কমলগঞ্জে বর্ণাঢ্য নানা আয়োজনের মণিপুরি ভাষা দিবস পালিত!  


 রফিকুল ইসলাম জসিম ::  ২৩ আগস্ট (শুক্রবার) মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলাধীন তেতইগাঁওয়ে অবস্থিত মণিপুরী কালচারেল কমপ্লেক্স মিলনায়তনে সকাল ১০ ঘটিকায় বাংলাদেশে ‘মণিপুরী ভাষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা’ আয়োজনে  প্রতি বছরের মতো এবারেও  নানা আনুষ্ঠানিকতা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে মণিপুরী ভাষা দিবস উদযাপন করেন। 
২০ আগস্ট – মণিপুরী ভাষা দিবস।  দীর্ঘ এক রক্তক্ষয়ী আন্দোলন-সংগ্রামের ফলশ্রুতিতে শেষ পর্যন্ত ভারত সরকার মণিপুরী ভাষাকে ১৯৯২ সালের ২০ আগস্ট তারিখে সংবিধানের অষ্টম তপশীলে অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। একারণেই মণিপুরী ভাষাভাষী জনগণ ২০ আগস্টকে ‘মণিপুরী ভাষা দিবস’ হিসেবে পালন করে থাকে।

বাংলাদেশে ও ‘মণিপুরী ভাষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা’ গঠিত হওয়ার পর ২০১২ সাল থেকে প্রতি বছর নানা আনুষ্ঠানিকতা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে মণিপুরী ভাষা দিবস উদযাপন করে এসেছে। এবারও এই দিবস উপলক্ষে ২৩ আগষ্ট রোজ শুক্রবার দিনব্যাপী নানা কর্মসূচিসহ আলোচনা সভায়  মণিপুরি ভাষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা সভাপতি লেখক কবি এ কে শেরাম এর সভাপতিত্বেপ্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জে  স্থানীয় সরকার উপপরিচালক মো: নুরুল ইসলাম। 
বিশেষ অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন  বিভাগীয় কার্যালয় সিলেট সমাজসেবা পরিচালক সন্দীপ কুমার সিংহ, ঢাকা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এর উপ-করকমিশনার শান্ত কুমার সিংহ, কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বিলকিস বেগম,মণিপুরি কালচারাল কমপ্লেক্স এর আহ্বায়ক জয়ন্ত কুমার সিংহ। 
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মণিপুরী ভাষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এল ইবুংহাল শ্যামল। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, খোইরাম কামিনী সিংহ, আব্দুস সামাদ, মো. আবদুল মতিন, অহৈবম রণজিৎ, হিরন্ময় সিংহ, চন্দ্রজিৎ সিংহ, সমেন্দ্র সিংহ প্রমুখ।
আলোচনা সভায় সঞ্চালনায় ছিলেন কৃষ্ণচন্দ্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শান্ত কুমার সিংহ আরো উপস্থিত ছিলেন মীতৈ ও পাঙাল সম্প্রদায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও শিক্ষক সমাজ। পরে মণিপুরী লিপির উপর কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

 

এসময় বক্তারা বলেন, মণিপুরী জাতির মাতৃভাষার নাম ‘মণিপুরী ভাষা’। তিব্বত-ব্রহ্ম ভাষাপরিবারের অন্তর্গত এই ভাষা খুবই প্রাচীন এবং উৎকর্ষের মানদণ্ডেও যথেষ্ট সমাদৃত। অন্তত খ্রিষ্টীয় তৃতীয় শতাব্দী থেকেই মণিপুরী লিখিত সাহিত্যের সূচনা হয়েছে বলে পণ্ডিতেরা মনে করেন। মণিপুরীদের আদি ও মূলভূমি, এককালের স্বাধীন রাজ্য, বর্তমান ভারতের অন্যতম রাজ্য, মণিপুর। মণিপুর ছাড়াও ভারতের আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয়, নাগাল্যাণ্ডসহ বিভিন্ন রাজ্য এবং মায়ানমার ও বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মণিপুরী বসতি আছে। মণিপুরী ভাষাভাষীর সংখ্যা প্রায় ৩০ লক্ষ। 


মণিপুরী ভাষার নিজস্ব বর্ণমালা আছে। এই ভাষায় রচিত সাহিত্য মান ও সংখ্যার বিচারে খুবই উল্লেখযোগ্য। মণিপুরী ভাষায় রচিত হয়েছে চৌত্রিশ হাজার পদ সম্বলিত মহাকাব্য ‘খম্বা-থোইবী শৈরেং’। মণিপুরী ভাষা সেই প্রাচীনকাল থেকেই মণিপুরের রাজ্যভাষা হিসেবে প্রচলিত হয়ে এসেছে। কিন্তু ভারতে মণিপুরী ভাষা নানা কারণে উপেক্ষিত থাকায় মণিপুরীভাষীরা এই ভাষাকে ভারতীয় সংবিধানের অষ্টম তপশীলে অন্তর্ভুক্ত করে ভারতের অন্যতম জাতীয় ভাষা হিসেবে ১৯৯২ সালের ২০ আগস্ট তারিখে স্বীকৃতি লাভ করেন।  

Design a site like this with WordPress.com
Get started