আগামীকাল কী হতে যাচ্ছে আসামে

আসামের চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা (এনআরসি) প্রকাশে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। আগামীকাল রোববার সকাল দশটায় অনলাইনে প্রকাশ হতে যাচ্ছে রাজ্যের নাগরিকদের চূড়ান্ত তালিকা। এজন্য রাজ্য জুড়ে ‘সেবা কেন্দ্র’ স্থাপন করা হয়েছে। যাদের ইন্টারনেট নেই তারা ওইসব কেন্দ্রে গিয়ে তালিকা দেখতে পারবেন।

এনআরসি প্রকাশকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় রয়েছেন রাজ্যটির কমপক্ষে দেড় কোটি মানুষ। এদিকে, ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, রাজ্যে কোনো বিশৃঙ্খলা কিংবা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এরই মধ্যে দশ হাজার অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

খসড়া তালিকা প্রকাশের এক বছরের মাথায় প্রকাশ হতে যাচ্ছে এ চূড়ান্ত তালিকা। সেই তালিকায় মাত্র ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষের ঠাঁই হয়। অথচ আবেদন করেছিল তিন কোটি ২৯ লাখ মানুষ। এবার চূড়ান্ত তালিকায় রাজ্যটির মুসলমান বাসিন্দাদের কপালে কী ঘটতে যাচ্ছে তা জানা যাবে আর কয়েক ঘণ্টা বাদেই। 

তবে যাদের নাম বাদ পড়বে তারা এখনই বিদেশি বলে গণ্য হবেন না। আপিল করার সুযোগ পাবেন তারা। আপিল আবেদনের শুনানির জন্য রাজ্যে অন্তত এক হাজার ট্রাইবুনাল গঠন করা হবে। এরই মধ্যে একশ ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়েছে।

আপিলে হেরে গেলে তারপর আবার হাইকোর্টর শরণাপন্ন হতে পারবেন। সেখান থেকে আবার সুপ্রিম কোর্টে যেতে পারবেন। সব ধরনের আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর বাদ পড়া নাগরিকদের বিদেশি তথা বাংলাদেশি হিসেবে গণ্য করে বাংলাদেশে বিতাড়ন করা হবে। এর আগ পর্যন্ত কাউকে বন্দী করা হবে না বলে নিশ্চিত করেছে আসাম সরকার।

এদিকে, এনআরসি প্রকাশ নিয়ে চাপা উদ্বেগের মধ্য রয়েছে বাংলাদেশও। রজ্যেটির কমপক্ষে ৪০ লাখ মুসলমান নাগরিকত্ব হারাতে পারেন এবং তাদের জোর করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে এমন বহু প্রতিবেদন বিগত এক বছর ধরেই প্রকাশ করে আসছে ভারতীয় প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমগুলো।

রাজ্যটিতে প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশে থেকে বহু মানুষ আসামে অবৈধভাবে বসবাস করে আসছে এমন অভিযোগেই কয়েক দশক আগে আসামে ‘বাঙ্গালি খেদাও’ আন্দোলনের সূত্রপাত হয়।

উল্লেখ্য, বিগত এক দশকে শাসকগোষ্ঠী বিজেপি ও এর সঙ্গী আরএসএস’র তীব্র প্রভাবে মূলত অবৈধ বাংলাদেশিদের চিহ্নিত করে তাদের ফেরত পাঠানোর লক্ষ্যে নিয়ে চার বছর আগে আসাম সরকার নতুন নাগরিক তালিকা তৈরির কাজ হাতে নেয়।

নিজস্ব স্বভাব-বৈশিষ্ট্যের মধ্যেই বেহিসাবিয়ানার বহু মানুষ আছে

নজরুল ইসলাম তোফা:: ধন সম্পদ গড়ে তুলতে দরকার হিসেবি মানসিকতা। যা ইনকাম করছেন বা কামাচ্ছেন তার সবটুকু খরচের চিন্তা না করে তাকেই ‘পরিবার তথা অর্থনৈতিক’ লক্ষ্য অর্জনে কাজে লাগানোর চিন্তা ভাবনার প্রয়োজন। দেখা যায় বেশির ভাগ মানুষই প্রয়োজন মাফিক খরচ করে। আর বাকি অর্থ জমায়। টাকা পয়সা এবং ধন-সম্পদ এমনিতেই জমালে চলবেনা। উন্নতির একটি লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। লক্ষ্য নির্ধারণ করে পরিকল্পনা প্রণয়ন করতেই হবে। প্রাথমিক অবস্থায় কিছু সমস্যা হলেও হিসেবের জায়গাতে ক্ষতি মনে করা যাবে না। হিসাবে আপনি অভস্ত হয়ে উঠতে পারলে তাড়াতাড়ি উপার্জন করছেন, যদি আপনি অবসরের জন্যে এখনো সঞ্চয় করা শুরু করেননি। এমনটা হলে অবশ্যই বোঝা যাবে আপনার সঞ্চয়ের কোনো সুযোগ নাই। আপনার যা জমানো অর্থ সব বেহিসাবী মতোই যেন খরচ করে ফেলছেন। এরজন্য যেখানেই কর্মরত এবং যে প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন সেখানে প্রোভিডেন্ট ফান্ডে সঞ্চয় করুন। সবচেয়ে ভালো হলো হিসাব করেই উপার্জন মাত্রই এমন কাজটি শুরু করুন।আসলে সেদিকে এ আলোচনা নয় কথা হলো যে বেহিসাবি মানুষ কারা কিংবা তাদেরকে চেতনার উপায় নির্ণয় করা উচিত।

দৈনন্দিন মানুষের জীবনের জন্যেই অত্যাবশ্যক চাহিদা পুরণেই যে মন ব্যস্ত তা হলো হিসেবি মন। এ জীবন পরিক্রমায় নিত্যদিনের হিসাব মেলাতে গিয়েই এ ধরনের মন মানসিকতা বাঁধা পড়ে যেন ছক বাঁধা বাধ্যবাধকতা মধ্যে। ফলে সেই জীবনে থাকে না স্বচ্ছন্দে বিচরণের স্বাধীনতা। আপনার নিজ সহজাত যৌক্তিক মনটাকে কাজে লাগান। দামি গেজেট না কিনে নিত্যদিনের কাজ চলতেই যা যা দরকার তা কেনা কিংবা ভাবার কথা চিন্তা করুন। এতে অর্থ সাশ্রয় হবে। আর কাজটি যেন আটকেও থাকবে না। অর্থ ব্যবস্থাপনাতে নিজের সিদ্ধান্ত মতো চলতে পারবেন। নিজস্ব যেকোনো চিন্তা আদর্শের হলেই কৌশলগুলো খুব কার্যকর হয়। অপ্রয়োজনীয় কাজে অতিরিক্ত ব্যয় কিংবা বেহিসাবি মনে কখনোই চলবেন না।

জানা দরকার, বেহিসাবি মানুষরা বাধ্যবাধকতার গন্ডিতে আবদ্ধ থাকতে চায় না। সে মানুষরা যেন স্বভাব- বৈশিষ্ট্য দেখলেই চেনাা যায় বা মোটা মুটি তারা একই রকমের আচরণের। এদের না থাকে স্বাধীনতা, না বুঝা যায় এদের বিচিত্র মন ও সেই মনের খেয়ালের স্বরূপ। আর সেই মানুষ হিসাবি মনের চেয়ে বেহিসাবি স্বভাব-বৈশিষ্ট্য একেবারেই হয় আলাদা। মানুুষের এ বেহিসাবিয়ানার মধ্যেই খোঁজে পাওয়া যায় দৈনন্দিন নেতিবাচক স্বভাব-বৈশিষ্ট্যকে। সংসারের ছক বাঁধা জীবনটা এদের আকর্ষণ করে না। এই মানুষদেরই কেউ বা কেউ একতারা হাতে পথে-প্রান্তরে ছুটে যাওয়ার চেষ্টা করে। সংসার-বিরাগী উদাসী বাউলও হয়ে যান। আবার কেউ নিজ অর্থ-সম্পদ উজাড় করে দেয় মানবকল্যাণে। এমন মানুষগুলো স্বভাবেই কৃপণ হয় না, আত্ম স্বার্থপর নন। আবার কেউ বা কেউ যদি নিছক বিলাসিতায় গা ভাসিয়ে দেওয়া জন্য বাজে বাজে খরচে- ধন-সম্পদ উজাড় করে দেন তবে তাতে আবার প্রকাশ পায় উচ্ছৃঙ্খলতা।

সুতরাং দেখাও যায় সৌন্দর্য পিপাসু, সংস্কৃতিবান মানুষেরা অভাব-অনটনের মধ্যেই যেন বেহিসাবি খরচ করে দেশ ভ্রমণ করে, পুস্তক কেনায় কিংবা ভালো লাগা ছবি ও পুরাকীর্তি সংগ্রহের জন্যেও উপার্জিত অর্থ বেহিসাবি ভাবেই খরচে নষ্ট করে। বস্তুত বেহিসাবি খরচের মধ্যেই যেন এই মানুষের মানসিকতার পরিচয় স্পট হয়ে উঠে। ফুটে উঠে তার ব্যক্তিগত মানব প্রবণতা, তার ঝোঁক কিংবা তাদের স্বাতেন্ত্র্যর যথার্থ পরিচয়। সুতরাং- মানুষ অপব্যয় করে নিজ খেয়ালেই, কোনো বাঁধা ধরা নিয়মের অনুসারী হয় না। দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় যার যা খরচের চেয়ে বাজে খরচেই মনোনিবেশ করে। এ স্বভাবের মানুষকে দেখলেই চেনা যায়।

বলতে চাই তা হলো এই, অনেক মানুষের মধ্যেই সঞ্চয়ের গুণটি নেই তা বলবো না। অবশ্যই দেখা যায় তারা সঞ্চয়ী। কিন্তু তারা আবার যেন হিসাব রাখেন না যে টাকা কোথা থেকে আসছে আবার কোথায় যাচ্ছে। লক্ষ্যে পৌঁছাতেই হলে আপনার কী করতে হবে সে বিষয়ে প্রায়ই উদাসীনতা বহু জনের দেখা যায়। খরচের সঠিক হিসাব অনেক সময়ই থাকে না তাদের কাছে। আসলেই অর্থের আসা-যাওয়ার হিসাবটা স্পষ্ট থাকতে বেহিসাবি স্বভাবটা আস্তে আস্ত দূর হবে। নয়তো বেহিসাবি হয়ে যাবেন।

মানুষদের আয় বৃদ্ধি হলে, আবশ্যই সেই ধরনের বেহিসেবি মানুষের চিন্তা ধারারও পরিবর্তন হবে।এটি সবচেয়ে ভালো সমাধান। অর্থ সঞ্চয় বৃদ্ধির চেয়ে যেন আয় বৃদ্ধি ভালো সমাধান বয়ে আনে। আবার আয় বাড়লে সে মানুষের অর্থ ব্যবস্থাপনা অনেক সহজ হয়ে আসে। সঞ্চয়ও বাড়ে তাছাড়া জীবন যাপনও উন্নত হতে পারে। তাই- বেহিসাবি স্বভাব দূর করে যে অর্থ সঞ্চয় করবেন। সেটাকে কাজে লাগিয়েই নিজস্ব আয় বৃদ্ধি করা অবশ্যই সম্ভব। তবে বিনিয়োগে সাবধান হতে হবে। বাজে খরচের দিকে মনোনিবেশ না করে সেই মনটাকে অবশ্যই হিসেবে মধ্যেই আনা প্রয়োজন।

লেখকঃ
নজরুল ইসলাম তোফা, টিভি ও মঞ্চ অভিনেতা, চিত্রশিল্পী, সাংবাদিক, কলামিষ্ট এবং প্রভাষক।

বর্ধমান বিস্ফোরণে চার বাংলাদেশিসহ ১৯ জনের জেল

ভারতের বর্ধমানে খাগড়াগড় বিস্ফোরণে দায়ের করা মামলায় চার বাংলাদেশিসহ ১৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। ছয়জনের সর্বোচ্চ সাজা ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। দুই মহিলা এবং আসামের এক ছাত্রের ছয় বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক সিদ্ধার্থ কাঞ্জিলাল।

বাকিদের আট বছরের জেল দেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানার নির্দেশও দিয়েছেন বিচারক। যাদের একাধিক সাজা হয়েছে, তাদের সব সাজা একসঙ্গে চলবে। ইতোমধ্যে যারা জেল হেফাজতে কাটিয়েছেন, মূল সাজা থেকে সেই হেফাজতের মেয়াদ বাদ যাবে।

দোষীসাব্যস্ত ১৯ জনের মধ্যে চার বাংলাদেশিকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। আদেশে, সাজা শেষে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে বলা হয়েছে। ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা- এনআইএর তথ্য অনুযায়ী ওই চার বাংলাদেশি হলেন- শেখ রামতুল্লা ওরফে সাজিদ ওরফে বোরহান শেখ; সাদিক ওরফে সুমন ওরফে তরিকুল ইসলাম ওরফে রায়হান শেখ; লিয়াকত আলী প্রামাণিক ওরফে রফিক ওরফে মোহাম্মদ রুবেল এবং হাবিবুর রহমান ওরফে জাহিদুল ইসলাম ওরফে জাবিরুর ইসলাম ওরফে জাফর।

অভিযুক্তদের আইনজীবী ফজলে আহমেদ খান জানান, এ রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে হাইকোর্টে যাবেন কি-না, পরে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। অন্যদিকে এনআইএ-র আইনজীবী শ্যামল ঘোষ বলেন, আমরা সর্বোচ্চ সাজা চেয়েছিলাম। তবে আদালত যা রায় দিয়েছে, তা মাথা পেতে নেয়া উচিত।

আনন্দবাজার জানায়, ২০১৪ সালের ২ অক্টোবর অষ্টমীর দিন বর্ধমানের খাগড়াগড়ে একটি বাড়িতে তীব্র বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় শাকিল গাজি নামে এক ব্যক্তির। গুরুতর আহত হন করিম শেখ নামে আরও একজন। প্রথমে জেলা পুলিশ পরে সিআইডি এবং সবশেষে ঘটনার তদন্তভার নেয় এনআইএ।

ঘটনার পেছনে বাংলাদেশের জঙ্গিগোষ্ঠী জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)-এর নাম জড়ায়। বিস্ফোরণের পর ওই বাড়ি থেকেই গ্রেফতার হন গুলসানা বিবি ওরফে রাজিয়া এবং আলিমা বিবি নামে দুই মহিলা।

তদন্তে নেমে এনআইএ মোট ৩১ জনকে গ্রেফতার করে। এর মধ্যে ১৯ জন সম্প্রতি বিচারকের কাছে নিজেদের দোষ স্বীকার করেন। সেই ১৯ জনের এদিন সাজা ঘোষণা করে নগর ও দায়রা আদালত। মামলার চার্জ গঠন ও বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয় ২০১৫ সাল থেকে।

bardhaman-blast-02

এনআইএ সূত্রে জানা যায়, মোট ৮০০ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে। বিস্ফোরণের পেছনে থাকা নিষিদ্ধ জঙ্গি গোষ্ঠী জেএমবি-এর যে শীর্ষ নেতা কদর গাজি, কওসর ওরফে বোমা মিজান, ডালিম শেখ ও ইউসুফ শেখ এখনও দোষ স্বীকার করেননি। তাই ওই ১২ জনের বিচারপ্রক্রিয়া চলবে।

২০১৪ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রিজন ভ্যানে হামলা চালিয়ে জেএমবির তিন শীর্ষ নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। বোমা মিজান তাদেরই একজন। ওই ঘটনায় এক পুলিশ সদস্য নিহত হন। ওই বছর ২ অক্টোবর কলকাতা থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে বর্ধমান জেলার খাগড়াগড় এলাকায় বিস্ফোরণের ওই ঘটনা ঘটে।

দোষীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, দেশদ্রোহিতা, ইউএপিএ, অস্ত্র আইনসহ বিভিন্ন ধারায় মামলা হয়। এছাড়া বাংলাদেশি চারজনের বিরুদ্ধে ফরেনার্স অ্যাক্টেও মামলা রুজু করে এনআইএ। এসব ধারায় সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন এবং সর্মনিম্ন পাঁচ বছর সাজার কথা উল্লেখ আছে। কিন্তু দোষীরা সমাজের মূল স্রোতে ফিরতে চাওয়ার আবেদন জানায়। সেই বিষয়টি বিবেচনা করে সর্বোচ্চ সাজা ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

রায় দেয়ার পর বিচারক সিদ্ধার্থ কাঞ্জিলাল বলেন, আপনারা দ্রুত সমাজের মূল স্রোতে ফিরে আসুন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, দোষী ১৯ জনই সমাজের মূল স্রোতে ফিরতে চান বলে জানিয়ে সর্বনিম্ন সাজার আবেদন করেন। তাদের বক্তব্য, সবারই পরিবার ও সন্তান রয়েছে। তাদের প্রতি দায়বদ্ধতা ও কর্তব্য রয়েছে। সেই কারণে তারা সমাজের মূল স্রোতে ফিরতে চান।

শুক্রবার ‘ইন ক্যামেরা’ অর্থাৎ রুদ্ধদ্বার শুনানি হয় আদালতে। দোষী ১৯ জন, সরকারি এবং অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী ছাড়া কাউকে ভেতরে থাকতে দেয়া হয়নি। তবে আদালত সূত্রে খবর, প্রত্যেকের সঙ্গেই বিচারক আলাদা করে কথা বলেন। তখন দোষীরা মূল স্রোতে ফেরা এবং সর্বনিম্ন সাজার আবেদন জানান বিচারকের কাছে।

‘একটি স্বাধীন দেশে এ ধরনের পরিস্থিতি বিরাজ করতে পারে না’

আমার মতো দেশে অনেক মা তার সন্তানকে হারিয়ে অবর্ণনীয় দুঃখের দিন পার করছেন উল্লেখ করে তিন বছরেরও অধিক সময় ধরে নিখোঁজ ছাত্রলীগ কর্মী মোজ্জাম্মেল হোসেন তপুর মা বলেছেন, ‘একটি স্বাধীন দেশে এ ধরনের পরিস্থিতি বিরাজ করতে পারে না’।

‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘মায়ের ডাক’ নামে নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের প্ল্যাটফর্মের আয়োজনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকিসহ বিশিষ্ট নাগরিক ও মানবাধিকার কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনি বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালন করতে যাচ্ছেন।জাতির প্রতি সবচেয়ে ভালো উপহার হবে, যারা গুম হয়েছেন তাদের সবাইকে জীবিত অথবা মৃত অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া।

অনুষ্ঠানে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, প্রতিবছর আমরা এই আলোচনা অনুষ্ঠানে আসি এবং একইরকম হতাশাগ্রস্ত মুখগুলো দেখি। কিন্তু ন্যায়বিচারের জন্য আমাদের আহ্বান ক্ষমতাসীনদের কানে পৌঁছায় না।

গুমের ঘটনাগুলো তদন্তের জন্য আমরা স্বাধীন কমিশন গঠন ও নিখোঁজদের ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

২০১৩ সালে গুম হওয়া বিএনপি কর্মী সাজেদুল ইসলাম সুমনের বোন মারুফা ইসলাম ফেরদৌসি বলেন, বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভোগা মা এখনো সন্তানের অপেক্ষায় রয়েছেন। মরার আগে শেষবারের মতো ওকে দেখে যেতে চান। তবে আমার ভাইকে বোধ হয় মা আর দেখে যেতে পারবেন না।

কাশ্মীরের স্বাধীনতার দাবীতে ঢাকায় বিশাল বিক্ষোভ


কাশ্মীরের স্বাধীনতা দাবীতে ঢাকায় বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে সর্বদলীয় ‘কাশ্মীর সংহতি ফোরাম’।

আজ জুমার নামাজ পর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে ফোরামের সভাপতি আহবায়ক আল্লামা নূর হোসেন কাসেমীর সভাপতিত্বে এই বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে আল্লামা কাসেমী বলেন, “কাশ্মীরের স্বাধীনতা দাবীর প্রতি একাত্মতা ঘোষণা করলো ‘কাশ্মীর সংহতি ফোরাম”। তিনি হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও ঢাকা মহানগর সভাপতি এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ’র মহাসচিব।

বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি বলেন, ভারত সে দেশের সংবিধান থেকে ৩৭০ ধারা তুলে নেয়ার পর কাশ্মীর এখন স্বাধীন। তারা এই ধারা প্রয়োগ করেও প্রমাণ করেছিল, কাশ্মীর স্বাধীন রাস্ট্র। এখন কাশ্মীরের মানুষ স্বাধীনতা চায়। কাশ্মীরীদের ন্যায্য স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রতি আমরাও তাদেরকে পূর্ণ সমর্থন জানাবো। পাশাপাশি আমরা কাশ্মীরীদের বিরুদ্ধে ভারতের দমন-পীড়ন, মানবাধিকার হরণ এবং খুন-গুম-অপহরণের প্রতিবাদে সোচ্চার আন্দোলন চালিয়ে যাব। বিশ্বের যে কোন নিপীড়িত ও নির্যাতিত জনতার পক্ষে সোচ্চার কথা বলতে আমাদের সংবিধান সে অধিকার আমাদেরকে দিয়েছে। তবে আমরা সর্বাবস্থাবস্থায় শান্তিপুর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাব। কারণ, আমরা ভাংচুর ও বিশৃঙ্খলায় বিশ্বাসী না।

আল্লামা কাসেমী আরো বলেন, ১৯৪৮ সালের ১৩ আগস্ট এই মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, কাশ্মীর অঞ্চল থেকে ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশ সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহার করে কাশ্মীরকে সম্পূর্ণ অসামরিকিকরণ করা হবে এবং জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে একটি গণভোট অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জনগণকে তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সুযোগ দেওয়া হবে। এতে এটাই প্রমাণ করে কাশ্মীর কখনো ভারতের অংশ ছিল না। এরপর ভারত ‘Instrument of Accession’-এর দোহাই দিয়ে বিশ্বাসঘাতকতা করে এবং জাতিসংঘের প্রস্তাব বাস্তবায়নে দেওয়া অঙ্গিকার থেকে সরে দাঁড়ায়। এরপর ভারত সংবিধানে ৩৭০ ধারা যুক্ত করে কাশ্মীরকে ভারতের সাথে যুক্ত করে আবারও প্রমাণ করে কাশ্মীর তাদের অংশ ছিল না। এখন ৭০ বছর পর আবার ৩৭০ ধারা বাতিল করাতে আইনত: কাশ্মীর আজাদ।

তিনি বলেন, বৃটিশদের দীর্ঘ শাসনকালেও তারা কাশ্মীরে তাদের হুকুম চালাতে পারেনি। তখনও কাশ্মীর স্বাধীন রাজ্য ছিল। ভারতের আইনও এতদিন কাশ্মীরে চলেনি। বৃটিশরা চলে যাওয়ার পর ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান-কাশ্মীর ত্রি-পক্ষীয় এক চুক্তি হয় যে, কাশ্মীরিরাই ঠিক করবে তারা কোন দেশে যোগ দিবে। এই চুক্তি বিদ্যমান থাকা অবস্থায় পুরণায় ছলচাতুরি ও ষড়যন্ত্র করে করে কাশ্মীরের হিন্দু রাজার সাথে অবৈধভাবে দ্বিপক্ষীয় ‘Instrument of Accession’ চুক্তি করে। পরে এই অবৈধ চুক্তির দোহাই দিয়ে ভারতীয় সংবিধানে একতরফা ৩৭০ ধারা সংযুক্তি করে কাশ্মীরে সেনা মোতায়েন করে সেই থেকে বিগত ৭০ বছর কাশ্মীর জবর দখল করে রেখেছে ভারত। এখন এই ৩৭০ ধারা বাতিলের সাথে সাথে কাশ্মীর সেই ১৯৪৭ সালের স্বাধীনতার পর্যায়ে চলে গেছে। অর্থাৎ আইনত: কাশ্মীর এখন স্বাধীন। কাশ্মীরের জনগণ ভারতীয় জবরদখল ও জুলুম-নির্যাতন থেকে আজাদী চায়। তারা আজাদীর জন্য লড়াই করছে। তারা স্বাধীনতা চায়। আমরাও তাদের স্বাধীনতার পক্ষে একাত্মতা ঘোষণা করছি।

শায়খুল হাদীস আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমীর সভাপতিত্বে এবং মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমীর পরিচালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের এর সহসভাপতি মাওলানা আব্দুর রব ইউসূফী, ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের আমীর মাওলানা ড. ঈসা শাহেদী, এনডিপির চেয়ারম্যান ক্বারী আবু তাহের, বাংলাদেশে খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের, বাংলাদেশে খেলাফত মজলিসের যুগ্মমহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, লেবার পার্টির সভাপতি ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমীর মাওলানা মুজীবুর রহমান হামিদী, জমিয়তের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, প্রচার সম্পাদক মাওলানা জয়নুল আবেদীন প্রমুখ।

সমাবেশ শেষে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে পল্টন মোড় হয়ে বিজয় স্বরণী মোড়ে এসে শেষ হয়। মিছিলের আগে-পিছে বিপুল সংখ্য পুলিশ নিরাপত্তা দিয়েছিল। বিজয় স্বরণী মোড়ে আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমীর পরিচালনায় সংক্ষিপ্ত মুনাজাত শেষে কর্মসূচী শেষ হয়।

ভিডিও দেখুন ক্লিক কটে

SHARE THIS

পরীক্ষা থেকে শুটিংয়ে, বাড়ি ফিরেই পড়ার টেবিলে

কলকাতার জনপ্রিয় সিরিয়াল ‘রানি রাসমণি’ অভিনেত্রী দিতিপ্রিয়ার উচ্চমাধ্যমিক প্রি-টেস্ট পরীক্ষা চলছে বাস্তবে। এর মাঝেও শুটিং থেমে নেই।


সিরিয়ালটির ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রূপক দে আনন্দবাজার পত্রিকাকে জানান, শুটিং ও পড়াশোনা- দুই বিষয়ে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করা হয়। যাতে কোনোটি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

তিনি বলেন, “সেটা দু’দিক থেকেই ম্যানেজ করা হয়। মূলত ও আগেও এই সিচুয়েশনের মধ্য দিয়ে গেছে এবং দিতিপ্রিয়া দুটোকে সুন্দরভাবে ম্যানেজ করে। মানে ও ফার্স্ট হাফে পরীক্ষা দেয়, পরীক্ষা দিয়ে এসে আমাদের এখানে শুটিং করে। শুটিং শেষে আবার বাড়ি গিয়ে পড়াশোনা করে। ”

রূপক আরও বলেন, “পরের দিন পরীক্ষা না থাকলে প্রথমেই ফ্লোরে চলে এসে অনেকটা শুটিং করে দেয়। পরীক্ষার আগের দিন ওকে আমরা তাড়াতাড়ি ছেড়ে দেওয়ার চেষ্টা করি। সব সময় যে পারি তা নয়, অ্যাটলিস্ট চেষ্টা করি। দু’তরফেই অ্যাডজাস্টমেন্ট করা হয়। কিন্তু আমি বলব, ক্রেডিট গোজ টু দিতিপ্রিয়া।দুটোকে সুন্দরভাবে ব্যালান্স করে। ”

এদিকে দিতিপ্রিয়া বলেন, “শুটিং ও পরীক্ষা, পড়াশোনা সামলাচ্ছি, যেরকম অ্যাজ ইউজুয়াল আমি সামলাই। ক্লাস টেন-এও সামলেছি। এ বছর তো ক্লাস টুয়েলভের বোর্ড। এখন প্রি টেস্ট চলছে। তো শুটিং করে সারা রাত ধরে পড়ে পরের দিন সকালবেলা পরীক্ষা দেওয়া আরকি। এইভাবেই চলছে। ”

এই সিরিয়ালে রানির মেয়ে জগদম্বার চরিত্রে অভিনয় করছেন রোশনি ভট্টাচার্য। সমবয়সী এই অভিনেত্রী জানান, তাকেও বেশ চাপ নিয়েই সামলাতে হয়েছে অভিনয় ও পড়াশোনা।

মুক্তির দিনই অনলাইনে ফাঁস ‘সাহো’

অতি প্রতীক্ষিত ভারতীয় সিনেমা ‘সাহো’ মুক্তির কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শুক্রবার ফাঁস হয়ে গেল অনলাইনে। আর এর পেছনে রয়েছে বিতর্কিত পাইরেসি গ্রুপ তামিল রকার্স।

ডিএনএ’র এক প্রতিবেদনে জানা যায়, বর্তমানে টরেন্ট সাইট তামিল রকার্স থেকে ডাউনলোড করা যাচ্ছে প্রভাস ও শ্রদ্ধা কাপুর অভিনীত ছবিটি।

ব্লকবাস্টার ‘বাহুবলি’র পর দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেতা প্রভাসকে এই সিনেমা দিয়ে দুই বছর পর পর্দায় দেখা গেল।ধারণা করা হচ্ছে, ‘সাহো’ বক্স অফিসে অনেক রেকর্ড ভেঙে দেবে।

তামিল রকার্স নিয়ে অভিযোগ নতুন নয়। প্রায় প্রতি সপ্তাহে নতুন সিনেমা ফাঁস করে দিচ্ছে গ্রুপটি। তাদের ফাঁসের তালিকায় রয়েছে জাজমেন্টাল হ্যায় ক্যায়া, পেটা, বিশ্বাসাম, ভানাথান রাজাভাথান ভারুভেন, গলি বয়, থাগস অব হিন্দুস্তান, ২.০ এর মতো সাম্প্রতিক আলোচিত সিনেমা।

ইতিমধ্যে ভারতীয় সরকার তামিল রকার্সের ওয়েবসাইট নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু থেমে নেই ছবি ফাঁস। ফেব্রুয়ারিতে ফিল্ম ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (এফএফআই) পাইরেসি নিয়ে প্রতিবাদ করে। মাদ্রাজ হাইকোর্ট এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেয়। কিন্তু থামেনি পাইরেসি।

সুজিত পরিচালিত ‘সাহো’তে আরও অভিনয় করেছেন নীল নিতিন মুকেশ, জ্যাকি শ্রফ, মহেশ মাঞ্জরেকর, চাঙ্কি পাণ্ডে, অরুণ বিজয়, মুরালি শর্মা ও মন্দিরা বেদি।

২ ঘণ্টা ৫১ মিনিটের সিনেমাটি নির্মিত হয়েছে ৩৫০ কোটি রুপি বাজেটে, যা ভারতের ইতিহাসে অন্যতম ব্যয়বহুল ছবি। ধারণা করা হচ্ছে, প্রথম দিন ৫০ কোটি রুপির বেশি আয় করবে।

এদিকে ‘সাহো’ সম্পর্কে এক লাইনের রিভিউতে সমালোচক তারণ আদর্শ লেখেন, ‘অসহনীয়’। তিনি ছবিটিকে পাঁচের মধ্যে মাত্র দেড় নম্বর দিয়েছেন।

১০ উইকেটে জিতেছে বাংলাদেশের মেয়েরা

স্পোর্টস ডেস্কঃ বিশ্বকাপ নারী টি-টোয়েন্টি বাছাই পর্বের প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে জয়ের ছন্দ ধরে রেখেছে বাংলাদেশ নারী দল। প্রথম তিন ম্যাচে হ্যাট্রিক জয় তুলে নেওয়ার পর এবার চতুর্থ ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ১০ উইকেটে জিতেছে বাংলাদেশের মেয়েরা।

গতকাল বৃহস্পতিবার টস জিতে ব্যাট করতে নামা নেদারল্যান্ডসকে মাত্র ৫১ রানে অলআউট করেছে বাংলাদেশ নারী দল।

দুটি করে উইকেট নেন ফাহিমা খাতুন, শায়লা শারমিন ও খাদিজা তুল কোবরা। একটি করে নেন জাহানারা আলম ও সালমা।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৬ ওভার ৩ বলে জয় তুলে নেয় সালমার দল। সানজিদা ইসলাম ও আয়েশা রহমানের উদ্বোধনী জুটিতে ১০ উইকেটের বিশাল জয় পায় বাংলাদেশ। ২৭ বলে ৪টি চারে ২৪ রানে অপরাজিত থাকেন সানজিদা। একটি করে চার ও ছক্কায় আয়েশা করেন ১২ বলে ১৮ রান।

মূল পর্বে অংশ নেওয়ার আগে স্কটল্যান্ডে ১০ দিনের একটি প্রস্তুতি ক্যাম্প করেছেন বাংলাদেশের মেয়েরা। প্রস্তুতি ম্যাচ শেষ করে যোগ দেবেন বাছাইপর্বে।

বাছাইপর্বে ‘এ’ গ্রুপে খেলবেন বাংলাদেশের মেয়েরা। একই গ্রুপে বাংলাদেশের অন্য তিন প্রতিপক্ষ পাপুয়া নিউগিনি, স্কটল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র। আর ‘বি’ গ্রুপে আছে আয়ারল্যান্ড, নামিবিয়া, নেদারল্যান্ডস ও থাইল্যান্ড।

বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব শুরুর দিন ৩১ আগস্ট পাপুয়া নিউগিনির মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এরপর ১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র ও ৩ সেপ্টেম্বর স্বাগতিক স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ।

জুমাবারের গুরুত্ব ও ফজিলত

মনিপুরি মুসলিম বিডি :

ইসলাম ডেস্ক- আল্লাহতায়ালা জগৎ সৃষ্টির পূর্ণতা দান করেছিলেন এই দিনে। এই দিনেই হজরত আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.)-কে জান্নাতে একত্র করেছিলেন এবং এই দিনে মুসলিম উম্মাহ সাপ্তাহিক ঈদ ও ইবাদত উপলক্ষে মসজিদে একত্র হয় বলে দিনটাকে ইয়াওমুল জুমাআ বা জুমার দিন বলা হয়।

মালেক ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবনে সাব্বাক থেকে বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) কোনো এক জুমার দিনে বললেন, ‘হে মুসলিম সম্প্রদায়! আল্লাহতায়ালা এই দিনটিকে ঈদের দিন হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।’ আরবি শব্দ জুমুআ-এর অর্থ একত্র হওয়া। শুক্রবারকে বলা হয় ইয়াওমুল জুমাআ বা জুমার দিন।

জুমার নামাজের সূচনা:-

জুমার নামাজ ফরজ হয় প্রথম হিজরিতে। রাসূলুল্লাহ (সা.) হিজরতকালে কুবাতে অবস্থান শেষে শুক্রবার দিনে মদিনা পৌঁছেন এবং বনি সালেম গোত্রের উপত্যকায় পৌঁছে জোহরের ওয়াক্ত হলে সেখানেই তিনি জুমার নামাজ আদায় করেন। এটাই ইতিহাসের প্রথম জুমার নামাজ।

হিজরতের পরে জুমার নামাজ ফরজ হওয়ার আগে নবুওয়তের দ্বাদশ বর্ষে মদিনায় নাকীউল খাজিমাতে হজরত আসআদ বিন যুরারাহ (রা.)-এর ইমামতিতে সম্মিলিতভাবে শুক্রবারে দুই রাকাত নামাজ আদায়ের প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে সেটা ছিল নফল নামাজ।

এ প্রসঙ্গে মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাকে সহীহ সনদে মুহাম্মদ ইবনে সিরীন থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (স.)-এর মদিনায় আগমনের এবং জুমার নামাজ ফরজ হওয়ার আগে একবার মদিনার আনসারগণ একত্র হয়ে আলোচনা করলেন, ইহুদিদের জন্য সপ্তাহে একটা দিন নির্দিষ্ট আছে, যে দিনে তারা সকলে একত্র হয়। নাসারাদেরও সপ্তাহে একদিন সবার একত্র হওয়ার জন্য নির্ধারিত আছে। সুতরাং আমাদের জন্য সপ্তাহে একটা দিন নির্দিষ্ট হওয়া প্রয়োজন, যে দিনে আমরা সবাই সমবেত হয়ে আল্লাহকে স্মরণ করব, নামাজ আদায় করব।

অতঃপর তাঁরা আলোচনাকালে বললেন, শনিবার ইহুদিদের আর রোববার নাসাদের জন্য নির্ধারিত। অবশেষে তাঁরা ‘ইয়াওমুল আরুবা’ (শুক্রবার)-কে গ্রহণ করলেন এবং তাঁরাই এদিনকে ‘জুমার দিন’ নামকরণ করলেন। (সীরাতুল মুস্তাফা, দারসে তিরমিজি)

জুমার নামাজের গুরুত্ব:-

শুক্রবারের দিন জোহরের নামাজের পরিবর্তে জুমার নামাজকে ফরজ করা হয়েছে। জুমার দুই রাকাত ফরজ নামাজ ও ইমামের খুতবাকে জোহরের চার রাকাত ফরজ নামাজের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। সপ্তাহের এদিনে জুমার খতিব উম্মতের যাবতীয় প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোরআন ও হাদিসের আলোকে নির্দেশনা ও সমাধানমূলক উপদেশ দেবেন তাঁর খুতবায়।

হজরত তারেক ইবনে শিহাব (রা.) থেকে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ক্রীতদাস, মহিলা, নাবালেগ বাচ্চা ও অসুস্থ ব্যক্তি—এই চার প্রকার মানুষ ছাড়া সকল মুসলমানের ওপর জুমার নামাজ জামাতে আদায় করা অপরিহার্য কর্তব্য (ফরজ)। (আবু দাউদ : ১০৬৭, মুসতাদরেকে হাকেম : ১০৬২ , আস্-সুনানুল কাবীর : ৫৫৮৭)

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে এ মর্মে হাদিস বর্ণিত হয়েছে যে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো শরিয়তসম্মত কারণ ছাড়া জুমার নামাজ বর্জন করবে, তার নাম মুনাফিক হিসেবে এমন দপ্তরে লিপিবদ্ধ হবে, যা মুছে ফেলা হবে না এবং পরিবর্তন ও করা যাবে না। (তাফসিরে মাজহারি ,খণ্ড : ৯ , পৃষ্ঠা : ২৮৩)

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) এ মর্মে হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (স.) যে সমস্ত লোক জুমার নামাজ থেকে দূরে থাকে (পড়ে না) তাদের সম্পর্কে বলেছেন, নিশ্চয়ই আমার ইচ্ছা হয় যে আমি কাউকে নামাজ পড়ানোর আদেশ করি, সে মানুষকে নামাজ পড়াক। অতঃপর যে সমস্ত লোক জুমার নামাজ পড়ে না, আমি তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিই। (মুসলিম : ৬৫২, মুসনাদে আহমাদ : ৩৮১৬, মুসনাদে ইবনে আবি শাইবা : ৫৫৩৯, আসু-সুনানুল কুবরা : ৪৯৩৫)

জুমার দিনের ফজিলত:-

সাপ্তাহিক ঈদ হিসেবে জুমার দিনের ফজিলত অনেক বেশি। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : জুমার দিনে ফেরেশতাগণ বিশেষ রেজিস্টার নিয়ে মসজিদের প্রতিটি দরজায় দাঁড়িয়ে যান। তাঁরা মসজিদে আগমনকারী মুসল্লিদের নাম পর্যায়ক্রমে লিপিবদ্ধ করতে থাকেন। অতঃপর যখন ইমাম সাহেব এসে যান, তখন তারা রেজিস্টার বন্ধ করে খুতবা শুনতে থাকেন।

যে সবার আগে মসজিদে প্রবেশ করে, সে একটি উট আল্লাহর রাস্তায় দান করার সওয়াব লাভ করে। যে দুই নম্বরে প্রবেশ করে, সে একটি গরু আল্লাহর রাস্তায় দান করার সওয়াব পায়। যে তিন নম্বরে প্রবেশ করে, সে একটি দুম্বা দান করার সওয়াব পায়। যে চার নম্বরে প্রবেশ করে, সে একটি মুরগি দান করার সওয়াব লাভ করে। আর যে পাঁচ নম্বরে প্রবেশ করে, সে একটি ডিম আল্লাহর রাস্তায় দান করার সওয়াব পায়। (মুসনাদে শাফী : ৬২, জামে লি ইবনে ওহাব : ২২৯, মুসনাদে হুমাইদি : ৯৬৩ )

হজরত সালমান (রা.) হতে একটি হাদিস বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিনে সুন্দর করে গোসল করবে, অতঃপর তেল ব্যবহার করবে এবং সুগন্ধি নেবে, তার পর মসজিদে গমন করবে, দুই মুসল্লির মাঝে জোর করে জায়গা নেবে না, সে নামাজ আদায় করবে এবং ইমাম যখন খুতবা দেবেন, চুপ করে মনোযোগসহকারে তাঁর খুতবা শুনবে। দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ে তার সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। (মুসনাদে আবু দাউদ : ৪৭৯)

জুমার দিনে দোয়া কবুল:-

জুমাবারের ফজিলতের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিকটি হলো, এই দিনে এমন একটা সময় আছে, যখন মুমিন বান্দা কোনো দোয়া করলে মহান আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জুমার দিনে একটা এমন সময় আছে, যে সময়ে কোনো মুমিন বান্দা আল্লাহর কাছে ভালো কোনো কিছু প্রার্থনা করলে, অবশ্যই আল্লাহ তাঁকে তা দান করবেন। (সহীহ মুসলিম : ৮৫২, মুসনাদে আহমাদ : ৭১৫১, আস্-সুনানুল কুবরা : ১০২৩৪)

জুমার দিনে দোয়া কবুল হওয়ার সে মহামূল্যবান সময় কোনটা? এ সম্পর্কে ৪৫টা মতামত পাওয়া যায়। তবে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ মত হলো, আসরের নামাজের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সময় দোয়া কবুলের সময়। হজরত আনাস (রা.) থেকে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে।

মনিপুরি মুসলিম বা পাঙাল নারীদের বৈচিত্র্যময় পোষাক নিয়ে কিছু কথা!  

বাংলাদেশ এমন একটি দেশ যেখানে বহু ভাষা ও বহু সংস্কৃতির উপস্থিতি রয়েছে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী আদিবাসীরা আছেন বলেই বাংলাদেশ এতো বৈচিত্রময়।

এই নিয়ে বিশেষ আয়োজন! লিখেছেন –

রফিকুল ইসলাম জসিম

অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষভাগ থেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগ পর্যন্ত বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও যুদ্ধজনিত কারণে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মণিপুর রাজ্যের অধিবাসীরা বিভিন্ন সময় দেশত্যাগ করে। তখন অনেকে পাকিস্তান-ভারত উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আশ্রয় নেয়। তাদের মধ্যে বার্মা (মিয়ানমার)-মণিপুর যুদ্ধের সময় (১৮১৯-১৮২৫) তৎকালীন মণিপুরের রাজা চৌরজিৎ সিংহ, তার দুই ভাই মারজিৎ সিংহ ও গম্ভীর সিংহসহ আশ্রয় গ্রহণ করেন বৃহত্তম সিলেট অঞ্চলে। বর্তমানে সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলায় মণিপুরী জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। এখন দেশে যে কয়টি আদিবাসী জনগোষ্ঠী রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম মণিপুরী সম্প্রদায়।

বাংলাদেশে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর এসব পোশাক বাঙালিদের কাছে পরিচিতি পেয়েছে উপজাতি পোশাক হিসেবে। তাদের স্বকীয় আর ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও গহনায় ভিন্নতা থাকায় তা ফ্যাশন হিসেবেই ব্যবহৃত হচ্ছে সমতলের মানুষের কাছে। চাকমা, মারমা, মগ, মুরং, সাঁওতাল মনিপুরিসহ আরও প্রায় ৪০টির মতো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী রয়েছে বাংলাদেশে। তাদের প্রত্যেকেরই রয়েছে নিজস্ব ধরন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে অবশ্য মিলও খুঁজে পাওয়া যায়। এই সব পোশাক নিয়ে আমাদের ফ্যাশন ডিজাইনাররা প্রতিনিয়ত নিরলস চেষ্টায় ফুটিয়ে তুলছেন পুঙ্খানুপুঙ্খ ডিজাইন। মনিপুরী তাঁতবস্ত্র আমাদের দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে একটি প্রধান আকর্ষণ।


ভাষাগত এবং ধর্মীয় কারণে বাংলাদেশে মণিপুরীরা তিনটি শাখায় বিভক্ত। বিষ্ণুপ্রিয়া, মৈতৈ ও পাঙন। এর মধ্যে বিষ্ণুপ্রিয়ার সংখ্যাই বেশি। বিষ্ণুপ্রিয়া ও মৈতৈ হিন্দুধর্মে এবং পাঙনরা মুসলিম ধর্মে বিশ্বাসী। সব মিলিয়ে জনসংখ্যা প্রায় ৪৫ হাজার। শাখা তিনটি হলেও সব মণিপুরীর প্রায় একই সংস্কৃতি। তাদের ভাষা, বর্ণমালা, সাহিত্য ও সমৃদ্ধ সংস্কৃতি এদেশে যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা।

নিজস্ব কোমর তাঁতে তৈরি ফানেক তোলা ছবি – শারমিন!

মণিপুরীদের মধ্যে ইসলাম ধর্মের অনুসারীরা ‘পাঙাল বা মণিপুরী মুসলিম নামেই পরিচিত। সিলেটে মৌলভীবাজার জেলা কমলগঞ্জ উপজেলায় ৩০টি পাঙাল অধ্যুষিত গ্রামে বসবাস করে। ইসলাম ধর্মাবলম্বী হওয়া সত্ত্বেও পাঙালরা তাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং ঐতিহ্য আজও বজায় রেখেছে। তাদের ঘরবাড়ি, পোষাক-পরিচ্ছদ ও খাদ্যাভ্যাস ও জীবনধারা স্বতন্ত্র এবং বৈচিত্রে ভরপুর।

মনিপুরী পাঙাল সম্প্রাদায়ের পোষাক পরিচ্ছদে স্বতন্ত্রতা রয়েছে। পুরুষরা বাঙালিদের মতো পোষাক ব্যবহার করে এবং মহিলারা ঘরোয়া বা সামাজিক পরিবেশে নিজেদের বোনা কাপড় -চোপড় পরিধান করে। নিজস্ব কোমর তাঁতে তৈরি ফানেক ( কোমর পর্যন্ত প্যাচানো কাপড়) পরে থাকে। যেমন – লাই, সালু, হাংগামপাল, সোনারং, চুমহাপ্পা, মকং ( বিভিন্ন ধরনের রং ও কাজ করা) ইত্যাদি।

বিবাহিত মেয়েরা লৈফানেক আরলবা, লৈফানেক মায়াইরনবি, সালু ফানেক আরনবা, লৈচিল ফানেক, উরেং আরনবা, উরেং চুমহাপ্পা, লৈচিল উরেং ( বুক পর্যন্ত প্যাচানো বিভিন্ন রং ও ডিজাইনের কাপড়) ইত্যাদি পরিধান করে থাকে।

পাঙাল মহিলারা সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে নিজেদের ঐতিহ্যগত স্বর্ণের হার পরিধান করে। তবে বিশেষ ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্টানে (বিয়ে) যুবকরা- পাঞ্জাবি, যুবতীরা লৈফানেক নামের কারুকার্যময় দামি এক ধরনের পোষাক পরিধান করে।ইসলাম ধর্মাবলম্বী হওয়া সত্ত্বেও  মনিপুরি মুসলিমরা তাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং ঐতিহ্য আজও বজায় রেখেছে।তাদেরঘরবাড়ি,পোষাক-পরিচ্ছদ খাদ্যাভ্যাস ও জীবনধারা স্বতন্ত্র এবং বৈচিত্রে ভরপুর।


মনিপুরি মুসলিমরা সুন্নী মুসলমান। ধর্মীয় বিশ্বাস এক হলেও স্থানীয় বাঙালী মুসলিম জনগোষ্ঠির সঙ্গে সামাজিক কোন সম্পর্ক নেই বললেই চলে। তাদের ধর্মাচরন, সমাজব্যবস্থা ও রীতিনীতির সঙ্গে বাঙালী মুসলমানদের যথেষ্ঠ পার্থক্য। প্রচন্ড ধর্মভীরু ও রক্ষনশীল তারা। পাঙন মেয়েরা কঠোর পর্দপ্রথা মেনে চলে।

 মনিপুরি মুসলিম নারীরা যেসব উপায়ে ‘পর্দা’ করেঃ

বোরকা

 
মনিপুরি মুসলিম নারীরা সারা চেহারা এবং সারা শরীর পুরোপুরি ঢেকে ফেলে বোরকা পরিধান করেন৷ ক্ষেত্রবিশেষে বোরকার চোখের অংশে জাল দেয়া থাকে, যাতে তারা দেখতে পারেন৷ কালো ছাড়াও বিভিন্ন রংঙের বোরকা হয়৷

ওড়না বা খুদায়

এই মুসলিম নারীদের মধ্যে জনপ্রিয়  ওড়না বা খুদায়।  নিকাব বা বোরকার মতো না হলেও এই পোশাকেও নারীর শরীর অনেকটা ঢাকা থাকে৷ তবে চুলের কিছুটা, চেহারা এবং গলা দেখা যায়৷ তাদের ভাষায় খুদায় বলে সচরাচর মনিপুরি মুসলিম  মেয়েরাও পরেন৷

চাদর বা নাবঙ

 
শীতকালে  মেয়েদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় চাদর৷ বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় সাধারণত সে দেশের নারীরা চাদর পরে নেন৷ মনিপুরি মুসলিম ভাযায় নাবঙ।   

বাংলাদেশে নীরবে একটি বোরকা বিপ্লব ঘটে গেছে। নারীর পোশাকে এতবড় নীরব পরিবর্তন, অভূতপূর্ব। এটা গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের অভিজাত বিদ্যাপীঠ থেকে শুরু করে অজপাড়াগাঁয়ের সর্বত্র চোখে পড়ছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের মাঝে হিজাব পরিধান করার প্রবণতা দিন দিন ক্রমবৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশ ও সংস্কৃতি মিল রেখে  এই ব্যবহার প্রচলন শুরু হয়েছে মুসলিম মনিপুরিরা।    

হিজাব /নিকাব


দেশ এবং সংস্কৃতিভেদে অনেক মুসলমান নারী হিজাব পরিধান করেন৷ মূলত মাথা, চুল এবং গলা এবং ঘাড়ের খোলা অংশ ঢাকা হয় এই পোশাক দিয়ে৷ বিভিন্ন ডিজাইনের এবং রঙের হিজাব পাওয়া যায় যেগুলো পরলে চেহারা পুরোটাই দেখা যায়৷ নতুন প্রজন্মের মনিপুরি মুসলিমরা ।  নিকাব পরলে নারীর পুরো শরীর ঢেকে যায়, শুধু চোখ দু’টো খোলা থাকে৷ সাধারণত পুরোপুরি রক্ষণশীল মুসলমান নারীরা নিকাব পরেন৷ নিকাব মূলত কালো রঙের হলেও অন্যান্য রঙের নিকাবও ইদানীং দেখা যায়৷

হিজাব


মনিপুরি মুসলিম মেয়েরা কৃষিকাজে পুরুষের সমান পারদর্শী। এছাড়া কোমর তাঁতে কাপড় বোনা এবং সুচিকর্মে পাঙন মেয়েদের দক্ষতা রয়েছে। মণিপুরীদের পরিধেয় ফানেক বা চাকসাবির উপর পাঙন মেয়েদের সুঁই সুতার সুক্ষ কারুকাজ দেখলে বিস্মিত হতে হয়।মনিপুরি মুসলিম  নারীদের নিপুণ হাতে গড়া পুরুষ ও মহিলাদের জন্য রকমারী পোষাকগুলো যে কারো দৃষ্টি আকর্ষণ করে নিঃসন্দেহ। কাপড়ের আঁচলে গাঁথা আর পরতে পরতে আঁকা রঙ-বেরঙের নকশাগুলো যেন সহসাই মনে করিয়ে দেয় মনিপুরী সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের কথা। মনিপুরী পরিবারগুলোর মধ্যে এসময় দিনরাত বিরামহীন প্রতিযোগীতায় চলে তাঁতের কাপড় বুননের কাজ। ঐতিহ্যের ধারায় মনের স্বপ্ন ফুটিয়ে তুলতে যেমন ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন মনিপুরী নারীরা তেমনি ব্যস্ত হয়ে উঠেছে তাঁতগুলোও। তাঁতের প্রতিটি সুতার ফাঁকে যেন লোকিয়ে আছে মনিপুরী জীবনের শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য।

মনিপুরি মুসলিম বিডি – সম্পাদক।

তুলে নিয়ে গেছে ভারতীয় পুলিশ, একমাস ধরে নিখোঁজ কাশ্মীরি পত্রিকার সম্পাদক

গত ২৫ জুলাই কাশ্মীরের একটি সংবাদ মাধ্যমের ওয়েবসাইট এবং সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদককে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তাঁর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে ওই ওয়েবসাইটেই দাবি করলেন তাঁর সহকর্মীরা।

পাঠকের কাছে এ বিষয়ে সাহায্য চেয়ে আবেদন করেছেন তাঁরা।

মঙ্গলবার ‘দ্য কাশ্মীরিয়ত’ নামে ওই ওয়েবসাইটে একটি খবরই লেখা হয়েছে এই শিরোনামে, ‘আমাদের সম্পাদক গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাঁকে খুঁজে বের করতে সাহায্য করুন।’

২৫ জুলাই কাশ্মীরিয়ত-এর সম্পাদক কাজী শিবলিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। ওই দিন কাশ্মীরিয়ত-এর পুরো টিমকেই ডেকে পাঠানো হয় থানায়। সারাদিন জিজ্ঞাসাবাদের পরে বাকিদের চলে যেতে বলা হলেও ছাড়া হয়নি শিবলিকে।

তার পর ৭-৮ দিন তাঁকে আটক করে রাখা হয়েছে বলেই জানতে পারেন সহকর্মীরা। ঠিক কী কারণে আটক, সদুত্তর মেলেনি বলে জানান তাঁরা। তবে শিবলির পরিবারকে পুলিশ বলেছিল, ৫ অগস্ট ছাড়া পাবেন শিবলি। কিন্তু তার আগেই শিবলি ‘নিখোঁজ’।

কী ভাবে? শিবলির ভাই কাজী উমেইর দাবি করছেন, তাঁরা একদিন শিবলিকে খাবার দিতে যান থানায়। শিবলি একটা জলের বোতল চান। জল নিয়ে ফিরে এসে পরিবারের কেউ আর শিবলিকে দেখতে পাননি।

জানানো হয়, তাঁকে সদর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সদর থানায় ছুটে গিয়েও শিবলিকে পাওয়া যায়নি। বস্তুত তার পর থেকে শিবলির পরিবার ও সহকর্মীরা কেউই তাঁর সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য পাননি বলে জানিয়েছেন।

ফেসবুকে উমেইর লিখেছেন, ”কেউ কেউ বলছে, শিবলিকে নাকি আগরা নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ওর কাছে টাকা নেই, কাপড়ও নেই। তিন সপ্তাহ ধরে কোনও খোঁজ পাচ্ছি না। গত কাল আগরা থানায় ফোন করে জানলাম, ওখানেও খবর নেই। চিন্তায় আছি। কেউ কোনও খবর পেলে জানাবেন।”

২০২০ সালের এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ

মনিপুরি মুসলিম বিডি , ঢাকা- সামনের বছর উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে ১ এপ্রিল, চলবে ৪ মে পর্যন্ত। এছাড়া ৫ থেকে ১৩ মের মধ্যে এইচএসসির ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে হবে।

বুধবার (২৮ আগস্ট) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করা হয়।

সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ১ এপ্রিল এইচএসসি পরীক্ষার বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা শুরুর আধ ঘণ্টা আগে শিক্ষার্থীদের হলে উপস্থিত থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার সময়সূচি

https://documentcloud.adobe.com/link/track?uri=urn%3Aaaid%3Ascds%3AUS%3A61bf28ab-782c-40b4-a636-068df62f0dc9

Design a site like this with WordPress.com
Get started