হিজাব কোনভাবেই ছাড়বো না: মার্কিন আইনপ্রণেতা ইলহান ওমর

: মার্কিন কংগ্রেসের মুসলিম সদস্য মার্কিন আইনপ্রণেতা ইলহান ওমর বলেছেন, তিনি হিজাব বা পর্দা কোনোভাবেই ছাড়বেন না।

আজ রোববার এক টুইটে আরও বলেছেন, হিজাবকে তিনি এক ধরণের প্রতিরোধ হিসেবে নিয়েছেন, তবে তা সব সময় খুব সহজ বিষয় নয়। ইলহান ওমর আরও লিখেছেন, তিনি শুধু ধর্মীয় বাধ্যবাধকতার কারণে হিজাব পরেন এমনটি নয় বরং হিজাব পরে আনন্দও পান।

ইলহান ওমর হচ্ছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথমবার নির্বাচিত দুই মুসলিম নারীর একজন যিনি হিজাব পরে কংগ্রেসে হাজির হয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছেন। শুধু তাই নয়, কুরআনে হাত রেখে শপথ নিয়ে আরেক নজির সৃষ্টি করেছেন তিনি।

সোমালিয় বংশোদ্ভূত এ মার্কিন কংগ্রেস প্রথম থেকেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একপেশে নীতির বিরোধিতা করে আসছেন। এর আগে তিনি ট্রাম্পকে ফ্যাসিস্ট হিসেবেও উল্লেখ করেছেন।

সোমালিয়া থেকে কিশোর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে উদ্বাস্তু হিসেবে আশ্রয় গ্রহণ করেন ইলহান ওমর। ১৭ বছর বয়সে মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেন তিনি। ২০১৮ সালে মিনেসোটা থেকে ডেমোক্রেটিক পার্টির সদস্য হিসেবে মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য নির্বাচিত হন।

-এটি

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ক্যাম্পে জঙ্গি ঘাঁটি!

আশ্রিত প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা! বৃহৎ এই সংখ্যা থেকে হাজার তিনেক রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসনের সিদ্ধান্ত হয়। দ্বিতীয় দফায় আশ্রিতদের অনাগ্রহে সেটিও থমকে গেলো। অনেকে এটাকে দেশীয় কূটনৈতিক ব্যর্থতা দাবি করলেও এর পেছনে মৌলিকভাবে জড়িত এনজিওগুলোর সম্পৃক্ততা।
প্রতিটি ক্যাম্পে ক্যাম্পে রয়েছে আন্তর্জাতিক এনজিওগুলোর কোটি কোটি টাকার প্রজেক্ট। রয়েছে তাদের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্য। হঠাৎ করে এই স্বল্পসংখ্যক রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হলে সংঘবদ্ধ জঙ্গি সংগঠনগুলো উগ্র হয়ে যাবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

এ জন্য এনজিওগুলো চাচ্ছে না রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কোনো আক্রমণাত্মক পরিস্থিতি তৈরির মাধ্যমে তাদের উদ্দেশ্য ও প্রজেক্ট বিফলে যাক। স্থানীয়, এনজিও এবং প্রশাসনের কাছে তথ্য রয়েছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পকে কেন্দ্র করে জঙ্গিদের সাংগঠনিক তৎপরতা সক্রিয়। রাখাইনে যে দুটি সংগঠন স্বাধীনতার দাবিতে উগ্রবাদী সেনাদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছিলো তারা এ দেশে এসে এখন সংঘবদ্ধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে!

কয়েকদিন পরপর কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত, রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপ, পুলিশের হয়রানি, চুরি-ডাকাতিসহ নানা অজানা আতঙ্কে এখন স্থানীয়দেরও ত্রাহি অবস্থা। রোহিঙ্গা চাপে পাহাড় ধ্বংস, জীবিকা নষ্ট, কমে গেছে শ্রমের মূল্য, চাষবাস, মাছ ধরা, পড়ালেখা এখন নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েই তারা শঙ্কিত। রাত ৮টার পর টেকনাফ-উখিয়া সড়ক জনশূন্য। সন্ধ্যা হলেই রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে আসে বাজি ফোটানোর শব্দ।

রাত গভীর হতে থাকলে সেই শব্দ আরও বিকট হতে থাকে। স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, বিকট শব্দগুলো গুলির মতোই মনে হয়। তাদের ধারণা জনশূন্য এলাকায় গভীর রাতে গ্রুপ হয়ে জঙ্গিরা প্রশিক্ষণ নেয়। এজন্য আশপাশের মানুষ সবসময় আতঙ্কে থাকে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, জঙ্গি গ্রুপগুলোও ক্যাম্পজুড়ে সক্রিয় নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। মাঝে মাঝে বিক্ষোভও করে। রোহিঙ্গা জঙ্গিদের পেছনে বড় কোনো মহল জড়িত আছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

মিয়ানমারের জঙ্গি সংগঠন আরসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে থেকে যুদ্ধে অংশ নেয়া, সুঠাম দেহের অধিকারী এমন ব্যক্তিদের বাছাই করে সদস্য সংগ্রহ করছে। আল কায়েদার পক্ষ থেকেও এর আগে এসেছে বেশ কয়েকটি হুমকি। তালেবান, সোমালিয়ার আল শাবাব গোষ্ঠী এবং ইসলামিক স্টেটপন্থি গ্রুপগুলো রোহিঙ্গা জঙ্গিদের নিয়ে তৎপর। মানবতাকে ইস্যু করে লোভের টোকে জঙ্গিদের নিজেদের ঘরে স্থান দিতে চাচ্ছেন।

এর আগে ইসলামপন্থি সংগঠনের পক্ষে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের হুমকিও প্রচার করা হয়েছে। এসব পর্যবেক্ষণ থেকে উখিয়া অঞ্চলে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের জন্য বড় হুমকি সৃষ্টি হয়েছে বলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

শুধু রোহিঙ্গাদের নিয়েই রয়েছে বেশ কয়েকটি জঙ্গি সংগঠন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ইসলামিক সলিডারিটি ফ্রন্ট, আরাকান রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন, আরাকান পিপলস আর্মি, আরাকান মুজাহিদ পার্টি, মিয়ানমার লিবারেশন ফোর্স, রোহিঙ্গা লিবারেশন ফোর্স, রোহিঙ্গা ইনডিপেন্ডেন্স পার্টি, রোহিঙ্গা প্যাট্রিয়টিক ফ্রন্ট।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, বাংলাদেশে ইসলামিপন্থি প্রায় সবগুলো দলের টিম রয়েছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। ইসলামপন্থি দেশগুলো থেকে অর্থ সংগ্রহ করে রোহিঙ্গাদের হাতে তুলে দিচ্ছেন তারা। পিছিয়ে থাকছে না দেশীয় জঙ্গি সংগঠনগুলোও।

দাওয়াতি কাফেলা, বাংলাদেশ এন্টি টেররিস্ট পার্টি, আল মারকাজুল আল ইসলামী, আল ইসলাম মার্টেনস ব্রিগেড, সত্যবাদ, মুসলিম মিল্লাত, শরিয়া কাউন্সিল, জমিয়তে আহলে হাদিস আন্দোলন, আহলে হাদিস আন্দোলন বাংলাদেশ, তাজির বাংলাদেশ, হায়াতুর ইলাহা, ফোরকান মুভমেন্ট, জামিয়াতুল এহজিয়া এরতাজ, আনজুমানে তালামিজ ইসলামিয়া, কলেমার জামাত, সাহাবা পরিষদ, কাতেল বাহিনী, মুজাহিদিন-ই-তাজিম, এশার বাহিনী, আল ফাহাদ, হরকাতুল মুজাহিদিন ও জাদিদ আল কায়দা, হিজবুল মাহদি, হিজবুল্লাহ ইসলামী সমাজ, তামীরউদ্দীন বাংলাদেশ মতো জঙ্গি সংগঠনগুলোও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থান নিয়ে ছোট ছোট টিম তৈরি করছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাম্পে আরাকানভিত্তিক জঙ্গি ও সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে বলে তথ্য প্রকাশ করেছেন মেজর জেনারেল (অব.) মুনীরুজ্জামান ও তার গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ। মুনীরুজ্জামান তার পর্যবেক্ষণে বলছেন, ‘রোহিঙ্গা সংকটের মধ্য দিয়ে বড় ধরনের উগ্র মতবাদ ছড়িয়ে দেয়ার একটা ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়েছে।

যেখানে বিভিন্ন গোষ্ঠী তাদের উগ্র মতবাদ দিয়ে নিরীহ রোহিঙ্গাদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে।’ বড় ধরনের উগ্র মতবাদ ছড়িয়ে দেয়ার ও বিস্তার লাভ করার একটা ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়েছে। একইসঙ্গে দেখা যাচ্ছে যে, এখান থেকে বিভিন্ন গোষ্ঠী সদস্য সংগ্রহ করার জন্য চেষ্টা করছে।

আমরা ইতোমধ্যে জানি, আরসা নামে যে সংগঠনটি রোহিঙ্গাদের মধ্যে সংগঠিত হয়েছে তারা রো

Design a site like this with WordPress.com
Get started