসা. রহিমা খাতুন বেলী মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেয়েছেন।

এছাড়া সিলেটের কোকিলা বেগম, রেজিয়া বেগম, মায়া বিবি, জয়গুণ নেছা, ললিতা নমসুদ্র, শহর বানু মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেলেন।

মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাওয়াদের মধ্যে আরও রয়েছেন নওগাঁয়ের মায়া বালা, সুষমা বালা, ক্ষান্তা বালা পাল, রাশমনি সূত্রধর, রেনু বালা পাল, সন্ধ্যা রানী পাল, সুষমা পাল, কালী রানী পাল, গীতা রানী পাল ও বাণী রানী পাল এবং নরসিংদীর জোসনা বেগম, হাছিনা ও হাজেরা খাতুন।

কমলগঞ্জের আদমপুর বিদ্যালয়ের ১১১ বছর পূর্তি উদযাপন

বর্ণাঢ্য আয়োজনে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১১১ বছর পূর্তি উদযাপন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, শিক্ষক মণ্ডলী ও পরিচালনা কমিটির সদস্যদের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। 

আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবদাল হোসেনের উদ্বোধনের মাধ্যমে আনন্দ শোভাযাত্রা বের করে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। আনন্দ শোভাযাত্রাটি আদমপুরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শেষ হয়। 

বেলা ২টায়  বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ইউপি সদস্য বশির বক্সের সভাপতিত্বে ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী সাদেক হোসেনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য দেন প্রধান শিক্ষিকা আনোয়ারা বেগম।

১৮২ শতাংশ মশক নিধন ব্যয় বাড়িয়ে ডিএনসিসির বাজেট

২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য তিন হাজার ৫৭ কোটি ২৪ লাখ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। 
বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশান নগর ভবনে এ বাজেট ঘোষণা করেন ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম।
প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে এক হাজার ১০৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা। রাজস্ব ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৫১ কোটি ৪০ লাখ টাকা, অন্যান্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ কোটি টাকা ও উন্নয়ন ব্যয় দুই হাজার ৩৩৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। 
এছাড়া মশক নিধন কার্যক্রমে এবছর ১৮২ শতাংশ ব্যয় বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা।
বাজেট পেশ করার আগে আতিকুল ইসলাম বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের জন্য এটি নবম বাজেট হলেও মেয়র হিসেবে আমার জন্য প্রথম বাজেট। আমাদের জাতীয় জীবনে এই অর্থবছর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘মুজিব বর্ষ’, ‘ভিশন ২০৪১’ এবং ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)’ সামনে রেখে ডিএনসিসির কর্মপরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।

পূজোর সাজে মোহনীয় সায়ন্তনি

শাড়ি বাঙালী নারীকে করে তোলে অপরূপা। পাশ্চাত্যের সাজেও মুগ্ধতা ছড়ায় নারী, তবে শাড়ি না হলে যেন তা অপূর্ণ থেকে যায়। চলতি সময়ের আলোচিত অভিনেত্রী সায়ন্তনি গুহঠাকুরতা সেজন্যই হয়তো সেজেছেন পূজোর সাজে, শাড়িতে তুলে ধরেছেন বাঙালী নারীর সৌন্দর্য।

রামপ্রসাদ বস্ত্রালয়ের শাড়ি পরেছেন সায়ন্তনি

শারদ উৎসব আসতে এখনো এক মাসেরও বেশি সময় বাকি, তাতে কী? সাজতে তো দোষ নেই!

সায়ন্তনীর ছবি তুলেছেন অঞ্জন ধাউরি

রামপ্রসাদ বস্ত্রালয়ের শাড়িতে সেজেছেন সায়ন্তনী। ছবি তুলেছেন অঞ্জন ধাউরি।

সায়ন্তনির চুলের সাজ ঠিক করেছেন অবিনাশ ভৌমিক

চারটি শাড়ি পরে ছবি তুলেছেন সায়ন্তনী। চার রঙে রাঙিয়েছেন নিজেকে।

সায়ন্তনীকে সাজিয়েছেন নন্দা মজুমদার

সায়ন্তনীকে সাজিয়েছেন নন্দা মজুমদার, আর চুল দেখভাল করেছেন অবিনাশ ভৌমিক।

সায়ন্তনী ব্যস্ত জিফাইভ’র ওয়েব সিরিজ নিয়ে

উল্লেখ্য, সায়ন্তনী বর্তমানে ব্যস্ত আছেন জি ফাইভের ওয়েব সিরিজ ‘হেডকোয়াটার্স লালবাজার’ নিয়ে। সিরিজটি পরিচালনা করছেন সায়ন্তন ঘোষাল। প্রযোজনা করছে সুরিন্দর ফিল্মস।

বাংলাদেশ অর্থনীতির পুনর্গঠনের কারিগর সাইফুর রহমানের স্মৃতি

বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সময় অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী অর্থনীতিবিদ এম সাইফুর রহমানের নবম মৃত্যুবার্ষিকী ছিল ৫ সেপ্টেম্বর। ১৯৩২ সালের এই বিরল প্রতিভার ব্যক্তিকে বাংলাদেশ অর্থনীতির পুনর্গঠনের স্থপতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তিনি একমাত্র বাংলাদেশী যিনি বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভায় নির্বাচিত গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আর সাইফুর রহমান এমন এক ব্যক্তি ছিলেন যিনি হঠাৎ করে পাদপ্রদীপে আসেননি। ছাত্রজীবনেই তিনি ভাষা আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। জেল খেটেছেন। ভাষাসৈনিক হিসেবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মানের একুশে পদকও পেয়েছেন। ছাত্রজীবনে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের নির্বাচিত ভিপি ছিলেন তিনি।

পেশাগত জীবনে সাইফুর রহমান ছিলেন নিরীক্ষক। যিনি চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্টের ডিগ্রি নিয়েছেন ইংল্যান্ডের ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট ইন ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়ালস থেকে। তিনি ছিলেন মুদ্রানীতি, রাজস্ব নীতি ও উন্নয়ন অর্থনীতির আন্তর্জাতিক মানের একজন বিশেষজ্ঞ। শুধু বাংলাদেশ অর্থনীতির খুঁটিনাটি বিষয়ই নয়, বিশ্ব অর্থনীতির সমকালীন প্রবণতাকে তিনি যেভাবে বিশ্লেষণ করতেন তা বিস্ময়কর মনে হতো। ১৪ বছর বাংলাদেশের কেবিনেট মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে নিজ দেশের পক্ষে ১২টি জাতীয় বাজেট তিনি উপস্থাপন করেছেন। সম্ভবত এটি বাংলাদেশের যেকোনো অর্থমন্ত্রীর সবচেয়ে বেশি বাজেট উপস্থাপন।

সাইফুর রহমানের সাথে আমার ব্যক্তিগত স্মৃতির বড় অংশ অর্থনৈতিক সাংবাদিক হিসেবে। তবে কলেজে পড়াকালেই তার নামের সাথে আমার বিশেষ পরিচয় ঘটে। তার প্রতিষ্ঠিত ও মালিকানাধীন সিএ ফার্ম রহমান রহমান অ্যান্ড হক থেকে আমার বড় ভাই মাহফুজ খলিলী সিএ পাস করেছেন এবং পাস করার পর সেখানেই কয়েক বছর কাজ করেন। সেই সময়টাতে তিনি সম্ভবত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্টসের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সেখান থেকে তাকে বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দান করেন। অবশ্য সাইফুর রহমান বিএনপির প্রতিষ্ঠা এবং তার আগে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল গঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন।

মৌলভীবাজারে জন্মগ্রহণকারী এই শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিত্বকে সিলেটের মানুষ ‘ছয়ফুর রহমান’ হিসেবে জানেন। প্রথম দিকে অর্থমন্ত্রী হিসেবে তিনি অর্থনৈতিক সমীক্ষা ও অন্যান্য বাজেট ডকুমেন্টে এ বানানেই স্বাক্ষর করতেন। সংসদে বাজেট আলোচনার সময় একজন ভুলক্রমে তাকে ‘ছয়ফুট রহমান’ বলে ফেলেন। স্পিকার রস করে বিষয়টিকে হালকা করে বলেন, মাননীয় মন্ত্রী আপনাকে উনি খাটো করেননি, এভারেজ বাঙালির উপরেই রেখেছেন। তখন সংসদে হাসির রোল পড়ে যায়। পরে অবশ্য সব ক্ষেত্রে তিনি সাইফুর রহমান হয়ে গেছেন।

সাইফুর রহমান বিয়ে করেছিলেন চট্টগ্রামের বিখ্যাত একে খান পরিবারে। পাকিস্তানের এই সাবেক শিল্পমন্ত্রী এ কে খানের পরিবার ছিল তার ভাই বোন সবাইকে নিয়ে। বাংলাদেশের অনেক খ্যাতনামা ব্যক্তি এই পরিবারের জামাতা ছিলেন। চট্টগ্রামের মেয়ের জামাতা হিসেবে বন্দরনগরীর প্রতি তার এক ধরনের টান ছিল। অর্থমন্ত্রী হিসেবে চট্টগ্রামের উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ দিতে তিনি কখনো কার্পণ্য করতেন না, যদিও সাইফুর রহমানকে এখনো সিলেটের উন্নয়নের কারিগর হিসেবে জানেন দলমত নির্বিশেষে সেখানকার সব মানুষ। সাইফুর রহমান যে সিলেটের মানুষ সেটি তার বাজেট বক্তৃতা শোনার সময়ও বোঝা যেত। আর এই মানুষটি বিশ্বব্যাংক, আইএমএফের বার্ষিক গভর্নর সভায় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন অত্যন্ত যোগ্যতার সাথে।

১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের অর্থমন্ত্রী ছিলেন সাইফুর রহমান। তার ওপর অগাধ আস্থা ছিল প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার। তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ের কোনো বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার প্রয়োজন অনুভব করতেন না। এ সময় অর্থনৈতিক রিপোর্টার হিসেবে এবং এর আগে বিরোধী দলের অন্যতম প্রধান নেতা হিসেবে অর্থনীতির ওপর যেসব মন্তব্য তিনি করতেন তা নিয়মিত ফলো করার সুযোগ হতো। অর্থনৈতিক রিপোর্টার হিসেবে আমাদের কাজ ছিল অর্থমন্ত্রীর দৈনন্দিন কার্যক্রমের ওপর নজর রাখা। সাইফুর রহমান বরাবরই একজন রিপোর্টারবান্ধব মন্ত্রী ছিলেন। শেষ মেয়াদে তিনি দায়িত্ব পালনের সময় বেশ খানিকটা দুর্বল হয়ে পড়েন। তখন তার স্ত্রী দুররে রহমান দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত হন এবং ২০০৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

স্ত্রীর মৃত্যুর প্রভাব তার ওপর বিশেষভাবে পড়ে। তবে শারীরিকভাবে কিছুটা দুর্বল হলেও দায়িত্ব পালনে তাকে কখনো সেভাবে ক্লান্ত মনে হতো না। অর্থমন্ত্রী থাকাকালে প্রতি বছর তিনি অর্থনৈতিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সদস্যদের সাথে বাজেট প্রণয়নের সময় বসতেন এবং বাজেটের নানা বিষয়ে তাদের সাথে মতবিনিময় করতেন। ২০০৬ সালে ইআরএফের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি থাকাকালে এ ধরনের এক অনুষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে তার সরকারের শেষ প্রাকবাজেট আলোচনা তার একেবারে পাশে থেকে শোনার সুযোগ হয়। তদানীন্তন ইআরএফ সেক্রেটারি নাজমুল আহসান সেই সভাটি পরিচালনা করেছিলেন।

সাইফুর রহমান এমন এক ব্যক্তি ছিলেন যার স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যাওয়া। ব্যক্তিগতভাবে তিনি মুক্তবাজারে বিশ্বাস করতেন। ’৭৫-এর পটপরিবর্তনের পর শহীদ জিয়ার সরকারের কমান্ড অর্থনীতি থেকে বাজারভিত্তিক ব্যবস্থায় রূপান্তরে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ’৯০-এর দশকের অর্থনৈতিক সংস্কারের মূল কাজটি তিনি করেছেন। ২০০১ সালের পরের মেয়াদে এটাকে আরো বেশ খানিকটা সুদৃঢ় ভিত্তি দিয়েছেন তিনি। সাইফুর রহমানের নীতির বৈশিষ্ট্য ছিল সর্বজনীন। তার সময়ে বাংলাদেশে তৈরী পোশাকের লিংকেজ শিল্প এবং ভারী শিল্পকারখানার শক্ত ভিত্তি লাভ করে।

বিচক্ষণ ও সাহসী সাইফুর রহমানের সুযোগ্য তত্ত্বাবধানেই ঐতিহাসিক ব্যাংকিং খাতের সময়োপযোগী ও যুগোপযোগী সংস্কারকাজ বাস্তবে রূপায়িত হয়েছিল। তিনি ছিলেন উদ্ভাবনী ক্ষমতার অধিকারী একজন কর্মবীর। গ্রামীণ অর্থনীতির ভিত স্থাপনে এবং দারিদ্র্য হ্রাসকরণে কর্মসূচি প্রণয়নে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন তা দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠনে অল্প দিনের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণিত হয়েছে। তার বহু কীর্তি সারা দেশের গ্রাম ও শহরে রয়েছে এবং তা বহুকাল ধরেই থাকবে। অনেকেই তাকে বৃহত্তর সিলেটের রাস্তাঘাট, সেতুসহ বিভিন্ন উন্নয়নের রূপকার বলে থাকেন। কিন্তু সারা দেশের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে তিনি অর্থনৈতিক উন্নয়ন, ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের সংস্কার, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, গ্রামীণ দারিদ্র্য হ্রাসকরণ, কর্মসংস্থান, গ্রামীণ অর্থনীতির ভিত স্থাপন, কৃষির উন্নয়ন ও সেচসুবিধা বৃদ্ধির মাধ্যমে সারা দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও পরিকল্পনার যে মূল ভিত্তি স্থাপন করে গেছেন তা যুগ যুগ ধরে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নের রূপকার হিসেবেই এ দেশের মানুষ তাকে স্মরণ করবে।

তিনিই প্রথম জাতীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক সংস্কারের সূচনা করেন এবং বিস্তৃতি ঘটান। বাজার অর্থনীতিতে তার মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট চালু করা নব্বই শতকে অভাবনীয় সাফল্য এনে দেয় এবং অর্থনীতি পুনর্গঠনে এটি ফলপ্রসূ প্রমাণিত হয়। সাইফুর রহমানের এটি ছিল একটি দুঃসাহসী পদক্ষেপ। এতে তিনি অবশ্য অনেক সমালোচনারও সম্মুখীন হয়েছিলেন। এমনকি নিজের দলের মধ্যেও তাকে তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। কিন্তু তিনি অবিচল থেকেছেন, কেউ তাকে লক্ষচ্যুত করতে পারেনি। তার সমালোচকেরাই পরে তার প্রশংসা করেন।

বাংলাদেশে তিনিই প্রথম অর্থনীতির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে যুগান্তকারী অনেক পদক্ষেপ নিয়েছেন। দলের সঙ্কীর্ণতা তার নীতির বাস্তবায়নে কখনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। তিনি ছিলেন এক উদারপন্থী, সংস্কারবাদী, বাস্তবতায় বিশ্বাসী প্রাগমেটিক রাজনীতিক। তিনি বুঝেছিলেন বাংলাদেশকে যদি একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে টিকে থাকতে হয়, যদি সমৃদ্ধিরপথে এগিয়ে যেতে হয়, দারিদ্র্যমুক্ত হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হয়, তাহলে অর্থনৈতিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক সংস্কার আনতেই হবে। এসব সংস্কার কর্মসূচির বাস্তবায়ন ছাড়াও দুর্নীতির সর্বগ্রাসী থাবা থেকে দেশকে রক্ষা করতে তিনি স্বাধীন জাতীয় দুর্নীতি দমন কমিশন গঠনে অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন। এখন ব্যাংকিং খাতের সেই সংস্কার অনেকখানি মুখথুবড়ে পড়েছে আর দুর্নীতি দমন কমিশন দলীয় স্বার্থের কাছে এক অসহায় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

সাইফুর রহমান রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সমস্যাকে কাঠামো দিয়েই দেখতেন এবং সমাধানের চেষ্টাও সেভাবেই করতেন। যার কারণে তার সময় প্রতি বছর ৫-৬ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রভাব দেশের গ্রাম-গ্রামান্তরে শিল্প এলাকায় এমনকি হাটবাজারে গেলেও বোঝা যেত। এখন ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পরও বেকারত্বের হার সর্বোচ্চ। নতুন শিল্পকারখানা করার মতো গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। গ্রামগঞ্জে গেলে অনেক লোকের মধ্যে তীব্র অভাব-অনটন দেখা যায়।

সাইফুর রহমানের ’৯০-এর দশকের প্রথম মেয়াদে নেয়া বিভিন্ন নীতির ধারাবাহিকতা এর পরে অর্থমন্ত্রী হওয়া শাহ এ এম এস কিবরিয়া অনেকখানিই অনুসরণ করেছেন। তিনি এ কথা স্বীকার করতে কুণ্ঠিতও হতেন না। কিন্তু ২০০৭ সালের পর সেই ধারাবাহিকতা আর রক্ষিত হয়নি। আর এখন অর্থনীতির অবস্থা হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘কেতাবে আছে তো গোয়ালে নেই’।

আমরা শুনতাম সাইফুর রহমানের শরীরে এক সময় ক্যান্সার জায়গা করে নিয়েছে। কিন্তু অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেটি অপসারণ করা হয়েছে। এর পরও তাকে আমরা ৭৬ বছর বয়সেও প্রাণবন্তই দেখতাম। কিন্তু এই বিরল মানুষটি তাকে বহনকারী গাড়ি দুর্ঘটনায় খাদে পড়ে চিরবিদায় গ্রহণ করেছেন ২০০৯ সালে। বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে যারা এক যুগ পরেও কাজ করবেন তারাও সাইফুর রহমানকে স্মরণ না করে পারবেন না।

‘স্পষ্টভাষী সাইফুর রহমান ছিলেন সর্বজন শ্রদ্ধেয়’

সাবেক অর্থমন্ত্রী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও উপমহাদেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এম সাইফুর রহমানের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

২০০৯ সালের এই দিনে জন্মস্থান মৌলভীবাজার থেকে সড়কপথে ঢাকায় আসার সময় আশুগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে ৭৭ বছর বয়সে মারা যান সাবেক এ অর্থমন্ত্রী।

তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিএনপি, এম সাইফুর রহমান স্মৃতি পরিষদ ও মরহুমের পরিবার।

এ উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এতে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে সাইফুর রহমান ছিলেন এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তিনি সবসময় থেকেছেন সামনের কাতারে।’

‘সাইফুর রহমান একজন কীর্তিমান অর্থমন্ত্রী হিসেবে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে যুগান্তকারী অবদান রেখেছেন। তার দক্ষ রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সুনাম অর্জন করে। তিনি স্বদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির অন্যতম পথিকৃত। স্বাধীনচেতা, স্পষ্টভাষী, অটুট মনোবল এবং ঈর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের কারণে তিনি ছিলেন সবার কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি’-যোগ করেন ফখরুল।

তিনি আরও বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে জাতীয়তাবাদী দর্শনকে বুকে ধারণ করে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে স্বৈরাচারের কবল থেকে গণতন্ত্রের পথে উত্তরণে এম সাইফুর রহমানের অবদান দেশবাসী ও দল চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।’

প্রতিথযশা অর্থনীতিবিদ সাইফুর রহমান ১৯৩২ সালের ৬ অক্টোবর মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বাহারমর্দন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি করার পর ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস) থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ১৯৭৬ সালে জিয়াউর রহমানের সামরিক সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা নিযুক্ত হন তিনি।

১২ বার দেশের বাজেট পেশ করা এ চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ভাষা আন্দোলনে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৫ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন।

৪০ তারকাশিল্পীকে হুমকি, থানায় জিডি

ছবি : সংগৃহীত   বিনোদন ডেস্ক

বাংলাদেশের ৪০ জন তারকাশিল্পী ও কলাকুশলির পাসপোর্ট এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি নিয়ে লন্ডনপ্রবাসী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গুলশান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। লন্ডনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা বলে ওই ব্যক্তি শিল্পীদের কাছ থেকে পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি নেন। সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

হুমকি পাওয়া শিল্পীদের তালিকায় চিত্রনায়ক ফেরদৌস, সংগীতশিল্পী ফাহমিদা নবী, আগুন, কনা, দিনাত জাহান মুন্নী, আঁখি আলমগীর, ইমরান, গীতিকার কবির বকুল, অভিনেত্রী সোহানা সাবার মতো পরিচিত মুখ রয়েছেন।

হুমকি পাওয়া শিল্পীরা জানান, একটি ব্রিটিশ মুঠোফোন নম্বর থেকে শিল্পীদের সবার মুঠোফোনে বার্তা পাঠিয়ে এই হুমকি দেয়া হচ্ছে। মুঠোফোনে পাঠানো এসব বার্তায় ‘জুবাইর’নাম উল্লেখ করা হচ্ছে।

তারা আরো জানান, গত মাসে লন্ডন থেকে মোবাইল ফোনে জুবাইর নামের এক ব্যক্তি নিজেকে প্রবাসী বাংলাদেশি পরিচয় দেন। ওই ব্যক্তি তখন তাদের ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত লন্ডনে ‘বাংলাদেশ মেলা’ নামে সাংস্কৃতিক উৎসব আয়োজন করা হবে বলে জানান। নয়দিনের এই উৎসবে লন্ডনের তিনটি স্থানে অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয় তাদের।

অনুষ্ঠানের বিষয়ে কথা বলতে ওই ব্যক্তির গত মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় আসার কথা ছিল। তার আগেই তিনি যোগাযোগ করে প্রায় ৪০ জন শিল্পীর কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্টের ফটোকপিসহ আনুষঙ্গিক কাগজপত্র সংগ্রহ করেন। 

২ সেপ্টেম্বর ফোন করে জুবাইর নামের ওই ব্যক্তি জানান যে, তিনি ফ্লাইটে উঠেছেন। ঢাকায় ৩ সেপ্টেম্বর বিকেলের মধ্যে পৌঁছে যাবেন। সবাই যেন সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার মধ্যে গুলশানে হোটেল ওয়েস্টিনে চলে আসেন। ওইদিন নির্ধারিত সময়ে ৩৫-৪০ জন তারকাশিল্পী হোটেল ওয়েস্টিনে আসেন। এরপরই মুঠোফোনে হুমকি দিয়ে হোটেলে উপস্থিত সবাইকে বার্তা পাঠান জুবাইর নামধারী ওই ব্যক্তি।

বার্তায় জুবাইর অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের একজন অভিনেত্রী এবং ওই অভিনেত্রীর ভাই প্রতারণা করে তার কাছ থেকে সাড়ে তিন কোটি টাকা নিয়েছে। শিল্পীদের সেই টাকা ফেরত দেয়ার ব্যবস্থা করতে বলেন। ফেরত না দিলে কোনো শিল্পী যেন দেশের বাইরে যেতে না পারেন, সেই ব্যবস্থা করবেন বলে হুমকি দেন।

এ ঘটনায় গুলশান থানায় মঙ্গলবার রাতে হুমকি পাওয়া শিল্পীদের পক্ষে গীতিকার কবির বকুল একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ডায়েরি নম্বর ২০৮ (০৩/০৯/২০১৯)। ডায়েরিতে হুমকি দেয়া এই ব্যক্তিকে প্রবাসী বাংলাদেশি এবং তার নাম জুবাইর বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে গীতিকার কবির বকুলের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘আমি সমস্ত শিল্পীর পক্ষ থেকে জিডিটি করেছি। এ সময় অন্যান্য শিল্পীরাও উপস্থিত ছিলেন। জিডি করার পরেও ওই ব্যক্তি শিল্পীদের এসএমএস করে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।’

অভিযুক্ত ব্যক্তি এক অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে বিরাট অংকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনেছেন। এমন প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে কবির বকুল বলেন, ‘সেটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এর সাথে শিল্পীদের হয়রানির কোনো প্রশ্নই ওঠে না। এটা আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। যেটি একদম ঠিক নয়।’

গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম কামরুজ্জামান জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘তদন্ত করে বিষয়টির ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Design a site like this with WordPress.com
Get started