মনিপুরের স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া সেই দুই নেতার বিরুদ্ধে মামলা

যুক্তরাজ্যে মনিপুরের স্বাধীনতা ও প্রবাসী সরকার গঠনের ঘোষণা দেওয়া দুই রাজনীতিকের বিরুদ্ধে ভারতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) একটি তদন্তের জন্যও রাজ্য সরকার অনুরোধ জানিয়েছে কেন্দ্রকে। মঙ্গলবার লন্ডনে নির্বাসিত দুই মনিপুরি নেতা ইয়ামবিন বিরেন ও নরেংবাম সমরজিত রাজ্যটির স্বাধীনতা ও প্রবাসী সরকার ঘোষণা করেন।

লন্ডনের প্রবাসী সরকারের নাম দেওয়া হয়েছে মনিপুর স্টেট কাউন্সিল। কাউন্সিলের মুখ্যমন্ত্রী করা হয়েছে ইয়ামবিন বিরেন-কে। আর পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন নরেংবাম সমরজিত। তারা দুইজনই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। তারা দাবি করেন, মনিপুরের মহারাজা লিয়েশেম্বা সানাজায়োবার হয়ে তারা এই ঘোষণা দিয়েছেন।

দুই নেতার বিরুদ্ধে ‘রাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার’ অভিযোগে পুলিশের কাছে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মনিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন বিরেন সিং। তিনি আরও জানিয়েছেন, রাজ্যের অপরাধ শাখা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে। এছাড়া রাজ্য সরকার বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে ঘটনাটি জানিয়েছে এবং এনআইএ’র তদন্ত চেয়ে অনুরোধ করেছে।

এদিকে, মনিপুরের রাজা লেইশেম্বা সানাজাওবা তার পক্ষ থেকে প্রবাসী সরকার গঠনের ঘোষণায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, তার পক্ষ থেকে কাউকে কথা বলার দায়িত্ব তিনি দেননি। তিনি শুধু ব্রিটিশ শাসনামলের কিছু নথি সংগ্রহ করতে বলেছিলেন।

৩ নভেম্বর কমলগঞ্জে ইন্দো-বাংলা কালচারেল এক্সচেঞ্জ অনুষ্ঠান

রফিকুল ইসলাম জসিম

বাংলাদেশ পোরৈ অপোকপা মরুপ এর আয়োজনে ও ইপসা এর সহযোগিতায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় ইন্দো-বাংলা কালচারেল এক্সচেঞ্জ অনুষ্ঠান আগামী রবিবার ৩ নভেম্বর উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের হোমেরজান ইমা লইমরেন সিদাবী মন্দিরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে জওহরলাল নেহেরু মণিপুর ড্যান্স একাডেমি, ওয়ার্ল্ড থাং টা ফেডারেশন এবং লোক সংগীত শিল্পী দোনা নারেঙবাম ও লানসানা চানুসহ শিল্পীরা মণিপুরী সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করবেন।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বেগম নাজিয়া প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সিলেট বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক (উপ-সচিব) সন্দ্বীপ কুমার সিংহ, কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো: রফিকুর রহমান, কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশেকুল হক, ইন্টারন্যাশনাল পিস এণ্ড সোস্যাল এ্যাডভান্সমেন্ট, মণিপুর এর সভাপতি জয়চন্দ্র কনথৌজাম, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (শ্রীমঙ্গল সার্কেল) আশরাফুজ্জামান, সাধনা সংস্কৃতি কেন্দ্রের শিল্পনির্দেশক ও পরিচালক লুবনা মরিয়ম, কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আরিফুর রহমান, জওহরলাল নেহরু মণিপুর ড্যান্স একাডেমির পরিচালক এল উপেন্দ্র শর্মা এবং আদমপুরস্থ মণিপুরী কালচারাল কমপ্লেক্স এর আহবায়ক জয়ন্ত কুমার সিংহ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ পোরৈ অপোকপা মরুপ এর সভাপতি কংখাম নীলমণি সিংহ।

মণিপুরের জঙ্গি হামলার আশঙ্কা-সতর্কতা জারি! 

ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা তুলে নেওয়ার প্রায় তিন মাস পরে ওই রাজ্য এখন আর রাজ্য থাকল না।জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ নামে নতুন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে এর আলাদা পরিচিতি দাঁড়াল। গতকাল বুধবার সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুসারে, দুটি অঞ্চল হিসেবে সেখানে কেন্দ্রের আইন জারি হয়।

জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ নামে নতুন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে এর আলাদা পরিচিতি দাঁড়াল। গতকাল বুধবার সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুসারে, দুটি অঞ্চল হিসেবে সেখানে কেন্দ্রের আইন জারি হয়।

আজ বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে রুদ্ধদ্বার বৈঠক বহু প্রতীক্ষিত নাগা শান্তি চুক্তির চূড়ান্ত পর্বটি হওয়ার অপেক্ষা।

নয়াদিল্লিতে বেলা ১১টার পর থেকেই নাগা শান্তি চুক্তির চূড়ান্ত বৈঠক শুরু হচ্ছে বলেই জানা যায় গণমাধ্যমে।

এদিকে নাগা শান্তি চুক্তি ঘিরে উত্তর পূর্বাঞ্চলের নাগাল্যান্ড ও মণিপুরের পরিস্থিতি উত্তপ্ত। এই চুক্তির একটি ভাগে বৃহত্তর নাগালিম অর্থাৎ স্বশাসিত নাগা এলাকা গঠনের কথা বলা হয়েছে। আর সেটা করা হবে মণিপুরের কিছু অংশ কেটে নিয়ে। এই কারণে মণিপুরে ছড়িয়েছে ক্ষোভ।

ভারতের মণিপুর রাজ্যেকে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করলেন প্রদেশটির রাজনৈতিক নেতারা। একই সাথে তারা প্রবাসী সরকারও গঠন করেছেন। মণিপুর রাজ্য কাউন্সিলের মুখ্যমন্ত্রী ইয়ামবেন বীরেন এবং বিদেশ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী নরেংবাম সমরজিৎ এই ঘোষণা দেন।

২৯ অক্টোবর, মঙ্গলবার লন্ডনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে মনিপুর রাজ্যের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা আল-জাজিরা ও ভারতের গণমাধ্যম দি নিউজ এমন খবর প্রকাশ করেছে।

মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। আশঙ্কা, মায়ানমার সীমান্তের দিক থেকে হামলা চালাতে পারে এনএসসিএন খাপলাং শিবিরের জঙ্গিরা। সেনাবাহিনি, অসম রাইফেলসের জওয়ানরা রুট মার্চ শুরু করেছেন।

কোনওভাবেই মণিপুরের কোনও অংশ কাটা যাবে না বলে ইতিমধ্যেই রাজ্য জুড়ে আন্দোলনে নেমেছে বিভিন্ন সংগঠন। এর জেরে মণিপুরি ও নাগাদের মধ্যে জাতিগত সংঘাত তৈরির সম্ভাবনাও প্রবল। ফলে চূড়ান্ত সতর্কতা জারি। পাশাপাশি উত্তর পূর্বাঞ্চলের অন্যান্য রাজ্যগুলিতেও জারি হয়েছে বিশে, সতর্কতা।

Design a site like this with WordPress.com
Get started