মৌলভীবাজারে এডিসি হলেন কানাইঘাটের ইউএনও তানিয়া

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া সুলতানা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসাবে পদোন্নতি পেয়েছেন। তাকে মৌলভীবাজার জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদে বদলি করা হয়েছে। 

জানা যায়, গত ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, মাঠ প্রশাসন শাখার-২ এর সিনিয়র সহকারী সচিব শেখ রাসেল হাসান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তানিয়া সুলতানাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা থেকে পদোন্নতি দিয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক করা হয়েছে। 

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া সুলতানা পদোন্নতি হওয়ায় বুধবার দিনভর তার কার্যালয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, সূধীজন ও সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীরা তার সাথে সাক্ষাত করে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

মিয়ানমারে সেনা বিদ্রোহী সংঘর্ষে ৩০ সেনা নিহত

মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলের শান রাজ্যে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী নর্দার্ন অ্যালায়েন্সের বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘর্ষে দেশটির সেনাবাহিনীর অন্তত ৩০ সদস্য নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার চীন সীমান্তের কাছের এই রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে পৃথক সংঘর্ষে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সদস্যদের প্রাণহানি ঘটে বলে দাবি করেছে বিদ্রোহী এই গোষ্ঠী।

আজ বুধবার (২১ আগস্ট) থাইল্যান্ডভিত্তিক মিয়ানমারের ইংরেজি দৈনিক দ্য ইরাবতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। তবে মিয়ানমার সেনাবাহিনী প্রাণহানির এই খবর উড়িয়ে দিয়ে বলেছে, নর্দার্ন অ্যালায়েন্সের এই দাবি অসম্ভব। নর্দান অ্যালায়েন্স বলছে, শান রাজ্যের লাশিও থেকে মুসে মহাসড়কের কুটকি মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ৯টি সংঘর্ষ হয়েছে। এসব সংঘর্ষের কোনোটি ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা ধরে চলেছে। তবে মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে এই সংঘর্ষের অবসান ঘটে।

দেশটির বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহী এই গোষ্ঠী বলছে, সরকারি ৩০ সেনাসদস্য নিহত ও ১৬ সদস্য আহত হয়েছে। তবে সংঘের্ষ বিচ্ছিন্নতাবাদী এই গোষ্ঠীর কয়েকজন সদস্য আহত হলেও কারও প্রাণহানি ঘটেনি বলে জানানো হয়েছে।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জ্য মিন তুন বলেন, সংঘর্ষ হলেও ৩০ সৈন্যের প্রাণহানি অসম্ভব। তিনি বলেন, নং চো ও কিয়াকমি শহরে দুটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। কিয়াকমির সংঘর্ষে বিদ্রোহী গোষ্ঠী তাং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মির (টিএনএলএ) একটি অস্থায়ী ঘাঁটি ধ্বংস হয়েছে। নর্দান অ্যালায়েন্স দেশটির বিচ্ছিন্নতাবাদী তিনটি গোষ্ঠীর জোট। টিএনএলএ ছাড়াও আরাকান আর্মি ও মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আর্মি (এমএনডিএএ) এই জোটের সদস্য।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জ্য মিন তুন বলেন, কুটকাই এলাকায় আরো একটি সংঘর্ষ হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থল থেকে একটি বন্দুক, সামরিক সরঞ্জাম এবং একজনের মরদেহ উদ্ধার করেছি। আমরা খবর পেয়েছি যে, লাশিও এবং কুটকাই এলাকায় বিদ্রোহীদের অনেক সদস্য নিহত হয়েছে। আমরা এখন পর্যন্ত ১০ বিদ্রোহীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত ১৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়ার দাবি করেছে নর্দার্ন অ্যালায়েন্স। সংঘর্ষের ষষ্ঠ দিন বুধবার কুটকাইয়ে আবারও সংঘর্ষের দাবি করেছে বিদ্রোহীদের এই জোট।

সাইবার ক্রাইম: চট্টগ্রামের সেই সুন্দরী তাসনুভা কারাগারে

ডেস্ক- চট্টগ্রামের বহুল সমালোচিত ফেসবুক গ্রুপ গার্লস প্রায়োরিটি’র ক্রিয়েটর ও এডমিন তাসনুভা আনোয়ারকে কারাগারে পাঠিয়েছে চট্টগ্রামের একটি আদালত।

বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আবু সালেহ মোহাম্মদ নোমানের আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাসনুভাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে উচ্চ আদালত থেকে ৮ সাপ্তাহের জামিন নিয়েছিলেন অভিযুক্ত তাসনুভা আনোয়ার। ফ্যাশন সচেতন সুন্দরী এই তরুণীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পেইজ, গ্রুপ ও ব্যক্তিগত ফেসবুক হ্যাক করার অভিযোগ রয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (প্রসিকিউশন) কামরুজ্জামান জানান, উচ্চ আদালত থেকে নেয়া জামিনের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে নিন্ম আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিন আবেদন করেছিলেন তাসনুভা। আদালত জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে অভিযুক্ত তাসনুভাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট সূত্রে জানা যায়, ২৬ মে পাঁচলাইশ থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তাসনুভা আনোয়ার, আমেনা চৈতী, সালমান মোহাম্মদ ওয়াহিদসহ কয়েক জনকে আসামি করে মামলা করেন ইসতিয়াক হাসান।

তার অভিযোগ, সালমান ও তার গ্রুপের কিছু সদস্য ইসতিয়াকের স্ত্রী জুহি চৌধুরীর নামে বিভিন্ন ফেক আইডি খুলে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রচার করছে। তারা ১১ মে জুহি চৌধুরীর ফেসবুক আইডির বিপরীতে নকল ডেথ সার্টিফিকেট বানিয়ে তিনি মারা গেছেন বলে ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট করেছে। এ কারণে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ জুহি চৌধুরীর কাছ থেকে ফেসবুক এক্সেস নিয়ে নেয়।

নগর গোয়েন্দা পুলিশ ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট সূত্রে জানা গেছে, হ্যাকার সালমান মোহাম্মদ ওয়াহিদের সঙ্গে তাসনুভা আনোয়ারসহ গার্লস প্রায়োরিটি গ্রুপের অ্যাডিমনদের সখ্যতা রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একই মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিনে রয়েছেন মামলার অপর আসামী গার্লস প্রায়োরিটি গ্রুপের অ্যাডমিন অ্যাডমিন নাদিয়া আক্তার রুমি। একই মামলায় হ্যাকার সালমান মোহাম্মদ ওয়াহিদ আগে থেকেই কারাগারে রয়েছেন কারাগারে এবং এই মামলায় পলাতক রয়েছেন অপর আসামী আমেনা আক্তার চৈতি।

১৬ বছর ধরে বাবার কাছে ধর্ষিত তরুণী, ছোট বোনকে বাঁচাতে রাস্তায়

মেয়েটির বয়স যখন ছয় বছর, তখন থেকেই নিজের বাবার লালসার শিকার হয় সে। এভাবেই কেটে গিয়েছে ১৬ বছর। এর মধ্যে বাবার ধর্ষণের কারণে বারবার গর্ভবতী হয়ে পড়ে সে। প্রতিবারই কনট্রাসেপটিভ পিল খাইয়ে গর্ভপাত করিয়ে দেয় মা।

নিজের সঙ্গে ঘটে চলা এই নারকীয় নিপীড়নকে ভবিতব্য হিসেবেই মেনে নিয়েছিল মেয়েটি। কিন্তু পাষণ্ড ওই বাবা এবার ছোট বোনের দিকে হাত বাড়াল। বাবার এমন পাশবিকতা দেখে আর চুপ করে থাকতে পারেনি সে।

নিজেকে বাঁচাতে যা করতে পারেনি, ছোট বোনকে বাঁচাতে শেষ পর্যন্ত পুলিশের দ্বারস্থ হয় ভারতের উত্তরপ্রদেশের ২২ বছরের সেই মেয়ে। ভারতের শিশু সুরক্ষা আইনে অভিযুক্ত ৪৪ বছরের ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছে মেয়ে।

তবে মামলা দায়েরের পর থেকে পলাতক রয়েছে ওই বাবা। মেয়েকে দিনের পর দিন ধর্ষণে স্বামীকে সহায়তা করেছেন স্ত্রী। এই অভিযোগে মেয়েটির মাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

দেশটির একটি দৈনিক বলছে, ওই তরুণীর ছোট বোনের বয়স ১৪ বছর। সে জানায়, কিছুদিন ধরে তার বাবা তাকে বারবার যৌন হেনস্থা করছে। কিন্তু প্রতিবারই তার বোন তাকে ধর্ষিত হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়ে দিত।

বড় বোন বাড়ি ফিরে এলেও ছোট বোনকে সেফহোমে রাখা হয়েছে। তাদের দুই ভাই ও কয়েকজন আত্মীয় বিষয়টি জানলেও কেউ কোনোদিন প্রতিবাদ করেনি।

কাশ্মিরে এক রাতে ৩২ মেয়ে উধাও!

ইন্টারনেটে কাশ্মীরি মেয়ে ও ‘ম্যারি কাশ্মীরি গার্ল’ সার্চ করে বিশ্ব কাঁপালেন আপনারা। ভাগ্যিস, গুগল ছিল! নইলে জানাই যেত না আপনাদের এমন সৌন্দর্যবোধের কথা। লিখছেন জিনাত রেহেনা ইসলাম
সত্যি আপনারা পারেনও বটে! কাশ্মীরি আপেল ও কাশ্মীরি মেয়েদের কী সুন্দর এক সুতায় বেঁধে দিলেন। বুঝিয়ে দিলেন, দুই-ই মিষ্টি ও সুন্দর। আন্তর্জালে কাশ্মীরি মেয়ে ও ‘ম্যারি কাশ্মীরি গার্ল’ সার্চ করে বিশ্ব কাঁপালেন আপনারা। ভাগ্যিস, গুগল ছিল! নইলে জানাই যেত না আপনাদের এমন গভীর সৌন্দর্যবোধের কথা। কাশ্মীরে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ প্রসঙ্গে দেশ উত্তাল। আর এর মধ্যেই আপনাদের মনে হলো, দেশ-কাল চুলোয় যাক। কাশ্মীরের মেয়েরা তো এ বার হাতের নাগালে চলে এল!
আপনারা কেউ ১০০ শতাংশ সাক্ষর রাজ্যের বাসিন্দা, কারও আবার শিক্ষা-সংস্কৃতির অহঙ্কারে মাটিতে পা পড়ে না! সেই জন্যই বুঝি আপনাদের দেখার চোখও এত সুন্দর! তবে কী জানেন, যে মেয়েদের জন্য আপনারা এত উতলা হয়ে উঠেছেন, তাদের কোমরে বন্দুকের বাটের দাগটা বোধহয় আপনাদের চোখে পড়েনি, না? পিঠে ভারী মেটাল বেল্টের কালশিটেও আপনাদের চোখ এড়িয়ে গিয়েছে। কিন্তু মুখে নেকড়ের আঁচড়ের মতো সেই দগদগে ক্ষতটাও কী করে চোখ এড়িয়ে গেল?
আসুন, আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিই আরও কয়েকজন কাশ্মীরি মেয়ের সঙ্গে। ওই মহিলাকে দেখছেন? খেতে কাজ করতে গিয়েছিলেন। এখন সেখানেই বিবস্ত্র অবস্থায় পড়ে আছেন। বাড়িতে রয়েছে ওঁর পাঁচ বিবাহযোগ্য কন্যা। বেচারা এই অপমান সইতে পারলেন না। হাসপাতালে যাওয়ার পথেই মারা গেলেন! আচ্ছা, আপনি কি কারও গোঙানি শুনতে পাচ্ছেন?
ওই দেখুন, আর এক কাশ্মীরি মেয়ে! বুটের আঘাত আর অত্যাচারে রক্তক্ষরণ বন্ধ হচ্ছিল না। ওর পেটে ১০টি সেলাই পড়েছে। ওই যে, আর এক মেয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। বন্দুকের নলের আঘাতে জরায়ুতে গভীর ক্ষত। এখন পচতে শুরু হয়েছে। প্রাণে বাঁচতে গেলে জরায়ু কেটে বাদ দিতে হবে। এই মহিলা কোনো দিন মা হতে পারবেন না।
শুধুমাত্র প্রশ্ন করেই টাকা উপার্জন করুন!!! প্রতি প্রশ্ন ০.৪০৳
দূরের ওই গ্রাম দু’টি দেখতে পাচ্ছেন? কুনান ও পোশপোরা। সেখান থেকেই এক রাতে ৩২ জন মেয়ে উধাও হয়ে যান। দৃষ্টিহীন বৃদ্ধ বাবা কাঁদছেন! পাগলের মতো স্বামী খুঁজছেন। সন্তানদের কান্না থামানো যাচ্ছে না। কী অপরূপ দৃশ্য, তাই না? ওই যে, আর এক কাশ্মীরি ছিন্নভিন্ন দেহ পড়ে রয়েছে। তাকে করাত দিয়ে কাটা হয়েছে। ত্রেহগামের সরকারি বিদ্যালয়ের গবেষণাগারের সহকারীর কপালে আর কী-ই বা জুটত? আর ক্রালখুদের অর্চনা কিংবা শিক্ষা বিভাগের সেই নারী অধিকর্তা? পরিবারের সকলের সামনেই চলে অত্যাচার এবং শেষতক হত্যা!
গুরিহাকার সেই মেয়ের কথা মনে আছে? ভরা পরিবারে শ্বশুর ও ননদের সঙ্গে বসেছিলেন তিনি। সকাল তখন ৯টা। বাচ্চাকে দুধ খাওয়াচ্ছিলেন। ঠিকই তখনই ভারী বুট রাস্তা থেকে উঠে এল একেবারে ঘরে। বন্দুকের নল গিয়ে ঠেকল বাচ্চার বুকে। মাকে নির্দেশ মতো উঠে যেতে হল। কিছুক্ষণ পরে শোনা গেল চিৎকার। পুলওয়ামার আহারবল জলপ্রপাতে কান পাতলে এখনও হয়তো সেই চিৎকার শোনা যাবে। কাশ্মীরি মেয়েরা সুন্দরী! শুনে দেখবেন এক বার, তাঁদের আতর্নাদও কেমন মিষ্টি!
মবিনা গনি বিয়ের পরে শ্বশুরবাড়িই পৌঁছতে পারলেন না। পথেই মবিনা আর তাঁর মাসির উপর হয়ে গেল অত্যাচার। ২৪ বছরের হাসিনা ক্ষতবিক্ষত দেহ নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছলেন। হাত-পা-মুখ ছিঁড়েখুঁড়ে একাকার। জেলা হাসপাতালে হিহামা গ্রামের সেদিন সাত মেয়ে হাজির। বিয়ের আসর ভেঙে গিয়েছে। নববধূ-সহ সবার শরীরে ক্ষত। বিহোটায় এক মেয়েকে ছাড়াতে ২০ জন মেয়ে চার-পাঁচ ঘণ্টা আটক থাকলেন। বাকিটা ইতিহাস।
শুধুমাত্র প্রশ্ন করেই টাকা উপার্জন করুন!!! প্রতি প্রশ্ন ০.৪০৳
সাইদপোরা গ্রামের ১০ থেকে ৬০ বছরের মেয়েরাও জানতেন না, কখন কে অর্ডার হাতে নিয়ে এসে বলবে, ‘সার্চ ইউ’। তার পরে মধ্যরাতে এসে ছিঁড়ে ফেলবে কাপড়। ঘরের কোনায় দাঁড়িয়ে দেখবে আর এক ছোট্ট মেয়ে। সেও জানবে, এক দিন এমনি করেই সার্চ অর্ডার আসবে তারও।
দরজা খুলেই তৈরি হতে হবে তল্লাশির জন্য। আয়াতের মতো মুখস্থ হয়ে যাবে সেই দু’টি বাক্য—‘আই হ্যাভ অর্ডার। আই হ্যাভ টু সার্চ ইউ।’ প্রতিবাদী বৃদ্ধার বুকে লাথি মেরে উল্টে ফেলা হবে। বেঁধে ফেলা হবে তার মুখ। তার পরে সেই ভবিতব্য। লেখক: শিক্ষিকা, রঘুনাথগঞ্জ হাইস্কুল।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা।

জোর করে মুসলিম মেয়েদের বন্ধ্যা করে দিচ্ছে চীন

চীনের উইঘুর গোত্রভুক্ত মুসলিম নারীদের জোরপূর্বক বন্ধ্যা করে দেয়া হচ্ছে। দেশটির জিনজিয়াং প্রদেশে কথিত ‘রি-এডুকেশন সেন্টার’-এ আটক ১০ লাখ উইঘুর মুসলিমের মধ্যে যেসব নারীবন্দী রয়েছেন-

তাদের সঙ্গে এমনটা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বন্দিত্ব থেকে মুক্ত হওয়া দুই মুসলিম নারী। মঙ্গলবার বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক পোস্ট ও

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টসহ বেশকিছু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। চীনে ধর্মীয় সংখ্যালঘু এসব মুসলিম দীর্ঘদিন ধরে জিনজিয়াংয়ে নি’র্যাতনের শিকার হচ্ছেন। জিনজিয়াংয়ে নি’র্যাতনের শিকার হচ্ছেন।

জিনজিয়াংয়ের সেসব বন্দী শিবিরে একসময় বন্দি থাকা নারীদের একজন গুলবাহার জালিলোভা। চীনা সরকারের কথিত ‘পুনঃশিক্ষা’ বন্দিশিবিরে এক বছরের বেশি সময় আটক ছিলেন তিনি।

পরে বুদ্ধি খাটিয়ে একসময় সেখান থেকে পালিয়ে যান তিনি। ফ্রেঞ্চ২৪-কে অভিযোগের সুরে গুলবাহার বলেন, ‘নিয়মিত বিরতিতে আমাদের শরীরে ইনজেকশন দেয়া হতো।’ চীনা সরকারের নি’র্যাতনের শিকার ৫৪ বছর বয়সী ওই উইঘুর নারী বলেন,

‘দরজার ছোট্ট একটি খোলা অংশে আমাদের হাত-পা বেঁধে রেখে ইনজেকশন দেয়া হতো। ইনজেকশন দেয়ার পর আমরা বুঝতে পারলাম কোনওভাবেই আমাদের আর পিরিয়ড (ঋতুস্রাব) হচ্ছে না।’

গুলবাহার আরও বলেন, ১০ ফুট বাই ২০ ফুট ছোট্ট একটি সেলে (কক্ষে) ৫০ জনের বেশি মানুষের সঙ্গে থাকতে দেয়া হতো। চলাফেরা তো দূরে থাক, কোনওরকম নড়াচড়া করতে পারতাম না।

তখন নিজেকে একটা মাংসের টুকরো বলে মতে হতো। গুলবাহারের মতো এমনই পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন মেহেরগুল নামে ৩০ বছরের আরেক নারী। যিনি এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত।

২০১৭ সালে যখন জিনজিয়াংয়ের বন্দিশিবিরে ছিলেন তখনকার অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘নাম জানা কত ওষুধ সেবন এবং ইনজেকশন নিতে বাধ্য করা হতো আমাদের।’ মেহেরগুল বলেন,

‘আমি এক সপ্তাহ অচেতন হয়ে পড়েছিলাম। সেসব দিনের কথা কিছুই মনে করতে পারি না। আমার স্মৃতিশক্তি লোপ পেয়েছিল এবং আমি সম্পূর্ণ হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। চার মাস পর যখন প্রমাণিত হলো আমি মানসিকভাবে অসুস্থ তখন আমাকে ছেড়ে দেয়া হয়।’

মেহেরগুল জানান, যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার পর তাকে চিকিৎসকের কাছে নেয়া হলে জানতে পারেন, তাকে ইনজেকশনের মাধ্যমে বন্ধ্যা বানানো হয়েছে। তিনি আর কখনও সন্তান জন্ম দিতে পারবেন না।

আরও লাখ লাখ নারীকে এভাবে জোরপূর্বক বন্ধ্যা করে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন এই দুই নারী। এদিকে চীনের কথিত রাজনৈতিক পুনঃশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে উইঘুর সম্প্রদায়ের ১০ লাখ মুসলিমকে

আটক রাখা হয়েছে উল্লেখ করে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মুক্তি দেয়ার দাবি জানিয়ে আসছে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো। তবে বরাবর এ বিষয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত রয়েছে চীন সরকার।

গবেষকরা বলছেন, ‘যুদ্ধের সময় বন্দি শিবিরগুলোতে যেভাবে পুনঃশিক্ষা কার্যক্রম চালানো হয় ঠিক সেভাবে নি’র্যাতন করা হচ্ছে উইঘুর মুসলিমদের। পদ্ধতিগতভাবে তাদেরকে দীক্ষায়ন করার কাজটি করতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা প্রকৃতপক্ষে সাংস্কৃতিক গণহ’ত্যা।’

মূলত স্বর্ণ, তেল ও গ্যাসসম্পদে সমৃদ্ধ জিনজিয়াং প্রদেশটি চীনের পশ্চিম অঞ্চলে অবস্থিত। অঞ্চলটির অধিবাসীদের মধ্যে মুসলিমরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। যারা সবাই উইঘুর মুসলমান।

ভাষাগত দিক দিয়ে তারা চীনা নয়, তুর্কি গোষ্ঠীর অন্তর্গত। কথাও বলেন উইঘুর ভাষায়। স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলন করতে পারে ভেবে তাদের আটকে রেখে নি’র্যাতন চালাচ্ছে চীন সরকার।

গ্রেনেড হামলা: আপিল শুনানির জন্য তৈরি হচ্ছে ‘পেপারবুক’

 

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানির জন্য পেপারবুক তৈরির কাজ দ্রুতগতিতে চলছে বলে জানা গেছে।

একজন ডেপুটি রেজিস্ট্রারের তত্ত্বাবধানে দুজন মুদ্রাক্ষরিক টাইপ করছেন। শিগগির এ মামলার নথি প্রস্তুতির কাজ শেষ হবে।

হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় খোঁজ নিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।

এদিকে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানির জন্য পেপারবুক তৈরির কাজ শেষ হলেই শুনানির জন্য আবেদন করবে রাষ্ট্রপক্ষ।

মঙ্গলবার অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, পেপারবুক তৈরির পরই তাড়াতাড়ি শুনানির পদক্ষেপ নেব।

প্রসঙ্গত ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতে ওই গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। তদন্তে উঠে আসে, তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ইন্ধনে জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশসহ (হুজি) তিনটি জঙ্গি সংগঠন ওই নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালায়।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সন্ত্রাসবিরোধী জনসভায় ইতিহাসের ভয়াবহতম নৃশংস ও বর্বরোচিত ওই হামলার ঘটনা ঘটে।

এতে দলের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন কয়েকশ নেতাকর্মী। আর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান।

এদিকে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় করা হত্যা ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের পৃথক দুটি মামলায় বিচারিক আদালতের রায় ঘোষণা হলেও চূড়ান্ত বিচার এখনও শেষ হয়নি।

এ বছরের ১৩ জানুয়ারি দুই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

বর্তমানে এটি কার্য তালিকায় আসার জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে। দুই মামলার রায়সহ প্রায় ৩৭ হাজার ৩৮৫ পাতার নথি ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৌঁছে। ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ থেকে এসব নথি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠানো হয়।

ভয়াবহ সেই ঘটনার ১৪ বছর ১ মাস ২০ দিন পর ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর মামলা দুটির রায় ঘোষণা হয়। ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে স্থাপিত আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন।

হত্যা মামলায় ১৪টি এবং বিস্ফোরক আইনের মামলায় ১২টি বিষয় বিবেচনা করা হয়। রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, এনএসআইয়ের সাবেক দুই মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুর রহিমসহ ১৯ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। অন্যদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, সাবেক প্রতিমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদসহ ১৯ আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৯ আসামির মধ্যে দুজন এবং যাবজ্জীবন দণ্ডিত ১৯ জনের মধ্যে ১২ জন পলাতক। এছাড়া রায়ে আনসার ও ভিডিপির সাবেক ডিজি মেজর জেনারেল (অব.) এটিএম আমিন, সাবেক তিন আইজিপি আশরাফুল হুদা, শহুদুল হক ও খোদা বক্স চৌধুরীসহ ১১ জন সাবেক সরকারি কর্মকর্তাকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্তদের ৫০ হাজার টাকা থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডও দেয়া হয়।

রায়ে ৪৯ আসামির সবারই সাজা হয়। যদিও মামলার আসামি ছিল ৫২ জন। এর মধ্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, হুজি নেতা মুফতি আবদুল হান্নান ও শরিফ শাহেদুল ইসলাম বিপুলের অন্য মামলায় ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় বর্তমানে আসামি ৪৯ জন।

১৫০০ বছর পরে আবারও উদ্বোধন হতে যাচ্ছে রাসুল সা. যুগের ওকাজ মেলা !

হাজার হাজার বছরের পুরোনো ঐতিহ্য সৌদি আরবের ওকাজ মেলা এ বছর উদ্বোধন করবেন মক্কার গভর্নর প্রিন্স খালিদ আল-ফয়সাল। প্রতি বছর এ মেলাটি উদ্বোধন করেন বাদশাহ সালমান। জানা যায়, আজ মঙ্গলবার ওকাজ মেলাটি উদ্বোধন করা হবে।

সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি ফর ট্যুরিজম এন্ড কালচারের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এবং পর্যটন মৌসুমের জন্য গঠিত কমিটির চেয়ারম্যান আহমদ আল-খতিবসহ এতে দেশ-বিদেশের মন্ত্রী, কূটনীতিক ও প্রধান ব্যক্তিবর্গ অংশ নেবেন। উল্লেখ্য, জাহেলি যুগের কুসংস্কারাচ্ছন্ন আরববাসী নৈতিক ও সামাজিক অধঃপতনের চরম সীমায় পৌঁছালেও তাদের কতগুলো প্ৰশংসনীয় চারিত্রিক গুণ ছিল।

এগুলোর মধ্যে বাগিতা এবং কাব্যপ্ৰেম অন্যতম। পরবর্তীকালে এ কাব্যপ্রেম ও বাগিতাকে কেন্দ্র করেই সূচনা হয় ওকাজ মেলার। প্রতি বছর নির্ধারিত সময়ে মক্কার অদূরে অবস্থিত ওকাজ নামক স্থানে কবিতা পাঠের যে মেলা বসত, সেটাই ইতিহাসে ওকাজ মেলা নামে পরিচিত। ১৫০০ শত বছরের পুরানো এ মেলায় কবিতা পাঠের প্রতিযোগিতা হতো এবং বিজয়ী কবিদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হতো।

বিজয়ী কবিদের কবিতা তাদের নামসহ কাবাগুহের দেয়ালে বুলিয়ে রাখা হতো। এটা যেন আজকালকার দেয়াল পত্রিকার মতাে। কাবাগৃহের ‘সাবআ মুআল্লাকা’। যেহেতু এগুলো কাবাঘরের দেয়ালে বুঝিয়ে রাখা হয়েছিল, তাই এগুলোকেসাবআ মুআল্লাকা বা সপ্ত-ঝুলন্ত কবিতা বলা হতো। কবিতা ছিল আরবদের নাগরিক জীবনের প্রতিচ্ছবি।

তাই কবিতা পাঠকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে ওকাজ মেলা। ওকাজের মেলা জাহেলি যুগের আরবদের স্মরণীয় উৎসব অনুষ্ঠানের একটি। ঐতিহাসিক হিট্টি । ওকাজ মেলাকে প্রাচীন আরবের (একাডেমিক ফ্রেঞ্চাজ) বলে অভিহিত করেছেন। মূলত ওকাজ মেলা আরবদের একটি ধমীয় উৎসব ছিল, যা সাংস্কৃতিক পর্যায়ের রূপ নেয়।

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা, এসপিএ অনুযায়ী ট্যুরিজম অ্যান্ড ন্যাশনাল কালচার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বলেছেন যে মক্কার গভর্নর খালিদ আল-ফয়সাল উদ্বোধন করবেন। জাতীয় ঐতিহ্য রক্ষায় তার জোর রয়েছে। কবিতা, আরব সভ্যতা, কলা ও সংস্কৃতি এবং ইসলামী ইতিহাসের প্রতি প্রিন্স খালিদ আল-ফয়সালের গভীর নজর রয়েছে।

আল-খতিব বলেন, এবারের ওকাজ মেলা অতীতের মতো নয়, এবারের উৎসবের উপস্থিতি সংখ্যা নতুন রেকর্ড তৈরি করবে। বিভিন্ন শিল্পকলা প্রদর্শনের পাশাপাশি এ মেলায় আরব বিশ্বের সংস্কৃতি, বিশেষত সৌদি আরবের বৈশিষ্ট্যযুক্ত খাবারগুলিও সরবরাহ করা হবে। ১১ টি আরব দেশের শিল্পীরা অংশ নেবেন।

এছাড়াও, ইয়ুথ অফ এক্সিলেন্স, ফারসান ওকাজ, ভাষা আর্ট গ্যালারী, সংগীত গ্যালারী, বাড়ির তৈরি প্রদর্শনী, হোটেল ক্যাফে ও ২৮০০ লোকের বসার ক্ষমতা সম্পন্ন একটি বিশাল থিয়েটারও থাকবে এ মেলায়।

সূত্র: আল আরাবিয়া ডটনেট

৫৭ হাজার মাদরাসা শিক্ষিতদের আত্মবলিদানে ভারত স্বাধীন হয়েছে।

৫৭ হাজার ৬ শত মাদরাসা শিক্ষিত ও ১২ লক্ষাধিক মুসলিম মুজাহিদদের আত্মবলিদানের বিনিময়ে ভারত স্বাধীন হয়েছে’ পাথেয়,ভারতের স্বাধীনতা দিবস পালনে মাদরাসাগুলোর উপর ফরমান জারি করার কোনও দরকার নেই। বরং ফরমান ওদের উপর জারি করুন, যাদের হেড কোয়াটারে স্বাধীনতার পর থেকে আজও পর্যন্ত পতাকা উত্তোলন হয়নি,

স্বাধীনতা সংগ্রামে যাদের বিন্দু পরিমান অবদানটুকু নেই তাঁদের উপর ফরমান জারি করুন। জেগে না ঘুমিয়ে তথাকথিত দেশ ভক্তদের মনে রাখা উচিৎ, আমাদের দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ৫৭ হাজার ৬ শত মাদরাসা পড়ুয়া শিক্ষিতরাই নিজেদের আত্মবলিদান দিতে কুন্ঠাবোধ করেনি।

স্মরণ করুন, ব্রিটিশের বিরুদ্ধে ১৮০৩ খ্রীস্টাব্দে সর্বপ্রথম মাদরাসা শিক্ষায় শিক্ষিত হজরত মাওলানা শাহ আব্দুল আজিজ দেহলভি রহ. সংগ্রাম গড়ে তুলেছিলেন। ১৮৩১ খ্রীস্টাব্দে বালাকোটের যুদ্ধে সৈয়দ আহমদ শহিদ রহ. ও মাওলানা শাহ্ ইসমাইল শহিদ রহ. প্রাণ বিসর্জন দিয়েছিলেন। ১৮৫৭ খ্রীস্টাব্দে হাজার হাজার মাদরাসার শিক্ষিতরাই শাহাদত বরণ করেছিলেন।

১৮৬১ খ্রীস্টাব্দে কালাপানীতে মাদরাসায় শিক্ষিত সংগ্রামীদের দ্বীপান্তরিত করা হয় এবং সেখানেই তাঁরা মৃত্যু বরণ করেন। ১৮৭১ খ্রীস্টাব্দে পাটনায় ৭ জন মাদরাসা শিক্ষিত সংগ্রামীকে ফাঁসি দেওয়া হয়। ১৯১৫ খ্রীস্টাব্দে মাওলানা মাহমুদুল হাসান ও মাওলানা সৈয়েদ হোসাইন মাদানী রহ. ও অন্যান্য মাদরাসা শিক্ষিত সংগ্রামীদের করাচীতে কারাদণ্ডে দণ্ডীত করা হয়েছিল।

মনে রাখতে হবে, বৃহত্তম ভারতের স্বাধীনতার সংগ্রাম ইসলামিক সংগঠন, মাদরাসা শিক্ষিতদের সংগঠন জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের নেতৃত্বে ও তত্বাবধানে সুসংগঠিত হয়েছিল। (এছাড়াও ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস, নেতাজীর ফরোয়ার্ড ব্লকেরও স্বাধীনতা সংগ্রামে অবদান রয়েছে)। এই ভারতের স্বাধীনতা অর্জন সক্ষম হয়েছে ৫৭ হাজার ৬ শত মাদরাসা শিক্ষিত ও ১২ লক্ষাধিক মুসলিম মুজাহিদদের আত্মবলিদানের বিনিময়ে।

তাছাড়া ধর্মনিরপেক্ষ হিন্দু সম্প্রদায়ের আত্মবলিদানেও এই ভারতের স্বাধীনতা অর্জন সক্ষম হয়েছে। আমাদের মাতৃভূমির স্বাধীনতা সংগ্রাম জমিয়ত উলামায়ে হিন্দ, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছে। বর্তমানে যারা স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রকৃত ইতিহাসকে জলাঞ্জলি দিয়ে মাদরাসাগুলোর উপর স্বাধীনতা দিবসে পালন করার ফরমান জারি করছে।

তাদের প্রতি আমার আবেদন, মাদরাসার উপর এসব ফরমান জারি করার কোনো দরকার নেই, কারণ যেহেতু মাদরাসা শিক্ষিতদের আত্মবলিদানের ফলে আমরা সবাই স্বাধীন দেশে জন্ম নিয়ে বসবাস করতে পারছি, তাই আমরা আমাদের মাদরাসাসমূহে স্বাধীনতা দিবস পালন নিয়ে আমাদেরই বেশি উৎসাহ, উদ্দিপনা, উৎসাহ থাকবে। এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহের অবকাশ নেই।

আর মোদি যোগীদের ফরমান জারি আমাদের কোনও দরকার নেই, এই ফরমান ওদের উপর জারি করুন। স্বাধীনতার পর যাদের হেড কোয়াটার নাগপুর ও শাখা সংগঠনগুলিতে আজ পর্যন্ত জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়নি। এই দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে যাদের বিন্দুমাত্র অবদান নেই তাঁদের কাছ থেকে দেশপ্রেম শেখার ইচ্ছা আর কারও থাকলেও মুসলমানদের অন্তত নেই ।

দেশপ্রেমের নামাবলি গায়ে দিয়ে দেশপ্রেমিক সাঁজতে চায়না আমরা । প্রকৃত মুসলমান আজও দেশ ও জনগনের স্বাধীনতার প্রশ্নে রক্ত ঝরাতে কুন্ঠিত হয়না । জয়হিন্দ।

তথ্যসূত্র : জাহাঙ্গীর আলম ।। বঙ্গনুর নিউজ

কাশ্মীরে নারীদেরকে যৌন হয়রানি করছে ভারতীয় সেনারা!

কাশ্মীরে নারীদের যৌন হয়রানি করছে জওয়ানরাআহতদের তথ্য দিচ্ছে না হাসপাতাল। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে সরকারের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে চিকিৎসকদের * কাশ্মীরে বাড়ি তল্লাশির নামে বহু নারী ও অল্প বয়সী কিশোরীকে যৌন হয়রানি এবং শত শত কিশোরকে আটক করা হয়েছে

 

কাশ্মীরিদের ওপর আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ পেলেট বা ছররা গুলি ছুড়ছে ভারতীয় সেনারা। শিশু, যুবক, কিংবা বৃদ্ধ- ঘর থেকে বের হলেই চোখ-মুখ লক্ষ্য করে বৃষ্টির মতো ছোড়া হচ্ছে গুলি।

আগে থেকেই ছররা গুলির ব্যবহার থাকলেও জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা ও স্বায়ত্তশাসন বাতিলের পর থেকে বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এতে নতুন করে আহত হয়েছেন অনেকেই। অন্ধ হয়েছেন বেশ কয়েকজন। হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন কেউ কেউ। গুরুতর আহত হলেও অনেকেরই চিকিৎসার সুযোগ দেয়া হচ্ছে না।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কোনো রকম উসকানি ছাড়াই তাদের দিকে ‘পেলেট গান’ তাক করা হচ্ছে। গত দুই সপ্তাহে ঠিক কতজন ছররা গুলিতে আহত হয়েছেন, তা নিয়ে গণমাধ্যমের কাছে মুখ খুলছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এ ব্যাপারে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে সরকারের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। নয়াদিল্লিভিত্তিক কয়েকটি মানবাধিকার সংস্থার অভিযোগ, বাড়ি তল্লাশির নামে বহু নারী ও অল্প বয়সী কিশোরীকে যৌন হয়রানি এবং শতশত কিশোরকে আটক করা হয়েছে।

মঙ্গলবার নিউ ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস ও হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

স্বায়ত্তশাসন বাতিলের একদিন পর (৬ আগস্ট) ছররা গুলিতে গুরুতর আহত হন ১৬ বছর বয়সী কিশোর আসরার আহমেদ। বাড়ির বাইরে বের হলে সেনারা তাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে।

এতে তার মাথা, চোখ, কাঁধ ও মুখে মারাÍক ক্ষতের সৃষ্টি হয়। ১৫ দিন ধরে শ্রীনগরের শের-ই-কাশ্মীর ইন্সটিটিউট অব মেডিকেল সাইন্সেস (এসকেআইএমএস) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি।

হাসপাতালে বিছানায় শুয়ে ছররা গুলি খাওয়ার অভিজ্ঞতা জানিয়ে আহমেদ বলেন, ‘একটা বল আনতে বাড়ির প্রধান ফটকের বাইরে বের হই আমি।

ঠিক তখনই কিছু দূরে দাঁড়ানো সেনারা প্রথমে আমার দিকে টিয়ার গ্যাস ছুড়ে মারে। পরপরই আমার চোখে ও মুখে ছররা গুলি ফায়ার করে।’ ছররা গুলিতে আহতদের চিকিৎসার জন্য শ্রীনগরের সবচেয়ে বড় হাসপাতাল শ্রী মহারাজা হরি সিং হাসপাতালে (এসএমএইচএস) চক্ষু বিভাগ খোলা হয়েছে।

প্রায় প্রতিদিনই নতুন নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে এখানে। এখন অনেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। শ্রীনগর পুরনো শহরের বাসিন্দা সামির হোসেন তাদেরই একজন। একটি ওষুধের দোকান চালান হোসেন। তিনি জানান, গত শনিবার ছররা গুলি লাগে তার।

ওই সময় নিজের ওষুধের দোকান থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। সেদিনের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার বাম চোখে এসে লাগে গুলি। দোকান থেকে ফেরার পথে পুলিশ গুলি চালায়। আমি ঠিক জানি না, তারা কেন আমার দিকে তাক করল।’

সামির হোসেনের বিছানার পাশেই যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন ৭৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ সাদিক। তার চোখেও ছররা গুলি লেগেছে। সাদিক বলছিলেন, ‘মাগরিবের নামাজ পড়ে ঘরে ফিরছিলাম আমি।

ওই সময় মসজিদের কাছেই কিছু মানুষ বিক্ষোভ করছিল। তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে পুলিশ। আমি বিক্ষোভে অংশ নিইনি। কিন্তু আমাকেও গুলি করা হয়েছে।’

হাসপাতালের চক্ষু বিভাগে ছররা গুলির রোগীর ভিড় থাকলেও এ পর্যন্ত ঠিক কতজন চিকিৎসা নিয়েছেন, সে ব্যাপারে একেবারে নীরব রয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ইতিপূর্বে হাসপাতালের স্টাফরাও ছররা গুলির রোগীর ব্যাপারে সহজেই তথ্য দিতেন।

কিন্তু এখন একেবারেই চুপ। রোগীদের দর্শনার্থীদের ওপর কড়া নজর রাখছে পুলিশ। রাতে দায়িত্ব পালন করা চক্ষু বিভাগের এক ডাক্তারের সঙ্গে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ওয়ার্ডে বর্তমানে ঠিক কতজন রোগী ভর্তি আছেন তা তিনি জানেন না।

সিনিয়র ডাক্তারদের থেকে কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। এ নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার এখতিয়ার নেই আমাদের।’ বিক্ষোভ রুখতে ২০১০ সাল থেকে পেলেট গান (এক ধরনের অস্ত্র) ব্যবহার করছে বাহিনী।

ভারতে শুধু কাশ্মীরেই এই পেলেট গান ব্যবহার করা হচ্ছে। বন্দুকের গুলির মতো মারণাস্ত্র নয় এ ছররা। একেকটি শেলের মধ্যে ছোট ছোট পাঁচ শতাধিক লোহার বল থাকে। বন্দুক থেকে এই শেল ছোড়া হলে বাইরের খোলস ফেটে বলগুলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

কাশ্মীর সরকারের এক তথ্যানুসারে, ২০১৭ সালে আট শতাধিক কাশ্মীরি চোখে আহত হন। তবে পিলেট ভিকটিম ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের মতে, ২০১৭ সালে ১২০০-এর বেশি নারী, পুরুষ ও শিশুর চোখে ছররার গুলি লাগে।

এর মধ্যে শতাধিক কাশ্মীরির এক বা উভয় চোখ অন্ধ হয়ে যায়। ২০১৬ সালকে তো ‘গণ-অন্ধত্ব বছর’ বলা হয়ে থাকে। ওই বছরের ৮ জুলাই বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা বুরহান ওয়ানির হত্যার পর উত্তপ্ত কাশ্মীরে ১১০০ জনের চোখে ছররা ঢোকে।

রাষ্ট্রীয় সুবিধা ছাড়াই নিজ খরচে আইভরি কোস্টের রাষ্ট্রপতির হজ পালন

 
 
আলেসান ওয়াতারা। পশ্চিম আফ্রিকার দেশ আইভরি কোস্টের প্রেসিডেন্ট। তিনি এবার হজে গেছেন। হজ পালনকালীন সময়ে রাষ্ট্রীয় কোনো সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করা ছাড়াই সাধারণ হাজিদের সঙ্গে নিজ খরচে হজ সম্পন্ন করেছেন। এমনকি সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধাও তিনি গ্রহণ করেননি।
হজের মূল কাজ আরাফার ময়দানে উপস্থিত হওয়া। আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হওয়াসহ হজের রোকনগুলো আদায়ে তিনি সৌদি আরব সরকারের কোনো বিশেষ সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেননি। সাধারণ হাজিদের সঙ্গে রাস্তায় ও ময়দানে শুয়ে-বসেই হজ সম্পাদন করেছেন।
ছবিতে দেখা যায়, উন্মুক্ত মরু প্রান্তরে খোলা আকাশের নিচে তার দেশের সাধারণ সঙ্গী ও তার জনগণের সঙ্গে শুয়ে আছেন।

হজ পালনে আইভরি কোস্ট সরকার তাকে হজের খরচ দিতে চেয়েছিলো। কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেননি। সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজও তাকে রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে হজের যাবতীয় ট্রিট তথা সুযোগ-সুবিধা দিতে চেয়েছিলেন। তিনি তাও গ্রহণ করতে রাজি হননি।
হজ মুসলিমের জন্য আর্থিক, আত্মিক ও শারীরিক ইবাদত। এ ইবাদত পালনে তিনি কারো দয়া-অনুকম্পা কিংবা বিশেষ সুবিধা না নিয়ে একান্তই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে নিজ খরচে হজ করেছেন। নিজের আয়ে নিজের খরচে সাধারণ মানুষের মতো হজ করার আকাঙ্ক্ষা থেকেই তিনি এমনটি করেছেন।
আহকামুল হাকিমিন আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে রাজা-বাদশা কিংবা সাধারণ মানুষের এভাবেই উপস্থিত হওয়াই ঈমানের দাবি। সে দাবি পূরণেই তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা না নিয়ে হজ সম্পন্ন করেছেন।
আল্লাহ তাআলা তার হজকে কবুল করুন। তার সঙ্গীদেরসহ সব মানুষের হজ কবুল করুন। তার হজ পালন থেকে আমাদের শিক্ষা গ্রহণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

এমএমএস/এমকেএইচ

এক সপ্তাহে দেড় মিলিয়ন ছাড়িয়ে মাহি

মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেড় মিলিয়ন ছাড়িয়েছে আইটেম সং ‘রঙিলা বেবী’র ভিউ। মাহমুদ হাসান শিকদার পরিচালিত ‘অবতার’ চলচ্চিত্রে এই গানটির সঙ্গে পারফরমেন্স করেছেন চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি, নবাগত নায়ক জেএইচ রুশো ও খলনায়ক শিবা সানু।

ঈদ উপলক্ষে ‘রঙিলা বেবী’ মুক্তি পায় গত ১১ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টায় বঙ্গবিডির ইউটিউব চ্যানেলে। মুক্তি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দর্শক লুফে নেয় এই আইটেম গানটি।

গানের কথা, সুর ও সংগীতায়োজন যেমন মনোমুগ্ধকর তেমনি আছে বিটে বিটে নাচের সঙ্গে আলোর ঝলকানি। যে দর্শক একবার গানটি দেখেছেন, তিনি বারবার দেখছেন। লাইক দিচ্ছেন, শেয়ার করছেন, লিখছেন ভালো লাগা মন্দ লাগার মন্তব্যও।
এমনই একজন দর্শক নিলয় পারভেজ। তিনি গানটি দেখে তার মন্তব্য প্রকাশ করেছেন এইভাবে- ‘গানটা জাস্ট অসাম। শিল্পীর প্রশংসা করতেই হয়, ঐশীর ভয়েস এতটা নিখুঁতভাবে গানটায় ফুটে উঠেছে যা অসাধারণ। মাহির লুক বরাবরের মতো অনেক কিউট, এক্সপ্রেশন দারুণ ছিল। কিন্তু বডি ল্যাঙ্গুয়েজ অনেক মন্থর, ফিটনেস প্রথমদিকে একটু অস্বাভাবিক লাগলেও মাঝখানে এবং শেষে দারুণ লেগেছে। ওভার অল সবকিছু মিলিয়ে খুব ভালো লেগেছে।

’ তার এমন মন্তব্যে সহমত পোষণ করে লাইক দিয়েছেন অসংখ্য দর্শক।
আরবিএক্স ইমরান লিখেছেন ‘যেহেতু বাংলা গান তাই প্রথম ভেবেছিলাম অন্যান্য আইটেম গানের মতো আলতু ফালতু হবে। কিন্তু ধারণাটা পুরাই ভুল ছিল, দ্বিতীয়বার দেখতে বাধ্য হলাম। সবই ভালো ছিল বাংলা গান হিসাবে, আর মাহি একটু মোটা হয়ে গেছে, ঐশীর ভোকাল ও ছিল সত্যি অসাধারণ। ’

কমেডি কাঞ্চন লিখেছেন, ‘এক কথায় অসাধারণ গান, মাহির লুক এবং পারফরমেন্স অনেক ভালো। বাংলা সিনেমার দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে বলে মনে হয়, পরিচালককে অসংখ্য ধন্যবাদ। ’

https://m.youtube.com/watch?v=ltCpqSZLvBA&feature=youtu.beভিডিও দেখুন গানটি

এ প্রসঙ্গে ‘অবতার’ পরিচালক মাহমুদ হাসান শিকদার অনেকটা আবেগ আপ্লুত হয়ে বলেন, ‘ঠিক এতটা আসলে আমি চাইনি। দর্শক আগ্রহ এবং প্রশংসা দেখে মনে হয়, আমি হয়তো তাদের বিনোদিত করার জন্য কিছু একটা করতে পেরেছি। আশা করছি, দর্শক সিনেমাটিও এভাবে লুফে নেবেন। কারণ আমি আসলে দর্শক বিনোদনের কথা মাথায় রেখেই সিনেমাটি নির্মাণ করেছি। তবে এ কথা আমি জোর দিয়ে বলতে পারি, অবতার দর্শক বিনোদনের একটি পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র। ’

তারিক তুহিনের কথায় ‘অবতার’ চলচ্চিত্রের আইটেম গান ‘রঙিলা বেবী’ গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন আহমেদ হুমায়ূন। আর গানে কণ্ঠ দিয়েছেন ঐশী ফাতেমা তুজ জোহরা। নৃত্যের কোরিওগ্রাফি করেছেন রোহান মাহমুদ ও বেলাল। মাহমুদ হাসান শিকদারের পরিচালনায় পুরো গানটির চিত্রায়ণ করেছেন মেহেদী রনি।

উল্লেখ্য, সাগা এন্টারটেইনমেন্টের প্রযোজনায় ‘অবতার’ মুক্তি পাবে আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী।

২১শে অগাস্টের গ্রেনেড হামলা: যেভাবে রক্ষা পেয়েছিলেন শেখ হাসিনা

২১শে অগাস্টের গ্রেনেড হামলা: যেভাবে রক্ষা পেয়েছিলেন শেখ হাসিনা

শেখ হাসিনা
Image captionগ্রেনেড হামলার মূল লক্ষ্য ছিলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা

বাংলাদেশের ইতিহাসেএখন পর্যন্ত নৃশংস সহিংসতার যেসব ঘটনা ঘটেছে, ২১শে অগাস্টের গ্রেনেড হামলার ঘটনা তার একটি। ঐ ঘটনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে গভীর প্রভাবও ফেলেছে। ২০০৪ সালের ঐ দিনে যা ঘটেছিল এবং যেভাবে ঘটেছিল, তা নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছিল বিবিসি বাংলার চল্লিশে বাংলাদেশঅনুষ্ঠানমালার জন্য।

২০০৪ সালের ২১শে অগাস্ট শনিবার ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশে জড়ো হয়েছিলেন সিনিয়র নেতারা। দলটির প্রধান এবং তখনকার বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনা ছিলেন ঐ সমাবেশের প্রধান অতিথি।

আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে রাস্তায় একটি ট্রাকে অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করা হয়েছিল। বিকেল তিনটা থেকে দলটির কিছু মধ্যম সারির নেতা বক্তব্য দেয়া শুরু করেন।

বিকেল চারটার দিকে শুরু হয় আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের বক্তব্য দেয়ার পালা। দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা তখনও এসে পৌঁছাননি। দলের নেতা-কর্মী এবং সমর্থকরা শেখ হাসিনার বক্তব্য শোনার অপেক্ষায় ছিলেন।

ঐ সমাবেশে তখন উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামের তৎকালীন সদস্য ও বর্তমানে শিল্পমন্ত্রী আমির হেসেন আমু।

২০১১ সালে বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আমির হোসেন আমু বলেন, “নেত্রীর বক্তব্য শেষ হবার সাথে সাথে হঠাৎ করে বিকট শব্দ শুনলাম। প্রথমে আমি ঠিক বুঝতে পারলাম না, এদিক-ওদিক তাকালাম। তখন চারপাশে চিৎকার শুনতে পেলাম।”

এভাবে দফায়-দফায় বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে উঠে। সমাবেশে উপস্থিত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা প্রথমে বুঝতে পারেননি যে এটি ছিল গ্রেনেড হামলা। অনেকেই ভেবেছিলেন বোমা হামলা। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা ঘটনার ভয়াবহতা সম্পর্কে আঁচ করেছিলেন।

২১শে অগাস্টে গ্রেনেড হামলার পর বঙ্গবন্ধু অ্যাভেনিউতে পরে ছিল জুতা, স্যন্ডেল - এমনকি অবিস্ফোরিত গ্রেনেড
Image caption২১শে অগাস্টে গ্রেনেড হামলার পর বঙ্গবন্ধু অ্যাভেনিউতে পরে ছিল জুতা, স্যন্ডেল – এমনকি অবিস্ফোরিত গ্রেনেড

যখন গ্রেনেড হামলা শুরু হলো, তখন মঞ্চে বসা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা শেখ হাসিনার চারপাশে ঘিরে মানব ঢাল তৈরি করেন – যাতে তাঁর গায়ে কোন আঘাত না লাগে।

যেসব নেতা শেখ হাসিনাকে ঘিরে মানব ঢাল তৈরি করেছিলেন, তাদের মধ্যে ছিলেন ঢাকার সাবেক মেয়র মোহাম্মদ হানিফ। তখন মি: হানিফের মাথায় গ্রেনেডের আঘাত লেগেছিল। পরবর্তীতে ২০০৬ সালের শেষের দিকে তিনি মারা যান।

গ্রেনেড হামলার পর বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তখনকার বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, নেতা-কর্মীরা জীবন দিয়ে তাঁর জীবন রক্ষা করেছিলেন।

কান্না জড়িত কণ্ঠে বিবিসি বাংলাকে শেখ হাসিনা বলেন, “আমার নেতা-কর্মীরা সবাই আমাকে এমনভাবে ঘিরে রেখেছিল যে অনেকেই ইনজিউরড (আহত) হয়েছে। তাদের রক্ত এখনও আমার কাপড়ে লেগে আছে। আমার নেতা-কর্মীরা তাদের জীবন দিয়েই আমাকে বাঁচিয়েছে।”

ঐ গ্রেনেড হামলায় ২৪জন নিহত, আর আহত হয় আরও অনেকে।

গ্রেনেড হামলার দিন বিবিসি বাংলার জন্য আওয়ামী লীগের ঐ সমাবেশের খবর সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন তৎকালীন সংবাদদাতা হাসান মাসুদ।

ঘটনার ভয়াবহতা দেখে তিনি রীতিমতো স্তব্ধ হয়ে যান তখন।

হাসান মাসুদের বর্ণনা ছিল এ রকম: “আমি প্রথম যে দৃশ্যটা সেখানে দেখেছিলাম আইভি রহমানের। আমি ওনাকে দেখে হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলাম। উনি বসা, চোখ দুটো খোলা, নির্বাক। ঠিক মঞ্চের সামনে দু’পাশে দু’জন লোক তাকে ধরে রেখেছে।”

“আইভী রহমানকে দেখে আমি ঘটনার ভয়াবহতা বুঝে গেলাম। মঞ্চের চারপাশে প্রচুর স্যান্ডেল-জুতা পড়ে ছিল। প্রচুর নিহত ও আহত মানুষ ছিল চারপাশে। কারো হাত নাই, কারো পা নাই।”

শেখ হাসিনা
Image captionঘটনার পরের দিন শেখ হাসিনা যখন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন, তখনও তিনি হত-বিহ্বল

হাসান মাসুদের বর্ণনা অনুযায়ী ১২টির বেশি গ্রেনেড বিস্ফোরিত হয়েছিল। আরো কয়েকটি গ্রেনেড অবিস্ফোরিত অবস্থায় পড়ে ছিল।

গ্রেনেড হামলায় আহত অনেকেই এখনও শরীরে আঘাত নিয়ে বেঁচে আছেন। এদের একজন নাসিমা ফেরেদৗসি। তাঁর শরীরে এখনও দেড় হাজারের মতো গ্রেনেডের স্প্লিনটার রয়েছে। শরীরের ভেতর এসব স্প্লিনটার নিয়ে যন্ত্রণা-কাতর জীবন পার করছেন নাসিমা ফেরদৌসি।

ঘটনার দিন মঞ্চের খুব কাছেই অবস্থান করছিলেন নাসিমা ফেরদৌসি।

২০১১ সালে বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে নাসিমা ফেরদৌসি বলেন, “হঠাৎ করে এক বিকট আওয়াজ শুনলাম। এরপর আরেকটি আওয়াজ। আমি দৌঁড়ানোর চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু আমরা পা নড়ছিল না।”

“দ্বিতীয় আওয়াজের সাথে সাথে দেখলাম আমার শরীর রক্তে ভেসে গেছে। এরপর আমি সেন্সলেস (অজ্ঞান) হয়ে পড়লাম। কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফিরে দেখলাম লাশ আর লাশ। আমি বলছিলাম বাঁচাও-বাঁচাও।”

কিছুক্ষণ পরে আবারও জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন নাসিমা ফেরদৌসি। আশপাশের সবাই ভেবেছিল নাসিমা ফেরদৌসি মারা গেছে। তাকে মৃত ভেবে একটি মৃতদেহবাহী ট্রাকে তোলা হয়। তখন আবারও জ্ঞান ফিরে আসে নাসিমা ফেরদৌসির। ব্যথায় চিৎকার করে তিনি আবারও বলতে থাকেন ‘বাঁচাও-বাঁচাও’।

আইভী রহমান
Image captionগ্রেনেড হামলায় আহত হয়েছিলেন আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভী রহমান, যিনি পরে মারা যান

গ্রেনেড হামলায় নাসিমা ফেরদৌসির দুটো পা ক্ষত-বিক্ষত হয়ে যায়। দীর্ঘ চিকিৎসার পর তার পা দু’টো কোন রকমে টিকে যায়। কিন্তু চার বছর তাকে কাটাতে হয়েছে হুইল চেয়ারে।

ভয়ানক ঐ দিনের কথা মনে করে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন নাসিমা ফেরদৌসি।

২১শে অগাস্টের হামলার সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, আহতদের সাহায্যে এগিয়ে না এসে পুলিশ উল্টো তাদের হেনস্থা করেছে। সে সময় ক্ষমতায় থাকা বিএনপি সরকারের ভূমিকা নিয়েও নানা বিতর্ক এবং প্রশ্ন রয়েছ।

ঘটনার পর বিবিসি বাংলাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তখনকার বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “আমাদের নেতা-কর্মীরা যখন আহতদের সাহায্য করতে গেছে, ঠিক সে সময় পুলিশ উল্টো টিয়ারগ্যাস, লাঠিচার্জ ও তাদের গ্রেফতার করতে শুরু করেছে।”

শেখ হাসিনা বলেন, আহতদের সাহায্য করতে এগিয়ে না এসে পুলিশ যখন উল্টো টিয়ার গ্যাস, লাঠিচার্জ ও গ্রেফতার করতে শুরু করলো, তখন বুঝতে পারা যায় যে এ ঘটনা তাদের মদদে হয়েছে।

এই মামলার বিচার কাজ এখনও নিম্ন আদালতে চলছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, গ্রেনেড হামলার সেই ঘটনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছে, যার ফলে দুই প্রধান দলের মধ্যে সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়েছে।

আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করেন, তাদের দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে হত্যার জন্যই সেদিনের গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিল।

এই ধারণার সাথে অনেকেই একমত পোষণ করেন।

পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা
Image captionগ্রেনেড হামলার ঘটনার সময় এবং পরবর্তী তদন্ত নিয়ে পুলিশের ভূমিকার ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল

বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র মধ্যকার রাজনৈতিক সম্পর্ক এখন সবচেয়ে তিক্ত, যার একটি বড় কারণ হচ্ছে ২১শে অগাস্টের গ্রেনেড হামলা। গ্রেনেড হামলার ঘটনা দুই দলকে আরও বেশি বিপরীত মেরুতে ঠেলে দিয়েছে।

গ্রেনেড হামলার সময় এবং তারপরের তদন্ত নিয়ে পুলিশের নিস্ক্রিয়তায় প্রশ্ন উঠেছিল তৎকালীন বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে।

জজ মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে দিয়ে গ্রেনেড হামলার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়ার বিষয়টি ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল।

২০০৭ সালের সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ওই হামলার ঘটনায় পুনরায় তদন্ত হয়।

সেখানে নিষিদ্ধ সংগঠন হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আবদুল হান্নান এবং তৎকালীন বিএনপি সরকারের উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুর নাম আসে।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে পুনরায় তদন্ত হয়।

ঐ তদন্তে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে ও বিএনপি’র অন্যতম শীর্ষ নেতা তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর সহ বেশ কয়েকজন পদস্থ সামরিক কর্মকর্তা এবং পুলিশের সাবেক তিনজন মহাপরিদর্শক বা আইজিপি’র নাম আসে।

বিএনপি অবশ্য এই তদন্তকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক’ বলে বর্ণনা করে।

ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় দেশের রাষ্ট্রদূতরা গ্রেনেড হামলার পর শেখ হাসিনাকে দেখতে গিয়েছিলেন
Image captionঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় দেশের রাষ্ট্রদূতরা গ্রেনেড হামলার পর শেখ হাসিনাকে দেখতে গিয়েছিলেন

শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ১৫তম বার্ষির্কী আজ

আজ বুধবার ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ১৫তম বার্ষিকী। ২০০৪ সালের এইদিনে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ স্থানীয় কয়েকজন নেতা সেদিন অল্পের জন্য এই ভয়াবহ হামলা থেকে বেঁচে গেলেও মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বেগম আইভি রহমানসহ আরো ২৪ জন নিহত হন।
এছাড়াও এই হামলায় আরো ৪শ’ জন আহত হন। আহতদের অনেকেই চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছেন। তাদের কেউ কেউ আর স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাননি।
শেখ হাসিনার বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে আকস্মিক গ্রেনেড বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলে মারাত্মক বিশৃংখলা, ভয়াবহ মৃত্যু ও দিনের আলো মুছে গিয়ে এক ধোয়াচ্ছন্ন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
ঢাকা’র তৎকালিন মেয়র মোহাম্মদ হানিফ এবং হাসিনার ব্যক্তিগত দেহরক্ষী তাৎক্ষণিকভাবে এক মানব বলয় তৈরি করে নিজেরা আঘাত সহ্য করে শেখ হাসিনাকে গ্রেনেডের হাত থেকে রক্ষা করেন।
গ্রেনেড হামলায় উল্লেখযোগ্য নিহতরা হলেন- আইভি রহমান, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী ল্যান্স করপোরাল (অব:) মাহবুবুর রশীদ, আবুল কালাম আজাদ, রেজিনা বেগম, নাসির উদ্দিন সরদার, আতিক সরকার, আবদুল কুদ্দুস পাটোয়ারি, আমিনুল ইসলাম মোয়াজ্ঝেম, বেলাল হোসেন, মামুন মৃধা, রতন শিকদার, লিটন মুনশী, হাসিনা মমতাজ রিনা, সুফিয়া বেগম, রফিকুল ইসলাম (আদা চাচা). মোশতাক আহমেদ সেন্টু, মোহাম্মদ হানিফ, আবুল কাশেম, জাহেদ আলী, মোমেন আলী, এম শামসুদ্দিন এবং ইসাহাক মিয়া।
মারাত্মক আহতরা হলেন- শেখ হাসিনা, আমির হোসেন আমু, প্রায়ত আব্দুর রাজ্জাক, প্রয়াত সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত, ওবায়দুল কাদের, এডভোকেট সাহারা খাতুন, মোহাম্মদ হানিফ, এ এফ এম বাহাউদ্দিন নাছিম, নজরুল ইসলাম বাবু, আওলাদ হোসেন, সাঈদ খোকন, মাহবুবা পারভীন, এডভোকেট উম্মে রাজিয়া কাজল, নাসিমা ফেরদৌস, শাহিদা তারেক দিপ্তী, রাশেদা আখতার রুমা, হামিদা খানম মনি, ইঞ্জিনিয়ার সেলিম, রুমা ইসলাম, কাজী মোয়াজ্জেম হোসেইন, মামুন মল্লিক প্রমুখ।
একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদন্ড এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দিয়ে গত বছরের ১০ অক্টোবর রায় দেয় আদালত।
এই রায়ের বিষয়ে হাইকোর্টে আপিল মামলা শুনানীর অপেক্ষায় আছে। বর্তমানে শুনানীর জন্য পেপারবুক তৈরীর কাজ চলছে।
Design a site like this with WordPress.com
Get started