নৃগোষ্ঠীর মানুষদের বিতাড়নের চেষ্টা চলছে: সুলতানা কামাল

‘বাংলাদেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভূমি ও ভাষার অধিকার সুরক্ষা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য দেন মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল।

মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল বলেছেন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষদের ইচ্ছাকৃতভাবে দেশ থেকে বিতাড়নের চেষ্টা চলছে। এটা রাষ্ট্রীয়ভাবেও চলছে আবার অ-রাষ্ট্রীয়ভাবেও চলছে। এখানে রাষ্ট্রের একটা প্রচ্ছন্ন মদদ আছে। আর মদদ আছে বলেই এই বিতাড়ন সম্ভব হচ্ছে।

‘বাংলাদেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভূমি ও ভাষার অধিকার সুরক্ষা’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন সুলতানা কামাল। রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আজ মঙ্গলবার সকালে এ সেমিনার হয়। আয়োজক ছিল বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠনের জোট ‘আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস ২০১৯ উদ্‌যাপন কমিটি’।

গত ৯ আগস্ট ছিল আন্তর্জাতিক দিবস। এ উপলক্ষেই ছিল আজকের আয়োজন। এ বছর এ দিবসটির প্রতিপাদ্য ছিল ‘আদিবাসী ভাষা চর্চা ও সংরক্ষণ’।

আজ সুলতানা কামাল বলেন, দেশে নৃগোষ্ঠীর মানুষের সংখ্যা দিন দিন কমছে। এই কমে যাওয়ার পেছনে প্রাকৃতিক কোনো কারণ নেই। আছে রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক কারণ।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল বলেন, রাষ্ট্রীয় নীতির কারণেই ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের সংখ্যা কমছে। এসব জাতির মানুষ দেশত্যাগ করছে বা করতে বাধ্য হচ্ছে। অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে তাদের সংখ্যা কমানোর প্রক্রিয়া চলছে। অথচ এই প্রবণতা রুখতে রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো পদক্ষেপ দেখছি না।

সুলতানা কামাল বলেন, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষকে সাংবিধানিকভাবে এবং সার্বিকভাবে অস্বীকার করা হচ্ছে। এটা সুখকর সংবাদ না।

সুলতানা কামাল বলেন, ‘আমরা আজ সংখ্যায় কম হওয়ার কারণে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষকে উদ্বাস্তু করে তুলছি। এক সময় আমরা বিবেকের উদ্বাস্তুতে পরিণত হব। ’

মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষের মর্যাদাপূর্ণ জীবন যাপনের অধিকার নিশ্চিত করা। রাষ্ট্রকে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে, কী কারণে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে।

আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি নিজামুল হক, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষ দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছে বা তারা উৎখাত হচ্ছে। দুটোই আইনবিরোধী। প্রশ্ন আসে, এসব জাতির মানুষের ভূমি সুরক্ষায় আইনে থাকা দায়িত্বগুলো জেলা প্রশাসন পালন করছে কি না।
বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, ভূমি সংক্রান্ত সরকারি কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের এ সংক্রান্ত জ্ঞান উন্নত করার দরকার আছে। ভূমি সংক্রান্ত নানা আইন আছে মানুষের সুরক্ষার জন্য। অথচ সেগুলো ব্যবহার হয় মানুষকে বিপদে ফেলার জন্য।

আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ‘আদিবাসী’ শব্দ ব্যবহার করা যাবে না—এমন কোনো সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই। যে কেউ ইচ্ছে করলে এ শব্দ ব্যবহার করতে পারে।

আজকের সেমিনারে দুটি প্রবন্ধ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে ‘ভূমিই জীবন, ভূমিই পরিচয়, ভূমিই অস্তিত্বের প্রতীক’ শীর্ষক প্রবন্ধ পড়েন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং। আর ‘আদিবাসীদের ভূমি থেকে উচ্ছেদ: কারণ ও করণীয়’ শীর্ষক প্রবন্ধ পড়েন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক রোবায়েত ফেরদৌস।

বক্তব্য দেন বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত, বেসরকারি সংগঠন নিজের করি’র সমন্বয়কারী খুশী কবির, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা প্রমুখ।

সাংবাদিক নিয়োগ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে ফেসবুক

মনিপুরি মুসলিম বিডি | তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক


এবার সাংবাদিক নিয়োগ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক।

গত মঙ্গলবার এ পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছে তারা।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এএফপি বলছে, নতুন একটি ফিচার যুক্ত হচ্ছে ফেসবুকে। ‘নিউজ ট্যাব’ নামের ফিচারটিতে নির্বাচিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ খবর দেখানো হবে। এ খবরগুলো নির্বাচন করবে সাংবাদিকদের ছোট্ট একটি দল। এজন্য এ ফিচারটি পরিচালনার জন্য সাংবাদিক নিয়োগ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে ফেসবুক।

মোবাইলে ফেসবুক অ্যাপের একটি অংশে ওই নিউজ ট্যাব থাকবে। চলতি বছরই ওই ফিচার পরীক্ষা করতে পারে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। ফেসবুকের নিউজ ট্যাবের অধিকাংশ খবর অ্যালগরিদম অনুযায়ী দেখানো হবে। তবে প্রতিদিনের শীর্ষ খবরগুলো ১০ জন বিখ্যাত সাংবাদিক ঠিক করে দেবেন। ফেসবুকের মূল ফিড থেকে এ নিউজ ট্যাব আলাদা থাকবে।

মাদরাসা ও মসজিদের শহরে পরিণত হচ্ছে নিউইয়র্ক!

মসজিদের শহর হিসেবে পরিচিতি রয়েছে বাংলাদেশের ঢাকা ও তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরের। এবার যোগ হলো আমেরিকার নিউইয়র্কের শহর বাফেলো। এ শহরটিতে দিন দিন মাদরাসা ও মসজিদের সংখ্যা বেড়েই চলছে।

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা ও তুরস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুলের আদলেই মাদরাসা-মসজিদের শহরে পরিণত হচ্ছে নিউইয়র্কের বাফেলো শহর। সেখানের খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের অধিকাংশ গির্জায় রয়েছে নামাজের ব্যবস্থা। প্রতিদিনই এসব গির্জায় পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ছেন মুসলিমরা। তাতে মুসল্লিদের সমাগম বাড়ছে।

বাফেলো শহরের প্রতিটি মুসলিম পরিবারই তাদের স্কুলপড়ুয়া ছেলেমেয়েদের নিয়ে মসজিদে নামাজ আদায়ে শামিল হচ্ছেন। প্রতি শুক্রবার নারীরাসহ পরিবারের অধিকাংশই নামাজ পড়তে যাচ্ছে এসব মসজিদে।

নিউজিল্যান্ড ঘটনার পর থেকে শুক্রবার প্রত্যেক মসজিদে বাফেলোর মেয়র এবং সিটির পুলিশ কমিশনার রেগুলার পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশের নজরদারিও বৃদ্ধি করেছে। যাতে মুসল্লিদের ওপর অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনা না ঘটে।

২ হাজার ৫২৫ বর্গকিলোমিটারের এ শহরটিতে বর্তমানে ১৭টি জামে মসজিদ রয়েছে। চারটি ইবাদতখানাসহ বৃহৎ পরিসরে চারটি উচ্চ শিক্ষার মাদরাসাও রয়েছে। এ ছাড়া কুরআন হেফজের লক্ষ্যে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি হেফজখানা।

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, বাফেলোর পুরনো জেলখানাটিই এখন যুক্তরাষ্ট্রের সর্ববৃহৎ আবাসিক/অনাবাসিক নারী মাদরাসায় পরিণত হয়েছে। যেখানে ইসলামি শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি দেশটির শিক্ষা কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত সিলেবাসও পড়ানো হয়। মাদরাসার অধিকাংশ শিক্ষক ইসলামি শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

বাফেলোজুড়েই বসবাস করছে এশিয়ার অধিকাংশ মুসলিম দেশের মানুষ। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ, মিয়ানমার, পাকিস্তান ও ইয়েমেনের মুসলিমদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। আরও আছে সৌদি আরব, আরব আমিরাত ও ভারতের মুসলিম জনসংখ্যাও।

উল্লেখ্য, শহরটিতে বর্তমানে যে সব মসজিদ রয়েছে তার অধিকাংশই আগে গির্জা ছিল। এসব গির্জা খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় এবং দেখভালের অভাবে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে বছরের পর বছর। যাতে ক্ষতির মুখে পতিত হচ্ছিল ভবনগুলো। পাশাপাশি বাফেলো সিটি হারাচ্ছিল মোটা অংকের রাজস্ব। অন্যদিকে বাফেলোতে মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়া এবং তাদের চাহিদা থাকায় সিটি কর্তৃপক্ষ নামেমাত্র থাকা এসব গির্জা লিজ প্রদান করে মসজিদের জন্য।

সম্প্রতি দেলেবান ও বেলী রোডের কর্নারে সববৃহৎ গির্জাটি যখন মসজিদের জন্য সিটির কাছ থেকে লিজ নেয়া হলো, তখন বিভিন্ন মিডিয়া বিশেষ করে (ফ্রক নিউজ, এবিসি নিউজ) খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের লোকদের একটি সাক্ষাৎকার নিয়ে তা প্রকাশ করে। যাতে তাদের অধিকাংশের মতামত ছিল এরকম যে, ‘আমরা আগে রোববার প্রার্থনা করতাম, সেখানে মুসলিম ফ্রেন্ডরা শুক্রবার প্রার্থনা করবে। পার্থক্য শুধু এটাই। আমরা গডকে ডাকতাম আর ওরা আল্লাহকে ডাকবে। এতে সমস্যা কোথায়?

শহরটির যেসব গির্জা এখন মসজিদে পরিণত হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলো-
মসজিদ-এ-জাকারিয়া, মসজিদ আল তাকওয়া, মসজিদে জুমা, মসজিদে নোমান, মার্কাস মসজিদ, মসজিদ আল ইয়ামা, মসজিদ জামা, মসজিদ আল নূর, মসজিদ আল গুদাম, মসজিদ এট জ্যাফরিয়া, বায়তুল মামুর জামে মসজিদ, মসজিদ বিলাল, মসজিদ দারুস সালাম, মসজিদ-ই-মাহদি, মসজিদ তাওহীদ, মসজিদ মুকাররাম জামে মসজিদ, সেন্ট্রাল পার্ক জামে মসজিদ উল্লেখযোগ্য।

অতিরিক্ত সেলফি পোস্ট আত্মকেন্দ্রিক ও একাকিত্বের লক্ষণ

ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টজুড়ে শুধুই সেলফি? অতিরিক্ত সেলফি পোস্ট করার অভ্যাসকে কিন্তু মোটেও ভাল চোখে দেখছেন না ওয়াশিংটন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিদরা। সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি সোশ্যাল মিডিয়ায় অতিরিক্ত সেলফি পোস্ট করলে তাঁকে কম আকর্ষণীয় মনে করতে পারেন অন্যরা। সেলফি ভরা সোশ্যাল মিডিয়া গ্যালারি দেখে সেই ব্যক্তি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও ধরে নেয় মানুষ।
সেলফি আর অন্য কারও তুলে দেওয়া ছবি, এই দুই ধরনের পোস্ট আছে এমন ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট নিয়ে সমীক্ষা করা হয়। তাতেই উঠে আসে এমন তথ্য। দুটি পর্যায়ে সমীক্ষাটি করা হয়। প্রথমে ৩০ জন ছাত্র-ছাত্রীর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট নির্বাচন করেন মনোবিদরা। তারপর সেই অ্যাকাউন্টগুলির স্ক্রিনশট নেওয়া হয়। এরপর সেই স্ক্রিনশট দেখানো হয় ১১৯ জন ছাত্রছাত্রীকে। ৩০টি অ্যাকাউন্টের ছবি দেখিয়ে আত্মসম্মান, সাফল্য, একাকিত্ব ইত্যাদি বিষয়ে আন্দাজ করে নম্বর দিতে বলা হয় ওই ১১৯ জন ছাত্রছাত্রীদের।
সমীক্ষার শেষে দেখা যায়, প্রচুর সেলফি আছে, এমন অ্যাকাউন্টগুলির বিষয়ে নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন বেশিরভাগ ছাত্রছাত্রীরা। অতিরিক্ত সেলফি আত্মকেন্দ্রিকতা, আত্মবিশ্বাসের অভাব ও একাকিত্বের লক্ষণ বলে মত প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

তেতই গাঁও রসিদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০১২ ব্যাচের পুনর্মিলনী স্মৃতিচারণ


ওয়াশিংটন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিদ ক্রিস বেরির মতে, সেলফির তুলনায় পোজ দিয়ে তোলা ছবিকেই বেশি পছন্দ করে সমাজ। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “৩০টির মধ্যে দুটি প্রোফাইল প্রায় একইরকম ছিল। দুটি প্রোফাইলেই ব্যবহারকারী তাঁর বেড়াতে যাওয়ার, সাফল্যের ছবি দিয়েছেন। এক জনের ছবি সেলফিতে, অপরজনের ছবিগুলি পোজ দেওয়া। দ্বিতীয় ব্যক্তিকেই পছন্দ করেছেন সকলে।” বেরি জানান, সেলফি দেওয়া ব্যক্তিকে আত্মকেন্দ্রিক ও নেতিবাচক বলে মনে করেছেন সকলেই। তিনি বলেন, “এর থেকে প্রমাণ হয়, কোনও ব্যক্তির সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল দেখেই তার মানসিকতার আন্দাজ করে সমাজ।”

স্বাধীনতার পর নতুন পতাকা পেলো মুসলিম রাষ্ট্র বাংসামোরো

মনিপুরি মুসলিম বিডি | আন্তর্জাতিক ডেস্ক::

বাংসামোরোর মুসলিমরা পেলো এবার নতুন পতাকা। চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি গণভোটের মাধ্যমে বাংসামোরো অঞ্চল লাভ করে স্বায়ত্তশাসন। ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মুসলিম জনপদ এটি। সংসদ সদস্যদের রায়ে বাংসামোরোর সরকারি পতাকা অনুমোদিত হয়েছে।

গত শনিবার (২৪ আগস্ট) ফিলিপাইনের সংসদে অধিকাংশ সংসদ সদস্যের রায়ে বাংসামোরোর অফিসিয়াল পাতাকা অনুমোদিত হলো। সংসদ সদস্য লানাঙ্গ আলী তার ফেসবুক পেজে সরকারি পতাকা লাভে শুকরিয়া আদায় করেছেন।

তিনি ফেসবুক পেজে লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ! ৭ নম্বর বিলের মাধ্যমে বাংসামোরোর অফিসিয়াল পতাকা অনুমোদন দেয়া হয়েছে।’ স্ট্যাটাসের সঙ্গে নতুন পতাকার একটি ছবিও যুক্ত করেছেন তিনি।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ফিলিপাইন দখল করলে অধিকার হারান বাংসামোরোর মুসলিমরা। এরপর দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের অধিকার আদায়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছিল। এমন প্রেক্ষাপটে এ বছরের শুরুর দিকে গনভোটের মাধ্যমে স্বাধীন ভূখণ্ডের স্বীকৃতি পায় বাংসামোরো।

আজ জাতীয় কবির ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকী

মনিপুরি মুসলিম বিডি | নিজস্ব প্রতিনিধি

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ মঙ্গলবার । বাংলা সাহিত্যে ‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবে পরিচিত নজরুল ১৯৭৬ সালের ২৭ আগস্ট (১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র) তৎকালীন পিজি হাসপাতালে (বর্তমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) ইন্তেকাল করেন। তার ইচ্ছা অনুসারে কবিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন উত্তর পাশে কবর দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর পরই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে সপরিবারে কবি নজরুলকে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। ‘জাতীয় কবি’র মর্যাদা দিয়ে বাংলাদেশে তার বসবাসের ব্যবস্থা করেন। ধানমন্ডিতে কবির জন্য একটি বাড়ি দেয়া হয়। ঐ বাড়িটিতেই নজরুল ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হয়েছে।

জাতীয় কবি নজরুল ১৩০৬ সালের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার ডাক নাম ‘দুখু মিয়া’। পিতার নাম কাজী ফকির আহমেদ ও মাতা জাহেদা খাতুন।

বাংলা সাহিত্যে বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিত হলেও তিনি ছিলেন একাধারে কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক, চলচ্চিত্রকার, গায়ক ও অভিনেতা। তিনি বৈচিত্র্যময় অসংখ্য রাগ-রাগিনী সৃষ্টি করে বাংলা সঙ্গীত জগতকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। প্রেম, দ্রোহ, সাম্যবাদ ও জাগরণের কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা ও গান শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে সংগ্রামে জাতিকে উদ্বুদ্ধ করেছে। মুক্তিযুদ্ধে তার গান ও কবিতা ছিল প্রেরণার উৎস।

কবি কাজী নজরুল ইসলাম আজীবন ছিলেন আপসহীন। সত্যকে সত্য বলেছেন, মিথ্যাকে মিথ্যা। দৃঢ় কণ্ঠে অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছেন। কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টি ‘বিদ্রোহী’ কবিতার কথা সবারই জানা।

ব্রিটিশ সরকারকে উৎখাতের আন্দোলনে এ কবিতা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে মুখে মুখে। এক সময় কবিকে গ্রেফতার করা হয়। ১৯২৩ সালের ৭ জানুয়ারি নজরুল বিচারাধীন বন্দি হিসেবে আত্মপক্ষ সমর্থন করে এক জবানবন্দি প্রদান করেন। চিফ প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট সুইনহোর আদালতে দেয়া ওই জবানবন্দি বাংলা সাহিত্যে রাজবন্দির জবানবন্দি নামে বিশেষ সাহিত্যিক মর্যাদা লাভ করেছে।

কবির জীবনকাল ৭৭ বছরের। ১৯৪২ সালে অসুস্থ হয়ে বাকশক্তি হারানোর আগ পর্যন্ত তিনি সৃষ্টিশীল ছিলেন। এ সময়ের মধ্যে কবি শিল্প-সাহিত্যকে যা দিয়েছেন, তা বাংলা তথা বিশ্ব পরিমণ্ডলে অমূল্য এক সম্পদ। তাই কাজী নজরুল ইসলাম এখনও প্রাসঙ্গিক।

নজরুল ইসলাম ছিলেন একাধারে কবি, সাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ এবং সৈনিক। দারিদ্র্যের কারণে মাত্র ১০ বছর বয়সেই পরিবারের ভার বহন করতে হয়েছে তাকে। ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কিছুদিন কাজ করার পর তিনি পেশা হিসেবে বেছে নেন সাংবাদিকতা।

সাম্রাজ্যবাদবিরোধী কবি তৎকালীন ভারতবর্ষে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সোচ্চার ভূমিকা রাখেন। কারাবন্দি থাকা অবস্থায় তিনি রচনা করেন ‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’। বন্দিদশায় তার হাতে সৃষ্টি হয়েছে গান, কবিতা, প্রবন্ধ, গল্প, উপন্যাস, ছোটগল্পসহ অসংখ্য রচনা।

১৯২১ সালের ডিসেম্বরে কুমিল্লা থেকে ফেরার পথে নজরুল দুটি বৈপ্লবিক সাহিত্যকর্ম সৃষ্টি করেন- একটি ‘বিদ্রোহী’ কবিতা ও অপরটি ‘ভাঙ্গার গান’, যা বাংলা পদ্য ও গণসঙ্গীতের ধারাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছিল।

১৯২২ সালে তার বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ‘অগ্নিবীণা’ প্রকাশিত হয়। এর মাধ্যমে বাংলাকাব্য জগতে নতুন দিনের সূচনা হয়। এ কাব্যগ্রন্থের ‘প্রলয়োল্লাস’, ‘বিদ্রোহী কামাল পাশা’, ‘শাত-ইল-আরব’, ‘আগমনী’, ‘খেয়াপারের তরণী’সহ প্রতিটি কবিতাই বাংলা কাব্যে নতুন বাঁক সৃষ্টি করেছিল।

সঙ্গীত রচনায় নজরুল অসাধারণ প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। তিনি প্রায় চার হাজার গান রচনা ও সুর করেছেন।

বাংলা সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কবিকে সম্মানসূচক ডি. লিট উপাধি প্রদান করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি একুশে পদকে ভূষিত করা হয় কবিকে।

কাশ্মীরে শিশু খাদ্য থেকে শুরু করে ওষুধ সরবরাহ পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়েছে ভারত; সর্বত্র হাহাকার

মনিপুরি মুসলিম বিডি | আন্তর্জাতিক ডেস্ক


ভারতের বন্দীদশায় থাকা কাশ্মীরিরা মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন। পুরো কাশ্মীরে মোবাইল নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট সেবা সহ সবরকমের প্রয়োজনীয় সেবা বন্ধ করে রেখেছে ভারত সরকার।

কাশ্মীরে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র প্রবেশ বন্ধ করে রেখেছে ভারতীয় সেনারা। এতে করে সেখানে ওষুধ ও শিশু খাদ্যের মত পণ্যগুলোর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

বেঁচে থাকার জন্য ওষুধ মিলছে না। বাচ্চাদের বেবি ফুড অমিল। এমনকী জীবনরক্ষাকারী ওষুধ না পেয়ে হাহাকার শুরু হয়েছে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মায়ের প্রেসক্রিপশন নিয়ে একাধিক ওষুধের দোকানে গেছেন সাজিদ আলি কিন্তু খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। সাজিদের মা, ৬৫ বছর বয়সী সুরাইয়া বেগমের ওষুধ কিনতে বেরিয়ে ছিলেন ছেলে। কিন্তু উপত্যকায় যানবাহন চলছে না। স্থানীয় হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্সে চড়ে শ্রীনগরে পৌঁছেছিলেন সাজিদ আলি। কিন্তু ৩ ঘণ্টা ধরে খোঁজার পরে শ্রীনগরেও ওষুধ মেলেনি। অবশেষে শ্রীনগর বিমানবন্দর থেকে নয়াদিল্লির টিকিট কেটে দিল্লি থেকে এক মাসের ওষুধ নিয়ে ফিরেছেন আলি।

অন্যদিকে ৫ আগস্ট থেকে স্তব্ধ কাশ্মির উপত্যকা। শেষ হয়ে আসছে নিত্যপ্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ। ৫ আগস্ট জম্মু–কাশ্মির থেকে প্রত্যাহার করা হয় ৩৭০ ধারা। দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু–কাশ্মীর ও লাদাখ। সেই সিদ্ধান্তের পর থেকেই বন্ধ দোকানপাট, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের সরবরাহ ব্যাহত। ওষুধের সরবরাহ নেই।

গত ৫ আগস্ট থেকে নতুন কোনো সরবরাহ আসেনি। কেবলমাত্র কিছু অ্যান্টিবায়োটিক পড়ে রয়েছে বলে জানান, জনৈক এক বিক্রেতা। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসের মত রোগ নিয়ে দুরদুরান্ত থেকে এসে ফিরে যাচ্ছেন মানুষ। বাবার জন্য ইনসুলিন পাচ্ছেন না মোহম্মদ ইসমাইল নামের যুবক। অনন্তনাগের খুশি বেগমের হাঁপানি বাড়ার পর ইনহেলার পাওয়া যায়নি। হাসপাতালে যেতে যেতেই মারা গেছেন তিনি।

ইএফএফ এএওয়াই ফার্মাসি ডিস্ট্রিবিউটরের কর্ণধার মনসুর আহমেদ জানালেন, মাত্র ৩০ শতাংশ স্টক পড়ে রয়েছে। নয়াদিল্লি থেকে কোনো নতুন স্টক আসছে না। গত ৩০ বছরেও এই ধরনের ওষুধের অভাবে কাশ্মিরে হয়নি। গ্রামীণ অঞ্চলে বেবিফুডের মতো প্রাথমিক দ্রব্যেরও জোগান না থাকায় হাহাকার শুরু হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে বেড়েছে রোগী সংখ্যা, কারণ সমস্যা একটাই ওষুধ নেই।

সূত্র : আজকাল

পরমাণু বোমা মেরে ঘূর্ণিঝড় ঠেকিয়ে দিতে চান ট্রাম্প!


অদ্ভুত ও হাস্যকর কাণ্ড আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য নতুন নয়। এ পর্যন্ত তিনি বহুবার নিজের ‘উদ্ভট জ্ঞানের’ পরিচয় দিয়েছেন। এবারও ‘নির্বোধের মতো’ একটি ধারণা দিয়ে ‘গালমন্দ ভরা’ হাসির পাত্র হয়েছেন।

এবার বোমা মেরে ঘূর্ণিঝড় ঠেকানোর ‘অভিনব তত্ত্ব’ দিলেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানার আগে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় হারিকেনকে পারমাণবিক বোমা মেরে উড়িয়ে দিতে বললেন তিনি।

ওয়াশিংটন সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বলছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট একাধিক বার নিজের সামরিক বাহিনীকে পরামর্শ দিয়েছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ হারিকেন ভূমিতে আঘাত হানার আগে এটাকে পারমাণবিক বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়া যায় কি-না।

ভূমিকম্প হুমকির বিষয়ে আয়োজিত দেশটির শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প বলেছিলেন, আমি এটি জেনেছি। আমি বুঝতে পেরেছি। কেন আমরা এদের (হারিকেন) পারমাণবিক বোমা হামলায় ধ্বংস করবো না?

মার্কিন প্রশাসনের একটি সূত্র স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানায়, ২০১৭ সালে হোয়াইট হাউসে হারিকেন মোকাবিলায় বৈঠকে বসে দেশের সামরিক কর্মকর্তাদের এ প্রশ্ন করেছিলেন ট্রাম্প। তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেছিলেন, দেশের সমুদ্র এলাকার হারিকেনের চোখের ওপর পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করা হোক, যাতে করে এর ধ্বংসাত্মক গঠন ভেঙে চুরমার হয়ে যায়।

প্রেসিডেন্টের কথার পর বৈঠকেই উপস্থিত সবাই হতভম্ব হয়ে যান। এমনকি বৈঠক শেষেও তারা বিস্মিত ছিলেন। সভা শেষে সবাই ভেবেছিলেন, বলে কী… ! এটা কীভাবে সম্ভব!

বৈঠকে এক কর্মকর্তা প্রেসিডেন্টকে তখন বলেছিলেন, আমরা সম্ভাবনাটি খতিয়ে দেখবো। পরে অন্যান্য কর্মকর্তারাও প্রেসিডেন্টের বক্তব্যটি সম্পর্কে ব্রিফ করেছিলেন। বিষয়টি পরবর্তীতে জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের (এনএসসি) স্মারকলিপিতে রেকর্ড করা হয়েছিল।

এনএসসি’র ওই স্মারকলিপি বলছে, ট্রাম্প আমেরিকাতে হারিকেনের আঘাত হানা ঠেকাতে প্রচলিত অস্ত্র দিয়ে বোমা নিক্ষেপ করা যায় কি-না জানতে চেয়েছেন। প্রেসিডেন্টের লক্ষ্য- মূল ভূ-খণ্ডে হারিকেন আঘাত হানলে ব্যাপক ক্ষতি হয়। অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক প্রভাব পড়ে। তাই বিপর্যয়কর হারিকেন ধ্বংস করে দিতে হবে।

এরপর হোয়াইট হাউসের এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেছিলেন, তার উদ্দেশ্য খারাপ নয়। হারিকেনের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ধারণাটির একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় স্মারকলিপিতে।

কমলগঞ্জের পাত্রখোলা পুঞ্জিতে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত

মনিপুরি মুসলিম বিডি, কমলগঞ্জ, ::

“আদিবাসী ভাষা চর্চা ও সংরক্ষণে এগিয়ে আসুন” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস-২০১৯ পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে গত শনিবার (২৫ আগস্ট) দিনব্যাপী কারিতাস সক্ষমতা প্রকল্পের আয়োজনে কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের পাত্রখোলা পুঞ্জির আদিবাসী শিক্ষা ও সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্রে র‌্যালি, আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরষ্কার বিতরণী সভা অনুষ্ঠিত হয়। পাত্রখোলা পুঞ্জির মন্ত্রীর প্রিচিলিং সুঙ এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রামভজন কৈরী। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কমলগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি পিন্টু দেবনাথ, দি এশিয়ান এইজ প্রতিনিধি মো. মোনায়েম খান।

কারিতাস সক্ষমতা প্রকল্পের জেপিও মখলিছুর রহমানের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন খাসি সোস্যাল কাউন্সিলের সাধারন সম্পাদক ও সক্ষমতা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য মি. এলিসন সুঙ। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কারিতাস সক্ষমতা প্রকল্পের জেপিও চয়ন চক্রবর্তী। এসময় উপস্থিত ছিলেন শ্রীগোবিন্দপুর চা বাগানের চা শ্রমিক নেতা ইসলাম খান, মদনমোহনপুর চা বাগানে সাবেক পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি সুকুমার দুষাদসহ আদিবাসী নেতৃবৃন্দ।

আলোচনা সভা শেষে সন্ধ্যায় আদিবাসীদের পরিবেশনার এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন পাত্রখোলা পুঞ্জি, হিরামতি পুঞ্জি, গারোটিলা, মদনমোহনপুর চা বাগানের শিল্পীবৃন্দ। পরে অতিথিরা পুরষ্কার বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে শুরুতে প্রধান অতিথি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রামভজন কৈরী ফিতা কেটে দিনব্যাপী আনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন।

মুসলিমদের জন্য আসামে বিশাল ‘বন্দি শিবির’ বানাচ্ছে ভারত

মনিপুরি মুসলিম বিডি : ভারতের আসামে মুসলিমদের জন্য বিশাল আকারের ‘বন্দি শিবির’ নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন নরেন্দ্র মোদির সরকার। জম্মু-কাশ্মীরে হাজার হাজার মানুষকে গ্রেফতার করে রাখার জন্যই এ বন্দি শিবির তৈরি হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ভারতের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাশ্মিরে ব্যাপক গ্রেফতারি চালাচ্ছে।

জানা যায়, আসামে মুসলিম বন্দি শিবির নির্মাণ ও কাশ্মীরে গণ-গ্রেফতারের পৃথক এ দুই ঘটনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত সদস্য প্রমীলা জয়পাল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

টুইটারে দেয়া এক টুইটে তিনি বলেছেন, কাশ্মীরে দুই হাজার মানুষকে ভারত সরকারের গ্রেফতারের খবরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। আসাম ও কাশ্মীরের মুসলিমদের জন্য বিশাল আকারের বন্দি শিবির নির্মাণে ভারত সরকারের শীর্ষ পরিকল্পনার অংশ এটি।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৩০ জুলাই ভারতীয় নাগরিকত্বের চূড়ান্ত খসড়া তালিকা থেকে আসামের প্রায় ৪০ লাখ মানুষের নাম বাদ দেয়া হয়। আসামের ন্যাশনাল রেজিস্ট্রার অব সিটিজেন (এনআরসি) কর্তৃপক্ষ এ তালিকা প্রকাশ করে।

প্রতিবেশী বাংলাদেশ থেকে আসামে পাড়ি জমানো অবৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিত করার লক্ষ্যে ১৯৫১ সালের পর গত বছর প্রথমবারের মতো নাগরিকত্বের তালিকা হালনাগাদ করে আসাম।

এনআরসির কর্মকর্তারা বলেছেন, এটি খসড়া তালিকা মাত্র। সুতরাং এখনই কাউকে গ্রেফতার অথবা নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে না। তবে সমালোচকরা বলেছেন, নাগরিকত্বের তালিকা থেকে বাদ পড়াদের অধিকাংশই প্রদেশের সংখ্যালঘু মুসিলম জনগোষ্ঠীর সদস্য এবং বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত।

দেশটির ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী এবং এমপি বিভিন্ন সময়ে আসামের এই বাংলাদেশি মুসলিমদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর হুমকি দিয়েছেন।

এনআরসি কর্তৃপক্ষ বলছে, ভারতীয় নাগরিকত্ব পেতে ৩ কোটি ২৯ লাখ আবেদন জমা পড়েছিল। এরমধ্যে যাচাই-বাছাই উতড়ে নাগরিকত্বের উপযুক্ত হিসেবে ২ কোটি ৮৯ লাখ মানুষ তালিকায় ঠাঁই পেয়েছেন। তবে যথাযথ নথি ও তথ্য-উপাত্ত দিতে না পারায় ৪০ থেকে ৪১ লাখ আসামিজ ভারতীয় নাগরিকত্বের তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন।

মার্কিন প্রভাবশালী দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্টের এক ফ্যাক্টচেকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোলা বারুদ এবং পেলেট গানের গুলিও কাশ্মীরিদের দমন করতে পারছে না। ভারতের দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে কাশ্মীরের জনগণ পুরো উপত্যকাজুড়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন।

ভারত সরকারের ‘কাশ্মীর শান্ত’ থাকার দাবির কথা উল্লেখ করে ওয়াশিংটন পোস্ট বলছে, প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা এবং সেখানকার ভিডিও ফুটেজের সঙ্গে বিজেপি সরকারের দাবির মিল নেই।

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, অধিকৃত কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার মানুষ সমবেত হয়ে বিক্ষোভ করছেন। কিছু ভিডিওতে দেখা যায়, গত ৫ আগস্ট কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর থেকে প্রত্যেকদিন বিক্ষোভ করছেন হাজার হাজার মানুষ।

এই বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে ভারতীয় নিরাপত্তাবাহিনী গোলাবর্ষণ ও পেলেট গান থেকে গুলি ছুড়তে দেখা যায় ভিডিওতে।

-এটি

‘স্যারের কোনো দোষ নেই’, বললেন ডিসির সেই অফিস সহকারী

ওএসডি হওয়া জামালপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আহমদ কবীরের সঙ্গে আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল হওয়া অফিস সহকারী সানজিদা ইয়াসমিন সাধনা দাবি করেছেন, এ ঘটনায় ডিসির কোনো দোষ নেই। আজ সোমবার সকালে গণমাধ্যমকে এ কথা বলেন ওই নারী।

গণমাধ্যমকে সাধনা বলেন, ‘স্যারের কোনো দোষ নেই, তিনি নির্দোষ। কারণ, স্যার আমার কোনো ক্ষতি করে নাই। আমার বাঁচার ইচ্ছে নেই, শুধুমাত্র আমার সন্তানের দিকে তাকিয়ে বেঁচে আছি। এভাবে ধিক্কার না দিয়ে, আমাকে বাঁচার মতো ব্যবস্থা করে দিন।’advertisement

ওই নারী আরও বলেন, ‘আমি কিছুই জানি না, এগুলো কে করছে আপনারা তদন্ত করে বের করুন। আমি এর বিচার চাই।’

এর আগে সোমবার সকালে জামালপুর জেলা প্রশাসকের কর্মস্থলে আসার পর জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন সমালোচিত ওই নারী। সে সময় তার হাতে শারীরিক অসুস্থতার কারণে একটি ছুটির আবেদন পত্র দেখা যায়।advertisement

আবেদনে অফিস চলাকালীন অসুস্থ বোধ করায় আগামীকাল ২৭ আগস্ট থেকে তিন দিনের ছুটির কথা উল্লেখ করেন জেলা প্রশাসকের গোপনীয় শাখার অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত সাধনা। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই কেউ কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই দ্রুত জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ত্যাগ করেন তিনি।

গত বৃহস্পতিবার থেকে জামালপুরের ডিসি আহমেদ কবীরের সঙ্গে ওই নারী সহকর্মীর আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে জামালপুরসহ সারা দেশে নিন্দার ঝড় ওঠে। এ ঘটনায় গতকাল জামালপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীরকে ওএসডি করা হলেও ঘটনার সঙ্গে জড়িত ওই নারীর বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন জামালপুরের মানুষ।

এ ঘটনায় মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি তদন্ত সাপেক্ষে ওই অফিস সহকারীর বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

ডিসির সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় লিপ্ত সেই নারীর আকুতি দেখুন (ভিডিও)

‘আমার সন্তানের জন্য আমাকে বাঁচান’ (ভিডিও)

মনিপুরি মুসলিম বিডি ডেস্ক- জামালপুরের সাবেক ডিসি আহমেদ কবীরের সঙ্গে আপত্তিকর ভিডিও নিয়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন অফিস সহকারী সানজিদা ইয়াসমিন সাধনা।

জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাধনার চার মিনিট ৫৭ সেকেন্ডের আপত্তিকর ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে সাধনাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া না গেলেও হঠাৎ করে আজ সোমবার জেলা প্রশাসকের অফিসে হাজির হন তিনি।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক জামালপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কয়েকজন জানান, আজ সকালে বোরখা এবং হিজাব পরিবর্তন করে অফিসে আসেন সাধনা। তাকে শুরুতে কেউই চিনতে পারেননি। একটি ছুটির দরখাস্ত নিয়ে তিনি উর্ধ্বতন কর্মকর্তার কক্ষে যান। সেখান থেকে বের হওয়ার পর সাংবাদিকরা তাকে ঘিরে ধরেন।

এ সময় সাধনা সাংবাদিকদের কাছে আকুতি-মিনতি করে সাধনা জানান, ‘আমি বাঁচতে চাই না, আমার সন্তানের জন্য আমাকে বাঁচান। আমাকে ধিক্কার না দিয়ে আমার সন্তানের জন্য আমাকে বাঁচার ব্যবস্থা করে দিন।’

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এই অফিস সহকারী জানান, ‘আমি সত্যি কথা বলছি, আমি কিছুই জানি না এগুলা কে করেছে। আপনারা তদন্ত করে বের করে এর বিচার করুন।’

বিচার চান কি না এমন প্রশ্নের জবাবে সাধনা বলেন, ‘আমি বিচার চাই, তবে স্যারের কোনো দোষ নাই এর মাঝে। স্যার নির্দোষ। কারণ স্যার আমার কোনো ক্ষতি করে নাই ’

সম্প্রতি জামালপুরের ডিসির একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওটিতে ডিসি আহমেদ কবীরের সঙ্গে তার অফিসের এক নারীকর্মীকে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখা যায়। গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে খন্দকার সোহেল আহমেদ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে জেলা প্রশাসকের আপত্তিকর ভিডিওটি পোস্ট করা হয়।

এ নিয়ে জামালপুরসহ সারাদেশে নিন্দার ঝড় ওঠে। এ ঘটনায় রোববার জামালপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীরকে ওএসডি করা হয়। একই সঙ্গে ডিসি আহমেদ কবীরকে সরিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রীর একান্ত সচিব (পিএস) মোহাম্মদ এনামুল হককে জামালপুরের নতুন ডিসি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।

এদিকে ডিসি আহমেদ কবীরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হলেও ঘটনার সঙ্গে জড়িত ওই নারীর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকেই। এরই মধ্যে হঠাৎ করে রোববার উধাও হন ওই নারী। সেই সঙ্গে রোববার অফিসও করেননি তিনি। এরই মধ্যে সোমবার ছুটির আবেদন নিয়ে অফিসে আসেন ওই নারী।

ভিডিও দেখুন এখানে-

ডিসির সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় লিপ্ত সেই নারীর আকুতি দেখুন (ভিডিও)

যুক্তরাজ্য থেকে ৫ বিমান কিনেছে বাংলাদেশ

যুক্তরাজ্য থেকে ৫টি অত্যাধুনিক সি-১৩০ পরিবহন বিমান কিনছে বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে একটি বিমান বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। রবিবার সি-১৩০ জে বিমানটি যুক্তরাজ্য থেকে ফেরী ফ্লাইটের মাধ্যমে বিমান বাহিনীর বঙ্গবন্ধু ঘাঁটিতে অবতরণ করে।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

এর আগে বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাজ্য সরকারের অত্যাধুনিক ৫ টি সি-১৩০ জে পরিবহন বিমান ক্রয়ের চুক্তি হয়। বিমানগুলো মূলত যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি হলেও এসব বিমানের মালিকানা যুক্তরাজ্যের হওয়ায় তাদের কাছ থেকে বিমানগুলো ক্রয় করা হয়। ক্রয়কৃত অবশিষ্ট বিমানগুলো পর্যায়ক্রমে যুক্তরাজ্য হতে নিয়ে আসার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সি-১৩০জে পরিবহন বিমান অত্যাধুনিক এভিওনিক্স ও উন্নত প্রযুক্তিসমৃদ্ধ পরিবহন বিমান যা মালামাল ও সৈন্য পরিবহনসহ দেশে এবং বিদেশে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ব্যবহৃত হবে। বিমান বাহিনীতে অত্যাধুনিক এই সি-১৩০জে বিমানের অন্তর্ভুক্তি, বিমান বাহিনীর পরিবহন ক্ষমতা সর্বোপরি বাহিনীর সক্ষমতাকে বহুলাংশে বৃদ্ধি করবে বিশেষজ্ঞরা মতামত দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট বিষয়

সালেহ এন্টারপ্রাইজ, আদমপুর বাজার।

শ্রীমঙ্গলে আদিবাসী ইস্যুতে অ্যাডভোকেসি সভা

শ্রীমঙ্গলে আদিবাসী ইস্যুতে অ্যাডভোকেসি সভা

আদিবাসীদের ভূমির অধিকার ও মালিকানা এবং আদিবাসীদের ভাষার চর্চা ও সংরক্ষণ বিষয়গুলোকে সামনে রেখে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), টিআইবি শ্রীমঙ্গল এবং বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী ফোরাম এর যৌথ উদ্যোগে এক অ্যাডভোকেসি সভা ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সনাক কার্যালয়ে আয়োজিত আদিবাসী ইস্যু বিষয়ক অ্যাডভোকেসি সভায় সভাপতিত্ব করেন সনাক’র সহ-সভাপতি দ্বীপেন্দ্র ভট্টাচার্য। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গলের উপজেলা নির্বাহী অফিসার নজরুল ইসলাম।

টিআইবি’র এরিয়া ম্যানেজার পারভেজ কৈরীর সঞ্চালনায় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী ফোরামের মহাসচিব ফিলা পাথমী। মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলার আদিবাসীদের ভূমির অধিকার ও মালিকানা এবং আদিবাসীদের ভাষার চর্চা ও সংরক্ষণ বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সনাক শ্রীমঙ্গল এর সদস্য ও বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী ফোরামের কো-চেয়ারপার্সন জিডিশন প্রধান সুছিয়াং। এরপর মুক্ত আলোচনা শুরু হয়।

অ্যাডভোকেসি সভায় বক্তারা বলেন, ভাষা, ধর্মাচার, পারিবারিক জীবন ব্যবস্থা সবকিছুতেই ভিন্নতা নিয়ে বসবাসকারী আদিবাসীরা আজো এদেশে ভূমির মালিকানা পায়নি। ভূমি উন্নয়নের নামে তাদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে, তারা দিন দিন ভূমিহীন হয়ে পড়ছেন। এ কারণেই আদিবাসীরা আজো স্থায়ী আবাস ভূমি থেকে বঞ্চিত। আদিবাসী জনগোষ্ঠী প্রতিনিয়ত শোষন, বঞ্চনা, বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

তারা বলেন, আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে ভাষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভাষা শুধু যোগাযোগ, শিক্ষা বা সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার বাহন হিসেবেই কাজ করে না, এটি ব্যক্তির স্বকীয় পরিচয়ের অন্যতম বাহন। সাংস্কৃতিক ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অন্যতম স্মারক। বর্তমান বিশ্বে ৬ হাজার ৭শ এর কাছাকাছি ভাষার অস্তিত্বের কথা জানা যায়, যার প্রায় ৪০ শতাংশ বিলুপ্তির পথে। আর এর অধিকাংশই আদিবাসী ভাষা। ভাষার এই বিলুপ্তির সম্ভাবনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিয়ে এ ব্যাপারে জাতি-রাষ্ট্রসমূহকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০১৬ সালে জাতিসংঘ ২০১৯ সালকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা দেয়। নানাবিধ কারণে আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও তাদের মাতৃভাষা আজ হুমকির মুখে। বাংলাদেশে অনেক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা হারিয়ে গেছে। বর্তমানে বাংলাদেশে বসবাসরত আদিবাসীদের মধ্যে ৩৫টি ভাষা প্রচলিত আছে।

সভায় বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী ফোরাম এবং সনাক’র মাধ্যমে কর্তৃপক্ষের কাছে কিছু দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিসমূহ হচ্ছে-

১. সকল আদিবাসী শিশুদের মাতৃভাষায় শিক্ষা লাভের অধিকার নিশ্চিত করতে তাদের মাতৃভাষায় পাঠ্যবই প্রণয়ন ও পাঠদানের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে;
২. সমতলের আদিবাসীদের ভূমি সমস্যা সমাধানে পৃথক ভূমি কমিশন গঠন এবং তাদের জমির মালিকানা সমস্যার কার্যকর নিষ্পত্তি করতে হবে;
৩. প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে ‘উপজাতি’ কোটা পুবর্বহাল করতে হবে;
৪. দুর্গম অঞ্চলে বসবাসরত আদিবাসীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তাসহ মৌলিক সেবাসমূহ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোতে পৃথক তদারকি ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে;
৫. আদিবাসীদের শিক্ষা, ভাষা, কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে জাতীয় বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।

সভায় অন্যদের মাঝে বক্তব্য দেন, বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী ফোরামের সহ-সভাপতি আনন্দ মোহন সিংহ, বাংলাদেশ চা জনগোষ্ঠী আদিবাসী ফোরামের সভাপতি পরিমল সিং বাড়াইক, বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বাংলাদেশ দলিত সম্প্রদায়ের সভাপতি সুশীল কুমার মৃধা, সনাক সদস্য অয়ন চৌধুরী প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে খাঁসিয়া, মণিপুরি, ত্রিপুরা, মুন্ডা ও চা জনগোষ্টি সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ, সনাক, স্বজন, ইয়েস, ইয়েস ফ্রেন্ডস, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, এনজিও প্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ।

পেট্রল পাম্প কর্মীদের সাথে অভিনেত্রীর তর্কাতর্কি, মারধর

ছবি : সংগৃহীত   বিনোদন ডেস্ক

গাড়িতে অতিরিক্ত তেল ভরা নিয়ে শুরু হয় তর্কাতর্কি। এর জেরেই টেলি অভিনেত্রী জুহি সেনগুপ্তকে হেনস্থা করা হয়। এসময় তার বাবাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। রবিবার সকালে বাইপাস লাগোয়া রুবি মোড়ের কাছে একটি পেট্রল পাম্পে ঘটে এ ঘটনা। পরে ওই অভিনেত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে দুই পেট্রল পাম্প কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।

ভারতীয় গণমাধ্যম জিনিউজের খবরে বলা হয়েছে, রবিবার সকালে দেউলটি যাচ্ছিলেন অভিনেত্রী জুহি সেনগুপ্ত ও তার পরিবার। তিনি রুবি মোড়ের কাছে একটি পেট্রল পাম্পে গিয়ে দেড় হাজার টাকার তেল ভরে দিতে বলেন। তার অভিযোগ, পেট্রল পাম্পের কর্মীরা তার গাড়িতে দেড় হাজার টাকার বদলে আড়াই হাজার টাকার তেল ভরে দেন।

এত টাকার তেল কেন ভরা হলো তা জানতে চাওয়া হলে অভিনেত্রীর পরিবারের সঙ্গে তর্কাতর্কি শুরু করেন পেট্রল পাম্প কর্মীরা। গাড়ি থেকে চাবি খুলে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। চাবি চাইতে গেলে অভিনেত্রীর বাবাকেও ধাক্কা দেয়া হয় এবং তাকে হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ জুহির। পরে গোটা ঘটনায় পাম্প কর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন অভিনেত্রী।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, জুহি সেনগুপ্ত পাল্টা পাম্প কর্মীদের উপর চড়াও হন এবং তাদের গায়ে হাত তোলেন। ঘটনায় পাম্প মালিক মন্টু বালার পাল্টা অভিযোগ, বিষয়টা ভুলবশতই হয়েছে। তার অভিযোগ, অভিনেত্রী অতিরিক্ত টাকা না দিয়েই সেখান থেকে চলে যেতে চাইছিলেন। সেকারণেই তার গাড়ির চাবি খুলে নেন পাম্প কর্মীরা।

এই ঘটনায় ধাক্কাধাক্কির কথা স্বীকার করে নিয়েছেন পাম্প মালিক। তবে অভিনেত্রী জুহিই তাদের কর্মীদের গায়ে প্রথম হাত তোলেন বলে অভিযোগ তার।

এদিকে গোটা ঘটনায় অভিনেত্রী জুহি সেনগুপ্তের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। সেইসঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ

Design a site like this with WordPress.com
Get started