” বামডো’র গঠনতন্ত্র সংশোধন ও সমাজ উন্নয়ন “

🖋… রফিকুল ইসলাম জসিম

বাংলাদেশের বসবাসরত মণিপুরি মুসলিম (পাঙাল) এর জনসংখ্যা অনুমানিক ১৫ হাজার। বিগত ২০০ বছর ধরে নিজস্ব সমৃদ্ধ সমাজ, সংস্কৃতি, ধর্ম-ভাষা ও নৃতাত্ত্বিক পরিচিতি নিয়ে এদেশের বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে বসবাস করে আসছে। তাদের শাসনতান্ত্রিক ইতিহাস, সামাজিক রীতিনীতি, ভৌগোলিক পরিবেশ, দৈহিক-মানসিক গঠন, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় জীবনযাত্রা বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি জনগোষ্ঠী থেকে স্বতন্ত্র, তাই এদেশে বাঙালি ও অন্যান্য পারিপার্শ্বিক জাতি গোষ্ঠীর সাথে সম্পর্ক বজায় রেখে ” ইমান- একতা – প্রগতি “কে মূলমন্ত্র রেখে ১৯৯৮ সালে ‘বাংলাদেশ মণিপুরি মুসলিম ডেভেলপমেন্ট অর্গানইজেশন’ (বামডো) প্রতিষ্ঠিত হয়। সমাজ কাঠামোর আমূল পরিবর্তনে সামাজিক সংগঠনের বিকল্প নেই। সুশিক্ষিত নবীন প্রজন্ম এবং আধুনিক সমাজ বিনির্মাণের স্বার্থে মণিপুরি মুসলমানদের উদ্যোগে গড়ে তোলা একটি প্রাচীন ও বৃহৎ সংগঠন বামডো।
একটি সংগঠনকে টিকে রাখার জন্য এর গঠনতন্ত্রের ভূমিকা অপরিহার্য। গঠনতন্ত্র ছাড়া সংগঠন অচল। তাহলে গঠনতন্ত্র কি? গঠনতন্ত্র হল সংগঠনের বিধিবদ্ধ নীতিমালা যা এর নিয়ন্ত্রণকারী কর্ত্পক্ষের অনুমোদিত। গঠনতন্ত্র সংশোধন ব্যতিরেকে এর কোন ধারা লংঘন, অপরাধ হিসেবে পরিগনিত। সব সংগঠনেরই গঠনতন্ত্র থাকতে হয়, আর রেজিস্টার সংগঠনের জন্য তা বাধ্যতামূলক।
(এক)
সংগঠন প্রতিষ্ঠার ২ যুগ পর এই প্রথম গঠনতন্ত্র সংশোধন নিয়ে আলোচনাই আসে। বিভিন্ন প্রয়োজনে, এবং গঠনতন্ত্রের ধারা অনুসরণে অবহেলার কারণে সামঞ্জস্যহীনতার সৃষ্টি হয়েছে। এই সামঞ্জস্যহীনতা দূরিভূত করার জন্য পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি সাব কমিটি গঠন করা হয়। উক্ত কমিটি সমাজের বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ ও বামডো’র অভিজ্ঞ সদস্যদের সাথে আলোচনা করে একটি সংশোধনী প্রস্তাব কার্যপরিচালনা পরিষদের নিকট উপস্থাপন করা হয়, যা কার্যপরিচালনা পরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত হয়ে গত ৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় উপস্থাপন করা হয়। তেতই গাঁও রসিদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন ভবনে সকাল ১০ ঘটিকা থেকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়৷ সভায় উপস্থিত সদস্যগন গঠনতন্ত্র সংশোধনে তাঁদের সুনির্দিষ্ট সুপারিশ ও বক্তব্য উপস্থাপন করেন। অবশেষে বিষয়টির উপর পরবর্তীতে আরো বিস্তারিত আলোচনার জন্য ঐ দিনকার মত সভা মুলতবী করা হয়। প্রস্তাবিত সংশোধনী সমুহ নিম্নরূপ:
ভূমিকা : বাংলা একাডেমির বানানরীতি অনুযায়ী মণিপুরী বানানের স্থানে মণিপুরি করার প্রস্তাব। মণিপুরি মুসলমানদের ইতিহাস অনুযায়ী ৪০০ বছরের স্থানে ২০০ বছর করার প্রস্তাব। ২০০ বছর ধরে মণিপুরি ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং বৃহত্তর জনগোষ্ঠী সাথে এ দেশের আবহাওয়া, পরিবেশ, ও কৃষ্টি সংস্কৃতি সম্পক্ত হয়ে আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী নাগরিক হিসাবে বসবাস করে আসছে৷ এছাড়াও পর্য্যবসিত বানান ঠিক করা৷
ধারা- ৬ : কার্যক্রম
ধারা – ৭ : সংস্থা লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য :
১৫ নং মণিপুরি মুসলমানদের ইতিহাস, ঐতিহ্য সংস্কৃতি সংরক্ষণ উন্নয়ন, কার্যক্রম সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়নের একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা৷ (সংযোজন)
ধারা -৮ : সদস্যপদ, ভর্তি ফি – পরিমান বৃদ্ধি করণ ও দাতা সদস্য : ৩০০০ ( সংযোজন)
ধারা: ৯ অধিকার, দায়িত্ব, ক্ষমতা। ৩. দাতা সদস্যগন সাধারণ সদস্যদের সমান অধিকার ভোগ করবেন৷ ( সংযোজন)
ধারা -১০ সদস্যপদ বাতিল : (সংযোজন)- পরলোক গমন করলে বা মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটলে বা আদালত কতৃক সাজাপ্রাপ্ত হলে।
ধারা : ১২ কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠন : সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নূন্যতম যোগ্যতা এইচ এসসি পাস – বয়স -৪৫,
কার্যনির্বাহী সদস্যগণ এসএসসি পাস – বয়স -৪০.
কার্যনির্বাহী পরিষদে এক বছর বৃদ্ধি করে ৩ বছর মেয়াদ করা৷ সমাজকল্যাণ পদে প্রচার ও সমাজকল্যাণ সংযোজন করা। উপদেষ্টা পরিষদে মেয়াদ ২ বছর বৃদ্ধি করে ৩ বছর বহাল করা৷ উপদেষ্টা পরিষদে সদস্যগন কার্যনির্বাহী পরিষদ কতৃক মনোনীত ।
ধারা -১৭ নির্বাচন কমিশন গঠন মেয়াদ ২১ দিন থেকে ২ মাস বৃদ্ধি করার প্রস্তাব।
(দুই)
বামডো কার্যনির্বাহী কমিটি ১৯ জানুয়ারি ২০১৮ সনে সাধারণ সদস্যগন ভোট প্রয়োগের মাধ্যমে বর্তমান কার্যকরী পরিষদ নির্বাচিত লাভ করেন ঐ বছর ২২ ফেব্রুয়ারী পূর্ববর্তী কমিটি নিকট হতে বামডোর নতুন কার্যনির্বাহী পরিষদ দায়িত্ব গ্রহন করেন।
গত ৮ অক্টোবর সভায় সুনির্দিষ্ট সুপারিশ ও বক্তব্য উপস্থাপন করেন, বামডো সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুল হক স্বপন। বামডো’র দায়িত্বগ্রহনের পর কার্যক্রম সমূহ তিনি তুলে ধরেন তা হলো-
<> মণিপুরি কালচারাল কমপেক্স কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক মো: রফিকুর রহমানকে প্রধান অতিথি করে নতুন কমিটি অভিষেক অনুষ্ঠান।
<> সমাজসেবা অধিদপ্তরের ২৪৬ জন শিক্ষার্থী আবেদন,
<> আকষ্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০০ টি পাঙাল পরিবার ৫০০/- করে সর্বমোট ৫০,০০০ /- আর্থিক সাহায্য প্রদান।
<>জেলা প্রশাসক কর্তৃক ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী শুমারী ” বিষয়ক সেমিনার অংশগ্রহন।
<> সাবেক বিচারপতি এসকে সিনহার ” এ ব্রোকেন ড্রিম গ্রন্থের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত।
<> কমলগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা অফিসে শুনানিতে অংশগ্রহন।
<> বীর মুক্তিযোদ্ধা উপাধ্যক্ষ ড. মো আব্দুস শহীদ স্যারের সাথে সাক্ষাৎ।
<> শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সেমিনারে অংশগ্রহন।
<> জি,কে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বামডোর আয়োজনে ভারতের মণিপুর থেকে আগত মণিপুরি মুসলিম প্রতিনিধি আগমন উপলক্ষে Assembly of Manipur Muslim.
<> কমলগঞ্জ উপজেলা মিলনায়তনে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগদান বামডো নেতৃত্ববৃন্দ।
<> উপজেলা প্রশাসক কর্তৃক নতুন ডিসি মহোদয়ের সাথে মতবিনিময় সভার অংশগ্রহন।
<> মেডিকেল কলেজে উপজাতি কোটায় অ উপজাতি শিক্ষার্থী ভর্তির প্রতিবাদ
<> উপজাতি সনদ প্রদান এবং বিভিন্ন জাতীয় দিবস পালন করা৷
® আর্থিক আবেদন সমূহ :
<> জেলা পরিষদ প্রধান নির্বাহী কর্মকতা বরাবর আইসিটি ট্রেনিং প্রতিষ্ঠার জন্য ৩ লক্ষ টাকার আবেদন অনুমোদন। সহযোগিতায় – স্থানীয় সরকার উপ সচিব মো: নুরুল ইসলাম, এডভোকেট এ এস এম আজাদুর রহমান এবং সুপারিশ করেছেন উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি জনাব এম মোসাদ্দেক মানিক।
<> উপজেলা পরিষদ বরাবরে ফার্নিচার ক্রয়ের জন্য ১ লক্ষ টাকার আবেদন। সহযোগিতা – মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বিলকিস বেগম।
<> উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে কার্যালয় মেরামত ও সংস্কারের জন্য ১ লক্ষ টাকার আবেদন সহযোগিতা – মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বিলকিস বেগম।
<> মসজিদ ভিত্তিক মক্তব শিক্ষা চালুকরণ, ইসলামিক লাইব্রেরি স্থাপনের আর্থিক বরাদ্দ।
(তিন)
একটি জাতির অস্তিত্ব ও স্বকীয়তা রক্ষার জন্যে সংগঠন ও সংঘবদ্ধতার বিকল্প নেই। একতা, সংঘবদ্ধতা, ত্যাগ ও সংগ্রাম-সাধনার মাধ্যমেই কোনো জাতি হতে পারে বিজয়ী, গঠনতন্ত্র রক্ষার মধ্যেমে লাভ করতে পারে সম্মান, সাফল্য ও উন্নতি। যে কোন সংগঠনে মজবুতকরণে গঠনতন্ত্র শাসিত করার বিকল্প নেই। বাস্তব অবস্থার বাস্তব বিশ্লেষনে প্রয়োজনে গঠনতন্ত্র সংশোধন, পরিমার্জন, সংযোজন বিয়োজনও দরকার।গঠনতন্ত্রের কঠোর অনুশীলনই হতে পারে সামাজিক সংগঠন গুলোকে সুস্থ ধারায় ফিরিয়ে নিতে। সুতরাং গঠনতন্ত্রকে মূল ধরে আমাদের সমাজকে এগিয়ে নিতে হবে। এমনটি হলেই সুস্থধারার রাজনীতি এগুবে আর অসুস্থ ধারাটি পিছাবে।
‘বামডো ‘র গঠনতন্ত্র পরিমার্জন, সংশোধন সম্পর্কে কিছু করণীয় আছে কিনা, তা নিয়ে ক্রিয়াশীল সমাজের নেতৃত্ববৃন্দ সাথে গত ৮ অক্টোবর মতবিনিময় সভা ছিলো। এ বিষয়ে সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে সাধারণ সদস্যদের আলোচনা করা দরকার পড়েছে । বিদ্যমান গঠনতন্ত্রের কোথায় কোথায় সংশোধন করা দরকার, সে বিষয়ে পরবর্তী আলোচনা সভা করার সিদান্ত নেওয়া হয়৷ সভায় সমাজের জনসাধারণ সুনির্দিষ্ট মতামত দিবে । তবে, বামডো,র সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুল হক স্বপন বলেন, , ‘সবার বক্তব্য পর্যালোচনা করে বামডো গঠনতন্ত্র সংশোধন ও যুগোপযোগী করতে আগামী ২৩ অক্টোবর বুধবার আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ আলোচনা সভার উদ্দেশ্য হবে গঠনতন্ত্র সংশোধন মণিপুরি মুসলিম সমাজের সকলের মতামত গ্রহণ করবেন ।
বিদ্যমান গঠনতন্ত্রটি যা ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বামডো সংশোধন সেটি এর আগে আর সংশোধন করার প্রয়োজন হয়নি। এই প্রথম গঠনতন্ত্র সংশোধন, সময়ের পরির্বতনে গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করা জরুরি। গঠনতন্ত্রের মাধ্যমে সমাজ চিন্তা প্রত্যাশা রাখে যে, সে এর মাধ্যমে তার কাঙ্ক্ষিত কাজ এগিয়ে নেওয়ার মতো বোঝাপড়া এবং নতুন ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্করীতি গড়ে তোলার পথে এগিয়ে যেতে পারবে এবং পর্যায়ক্রমে কাজ ও অভিজ্ঞতার সারাংশার বুঝে খুব শীঘ্রই নতুন সমাজের স্বপ্ন বাস্তবায়নের উপযোগী বামডো সংগঠনের গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করতে সক্ষম হবে। মণিপুরি সমাজ দ্রুত গতিতে উন্নয়ন প্রতিফলন সম্ভব হবে।
লেখকঃ সাংবাদিক ও প্রবন্ধকার।

” বামডো’র গঠনতন্ত্র সংশোধন ও সমাজ উন্নয়ন “

🖋… রফিকুল ইসলাম জসিম

বাংলাদেশের বসবাসরত মণিপুরি মুসলিম (পাঙাল) এর জনসংখ্যা অনুমানিক ১৫ হাজার। বিগত ২০০ বছর ধরে নিজস্ব সমৃদ্ধ সমাজ, সংস্কৃতি, ধর্ম-ভাষা ও নৃতাত্ত্বিক পরিচিতি নিয়ে এদেশের বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে বসবাস করে আসছে। তাদের শাসনতান্ত্রিক ইতিহাস, সামাজিক রীতিনীতি, ভৌগোলিক পরিবেশ, দৈহিক-মানসিক গঠন, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় জীবনযাত্রা বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি জনগোষ্ঠী থেকে স্বতন্ত্র, তাই এদেশে বাঙালি ও অন্যান্য পারিপার্শ্বিক জাতি গোষ্ঠীর সাথে সম্পর্ক বজায় রেখে ” ইমান- একতা – প্রগতি “কে মূলমন্ত্র রেখে ১৯৯৮ সালে ‘বাংলাদেশ মণিপুরি মুসলিম ডেভেলপমেন্ট অর্গানইজেশন’ (বামডো) প্রতিষ্ঠিত হয়। সমাজ কাঠামোর আমূল পরিবর্তনে সামাজিক সংগঠনের বিকল্প নেই। সুশিক্ষিত নবীন প্রজন্ম এবং আধুনিক সমাজ বিনির্মাণের স্বার্থে মণিপুরি মুসলমানদের উদ্যোগে গড়ে তোলা একটি প্রাচীন ও বৃহৎ সংগঠন বামডো।
একটি সংগঠনকে টিকে রাখার জন্য এর গঠনতন্ত্রের ভূমিকা অপরিহার্য। গঠনতন্ত্র ছাড়া সংগঠন অচল। তাহলে গঠনতন্ত্র কি? গঠনতন্ত্র হল সংগঠনের বিধিবদ্ধ নীতিমালা যা এর নিয়ন্ত্রণকারী কর্ত্পক্ষের অনুমোদিত। গঠনতন্ত্র সংশোধন ব্যতিরেকে এর কোন ধারা লংঘন, অপরাধ হিসেবে পরিগনিত। সব সংগঠনেরই গঠনতন্ত্র থাকতে হয়, আর রেজিস্টার সংগঠনের জন্য তা বাধ্যতামূলক।

(এক)

সংগঠন প্রতিষ্ঠার ২ যুগ পর এই প্রথম গঠনতন্ত্র সংশোধন নিয়ে আলোচনাই আসে। বিভিন্ন প্রয়োজনে, এবং গঠনতন্ত্রের ধারা অনুসরণে অবহেলার কারণে সামঞ্জস্যহীনতার সৃষ্টি হয়েছে। এই সামঞ্জস্যহীনতা দূরিভূত করার জন্য পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি সাব কমিটি গঠন করা হয়। উক্ত কমিটি সমাজের বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ ও বামডো’র অভিজ্ঞ সদস্যদের সাথে আলোচনা করে একটি সংশোধনী প্রস্তাব কার্যপরিচালনা পরিষদের নিকট উপস্থাপন করা হয়, যা কার্যপরিচালনা পরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত হয়ে গত ৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় উপস্থাপন করা হয়। তেতই গাঁও রসিদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন ভবনে সকাল ১০ ঘটিকা থেকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়৷ সভায় উপস্থিত সদস্যগন গঠনতন্ত্র সংশোধনে তাঁদের সুনির্দিষ্ট সুপারিশ ও বক্তব্য উপস্থাপন করেন। অবশেষে বিষয়টির উপর পরবর্তীতে আরো বিস্তারিত আলোচনার জন্য ঐ দিনকার মত সভা মুলতবী করা হয়। প্রস্তাবিত সংশোধনী সমুহ নিম্নরূপ:
ভূমিকা : বাংলা একাডেমির বানানরীতি অনুযায়ী মণিপুরী বানানের স্থানে মণিপুরি করার প্রস্তাব। মণিপুরি মুসলমানদের ইতিহাস অনুযায়ী ৪০০ বছরের স্থানে ২০০ বছর করার প্রস্তাব। ২০০ বছর ধরে মণিপুরি ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং বৃহত্তর জনগোষ্ঠী সাথে এ দেশের আবহাওয়া, পরিবেশ, ও কৃষ্টি সংস্কৃতি সম্পক্ত হয়ে আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী নাগরিক হিসাবে বসবাস করে আসছে৷ এছাড়াও পর্য্যবসিত বানান ঠিক করা৷
ধারা- ৬ : কার্যক্রম
ধারা – ৭ : সংস্থা লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য :
১৫ নং মণিপুরি মুসলমানদের ইতিহাস, ঐতিহ্য সংস্কৃতি সংরক্ষণ উন্নয়ন, কার্যক্রম সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়নের একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা৷ (সংযোজন)
ধারা -৮ : সদস্যপদ, ভর্তি ফি – পরিমান বৃদ্ধি করণ ও দাতা সদস্য : ৩০০০ ( সংযোজন)
ধারা: ৯ অধিকার, দায়িত্ব, ক্ষমতা। ৩. দাতা সদস্যগন সাধারণ সদস্যদের সমান অধিকার ভোগ করবেন৷ ( সংযোজন)
ধারা -১০ সদস্যপদ বাতিল : (সংযোজন)- পরলোক গমন করলে বা মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটলে বা আদালত কতৃক সাজাপ্রাপ্ত হলে।
ধারা : ১২ কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠন : সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নূন্যতম যোগ্যতা এইচ এসসি পাস – বয়স -৪৫,
কার্যনির্বাহী সদস্যগণ এসএসসি পাস – বয়স -৪০.
কার্যনির্বাহী পরিষদে এক বছর বৃদ্ধি করে ৩ বছর মেয়াদ করা৷ সমাজকল্যাণ পদে প্রচার ও সমাজকল্যাণ সংযোজন করা। উপদেষ্টা পরিষদে মেয়াদ ২ বছর বৃদ্ধি করে ৩ বছর বহাল করা৷ উপদেষ্টা পরিষদে সদস্যগন কার্যনির্বাহী পরিষদ কতৃক মনোনীত ।
ধারা -১৭ নির্বাচন কমিশন গঠন মেয়াদ ২১ দিন থেকে ২ মাস বৃদ্ধি করার প্রস্তাব।
(দুই)
বামডো কার্যনির্বাহী কমিটি ১৯ জানুয়ারি ২০১৮ সনে সাধারণ সদস্যগন ভোট প্রয়োগের মাধ্যমে বর্তমান কার্যকরী পরিষদ নির্বাচিত লাভ করেন ঐ বছর ২২ ফেব্রুয়ারী পূর্ববর্তী কমিটি নিকট হতে বামডোর নতুন কার্যনির্বাহী পরিষদ দায়িত্ব গ্রহন করেন।
গত ৮ অক্টোবর সভায় সুনির্দিষ্ট সুপারিশ ও বক্তব্য উপস্থাপন করেন, বামডো সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুল হক স্বপন। বামডো’র দায়িত্বগ্রহনের পর কার্যক্রম সমূহ তিনি তুলে ধরেন তা হলো-
<> মণিপুরি কালচারাল কমপেক্স কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক মো: রফিকুর রহমানকে প্রধান অতিথি করে নতুন কমিটি অভিষেক অনুষ্ঠান।
<> সমাজসেবা অধিদপ্তরের ২৪৬ জন শিক্ষার্থী আবেদন,
<> আকষ্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০০ টি পাঙাল পরিবার ৫০০/- করে সর্বমোট ৫০,০০০ /- আর্থিক সাহায্য প্রদান।
<>জেলা প্রশাসক কর্তৃক ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী শুমারী ” বিষয়ক সেমিনার অংশগ্রহন।
<> সাবেক বিচারপতি এসকে সিনহার ” এ ব্রোকেন ড্রিম গ্রন্থের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত।
<> কমলগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা অফিসে শুনানিতে অংশগ্রহন।
<> বীর মুক্তিযোদ্ধা উপাধ্যক্ষ ড. মো আব্দুস শহীদ স্যারের সাথে সাক্ষাৎ।
<> শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সেমিনারে অংশগ্রহন।
<> জি,কে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বামডোর আয়োজনে ভারতের মণিপুর থেকে আগত মণিপুরি মুসলিম প্রতিনিধি আগমন উপলক্ষে Assembly of Manipur Muslim.
<> কমলগঞ্জ উপজেলা মিলনায়তনে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগদান বামডো নেতৃত্ববৃন্দ।
<> উপজেলা প্রশাসক কর্তৃক নতুন ডিসি মহোদয়ের সাথে মতবিনিময় সভার অংশগ্রহন।
<> মেডিকেল কলেজে উপজাতি কোটায় অ উপজাতি শিক্ষার্থী ভর্তির প্রতিবাদ
<> উপজাতি সনদ প্রদান এবং বিভিন্ন জাতীয় দিবস পালন করা৷
® আর্থিক আবেদন সমূহ :
<> জেলা পরিষদ প্রধান নির্বাহী কর্মকতা বরাবর আইসিটি ট্রেনিং প্রতিষ্ঠার জন্য ৩ লক্ষ টাকার আবেদন অনুমোদন। সহযোগিতায় – স্থানীয় সরকার উপ সচিব মো: নুরুল ইসলাম, এডভোকেট এ এস এম আজাদুর রহমান এবং সুপারিশ করেছেন উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি জনাব এম মোসাদ্দেক মানিক।
<> উপজেলা পরিষদ বরাবরে ফার্নিচার ক্রয়ের জন্য ১ লক্ষ টাকার আবেদন। সহযোগিতা – মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বিলকিস বেগম।
<> উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে কার্যালয় মেরামত ও সংস্কারের জন্য ১ লক্ষ টাকার আবেদন সহযোগিতা – মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বিলকিস বেগম।
<> মসজিদ ভিত্তিক মক্তব শিক্ষা চালুকরণ, ইসলামিক লাইব্রেরি স্থাপনের আর্থিক বরাদ্দ।
(তিন)
একটি জাতির অস্তিত্ব ও স্বকীয়তা রক্ষার জন্যে সংগঠন ও সংঘবদ্ধতার বিকল্প নেই। একতা, সংঘবদ্ধতা, ত্যাগ ও সংগ্রাম-সাধনার মাধ্যমেই কোনো জাতি হতে পারে বিজয়ী, গঠনতন্ত্র রক্ষার মধ্যেমে লাভ করতে পারে সম্মান, সাফল্য ও উন্নতি। যে কোন সংগঠনে মজবুতকরণে গঠনতন্ত্র শাসিত করার বিকল্প নেই। বাস্তব অবস্থার বাস্তব বিশ্লেষনে প্রয়োজনে গঠনতন্ত্র সংশোধন, পরিমার্জন, সংযোজন বিয়োজনও দরকার।গঠনতন্ত্রের কঠোর অনুশীলনই হতে পারে সামাজিক সংগঠন গুলোকে সুস্থ ধারায় ফিরিয়ে নিতে। সুতরাং গঠনতন্ত্রকে মূল ধরে আমাদের সমাজকে এগিয়ে নিতে হবে। এমনটি হলেই সুস্থধারার রাজনীতি এগুবে আর অসুস্থ ধারাটি পিছাবে।
‘বামডো ‘র গঠনতন্ত্র পরিমার্জন, সংশোধন সম্পর্কে কিছু করণীয় আছে কিনা, তা নিয়ে ক্রিয়াশীল সমাজের নেতৃত্ববৃন্দ সাথে গত ৮ অক্টোবর মতবিনিময় সভা ছিলো। এ বিষয়ে সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে সাধারণ সদস্যদের আলোচনা করা দরকার পড়েছে । বিদ্যমান গঠনতন্ত্রের কোথায় কোথায় সংশোধন করা দরকার, সে বিষয়ে পরবর্তী আলোচনা সভা করার সিদান্ত নেওয়া হয়৷ সভায় সমাজের জনসাধারণ সুনির্দিষ্ট মতামত দিবে । তবে, বামডো,র সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুল হক স্বপন বলেন, , ‘সবার বক্তব্য পর্যালোচনা করে বামডো গঠনতন্ত্র সংশোধন ও যুগোপযোগী করতে আগামী ২৩ অক্টোবর বুধবার আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ আলোচনা সভার উদ্দেশ্য হবে গঠনতন্ত্র সংশোধন মণিপুরি মুসলিম সমাজের সকলের মতামত গ্রহণ করবেন ।
বিদ্যমান গঠনতন্ত্রটি যা ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বামডো সংশোধন সেটি এর আগে আর সংশোধন করার প্রয়োজন হয়নি। এই প্রথম গঠনতন্ত্র সংশোধন, সময়ের পরির্বতনে গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করা জরুরি। গঠনতন্ত্রের মাধ্যমে সমাজ চিন্তা প্রত্যাশা রাখে যে, সে এর মাধ্যমে তার কাঙ্ক্ষিত কাজ এগিয়ে নেওয়ার মতো বোঝাপড়া এবং নতুন ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্করীতি গড়ে তোলার পথে এগিয়ে যেতে পারবে এবং পর্যায়ক্রমে কাজ ও অভিজ্ঞতার সারাংশার বুঝে খুব শীঘ্রই নতুন সমাজের স্বপ্ন বাস্তবায়নের উপযোগী বামডো সংগঠনের গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করতে সক্ষম হবে। মণিপুরি সমাজ দ্রুত গতিতে উন্নয়ন প্রতিফলন সম্ভব হবে।
লেখকঃ সাংবাদিক ও প্রবন্ধকার।

৮ দিন পর কোরআন সঙ্গে নিয়ে যাওয়া সেই মহাকাশচারী ফিরলেন

কোরআন সঙ্গে নিয়ে মহাকাশ সফরে গিয়েছিলেন হাজ্জাজ আল মানসুরি। ইতিহাসে নাম লেখিয়েছেন এই আরব্য যুবক।

প্রথম আরবীয় হয়ে মহাকাশ ভ্রমণে গেলেন হাজ্জাজ।

অবশেষে আটদিনের মহাকাশ সফর শেষে পৃথিবীতে পা রাখলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রথম মহাকাশচারী হাজ্জাজ-আল মানসুরি। খবর গালফ নিউজের।

শনিবার তাকে আমিরাতের রাজধানী আবু ধাবিতে লাল গালিচা সংবর্ধনা দিয়ে স্বাগত জানান আবু ধাবির ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান।

দেশের প্রথম নভোচারীকে এক পলক দেখতে সেদিন বিমানবন্দরে ভিড় জমায় অসংখ্য মানুষ।

লালগালিচার দু’পাশে লাইন ধরে নারী, পুরুষ, শিশুরা হাজ্জাজ আল মানসুরিকে স্বাগত জানায়।

শুধু তাই নয় ফুলের পালক ছিড়ে হাজ্জাজের ওপর বর্ষণ করে শিশুর। অনেক শিশু ফুলের তোড়া নিয়ে মানসুরির কাছে দৌঁড়ে গিয়ে তাকে জড়িয়েও ধরেন। এসময় হাজ্জাজের সম্মানে কিছু মানুষকে দেশটির ঐতিহ্যবাহী ইয়োলা নাচ প্রদর্শন করেন।

এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রভাবশালী দৈনিক গালফ নিউজ জানিয়েছিল, দেশটির জাতীয় পতাকার সঙ্গে মহাকাশে পবিত্র কোরআনের একখণ্ড পাণ্ডুলিপি নিয়ে গেছেন আল মানসুরি।

সে সময় আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মহাকাশ সফরে ১০ কেজি পণ্য বহন করতে পারবেন হাজ্জাজ আল মানসুরি। সে হিসাবে কোরআনের একখণ্ড পাণ্ডুলিপি, পারিবারিক ছবি, খাঁটি সিল্কে বোনা আরব আমিরাতের পতাকা, ‘কিসাতি’ (আমার গল্প) নামক একটি গ্রন্থ, শায়খ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহায়ানের ছবি এবং ‘আল গাফ’ গাছের ৩০টি বীজ মহাকাশে নিয়ে যাচ্ছেন এই আরবীয় নভোচারী।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘মোহাম্মদ বিন রশিদ স্পেস সেন্টারের’ সহকারী মহাপরিচালক সালেম আল মেরি বলেন, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রথম মহাকাশ নভোচারী হলেন হাজা আল মানসুরি। এটিই প্রথম আমাদের মহাকাশ কর্মসূচি। আমরা সফল হয়েছি। মহাকাশ ভ্রমণে সংযুক্ত আরব আমিরাত ১৯তম দেশ হিসেবে এখন গর্ব বোধ করতেই পারে।’

নাসার একটি সূত্র জানিয়েছে, ২০২১ সালের মধ্যে মঙ্গলগ্রহে মনুষ্যবিহীন যান পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে আরব আমিরাতের।

Design a site like this with WordPress.com
Get started