ছবি ব্লগ – রিইউনিয়ন তেতই গাঁও রসিদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় S.S.C -২০১২ ব্যাচ -2019

“এসো মিলি ঐকতানে, আমাদেরই স্কুল প্রাঙ্গনে” এই স্লোগান নিয়ে গত ১৩ আগষ্ট তেতইগাঁও রসিদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রাক্তন শিক্ষার্থী ১২ ব্যাচের রিইউনিয়ন অনুষ্ঠিত হয়। এই স্লোগান যেন সত্যিই বাস্তবে রূপ নিয়েছিল।

বন্ধুত্ব নয় ভ্রাতৃত্ব এ চেতনাকে বুকে ধারনা করে কমলগঞ্জের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী তেতই গাঁও রসিদ উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি ২০১২ ব্যাচের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় এক পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের। এ জন্য বেছে নেওয়া হয় ঈদুল আযাহার দ্বিতীয় দিনকে। রিইউনিয়ন উপলক্ষে সারাদিনব্যাপী ছিল নানা আয়োজন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে প্রতিটা আয়োজনেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল স্কুল জীবনের স্মৃতিচারণ-

লিখেছেন – রফিকুল ইসলাম জসিম।

রিইউনিয়ন ছবি – স্যারদের সঙ্গে ১২ ব্যাচে সকলের সাথে। “

‘‘৭ বছর ধরে অনেকের সঙ্গেই ছিল না যোগাযোগ। অথচ স্কুল জীবনের এসব সহপাঠীদের সঙ্গে ছিল ভিন্ন ধরনের এক সম্পর্ক।

স্কুলে নতুন ভবনের সামনে তোলা ছবি।

বর্তমানের কর্ম আর ব্যস্ত জীবনে সেইসব বন্ধুদের কয়েকজনের সঙ্গে হয়তো নিয়মিত যোগাযোগ কিন্তু ক্লাসের বেঞ্চে বসে থাকা সেসব পুরানো বন্ধুদের অনেকের সঙ্গেই নেই দেখা। রয়ে গেছে দূরত্ব। তবে ৭ বছর পরেও সেই সম্পর্ক নষ্ট হয়নি। কমেনি নিজেদের মধ্যে পারস্পপরিক হৃদ্যতা।

মৌলভীবাজারের  কমলগঞ্জ  উপজেলায় আদমপুর বাজারে অবস্থিত তেতইগাঁও রসিদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের  প্রাক্তন  শিক্ষার্থী ২০১২ইং ব্যাচের পূর্ণমিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।  

শিক্ষকের সাথে  এসএসসি  ২০১২ ব্যাচের  কেক কেটে উদ্বোধনী

“এসো মিলি ঐকতানে, আমাদেরই স্কুল প্রাঙ্গনে ”  এই স্লোগান কে সামনে রেখে, গত ১৩ই আগষ্ট  ২০১৯ইং মঙ্গলবার সকাল ৯টায় মিলন মেলার  এসএসসি  ২০১২ ব্যাচের  কেক কেটে উদ্বোধনী করেন।

সেই স্কুল মাঠ, সেই ঘন্টা, সেই এসেম্বলি,সেই দুরন্তপনা, সেই চেনামুখ মাঝে কেটে গেছে সাতটা বছর। এ যেন পার করা স্মৃতিময় সময়কে আবার যেন টাইম মেশিনে করে ফিরিয়ে আনার একটুকরো প্রয়াস পাই রিইউনিয়নে।


দীর্ঘদিন যোগাযোগ না থাকা বন্ধুদের পেয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। খোঁজ নেন পরিবার-পরিজনের। অনেকের চেহারা চেনা চেনা লাগলেও পরিচয় জেনেই নিশ্চিত হতে হয়েছে তিনিই সেই ১২ ব্যাচের বন্ধু  বান্ধবী। 

২০১২ সালে নাহ? ২০১৯ সালে ৭ বছর পর দেখা সবার সাথে দেখাশুনা । কোন এক সময়ে যাদের ত্রুাশ খেলে মন ভরে যেত অনেকে । তাদের সাথে অনেক মিশতে কিন্তু ব্যাস্ততায় অনেক দিন দেখা হয় নাহ। সেদিন দেখা হাওয়ার পর পুরাতন ক্রাশ আবার ব্যাচের অনেকে পাগল হয়ে যায়।

২০১২ সালে এই স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেছেন। মাঠের এক কোণে আরেক বান্ধবীকে পেয়ে ছবি তুলে রাখতে ভোলেননি। ‘যখন শুনলাম, ঈদে পুনর্মিলনী হবে, তখন থেকেই অপেক্ষা করছিলাম কবে রিইউনিয়ন হবে। অনেক বন্ধুদের হারিয়ে ফেলেছিলাম। তাই অনেককেই আজ খুঁজে পেলাম। এ আনন্দ বলে বোঝানো যাবে না। ’

একত্রিত হওয়ার পর আবার গানে গানে বাদ্যযন্ত্রের তালে নাচে হারিয়ে যায় ক্ষণিক সময়ের রঙিন ভুবনে।’এভাবেই বাধ ভাঙা উল্লাস আর উচ্ছাসের মাধ্যমে পালিত হল তেতই গাঁও রসিদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০১২ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পূনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়। 

ছাত্ররা দুপুরে মেতে ওঠেন নিজেদের ভেতর আবীর খেলায়। দীর্ঘদিন পর সবাইকে একস্থানে পেয়ে যেন উচ্ছাসের বাধ ভেঙেছিল সবার মাঝেই। কে কাকে কত রং মাখিয়ে পারে এ প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠে সবাই। মুহুর্তের মধ্যেই সবার গেঞ্জি, হাত, মুখ নানা রংয়ের আবীরে ছেয়ে যায়। এ আবীর যেন দীর্ঘদিন পর ফিরে পাওয়া খুশিরই বহিঃপ্রকাশ।

তেতইগাঁও রসিদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের  মতবিনিময় সভা হয়। উক্ত সভায় তেতই গাঁও রসিদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

প্রাক্তন ছাএ আব্দুল মজিদ ও উর্মি সিনহা  এর সঞ্চালনায়  বক্তব্য  রাখেন শিক্ষক শান্তমনি সিনহা,  শিক্ষিকা শাহেনা বেগম, প্রাক্তন   শিক্ষক রসিদ উদ্দিন,শিক্ষক রণজিৎ সিংহ, শিক্ষক কামাল উদ্দিন, শিক্ষক ভুবনমোহন সিংহ।  

এসময় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ব্রজেন্দ্রকুমার সিংহ, হাফিজুর রহমান, মোঃ কমাল হোসেন, রবিকুমার সিংহ।প্রয়াত শিক্ষক ও ছাত্রদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করা হয়।

সারাদিন খেলাধুলা, আনন্দ ভাগাভাগিতে ব্যস্ত সময় কাটান ছাত্র শিক্ষকগন। এবারই প্রথম আনুষ্ঠানিক ভাবে পুনর্মিলনী পালন করা হয়, এর আগে অন্যান্য দুই ব্যাচ পুনর্মিলনী করলেও ১২ ইং ব্যাচের মত এতো জাকজমক পুর্ণ করতে পারেনি। শিক্ষকগণ এইধরনের অনুষ্ঠান  পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পরেন ও তাদের অনুভূতি এবং স্মৃতি চারণ করেন। 

আমাদের স্কুল টা আজও দাড়িয়ে আছে।  যখন স্কুলের সামনের  রাস্তা দিয়ে যাই স্কুলের দিকে তাকাতে পারি না  । মনে হয় যেন কোন স্নেহময়ী নারি আমায় হাত বাড়িয়ে ডাকছে। আমার ভিতরে তখন মোচড় দিয়ে ওঠে।স্কুল ছেড়ে এসেছি অনেক আগে, এত দিন পরেও সেই বন্ধুদের ভুলতে পারি না।

জীবনে আমি না শুধু , এই বিদ্যালয়ের প্রতিটা ছাত্র ছাত্রী ই চাইবে টাইম মেশিন পেলে সেই স্কুল লাইফ টায় ফির যেতে । অনেক অনেক বেশি মিস করি সেই দিনগুলি।

Design a site like this with WordPress.com
Get started