এরশাদকে ‘সফল রাষ্ট্রনায়ক’র স্বীকৃতি দিলো সংসদ

হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ। ফাইল ছবিSHARES

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে ‘সফল রাষ্ট্রনায়ক’ হিসেবে উল্লেখ করে জাতীয় সংসদে আনা শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। রোববার একাদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন শুরুর পর স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এ শোক প্রস্তাব সংসদে উত্থাপন করেন।

শোক প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এই সংসদ প্রস্তাব করছে যে, ‘হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে দেশ একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ, সফল রাষ্ট্রনায়ক এবং নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবককে হারালো। এ সংসদ তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ, বিদেহী রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সহমর্মিতা প্রকাশ করছে।’

শোক প্রস্তাবটি উত্থাপনের পর তার কর্মময় জীবন নিয়ে আলোচনা করছেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা। শুরুতেই বক্তব্য রাখেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্ন, ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারি প্রমুখ।

শোক প্রকাশ করলো আওয়ামী লীগও

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শোক প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়েছেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যরাও। বক্তব্যে তারা এরশাদের ভালো কাজগুলোর পাশাপাশি সমালোচনাও করেন। সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, তার নিজের নির্বাচনী এলাকা রংপুরে মেডিকলে কলেজ হাসপাতালের ব্যাপারে সব সময় আন্তরিকভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করতেন। একটি ছোট্ট জেলার জন্য তার যে মমত্ববোধ দেখেছি, বিশেষ করে রংপুরের জন্য ওই সময়ের জন্য মনে করি। একজন রাষ্ট্রপতি কিভাবে নিজের এলাকার জন্য এভাবে দরদ দেখায়?’

তিনি বলেন, এরশাদ জাতির জনককে শ্রদ্ধা করতেন। বিরোধী দলীয় নেতা থাকা অবস্থায় বার বার বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বক্তব্য রাখতেন। সবচেয়ে দুঃখজনক দুর্ভাগ্যজনক হলো এরশাদ ক্ষমতায় থাকতে জিয়াউর রহমানের পদ অনুসরণ করে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের আশ্রয় দিয়েছেন। এমনকি তিনি তথাকথিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কর্নেল ফারুকের মত ঘৃণিত খুনিকে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী করেছিলেন। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক দুর্ভাগ্যজনক এটা আমি ভুলে যেতে চাই, আজকের দিনে স্মরণ করতে চাই না। কিন্তু এ কথাগুলো বলছি এ কারণে যে, রেকর্ডে থাকবে।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য, সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু শোক প্রস্তাবের আলোচনায় মাত্র ১৭ সেকেন্ড সময় ব্যয় করেছেন। আমু বলেন, সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুজনিত কারণে শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা চলছে। আমি তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। দোসে-গুণে মানুষ সেগুলো আজকে আলোচনা না করাই ভালো। আমি তার আত্মার শান্তি কামনা করি- এই কথা বলেই তার বক্তব্য শেষ করেন তিনি।

যুব এশিয়া কাপের সেমিতে বাংলাদেশ

এক ম্যাচ হাতে রেখেই যুব এশিয়া কাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। রবিবার নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে নেপালকে হারিয়ে শেষ চার নিশ্চিত করে আকবর আলী, তৌহিদ হৃদয়রা।

রবিবার কলম্বোর পি সারা ওভালে নেপালকে ৬ উইকেটে হারায় বাংলাদেশ। ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচটিতে টস জিতে প্রতিপক্ষকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় বাংলাদেশ।শাহীন আলম, তানজিম সাকিবদের হতাশ করে স্কোরবোর্ডে বড় পুঁজি জমা করে নেপাল। ৮ উইকেটে ২৬১ রান করে দলটি। জবাবে অধিনায়ক আকবর আলী ও তৌহিদ হৃদয়ের দারুণ ব্যাটিংয়ে ৪ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

নিজেদের প্রথম ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। মঙ্গলবার স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গ্রুপের শেষ ম্যাচটি হবে গ্রুপ সেরা হওয়ার লড়াই। দুই ম্যাচের দুটিতেই জয় তুলে নিয়ে শ্রীলঙ্কাও নিশ্চিত করে ফেলেছে সেমিফাইনাল।

যুক্তরাষ্ট্রে গুলিতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নিহত

ছবি : সংগৃহীত  

বিদেশ ডেস্ক


যুক্তরাষ্ট্রে দুর্বৃত্তদের গুলিতে ফিরোজ-উল-আমিন (২৯) নামে এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। নিহত ফিরোজ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই-তে স্নাতক শেষ করে উচ্চতর ডিগ্রির জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান।

শনিবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের ব্যাটন রাউজ এলাকায় এক গ্যাস স্টেশনে ডাকাতদের গুলিতে ফিরোজ নিহত হন।

লুইজিয়ানা স্টেস্ট ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগে সাইবার সিকিউরিট’র ওপর পিএইচডি করছিলেন ফিরোজ। 

পুলিশ জানায়, স্থানীয় একটি গ্যাস স্টেশনে ক্লার্ক হিসেবে কাজ করতেন ফিরোজ-উল-আমিন। শনিবার সকালে সেখানে ডাকাতি করতে এসে সেখানে কর্মরত ফিরোজকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

নৃগোষ্ঠী নারী গণমাধ্যম কর্মীদের কথা!

রফিকুল ইসলাম জসিম :

 নৃগোষ্ঠী নারীরা বরাবরই পুরুষের সাথে মাঠে ঘাটে কাজ করে অভ্যস্ত। বরং নৃগোষ্ঠী কোন কোন সমাজে দেখা যায় পুরুষদের থেকে নারীরা বেশি কাজে লিপ্ত থাকে। বর্তমান সময়ে নারীরা আধুনিক চ্যালেঞ্জিং পেশায় যুক্ত হচ্ছেন। সে সব ক্ষেত্রগুলোতে নিজেদের দক্ষতা দিয়ে কাজ করে চলেছেন নৃগোষ্ঠী নারীরা। এমনই একটা চ্যালেঞ্জিং পেশা গণমাধ্যম কর্মী হিসেবে আমাদের নৃগোষ্ঠী নারীরা নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে চলেছেন। অনেকেই রিপোর্টিং, ডেস্ক এবং সংবাদ উপস্থাপনায় কাজ করে চলেছেন। তাদের মধ্য থেকে আমরা আজকে তিনজন নারী গণমাধ্যম কর্মীদের কাজ সম্পর্কে জানবো, জানবো তাদের এই পথচলার গল্প। আমরা এটিএন নিউজের স্পোর্টস রিপোর্টার জেনিয়া চিসিম, চ্যানেল ২৪ এসাইনমেন্ট ডেস্কের লুসিয়া চাকমা এবং চ্যানেল ২৪ এর সংবাদ পাঠিকা ও বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের অনুষ্ঠান উপস্থাপক সোহেলী চাকমার কথা আপনাদের শোনাবো।

জেনিয়া চিসিম
ক্রীড়া প্রতিবেদক, এটিএন নিউজ।


জেনিয়া চিসিম এটিএন নিউজে ২০১৭র মার্চে ক্রীড়া প্রতিবেদক হিসেবে যোগদান করেন। প্রায় ২ বছর হতে চলেছে তার সাংবাদিকতা জীবনের। বলা যায় পড়াশুনার বিষয় হিসেবে গনযোগাযোগ ও সাংবাদিকতার শিক্ষার্থী হওয়ার ফলেই পেশা হিসেবে সাংবাদিকতাকে বেছে নেয়া। এই বিষয়ে পড়তে এসে নিজের ব্যাক্তিগত ধরণের সাথে মিল পেয়েছেন বলে অন্যরকম এক বন্ধন ও ভালোবাসা জন্ম নেয় সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের প্রতি। দুইয়ে দুইয়ে মিলে চার হয়ে যাওয়া যেনোবা। তাইতো জেনিয়া চিসিমের কাছে সাংবাদিকতা কেবল একটা পেশা নয়, বরং অনেকটাই প্রচন্ড আবেগের ব্যাপার তার কাছে।

ক্রীড়া প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করার ব্যাপারে জেনিয়া চিসিমের ভাষ্য হলো, ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ ছিলো অনেক। নিজেও ক্রিকেট, ফুটবলসহ সব ধরণের খেলাধুলা করেছি। তাছাড়া আন্তর্জাতিক খেলাধুলা খবরাদি রাখতাম সবসময়। মোটকথাআমি খেলাধুলা ভালোবাসি।সে কারনেই ক্রীড়া সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছি। জেনিয়া চিসিম সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে নিজেকে ক্রীড়া প্রতিবেদকের থেকেও বরং একজন খেলোয়ার হিসেবে ভাবতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। সে কারনে কাজের ক্ষেত্রে খুব একটা বেগ পেতে হয়না বলেই তার বিশ্বাস। তবে আদিবাসী হিসেবে ভাষাগত সমস্যার সন্মুখীন হয়েছেন শুরুতে। কিন্তু কাজের প্রতি আন্তরিকতা থেকে সেই সমস্যা কাটিয়ে উঠেছেন, প্রতিনিয়ত চর্চার ভেতর দিয়ে।

তার পথ চলায় পরিবারের সবসময় সমর্থন ও উৎসাহ ছিলো। ছোটবেলা থেকে যেটাই করতে চেয়েছেন তাই করতে উৎসাহ যুগিয়ে গেছেন পরিবারের সকলে মিলে। ছোটবেলা অনেক দুরন্তপানায় কাটিয়েছেন। চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করেন জেনিয়া চিসিম। তাইতো ক্রীড়া প্রতিবেদকের মতন একটা চ্যালেঞ্জিং পেশার প্রতি এতোটা টান অনুভব করেন তিনি। সাংবাদিকতায় নিজেকে মেলে ধরতে চান এই নবীন সাংবাদিক। বাংলাদেশের অন্যতম খ্যতিমান সাংবাদিক মুন্নি সাহা সাংবাদিকতায় তার কাছে আদর্শ। সাংবাদিকতা করতে এসে সেই মুন্নি সাহার হাত ধরে এগিয়ে যেতে পারাকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।

আদিবাসী মান্দি জাতিগোষ্ঠির জেনিয়া চিসিমের জন্মস্থান ময়মনসিংহের ধোবাউড়া গ্রামে। প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন গ্রামের সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এরপর ২০০৮ সালে ধাইড়পাড়া উচ্চ মাধ্যমিক থেকে এসএসসি, ২০১০ সালে ইউনিভার্সিটি ওমেন্স ফেডারেশন কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ২০১৫-২০১৬ তে স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাশ করেন তিনি।

লুসিয়া চাকমা
অ্যাসাইনমেন্ট ডেস্ক, চ্যানেল ২৪।


সারাদিন কোন রিপোর্টার কোথায়, কখন, কেন ও কিভাবে যাবে এবং কোন সংবাদ কেমন গুরুত্ব পাবে বা কোন সংবাদটা কোথায় আছে তা দেখভাল করা অ্যাসাইনমেন্টডেস্কের কাজ। বলা যায় একটা সংবাদ মাধ্যমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই ডেস্ক। এ কাজেই যুক্ত রাঙামাটির চাকমা আদিবাসী মানুষ লুসিয়া চাকমা। ২০১৪ সাল থেকে তিনি এই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন চ্যানেল ২৪ এ।
নিজের কাজটুকু বেশ উপভোগ করেন লুসিয়া চাকমা। কাজটা সম্পর্কে জানেন বলেই হয়তো কাজটা উপভোগ করা যায় বলে তিনি মনে করেন। তাছাড়া দীর্ঘ সময় একই জায়গায় কাজ করার ফলে ভালো লাগাটা কাজ করে বেশি। কাজ করতে এসে আদিবাসী নারী হিসেবে খুব বেশি প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়নি তার। কাজ নিয়ে আপাতত কোন ভবিষ্যত ভাবনা নেই লুসিয়া চাকমার। তবে নিজের জাতির জন্য ভালো হয় এমন কিছু করবার ইচ্ছে রয়েছে ষোলআনা।
ছোটবেলা থেকেই তার মাকে তিনি দেখেছেন ঘরে-বাইরে সব কাজে তার বাবার সাথে অংশ নিতে। সংসারের যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে মায়ের ভূমিকা দেখে দেখে বড় হয়েছেন লুসিয়া চাকমা। নিজের ব্যাক্তিগত জীবনে মায়ের প্রভাব তাই সুদূরপ্রসারী হয়ে ওঠেছে। ফলে লুসিয়া চাকমার জীবনে অনুপ্রেরণার বড় একটা জায়গা জুড়ে রয়েছেন তার মা । লুসিয়া মনে করেন পড়াশুনা করলেই কেউ বড় মানুষ হয়ে যায়না, সে জন্যই সবসময় মানুষ হবার তাড়না নিজের ভেতর পুষে রাখেন।
বাবা-মার একমাত্র সন্তান লুসিয়া চাকমা রাঙামাটি সদরের কলেজ গেইট এলাকায় জন্মগ্রহন করেন। ২০০৩ সালে রাঙামাটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন। ২০০৫ সালে রাঙামাটি সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করার পর ভর্তি হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে। সেখান থেকেই স্নাতক ও ২০১২ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন তিনি।

সোহেলী চাকমা ত্রিপুরা
সংবাদ পাঠিকা, চ্যানেল ২৪।

সবাইকে সংবাদ জানানোর কাজ করেন একজন সংবাদ পাঠিকা। তাদের কন্ঠ ও উপস্থাপনার ভঙ্গিতে বিভিন্ন বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। সোহেলী চাকমা মানুষের কাছে সংবাদ উপস্থাপন করার কাজ করেন চ্যানেল ২৪ এ ২০১৭ সাল থেকে। তবে তার এই যাত্রা আরো আগে শুরু হয়েছিলো। ২০১৪ সাল থেকে বাংলাদেশ টেলিভিশনে চট্টগ্রাম কেন্দ্রের অনুষ্ঠান উপস্থাপনার মাধ্যমে তার এই অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছিলো। এখনো তিনি বিটিভিতে কাজ করে চলেছেন।এরপর ২০১৫-১৬ সালে এটিএন বাংলার শৈল-সমতল অনুষ্ঠানও উপস্থাপন করেন।
সোহেলী চাকমা সংবাদ পরিবেশনার কাজ বা অনুষ্ঠান উপস্থাপনার কাজকে ভালোবাসার কাজে পরিণত করেছেন। তার মতে পেশা ও আবেগের, ভালোবাসার মিশ্রন ঘটেছে এই উপস্থাপনার কাজে। তার ইচ্ছে আর যাই হোক এই উপস্থাপনার কাজ তিনি ছাড়বেননা কখনোই।
সোহেলী চাকমার জীবনে রয়েছে অন্য আরেক গল্প যেটা তার কাছে আনন্দের আবার অনেকের কাছেই সেটা ঈর্ষার। গল্পটা তার দ্বৈত সংস্কৃতির উত্তরাধিকারী হবার। মা ত্রিপুরা ও বাবা চাকমা হওয়ার সুবাদে এই দুই জাতিগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক আবহে বেড়ে ঊঠেছেন তিনি। দুটো সংস্কৃতিকেই ভালোবাসেন, নিজের করে নিয়েছেন।সোহেলী চাকমা কিংবা ত্রিপুরা দুটো নামেই তিনি স্বাচ্ছন্দবোধ করেন তাই। তবে মা যেহেতু বেশি সময় দিতো তাই ত্রিপুরা সংস্কৃতি ভাষা রপ্ত হয়েছে বেশি। ত্রিপুরা ছাত্র সংগঠনের কাজেও লিপ্ত ছিলেন পুরোদমে। কিন্তু এই বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির সাথে আনন্দে বেড়ে উঠার সাথে সাথে সয়তে হয়েছে লোকের নানান অবহেলা। চাকমা ছেলে-মেয়েরা তাকে ত্রিপুরা মেয়ে হিসেবে আলাদা করে দেখতো, আবার ত্রিপুরারা চাকমা বলে কিছুটা এড়িয়ে চলতো। সংগঠন করার পরও অনেকের কাছে নানান কথা শুনতে হয়েছে। কিন্তু এই সব কে কখনোই খুব আমলে নেননি তিনি। দৃপ্ত পায়ে এগিয়ে গেছেন এই দুই সংস্কৃতিকে সন্মান করে ও ভালোবেসে। কিন্তু তিনি এও মনে করেন যারা এমন দ্বৈত সংস্কৃতির বাহক সমাজের উচিৎ তাদের আরো বেশি উৎসাহ দেয়া, যাতে হীনমন্যতায় ভুগতে না হয়, জীবন চলার পথ থমকে না যায়।

বাবার সরকারী চাকুরীর ফলে সোহেলী চাকমার জন্ম হয়েছে গাজীপুরে, কিন্তু বেড়ে ওঠা খাগড়াছড়িতে। পড়াশুনায় বরাবরই ভাল সোহেলী চাকমার শিক্ষা জীবনের শুরু খাগড়াছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। এরপর এসএসসি পাশ করেন খাগড়াছড়ি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও এইচএসসি পাশ করেন খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ থেকে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাচ্যভাষা সংস্কৃত নিয়ে স্নাতকোত্তর করছেন তিনি। ভবিষ্যতে একটা অনাথ আশ্রম গড়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি, যেখানে মাতৃ-পিতৃহীন শিশুরা বেড়ে উঠতে পারবে সকল সম্ভাবনা নিয়ে।

মির্জা সাখাওয়াৎ হোসেনের পরিচালনায় নির্মিত হচ্ছে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘অর্জন-৭১’

মুক্তিযুদ্ধে পুলিশ বাহিনীর আত্মত্যাগ আর কৃতিত্বের কাহিনী নিয়ে মির্জা সাখাওয়াৎ হোসেনের পরিচালনায় নির্মিত হচ্ছে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘অর্জন-৭১’।

শনিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে হয়ে গেল এ সিনেমার সাইনিং ও আশীর্বাদ অনুষ্ঠান।

মুক্তিযুদ্ধে পুলিশ বাহিনীর আত্মত্যাগের কথা সিনেমার মাধ্যমে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়ায় নির্মাতাকে ধন্যবাদ জানান আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম।

তিনি বলেন, “এটা অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের বিষয়। মুক্তিযুদ্ধ শুধু নয় মাসের একটি ঘটনা নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে অনেক ত্যাগের ইতিহাস।”

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজকদের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আরও বেশি কাজ করার আহ্বান জানান নাসিম।


অনুষ্ঠানে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমান বলেন, পুলিশ একটি গর্বের ও অহঙ্কারের চাকরি। পুলিশকে নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র নিঃসন্দেহে একটি ভালো উদ্যোগ। আমি অনুরোধ করব, অন্য পরিচালকরাও যেন সামনে পুলিশকে নিয়ে সিনেমা তৈরিতে উৎসাহী হন।

‘অর্জন-‘৭১’-এর পরিচালক মির্জা সাখাওয়াৎ বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের প্রায়ই বলতেন মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে। আমার এ চলচ্চিত্রটি মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা নিয়ে। আশা করি সবার ভালো লাগবে।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের সদস্যরা থ্রি নট থ্রি রাইফেল নিয়েই পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ট্যাংক, কামান আর মেশিনগানের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। প্রথম সেই প্রতিরোধ যুদ্ধ পরে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে।

নির্মাতা মির্জা সাখাওয়াৎ বলেন, “মুক্তিযুদ্ধে শহীদ এগারোশ পুলিশ সদস্যের মধ্যে একজন ছিলেন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের মিয়া। তার আত্মত্যাগের কাহিনী নিয়েই মূলত সিনেমার গল্পটি তৈরি হয়েছে।”

এ চলচ্চিত্রের জন্য চিত্রনাট্য লেখার কাজে সহযোগিতার জন্য আব্দুল কাদের মিয়ার বড় মেয়ে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা নূর জাহান বেগম কিরণকে ধন্যবাদ জানান সাখাওয়াৎ।

যে পুলিশ সদস্যকে ঘিরে এ সিনেমার কাহিনী গড়ে উঠেছে, সেই এসআই আব্দুল কাদের মিয়া মুক্তিযুদ্ধের সময় ছিলেন পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

১৯৭১ সালের ২৭মার্চ তার নেতৃত্বেই দেবীগঞ্জ থানা ও আনসার ক্লাবের সামনে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। অনুগত পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে নিয়ে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন তিনি ।

এমনই এক সম্মুখ সমরে আহত কাদের স্ত্রী-সন্তানদের দেখতে বাড়িতে এলে রাজাকাররা তাকে পাকিস্তানি সেনাদের হাতে ধরিয়ে দেয়। তাকে থানায় নিয়ে নির্যাতন করার পর গুলি করে হত্যা করা হয়।

সাখাওয়াৎ বলেন, “মুক্তিযুদ্ধে পুলিশ বাহিনীর অংশগ্রহণ, রাজারবাগ আক্রমণ ও প্রতিরোধ যুদ্ধ, সারদা পুলিশ অ্যাকাডেমিতে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ, মুজিবনগরে বাংলাদেশ সরকারকে পুলিশের নেতৃত্বে গার্ড অব অনার দেওয়া এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা পুলিশ সদস্য আবদুল কাদের মিয়ার আত্মত্যাগ- সব নিয়েই এ সিনেমার চিত্রনাট্য সাজানো হয়েছে।”

এ সিনেমায় মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাদের মিয়ার চরিত্রে অভিনয় করবেন শতাব্দী ওয়াদুদ। আর তার স্ত্রী ফিরোজার ভূমিকায় দেখা যাবে চিত্রনায়িকা মৌসুমীকে।

সাইনিং ও আশীর্বাদ অনুষ্ঠানে মৌসুমী বলেন, “এই সিনেমায় তুলে ধরা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশের ভূমিকা। তারা কীভাবে মুক্তিযুদ্ধকে সফল করে তুলেছে এই চলচ্চিত্রে সেটিই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে একজন পুলিশ অফিসারের পরিবারের গল্পের মাধ্যমে। এটা একজন মহানায়ক না, বরং অনেক মহানায়ক, অনেক মুক্তিযোদ্ধার গল্প।”

‘অর্জন-‘৭১’ চলচ্চিত্রটির নায়িকা মৌসুমী আরো বলেন, চলচ্চিত্রটির স্ট্ক্রিপ্ট হলো মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় অধ্যায় নিয়ে। এর বেশি কিছু বলার সময় এখনও আসেনি। আশা করি ভালো একটি চলচ্চিত্র উপহার দিতে পারব।


অক্টোবরে সিনেমাটির চিত্রধারণ শুরু হবে। ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষে চলচ্চিত্রটির মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।

অধিকারকর্মী সংসদ সদস্য আরমা দত্ত, পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি আব্দুর রহিম খান, ‘অর্জন-৭১’ এর নির্বাহী প্রযোজক এস এম আবদুল হালিম বাশার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

রোহিঙ্গাদের জন্য নতুন আবদার

রোহিঙ্গাদের জন্য নতুন আবদার

নতুন রোহিঙ্গা ঢল আসার দুই বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সংকট সমাধানের লক্ষ্যে তেমন কিছুই করতে পারেনি বিশ্বসম্প্রদায়। জাতিসংঘ এবং প্রভাবশালী পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতিনিধিদের এখনো রাখাইনে যেতে দেয় না মিয়ানমার সরকার।এ দেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন ঝুলে গেছে। অন্যদিকে এ দেশেই রোহিঙ্গাদের জন্য নতুন নতুন আবদার জানাচ্ছে মানবিক সহায়তা দেওয়া বিভিন্ন সংস্থা।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা যায়, দুই দফা প্রত্যাবাসন শুরু করার উদ্যোগ ভেস্তে যাওয়া এবং ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গাদের বিশাল সমাবেশের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার বেশ কিছু সতর্কতামূলক উদ্যোগ নিয়েছে। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো রোহিঙ্গাদের অবৈধভাবে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহার বন্ধ করা। তবে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট সেবার ওপর কড়াকড়ি আরোপের পরিপ্রেক্ষিতে দৃশ্যত অসন্তুষ্ট মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা (আইএনজিও)।

ওই সংস্থাগুলো মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট সেবা দেওয়াই শুধু নয়, উন্নত অবকাঠামো নির্মাণ এবং অবাধ চলাফেরার সুযোগসহ এ দেশে রোহিঙ্গাদের নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের দাবি জানাচ্ছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে বলেছে, এ দেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের পানি ও স্যানিটেশন সেবা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। রোহিঙ্গারা অস্থায়ী শিবিরে থাকলেও তাদের পানি ও স্যানিটেশনের অধিকার পূরণ করতে বাংলাদেশ সরকার বাধ্য।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের ‘মানবাধিকার লঙ্ঘনের’ অভিযোগ তুলে তাদের ওপর থেকে বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।একই সঙ্গে সংস্থাটি রোহিঙ্গাদের জন্য জরুরি সাড়াদান কর্মসূচির বাইরে গিয়ে ‘শরণার্থী’ হিসেবে সুরক্ষা ও মানবাধিকার সমুন্নত রেখে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

বাংলাদেশ ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে এ দেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ‘শরণার্থী’ হিসেবে স্বীকৃতি না দিলেও শরণার্থী হিসেবে

প্রাপ্য অনেক সুবিধা দিচ্ছে। বিশেষ করে, জোর করে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর কথা ভাবছে না বাংলাদেশ। কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের চাপ কিছুটা কমাতে বাংলাদেশ এক লাখ রোহিঙ্গাকে নোয়াখালীর ভাসানচরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করলেও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার আপত্তিতে তা এখনো সম্ভব হয়নি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনই মূল লক্ষ্য।

এদিকে নিউ ইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডাব্লিউ) গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের চলাফেরার স্বাধীনতা, ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার দাবিসহ সাম্প্রতিক সময়ে চারজন রোহিঙ্গা নিহত হওয়ার বিষয়টি তদন্ত করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। রোহিঙ্গা শিবিরে বর্ধিত নজরদারি, শিবিরের বাইরে চলাফেরায় কড়াকড়ি এবং রোহিঙ্গা সমাবেশ আয়োজনে সহায়তা দেওয়া এনজিওগুলোর বিরুদ্ধে সরকারি সিদ্ধান্তের সমালোচনাও করেছে এইচআরডাব্লিউ।

সংস্থাটির এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেছেন, রোহিঙ্গাদের টেলিফোন যোগাযোগ ও চলাফেরার ওপর কড়াকড়িতে দুর্ভোগ বেড়েছে।

নিউ ইয়র্কে এ মাসেই হতে পারে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক : জানা গেছে, এ মাসের শেষ সপ্তাহে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও চীনের মধ্যে মন্ত্রীপর্যায়ের বৈঠক হতে পারে। গত ২২ আগস্ট রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন উদ্যোগ ভেস্তে যাওয়ার সময় কক্সবাজারে চীন দূতাবাসের রাজনৈতিক শাখার কূটনীতিকও উপস্থিত ছিলেন।

রোহিঙ্গা সংকট কিভাবে সমাধান হবে তা নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে এশীয় দেশগুলোর অবস্থানগত বড় পার্থক্য আছে। পশ্চিমা দেশগুলো এবং তাদের অর্থায়নে পরিচালিত এনজিওগুলো চায় রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফেরার আগে সেখানে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা হোক। অন্যদিকে এশীয় দেশগুলো মনে করে, ফিরে যাওয়াটাই মূল অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

এশীয় অঞ্চলের প্রভাবশালী একটি দেশের এক কূটনীতিক গত বৃহস্পতিবার নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, বিপদে পড়ে এ দেশে আসা রোহিঙ্গাদের অতিথি হিসেবে আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। এখন ‘অতিথিরা’ দাবি করতে পারে না যে দাবি পূরণ হওয়ার আগ পর্যন্ত তারা যাবে না।

ওই কূটনীতিক বলেন, মিয়ানমারের কাছে রোহিঙ্গাদের দাবি-দাওয়ার মধ্যে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়া ঠিক হবে না।

ঢাকার সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, চীন বাংলাদেশকে জানিয়ে দিয়েছে যে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের বিষয়টি তুললে মিয়ানমার রাজি হবে না।

সুখ খুঁজতে গিয়ে ইসলাম খুঁজে পেয়েছি

নওমুসলিমের কথা

মেলানিয়া জর্জিয়াস তাঁর পুরো নাম। ডিয়ামস নামেই অত্যধিক পরিচিত।ছিলেন ফ্রান্সের প্রথম র্যাপ গায়িকা। ১৯৯৯ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে প্রায় চার মিলিয়ন রেকর্ড বিক্রি হয়েছিল তাঁর। ২০০৮ সালে ইসলাম গ্রহণ করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলে ইসলাম গ্রহণের কারণ ব্যাখ্যা করেন। তাঁর সেই বক্তব্যের চুম্বকাংশ তুলে ধরা হলো।

২০০৭ সালে তাঁর একক বেশ কিছু অ্যালবাম প্রচুর জনপ্রিয়তা পায়। রেকর্ড বোর্ডেও নিয়ে আসে বিভিন্ন পরিবর্তন। কিন্তু এত সাফল্য ও সুখকর জীবন সত্ত্বেও তিনি ভীষণ উৎকণ্ঠা ও গভীর উদ্বেগ বোধ করেছিলেন। খুঁজে ফিরছিলেন সুখ নামের ‘সোনার হরিণ’।সুখের সন্ধান করতে গিয়ে খুঁজে পান ইসলাম।

অর্থবিত্ত, সাফল্য ও প্রভাব-প্রতিপত্তি—সব ছিল তাঁর জীবনে। তিনি বলেন, ‘অর্থ, সাফল্য ও শক্তি আমাকে খুশি-সুখী করতে পারেনি। সুখের সন্ধানে আমি অস্থির ছিলাম। আমি অনেক বেশি দুঃখ ভারাক্রান্ত ছিলাম। নিজেকে খুব একাকী ও নিঃসঙ্গ অনুভূত হতো। আমি জানতাম না, আল্লাহর সঙ্গে আমার কথা বলতে হবে। আমি যখন কোনো সুখের বিষয় কিংবা দুঃখের বিষয়ের মুখোমুখি হই তখন আল্লাহ আমার দোয়া-প্রার্থনা শোনেন। ’

যেদিন হিজাব পরিহিত তাঁর ছবি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়, সেই দিনটি কেমন ছিল সে সম্পর্কে ডিয়ামস বলেন, ফরাসিদের জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা ছিল। আমি কিভাবে এত পরিবর্তিত হলাম, এটি ভেবে তারা অবাক হয়েছিল। বাস্তবেই হিজাব তাদের কাছে অস্বাভাবিক একটি বিষয়। কারণ তারা শুধু আমাকে একজন গায়িকা হিসেবেই দেখে।

সৌদি আরবের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম আরব নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাবেক এই ফরাসি গায়িকা জানান, ইসলাম গ্রহণের পর প্রথম প্রথম তিনি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে খুব বেশি কথা বলতেন না। কারণ তখন কী বলতে হবে, তা তিনি জানতেন না। তিনি বলেন, ‘আশ্চর্যজনক হলেও সত্য যে যখন আমার আল্লাহর অস্তিত্বের প্রতি বিশ্বাস তৈরি হলো, তখনো আমি একজন খ্রিস্টান ছিলাম। উপরন্তু আমি জানতাম না আমার কী করণীয়। ’

তিনি বলেন, ‘এসব জিনিস, অর্থ, সাফল্য ও শক্তি আমাকে সুখ ও আনন্দ দিতে পারেনি। আমি সুখের সন্ধান করছিলাম। আমি খুব, খুব দুঃখ ভারাক্রান্ত ছিলাম। শত মানুষের মাঝেও নিঃসঙ্গ ও একা ছিলাম। ’

২০০৮ সালে তাঁর দুটি সংগীত সর্বাধিক বিক্রি হয়। এটি তাঁর অন্যতম সফল বছর। এ বছর তিনি সেরা ফরাসি শিল্পী হিসেবে এমটিভি ইউরোপীয় সংগীত পুরস্কার লাভ করেন। পাশাপাশি সেরা শিল্পী, সেরা অ্যালবাম ও সেরা সংগীত ইত্যাদি ক্যাটাগরিতে এনআরজেড মিউজিক অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হন।

জর্জিয়াসের জীবনে পরিবর্তন আসে তাঁর সৌসৌ নামের এক বান্ধবীর মাধ্যমে। যখন জর্জিয়াস তাঁর বাড়িতে বেড়াতে যান তখন তাঁর জীবনে দারুণ একটা প্রভাব পড়ে। সেই সময় সৌসৌর জর্জিয়াসকে অনুরোধ করেন, সন্ধ্যায় কয়েক মিনিটের জন্য নামাজ পড়তে যেতে। তখন জর্জিয়াস হঠাৎ করেই তাঁর বন্ধুর সঙ্গে প্রার্থনায় যোগ দেন। মুসলমানরা কিভাবে নামাজ আদায় করে, তা জর্জিয়াসের জানা ছিল না। এর পরও তিনি সৌসৌকে অনুসরণ করে ইবাদত করেন এবং জীবনে প্রথমবারের মতো আল্লাহর সামনে সিজদা করেন। তিনি বলেন, ‘আমি যখন তার সঙ্গে নামাজ পড়লাম তখন আল্লাহর সঙ্গে অলৌকিক যোগাযোগ অনুভব করেছি। আমি পুরোপুরি নিশ্চিত হয়েছি যে নিশ্চয় আল্লাহর অস্তিত্ব রয়েছে। আমি যখন নিজে নিজে সিজদা করলাম তখন আমি প্রভুর সঙ্গে আমার সম্পর্ক অনুভব করি। এ ছাড়া আমি যত বেশি কোরআন পড়ি আমার বিশ্বাস তত পোক্ত হয়। ’

জর্জিয়াসের বন্ধু এর পরই তাঁকে পবিত্র কোরআনের একটি কপি উপহার দিয়েছিলেন। মরিশাস ভ্রমণের সময় জর্জিয়াস এটি পড়তে শুরু করেন। জর্জিয়াস বলেন, ‘এটি একটি প্রত্যাদেশ ছিল। আমি গভীরভাবে নিশ্চিত হয়েছি যে সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব রয়েছে। আমি যত বেশি পড়ছিলাম তত বেশি দৃঢ়প্রত্যয়ী হয়ে উঠি। ততক্ষণে আমি এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করি। তবে আমি মনে মনে খ্রিস্টান ছিলাম। তখন দুঃখ ও মনঃকষ্টে ভুগছিলাম। ’

২০০৮ সালের ডিসেম্বরে জর্জিয়াস ইসলাম গ্রহণ করেন। মেলানিয়ার জীবন তখন সাফল্য-কীর্তি মধ্যগগনে। কিন্তু ইসলাম গ্রহণের পর হঠাৎ করে সব ধরনের গানের দৃশ্য ও জনসাধারণের দৃষ্টি থেকে পুরোপুরি আড়ালে চলে যান তিনি।

কিন্তু ২০০৯ সালে ফটোগ্রাফার তাঁকে পেয়ে বসেন। তখন তিনি ফ্রান্সের জেনিভিলিয়ার্সের একটি মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন। হিজাব পরিহিত ও মাথা থেকে পা পর্যন্ত আপাদমস্তক একটি বোরকায় নিজের শরীর আবৃত করে রেখেছিলেন তিনি। ফটোগ্রাফার যখন তাঁর ছবি তোলেন তখন তিনি নিজেকে দ্রুত সরিয়ে নেন।

ছবিগুলো প্যারিস ম্যাচ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হলে ফ্রান্সের মানুষ ও অন্য দেশে তাঁর ভক্তরা খুব অবাক হয়েছিল। কারণ ফরাসি সমাজ তাঁকে চিনত হিপ হপ সংগীতের আইকন হিসেবে, যিনি টাইট প্যান্ট ও ট্যাংক-টপ পরে সংগীত পরিবেশন করেন। ওই সময়টাতে জনসাধারণের জন্য ব্যবহৃত উন্মুক্ত জায়গায় হিজাব পরিধানে নিষেধাজ্ঞার একটি আইন পাস বিষয়ে ফ্রান্সে বিতর্ক চলছিল। ছবিগুলো সেই ‘বিতর্কের আগুনে ঘি ঢালে’। জর্জিয়াস তখন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন। ফলে তিনি জনবিদ্বেষের রোষানলে পড়েন।

২০০৯ সালের নভেম্বরে জর্জিয়াস মনে করেন, ইসলামের প্রতি তাঁর মনোনিবেশের কথা ভক্তদের কাছে ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি কী কারণে জীবনে পরিবর্তন এসেছে, তা স্পষ্ট করাও জরুরি। তখন শেষবারের মতো তিনি সংগীতে ফিরে এসে তাঁর একক অ্যালবাম ‘এসওএস’ থেকে ‘মরুভূমির শিশু’ গানটি প্রকাশ করেন।

গানে তিনি ফ্রান্সের সমাজের অসহিষ্ণুতা বর্ণনা করেন। পাশাপাশি উল্লেখ করেন যে তিনি ইসলাম গ্রহণের পর তাঁর সমাজ তাঁকে সমর্থন না করে অনেক দূরে ঠেলে দিয়েছিল। এবং তিনি অনুভূতির প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা না করে কোথাও একটি নতুন জীবন খুঁজছিলেন। এ ছাড়া একজন মুসলিম হিসেবে আত্মপ্রকাশের সময় তিনি কী অনুভব করছিলেন, তা তুলে ধরেন।

মুসলিম হওয়ার পর সামাজিকভাবে ঝামেলা সত্ত্বেও তিনি তাঁর জীবনের অন্য সময়ের চেয়ে শান্তিতে ছিলেন বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ইসলাম গ্রহণের আগে আমি আমার জীবনে খুব দুঃখ অনুভব করেছি। কারণ আমি বুঝতে পারিনি যে আমার প্রভুর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন আমার আবশ্যকীয় কর্তব্য ছিল। এখন আমার জীবনে ভালো-মন্দ যা কিছু হোক, আমি জানি আমার এমন আল্লাহ আছেন, যিনি আমার কথা শোনেন এবং আমার প্রার্থনার উত্তর দেন। ’

২০১৭ সালে জর্জিয়াস তাঁর স্বামী (ফ্রান্স-তিউনিশিয়ার সাবেক র‌্যাপ শিল্পী) ফৌজি তরখানির সঙ্গে সৌদি আরবে চলে আসেন। ফ্রান্সে চলমান ইসলাম ফোবিয়া এবং অন্যান্য অসুবিধা-কষ্ট থেকে দূরে থাকতে তাঁরা সৌদিতে বাড়ি তৈরি করে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তিনি এখন স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে সৌদিতে থাকতে পেরে অনেক খুশি ও আনন্দ প্রকাশ করেন।

সৌদিতে তিনি সাংসারিক কাজকর্মের পাশাপাশি লেখালেখি ও বিগ আপ প্রজেক্ট নামে নিজের একটি প্রকল্পে কাজ করছেন। প্রকল্পটির মাধ্যমে আফ্রিকার সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সহায়তা করা হয়।

আরবনিউজ

থাইল্যান্ডকে উড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের মেয়েরা

আবারও বাছাই পর্বের চ্যাম্পিয়ন হয়ে মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পা রাখছে বাংলাদেশ। শনিবার ফাইনালে তারা ৭০ রানে হারিয়েছে প্রথমবার বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে পা রাখা থাইল্যান্ডকে।

ডান্ডির ফোর্টহিলে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। সানজিদা ইসলামের হাফসেঞ্চুরিতে ৫ উইকেটে করে তারা ১৩০ রান। বোলারদের নৈপুণ্যে থাইদের ৭ উইকেটে ৬০ রানে থামায় তারা।

গত বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ফাইনালে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। এবারও তারা টুর্নামেন্ট সেরা হয়ে চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে। সিডনিতে আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে বিশ্বমঞ্চের লড়াই। উদ্বোধনী দিনের ৩ দিন পর ২৪ ফেব্রুয়ারি পার্থের ওয়াকায় বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচ খেলবে ভারতের বিপক্ষে। ‘এ’ গ্রুপে তাদের অন্য প্রতিপক্ষ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা।

বাছাইয়ের ফাইনালে আগে ব্যাট করতে নেমে দারুণ শুরু করে বাংলাদেশ। সানজিদা ও মুর্শিদা খাতুনের ৬৮ রানের উদ্বোধনী জুটিতে বড় স্কোরের আভাস দেয় তারা। কিন্তু মুর্শিদা ৩৩ রানে ফিরে যাওয়ার পর রানের গতি কমে যায়।

অন্য ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে উপযুক্ত সঙ্গ না পেলেও সানজিদা নিজের কাজ ঠিকমতো করে গেছেন। ৬০ বলে ৬ চার ও ৩ ছয়ে ইনিংস সেরা ৭১ রানে অপরাজিত ছিলেন। আর কোনও ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের ঘরে রান করতে পারেননি।

থাইল্যান্ডের পক্ষে সর্বোচ্চ ২ উইকেট নেন নাতায়া বুচাথাম। একটি করে পান সোরনারিন টিপোচ ও সুলিপরন লাওমি।

১৩১ রানের লক্ষ্য দিয়ে নাহিদা আক্তারের বোলিংয়ে শুভ সূচনা করে বাংলাদেশ। এই বাঁহাতি স্পিনার তার প্রথম দুই ওভারে উইকেট নেন। এই বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে পারেনি থাইল্যান্ড। ৭ রানে ২ উইকেট হারানো দলটি শেষ দিকে শায়লা শারমিনের ডানহাতি স্পিনে কাবু হয়।

১৭তম ওভারে ৪১ রানে ৭ উইকেট হারায় থাইল্যান্ড। এরপর আর কোনও উইকেট না হারালেও লড়াইয়ে ফিরতে পারেনি তারা। কেবল ওংপাকা লিয়েঙ্গপ্রাসার্ট (১১) ও রাতানাপরন পাদুঙ্গলার্দ (১৫) দুই অঙ্কের ঘরে রান করেন।

বাংলাদেশের পক্ষে দুটি করে উইকেট নেন নাহিদা ও শায়লা। একটি করে পান সালমা খাতুন ও খাদিজা তুল কুবরা। ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন সানজিদা।

‘জীবনে সুখ-শান্তির বড় অন্তরায় ‘বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ড’ সংস্কৃতি’

মাওলানা তারিক জামিল। পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় আলেম ও দাঈ। ভারতের ঐতিহ্যবাহী দীনি বিদ্যাপীঠ দারুল উলুম দেওবন্দের ছাত্র এবং পাক তাবলিগ জামাতের মুরুব্বি। তরুণদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বিশেষ একটি বয়ানের ছোট্র অংশ মণিপুরি মুসলিম বিডি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো। অনুবাদ ও সম্পাদনা করেছেন কিব মুহাম্মদ। 


সমাজের প্রতিটি সেক্টরে বয়ফ্রেন্ড, গার্লফ্রেন্ড সংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়ছে। নির্লজ্জ এ সংস্কৃতি পশ্চিমাদের মাধ্যমে সারা বিশ্বব্যাপী মহামারির আকার ধারণ করছে। আমাদের তরুণ সমাজের বিশাল একটা অংশ এই মহামারির শিকার।

এ সংস্কৃতি দিনদিন যুব সমাজকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এ সংস্কৃতির ভয়াবহতা দীন-ধর্ম ও সমাজের জন্য যেমন ক্ষতিকর, তেমিনভাবে যাপিত জীবনের সুখ-শান্তির জন্যও বড় অন্তরায়।

আপনারা লক্ষ করে দেখুন! পশ্চিমাদের জীবনাচারের প্রতি গভীর মনোযোগ দিন। তাদের জীবনে না আছে শান্তি, না আছে কোনো সুখ। তাদের মাঝে সম্পর্কের টানাপোড়েনে প্রতিটা সংসার আজ ভেঙে যাচ্ছে। এই অবস্থার জন্য বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ড নামক নির্লজ্জ সংস্কৃতি অনেকটাই দায়ী।

পশ্চিমা দেশগুলোতে মেয়েদের টিস্যু পরিমাণও মর্যাদা নেই। ব্যবহারের পর আস্তাকুড়ে ফেলে দেয়া হয় তাদের। বিস্তারিত ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নেই, কারণ আপনাদের সামনেই ভয়াবহ এ দিকটার স্থির চিত্র উপস্থিত।

ঠিক একই অবস্থা পুরুষদের ক্ষেত্রেও। তারা আজ যন্ত্রমানব কিংবা মজদুর। প্রয়োজনের ফুরিয়ে গেলে তাদেরও একই অবস্থা হয়। দাম্পত্য জীবনে কলহ, ডিপ্রেশন আর চরম হতাশায় ভুগছে তারা।

সুখ-শান্তি একমাত্র আল্লাহ তায়ালার আনুগত্যের মধ্যেই রয়েছে। তাকে ভালোবাসার মধ্যেই বান্দার জীবনে পরম সুখের তৃপ্তি অনুভব হয়।

প্রকৃত সুখের তৃপ্তি পেতে তরুণ-তরুণীদের এ সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে, মহানবি হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু অঅলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশিত পথ অনুসরণের করতে হবে। সাথে সাথে পরিবারের সদস্যদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলতে হবে।

আরএম/

কৃষি, গণমাধ্যম ও শাইখ সিরাজ

৭ সেপ্টেম্বর শাইখ সিরাজের জন্মদিন

লেখা : মীর সাহিদুল আলম

কৃষি, গণমাধ্যম ও শাইখ সিরাজ- শব্দগুলো যেন একার্থ হয়ে গেছে। কৃষি ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ এখন শুধুমাত্র একজন ব্যক্তি নন, একটি প্রতিষ্ঠানের নাম। সম্প্রচার গণমাধ্যমের জন্য আপাত কৃষির মতো একটি নিরস বিষয়কে তিনি সরস করে তুলেছেন যা অতুলনীয়। এটি যত সহজে বলছি, বিষয়টি তত সহজ মোটেই ছিল না।

যোগাযোগের নগণ্য ছাত্র হিসেবে জানি, শাইখ সিরাজ তার কৃষি অনুষ্ঠানে যোগাযোগের এমন কিছু কৌশল কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছেন, যা শুধু তার অনুষ্ঠান না, তাকেও জনপ্রিয়তার শিখরে নিয়ে গেছে। শুধু অনুষ্ঠান না, উন্নয়ন সংবাদকেও তিনি নিয়ে গেছেন নতুন উচ্চতায়। গণমাধ্যমের প্রয়োজনে এসব বিষয় অবশ্যই গবেষণার দাবি রাখে।

পেছনের দিকে তাকালে আমরা দেখি, কৃষি সাংবাদিকতার শুরুটা একেবারে নতুন না। ইউরোপীয় প্রযুক্তি বিকাশের ধারায় আধুনিক মুদ্রণযন্ত্র আবিষ্কারের পূর্বে আমাদের প্রাচ্য অঞ্চলে সাংবাদিকতার একটি ধারা প্রচলিত ছিল। ইংরেজ আমলে ১৮৮৭ সালে প্রচণ্ড খরায় ভারতীয় উপমহাদেশে ফসলের মাঠ ফেটে চৌচির হয়ে যায়। কৃষক পরিবারে জন্ম নেওয়া ভারতের তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড কার্জন তার মার্কিন ধনকুবের শ্বশুরের বন্ধু আরেক ধনকুবের হেনরি ফিপসের দেওয়া ২০ হাজার পাউন্ড দিয়ে বিহারের দ্বারভাঙ্গা জেলায় গড়ে তোলেন ইম্পেরিয়াল এগ্রিকালচারাল রিসার্চ ইন্সটিটিউট। সেখান থেকে ১৯০৬ সালে প্রকাশিত হয়, দ্যা এগ্রিকালচারাল জার্নাল অব ইন্ডিয়া। প্রসার ঘটে কৃষি যোগাযোগের।

তার আগে ১৮৬৩-৮৫ সময়কালে কুষ্টিয়ার কুমারখালি থেকে সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ প্রকাশ করেন সাপ্তাহিক গ্রামবার্তা। ইতিহাস বলে গ্রামবার্তার পাতায় পাতায় অন্যান্য অনেক খবরের সঙ্গে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল অনেক কৃষিসংবাদ। তাই বলা যায়, আমাদের কৃষি সাংবাদিকতার ইতিহাস অনেক পুরনো। কৃষির সংবাদ, কৃষকের সংবাদ বরাবরই প্রকাশ হয়েছে গণমাধ্যমে। কালের পরিক্রমায় বদলেছে তার রূপ, প্রকাশভঙ্গী, উপস্থাপনা আর ব্যাপ্তি। তবে মূলধারার সাংবাদিকতায় কৃষির গুরুত্ব, উপজীব্যতা এখনও কতটা স্থান করে নিতে পেরেছে সেটিই দেখার বিষয়।

এখানেই আসে শাইখ সিরাজের প্রসঙ্গ। জমকালো অনুষ্ঠানের বিপরীতে কৃষির মতো একটি অবহেলিত বিষয়ে অনুষ্ঠান করে জনপ্রিয়তা অর্জন করা কঠিন বৈ সহজ নয়। প্রাতিষ্ঠানিক শত প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে যে অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশনে অন্যতম জনপ্রিয় অনুষ্ঠান হিসেবে জায়গা করে নিয়েছিল সেটি নিশ্চয় আপনারা বুঝতে পেরেছেন, যদি আপনি আশির দশকের দর্শক হয়ে থাকেন। কৃষি বিষয়ক সেই অনুষ্ঠানের নাম মাটি ও মানুষ। তখন একমাত্র ইলেকট্রনিক মিডিয়া ছিল বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)।

১৯৯৬ সালে শাইখ সিরাজ যুক্ত হন ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রতিষ্ঠার সঙ্গে। চ্যানেল আই-এ তিনি শুরু করেন কৃষিভিত্তিক অনুষ্ঠান হৃদয়ে মাটি ও মানুষ, হৃদয়ে মাটি ও মানুষের ডাক। বিটিভির কৃষি দিবানিশি অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনাকারী ও উপস্থাপকও তিনি। এসব অনুষ্ঠানেও তিনি সমানভাবে সফল।

আশির দশকে শাইখ সিরাজ যখন বাংলাদেশ টেলিভিশনে কৃষি অনুষ্ঠান শুরু করেন, তখন তার বন্ধুরা তাকে নিয়ে অনেক ঠাট্টা-তামাসা করেছেন।এসবে কান দিলে আমরা আজকের শাইখ সিরাজকে হয়তো পেতাম না। তিনি হয়তো তখন মনে মনে ভিন্ন কিছু ভাবতেন। সময়ের পরিক্রমায় আমরা দেখি তিনি এসব তামাশার জবাব তার কাজের মধ্য দিয়ে মোক্ষমভাবেই দিয়েছেন। যদিও শুরুটা মোটেই মসৃণ ছিল না। একটি শুটিং এর ক্যামেরার জন্য তাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে দিনের পর দিন। হাল ছাড়েননি তিনি, তরুণ প্রজন্মের জন্য যা শিক্ষণীয়।

বাংলাদেশের কৃষি ও গণমাধ্যমের প্রসঙ্গটি যখন আলোচিত হয়, তখন অনিবার্যভাবে মাটি ও মানুষ অনুষ্ঠানটির কথা চলে আসে। ১৯৮০ সালে ‘আমার দেশ’ নামে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানটি ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে বাংলাদেশ টেলিভিশনের মূলধারার অনুষ্ঠান। এর দর্শকপ্রিয়তা যে কোনো অনুষ্ঠানকে ছাপিয়ে যায়। বাংলাদেশ টেলিভিশনের এই অনুষ্ঠানটি দেশের সামগ্রিক কৃষি উন্নয়নে প্রকৃত অর্থেই একটি অনুঘটকের ভূমিকা পালন করেছে। অনুষ্ঠানটি যখন যাত্রা শুরু করে তখন টেলিভিশনের চরিত্র ছিল অনেক বেশি বিনোদন কেন্দ্রিক; জনপ্রিয় ও মহনীয় অনুষ্ঠানের সুস্পষ্ট প্রাধান্য ছিল সেখানে। মূলত নাগরিক দর্শকদের কথা মাথায় রেখে অনুষ্ঠান বানানো হতো। কারণ তখনও গ্রামীণ এলাকায় টিভি দর্শক শ্রেণী তৈরি হয়নি। তাই কৃষির মতো অতি দরকারি বিষয় ক্রমবিকাশমান টেলিভিশনে ছিল আপাত অপ্রয়োজনীয় এবং নন-গ্ল্যামারাস। টিভি নাটকের স্বর্ণযুগেও অনুষ্ঠানটির আবেদন হয়ে ওঠে সর্বজনীন। সেই শুরু অর্থাৎ ১৯৮২ থেকে ১৯৯৬ সময়ে বাংলাদেশ টেলিভিশনে আমার দেশ ও মাটি ও মানুষ-এর ৫৮৮টি পর্ব নির্মাণের সাথে যুক্ত ছিলেন শাইখ সিরাজ। এক কথায় তার হাতেই মূলত এসব পর্ব নির্মিত হয়। উল্লেখ্য, শাইখ সিরাজ ছাড়া সে সময় আরও অনেকে মাটি ও মানুষ নির্মাণ করেছেন।

পর্দার কাছে হেরে গেছে বালিশ: মির্জা ফখরুল

সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন পণ্য ক্রয়ে দুর্নীতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এক হাসপাতালে ৩৭

লাখ টাকার পর্দা কেনা হয়। বালিশ তো হেরে গেছে। বালিশ পর্দার কাছে হেরে গেছে। এই হচ্ছে অবস্থা, চতুর্দিকে লুটপাট। new bkash app বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সাবেক অর্থমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী মরহুম এম সাইফুর রহমানের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক স্মরণসভা ও দোয়া

মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আজকে ব্যাংকগুলো মুখ থুবড়ে পড়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, হল-মার্ককে আবার সুযোগ দেওয়া হবে। অর্থাৎ লুটেরা লুট করবে এটিই হচ্ছে মূল চরিত্র। এমনভাবে লুট করবে যেন দেশটা একটা ফকিরা দেশে পরিণত হয়।’ প্রয়াতমন্ত্রী সাইফুর রহমান সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সাইফুর রহমান দেশপ্রেমিক ছিলেন। তিনি দেশকে ভালোবাসতেন। শুধু নিজেরা লাভবান হওয়ার জন্য বা দলের লোকজনকে লাভবান করার জন্য তিনি নিজের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দেননি।

এটি খুব বড় কথা যে, তিনি দেশকে বিক্রি করে দেননি। আজকে সাইফুর রহমানরা থাকলে রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি হতো না, রূপপুরে আনবিক কেন্দ্রে এভাবে দুর্নীতি তৈরি হতো না।’ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘সরকার কথা বলতে দেয় না। সরকার চায় না সত্য কথা গণমাধ্যমে যাক। আজকে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে বন্দি করে রাখা হয়েছে কারণ তিনি বাইরে থাকলে দেশে লুটপাট চলব না, মানুষের অধিকার নষ্ট করা যাবে না। এদেশের মানুষ অবশ্যই খালেদা জিয়াকে বের করে আনবে। গণতন্ত্রকে মুক্ত করবে।’ বিজ্ঞাপন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘ব্যাংকে যতো ঋণ খেলাপি তাদের না ঋণ পরিশোধ না করলেও চলে।

তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে কৃষক যদি ঋণের পাঁচ হাজার টাকা ডিফল্ড করেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে। এই হচ্ছে অবস্থা। আজ আমরা সবদিক থেকে বিপদগ্রস্ত। তাই দেশের এমন প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার রাজনীতি বড় প্রয়োজন।’ দোয়া মাহফিলে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ভাইস চেয়ারম্যান কামাল ইবনে ইউসুফ, শামসুজ্জামান দুদুসহ অন্যরা।

বাংলা সাহিত্যের এক কিংবদন্তী-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়!


আজ তাঁর ৮৫ তম জন্মবার্ষিকী
_ শ্রদ্ধাঞ্জলি বাংলা সাহিত্যের এক কিংবদন্তী-
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়!

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
জন্মঃ ৭ সেপ্টেম্বর ১৯৩৪ ইং
২১ ভাদ্র, ১৩৪১ বঙ্গাব্দ।
ফরিদপুরের মাদারিপুর, বাংলা প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত (অধুনা বাংলাদেশ) মৃত্যুঃ ২৩ অক্টোবর ২০১২ইং, ৮ কার্তিক, ১৪১৭ বঙ্গাব্দ। (৭৮ বছর) বয়সে কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।

তিনি বিংশ শতকের শেষার্ধে আবিভূর্ত একজন প্রথিতযশা বাঙালি সাহিত্যিক।
২০১২ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুর পূর্ববর্তী চার দশক তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম পুরোধা-ব্যক্তিত্ব হিসাবে সর্ববৈশ্বিক বাংলা ভাষা-ভাষী জনগোষ্ঠীর কাছে ব্যাপকভাবে পরিচিত ছিলেন।
বাঙলাভাষী এই সাহিত্যিকের জন্মসূত্রে বাংলাদেশী হলেও সাহিত্যাঙ্গনে ভারতীয়।
এটা বাংলাদেশের জন্য দুর্ভাগ্য বলা যায়। আমরা এমন একজন বাংলাদেশী নক্ষত্রকে আমাদের নামে পায়নি। তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, সম্পাদক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট হিসাবে অজস্র স্মরণীয় রচনা উপহার দিয়েছেন। তিনি আধুনিক বাংলা কবিতার জীবনানন্দ-পরবর্তী পর্যায়ের অন্যতম প্রধান কবি।
একই সঙ্গে তিনি আধুনিক ও রোমান্টিক। তাঁর কবিতার বহু পংক্তি সাধারণ মানুষের মুখস্থ। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় নীললোহিত, সনাতন পাঠক ও নীল উপাধ্যায়
ইত্যাদি ছদ্মনামে বিভিন্ন সম্য নিজেকে উপস্থাপন করেছেন।

ভাষা : বাংলা
জাতীয়তাঃ ভারতীয়
জাতিঃ বাঙালি
নাগরিকত্বঃ ভারতীয়

পেশা: লেখক, ঔপন্যাসিক, কবি, প্রাবন্ধিক, সম্পাদক।

শিক্ষা: এমএ (বাংলা সাহিত্য)
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানঃ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৫৪)
সময়কালঃ ১৯৫৩–২০১২

উল্লেখযোগ্য রচনাসমূহঃ
প্রথম আলো, পূর্ব-পশ্চিম, সেই সময়।

উল্লেখযোগ্য পুরস্কারঃ
আনন্দ পুরস্কার (১৯৭২, ১৯৮৯)
সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার (১৯৮৫)

দাম্পত্যসঙ্গীঃ স্বাতী বন্দোপাধ্যায় (১৯৬৭–২০১২)
সন্তানঃ সৌভিক গঙ্গোপাধ্যায় (জন্ম ১৯৬৭)

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্ম অধুনা বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার মদারিপুরে। মাত্র চার বছর বয়সে তিনি কলকাতায় চলে যান।
১৯৫৩ সাল থেকে তিনি কৃত্তিবাস নামে একটি কবিতা পত্রিকা সম্পাদনা শুরু করেন। ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ “একা এবং কয়েকজন”, ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম উপন্যাস “আত্মপ্রকাশ” প্রকাশিত হয়।
তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বই হলোঃ
আমি কী রকম ভাবে বেঁচে আছি, যুগলবন্দী (শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে),
হঠাৎ নীরার জন্য, রাত্রির রঁদেভূ,
শ্যামবাজারের মোড়ের আড্ডা, অর্ধেক জীবন, অরণ্যের দিনরাত্রি, অর্জুন, প্রথম আলো, সেই সময়, পূর্ব পশ্চিম, ভানু ও রাণু, মনের মানুষ, ভালোবাসা প্রেম নয়, সোনালি দুঃখ ইত্যাদি।

শিশুসাহিত্যে তিনি “কাকাবাবু-সন্তু” নামে এক জনপ্রিয় গোয়েন্দা সিরিজের রচয়িতা।
মৃত্যুর পূর্বপর্যন্ত তিনি ভারতের জাতীয় সাহিত্য প্রতিষ্ঠান সাহিত্য আকাদেমি
ও পশ্চিমবঙ্গ শিশুকিশোর আকাদেমির
সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

প্রাথমিক জীবনঃ
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্ম মাদারিপুর জেলায়, বর্তমান যা বাংলাদেশের অন্তর্গত।
জন্ম বাংলাদেশে হলেও তিনি বড় হয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গে।
পড়াশুনা করেছেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে।
বাবা ছিলেন স্কুল শিক্ষক।
ব্যাংকের পিয়নের চেয়েও স্কুল মাস্টারের বেতন ছিল কম।
সুনীলের মা কখনোই চাননি তাঁর ছেলে শিক্ষকতা করুক।
পড়াশুনা শেষ করে কিছু দিন তিনি আফিসে চাকুরি করেছেন। তারপর থেকে সাংবাদিকতায় যুক্ত হোন।
আইওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রধান মি. পলেন কলকাতায় এলে সুনীলের সঙ্গে পরিচিয় ও ঘনিষ্ট হয়। সেই সূত্রে মার্কিন মুলুকে যান সুনীল ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসাবে।
ডিগ্রি শেষে ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপগ্রন্থাগারিক হিসাবে কিছুদিন কর্মরত ছিলেন।

সাহিত্যিক জীবনঃ
সুনীলের পিতা তাকে টেনিসনের একটা কাব্যগ্রন্থ দিয়ে বলেছিলেন, প্রতিদিন এখান থেকে দু’টি করে কবিতা অনুবাদ করবে।
এটা করা হয়েছিল এ জন্য যে তিনি যেন দুপুরে বাইরে যেতে না পারেন। তিনি তাই করতেন। বন্ধুরা যখন সিনেমা দেখত, বিড়ি ফুঁকত, সুনীল তখন পিতৃআজ্ঞা শিরোধার্য করে দুপুরে কবিতা অনুবাদ করতেন।
অনুবাদ একঘেঁয়ে উঠলে তিনিই নিজেই লিখতে শুরু করেন। ছেলেবেলার প্রেমিকাকে উদ্দেশ্য করা লেখা কবিতাটি তিনি দেশ পত্রিকায় পাঠালে তা ছাপা হয়।

নীললোহিত সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম।
নীললোহিতের মাধ্যমে সুনীল নিজের একটি পৃথক সত্ত্বা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিলেন। নীললোহিতের সব কাহিনীতেই নীললোহিতই কেন্দ্রীয় চরিত্র। সে নিজেই কাহিনীটি বলে চলে আত্মকথার ভঙ্গিতে।
সব কাহিনীতেই নীললোহিতের বয়স সাতাশ। সাতাশের বেশি তার বয়েস বাড়ে না।
বিভিন্ন কাহিনীতে দেখা যায় নীললোহিত চিরবেকার। চাকরিতে ঢুকলেও সে বেশিদিন টেঁকে না। তার বাড়িতে মা, দাদা, বৌদি রয়েছেন। নীললোহিতের বহু কাহিনীতেই দিকশূন্যপুর বলে একটি জায়গার কথা শোনা যায়। যেখানে বহু শিক্ষিত সফল কিন্তু জীবন সম্পর্কে নিস্পৃহ মানুষ একাকী জীবন যাপন করেন।

টিভি এবং চলচ্চিত্রঃ
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের বেশ কিছু গল্প-উপন্যাসের কাহিনী চলচিত্রে রূপায়ণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সত্যজিৎ রায় পরিচালিত অরণ্যের দিনরাত্রি এবং প্রতিদ্বন্দ্বী উল্লেখযোগ্য।
এছাড়া কাকাবাবু চরিত্রের তিনটি কাহিনী সবুজ দ্বীপের রাজা, কাকাবাবু হেরে গেলেন? এবং মিশর রহস্য চলচ্চিত্রায়িত হয়েছে।
হঠাৎ নীরার জন্য উনার লিখিত আরেকটি ছবি।

সম্মাননাঃ
২০০২ সালে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় কলকাতা শহরের শেরিফ নির্বাচিত হয়েছিলেন।
১৯৭২ ও ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দে আনন্দ পুরস্কার এবং ১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দে সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি।

দেহাবসানঃ
২৩ অক্টোবর ২০১২ তারিখে হৃদযন্ত্রজনিত অসুস্থতার কারণে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দে ৪ এপ্রিল সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় কলকাতার ‘গণদর্পণ’কে সস্ত্রীক মরণোত্তর দেহদান করে যান। কিন্তু সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের একমাত্র পুত্রসন্তান সৌভিক গঙ্গোপাধ্যায়ের ইচ্ছেতে তাঁর দেহদাহ করা হয়। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ব্যবস্থাপনায়
২৫ অক্টোবর ২০১২ তাঁর শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়।

উপন্যাসঃ
ঐতিহাসিক-
পূর্ব-পশ্চিম, সেই সময়, প্রথম আলো, একা এবং কয়েকজন

আত্ম জীবনীঃ
অর্ধেক জীবন, ছবির দেশে কবিতার দেশে

অন্যান্য-
আত্মপ্রকাশ, অরণ্যের দিনরাত্রি, সরল সত্য, তুমি কে? জীবন যেরকম, কালো রাস্তা সাদা বাড়ি, অর্জুন, কবি ও নর্তকী স্বর্গের নিচে মানুষ, আমিই সে, একা এবং কয়েকজন, সংসারে এক সন্ন্যাসী রাধাকৃষ্ণ, কনকলতা, সময়ের স্রোতে মেঘ বৃষ্টি আলো, প্রকাশ্য দিবালোকে, দর্পনে কার মুখ, গভীর গোপন, কেন্দ্রবিন্দু, ব্যক্তিগত বন্ধুবান্ধব রক্তমাংস দুই নারী, স্বপ্ন লজ্জাহীন, আকাশ দস্যু, তাজমহলে এক কাপ চা, ধূলিবসন, অমৃতের পুত্রকন্যা, আজও চমৎকার, জোছনাকুমারী, নবজাতক শ্যামসাহেব, সপ্তম অভিযান, মধুময়, ভালোবাসার দুঃখ, হৃদয়ের অলিগলি, সুখের দিন ছিল, ফিরে আসা, রক্ত, স্বর্গ নয়, জনারণ্যে একজন, সমুদ্রের সামনে, সামনে আড়ালে, জয়াপীড়, বুকের মধ্যে আগুন, কেউ জানে না, তিন নম্বর চোখ, সুখ অসুখ, অগ্নিপুত্র, বসন্তদিনের ডাক, সোনালি দুঃখ, নদীর পাড়ে খেলা, যুবক যুবতীরা, পুরুষ, অচেনা মানুষ, বৃত্তের বাইরে, কয়েকটি মুহুর্ত, রূপালী মানবী, মহাপৃথিবী, উত্তরাধিকার, আকাশ পাতাল নদীর ওপার, হীরকদীপ্তি, অমলের পাখি মনে মনে খেলাম, ছায়া কাননের ফুল, রানু ও ভান, ময়ূর পাহাড়, অন্য জীবনের স্বাদ, দুজন খেলা নয়, কিশোর ও সন্ন্যাসিনী, গড়বন্দীপুরের কাহিনী, টান, প্রবাসী পাখি, বুকের পাথর, বেঁচে থাকা, রাকা, রূপটান শান্তনুর ছবি, শিখর থেকে শিখরে, উদাসী রাজকুমার, নীল চাঁদ দ্বিতীয় মধু যামিনী, একটি মেয়ে অনেক পাখি, আলপনা আর শিখা, অনসূয়ার প্রেম, মধ্যরাতের মানুষ, কেউ জানে না, অনির্বান আগুন, নবীন যৌবন, দরজার আড়ালে, দরজা খোলার পর, পায়ের তলায় সরষে, মানস ভ্রমণ, ভালো হতে চাই, দৃষ্টিকোণ, দুজনে মুখোমুখি, মনে রাখার দিন, সেই দিন সেই রাত্রি, বেঁচে থাকার নেশা, কর্ণ, প্রথম নারী, দময়ন্তীর মুখ, প্রতিশোধের একদিক, কল্পনার নায়ক, উড়নচন্ডী, বাবা মা ভাই বোন, এলোকেশী, আশ্রম, সমুদ্রতীরে, প্রতিদ্বন্দ্বী, সোনালী দিন,
স্বপ্ন, সম্ভব, ছবি, প্রতিপক্ষ, একাকিনী এর বাড়ি, ওর বাড়ি এখানে, ওখানে সেখানে, দুই বসন্ত, ভালোবাসা, প্রেম নয়, প্রথম প্রণয়, কপালে ধুলো মাখা, অন্তরঙ্গ, সুপ্ত বাসনা, জলদস্যু, আঁধার রাতের অতিথি, দুই অভিযান, ভয়ঙ্কর প্রতিশোধ, অজানা নিখিলে, কাজরী, সময়ের স্রোতে, এক জীবনে, সময় অসময়, তিন চরিত্র, প্রেম ভালবাসা, বসন্ত দিনের খেলা, সেতুবন্ধন, বিজনে নিজের সঙ্গে, হৃদয়ে প্রবাস, কোথায় আলো, এক অপরিচিতা, গড়বন্দীপুরের সে, স্বপ্নের নেশা, ভালোবাসা, নিজেকে দেখা।

এ ছাড়া গল্প, কবিতা, নাটক, প্রবন্ধ রচনা করেছেন।

বাণী সমূহঃ
“দুরন্ত ষাঁড়ের চোখে বেঁধেছি লাল কাপড় বিশ্ব সংসার তন্ন তন্ন করে খুঁজে এনেছি ১০৮টি নীলপদ্ম! তবুও ক…”

“আমাকে বিক্রির টাকা হক্কের টাকা আর আমার রোজগারের টাকা নোংরা টাকা”

“ইচ্ছে করে দুপুর রোদে ব্লাক আউটের হুকুম দেবার ইচ্ছে করে বিবৃতি দিই ভাঁওতা মেলে জনসেবার ইচ্ছে করে…”

“ইচ্ছে করে অফিস যাবার নাম করে যাই বেলুড় মঠে ইচ্ছে করে ধর্মাধর্ম নিলাম করি মুর্গীহাটায় বেলুন কি…”

“কাঁচের চুড়ি ভাঙার মতন মাঝে মাঝেই ইচ্ছে করে দুটো চারটে নিয়ম কানুন ভেঙে ফেলি পায়ের তলায় আছড়ে…”

কিছু বিখ্যাত কবিতাঃ

মন ভালো নেই

মন ভালো নেই মন ভালো নেই মন ভালো নেই
কেউ তা বোঝে না সকলি গোপন মুখে ছায়া নেই
চোখ খোলা তবু চোখ বুজে আছি কেউ তা দেখেনি
প্রতিদিন কাটে দিন কেটে যায় আশায় আশায়
আশায় আশায় আশায় আশায়
এখন আমার ওষ্ঠে লাগে না কোনো প্রিয় স্বাদ
এমনকি নারী এমনকি নারী এমনকি নারী
এমনকি সুরা এমনকি ভাষা
মন ভালো নেই মন ভালো নেই মন ভালো নেই
বিকেল বেলায় একলা একলা পথে ঘুরে ঘুরে
একলা একলা পথে ঘুরে ঘুরে পথে ঘুরে ঘুরে
কিছুই খুঁজি না কোথাও যাই না কারুকে চাইনি
কিছুই খুঁজি না কোথাও যাই না
আমিও মানুষ আমার কী আছে অথবা কী ছিল
আমার কী আছে অথবা কী ছিল
ফুলের ভিতরে বীজের ভিতরে ঘুণের ভিতরে
যেমন আগুন আগুন আগুন আগুন আগুন
মন ভালো নেই মন ভালো নেই মন ভালো নেই
তবু দিন কাটে দিন কেটে যায় আশায় আশায়
আশায় আশায় আশায় আশায়

শুধু কবিতার জন্য

শুধু কবিতার জন্য এই জন্ম, শুধু কবিতার
জন্য কিছু খেলা, শুধু কবিতার জন্য একা হিম সন্ধেবেলা
ভূবন পেরিয়ে আসা, শুধু কবিতার জন্য
অপলক মুখশ্রীর শান্তি একঝলক;
শুধু কবিতার জন্য তুমি নারী, শুধু
কবিতার জন্য এত রক্তপাত, মেঘে গাঙ্গেয় প্রপাত
শুধু কবিতার জন্য, আরো দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে লোভ হয়।
মানুষের মতো ক্ষোভময় বেঁচে থাকা, মুধু কবিতার
জন্য আমি অমরত্ব তাচ্ছিল্য করেছি।

সত্যবদ্ধ অভিমান

এই হাত ছুঁয়েছে নীরার মুখ
আমি কি এ হাতে কোনো পাপ করতে পারি?
শেষ বিকেলের সেই ঝুল বারান্দায়
তার মুখে পড়েছিল দুর্দান্ত সাহসী এক আলো
যেন এক টেলিগ্রাম, মুহূর্তে উন্মুক্ত করে
নীরার সুষমা
চোখে ও ভুরুতে মেশা হাসি, নাকি অভ্রবিন্দু?
তখন সে যুবতীকে খুকি বলে ডাকতে ইচ্ছে হয়–
আমি ডান হাত তুলি, পুরুষ পাঞ্জার দিকে
মনে মনে বলি,
যোগ্য হও, যোগ্য হয়ে ওঠো–
ছুঁয়ে দিই নীরার চিবুক
এই হাত ছুঁয়েছে নীরার মুখ
আমি কি এ হাতে আর কোনোদিন
পাপ করতে পারি?

এই ওষ্ঠ বলেছে নীরাকে, ভালোবাসি–
এই ওষ্ঠে আর কোনো মিথ্যে কি মানায়?
সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে মনে পড়ে ভীষণ জরুরী
কথাটাই বলা হয়নি
লঘু মরালীর মতো নারীটিকে নিয়ে যাবে বিদেশী বাতাস
আকস্মিক ভূমিকম্পে ভেঙ্গে যাবে সবগুলো সিঁড়ি
থমকে দাঁড়িয়ে আমি নীরার চোখের দিকে….
ভালোবাসা এক তীব্র অঙ্গীকার, যেন মায়াপাশ
সত্যবদ্ধ অভিমান–চোখ জ্বালা করে ওঠে,
সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে
এই ওষ্ঠ বলেছে নীরাকে, ভালোবাসি–
এই ওষ্ঠে আর কোনো মিথ্যে কি মানায়?

হঠাৎ নীরার জন্য

বাস স্টপে দেখা হলো তিন মিনিট, অথচ তোমায় কাল
স্বপ্নে বহুক্ষণ
দেখেছি ছুরির মতো বিঁধে থাকতে সিন্ধুপারে–দিকচিহ্নহীন–
বাহান্ন তীর্থের মতো এক শরীর, হাওয়ার ভিতরে
তোমাকে দেখছি কাল স্বপ্নে, নীরা, ওষধি স্বপ্নের
নীল দুঃসময়ে।

দক্ষিণ সমুদ্রদ্বারে গিয়েছিলে কবে, কার সঙ্গে? তুমি
আজই কি ফিরেছো?
স্বপ্নের সমুদ্র সে কী ভয়ংকর, ঢেউহীন, শব্দহীন, যেন
তিনদিন পরেই আত্মঘাতী হবে, হারানো আঙটির মতো দূরে
তোমার দিগন্ত, দুই উরু ডুবে কোনো জুয়াড়ির সঙ্গিনীর মতো,
অথচ একলা ছিলে, ঘোরতর স্বপ্নের ভিতরে তুমি একা।

এক বছর ঘুমোবো না, স্বপ্নে দেখে কপালের ঘাম
ভোরে মুছে নিতে বড় মূর্খের মতন মনে হয়
বরং বিস্মৃতি ভালো, পোশাকের মধ্যে ঢেকে রাখা
নগ্ন শরীরের মতো লজ্জাহীন, আমি
এক বছর ঘুমোবো না, এক বছর স্বপ্নহীন জেগে
বাহান্ন তীর্থের মতো তোমার ও-শরীর ভ্রমণে
পুণ্যবান হবো।

বাসের জানালার পাশে তোমার সহাস্য মুখ, ‘আজ যাই,
বাড়িতে আসবেন!’

রৌদ্রের চিৎকারে সব শব্দ ডুবে গেল।
‘একটু দাঁড়াও’, কিংবা ‘চলো লাইব্রেরির মাঠে’, বুকের ভিতরে
কেউ এই কথা বলেছিল, আমি মনে পড়া চোখে
সহসা হাতঘড়ি দেখে লাফিয়ে উঠেছি, রাস্তা, বাস, ট্রাম, রিকশা, লোকজন
ডিগবাজির মতো পার হয়ে, যেন ওরাং উটাং, চার হাত-পায়ে ছুটে
পৌঁছে গেছি আফিসের লিফ্‌টের দরজায়।

বাস স্টপে তিন মিনিট, অথচ তোমায় কাল স্বপ্নে বহুক্ষণ।।

নীরা তুমি

নীরা, তুমি নিরন্নকে মুষ্টিভিক্ষা দিলে এইমাত্র
আমাকে দেবে না?
শ্মশানে ঘুমিয়ে থাকি, ছাই-ভস্ম খাই, গায়ে মাখি
নদী-সহবাসে কাটে দিন
এই নদী গৌতম বুদ্ধকে দেখেছিল
পরবর্তী বারুদের আস্তরণও গায়ে মেখেছিল
এই নদী তুমি!

বড় দেরি হয়ে গেল, আকাশে পোশাক হতে বেশি বাকি নেই
শতাব্দীর বাঁশবনে সাংঘাতিক ফুটেছে মুকুল
শোনোনি কি ঘোর দ্রিমি দ্রিমি?
জলের ভিতর থেকে সমুত্থিত জল কথা বলে
মরুভূমি মেরুভূমি পরস্পর ইশারায় ডাকে
শোনো, বুকের অলিন্দে গিয়ে শোনো
হে নিবিড় মায়াবিনী, ঝলমলে আঙুল তুলে দাও।
কাব্যে নয়, নদীর শরীরে নয়, নীরা
চশমা-খোলা মুখখানি বৃষ্টিজলে ধুয়ে
কাছাকাছি আনো
নীরা, তুমি নীরা হয়ে এসো!

নীরা ও জীরো আওয়ার

এখন অসুখ নেই, এখন অসুখ থেকে সেরে উঠে
পরবর্তী অসুখের জন্য বসে থাকা। এখন মাথার কাছে
জানলা নেই, বুক ভরা দুই জানলা, শুধু শুকনো চোখ
দেয়ালে বিশ্রাম করে, কপালে জলপট্টির মতো
ঠাণ্ডা হাত দূরে সরে গেছে, আজ এই বিষম সকালবেলা
আমার উত্থান নেই, আমি শুয়ে থাকি, সাড়ে দশটা বেজে যায়।

প্রবন্ধ ও রম্যরচনা, অনুবাদ, পাঁচ বছর আগের
শুরু করা উপন্যাস, সংবাদপত্রের জন্য জল-মেশানো
গদ্য থেকে আজ এই সাড়ে দশটায় আমি সব ভেঙেচুরে
উঠে দাঁড়াতে চাই–অন্ধ চোখ, ছোট চুল–ইস্ত্রিকরা পোশাক ও
হাতের শৃঙ্খল ছিঁড়ে ফেলে আমি এখন তোমার
বাড়ির সামনে, নীরা থুক্‌ করে মাটিতে থুতু ছিটিয়ে‌
বলি : এই প্রাসাদ একদিন আমি ভেঙে ফেলবো! এই প্রাসাদে
এক ভারতবর্ষব্যাপী অন্যায়। এখান থেকে পুনরায় রাজতন্ত্রের
উৎস। আমি
ব্রীজের নিচে বসে গম্ভীর আওয়াজ শুনেছি, একদিন
আমূলভাবে উপড়ে নিতে হবে অপবিত্র সফলতা।

কবিতায় ছোট দুঃখ, ফিরে গিয়ে দেখেছি বহুবার
আমার নতুন কবিতা এই রকম ভাবে শুরু হয় :
নীরা, তোমায় একটি রঙিন
সাবান উপহার
দিয়েছি শেষবার;
আমার সাবান ঘুরবে তোমার সারা দেশে।
বুক পেরিয়ে নাভির কাছে মায়া স্নেহে
আদর করবে, রহস্যময় হাসির শব্দে
ক্ষয়ে যাবে, বলবে তোমার শরীর যেন
অমর না হয়…

অসহ্য! কলম ছুঁড়ে বেরিয়ে আমি বহুদূর সমুদ্রে
চলে যাই, অন্ধকারে স্নান করি হাঙর-শিশুদের সঙ্গে
ফিরে এসে ঘুম চোখ, টেবিলের ওপাশে দুই বালিকার
মতো নারী, আমি নীল-লোভী তাতার বা কালো ঈশ্বর-খোঁজা
নিগ্রোদের মতো অভিমান করি, অভিমানের স্পষ্ট
শব্দ, আমার চা-মেশানো ভদ্রতা হলুদ হয়!

এখন, আমি বন্ধুর সঙ্গে সাহাবাবুদের দোকানে, এখন
বন্ধুর শরীরে ইঞ্জেকশন ফুঁড়লে আমার কষ্ট, এখন
আমি প্রবীণ কবির সুন্দর মুখ থেকে লোমশ ভ্রুকুটি
জানু পেতে ভিক্ষা করি, আমার ক্রোধ ও হাহাকার ঘরের
সিলিং ছুঁয়ে আবার মাটিতে ফিরে আসে, এখন সাহেব বাড়ীর
পার্টিতে আমি ফরিদপুরের ছেলে, ভালো পোষাক পরার লোভ
সমেত কাদা মাখা পায়ে কুৎসিত শ্বেতাঙ্গিনীকে দু’পাটি
দাঁত খুলে আমার আলজিভ দেখাই, এখানে কেউ আমার
নিম্নশরীরের যন্ত্রনার কথা জানে না। ডিনারের আগে
১৪ মিনিটের ছবিতে হোয়াইট ও ম্যাকডেভিড মহাশূন্যে
উড়ে যায়, উন্মাদ! উন্মাদ! এক স্লাইস পৃথিবী দূরে,
সোনার রজ্জুতে
বাঁধা একজন ত্রিশঙ্কু। কিন্তু আমি প্রধান কবিতা
পেয়ে গেছি প্রথমেই, ৯, ৮, ৭, ৬, ৫…থেকে ক্রমশ শূন্যে
এসে স্তব্ধ অসময়, উলটোদিকে ফিরে গিয়ে এই সেই মহাশূন্য,
সহস্র সূর্যের বিস্ফোরণের সামনে দাঁড়িয়ে ওপেনহাইমার
প্রথম এই বিপরীত অঙ্ক গুনেছিল ভগবৎ গীতা আউড়িয়ে?
কেউ শূন্যে ওঠে কেউ শূন্যে নামে, এই প্রথম আমার মৃত্যু
ও অমরত্বের ভয় কেটে যায়, আমি হেসে বন্দনা করি :
ওঁ শান্তি! হে বিপরীত সাম্প্রতিক গণিতের বীজ
তুমি ধন্য, তুমি ইয়ার্কি, অজ্ঞান হবার আগে তুমি সশব্দ
অভ্যুত্থান, তুমি নেশা, তুমি নীরা, তুমিই আমার ব্যক্তিগত
পাপমুক্তি। আমি আজ পৃথিবীর উদ্ধারের যোগ্য

নীরা তোমার কাছে

সিঁড়ির মুখে কারা অমন শান্তভাবে কথা বললো?
বেরিয়ে গেল দরজা ভেজিয়ে, তবু তুমি দাঁড়িয়ে রইলে সিঁড়িতে
রেলিং-এ দুই হাত ও থুত্‌নি, তোমায় দেখে বলবে না কেউ থির বিজুরি
তোমার রঙ একটু ময়লা, পদ্মপাতার থেকে যেন একটু চুরি,
দাঁড়িয়ে রইলে
নীরা, তোমায় দেখে হঠাৎ নীরার কথা মনে পড়লো।

নীরা, তোমায় দেখি আমি সারা বছর মাত্র দু’দিন
দোল ও সরস্বতী পূজোয়–দুটোই খুব রঙের মধ্যে
রঙের মধ্যে ফুলের মধ্যে সারা বছর মাত্র দু’দিন–
ও দুটো দিন তুমি আলাদা, ও দুটো দিন তুমি যেন অন্য নীরা
বাকি তিনশো তেষট্টি বার তোমায় ঘিরে থাকে অন্য প্রহরীরা।
তুমি আমার মুখ দেখোনি একলা ঘরে, আমি আমার দস্যুতা
তোমার কাছে লুকিয়ে আছি, আমরা কেউ বুকের কাছে কখনো
কথা বলিনি পরস্পর, চোখের গন্ধে করিনি চোখ প্রদক্ষিণ–
আমি আমার দস্যুতা
তোমার কাছে লুকিয়ে আছি, নীরা তোমায় দেখা আমার মাত্র দু’দিন।

নীরা, তোমায় দেখে হঠাৎ নীরার কথা মনে পড়লো।
আমি তোমায় লোভ করিনি, আমি তোমায় টান মারিনি সুতোয়
আমি তোমার মন্দিরের মতো শরীরে ঢুকিনি ছল ছুতোয়
রক্তমাখা হাতে তোমায় অবলীলায় নাশ করিনি;
দোল ও সরস্বতী পূজোয় তোমার সঙ্গে দেখা আমার–সিঁড়ির কাছে
আজকে এমন দাঁড়িয়ে রইলে
নীরা, তোমার কাছে আমি নীরার জন্য রয়ে গেলাম চিরঋণী।

নীরা তুমি কালের মন্দিরে

চাঁদের নীলাভ রঙ, ওইখানে লেগে আছে নীরার বিষাদ
ও এমন কিছু নয়, ফুঁ দিলেই চাঁদ উড়ে যাবে
যে রকম সমুদ্রের মৌসুমিতা, যে রকম
প্রবাসের চিঠি
অরণ্যের এক প্রান্তে হাত রেখে নীরা কাকে বিদায় জানালো
আঁচলে বৃষ্টির শব্দ, ভুরুর বিভঙ্গে লতা পাতা
ও যে বহুদূর,
পীত অন্ধকারে ডোবে হরিৎ প্রান্তর
ওখানে কী করে যাবো, কী করে নীরাকে
খুঁজে পাবো?

অক্ষরবৃত্তের মধ্যে তুমি থাকো, তোমাকে মানায়
মন্দাক্রান্তা, মুক্ত ছন্দ, এমনকি চাও শ্বাসাঘাত
দিতে পারি, অনেক সহজ
কলমের যে-টুকু পরিধি তুমি তাও তুচ্ছ করে
যদি যাও, নীরা, তুমি কালের মন্দিরে
ঘন্টধ্বনি হয়ে খেলা করো, তুমি সহাস্য নদীর
জলের সবুজে মিশে থাকো, সে যে দূরত্বের চেয়ে বহুদূর
তোমার নাভির কাছে জাদুদণ্ড, এ কেমন খেলা
জাদুকরী, জাদুকরী, এখন আমাকে নিয়ে কোন রঙ্গ
নিয়ে এলি চোখ-বাঁধা গোলকের ধাঁধায়!

নীরার জন্য কবিতার ভুমিকা

এই কবিতার জন্য আর কেউ নেই, শুধু তুমি, নীরা
এ কবিতার মধ্যরাত্রে তোমার নিভৃত মুখ লক্ষ্য করে

ঘুমের ভিতরে তুমি আচমকা জেগে উঠে টিপয়ের
থেকে জল খেতে গিয়ে জিভ কামড়ে এক মুহুর্ত ভাববে
কে তোমায় মনে করছে এত রাত্রে— তখন আমার
এই কবিতার প্রতিটি লাইন শব্দ অক্ষর কমা ড্যাশ রেফ
ও রয়ের ফুটকি সমেত ছুটে যাচ্ছে তোমার দিকে, তোমার
আধো ঘুমন্ত নরম মুখের চারপাশে এলোমেলো চুলে ও
বিছানায় আমার নিঃশ্বাসের মতো নিঃশব্দ এই শব্দগুলো
এই কবিতার প্রত্যেকটি অক্ষর গুণিনের বাণের মতো শুধু
তোমার জন্য, এরা শুধু তোমাকে বিদ্ধ করতে জানে

তুমি ভয় পেয়ো না, তুমি ঘুমোও, আমি বহু দূরে আছি
আমার ভযংকর হাত তোমাকে ছোঁবে না, এই মধ্যরাত্রে
আমার অসম্ভব জেগে ওঠা, উষ্ণতা, তীব্র আকাঙ্খা ও
চাপা আর্তরব তোমাকে ভয় দেখাবে না— আমার সম্পূর্ণ আবেগ
শুধু মোমবাতির আলোর মতো ভদ্র শব্দ ও অক্ষরের কবিতায়
তোমার শিয়রের কাছে যাবে— এরা তোমাকে চুম্বন করলে
তুমি টের পাবে না, এরা তোমার সঙ্গে সারা রাত শুয়ে থাকবে
এক বিছানায়— তুমি জেগে উঠবে না, সকালবেলা তোমার পায়ের
কাছে মরা প্রজাপতির মতো লুটোবে।
এদের আত্মা মিশে
থাকবে তোমার শরীরের প্রতিটি রন্ধ্রে, চিরজীবনের মতো

বহুদিন পর তোমার সঙ্গে দেখা হলে ঝর্নার জলের মতো
হেসে উঠবে, কিছুই না জেনে নীরা, আমি তোমার অমন
সুন্দর মুখে বাঁকা টিপের দিকে চেয়ে থাকবো | আমি অন্য কথা
বালার সময় তোমার প্রস্ফুটিত মুখখানি আদর করবো মনে-মনে
ঘর ভর্তি লোকের মধ্যেও আমি তোমার দিকে
. নিজস্ব চোখে তাকাবো।
তুমি জানতে পারবে না— তোমার সম্পূর্ণ শরীরে মিশে আছে।
আমার একটি অতি ব্যক্তিগত কবিতার প্রতিটি শব্দের আত্মা।

নীরার দুঃখকে ছোঁয়া

কতটুকু দূরত্ব? সহস্র আলোকবর্ষ চকিতে পার হয়ে
আমি তোমার সামনে এসে হাঁটু গেড়ে বসি
তোমার নগ্ন কোমরের কাছে উষ্ণ নিশ্বাস ফেলার আগে
অলঙ্কৃত পাড় দিতে ঢাকা অদৃশ্য পায়ের পাতা দুটি
বুকের কাছে এনে
চুম্বন ও অশ্রুজলে ভেজাতে চাই
আমার সাঁইত্রিশ বছরের বুক কাঁপে
আমার সাঁইত্রিশ বছরের বাইরের জীবন মিথ্যে হয়ে যায়
বহুকাল পর অশ্রু বিস্মৃত শব্দটি
অসম্ভব মায়াময় মনে হয়
ইচ্ছে করে তোমার দুঃখের সঙ্গে
আমার দুঃখ মিশিয়ে আদর করি
সামাজিক কাঁথা সেলাই করা ব্যবহার তছনছ করে
স্ফুরিত হয় একটি মুহূর্ত
আমি চেয়ার ছেড়ে উঠে তোমার পায়ের কাছে…

বাইরে বড় চ্যাঁচামেচি, আবহাওয়া যখন তখন নিম্নচাপ
ধ্বংস ও সৃষ্টির বীজ ও ফসলে ধারাবাহিক কৌতুক
অজস্র মানুষের মাথা নিজস্ব নিয়মে ঘামে
সেই তো শ্রেষ্ঠ সময় যখন এ-সবকিছুই তুচ্ছ
যখন মানুষ ফিরে আসে তার ব্যক্তিগত স্বর্গের
অতৃপ্ত সিঁড়িতে
যখন শরীরের মধ্যে বন্দী ভ্রমরের মনে পড়ে যায়
এলাচ গন্ধের মতো বাল্যস্মৃতি
তোমার অলোকসামান্য মুখের দিকে আমার স্থির দৃষ্টি
তোমার রেজী অভিমানের কাছে প্রতিহত হয়
দ্যুলোক-সীমানা
প্রতীক্ষা করি ত্রিকাল দুলিয়ে দেওয়া গ্রীবাভঙ্গির
আমার বুক কাঁপে,
কথা বলি না
বুকে বুক রেখে যদি স্পর্শ করা যায় ব্যথাসরিৎসাগর
আমি চেয়ার ছেড়ে উঠে আসি অসম্ভব দূরত্ব পেরিয়ে
চোখ শুকনো, তবু পদচুম্বনের আগে
অশ্রুপাতের জন্য মন কেমন করে!

নীরার হাসি ও অশ্রু

নীরার চোখের জল অনেক চোখের অনেক
নীচে
টল্‌মল্‌
নীরার মুখের হাসি মুখের আড়াল থেকে
বুক, বাহু, আঙুলে
ছড়ায়
শাড়ির আঁচলে হাসি, ভিজে চুলে, হেলানো সন্ধ্যায় নীরা
আমাকে বাড়িয়ে দেয়, হাস্যময় হাত
আমার হাতের মধ্যে চৌরাস্তায় খেলা করে নীরার কৌতুক
তার ছদ্মবেশ থেকে ভেসে আসে সামুদ্রিক ঘ্রাণ
সে আমার দিকে চায়, নীরার গোধূলি মাখা ঠোঁট থেকে
ঝরে পড়ে লীলা লোধ্র
আমি তাকে প্রচ্ছন্ন আদর করি, গুপ্ত চোখে বলি:
নীরা, তুমি শান্ত হও
অমন মোহিনী হাস্যে আমার বিভ্রম হয় না, আমি সব জানি
পৃথিবী তোলপাড় করা প্লাবনের শব্দ শুনে টের পাই
তোমার মুখের পাশে উষ্ণ হাওয়া
নীরা, তুমি শান্ত হও!

নীরার সহাস্য বুকে আঁচলের পাখিগুলি
খেলা করে
কোমর ও শ্রোণী থেকে স্রোত উঠে ঘুরে যায় এক পলক
সংসারের সারাৎসার ঝলমলিয়ে সে তার দাঁতের আলো
সায়াহ্নের দিকে তুলে ধরে
নাগকেশরের মতো ওষ্ঠাধরে আঙুল ঠেকিয়ে বলে,
চুপ!
আমি জানি
নীরার চোখের জল চোখের অনেক নিচে টল্‌মল্‌।।

নীরার অসুখ

নীরার অসুখ হলে কলকাতার সবাই বড় দুঃখে থাকে
সূর্য নিভে গেলে পর, নিয়নের বাতিগুলি হঠাৎ জ্বলার আগে জেনে নেয়
নীরা আজ ভালো আছে?
গীর্জার বয়স্ক ঘড়ি, দোকানের রক্তিম লাবণ্য–ওরা জানে
নীরা আজ ভালো আছে!
অফিস সিনেমা পার্কে লক্ষ লক্ষ মানুষের মুখে মুখে রটে যায়
নীরার খবর
বকুলমালার তীব্র গন্ধ এসে বলে দেয়, নীরা আজ খুশি
হঠাৎ উদাস হাওয়া এলোমেলো পাগ্‌লা ঘন্টি বাজিয়ে আকাশ জুড়ে
খেলা শুরু করলে
কলকাতার সব লোক মৃদু হাস্যে জেনে নেয়, নীরা আজ বেড়াতে গিয়েছে।

আকাশে যখন মেঘ, ছায়াচ্ছন্ন গুমোট নগরে খুব দুঃখ বোধ।
হঠাৎ ট্রামের পেটে ট্যাক্সি ঢুকে নিরানন্দ জ্যাম চৌরাস্তায়
রেস্তোরাঁয় পথে পথে মানুষের মুখ কালো, বিরক্ত মুখোস
সমস্ত কলকাতা জুড়ে ক্রোধ আর ধর্মঘট, শুরু হবে লণ্ডভণ্ড
টেলিফোন পোস্টাফিসে আগুন জ্বালিয়ে
যে-যার নিজস্ব হৃৎস্পন্দনেও হরতাল জানাবে–
আমি ভয়ে কেঁপে উঠি, আমি জানি, আমি তৎক্ষণাৎ ছুটে যাই, গিয়ে বলি,
নীরা, তুমি মন খারাপ করে আছো?
লক্ষ্মী মেয়ে, একবার চোখে দাও, আয়না দেখার মতো দেখাও ও-মুখের মঞ্জরী
নবীন জনের মতো কলহাস্যে একবার বলো দেখি ধাঁধার উত্তর!
অমনি আড়াল সরে, বৃষ্টি নামে, মানুষেরা সিনেমা ও খেলা দেখতে
চলে যায় স্বস্তিময় মুখে
ট্রাফিকের গিঁট খোলে, সাইকেলের সঙ্গে টেম্পো, মোটরের সঙ্গে রিক্সা
মিলেমিশে বাড়ি ফেরে যা-যার রাস্তায়
সিগারেট ঠোঁটে চেপে কেউ কেউ বলে ওঠে, বেঁচে থাকা নেহাৎ মন্দ না!

ইচ্ছে

কাচের চুড়ি ভাঙার মতন মাঝে মাঝেই ইচ্ছে করে
দুটো চারটে নিয়মকানুন ভেঙে ফেলি
পায়ের তলায় আছড়ে ফেলি মাথার মুকুট
যাদের পায়ের তলায় আছি, তাদের মাথায় চড়ে বসি
কাচের চুড়ি ভাঙার মতই ইচ্ছে করে অবহেলায়
ধর্মতলায় দিন দুপুরে পথের মধ্যে হিসি করি।
ইচ্ছে করে দুপুর রোদে ব্ল্যাক আউটের হুকুম দেবার
ইচ্ছে করে বিবৃতি দিই ভাঁওতা মেরে জনসেবার
ইচ্ছে করে ভাঁওতাবাজ নেতার মুখে চুনকালি দিই।
ইচ্ছে করে অফিস যাবার নাম করে যাই বেলুড় মঠে
ইচ্ছে করে ধর্মাধর্ম নিলাম করি মূর্গিহাটায়
বেলুন কিনি বেলুন ফাটাই, কাচের চুড়ি দেখলে ভাঙি
ইচ্ছে করে লন্ডভন্ড করি এবার পৃথিবীটাকে
মনুমেন্টের পায়ের কাছে দাঁড়িয়ে বলি
আমার কিছু ভাল্লাগে না।।

সেই সব স্বপ্ন

কারাগারের ভিতরে পড়েছিল জোছনা
বাইরে হাওয়া, বিষম হাওয়া
সেই হাওয়ায় নশ্বরতার গন্ধ
তবু ফাঁসির আগে দীনেশ গুপ্ত চিঠি লিখেছিল তার বৌদিকে,
“আমি অমর, আমাকে মারিবার সাধ্য কাহারও নাই।”

মধ্যরাত্রির আর বেশি দেরি নেই
প্রহরের ঘণ্টা বাজে, সান্ত্রীও ক্লান্ত হয়
শিয়রের কাছে এসে মৃত্যুও বিমর্ষ বোধ করে।
কনডেমড সেলে বসে প্রদ্যুত ভট্টাচার্য লিখছেন,
“মা, তোমার প্রদ্যুত কি কখনো মরতে পারে ?
আজ চারিদিকে চেয়ে দেখ,
লক্ষ প্রদ্যুত তোমার দিকে চেয়ে হাসছে,
আমি বেঁচেই রইলাম মা, অক্ষয়”

কেউ জানত না সে কোথায়,
বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল ছেলেটি আর ফেরেনি
জানা গেল দেশকে ভালোবাসার জন্য সে পেয়েছে মৃত্যুদন্ড
শেষ মুহূর্তের আগে ভবানী ভট্টাচার্য
পোস্ট কার্ডে অতি দ্রুত লিখেছিল তার ছোট ভাইকে,
“অমাবস্যার শ্মশানে ভীরু ভয় পায়,
সাধক সেখানে সিদ্ধি লাভ করে,
আজ আমি বেশি কথা লিখব না
শুধু ভাববো মৃত্যু কত সুন্দর।”

লোহার শিকের ওপর হাত,
তিনি তাকিয়ে আছেন অন্ধকারের দিকে
দৃষ্টি ভেদ করে যায় দেয়াল, অন্ধকারও বাঙময় হয়
সূর্য সেন পাঠালেন তার শেষ বাণী,
“আমি তোমাদের জন্য কি রেখে গেলাম ?
শুধু একটি মাত্র জিনিস,
আমার স্বপ্ন একটি সোনালি স্বপ্ন,
এক শুভ মুহূর্তে আমি প্রথম এই স্বপ্ন দেখেছিলাম ।”

সেই সব স্বপ্ন এখনও বাতাসে উড়ে বেড়ায়
শোনা যায় নিঃশ্বাসের শব্দ
আর সব মরে স্বপ্ন মরে না
অমরত্বের অন্য নাম হয়
কানু, সন্তোষ, অসীম রা…
জেলখানার নির্মম অন্ধকারে বসে
এখনও সেরকম স্বপ্ন দেখছে

পাহাড় চূড়ায়

অনেকদিন থেকেই আমার একটা পাহাড় কেনার শখ।
কিন্তু পাহাড় কে বিক্রি করে তা জানি না।
যদি তার দেখা পেতাম,
দামের জন্য আটকাতো না।
আমার নিজস্ব একটা নদী আছে,
সেটা দিয়ে দিতাম পাহাড়টার বদলে।

কে না জানে, পাহাড়ের চেয়ে নদীর দামই বেশী।
পাহাড় স্থানু, নদী বহমান।
তবু আমি নদীর বদলে পাহাড়টাই
কিনতাম।
কারণ, আমি ঠকতে চাই।

নদীটাও অবশ্য কিনেছিলামি একটা দ্বীপের বদলে।
ছেলেবেলায় আমার বেশ ছোট্টোখাট্টো,
ছিমছাম একটা দ্বীপ ছিল।
সেখানে অসংখ্য প্রজাপতি।
শৈশবে দ্বীপটি ছিল আমার বড় প্রিয়।
আমার যৌবনে দ্বীপটি আমার
কাছে মাপে ছোট লাগলো। প্রবহমান ছিপছিপে তন্বী নদীটি বেশ পছন্দ হল আমার।
বন্ধুরা বললো, ঐটুকু
একটা দ্বীপের বিনিময়ে এতবড়
একটা নদী পেয়েছিস?
খুব জিতেছিস তো মাইরি!
তখন জয়ের আনন্দে আমি বিহ্বল হতাম।
তখন সত্যিই আমি ভালবাসতাম নদীটিকে।
নদী আমার অনেক প্রশ্নের উত্তর দিত।
যেমন, বলো তো, আজ
সন্ধেবেলা বৃষ্টি হবে কিনা?
সে বলতো, আজ এখানে দক্ষিণ গরম হাওয়া।
শুধু একটি ছোট্ট দ্বীপে বৃষ্টি,
সে কী প্রবল বৃষ্টি, যেন একটা উৎসব!
আমি সেই দ্বীপে আর যেতে পারি না,
সে জানতো! সবাই জানে।
শৈশবে আর ফেরা যায় না।

এখন আমি একটা পাহাড় কিনতে চাই।
সেই পাহাড়ের পায়ের
কাছে থাকবে গহন অরণ্য, আমি সেই অরণ্য পার হয়ে যাব, তারপর শুধু রুক্ষ
কঠিন পাহাড়।
একেবারে চূড়ায়, মাথার
খুব কাছে আকাশ, নিচে বিপুলা পৃথিবী,
চরাচরে তীব্র নির্জনতা।
আমার কষ্ঠস্বর সেখানে কেউ শুনতে পাবে না।
আমি ঈশ্বর মানি না, তিনি আমার মাথার কাছে ঝুঁকে দাঁড়াবেন না।
আমি শুধু দশ দিককে উদ্দেশ্য করে বলবো,
প্রত্যেক মানুষই অহঙ্কারী, এখানে আমি একা-
এখানে আমার কোন অহঙ্কার নেই।
এখানে জয়ী হবার বদলে ক্ষমা চাইতে ভালো লাগে।
হে দশ দিক, আমি কোন দোষ করিনি।
আমাকে ক্ষমা করো।

যদি নির্বাসন দাও

যদি নির্বাসন দাও, আমি ওষ্ঠে অঙ্গুরী ছোঁয়াবো
আমি বিষপান করে মরে যাবো।
বিষন্ন আলোয় এই বাংলাদেশ
নদীর শিয়রে ঝুঁকে পড়া মেঘ
প্রান্তরে দিগন্ত নির্নিমেষ-
এ আমারই সাড়ে তিন হাত ভুমি
যদি নির্বাসন দাও, আমি ওষ্ঠে অঙ্গুরী ছোঁয়াবো
আমি বিষপান করে মরে যাবো।
ধানক্ষেতে চাপ চাপ রক্ত
এইখানে ঝরেছিল মানুষের ঘাম
এখনো স্নানের আগে কেউ কেউ করে থাকে নদীকে প্রণাম
এখনো নদীর বুকে
মোচার খোলায় ঘুরে
লুঠেরা, ফেরারী।
শহরে বন্দরে এত অগ্নি-বৃষ্টি
বৃষ্টিতে চিক্কণ তবু এক একটি অপরূপ ভোর,
বাজারে ক্রুরতা, গ্রামে রণহিংসা
বাতাবি লেবুর গাছে জোনাকির ঝিকমিক খেলা
বিশাল প্রাসাদে বসে কাপুরুষতার মেলা
বুলেট ও বিস্পোরণ
শঠ তঞ্চকের এত ছদ্মবেশ
রাত্রির শিশিরে কাঁপে ঘাস ফুল–
এ আমারই সাড়ে তি

আফগানিস্তান ৬ গোল খাওয়ায় খুশিতে নাচছেন না বাংলাদেশ কোচ

আফগানিস্তান এমন কী দল? বৃহস্পতিবার রাতে দোহায় তারা তুলোধুনো হয়েছে কাতারের কাছে। হেরেছে অর্ধডজন গোলে। যারা ভাবছেন এই আফগানিস্তানকে হারানো সহজ হবে বাংলাদেশের জন্য, তাদের দলে নেই জাতীয় দলের ইংলিশ কোচ জেমি ডে।

কাতার-আফগানিস্তানের ম্যাচটি তিনি দেখেছেন। আর আফগানিস্তান ৬ গোল খেলেও তাদের খেলার পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করে জেমি ডে বলেছেন, ‘আফগানিস্তান বড় ব্যবধানে হারলেও খুশি হওয়ার কিছু নেই। এ দলটিকে হারাতে হলে আমাদের দুর্দান্ত ফুটবল খেলতে হবে।’

১০ সেপ্টেম্বর তাজিকিস্তানের দুশানবের রিপাবলিকান সেন্ট্রাল স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এটি বাংলাদেশের অ্যাওয়ে ম্যাচ। নিজ দেশের নিরাপত্তা হুমকিতে থাকায় আফগানিস্তান তাদের হোম ভেন্যু করেছে তাজিকিস্তানে। সেখানে খেলাটি হবে টার্ফে।

দেশটির কন্ডিশনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতেই ১০ দিন আগে দুশানবে গেছে ফুটবল দল। অনুশীলনের পাশপাশি তাজিকিস্তানের প্রিমিয়ার লিগের দুটি দলের সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে একটি হেরেছে, একটি ড্র করেছে জামাল ভূঁইয়ারা।

কেমন হলো প্রস্তুতি ম্যাচ দুটো? প্রশ্ন করতেই জেমি ডে’র জবাব, ‘আমি খুব খুশি। দুটি প্রস্তুতি ম্যাচই দারুণ হয়েছে। খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স ভালো ছিল।’

দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলিয়ে নিজের শিষ্যদের পরখ করলেন। কাতারের বিরুদ্ধে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচটিও দেখলেন। আফগানিস্তানকে হারানো কি সম্ভব? ‘কঠিন হবে এটা। আফগানিস্তানকে হারাতে হলে আমাদের দুর্দান্ত ফুটবল খেলতে হবে’-জবাব জেমি ডে’র।

আফগানিস্তানের চেয়ে কোনো বিভাগে কি আমরা এগিয়ে আছি? কি মনে করেন আপনি? ‘এ বিষয়ে কিছু বলা মুশকিল। কারণ, আফগানিস্তান শক্তিশালী দল। তাদের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় ইউরোপে খেলে। এটাই বলে দিচ্ছে তাদের লেভেলটা কি রকম’-বলেছেন বাংলাদেশের কোচ।

বিশ্বকাপ বাছাইয়ের দ্বিতীয় পর্বের প্রথম দিনে দক্ষিণ এশিয়ার চারটি দেশ খেলেছে। এর মধ্যে মালদ্বীপ শুধু জিতেছে। হেরেছে ভারত, নেপাল ও শ্রীলংকা। এ প্রসঙ্গ টেনে জেমি ডে বলেন, ‘এই ফলগুলোই আপনাকে বুঝিয়ে দিচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল কতটা পিছিয়ে।’

তাজিকিস্তান গিয়ে ৫ দিনে দুটি অনুশীলন ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। তারপরও জেমি ডে প্রথম একাদশ দাঁড় করাতে পারেননি। কেন? ‘কিছু পজিশন নিয়ে আমি এখনো সিদ্ধান্তহীনতায়। কারণ, ওই পজিশনের জন্য ২/৩ জনের মধ্যে লড়াই চলছে। তাই একাদশ চূড়ান্ত করতে আরো সময় নিচ্ছি।’

দুটি প্রস্তুতি ম্যাচে স্ট্রাইকাররা গোল পেলেন না। আবার সেই রবিউল গোল করে দলের মান রাখলেন। আপনার স্ট্রাইকারদের নিয়ে কিছু বলবেন? জেমি ডে বলেন, ‘নির্দিষ্ট কোনো পজিশন নিয়ে নয়, আমার ভাবনা সব পজিশন নিয়ে। তবে এটা ঠিক-ম্যাচ জিততে হলে আমাদের স্কোর করতে হবে।’

আপনাকে নিয়ে দেশের মানুষের প্রত্যাশা অনেক। সব হয়তো মাঠে ঠিক হয়ে যাবে, কি বলেন? জেমির উত্তর, ‘আমার হাতে অলৌকিক কিছু নেই।’

আরআই/এমএমআর/এমকেএইচবাংলাদেশ-ফুটবল

সেনাপ্রধানকে নিয়ে কাশ্মীর সীমান্তে ইমরান খান

মণিপুরি মুসলিম বিডি: পাকিস্তানের সেনাপ্রধানকে নিয়ে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলওসি) সফরে গিয়েছেন ইমরান খান। শুক্রবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এই সফর করেন।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মিডিয়া উইংয়ের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ডন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সফরের সময় সীমান্তে দায়িত্বে থাকা সেনা সদস্য ও নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন ইমরান খান ও সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া।

নিয়ন্ত্রণ রেখার (এলওসি) মাধ্যমে কাশ্মীর অঞ্চলের বিভক্তকে নির্দেশ করা হয়। রেখার একপাশ ভারত নিয়ন্ত্রণ করে। অপর পাশ নিয়ন্ত্রণ করে পাকিস্তান। এটি আন্তর্জাতিক আইনের কোনো সীমানা নয়, তবে এটি দুই দেশের মধ্যে কার্যকর একটি সীমানা।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মিডিয়া উইং জানায়, সফরকালে ইমরান খানের সঙ্গে আরো ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পারভেজ খাততাক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি এবং কাশ্মীর বিষয়ক বিশেষ কমিটির সভাপতি সায়েদ ফখার ইমাম প্রমুখ।

শুক্রবার পাকিস্তানে প্রতিরক্ষা ও শহীদ দিবস পালিত হচ্ছে। এ বছর প্রতিরক্ষা এবং শহীদ দিবস কাশ্মীরের সংহতি দিবস হিসেবেও পালিত হচ্ছে।

ভারতীয় সংবিধান থেকে ৩৭০ ধারা বাতিলের মধ্য দিয়ে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করা হয়। এরপর থেকে প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।

পাকিস্তান দাবি করে আসছে যে, ভারত যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ রেখায় হামলা চালিয়ে বেসামরিক নাগরিকদের মারছে। এর জবাবে পাকিস্তান পাল্টা হামলা চালায়। এতে দুই প্রতিবেশী দেশের বেসামরিক ও সেনা সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

আপনিও হতে পারেন লেখক

আপনার আশপাশে ঘটে যাওয়া যেকোনো ঘটনা বা যেকোনো বিষয়ে মণিপুরি মুসলিম বিডি সংবাদে লিখে পাঠান।

আপনিও হতে পারেন লেখক:&nbsp

প্রতিদিনের ঘটনা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সবাই মতামত, গল্প, কবিতা, বিভিন্ন ইভেন্ট, ক্যারিয়ার ভিত্তিক লেখা, জাতীয় প্রতিযোগিতার খবর, সংগঠনের কথা সবকিছুই তুলে ধরতে পারেন আপনি। ছবি/ভিডিওসহ লেখা পাঠান। মণিপুরি মুসলিম বিডি প্রকাশ করবে আপনার লেখা। এভাবে আপনিও হতে পারেন মণিপুরি মুসলিম বিডির নিয়মিত লেখক।

মণিপুরি মুসলিম পাতায় লেখা পাঠানোর নীতিমালা

লেখা পাঠানোর নীতিমালা

* ধর্মান্ধ, উগ্রপন্থী, সন্ত্রাসীদের কার্যকলাপ প্রচারের হাতিয়ার হবে না নাগরিক সংবাদ।

* ধর্মসংক্রান্ত কোনো লেখা, ছবি ও ভিডিও এখানে প্রকাশ হবে না।

* রাজনীতি নিয়ে কোনো ধরনের কোনো লেখা প্রকাশ করা হবে।

* অন্য কোনো ওয়েবসাইট থেকে কপি করা লেখা প্রকাশ করা হবে না।

* লেখায় অসংগতি থাকলেও প্রকাশ করা হবে না।

* বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ভঙ্গ করে, এমন কোনো নিউজ, ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হবে না।

* কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে, এমন মন্তব্য নিউজ, ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হবে না।

* কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অশালীন, অশোভন শব্দ ব্যবহার করা যবে না।

* নারী ও শিশুদের হেয়প্রতিপন্ন করে, এমন কোনো নিউজ, ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হবে না। কোনো নিউজ, ছবি ও ভিডিওতে কোনো ব্যক্তি বা বিষয় সম্পর্কে নিন্দার্থে অহেতুক নারীত্বের প্রসঙ্গ টেনে আনা যাবে না।

* কোনো ক্ষুদ্র জাতিসত্তা বা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্ম, সংস্কৃতি, আচার, জীবনযাত্রা, খাদ্যাভ্যাস কিংবা ভাষাকে অবমাননা করে—এমন কোনো নিউজ, ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হবে না।

* লেখা বা কনটেন্ট পাঠানোর সময় কোনো অশালীন শব্দ/ওয়েবসাইটের লিংক/স্লোগান/নিজস্ব স্বার্থে ব্যবহৃত শব্দ করা যাবে না।

* এমন কোনো নিউজ, ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হবে না, যা বাংলাদেশে সামাজিক ও সাংস্কৃতিকভাবে অশালীন বলে বিবেচিত হয়।

* বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকিস্বরূপ কোনো কিছু লেখা যাবে না।

* প্রথম আলো এই নীতিমালা পরিবর্তনের অধিকার সংরক্ষণ করে।

লেখা পাঠাতে ইমেল করেন।

লেখা পাঠাতে ইমেইল 

এইচটিএমএল ফর্ম উদাহরণ

  নামঃ

  ই-মেইলঃ

  এইচটিএমএল পছন্দঃ হ্যা

  না

 

Design a site like this with WordPress.com
Get started