বোবা কষ্ট

লেখিকা: আফরোজা আলতাফ বৃষ্টি

লেখিকা : আফরোজা আলতাফ বৃষ্টি

তুমি কীসের লাগি পড়ে আছো এই সংসারে,
তোমার চিত্ত কী শান্ত হবে পাইলে তারে?
তুমি কী মায়ায় জড়িয়ে ফেলেছো তোমায়?
তবে তোমার চাওয়ার নাম দিবো কী হায় ।

বলোনা প্রিয়সী তুমি প্রেমরাজ্যে প্রেম খুঁজে বেড়াও?
নাকি কল্পনার গভীরে হারিয়ে তুমি যাও ?
রাতের আকাশে খসে যাওয়া তারা’র অপেক্ষায় থাকো,
তাহলে কী চাঁদের জ্যোৎস্নায় নিজেকে আড়াল করে রাখো ?

যদি তুমি আকাশ সীমারঙ্গনে নিজেকে তুলে না ই ধরো,
তবে অন্যের ব্যথায় ব্যথিত হয়ে কান্না কেন করো ?
আমার বড় সাধ জাগে তোমার নিরবতার কারণ খুঁজবো,
একটু হলেও তো তোমার নিস্তব্ধতা বুঝতে পারবো ।

আমি তো বলেই যাচ্ছি সেই কখন থেকেই,
প্রিয়সী তুমি এখনও কী চুপ করে থাকবেই ।
হ্যা জানি,
তোমার মুখে কখনও আর আমার নাম উচ্চারিত হবে না,
কিন্তু তোমার ঐ নিষ্পাপ দু’টি চোখের ভাষা হারিয়ে যাবে না ।

ঐ দুটি নয়নে আজ না পাওয়া কষ্টের বইছে নোনা জল,
নিজেকে কখনো ভেবো না তুমি নিরীহ দূর্বল৷
প্রিয়সী তোমায় আর আমি করবো না জোর,
শুধু তুমি কোনদিনও করে দিয়ো না আমায় পর।

শাকিবকে নিয়ে বুবলি

শাকিব খানের নায়িকা হয়েই রূপালি পর্দায় প্রথম অভিষেক। বসগিরি ছবি দিয়েই এ জুটির সূচনা। ইতোমধ্যে তাদের পাঁচটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। এবার ঈদে মুক্তি পাচ্ছে এ জুটির ‘ক্যাপ্টেন খান’। প্রায় তিনবছর একসঙ্গে শাকিব খানের নায়িকা হয়ে অভিনয় করছেন শবনম বুবলি। শাকিব খানের কাছেই অভিনয়ের অনেককিছু শিখেছেন।শাকিব খানের সবকিছু ভালোলাগা-মন্দলাগা প্রিয় খাবার চেনা-অচেনা অনেক কিছু ভাগাভাগি করলেন অনলাইন মণিপুরি মুসলিম বিডি সঙ্গে।

অনলাইন: শাকিব খানের সঙ্গে বসগিরি দিয়ে জুটি হয়ে অভিনয় করছেন। একসঙ্গে পাঁচটি ছবি করা হয়ে গেছে । একসঙ্গের এযাত্রায় কতটা চেনা হলো?

শবনম বুবলি : একসঙ্গে আমাদের তিন বছরের যাত্রা। আমার বারবার মনে হয়েছে খুব উঁচুমানের অভিনেতা শাকিব খান। নিঃসন্দেহে ভালোমানের সহশিল্পী, একজন সুপারস্টার। গর্ব করে বলতে পারি, আমাদের দেশে এমন একজন সুপারস্টার আছেন। রাজ্জাক আংকেল, সালমান শাহ আমাদের চলচ্চিত্রের সুপারস্টার। শাকিব খান তেমনই একজন সুপারস্টার। এটা অনেক ভালোলাগার। অন্য দেশে তিনি আমাদের দেশকে প্রতিনিধিত্ব করেন। সেটা অনেক ভালোলাগে।

অনলাইন: প্রথম থেকে এখন পর্যন্ত শাকিব খানের কাছে কী কী শিখলেন?

বুবলি : বসগিরি থেকে এখন ক্যাপ্টেন খান পর্যন্ত অনেক কিছু শিখেছি। এক কথায় বলব, শাকিব খান আমার অভিনয়ের গুরু। আমার অভিনয়ের হাতেখড়ি শাকিব খানের সঙ্গে অভিনয় করে। আমি যদি অভিনয়ের অভিভাবক বলি সেটা তিনি। উনি এমন একজন মানুষ, যদি ভালো করি তখন তাতে সাধুবাদ দেন। কোনো জায়গায় যদি আরো ভালো অভিনয় করার সুযোগ থাকে, সেটাও তিনি বলে দেন, আমাকে দেখিয়ে দেন। সংলাপ বলতে সমস্যা হলে তিনি দেখিয়ে দেন কীভাবে বলতে হবে। হাতেধরে সবকিছু শিখিয়ে দেন। আমার অভিনয়ের শিক্ষক তিনি। একজন এতবড় মাপের অভিনেতা আমাকে এভাবে শিখিয়ে দেন সেটা অনেক ভালোলাগার। কীভাবে একটা সিনেমা ভালো হয় এটা নিয়ে শাকিব খান চিন্তা করেন। আমি অনেক সৌভাগ্যবতী, অনেক কিছু তার কাছ থেকে জানতে পেরেছি।

অনলাইন: প্রথমদিন একসঙ্গে প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর পর কী বলেছিলেন?

বুবলি : প্রথমদিন আমাদের একটা থাপ্পড়ের শট ছিল। তাও আবার শাকিব খানের সঙ্গে। বুঝছেন আমার অবস্থা কী? একজন সুপারস্টারকে প্রথমদিনেই শূটিংয়েই একজন নবাগত নায়িকা চড় মারবে । এ বিষয়টা আমার জন্য অনেক ভয়ের ছিল। যখন শুনেছিলাম এত তারিখ থেকে শ্যুটিং, বিষয়টা নিয়ে আতঙ্কে ছিলাম। তিনি কী ভাববেন, চড়টা কীভাবে মারব সেসব নিয়ে। চড়টা যদি জোরে লাগে, শাকিব খান যদি বকা দেন। পরিচালককে বারবার বলছিলাম তিনি যদি মাইন্ড করেন। পরিচালক আমাকে বললেন, এটা তো অভিনয়, আপনি আপনার মতো করে চড়টা দেবেন। তারপর যখন শ্যুটিং শুরু হলো শাকিব খান বললেন, কোনো ব্যাপার না’, তুমি তোমার মতো অভিনয় করো। অভিনয়ে চড়-ঝগড়া অনেক কিছু আসবেই।’ অনেকখানি রিলাক্স করে দিয়েছিলেন। চড়ের শটটাও অনেক প্রশংসা করেছিলেন।

শবনম বুবলি

অনলাইন: পর্দায় প্রেমিক চরিত্রে কেমন শাকিব খান?

বুবলি : পর্দায় যখন অনস্ক্রিন আমরা রোম্যান্স করছি, তখন যে চরিত্রটা করি তখন সে ওই চরিত্রে চলে যায়। তখন আমার বা উনার চরিত্রের যা আসা দরকার সেটাই করি। তবে একটা বিষয় খেয়াল করেছি, ক্যামেরা চালু হয়ে গেলে শাকিব খান চরিত্রে ঢুকে যান। তখন সেই চরিত্রটা হয়ে যান। আমাদের অনেক রোম্যান্টিক গান আছে। গানে তাকে অনেক রোম্যান্টিক ভাবে দেখা যায়।

অনলাইন: শ্যুটিং, সিনেমার চরিত্রের বাইরে ব্যক্তি শাকিব খানকে কেমন মনে হয়?

বুবলি : শ্যুটিংয়ের বাইরে ব্যক্তি শাকিব খানকে আমি অনেক শ্রদ্ধা করি। গুণিজনরা বলেন, ভালো মানুষ না হলে ভালোশিল্পী হওয়া যায় না। উনি যেহেতু বড় মাপের একজন অভিনেতা, নিঃসন্দেহে একজন ভালো মানুষ। আমি নিজেও কম কথা বলি, শাকিব খানও কম কথা বলেন। তাই শ্যুটিংয়ের ফাঁকে খুব একটা আড্ডা হয় না। শ্যুটিংয়ে তার যখন শুট হচ্ছে, তখন হয়তো আমি আমার চরিত্র নিয়ে ভাবছি। তারপরও দুজন দুজনার মতো করে থাকছি। আমরা দুজনই যেহেতু স্বল্পভাষী, তাই খুব একটা আড্ডা হয় না। তবে সিনেমার চরিত্র, গেটআপ, মেকআপ নিয়ে প্রচুর কথা হয় আমাদের মধ্যে। কীভাবে শ্যুটিং করব সেটা নিয়ে কথা বলি।

অনলাইন: শাকিব খানের এখনকার ছবিতে ড্রেসের বিষয়ে সবকিছু নাকি দেখা শোনা করেন?

বুবলি: এটা আমাদের একসঙ্গে করা প্রথম সিনেমা বসগিরি থেকে শুরু হয়েছে। মজার একটা ঘটনা দিয়ে এটা শুরু হয়েছে। আমাদের ড্রেস যেহেতু একজন ড্রেস ডিজাইনার করে দেন, আমরা ড্রেস ডিজাইনারসহ ড্রেসের বিষয়ে কথা বলছিলাম। আমি কালারসহ সবকিছু বলছিলাম। বিষয়টা শাকিব খান খেয়াল করেছিলেন। তখন তিনি বললেন, বুবলি এটার সঙ্গে কোন রংয়ের পোষাকটা ভালো হবে?’ আমি বললাম, এটা তো আপনি ভালো জানেন।’ তখন তিনি বললেন, আমরা যেহেতু একসঙ্গে কাজ করছি, তাহলে আমরা আলোচনা করে বিষয়টা ঠিক করে নিতে পারি। তারপরই আমরা দুজনে আলোচনা করে বিষয়টা ঠিক করি। এ বিষয়ে আমাদের বোঝাপড়াটা অনেক চমৎকার। এটা ‘ক্যাপ্টেন খান’ পর্যন্ত ঠিক আছে।

শবনম বুবলি

অনলাইন: শাকিব খান কখনো কী বলেছে বুবলি তোমার চোখ সুন্দর কিংবা চুল সুন্দর অথবা হাঁটা সুন্দর?

বুবলি: এমনভাবে আলাদা করে কখনো বলেনি সেটা। তবে সিনেমার ক্ষেত্রে তিনি বলেন, নাচ, অ্যাকশনটা আমি ভালো করি, এসব বলেন। এসব বিষয়ে অনেক অনুপ্রেরণা দেন আমাকে। তবে বসগিরি ছবির ‘দিলদিল’ গানের সময় তিনি খুব অবাক হয়েছিলেন। গানটার জন্য একদিন আগে যখন কোরিওগ্রাফারের সঙ্গে বসেছিলাম। গানটার জন্য একটা দিন পেয়েছিলাম। আমার নাচ দেখে, স্টেপ দেখে খুব অবাক হয়েছিলেন। কারণ আগে কোনোদিন নাচ করিনি। অনেক প্রশংসা করেছিলেন আমার নাচের। বলেছিলেন, এতটা ভালো নাচ করবে ভাবতেই পারিনি।

অনলাইন: শাকিব খানের সঙ্গে আপনার প্রেম, বিয়ের একটা গুঞ্জন আছে। বিষয়টা নিয়ে কী বলবেন?

বুবলি: এখন আমার মনে হয় জুটি হিসেবে আসলে আমরা সার্থক। এখানেই আমার সার্থকতা। যেসব জুটি সফল হয়েছেন, তাদের নিয়ে এমন কথা শোনা গেছে। উত্তম কুমার-সুচিত্রা সেন, রাজ্জাক আঙ্কেলের সময় যাদের সঙ্গে জুটি হয়ে অভিনয় করেছেন এমন কথা শোনা গেছে। সালমান শাহ আর তার নায়িকাদের নিয়ে এমন প্রেমের কথা শোনা গেছে। একসঙ্গে অনেক ক’টা ছবি করছি বলেই হয়তো এমন কথা আসছে। আবার যখন অন্যদের নায়িকা হয়ে কাজ করব, তখন তাদের সঙ্গে আমার নাম জড়াবে। সময় আসলে বলে দেবে শাকিব খানের সঙ্গে একজন সহশিল্পী ছাড়া আমার কোনো প্রেমের সম্পর্ক নেই। পর্দার প্রেমের বিষয়টা কল্পনায় এনে অনেকেই হয়তো বিষয়টা নিয়ে এমনভাবে। একটা জুটি যখন টানা কাজ করে, তখন এমন কথা বলেই। তবে আমাদের বোঝাপড়া অনেক চমৎকার।

অনলাইন: শাকিব খান সবচেয়ে কী খেতে পছন্দ করেন? অনেক কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে তাই জানতে চাওয়া?

বুবলি: খাবার বিষয়ে অনেক সচেতন শাকিব খান। যতটুকু দেখেছি উনার বাসা থেকে বেশিরভাগ সময় খাবার আসে। সেটের খাবার খেলে সিদ্ধ করা খাবার পছন্দ করেন, সবজি খান।

শবনম বুবলি

অনলাইন: আপনি কখনো বাসা থেকে খাবার নিয়ে এসে শাকিব খানকে খাইয়েছেন?

বুবলি: এটা শুধু আমাকে না, শ্যুটিংয়ের অনেককে খাবার নিয়ে আসতে বলেন বাসা থেকে। উনার সহশিল্পী, পরিচালক, প্রযোজক সবাইকে বাসা থেকে খাবার রান্না করে আনতে বলেন। উনি খাবার অনেক পছন্দ করেন।

অনলাইন: শাকিব খানের প্রিয় কোন খাবার রান্না করে খাইয়েছেন?

বুবলি : শাকিব খানের জন্য বিরিয়ানি নিয়ে গেছি। পাশাপাশি উনি মাছ খেতে পছন্দ করেন। তার জন্য কয়েক ধরনের মাছ রান্না করে পাঠিয়েছি। গরুর মাংসও পছন্দ করেন। সবসময় তো আর সম্ভব হয়না। যখন সুযোগ হয়, তখন তার প্রিয় খাবার নিয়ে আসি। তবে তিনি খাবারের বিষয়ে অনেক বাছবিচার করেন।

অনলাইন: একজন সহশিল্পী হিসেবে কত নম্বর দেবেন শাকিব খানকে?

বুবলি : তাকে নাম্বার দেবার ক্ষমতা আমার নেই। এটা অনেক বড় দুঃসাহস হয়ে যাবে। এটা আমি করতেও চাই না।  

অনলাইন: শাকিব খানের কিছু ভালোগুণের কথা বলেন?

বুবলি : শাকিব খান ভীষণ দায়িত্ববান, ভীষণ ভালো অভিনয় করেন, অনেক নরম মনের একজন মানুষ। মনে হয় উনি অনেক রাগী কিন্তু আসলে তা না, অনেক নরম একজন মানুষ। অনেক পরিশ্রমী তিনি। অনেক পরিশ্রম করতে পারেন নিজের অভিনয়ের জন্য। সর্বশেষে বলব একজন ধর্মপরায়ণ মানুষ।

অনলাইন: শাকিব খান এখন অন্য কোনো নায়িকার সঙ্গে পর্দায় ঘনিষ্ঠ হলে রাগ হয়?

বুবলি: তিনি একজন নায়ক। অনেকের সঙ্গে তাকে অভিনয় করতে হয়। আমার তেমন কোনো রাগ হয়না। এটা তার পেশা। আমার রাগ-অভিমান করার প্রশ্নই ওঠে না।

অনলাইন: শাকিব খান কী আপনাকে অন্য কোন নামে ডাকে?

বুবলি: যখন যে চরিত্রে অভিনয় করি শূটিংয়ের সময় সে নামে ডাকে প্রয়োজনে। কিন্তু এর বাইরে অন্যনামে ডাকে না।

সেই রোহিঙ্গা খুশির ছাত্রত্ব সাময়িক স্থগিত করলো সিবিআইইউ

ইন্টারনেটে আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা জার্মানীর ডয়চে ভেলে কর্তৃক প্রচারিত দেড় মিনিটের একটি ভিডিওতে দেখা যায় রোহিঙ্গা তরুণী রহিমা আকতার ওরফে রাহী খুশির উখিয়ার কুতুপালং শরনার্থী শিবিরে একটি এনজিওর কর্মী হিসেবে তার স্বদেশী রোহিঙ্গাদের সাক্ষাতকার নিচ্ছেন।

ভিডিওটিতে উল্লেখ করা হয়, ১৯৯২ সালে রোহিঙ্গা তরুণী রহিমা আকতার ওরফে রাহী খুশির পরিবার একইভাবে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছিলো। সেখানে বলা হয়,রোহিঙ্গা শরনার্থীদের সন্তানরা বৈধভাবে বাংলাদেশের কোনো স্কুলে পড়তে পারে না। তাই রোহিঙ্গা পরিচয় লুকিয়ে এবং ঘুষ দিয়ে কক্সবাজারের একটি স্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন খুশি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রোহিঙ্গা পরিচয় লুকিয়ে এবং ঘুষ দিয়ে ভর্তি হওয়া সেই স্কুলটি হলো,কক্সবাজার শহরের বৈল্যাপাড়ার বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া একাডেমি।

জানা গেছে, খুশি কক্সবাজার বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া একাডেমি থেকে এসএসসি ও কক্সবাজার সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। বর্তমানে তিনি কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী। কক্সবাজারের ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে এলএলবি অনার্স পড়ছেন।

তবে বিভিন্ন পত্রিকা এবং সামাজিক মাধ্যমে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আইন অনুষদে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থী রহিমা আক্তার খুশির জাতীয়তা ও নাগরিকত্ব নিয়ে লেখালেখি শুরু হলে বিষয়টি নজরে এসেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের।

সেই প্রেক্ষিতে বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের এক জরুরি সভার সিদ্ধান্তক্রমে খুশির বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ যাচাইবাছাই করার জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়।

তদন্ত কার্যক্রম চলাকালীন রহিমা আক্তার খুশির ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে স্থগিত করার বিষয়ে একাডেমিক কাউন্সিলে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তদন্ত কমিটির রিপোর্টের আলোকে রহিমা আক্তার খুশির বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সালমানের সঙ্গে আমিও মরে গেছি: ডন

ঢাকাই চলচ্চিত্রের আকাশচুম্বী জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ। মাত্র চার বছরের অভিনয় ক্যারিয়ারে ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। এর মধ্যে ২৫টি সিনেমায় সালমানের সঙ্গে অভিনয় করেন খল অভিনেতা ডন। তাদের সঙ্গে ছিল বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। ক্যারিয়ারের তুঙ্গে থাকাকালীন ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় সালমান শাহর।

লাশ উদ্ধারের পর ধারণা করা হয়, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু পরিবারের দাবি, তাকে খুন করা হয়েছে। তার মৃত্যু রহস্যের জট দুই দশক পেরিয়ে গেলেও খোলেনি। অভিযোগের তীর ডনের দিকেও রয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে বিনোদন প্রতিবেদক মণিপুরি মুসলিম বিডি’র সঙ্গে কথা বলেছেন ডন। এ আলাপচারিতার বিশেষ অংশ তুলে ধরা হলো—

মণিপুরি মুসলিম বিডি: সালমান শাহর সঙ্গে আপনার পরিচয় কীভাবে?

ডন: সালমান শাহ তার অভিনয় জীবনে ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করেছে। এর মধ্যে ২৫টি সিনেমায় আমি কাজ করেছি। আমার সঙ্গে প্রথম পরিচয় ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে। এতে আমরা একসঙ্গে প্রথম কাজ করি। তখন দুজনের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সর্ম্পক গড়ে উঠে। এই আর কি!

মণিপুরি মুসলিম বিডি: প্রথম সিনেমার শুটিংয়ের কোনো অভিজ্ঞতা জানতে চাই।

ডন: আমরা প্রথম সিনেমার শুটিং করতে কক্সবাজার গিয়েছিলাম। এসময় আমি সালমান আর আমার বন্ধু মিঠু ছিল। তখন আমাদের কেউ চিনে না। মিঠু ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদিতে কমেডি করত। ওকে সবাই চিনত। শুটিংয়ের ফাঁকে আমরা সমুদ্র সৈকতে গিয়েছিলাম। যাওয়ার পর অনেক লোকজন মিঠুর সঙ্গে ছবি তুলতে শুরু করে। এ অবস্থায় আমরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যাই। আমি আর সালমান মনে মনে একটু কষ্ট পেলাম। কারণ আমাদের কেউ চিনে না অথচ মিঠুর জন্য এত লোকের ভিড়। রুমে আসার পর মিঠু বলল, ‘দোস্ত আজ আমার জন্য এত ভিড়! এক বছর পরে ঠিক তোদের জন্য এর থেকে বেশি মানুষের ভিড় হবে। সিনেমা মুক্তির পর তোদের জন্য মানুষ দৌড়া-দৌড়ি করবে।’ এক বছর পর আমরা যখন কক্সবাজার গেলাম তখন দুই মিনিটের মধ্যে পাবলিক দৌড়া-দৌড়ি করে আমাদের চারপাশে ভিড় জমিয়েছিল। সবাই ছবি তুলে, অটোগ্রাফ নেয়। এ রকম হাজার হাজার স্মৃতি রয়েছে।

মণিপুরি মুসলিম বিডি: আপনারা বন্ধু ছিলেন। শুটিং শেষে অবশ্যই আপনারা অবসর যাপন করতেন?

ডন: আমরা শুটিং শেষ করে অনেক সময় লং ড্রাইভে চলে যেতাম। সালমান ক্রিকেট খেলতে ভালোবাসত। আমরা আউটডোরে গেলে ক্রিকেট খেলতাম। সালমান খুব মিশুক ছিল। দর্শকদের ও চরম ভালোবাসত। সালমানের অধিকাংশ পোশাক আমি ডিজাইন করতাম।

মণিপুরি মুসলিম বিডি: সালমান শাহর মৃত্যুর পর অভিযোগের তীর আপনার দিকেও রয়েছে…

ডন: সালমানের আম্মা সালমানের কোনো বন্ধুকে দেখতে পারত না। এটা ওনার ব্যক্তিগত বিষয়। তিনি মনে করতেন, সালমানের বন্ধুরা সবাই সালমানের উপর বসে বসে খাচ্ছে। এ জন্যই আমাকে ফারুকসহ অন্যদের দেখতে পারতেন না সালমানের আম্মা। সামনে গেলে খুবই আদর করতেন। কাউকে বুঝতেই দিতেন না। তিনি খুব ভালো অভিনয় করেন। এখনো তিনি অভিনয় করেন। আমাদের মামলাটা এখন পিবিআইয়ের কাছে আছে। তারা দেখছেন। আমরা ক্রিমিনাল হলে এখনো ওপেন থাকতে পারতাম না। এখনো কাজ করতে পারতাম না। আর মিথ্যে কখনো গোপন থাকে না।

সালমান আমার কেমন বন্ধু ছিল তা চলচ্চিত্রের সবাই জানেন। ওর সঙ্গে আমার শেষ দেখা হয়েছিল ১ সেপ্টেম্বর। এর পরের দিন আমি বগুড়ায় চলে যাই। কারণ আমার ভাই বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছিলেন। অতএব আমাকে শুধু শুধু দোষারোপ করা হচ্ছে। তাছাড়া এসব বিষয়ে ৫০ বারের মতো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে জবানবন্দি দিয়েছি।

মণিপুরি মুসলিম বিডি: আপনার সঙ্গে একটি অন্তরঙ্গ ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। এই ছবির পেছনের গল্প কী?

ডন: সাবরিনা নামে একজন নায়িকা ছিল। ওর সঙ্গে সালমান দুষ্টামি করে ছবিটা তুলেছিল। একটা রেপ সিন ছিল ওটা। এটা তুলে সালমান আমাকে বলেছিল, ‘এই ছবি দিয়ে তোকে ব্ল্যাকমেইল করব।’ এই টাইপের মজা সালমান অনেক করেছে। তখন তো আমরা জানতাম না সালমান মারা যাবে। আজ এই ছবি আমার জন্য অপমানের কারণ হয়েছে!

মণিপুরি মুসলিম বিডি: চলচ্চিত্রে আপনাকে খুব বেশি দেখা যায় না কেন?

ডন: সালমানের মৃত্যুর পর আসলে আমি সেরকমভাবে কারো সঙ্গে মিলিয়ে কাজ করতে পারছিলাম না। তাই কম কাজ করছি। বলা যায়, সালমানের সঙ্গে আমিও মরে গেছি।

সংলাপের স্টাইলের জন্য সালমান অন্যদের চেয়ে আলাদা: শাবনাজ

Admission 2019-20
ksrm

ঢাকাই সিনেমার অমর নায়ক সালমান শাহের আজ ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। ৪ বছরে ২৭ টি সিনেমার ক্যারিয়ারে নব্বই দশকের নায়িকার শাবনাজ ৩টি সিনেমায় জুটি বেঁধে কাজ করেছেন সালমানের সঙ্গে। শাবনাজকে সালমান ভাবি বলে ডাকতেন। দেখেছেনও খুব কাছ থেকে। সেই অভিজ্ঞতার গল্প উত্তরার বাসায় বসে বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে শুনিয়েছেন শাবনাজ।

‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার শুটিং সেটে প্রথম সালমান শাহকে দেখেন শাবনাজ। তারপর কয়েকবার দেখা হয়েছে কিন্তু সেভাবে কথা হয়নি। তবে ‘আঞ্জুমান’ সিনেমায় জুটি বাঁধার পর সম্পর্ক গড়ে উঠে, নাঈমের বউ হিসাবে ভাবি বলে ডাকলেও আমাদের সম্পর্ক ছিল বন্ধুত্বের কারণ আমরা প্রায় একই বয়সের ছিলাম। সালমান শাহের সঙ্গে প্রথম দেখা হওয়ার গল্পে এমটাই বলছিলেন শাবনাজ।

শাবনাজ সালমান শাহকে অন্য নায়কের থেকে বিশেষ কারণে আলাদা মনে করেন তার সংলাপ বলার স্টাইলের জন্য। শাবনাজ বলেন, ‘সে সময় আমরা সবাই যাত্রার স্টাইলে সংলাপ বলতাম। কিন্তু সালমান কিন্তু সেটা করতো না, দেখবেন তার সংলাপ বলার একটা স্টাইল ছিল। হুমায়ুন ফরীদি ভাইও নিজের স্টাইলে বলতেন। অন্য সব জায়গায় সালমান আলাদা হলেও আমার এই বিশেষ জায়গায় সংলাপ বলার স্টাইলের জন্য সালমান অন্যদের চেয়ে আলাদা ছিল বলে মনে হয়।’

মৃত্যুর পরে নয় সে সময়ও সালমান শাহ তুমুল জনপ্রিয় ছিল জানিয়ে শাবনাজ বলেন, ‘সে সময় টিনএজদের কাছে সালমান ক্রেজ ছিলো। তখনকার জনপ্রিয় বোঝা যেত সিনেমা হলে, এখনকার মত টিভি, পত্রিকা বা ফেসবুকে না। সালমান মৃত্যুর পর জনপ্রিয়তা পেলে তার সব গুলো ছবি কিভাবে ব্যবসাসফল হয়েছে। যারা বলেন সালমান মৃত্যুর পর জনপ্রিয়তা পেয়েছেন সেটা ভুল। তবে সালমানের এই অকাল মৃত্যু তাকে চিরসবুজ করে রেখেছে। সেজন্য দর্শকরা এখনো সেই সালমানকে সেভাবে স্মরণে রাখেন।’

ধর্ষণের শিকার নারীর গর্ভের সন্তানের বিধান কী?

সমাজের সবচেয়ে নিকৃষ্ট অপরাধ ধর্ষণ। বর্তমান সময়ে গণমাধ্যমে যে দুর্ঘটনাগুলোর কথা বেশি শোনা যায় ধর্ষণ তার একটি। সামাজিক এ ব্যধিতে আজ দিশেহারা মানুষ। সঠিক বিচার-ব্যবস্থার অভাবেই দিন দিন এ অপরাধ প্রবণতা বেড়ে চলেছে।
নিরাপরাধ ধর্ষিতা যেমন অবস্থার শিকার। তেমনি ধর্ষণের ফলে যদি গর্ভে সন্তান চলে আসে তবে সে সন্তানের ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত নেবে ধর্ষণের শিকর নারী। গর্ভের সন্তান রাখবে নাকি অংকুরেই নষ্ট করে দেবে? এ ব্যাপারে রয়েছে ইসলামের কিছু দিক-নির্দেশনামূলক বর্ণনা-

ধর্ষণের ফলে যদি কোনো নারীর গর্ভে সন্তান চলে আসে। তবে দেখতে হবে গর্ভে সন্তান আসার পর কতদিন অতিবাহিত হয়েছে।
ধর্ষণের শিকার নারীর গর্ভের সন্তানের শরীরে যদি রূহ চলে আসে, তবে সে সন্তান নষ্ট করা যাবে না। নষ্ট করা বৈধ হবে না। গর্ভের সন্তানের শরীরে রূহ আসে চার মাস পর। অর্থাৎ ১২০ দিন পর। আর এ অবস্থায় গর্ভের সন্তান নষ্ট করা সর্বসম্মতিক্রমে হারাম। কোনো যুক্তিতেই ৪ মাসের বেশি বয়সের গর্ভের সন্তান নষ্ট করা যাবে না।

কিন্তু যে নারী ধর্ষণের ফলে গর্ভবতী হয়েছেন কিন্তু গর্ভের সন্তানের শরীরে রূহ আসেনি, সে সন্তান রাখা কিংবা নষ্ট করা নিয়ে ইসলামিক স্কলারদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

  • কেউ কেউ মনে করেন, গর্ভের সন্তানের শরীরে রূহ না আসলে তা নষ্ট করে ফেলা বৈধ।
  • আবার অনেকে মনে করেন, যে ধর্ষিতা নারীর গর্ভের সন্তানের শরীরে রূহ আসেনি, তা নষ্ট করা মাকরূহ।

একটি কথা মনে রাখতে হবে
কোনো ধর্ষিতা যদি কিশোরী হয় কিংবা এমন বয়সের হয় যে, পেটে সন্তান ধারণ করা কিংবা ভূমিষ্টের সময় জীবনাবসানের পর্যায়ে চলে যেতে পারে, সে অবস্থায় গর্ভের সন্তানের রূহ চলে আসলেও অর্থাৎ ৪ মাস হওয়ার পরও সে সন্তান নষ্ট করা যাবে।

বীর্জ থেকে গর্ভের সন্তানের শারীরিক আকৃতি ও রূহ আসা সম্পর্কে হাদিসের বর্ণনায় এসেছে-

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রা.)-এর বর্ণনায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয় তোমাদের প্রত্যেকের সৃষ্টির উপাদান নিজ নিজ মায়ের পেটে চল্লিশ দিন পর্যন্ত বীর্যরূপে অবস্থান করে, অতঃপর তা জমাট বাঁধা রক্তে পরিণত হয়। ঐভাবে চল্লিশ দিন অবস্থান করে। অতঃপর তা গোশতপিন্ডে পরিণত হয়ে (আগের মত চল্লিশ দিন) থাকে।

অতঃপর আল্লাহ একজন ফেরেশতা প্রেরণ করেন। আর তাঁকে চারটি বিষয়ে আদেশ দেয়া হয়। তাঁকে লিপিবদ্ধ করতে বলা হয়, তার আমল, তার রিয্ক, তার আয়ু এবং সে কি পাপী হবে না নেককার হবে। অতঃপর তার মধ্যে আত্মা ফুঁকে দেয়া হয়। (বুখারি)

এ হাদিস থেকে জানায় যে, ১২০ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর একজন ফেরেশতা মায়ের পেটের সন্তানের শরীরে রূহ ফুঁকে দেন।

সর্বোপরি কথা হলো
ধর্ষণের শিকার নারী যেহেতু নির্যাতিত; ধর্ষণের ফলে নারী সামাজিকভাবে হেয় কিংবা ছোট হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তাই সার্বিক বিচেনায় গর্ভের সন্তানের বয়স ৪ মাস কিংবা ১২০ দিন অতিক্রম না করলে তা নষ্ট করা যেতে পারে। আর যদি কেউ রেখে দিতে চায়, তাও পারবে।

যখনই গর্ভের সন্তানের বয়স ৪ মাস কিংবা ১২০ দিন অতিবাহিত হবে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির সমস্যা না থাকলে তখন আর কোনোভাবেই গর্ভের সন্তান নষ্ট করা যাবে না।

ধর্ষণের মতো সামাজিক ব্যধি থেকে নারীসমাজকে নিরাপদ ও মুক্ত রাখতে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয়ভাবে সর্বোচ্চ সচেতনতা ও সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা জরুরি। সব মহলের সচেতনা, সতর্কতা ও আইনের শাসনের বাস্তবায়নই ধর্ষণমুক্ত সমাজ উপহার দিতে পারে।

নিজেকে একজন অভিনেত্রী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই -মৌমিতা মৌ

চিত্রনায়িকা মৌমিতা মৌ অভিনীত বেশ কয়েকটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে চারটি সিনেমা। সিনেমাগুলো হচ্ছে মিজানুর রহমান মিজানের ‘রাগী’, ‘তোলপাড়’, তাজু কামরুলের ‘রক্তাক্ত সুলতানা’ ও তাজুল ইসলামের ‘গোপন সংকেত’। এরমধ্যে ‘রক্তাক্ত সুলতানা’য় তিনি নাম ভূমিকায় অভিনয় করছেন। প্রায় সবগুলো সিনেমারই কাজ শেষ করেছেন মৌমিতা। ২০১৩ সালে মৌমিতা মৌ অভিনীত প্রথম সিনেমা কালাম কায়সার পরিচালিত ‘তোমারই আছি তোমারই থাকবো’ মুক্তি পায়। এরপর একে একে মুক্তি পায় রাজু চৌধুরীর ‘তুই শুধু আমার’, সায়মন তারিকের ‘মাটির পরী’, ফিরোজ খান প্রিন্সের ‘মাস্তানী’, মালেক আফসারীর ‘অন্তর্জ্বালা’ ও বদিউল আলম খোকনের ‘অন্ধকার জগত’। তবে মৌমিতা মৌ প্রথম অভিনয় করেন ফেরদৌস ওয়াহিদের ‘কুসুম পুরের গল্প’ সিনেমাতে। তিনি যখন এতে অভিনয় শুরু করেন তখন সেটি টেলিফিল্ম হিসেবে নির্মাণ শুরু হলেও পরবর্তীতে তা সিনেমায় রূপান্তরিত হয়।

মৌমিতা মৌ বলেন, ‘সিনেমায় আমার শুরুটা হয়েছিল অনেকটা হঠাৎ করে। কোন পরিকল্পনা করে চলচ্চিত্রে আসা হয়নি। এখন পরিকল্পনা করছি একজন অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার। সেটা যে মাধ্যমেই হোক। যদি নাটক-টেলিফিল্ম হয়, তাতেও অভিনয় করব। একজন শিল্পী হিসেবে শুধু সিনেমাতেই নয় নাটকেও অভিনয় করা যেতে পারে। তাই সিনেমার পর এখন আমার নাটকে অভিনয়ের জন্যও বেশ আগ্রহ জন্মেছে। তাছাড়া আমার পরিবার সিনেমার চেয়ে নাটকে কাজ করার ব্যাপারেই বেশি অনুপ্রেরণা দিচ্ছেন। আবার মাস্টার্স শেষ হয়ে যাওয়াতে পরিবার থেকে বিয়েরও চাপ দিচ্ছেন। হয়তো শিগগিরই বিয়েও করে ফেলতে পারি। মৌমিতা মৌ’র আসল নাম তাহমিনা ইসরাত মৌসুমী। তার বাবা মোশারফ হোসেন ও মা মনোয়ারা বেগম।

সালমান শাহ’র মৃত্যুর কারণ অজানাই রয়ে গেছে

৯০ দশকের জনপ্রিয় নায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন) ওরফে সালমান শাহ। ২৩ বছর হলো তিনি মারা গেছেন। তবে দীর্ঘ এ সময় নায়েকের মৃত্যু আত্মহত্যা না অন্য কোন কারণে হয়েছে তা অজানাই রয়ে গেছে। আদালতের আদেশে এখন মামলাটির তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।  

সংস্থাটির পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম জানান, ‘মামলাটি অনেকদিনের হওয়ায় সাক্ষী মারা গেছেন। অনেকের সন্ধান মিলছে না। আবার আলামতও নেই। এ কারণে তদন্তও বেশি দূর এগুতে পারেনি। বলাও যাচ্ছে না কবে শেষ করবো। কেননা তদন্তে এসব উপাদান লাগে। যেগুলো মামলার ডকেটেও নেই।’

ঢাকাই সিনেমার নায়কদের নিয়ে কথা বলতে গেলেই একজন নায়কের ছবি চোখের সামনে ভেসে উঠবেই। সেই মানুষটি আর কেউ নন, তিনি হলেন সালমান শাহ। নব্বই দশকের সবচেয়ে সুন্দর ও মেধাবী সেই চলচ্চিত্রশিল্পীর মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৯৬ সালের এইদিনে সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান তিনি। তাকে হারানো ২৩ বছর হয়ে গেল। চলচ্চিত্রের মানুষেরা বলেন, ‘আজও কেউ পূরণ করতে পারেননি সালমান শাহের শূন্যস্থান।’

এখনও চলচ্চিত্রের আলোচনা হলেই উদাহরণ স্বরূপ সামনে আসে তার নামটি। এই সময়ের নায়কদের কাছে তাদের প্রিয় নায়কের নাম জানতে চাওয়া হলে অকপটেই তারা বলেন প্রিয় সালমান শাহের নাম।

নাম নিয়েই যখন কথা, জেনে নেয়া যাক তার মূল নাম ছিল শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন। চলচ্চিত্রে এসে নাম নেন ‘সালমান শাহ’। ১৯৭০ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবার নাম কমর উদ্দিন চৌধুরী ও মা নীলা চৌধুরী। তিনি ছিলেন পরিবারের বড় ছেলে।

সালমান শাহ ১৯৯২ সালের ১২ আগস্ট বিয়ে করেন। তার স্ত্রীর নাম সামিরা। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চিরবিদায় নেন তিনি। হারিয়েও যেন হারাননি তিনি। কোটি ভক্তের হৃদয়ে সোনালী অক্ষরে লেখা আছে তার নাম।

যেদিন সালমান শাহের মৃত্যু হয় সেই দিন তার মৃত্যুতে সারাদেশে শোক নেমে এসেছিল। শোক সইতে না পেরে অনেক ভক্ত আত্মাহুতির পথও বেছে নিয়েছিলেন। এরপর অনেক উত্থান-পতনের মধ্যদিয়ে গেছে বাংলা চলচ্চিত্রশিল্প।

তার সঙ্গে সবচেয়ে বেশি ছবি করা নায়িকা শাবনূর আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ‘সালমান বেঁচে থাকলে আমরা দুজনে উত্তম-সুচিত্রার মতো হতে পারতাম।’

মাত্র চার বছরের চলচ্চিত্র জীবনে সালমান শাহ খুব বেশি ছবিতে অভিনয় না করলেও যতটা করেছেন, মন দিয়ে করেছেন। দর্শকদের জন্য করেছেন। তাই তো দর্শকরা আজও তাকে ভুলতে পারেননি। আজও সালমান যেখানে চিরনিদ্রায় শায়িত সেখানে তার ভক্তরা নীরবে চোখের জল ফেলেন। আজও টেলিভিশনের পর্দায় তার অভিনীত ছবি প্রদর্শন হলে হুমড়ি খেয়ে পড়েন দর্শকরা।

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি স্মরণ করেছে তাকে। শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান জানান, ‘সালমান শাহের মৃত্যুবার্ষিকী ৬ সেপ্টেম্বর। এই মাসে আমাদের আরও ছেড়ে গেছেন আনোয়ার হোসেন, আব্দুল মতিনসহ আরও কয়েকজন চলচ্চিত্রের মানুষ। তাদের সবাইকে স্মরণ করে ৭ সেপ্টেম্বর এফিডিসিতে কোরআন খতম করানো হবে সকালে ও বিকেলে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হবে।’

শিল্পী সমিতির আয়োজন ছাড়াও টেলিভিশন চ্যানেলগুলোও নানা অনুষ্ঠান প্রচার করছে সালমান শাহের মৃত্যু দিবসে।

জেনে নিন কোন তেল মুখে মাখলে বয়স বাড়বে না!

চেহারায় বয়সের ছাপ পড়া নিয়ে উদ্বিগ্ন? এমনটা হওয়াই স্বাভাবিক। কারণ বয়সের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের চেহারায় তার ছাপ পড়ে। অনেক সময় খাদ্যাভ্যাস, দূষিত আবহাওয়া, ধুলোবালি ইত্যাদির কারণে চেহারায় দ্রুতই বয়সের ছাপ পড়ে। অ্যান্টি-এজিং ক্রিম থেকে শুরু করে কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট কত কী চেষ্টা চলতেই থাকে। কিন্তু জানেন কি, এত কষ্ট না করেও বয়সের ছাপ এড়িয়ে চলা সম্ভব। আর সেজন্য দরকার খুবই পরিচিত একটি উপাদান। সেটি হলো নারিকেল তেল।

চিরপরিচিত নারিকেল তেলেই রয়েছে বলিরেখা আর কালো দাগছোপ দূরে রাখার অব্যর্থ গুণ! বিশ্বাস না হলে নিচের উপায়গুলো থেকে যেকোনো একটা মেনে চলার চেষ্টা করুন-

tel

নারিকেল তেল
প্রথমে মুখ পরিষ্কার করে ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে নিন। তোয়ালে দিয়ে চেপে পানিটা মুছে নিতে হবে। এরপর আঙুলের ডগায় সামান্য ভার্জিন নারিকেল তেল দিয়ে গোটা মুখে আর গলায় বৃত্তাকারে মাসাজ করুন। সারারাত তেলটা মুখে বসতে দিতে হবে। প্রতিরাতে শুতে যাওয়ার আগে এভাবে মুখে তেল মাসাজ করলে আপনার মুখে বয়সের ছাপ পড়বে না।

জেনে নিন কোন তেল মুখে মাখলে বয়স বাড়বে না!

আপেল সাইডার ভিনিগার ও নারিকেল তেল
১ টেবিল চামচ আপেল সাইডার ভিনিগার, ১ টেবিল চামচ পানি আর কয়েক ফোঁটা ভার্জিন নারিকেল তেল একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। এবার তুলোর সাহায্যে সারা মুখে লাগিয়ে স্বাভাবিকভাবে শুকোতে দিন। এবার আরও খানিকটা নারিকেল তেল সারা মুখে মাসাজ করে সারা রাত রেখে দিন। আপেল সাইডার ভিনিগার ত্বকে অ্যাস্ট্রিনজেন্টের কাজ করে, আর নারিকেল তেল ত্বকে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা জুগিয়ে দূরে রাখে বয়সের চিহ্ন।

tel

ভিটামিন ই ও নারিকেল তেল
একটা ভিটামিন ই ক্যাপসুল কেটে ভিতরের তরল জিনিসটা বের করে নিন। এবার তাতে কয়েক ফোঁটা অর্গানিক নারিকেল তেল দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। পরিষ্কার মুখে এই তেলের মিশ্রণটা লাগিয়ে কয়েক মিনিট মাসাজ করুন। প্রতি রাতে করলে ত্বকের চোখে পড়ার মতো উন্নতি হবে। নিষ্প্রভ ও বয়সের ছাপ পড়া ত্বকে এই তেলের মিশ্রণটি বিশেষভাবে কার্যকর।

লেবু ও নারিকেল তেল
১ চা চামচ কাঁচা দুধে কয়েক ফোঁটা পাতিলেবুর রস মিশিয়ে ভালোভাবে নাড়ুন। দুধে কিছুক্ষণের মধ্যেই ছানা কেটে যাবে। এবার ওই ছানায় ১ টেবিল চামচ ভার্জিন নারিকেল তেল যোগ করে আরেকবার ভালো করে মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে দুই-তিন মিনিট মাসাজ করুন। তারপর ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে। লেবুর রস ত্বক পরিষ্কার করে, রোমছিদ্রগুলোও সঙ্কুচিত করে দেয়। লেবুর ভিটামিন সি ত্বকের টানটানভাব বাড়িয়ে তুলে বলিরেখার উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো কমিয়ে দেয়। পাশাপাশি ছানা কাটা দুধ আর নারিকেল তেল ত্বকে আর্দ্রতা জোগায়।

tel

হলুদ গুঁড়া ও নারিকেল তেল
১ টেবিলচামচ ভার্জিন নারিকেল তেলে এক চিমটি হলুদ গুঁড়া দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। বলিরেখার উপর এই মিশ্রণটি লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট রাখতে হবে। তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। হলুদের অ্যান্টি অক্সিডান্ট ফ্রি র‍্যাডিকালের ক্ষতি থেকে ত্বককে সুরক্ষিত রাখে এবং কোলাজেন উৎপাদন বাড়িয়ে ত্বক টানটান রাখে আর নারিকেল তেল ত্বকে আর্দ্রতা আর কোমলতা জোগায়। ফলে আপনি পেয়ে যান তারুণ্যে ভরপুর টানটান কোমল ত্বক।

এইচএন/জেআইএম

নায়ক সালমান শাহ’র মৃত্যু: কী ঘটেছিল সেদিন


১৯৯৬ সালের ৬ই সেপ্টেম্বর দিনটি ছিল শুক্রবার।

সেদিন সকাল সাতটায় বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী ছেলে শাহরিয়ার চৌধুরী ইমনের সঙ্গে দেখা করতে ইস্কাটনের বাসায় যান। কিন্তু ছেলের দেখা না পেয়ে তিনি ফিরে আসেন।

এই শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন ঢাকার তৎকালীন সিনেমা জগতের সুপারস্টার সালমান শাহ।

সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে সালমান শাহ’র মা নীলা চৌধুরী বলেন, বাসার নিচে দারোয়ান সালমান শাহ’র বাবাকে তাঁর ছেলের বাসায় যেতে দিচ্ছিল না ।

নীলা চৌধুরীর বর্ণনা ছিল এ রকম, “বলেছে স্যার এখনতো উপরে যেতে পারবেন না। কিছু প্রবলেম আছে। আগে ম্যাডামকে (সালমান শাহ’র স্ত্রীকে) জিজ্ঞেস করতে হবে। এক পর্যায়ে উনি (সালমান শাহ’র বাবা) জোর করে উপরে গেছেন। কলিং বেল দেবার পর দরজা খুললো সামিরা (সালমান শাহ’র স্ত্রী)।”

“উনি (সালমান শাহ’র বাবা ) সামিরাকে বললেন ইমনের (সালমান শাহ’র ডাক নাম) সাথে কাজ আছে, ইনকাম ট্যাক্সের সই করাতে হবে। ওকে ডাকো। তখন সামিরা বললো, আব্বা ওতো ঘুমে। তখন উনি বললেন, ঠিক আছে আমি বেডরুমে গিয়ে সই করিয়ে আনি। কিন্তু যেতে দেয় নাই। আমার হাজব্যান্ড প্রায় ঘণ্টা দেড়েক বসে ছিল ওখানে।”

বেলা এগারোটার দিকে একটি ফোন আসে সালমান শাহ’র মা নীলা চৌধুরীর বাসায়।

ঐ টেলিফোনে বলা হলো, সালমান শাহকে দেখতে হলে তখনই যেতে হবে।

কেমন ছিল পরিবেশ?

টেলিফোন পেয়ে নীলা চৌধুরী দ্রুত ছেলে সালমান শাহ’র বাসার দিকে রওনা হয়েছিলেন।

তবে সালমানের ইস্কাটনের বাসায় গিয়ে ছেলে সালমান শাহকে বিছানার ওপর দেখতে পান নীলা চৌধুরী।

“খাটের মধ্যে যেদিকে মাথা দেবার কথা সেদিকে পা। আর যেদিকে পা দেবার কথা সেদিকে মাথা। পাশেই সামিরার (সালমান শাহ’র স্ত্রী) এক আত্মীয়ের একটি পার্লার ছিল। সে পার্লারের কিছু মেয়ে ইমনের হাতে-পায়ে সর্ষের তেল দিচ্ছে। আমি তো ভাবছি ফিট হয়ে গেছে।”

“আমি দেখলাম আমার ছেলের হাতে পায়ের নখগুলো নীল। তখন আমি আমার হাজব্যান্ডকে বলেছি, আমার ছেলে তো মরে যাচ্ছে,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন নীলা চৌধুরী।

ইস্কাটনের বাসা থেকে সালমান শাহকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানকার ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করে।

এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ময়না তদন্ত শেষে বলা হয় সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছে।

পরিবারের দাবি

বাংলাদেশে সালমান শাহ অভিনীত প্রথম সিনেমা ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার শেষ দৃশ্যের মতো তাঁর জীবনের রথও থেমে গিয়েছিল ওই ছবি করার ঠিক চার বছর পর।

এরপর তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সালমান শাহকে হত্যা করা হয়েছে।

নীলা চৌধুরীর অভিযোগ ছিল তারা হত্যা মামলা করতে গেলে পুলিশ সেটিকে অপমৃত্যুর মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে।

পুলিশ বলেছিল, অপমৃত্যুর মামলা তদন্তের সময় যদি বেরিয়ে আসে যে এটি হত্যাকাণ্ড, তাহলে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে হত্যা মামলায় মোড় নেবে।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে অন্যতম শ্রেষ্ঠ নায়কের আকস্মিক মৃত্যুতে স্তম্ভিত হয়ে যায় পুরো দেশ।

সে সময় সারা দেশজুড়ে সালমানের অসংখ্য ভক্ত তাঁর মৃত্যু মেনে নিতে না পারায় বেশ কয়েকজন তরুণী আত্মহত্যা করেন বলেও খবর আসে পত্রিকায়।

সালমানের মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে না পারায় তাঁর ভক্তদের মাঝে তৈরি হয় নানা প্রশ্নের।

আরও প্রশ্ন

সালমান শাহের মৃত্যুকে ঘিরে যখন একের পর এক প্রশ্ন উঠতে থাকে, তখন পরিবারের দাবির মুখে দ্বিতীয়বারের মতো ময়না তদন্ত করা হয়। মৃত্যুর আটদিন পরে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজে তিন সদস্য বিশিষ্ট মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।

সে বোর্ডের প্রধান ছিলেন ডা. নার্গিস বাহার চৌধুরী।

চলচ্চিত্র বিশ্লেষক জাকির হোসেন রাজু
তিনি সাংবাদিকদের কে বলছিলেন, “লাশটা আমি দেখেছি মরচুয়েরিতে। আমার কাছে মনে হয়েছে যেন সদ্য সে মারা গেছে। এ রকম থাকলে তাঁর মৃত্যুর কারণ যথাযথভাবে নির্ণয় করা যায়। আত্মহত্যার প্রত্যেকটা সাইন (চিহ্ন) সেখানে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে ছিল। তাঁর শরীরে আঘাতের কোন নিশানা ছিল না।”

দ্বিতীয় ময়নাতদন্তে আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করা হলে মামলার কাজ সেখানেই থেমে যায়।

সালমান শাহ’র পারিবারিক বন্ধু চলচ্চিত্র পরিচালক শাহ আলম কিরণ বলছিলেন, শেষের দিকে অনেক মানসিক চাপে ছিলেন সালমান শাহ। পরিবারের সদস্যদের সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং প্রযোজকদের সাথে বোঝাপড়ার ঘাটতি তৈরি হয়েছিল।

সালমান শাহ’র মৃত্যুর পরে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অভাবনীয় ক্ষতির মুখে পড়ে।

প্রযোজকরা লোকসান কমিয়ে আনতে সালমান শাহ’র মতো দেখতে কয়েকজন তরুণকে নিয়ে অসমাপ্ত সিনেমার কাজ সম্পন্ন করার জন্য উঠে-

সালমান বেঁচে থাকলে অনেক নায়কেরই ক্যারিয়ার দাঁড়াতো না : শিল্পী

নব্বই দশকের জনপ্রিয় নায়িকা শিল্পী। ১৯৯৫ সালে আমিন খানের বিপরীতে ‘বাংলার কমান্ডো’ ছবি দিয়ে তার অভিষেক ঘটে। প্রথম আলোচনায় আসেন নায়করাজ রাজ্জাক পরিচালিত ‘বাবা কেন চাকর’ ছবি দিয়ে। পাঁচ বছরের ক্যারিয়ারে কাজ করেছেন ৩৫টির মতো ছবিতে। আমিন খান, বাপ্পারাজ, মান্না, রিয়াজ, রুবেলসহ বেশ কজন জনপ্রিয় নায়কের সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন।

অমর নায়ক সালমান শাহের সঙ্গে কাজ করতে পেরেছিলেন মাত্র একটি ছবিতে। ‘প্রিয়জন’ নামের সেই ছবিটি শিল্পীর ক্যারিয়ারে অনন্য এক পালক যোগ করেছে। সালমানের সঙ্গে শিল্পীর সম্পর্কটা ছিল বেশ মধুর। সেই সম্পর্কের সমুদ্রে বহুদিন পর স্মৃতির জাহাজ ভাসালেন নায়িকা। আজ ৬ সেপ্টেম্বর সালমানের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকীতে জানালেন অনেক অজানা কথা। লিখেছেন রফিকুল ইসলাম

মণিপুরি মুসলিম : সালমান শাহের সঙ্গে আপনি একটিমাত্র ছবিতে অভিনয় করেছেন। রানা নাসের পরিচালিত ‘প্রিয়জন’। ছবিটি নিয়ে আপনার অভিজ্ঞতা কেমন?
শিল্পী : অভিজ্ঞতা তখনো ভালো, এখনো ভালো। আমি বলবো অভিজ্ঞতা চলমান। এটা সৌভাগ্য যে সালমানের সঙ্গে একটি ছবি করতে পেরেছি আমি। সাধারণত আমরা যারা নব্বই দশকে কাজ করেছি তাদের নিয়ে দর্শকের অন্যরকম একটা ভালো লাগা বা আবেদন কাজ করে। প্রায়ই ছেলেমেয়ের স্কুলে, রাস্তায়, শপিংমলে ভক্তদের কাছ থেকে উপভোগ্য মুহূর্ত পাই। নিজেকে আড়াল করে চলি। তবুও অনেকে বুঝে ফেলেন। দৌড়ে আসেন। বলেন যে আপনি ‘বাবা কেন চাকর’ ছবির নায়িকা না? বা অমুক নায়িকা না? কেউ কেউ বলেন- আপনি তো আমাদের সময়ের নায়িকা। অনেক নারীও অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকেন, ছবি তোলেন।

তবে বলতে দ্বিধা নেই, আমি সবচেয়ে বেশি শুনেছি এই কথাটি যে- আপনি সালমান শাহের নায়িকা না? ‘এ জীবনে যারে চেয়েছি’ গানের কথা বলে। এটা সত্যি দারুণ ব্যাপার যে মাত্র একটি ছবি করেছি যে নায়কের সঙ্গে তার নায়িকা হিসেবেই মানুষ আমাকে বেশি চেনে বা জানে। অনেকে সালমানের নায়িকা জানার পর সালমানের ভক্ত হিসেবে অনেক পাগলামির কথা বলেন। একবার ডাক্তার দেখাতে গেলাম এক চেম্বারে, তিনিও সালমানের নায়িকা হিসেবে আমাকে নোটিশ করলেন। আসলে সালমান নব্বই দশকের টিনেজারদের প্রিয় নায়ক ছিল। আইকন ছিল ও। আজকে অনেক এসপি-ডিসি-ডাক্তার বা বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ে প্রতিষ্ঠিতরা সালমানভক্ত ছিলেন। সালমান সবশ্রেণির মানুষের কাছে নিজেকে জনপ্রিয় করে তুলতে পেরেছিল। এটাই ওর সবচেয়ে বড় ম্যাজিক বা সাফল্য।

এই যে আজ আপনি আমার সঙ্গে এত আগে থেকে যোগাযোগ করে শিডিউল মিলিয়ে দেখা করতে এলেন এটাও তো সালমানের সঙ্গে ওই সিনেমাটি করার অভিজ্ঞতাই দিচ্ছে। সিনেমা ছেড়ে দিয়েছি ১৯ বছর হয়। আমার সাক্ষাৎকারের কোনো দরকার পড়ে না। তবুও আপনি এলেন সালমানের নায়িকা এই মূল্যায়ন করে। সালমান সম্পর্কে দুটো কথা শুনবার ও জানবার আগ্রহ থেকে।

মণিপুরি মুসলিম : প্রিয়জন ছবিতে সালমানের সঙ্গে শুটিংয়ের অভিজ্ঞতাটা জানতে চাই…..
শিল্পী : খুব ভালো। অনেক মজা করতো সালমান সেটে। মেকাপ রুমে এসে পর্যন্ত জ্বালাতো। হয়তো আমি চোখে কাজল দিচ্ছি ও পেছন থেকে এসে বলতো, ‘ইশ, কেন যে কাজল হলাম না।’ হয়তো ঠোঁটে লিপস্টিক দিচ্ছি। ও দেখতে পেরেছে বা জানতে পেরেছে। পেছনে দাঁড়িয়ে সিনেমার সংলাপ দেয়ার স্টাইলে বলতো, ‘হায়রে, নায়িকার লিপস্টিক হতে পারলাম না!’ তার মুখে এসব শুনে শুনে আমি লজ্জায় লাল হতাম।

কিন্তু সালমান ‘ভালগার’ ছিল আমার মনে হয় এই কথাটা কেউ বলতে পারবে না। ও দুষ্টামি-মজাগুলো করতো সবাইকে মাতিয়ে রাখার জন্য। শুটিং করছি হঠাৎ বলে বসলো চলো সবাই পুরান ঢাকায় যাই। খাবো। প্রযোজক তো শুনে অজ্ঞান হয় হয়। শুটিং রেখে নায়ক-নায়িকারা চলে যাওয়া মানে বিপদ। ফেরে কি না ফেরে কোনো ঠিক আছে নাকি! তো প্রযোজক এসে সালমানকে থামাতে বলছে, ‘কষ্ট করে যাওয়ার দরকার নেই। কী খাবেন আমি আনিয়ে দিচ্ছি।’ সালমান হতাশ হয়ে তাকিয়ে থাকতো। আমি হাসতাম আড়ালে বসে। এগুলো সে ইচ্ছে করে করতো।

মনে পড়ে ‘প্রিয়জন’ ছবির শুটিং করতে কক্সবাজার গিয়েছি। সেখানে অনেক মজা করেছি। সালমান তার স্ত্রীকে প্রায়সময়ই আউটডোরে শুটিং হলে নিয়ে যেতো। সেবারও কক্সবাজারে নিয়ে গিয়েছিল। ওরা উঠেছিল প্রবাল হোটেলে। আমি, রিয়াজসহ অন্যরা ছিলাম শৈবালে। প্রচুর আড্ডা মেরেছি আমরা।

প্রতিদিনই সকালে কল টাইম থাকতো। আউটডোরে গেলে একটু সকাল সকাল কাজ করতে হয়। তো একদিন কোনো শুটিং নেই। ভাবলাম আরাম করে ঘুমাবো। সালমান সেদিন ভোর ৬টার দিকে এসে চিৎকার চেচামেচি করে সবাইকে জাগিয়ে তুলে দিয়ে চলে গেল। এই হলো সালমান।

কক্সবাজারে আমরা অনেক মজা করেছি। রিয়াজ তখন ভালো ড্রাইভ জানতো না। আইল্যান্ডের উপর চড়িয়ে দিতো। সে নিয়ে সালমান ওকে ক্ষেপাতো। রিয়াজের সঙ্গে ও খুব মিশেছিল। দেশের বাইরেও আমাদের অনেক মজার অভিজ্ঞতা আছে। হঠাৎ হঠাৎ মনে পড়ে। কখনো ভালো লাগে। কখনো মন খারাপ হয়।

মণিপুরি মুসলিম : প্রিয়জন ছবিটি ১৯৯৬ সালের জুন মাসে মুক্তি পেয়েছিল। এর দুই মাস পরই সালমান মারা যান। তার সঙ্গে কি ছবিটি দেখা হয়েছিল?
শিল্পী : না। সেই সুযোগ হয়নি। তখন সালমানও অনেক ব্যস্ত, আমিও শুটিং নিয়ে ব্যস্ত। তবে আলাদা আলাদা করে দুজনেই হলে গিয়ে ছবিটি দেখেছিলাম নিজেদের শিডিউল বের করে।

মণিপুরি মুসলিম : সালমানের সঙ্গে আপনার প্রথম দেখা ও পরিচয় কোথায় কীভাবে?
শিল্পী : সেটা নির্দিষ্ট করে এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না। খুব সম্ভবত কোনো শুটিং সেটেই।

মণিপুরি মুসলিম : নায়ক সালমানের সঙ্গে সম্পর্কটা কেমন ছিল আপনার?
শিল্পী : আমরা সমবয়সী ছিলাম। কিন্তু সিনেমায় সালমান আমার চেয়ে দুই বছরের সিনিয়র। এই ভাবটা কোনোদিন ওর মধ্যে ছিল না। ও সবসময় আগে রেসপন্স করতো। নিজের চোখে অনেক কিছু দেখেছি এই ইন্ডাস্ট্রিতে। অনেক নায়কের অনেক রকম দাপট ছিল। আজ কিছুই নেই। এমন নায়কও ছিল দশজন বডিগার্ড সঙ্গে নিয়ে এফডিসিতে বা শুটিং স্পটে আসতো।

তবে সালমান ছিল অন্য রকম একটা ছেলে। একেবারেই অন্যরকম। ওকে দেখলেই মনে হতো চিন্তা চেতনায় ও স্টাইল রুচিতে একটু এগিয়ে। ওর স্ত্রীর অবশ্য একটা ভূমিকা ছিল। এটা হয়তো অনেকে জানে না। আমরা যারা কাজ করেছি তারা দেখেছি। সালমানের পোশাক, মেকাপ ঠিক করে দিতো সামিরা। আরেকটা কথা বলি। শাবনূর যখন প্রথমদিকে আসলো তখন দেখবেন অতটা গ্ল্যামারাস ছিল না। সাদা রঙের ভারী মেকাপ করতো। যখন সালমানের সঙ্গে ছবি করতে শুরু করলো শাবনূরের বাহ্যিক পরিবর্তনটা চোখে লাগলো সবার। ওর মেকাপ, চুলের স্টাইল একেক ছবিতে একেক রকম করে দিতো সামিরাই। গানে সালমান-শাবনূরের ম্যাচ করে পোশাক পরা এগুলো সামিরার ডিজাইন ছিল।

সালমানের মৃত্যুর পর আমরা রিয়াজ-শাকিলকে সেসব ফ্যাশন-স্টাইলে দেখেছি। কিন্তু সালমানের মতো ছিল না। এ সময়ে শাকিব অনেক স্টাইলিশ। অনেক ব্রান্ডের পোশাক পরে, ভালো গেটাপ দেখা যায়। কিন্তু সালমানেরটা একেবারেই ভিন্ন। সালমান যদি মারা না যেত অনেক নায়কেরই ক্যারিয়ার দাঁড়াতো না। এটা কিন্তু সত্যি। আর সালমানের যে দূরদর্শী
ভাবনাশক্তি ছিল এতদিনে ও বলিউডের সঙ্গে বেশ ভালোভাবেই মিশে যেত বলে মনে হয় আমার।

এটা অন্য প্রসঙ্গ। এখন থাক। সালমান আমাকে ম্যাডাম বলে ডাকতো। আমি তো তখন সবে ঢুকেছি ইন্ডাস্ট্রিতে। সেটা ১৯৯৫ সালের শেষ দিকে। মোহাম্মদ হোসেনের পরিচালনায় আমিন খানের সঙ্গে ‘বাংলার কমান্ডো’ ছবিটি মুক্তি পেয়েছে মাত্র। নাম ছড়াচ্ছে। সবাই আমার গ্ল্যামারের প্রশংসা করছে। একের পর এক ছবি আসছে। কত নায়ক ছিল দেখেও না দেখার ভান করতো। কিন্তু সালমান এমন ছিল না।

সালমানের সঙ্গে আমার দেখা হতো এফডিসিতে ঢোকার সময়। আমি ঢুকতাম তো সালমান গাড়ি নিয়ে বের হচ্ছে। নয়তো সে ঢুকছে আমি বের হচ্ছি। প্রত্যেকবার সালমান গাড়ি থামিয়ে ডাকতো, ‘ম্যাডাম কেমন আছেন? কবে একটা ছবি করবেন আমার সাথে বলুন’! আমি মজা পেতাম, লজ্জাও পেতাম। তখন সালমান সুপারহিট। ওর মতো নায়ক এভাবে কেন বলতো? একটা নতুন মেয়েকে সাপোর্ট দেয়ার জন্য, সাহস দেয়ার জন্য।

‘প্রিয়জন’ ছবির আরেক নায়ক রিয়াজও সেটা ভালো উপলব্দি করতে পারবে। কারণ ও তখন নতুন। অনেক কিছুই জানতো না বুঝতো না। সালমান তাকে সেগুলো ভাইয়ের মতো বন্ধুর মতো করে শিখিয়েছে, সাহায্য করেছে। আমিও করেছি আমার জায়গা থেকে।

মণিপুরি মুসলিম : আপনার চোখে কে সেরা? নায়ক সালমান শাহ নাকি মানুষ সালমান শাহ?
শিল্পী : মানুষ সালমান শাহ। কারণ ভালো মানুষ না হলে কেউ সফল হতে পারে না। আপনার পরিচয় যাই হোক না কেন, আপনি ভালো মানুষ হলে লোকে আপনাকে সফল বলবে, মনে রাখবে। সালমান শাহকে মানুষ মনে রেখেছে। এটা প্রকৃতির একটা গিফট বলতে পারেন। ভালো মানুষদের প্রকৃতি সবার সামনে আইকন হিসেবে সাজিয়ে রাখে।

মানুষ হিসেবে অসাধারণ ছিল বলেই নায়ক সালমান এত অল্প সময়ে দেশের সবশ্রেণির মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছিল। মৃত্যুর পরও সে জায়গা অটুট। অনেক নায়কই আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। বলিউডেও অনেক নামকরা নায়কদের মৃত্যু ঘটেছে। কিন্তু সালমান নিয়ে যে উন্মাদনাটা তার মৃত্যুর ২৩ বছর পরও সেটা কিন্তু বিরল ঘটনা।

মণিপুরি মুসলিম : অনেকেই বলে থাকেন মৃত্যুর পর সালমান শাহের নাম বেশি ছড়িয়েছে। বা তারকাখ্যাতি এসেছে। আপনিও কি তা মনে করেন?
শিল্পী : আমার তা মনে হয় না। সালমান বেঁচে থাকতেই তো সুপারহিট সব ছবির নায়ক। অল্প বয়সে তার মৃত্যু হয়তো তার আবেদন বাড়িয়েছে। কিন্তু এটা বলা যাবে না যে মরে গিয়ে তারকা হয়েছে সালমান। এগুলো খুবই বাজে কথা। ওর পরে আজ অব্দি ওর মতো কেউ আসেনি তো এখনো।

মণিপুরি মুসলিম : সালমান শাহের তিনটি গুণ ও তিনটি দোষ?
শিল্পী : এটা বলা মুশকিল। সালমানের অনেক গুণ ছিল। প্রথমেই বলবো ওর বিনয়। খুব বিনয়ের সঙ্গে কথা বলতো সালমান। তারপর বলবো মানুষকে সাহায্য করার প্রবণতা ওর মধ্যে প্রবল ছিল। গরিব যে কেউ বিপদে পরে সালমানের কাছে গেলে সালমান তাকে অর্থ সাহায্য দিয়েছে। এগুলো তো নিজে দেখিনি। শুনেছি। কার কাছে শুনেছি, যারা টাকা পেয়েছে তাদের কাছ থেকেই।

সালমান মারা যাবার পর এফডিসিতে গেলেই অনেক কথা শোনা যেত। নাচের মেয়েরা কাঁদতো তার জন্য। বলতো সালমানের মতো করে আর কেউ যখন তখন মানিব্যাগ করে দুহাত ভরে টাকা দেবে না। ওর মৃত্যুর পর অনেক কিছুই শুনেছি যেটা উপলব্দি করিয়েছে ও দানশীল ছিল। ও অল্প কয়টা ছবি করে কত টাকাই বা কামিয়েছিল। সর্বশেষ শুনেছি সাত লাখ টাকা নিতো সিনেমায়। সাত লাখ টাকা তো আর ঘরে নিয়ে যেতে পারতো না। সিনেমার টাকা সব ঘরে আসে না। এটা প্রবাদ আছে ইন্ডাস্ট্রিতে। তার উপর সালমান ছিল খুব সৌখিন। গাড়ি কিনতো, ড্রেস কিনতো। ও কখনো প্রোডাকশনের ওই জোড়া তালি দেয়া চকচকা রঙের ড্রেসের জন্য বসে থাকতো না। নিজেই নিজেরটা যোগার করতো। ব্রান্ডের দামি দামি সব পোশাক। কিন্তু এতকিছুর পরও দান করতো। তৃতীয় গুণটা, সালমান স্টাইলিশ ও ফ্যাশন সচেতন।

ওর দোষগুলো বলতে ইচ্ছে করে না। মন খারাপ হয়। দোষগুলোর জন্যই ওকে অকালে হারিয়েছি এমনটা মনে হয়। ও প্রচন্ড ইমোশনাল ছিল। নিয়ন্ত্রণ করতে পারতো না। দ্বিতীয়ত ওর বন্ধুদের সার্কেলটা ভালো ছিল না। সঙ্গদোষের শিকার সালমান। ভালো বন্ধুরা একটা মানুষকে ভালো পথে রাখে, সাহস দেয়, হতাশা কাটায়। কিন্তু সেই সঙ্গটা সালমান পায়নি। বরং অনেকের কাছে শুনেছি শেষদিকে প্রচুর ড্রিংকস করতো সে। অবশ্য আমি কখনো সালমানকে মাতাল দেখিনি। ওইসব শুনতাম। গাড়িতেও নাকি ড্রিংকস থাকতো। আর স্মোক তো করতোই। সঙ্গদোষটা কাটাতে পারলে হয়তো সালমান সব হতাশা কাটিয়ে উঠতে পারতো। সবার জীবনেই ফ্রাস্টেশান থাকে। সেটা ওভারকাম করতে হয়। সেটা সালমান পারেনি। এই দুর্বলতাটা ওর তৃতীয় ত্রুটি হতে পারে।

সবার জীবনে ফ্রাস্টেশন থাকে। সালমানেরও হয়তো ছিল। ফ্যামিলি নিয়ে, ক্যারিয়ার নিয়ে কিছু ঝামেলা চলছিল। ক্যারিয়ারের ঝামেলা অবশ্য মিটেছিল। আমার মনে হয় ফ্যামিলি ও ফ্রেন্ড সার্কেল থেকে ও সাপোর্টটা ঠিকভাবে পায়নি। তবে সেসব বলে তো এখন আর লাভ নেই। ও ফিরবে না। আসলে বড় কথাটা হলো পৃথিবীতে ওর হায়াত শেষ হয়ে গিয়েছিল। মানুষ তো কত বড় বড় কষ্ট-অভাব নিয়েও বেঁচে থাকছে।

মণিপুরি মুসলিম : সালমানের স্ত্রী বা মায়ের সঙ্গে কি পরিচয় ছিল?
শিল্পী : ওই অর্থে ঠিক কোনো ঘনিষ্টতা গড়ে ওঠেনি। তবে চিনতাম তাদের। সামিরার সঙ্গে দেখা বেশি হয়েছে। কারণ সালমানের সঙ্গে প্রায়ই থাকতো।

মণিপুরি মুসলিম : শাবনূরের সঙ্গে সালমানের প্রেম নিয়ে অনেক মুখরোচক গল্প শোনা যায়। তাদের সম্পর্ক নিয়ে আপনি কিছু বলবেন? চাইলে এই প্রশ্নটি এড়িয়ে যেতে পারেন-
শিল্পী : এড়িয়ে যাবার কিছু নেই। একজন নায়ক যখন কারও সঙ্গে জুটি বেঁধে কাজ করেন তখন তার সঙ্গে একটি সম্পর্ক গড়ে ওঠেই। সেটা কে কীভাবে মেইনটেইন করে তা বলা মুশকিল। সালমান ও শাবনূর একসঙ্গে অনেক ছবিতে কাজ করেছে। তাদের মধ্যে অবশ্যই একটা গভীর সম্পর্ক ছিল। কিন্তু সেটা যে প্রেম তা তো হুট করে বলে দেয়া যায় না। রাজ্জাক-কবরী, আলমগীর-শাবানা, উত্তম-সুচিতা জুটি নিয়েও অনেক মুখরোচক গল্প এসেছে। আমিও বাপ্পা ভাই, রুবেল ভাইদের ঘনিষ্ট ছিলাম। অনেক কথাই ছড়াতো। সালমানকে নিয়েও তখন অনেক কথা শুনেছি।

শাবনূরকে নিয়ে সামিরার সঙ্গে সালমানের ঝামেলা হচ্ছে এ রকম খবরও পড়েছি। কিন্তু সেসবের কোনো প্রমাণ ছিল না। তবে সামিরার সঙ্গে শেষদিকে হয়তো সম্পর্কটা ভালো যাচ্ছিলো না সালমানের। তাদের কক্সবাজারে একসঙ্গে দেখেছি কিন্তু উড়ো উড়ো একটা ভাব ছিল। বউ সঙ্গে আছে কিন্তু সেটা নিয়ে খুব একটা আন্তরিক আগ্রহ থাকে না, সেটা দেখিনি। কোথায় যেন একটা ডিস্টার্বনেস কাজ করতো। 

মণিপুরি মুসলিম : সালমান শাহের মৃত্যুর খবরটি প্রথম কোথায় কার কাছ থেকে জানতে পেরেছিলেন?
শিল্পী : সেদিন তো শুক্রবার ছিল। সকালে ঘুম থেকে উঠেছি কেবল। বারান্দায় গেলাম। হঠাৎ শুনলাম সালমান শাহ মারা গেছে। আমি ভাবলাম মজা করছে কী না। পরে দেখলাম যে না লোকগুলো বেশ সিরিয়াস। সাথে সাথে খোঁজ নিলাম। জানলাম, সত্যি সালমান আর নেই! বাকরুদ্ধ হয়ে ছিলাম। ওর সঙ্গে আরও অনেক কাজের কথা ছিল।

মণিপুরি মুসলিম : একজন নায়ক ত্রিশ বছরের আগেই মারা গেলেন। ২৩ বছর পার হয়ে গেল। এখনো তার জন্য কাঁদে ভক্তরা। কেক কেটে, মিলাদ দিয়ে তার জন্ম-মৃত্যুদিন পালন করে হাজার হাজার ভক্ত। এখনো কোনো হলে সালমানের সিনেমা প্রদর্শিত হলে দর্শকের ভিড় নামে। সালমান শাহ নিয়ে এই যে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে মানুষের এই ভালোবাসা এটাকে কীভাবে দেখেন আপনি?
শিল্পী : এটাই তো শিল্পীর স্বার্থকতা। সালমান সফল। ওর অভিনয়ের গুণেই ও এই ভালোবাসা পাচ্ছে। ও যে স্ক্রিনে আসতো দর্শক মনে করতো ওর প্রেমটা তাদেরই প্রেম। ওর রোমান্টিকতা, কান্নাকে নিজের মনে করতো। ওকে খুব সহজেই আপন করে নিতে পেরেছিলো। কারণ সালমানের মধ্যে ন্যাচারাল ব্যাপারটা ছিল।

মণিপুরি মুসলিম : অনেকদিন ধরেই সালমানভক্তরা প্রিয় নায়কের নামে এফডিসিতে শুটিং ফ্লোর বা স্মৃতি ধরে রাখার মতো কিছু দাবি করে আসছেন। এ বিষয়ে আপনি কিছু বলবেন? 
শিল্পী : আমি তো মনে করি অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল। সালমানর শাহের মতো করে আর কে এমন আবেদন তৈরি করতে পেরেছে। মাত্র চারটা বছরের ক্যারিয়ার। ২৭টি ছবি। মারা গেছে সেই ২৩ বছর হলো। এখনো সালমান সালমান করে পাগল মানুষ। অদ্ভূত এক জনপ্রিয়তা!

তবে সালমান ভক্তদের আমি বলবো এতে মন খারাপের কিছু নেই। সালমান চিরদিন বেঁচে থাকবে সবার অন্তরে, আমাদের প্রিয়জন হয়ে।

ভিজে চুলে গোসলের ভিডিও পোস্ট করলেন প্রভা! (ভিডিও)

সাদিয়া জাহান প্রভা

ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা। অল্পদিনেই বিজ্ঞাপন, নাটক, টেলিফিল্ম ও মেগা সিরিয়ালসহ সব জায়গাতেই নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন এই অভিনেত্রী। নিজের অভিনয় দিয়ে দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছেন তিনি।

এদিকে গতকাল (বুধবার) অভিনেত্রী নিজের ইনস্ট্রগ্রাম একাউন্টে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। আর সেটি পোস্ট করতেই হু হু করেই ছড়িয়ে পড়ে। ছবির ক্যাপশনে অভিনেত্রী লেখেন, গোসলের পরে…পুরুষের টাখনুর নিচে কাপড় পরার অপকারিতাযে মায়ের গান কাঁদাচ্ছে সবাইকে (ভিডিও)!খেলা শেষে পুকুরে ভাসল ভাই-বোনের মরদেহবারবিকিউ ও সিগারেটের গন্ধ আসে তাই প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগগ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিতে টাইগ্রেসরাসুস্থ হয়ে ফিরেছেন ৯৫ শতাংশ ডেঙ্গু রোগীট্রেনেই যাওয়া যাবে সিকিম

পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে অভিনেত্রী সাদা রঙ্গের একটি বাথ রোব পড়ে আছেন। আর হাত দিয়ে ভালবাসার চিহ্ন এঁকে আই লাভ ইউ বলছেন তিনি। আর এই ভিডিওতে ভিজে চুলে তাকে বেশ উষ্ণ এবং সুন্দর লাগছে বলেও কমেন্ট করেছেন অনেকে। 

এদিকে, ঈদের ছুটি শেষ করে জনপ্রিয় অভিনেত্রী আবারো নিজের কাজে ফিরেছেন। অভিনেত্রী নিজের চলমান ধারাবাহিক নাটকগুলোর শুটিং করছেন। এছাড়া কয়েকটি একক নাটকের স্ক্রিপ্ট হাতে আছে।

সাদিয়া জাহান প্রভার গোসলের ভিডিওটি দেখতে  

https://www.instagram.com/p/B2APeguB_em/?utm_source=ig_web_copy_link>>এখানে <<>>>এখানে <<< ক্লিক করুন

ফরিদপুর মেডিকেলে পর্দার দাম সাড়ে ৩৭ লাখ টাকা!

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ (ফেমিক) হাসপাতালে কোরিয়া থেকে কেনা হয়েছে সাড়ে ৩৭ লাখ টাকা দামের পর্দা। এত দাম দিয়ে পর্দা কেনা হলেও ব্যবহার নেই বছরের পর বছর। একইভাবে অভাবনীয় দাম দেখিয়ে কেনা বেশিরভাগ যন্ত্রই ফেলে রাখা হয়েছে।

২০১২ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি কেনা এবং আর্থিক অনিয়মে ঘটনায় ২০ আগস্ট হাইকোর্ট দুদককে এ বিষয়ে তদন্ত করে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেন।

জানা গেছে, ওই সময়কালে মেসার্স অনিক ট্রেডার্স ৫১ কোটি ১৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার ১৬৬টি যন্ত্রপাতি সরবরাহ করে। অনিক ট্রেডার্স ৪১ কোটি ১৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার বিল পেলেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ১০ কোটি টাকা যন্ত্রপাতির দাম বেশি দেখানোসহ বিভিন্ন অসংগতির কারণে আটকে দেয়। এ প্রেক্ষাপটে ২০১৭ সালের ১ জুন অনিক ট্রেডার্স বকেয়া আদায়ে হাইকোর্টে এটি রিট করে।

রিটের পর  স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের কাছে অনিক ট্রেডার্সের সরবরাহ করা ১০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতির একটি তালিকা চেয়ে পাঠান।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক কামদা প্রসাদ সাহা ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ওই ১০ কোটি টাকার বিপরীতে দামসহ ১০ আইটেমের যন্ত্রপাতির একটি তালিকা দেন।

ওই তালিকার সঙ্গে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত সরেজমিনে পরিদর্শনকালে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি ভিএসএ অনসাইড অক্সিজেন জেনারেটিং প্ল্যান্ট কিনতে খরচ দেখানো হয়েছে পাঁচ কোটি ২৭ লাখ টাকা। এ যন্ত্রটি হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডের পেছনে পশ্চিম পাশের রুমে স্থাপন করা  হয়েছে।

তিন বছর ধরে ওই কক্ষটি তালাবদ্ধ। তালায় জং ধরে যাওয়ায় হ্যাক্সো ব্লেড দিয়ে তালার কড়া কেটে কক্ষে ঢুকতে হয়েছে।

এ ছাড়া কোরিয়ায় তৈরি হাসপাতাল সার্টেইন সিসটেম ফর আইসিইউ/সিসিইউ শয্যা কিনতে তৈরি খরচ দেখানো হয়েছে ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। পরিচালক তার তালিকায় শয্যার পরিমাণ ‘একটি’ উল্লেখ করলেও এই ওয়ার্ডে ১৬টি শয্যা রয়েছে।

১৬টি শয্যার জন্য সাড়ে ১২ হাত দৈর্ঘ্য ও সাড়ে চার হাত প্রস্থ বিশিষ্ট আধুনিক পর্দা রয়েছে।

ওই পর্দার দাম ৩৭ লাখ ৫০ হাজার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে যন্ত্রপাতি থাকলেও কর্মকর্তা-কর্মচারী না থাকায় গত তিন বছর ধরে সিসিইউ ইউনিটটিতে কোনো কার্যক্রম নেই। ওই ওয়ার্ডের দায়িত্বে নিয়োজিত জ্যেষ্ঠ স্টাফ নার্স রাজিয়া সুলতানা জানান, তিনি প্রতিদিন এ কক্ষটি খোলেন দেখাশোনা করেন আবার বন্ধ করে দেন।

পরিচালকের প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনটি ডিজিটাল প্রসেসর সিস্টেম যা যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি উল্লেখ করে দাম দেখানো হয়েছে ১০ লাখ ২৫ হাজার টাকা। প্রকৃতপক্ষে ডিজিটাল প্রসেসর সিস্টেম যে মেশিনটি সরবরাহ করা হয়েছে সেটি কোরিয়ার তৈরি। এ যন্ত্রপাতিগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে না।

এভাবে ভ্যাকুয়াম প্ল্যান্ট’র দাম দেখানো হয়েছে ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এটি পুরোনো দন্ত বিভাগে স্থাপন করা হয়েছে। এই কক্ষটিও খোলা হয় না এবং এই যন্ত্রটিও ব্যবহৃত হচ্ছে না।

বিআইএস মনিটরিং সিস্টেম কেনা হয়েছে ২৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকায়। এই মেশিনটি অপারেশন থিয়েটারে স্থাপন করা হয়েছে বলা হলেও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

তবে স্টোরকিপার আব্দুর রাজ্জাক দাবি করেছেন, ‘এই মেশিনটি আছে হয়তো অন্য কোনো নামে কোথাও পড়ে আছে। ’

চারটি থ্রি হেড কার্ডিয়াক স্টেথিসস্কোপের দাম দেখানো হয়েছে এক লাখ ১২ হাজার পাঁচ শ টাকা। এর দুটি সিসি ওয়ার্ড ও দুটি মেইল মেডিসিন ওয়ার্ডের দুই ইউনিটে আছে। এগুলোর ব্যবহার হয়।

দুটি ফাইবার অপটিক ল্যারিনগোসস্কোপ সেটের একটি প্রসূতি  ওটিতে এবং একটি জেনারেল ওটিতে রয়েছে। এ দুটির দাম দেখানো হয়েছে ২৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

ছয়টি টোমেটিক স্কাব সিসটেম চালু আছে, যার দাম দেখানো হয়েছে ১৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

১০টি চাইনিজ সাকশন মেশিন অপারেশন থিয়েটারে আছে। দাম দেখানো হয়েছে তিন লাখ টাকা। বর্তমানে সেটি চালু আছে।

২০টি ড্র সিস্টেম ইকুইপমেন্টের দেখানো হয়েছে চার লাখ ৮৭ হাজার পাঁচ শ টাকা। আইসিইউ ওয়ার্ডে স্থাপিত। বর্তমানে ওয়ার্ড চালু না থাকায় কোনো কাজে লাগছে না।

মেডিকেল কলেজ উন্নয়ন ও বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি ক্রয়সংক্রান্ত প্রকল্পের অধীনে এ যন্ত্রপাতি কেনা হয়।

২০১২ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত মোট পাঁচজন চিকিৎসক প্রকল্প পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

এরা হলেন, আ স ম জাহাঙ্গীর চৌধুরী, এ বি এম শামসুল আলম, মো. ওমর ফারুক খান, গণপতি বিশ্বাস, আবুল কালাম আজাদ।

এর মধ্যে ওমর ফারুখ খান মারা গেছেন বলে জানা গেছে।

হাসপাতালটির তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক ডা. গণপতি বিশ্বাস বলেন, তিনি প্রকল্প পরিচালক থাকা অবস্থায় যন্ত্রপাতি ক্রয়ে দুর্নীতির কোনো ঘটনা ঘটেনি।

তিনি বলেন, আদালতে কোনো বিষয়ে মামলা হয়েছে কিংবা আদালত কী নির্দেশনা দিয়েছেন তা তার জানা নেই।

ফমেকের তৎকালীন প্রজেক্ট ডিরেক্টর ডা. আ স ম জাহাঙ্গীর চৌধুরী বলেন, আমি প্রথম প্রকল্প পরিচালক ছিলাম। যে কেনাকাটার কথা বলা হচ্ছে তা প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিল না। যা প্রকল্পের বিষয়ই ছিল না তার দায়ভার প্রকল্পের ওপর কেন বর্তাবে তা আমার বোধগম্য নয়।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বর্তমান পরিচালক কামদা প্রসাদ সাহা বলেন, আদালতের নির্দেশনা তিনি পাননি। পেলে তিনি আদালতের নির্দেশনা মেনে চলবেন। দুদক যদি তদন্ত করে তবে তাকে তিনি সহযোগিতা করবেন।

তিনি বলেন, ১০ কোটি টাকা যে সব যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে তার মূল্য কিছুটা অতিরিক্ত দেখানো হয়েছে বলে তার ধারণা।

তিনি বলেন বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।

ঘুরে দাঁড়াচ্ছে ঐক্যফ্রণ্ট, আসছে মহাসমাবেশ

রাজধানীর মাঠ থেকে একপ্রকার ছিটকে পড়লেও হারিয়ে যায়নি জাতীয় ঐক্যফ্রণ্ট। মান-অভিমান আর মতবিরোধ ভুলে আবার রাজনীতির মাঠে সরব হতে যাচ্ছে এ রাজনৈতিক জোট।

আগামী ২৯ অথবা ৩০ ডিসেম্বর ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এ সমাবেশ করার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। এতে ব্যাপক শোডাউনের মাধ্যমে রাজপথে তাদের উপস্থিতি জানান দেয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ধাক্কা সামলিয়ে এখন নতুন নির্বাচনের দাবিতে মাঠে নামতে যাচ্ছে ফ্রন্টের নেতাকর্মীদের। ঢাকার বাইরে বিভাগীয় শহরগুলোতেও পর্যায়ক্রমে সমাবেশ করবেন বলে জানিয়েছেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা।

বৃহস্পতিবার একটি জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে ঐক্যফ্রন্ট নেতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ড. কামাল হোসেনের সঙ্গ আমি বৈঠক করেছি। এবার বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি হবে বলে আমি আশাবাদী। কারণ, এভাবে একটি দেশ চলতে পারে না।

নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ

২০২০ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে এখনও কোনও ম্যাচ হারেনি বাংলাদেশ। অপরাজিত থেকেই নিশ্চিত করেছে বাছাই পর্বের ফাইনাল এবং মূল পর্ব। বাছাই পর্বে যে দুটি দল ফাইনালে খেলবে সে দুটি দলই খেলবে বিশ্বকাপে। সে হিসেবে এখন ফাইনাল ম্যাচটা নিয়ম রক্ষার তবে বাড়তি সম্মানের। হোক বাছাই পর্ব, চ্যাম্পিয়ন হবার আনন্দটা যে সব থেকে আলাদা!
গ্রুপ পর্বে যুক্তরাষ্ট্র, পাপুয়া নিউগিনি আর স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে সেমি-ফাইনালে আজ মুখোমুখি হয় আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে।

ফর্টহিলে টস হেরে প্রথমে ফিল্ডিং পায় বাংলাদেশ। তবে বোলিংয়ে নেমে আইরিশ মেয়েদের সুবিধা করতে দেননি ফাহিমা-সালমারা। পুরো ২০ ওভার খেললেও ৮৫ রানেই গুটিয়ে যায় আয়ারল্যান্ডের ইনিংস।

আইরিশ ইনিংসে বিশের ঘর পেরুতে পেরেছেন কেবল দুজন-অধিনায়ক লরা ডেলানি (২৫) আর এইমার রিচার্ডসন (২৫)। প্রেনডারগাস্ট করেন ১০ রান। বাকিরা দুই অংকও ছুঁতে পারেননি।

বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন ফাহিমা খাতুন। ৪ ওভারে মাত্র ১৮ রান খরচায় তিনি তুলে নেন ৩টি উইকেট।

লক্ষ্য ৮৬ রানের। অবশ্য আইরিশ বোলারদের তোপে পড়েছিল বাংলাদেশও। ৩০ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে হারের শঙ্কায়ও পড়েছিল টাইগ্রেসরা।

তবে সানজিদা ইসলামের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ইনিংসের ৯ বল বাকি থাকতেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পেরেছে লাল সবুজের প্রতিনিধিরা। ৩৭ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ৩২ রানে অপরাজিত থাকেন সানজিদা। এছাড়া রিতু মনি ১৫ আর ওপেনার মুরশিদা খাতুন করেন ১৩ রান। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর

আয়ারল্যান্ড নারী দল: ৮৫/১০ (২০ ওভার) রিচার্ডসন ২৫; ফাহিমা ৪-০-১৮-৩

বাংলাদেশ নারী দল: ৮৬/৬(১৮.৩ ওভার) সানজিদা ৩২*, রিতু ১৬,

ফলাফল: বাংলাদেশ ৪ উইকেটে জয়ী।

Design a site like this with WordPress.com
Get started