২০১৯ সালের সেরা ১০ মুসলিম ব্যক্তিত্ব

২০১৯ সালের সেরা ১০ মুসলিম ব্যক্তিত্ব

রফিকুল ইসলাম জসিম |

আম্মানে অবস্থিত জর্ডানভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘দ্য রয়েল ইসলামিক স্ট্যাটিজিক স্টাডিজ সেন্টার’ প্রতি বছর ‘দ্য ওয়ার্ল্ডস ফাইভ হানড্রেড মোস্ট ইনফ্লুনসিয়াল মুসলিমস’ শিরোনামে সারাবিশ্বের প্রভাবশালী ও খ্যাতনামা মুসলিম ব্যক্তিত্বদের তালিকা প্রকাশ করে থাকে। দীর্ঘ নির্বাচন প্রক্রিয়া ও জরিপ পরিচালনার মাধ্যমে তারা এই তালিকা তৈরি করে।

এ তালিকাটি ৫০০ মুসলিম নামেও পরিচিত। অন্যান্য বারের মতো এবারও তারা জরিপ চালিয়ে বিশ্বের শীর্ষ ৫০০ প্রভাবশালী মুসলিম ব্যক্তিত্বের তালিকা তৈরি করেছে। সাধারণত ৫০০ সদস্যের তালিকা থেকে প্রথম ধাপে সর্বাধিক প্রভাবশালী ৫০ জন ব্যক্তিত্ব নির্বাচনের পর দ্বিতীয় ধাপে তারচেয়েও অধিক প্রভাবশালী সেরা ১০জন ব্যক্তিত্বকে নির্বাচন করা হয়।

সে ধারাবাহিকতায় তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ২০২০ সালের প্রকাশনায় বিশ্বের সর্বাধিক প্রভাবশালী সেরা ১০জন মুসলিম ব্যক্তিত্বের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। চলুন সংক্ষেপে জেনে নেই তাদের নির্ঘণ্ট ও পরিচয়।

১. বিচারপতি শায়খ মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি

Image result for শায়খ ম�ফতি ম�হাম�মদ তাকি উসমানি

বিশ্ববিখ্যাত স্কলার ও পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের বিচারক মুফতি তাকি উসমানি রয়েছেন তালিকার প্রথম স্থানে। গত বছরের তালিকায় তিনি ছিলেন ষষ্ঠ নাম্বারে। ৭৪ বছর বয়সী বরেণ্য এই ব্যক্তিত্ব সামগ্রিক জ্ঞান-অভিজ্ঞানে অগাধ পাণ্ডিত্য, কর্মখ্যাতি ও পারিবারিক আভিজাত্যের বিবেচনায় তালিকায় স্থান পেয়েছেন।

তিনি হাদিস, ইসলামী ফিকহ, তাসাউফ ও অর্থনীতিতে বিশেষজ্ঞ। এছাড়া এই বিশিষ্ট ব্যক্তি বর্তমানে ইসলামী অর্থনীতিতে সক্রিয় ব্যক্তিদের অন্যতম। তিনি ১৯৮০ সাল থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় শরিয়াহ আদালতের এবং ১৯৮২ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান সুপ্রিমকোর্টের শরিয়াহ আপিল বেঞ্চের বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। উর্দু, বাংলা, ইংরেজি ও আরবি ভাষায় তার গ্রন্থাদি রয়েছে।

২. আয়াতুল্লাহ আলী খোমেনি

Image result for আয়াত�ল�লাহ আলী খোমেনি

বিশ্বের প্রভাবশালী ১০জন মুসলিম ব্যক্তিত্বের তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ইরানের ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব সাইয়েদ আয়াতুল্লাহ আলী আল-খোমেনি। গত বছরের জরিপ-তালিকায় তিনি চতুর্থ স্থানে ছিলেন। আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী হোসেনী খামেনি জন্মগ্রহণ করেন ১৯৩৯ সালের ১৭ জুলাই। তিনি হলেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা এবং ইরানের ৮ কোটি শিয়া মুসলমানের আধ্যাত্মিক নেতা।

৭৭ বছর বয়সী এ ধর্মীয় নেতা রাজনীতি ও প্রশাসনিক ক্ষমতার কারণে তালিকায় স্থান পেয়েছেন। ১৩ অক্টোবর ১৯৮১ থেকে ৩ আগস্ট ১৯৮৯ পর্যন্ত তিনি ইরানের ৩য় রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ফোর্বস সাময়িকীর ২০১২ সালে পৃথিবীর সবচেয়ে প্রভাবশালী ২১ জনের তালিকায় তিনি স্থান করে নিয়েছিলেন। খামেনি ইরানের বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির অন্যতম সমর্থক।

৩. মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান

Image result for মোহাম�মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান

৫৮ বছর বয়সী শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান হলেন আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রপতি হওয়ার পরের সংযুক্ত আরব আমিরাতের সশস্ত্র বাহিনীর ডেপুটি সুপ্রিম কমান্ডার। তিনি প্রয়াত শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহায়ানের তৃতীয় পুত্র, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সর্বজন-সম্মানিত প্রথম রাষ্ট্রপতি যিনি একাত্তরে স্বাধীনতা থেকে ২০০৪ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রাজত্ব করেছিলেন। সামরিক এবং রাজনৈতিক নেতৃত্ব, দানশীলতা, দাতব্য ও উন্নয়নের কারণে তাকে এ তালিকায় মনোনিত হয়েছেন। ১০ জন ব্যক্কির তালিকায় তিনি তৃতীয় স্থানে রয়েছেন।

৪. সালমান বিন আবদুল আজিজ

Related image

তিনি বর্তমানে প্রভাবশালী মুসলিম ব্যক্তিত্বদের তালিকার চতুর্থ বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ জন্মগ্রহণ করেন ১৯৩৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর। তিনি সৌদি আরবের বর্তমান বাদশাহ। তিনি ২০১১ সাল থেকে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে¡ ছিলেন। তারও আগে ১৯৬৩ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত রিয়াদ প্রদেশের গভর্নর নিযুক্ত ছিলেন। বাদসাহ সালমান ২০১৫ সালের ২৩ জানুয়ারি তার সৎভাই বাদশাহ আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজের স্থলাভিষিক্ত হন। । সৌদি বাদশাহ হিসেবে তিনি পবিত্র কাবা শরিফেরও প্রধান। ২০১৬ ও ২০১৭-তে তিনি তৃতীয় স্থানে ছিলেন ও ২০১৮ তে ২য় অবস্থানে ছিরেন।

৫. কিং আবদুল্লাহ (দ্বিতীয়) ইবনে আল হুসাইন

Image result for কিং আবদ�ল�লাহ (দ�বিতীয়) ইবনে আল হ�সাইন

এই তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছেন জর্ডানের রাজা কিং আবদুল্লাহ দ্বিতীয়। ২০১৭ ও ২০১৬ এর তালিকায় তিনি প্রথম হয়েছিলেন ও গত বছরে তৃতীয় হয়েছিলেন। ৫৪ বছর বয়সী এ রাজা রাজনীতি ও ঐতিহ্যবাহী বংশের বিবেচনায় তালিকায় স্থান পেয়েছেন। রাজত্বের পাশাপাশি বর্তমানে তিনি পার্শ্ববর্তী জেরুজালেমের বিভিন্ন অঞ্চলের দেখভালের দায়িত্বেও রয়েছেন।

৬. রজব তাইয়েপ এরদোয়ান

Image result for রজব তাইয়েপ �রদোয়ান

রজব তায়িপ এরদোগান জন্মগ্রহণ করেন ১৯৫৪ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি। তিনি তুরস্কের ১২তম রাষ্ট্রপতি। ২০১৪ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করছেন এরদোগান। তিনিই ২০০৮ সালে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী মুসলিম ব্যক্তিত্বের তালিকার শীর্ষে ছিলেন। তবে চলতি বছরের জরিপে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছেন তিনি।

২০০১ সালে তিনি জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি বা একেপি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার অল্প দিনের মধ্যেই দলটি জনসমর্থনের মাধ্যমে এক নম্বর অবস্থানে চলে আসে। বিভিন্ন কারণে বিশ্বমহলে তিনি ব্যাপকভাবে আলোচিত। তার দল তুরস্কের ইতিহাসে একদলীয় দল হিসেবে টানা ৪ বার সংসদীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়।

৭. কিং মুহাম্মাদ ষষ্ঠ

Image result for কিং মà§�হামà§�মাদ ষষà§�à¦

মরক্কোর রাজা কিং মুহাম্মদ তালিকার সপ্তম স্থানে রয়েছেন। গত দুই বছরও তিনি একই স্থানে ছিলেন। ৫৩ বছর বয়সী এ রাজা রাজনীতি, প্রশাসনিক ক্ষমতা ও দেশীয় সার্বিক উন্নয়নের বিবেচনায় প্রভাবশালী মুসলিম ব্যক্তিত্বদের তালিকায় স্থান পেয়েছেন। তিনি পারিবারিকভাবে সরাসরি মহানবী মুহাম্মাদ সা.-এর বংশধর। গত ৪০০ বছর ধরে কিং মুহাম্মদের পূর্বপুরুষরা মরোক্কো শাসন করে আসছেন।

৮. সাইয়েদ আলী হুসাইন সিস্তানি

Image result for ৮. সাইয়েদ আলী হ�সাইন সিস�তানি

এই তালিকার অষ্টম স্থানে রয়েছেন ইরানের শিয়া বিপ্লবী নেতা সাইয়েদ আলী হুসাইন সিস্তানি। ২০১৪, ২০১৫ ও ২০১৭ সালেও তিনি সপ্তম স্থানে ছিলেন। তবে ২০১৬ সেরা দশের বাইরে ছিলেন। ৮৬ বছর বয়সী এ ব্যক্তিত্ব শিক্ষাজ্ঞান ও বংশক্রমের বিবেচনায় এবারো শীর্ষ তালিকায় স্থান পেয়েছেন।

৯. শায়খ হাবিব উমর বিন হাফিজ

Image result for শায়খ হাবিব ওমর বিন হাফিজ

নবম স্থানে রয়েছেন শায়খ হাবিব উমর বিন হাফিজ। তিনি ইয়েমেনের তারিমে অবস্থিত ‘দারুল মুস্তাফা’ সংস্থার পরিচালক। এর আগের বছর অষ্টম স্থানে ছিলেন তিনি। প্রিয় নবী সা.-এর জীবনীভিত্তিক বিভিন্ন রচনাকর্ম ও আয়োজনের কারণে তিনি বিশ্বে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৬২ সালে জন্মগ্রহণকারী এই ব্যক্তিত্ব তালিকায় নবব হয়ে এবার দ্বিতীয়বারের মতো স্থান পেয়েছেন।

১০. সুলতান কাবুস বিন সাদ-আল-সাইদ

Image result for স�লতান কাব�স বিন সাদ-আল-সাইদ

১০ স্থানে রয়েছেন ৭৯ বছর বয়সী সুলতান কাবুস বিন সাদ-আল-সাইদ। তিনি ওমানের রাজবংশের ১৪ তম বংশধর । একজন সামাজিক ও পোলিটিক্যালি সক্রিয় রাজা, যিনি সুলতান হিসাবে ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে রাজত্ব করেছেন। সুলতান কাবুস ওমানকে বিপ্লব ও আধুনিকায়িত করেছেন। একটি দরিদ্র, বিচ্ছিন্নতাবাদী দেশ থেকে আফ্রিকা মহাদেশের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং ধর্মীয় সহনশীলতায় নিবেদিত ভূমিতে রূপান্তর করেছেন।

সূত্র: মুসলিম৫০০

আরএম/

১৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশে আটটি মসজিদ নির্মাণ করবে সৌদি

| নিজস্ব প্রতিনিধি

ইতোপূর্বে সৌদি আরবের দেওয়া প্রতিশ্রুতি মোতাবেক ২০ মিলিয়ন ডলার বা ১৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশে আটটি মসজিদ নির্মাণ কাজ শিগ্রই শুরু করবে সৌদি সরকার। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত মসজিদের স্থানসমূহ সরেজমিনে পরিদর্শন করতে অক্টবরের শেষ দিকে বাংলাদেশ সফর করবেন সৌদি প্রতিনিধিবৃন্দ।

রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্স হারকান হুয়াইদাহ বিন শুয়াইয়াহ ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট শেখ মো. আব্দুল্লাহর সঙ্গে তার সচিবালয়ের কার্যালয়ে সাক্ষাতকালে এ তথ্য জানান।

সাক্ষাতকালে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশে সৌদি সরকারের মসজিদ নির্মাণের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সৌদি সরকার কর্তৃক বাংলাদেশে মসজিদ নির্মাণ নিঃসন্দেহে একটি আনন্দের বিষয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে নিজস্ব অর্থায়নে সারা দেশে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে মোট ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু করেছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজের সময়ে বাংলাদেশ এবং সৌদি আরবের মধ্যকার দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। মুসলিম উম্মার কল্যাণে সৌদি সরকারের সব প্রচেষ্টার সাথে থাকবে বাংলাদেশ।

সাক্ষাতকালে ধর্ম সচিব মো. আনিছুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব ড. মোয়াজ্জেম হোসেন, যুগ্ম সচিব এবিএম আমিন উল্লাহ নুরী এবং সৌদি এম্বাসেডর কার্যালয়ের পরিচালক খালেদ আল ওতাইবি উপস্থিত ছিলেন।

শেখ হাসিনার জন্মদিনে

সুমন রঞ্জন সেন

পুষ্প যখন ফুটে উঠে
চারিদিকে ছড়ায় গন্ধ,
পুষ্প গন্ধে মুগ্ধ হবে
হৃদয় মাঝে দেখবে ছন্দ।

কালের তালে আসা যাওয়া
কর্মফলে মানব মনে,
নতুন দিশা দেখার আশায়
চিন্তা করে প্রতি জনে।

নদীর মতো জীবন চলে
দেখবে শত রঙ্গ রেখা,
ধাপে ধাপে দৃষ্ট শত
তাহা থেকে অনেক শেখা।

শেখ হাসিনার জন্মদিনে
অভিনন্দন জ্ঞাপন সুমন,
লেখার নেশায় দু-চার লাইন
খেলতে থাকে হৃদয় ভুবন।

কর্মধারায় উচ্চ পদে
কর্মে মহান দেখবে পথে,
কর্মক্ষেত্রে শান্তির বার্তা
চলতে থাকবে বিজয় রথে।

নারী বোঝে মর্ম ব্যথা
নারীর অন্তর কোমল মায়া,
তেমন নারী উন্মেষ হলে
বৃক্ষের মতো মিলবে ছায়া।
………………….
করিমগঞ্জ, আসাম, ভারতবর্ষ

শুভ জন্মদিন গণমানুষের নেত্রী শেখ হাসিনা

রফিকুল ইসলাম জসিম:

শুভ জন্মদিন গণমানুষের নেত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ৭৩তম জন্মদিন আজ (২৮ সেপ্টেম্বর)। ১৯৪৭ সালের আজকের এই দিনে তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বর্তমানে টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। একইসঙ্গে বিশ্বের দরবারেও আর্থসামাজিক ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির এক রোল মডেল হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন বাংলাদেশকে। তার হাত ধরে বাংলাদেশ আজ মর্যাদাশীল রাষ্ট্রে অধিষ্ঠিত হয়েছে।

শেখ হাসিনা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বেগম শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের বড় সন্তান। রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসেবে ছাত্রজীবন থেকে প্রত্যক্ষ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি অর্জনকারী শেখ হাসিনা তৎকালীন ছাত্রলীগের অন্যতম নেতা ছিলেন।

১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তনের পর ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে দলীয় প্রধানের দায়িত্ব নেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। এরপর থেকে ৩৬ বছর ধরে নিজ রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও আপসহীন নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশের অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক রাজনীতির মূল স্রোতধারার প্রধান নেতা হিসেবে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও অন্য রাজনৈতিক জোট-দলগুলো ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে বিজয়ী হয়।

১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই তৎকালীন বিএনপি সরকারের পতন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিজয় অর্জন করে আওয়ামী লীগ। গত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় প্রধান বিরোধী দলের নেতা হিসেবে তার নেতৃত্বে অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ে প্রথমে ১৪ দলীয় জোট এবং পরে মহাজোট গড়ে ওঠে। ১৪ দল ও মহাজোটের তীব্র আন্দোলনের মুখে অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ২২ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচন করার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারি করে ড. ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এলে ওই বছরের ১৬ জুলাই অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হয় শেখ হাসিনাকে। ওই সময় সংসদ ভবন চত্বরের বিশেষ কারাগারে দীর্ঘ প্রায় ১১ মাস বন্দি ছিলেন তিনি। গণতান্ত্রিক আন্দোলন করতে গিয়ে এর আগেও কয়েক দফা গৃহবন্দিত্ব কেটেছে তার।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ এই পর্যন্ত চার মেয়াদে ক্ষমতাসীন হয়েছে। ১৯৯৬ সালে তার নেতৃত্বে দীর্ঘ ২১ বছর পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দলটি। ওই বছরের ১২ জুনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হয়ে ২৩ জুন সরকার গঠন করে তারা।

এরপর ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের ঐতিহাসিক নির্বাচনে চার-তৃতীয়াংশ আসনে বিশাল বিজয় অর্জনের মাধ্যমে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার গঠিত হয়। দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা। ২০১৪ এর ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ের পর ১২ জানুয়ারি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে টানা দ্বিতীয় এবং ২০১৮ এর নির্বাচনে বিজয়ের পর টানা তৃতীয় মেয়াদের তার নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়েছে। এছাড়া ১৯৮৬ সালের তৃতীয়, ১৯৯১ সালের পঞ্চম এবং ২০০১ সালের অষ্টম সংসদে অর্থাৎ মোট তিন দফা বিরোধী দলের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্র পরিচালনায় দূরদর্শিতার পাশাপাশি ১৯৯৬-২০০১ সালে তার প্রধানমন্ত্রীত্বকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি ও গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি তার সরকারের অন্যতম সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। বর্তমানে তার নেতৃত্বাধীন সরকার ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত ও মধ্যম আয়ের আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য পূরণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

গণতন্ত্র, শান্তি ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং নারী শিক্ষার বিস্তার, শিশুমৃত্যুর হার হ্রাস ও দারিদ্র্য বিমোচনের সংগ্রামে অসামান্য ভূমিকা রাখার স্বীকৃতি হিসেবে দেশি-বিদেশি বেশ কিছু পুরস্কার ও সম্মানে ভূষিত হয়েছেন শেখ হাসিনা। এর মধ্যে সাউথ-সাউথ ভিশনারি পুরস্কার-২০১৪, শান্তি বৃক্ষ-২০১৪, জাতিসংঘ পুরস্কার-২০১৩ ও ২০১০, রোটারি শান্তি পুরস্কার-২০১৩, গোভি পুরস্কার-২০১২, সাউথ-সাউথ পুরস্কার-২০১১, ইন্দিরা গান্ধী শান্তি পুরস্কার-২০১০, পার্ল এস. বার্ক পুরস্কার-২০০০, সিইআরইএস মেডাল-১৯৯৯, এম কে গান্ধী পুরস্কার-১৯৯৮, মাদার তেরেসা শান্তি পুরস্কার-১৯৯৮, ইউনেস্কোর ফেলিক্স হোফুয়েট-বোয়েগনি শান্তি পুরস্কার-১৯৯৮ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া, পরিবেশ সংরক্ষণে অসামান্য অবদানের জন্য জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’ পুরস্কারেও ভূষিত হয়েছেন শেখ হাসিনা।

গত কয়েক বছরের মতো এবারও জন্মদিনে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭০তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক গেছেন তিনি। তার অনুপস্থিতিতে দিনটি উৎসব মুখর পরিবেশে নানা কর্মসূচি পালন করবে তার নেতৃত্বাধীন দল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ শনিবার বিকাল সাড়ে তিনটায় আওয়ামী লীগের উদ্যোগে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া, সারাদেশে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহার (মেরুল বাড্ডা) ও সকাল ৯ টায় খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (সিএবি) মিরপুর ব্যাপ্টিস চার্চ (৭/৩/এ, সেনপাড়া, পর্বতা, মিরপুর-১০) এবং সকাল ১১টায় ঢাকেশ্বরী মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। এসব কর্মসূচিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন। একইদিন ঢাকাসহ সারাদেশে সব সহযোগী সংগঠন র‌্যালি, শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, আলোক চিত্র প্রদর্শনীসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে।

আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের পক্ষ থেকে নিউইয়র্ক অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে আজ জন্মদিনের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হবে। ঢাকা থেকেও টেলিফোনে তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছ জানাবেন দলের নেতারা।

এছাড়া, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, শেখ রাসেল জাতীয় শিশুকিশোর পরিষদ, বঙ্গবন্ধু শিশুকিশোর মেলা, আওয়ামী মোটর চালক লীগ ও প্রজন্ম সংসদসহ বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপন করবে।

দলীয় সভাপতির জন্মদিন উপলক্ষে সারাদেশে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করার জন্য আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠন, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সংস্থাসমূহের সব স্তরের নেতা-কর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের

মনিপুরী সমাজ কল্যাণের- নেশামুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার! 

মনিপুরী সমাজ কল্যাণ সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে আজ মাদক এর ক্ষতিকর প্রভাব বিষয়ে সচেতনতামূলক এক আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন মণিপুরী সমাজ কল্যান সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আনন্দমোহন সিংহ, কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদক কমলাবাবু সিংহ, অর্থ সম্পাদক পুনিল সিংহ, সহ সাধারণ সম্পাদক রবীন্দ্রসিংহ, জয় সিংহ, বাংলাদেশ মণিপুরী যুব কল্যাণ সমিতির সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি নিখিল সিংহ, মনিপুরী সমাজ কল্যাণ সমিতি জুড়ী বড়লেখা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ও বাংলাদেশ মণিপুরী যুব কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সদস্য বিজন সিংহ সহ আরো অনেক সুধীজন। আলোচনায় আসন্ন দূর্গাপূজায় প্রজন্মকে নেশামুক্ত রাখার বিভিন্ন দিক নিয়ে গুরুত্ব আরোপ করা হয়। প্রয়োজনবোধে আইনী পদক্ষেপ গ্রহনের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সর্বোপরি নেশা সমাজ, রাষ্ট্র ও মানবদেহের উপর ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলায় নেশামুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয় ।

মণিপুরে বৃন্দা থোনাজাম কে সেরা পুলিশ কর্মকর্তা হিসাবে ভূষিত!

আজ ২৬ সেপ্টেম্বর রোজ বৃহস্পতিবার, অতিরিক্ত এসপি, এনএবি মণিপুর, থোনোজাম ব্রিন্ডাকে তার ৬ষ্ঠ সংস্করণে হায়াত রিজেন্সি, নয়াদিল্লিতে এফআইসিসিআই ক্যাসকেড (ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি) দ্বারা পরিচালিত চোরাচালান ও জাল ব্যবসায়ের বিরুদ্ধে সেরা পারফর্মিং অফিসারের জন্য ভূষিত করা হয়েছিল। জিডি বিড়লা এবং পুরুষসুম দাসের দ্বারা মহাত্মা গান্ধীর পরামর্শে এফআইসিসিআই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এটি ভারতের বৃহত্তম, প্রাচীনতম এবং শীর্ষ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। FICCI ক্যাসকেড 2019 পাচার এবং জালিয়াতি কার্যক্রমের বিরুদ্ধে শীর্ষ শিল্প কমিটি গত দেড় বছরে, বৃন্দা রাজ্যের বেশ কয়েকটি বড় ওষুধের কার্টেলকে ফাঁস করেছে। তিনি উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদদের সহ বেশ কয়েকটি শক্তিশালী মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছেন।

বৃন্দা থোনাজাম এই পুরষ্কারের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং মণিপুর সরকার, বিশেষত মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র বিভাগ এবং নাগরিক সমাজগুলিকে রাজ্যে মাদকের বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে প্রচুর সমর্থন করার জন্য কৃতিত্ব প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে মাদকবিরোধী যুদ্ধ বর্তমান সরকার চালু করেছে এবং এটি দানবটির বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াইয়ের মাত্র এক সূচনা যা যুব প্রজন্মকে একসাথে মুছে ফেলার সম্ভাবনা রয়েছে। অফিসারকে 2018 সালে মুখ্যমন্ত্রীর গ্যালান্ট্রি পদক এবং মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তার অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে এই বছর মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা সনদ দেওয়া হয়েছে।

এই সেই আবাবিল পাখি, যার কথা পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে!

এই সেই আবাবিল পাখি, যার কথা পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে!

মক্কা নগরীতে অবস্থিত কাবা শরীফের ধর্মীয় ভাবগম্ভীর্য ও পবিত্রতায় মুগ্ধ হয়ে মানুষ যখন দলে দলে কাবা ঘরের দিকে আসতে থাকে তখন ইয়েমেনের রাজা আব্রাহা ঈর্ষাণিত হয়ে কাবা ঘর ধ্বংস (নাউজুবিল্লাহ) করার পরিকল্পনা করেন। আব্রাহা এই উদ্দেশ্যে ৬০ হাজার সৈন্য ও কয়েক হাজার হাতি নিয়ে মক্কার দিকে রওয়ানা হন।

যখন তারা মসজিদুল হারাম শরীফের কাছাকাছি পৌছান তখন আল্লাহ হাজার হাজার আবাবিল পাখি প্রেরণ করেন। পাখিগুলো আল্লাহর নির্দেশে পায়ের তালুতে ২ টি ও মুখের মধ্যে ১ টি করে পাথর নিয়ে আব্রাহার হাতি বাহিনীর উপর নিক্ষেপ করতে থাকে এবং তাদের পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়।

এই ঘটনার কথা আল্লাহ পবিত্র কোরআনে সূরা আল ফীলে বর্ণনা করেছেন। পবিত্র কা’বা শরীফে এখনও এই আবাবিল পাখি দেখা যায়। রাত গভীর হলে যখন চারদিকে নিস্তব্ধ হয়ে পড়ে তখন এই আবাবিল পাখির ডাক শুনা যায়। মসজিদের ভিতর ছাঁদে হেরেমের ভিতর এদের সুন্দর বাসা সবার নজরে আসে।

কোরআন নিয়ে মহাকাশে আমিরাতি নভোচারী

মহাকাশ যাত্রার আগে হাজজা আল মানসুরি (ডানে) –

সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের ‘মিশন-১’ মহাকাশ কর্মসূচির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে (আইএসএস) প্রথমবারের মতো নিজেদের নাম লিখিয়েছে। এটি আরব আমিরাতের জন্য এক বিশেষ অর্জন এবং এর মাধ্যমে মহাকাশে দেশটির পতাকা উড্ডয়নের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিয়েছে।

আমিরাতের প্রধান নভোচারী হাজজা আল মানসুরি রাশিয়ার কমান্ডার ওলেগ স্ক্রিপোচকা এবং নাসা নভোচারী জেসিকা মেয়ারের সাথে থেকে সয়ুজ এমএস -১৫ মহাকাশযানে করে বুধবার সন্ধ্যা ৭.৫৬ মিনিটে (বাংলাদেশ সময়) মহাকাশ স্টেশনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছেন।
কাজাখস্তানের বাইকনুর কসমোড্রোম মহাকাশ পোর্ট থেকে তাদের যাত্রা শুরু হয়, এখান থেকেই ১৯৬৯ সালের এপ্রিল মাসে রাশিয়ান মহাকাশচারী ইউরি গ্যাগারিন প্রথম মানুষ হিসেবে মহাকাশে যাত্রা করেছিলেন।

এই নভোচারীদের বহনকারী যানটি মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছাতে প্রায় ছয় ঘন্টা সময় নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ থেকে বেরিয়ে যেতে তাদের সময় লেগেছে মাত্র নয় মিনিট।

এটিই হচ্ছে প্রথম কোনো আরব দেশ হিসেবে আমিরাতের মহাকাশ যাত্রা। ১৯তম দেশ হিসেবে তারা এই গৌরব অর্জন করতে যাচ্ছে। নভোচারী হাজজা আল মানসুরি ২৪০তম দর্শনার্থী হিসাবে মহাকাশে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিনিধিত্ব করছেন।

এই মহাকাশ যাত্রায় রিজার্ভ নভোচারী হিসেবে বাইকনুর কসমোড্রোমে উপস্থিত ছিলেন আরেক আমিরাতি নভোচারী সুলতান আল নেয়াদি সহ নাসার টমাস মার্শবার্ন এবং রাশিয়ান কমান্ডার সের্গেই রাইহিকোভ।

এর আগে আমিরাতের প্রধান নভোচারী হাজজা আল মানসুরি এফ-১৬ জেটের মিলিটারী পাইলট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ৪০২২ জন প্রার্থীর মধ্যে থেকে তিনি আরব আমিরাতের প্রথম নভোচারী হিসেবে নির্বাচিত হন। আল মানসুরি ২০০৪ সালে আবুধাবির খলিফা বিন জায়েদ এয়ার কলেজ থেকে বিমান সায়েন্স ডিগ্রি অর্জন করেন।

আল মানসুরি তার এ মহাকাশ যাত্রায় সঙ্গে করে নিয়ে গেছেন পবিত্র কুরআনের একটি কপি, শতভাগ রেশম দ্বারা তৈরি সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি পতাকা, আল গাফ গাছের ৩০টি বীজ ,আমিরাতি খাবার, তার পরিবারের ছবি এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত জিনিসপত্র।

হাজজা আল মানসুরি আট দিন মহাকাশে অবস্থান করবেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৩ অক্টোবর বিকেলে তিনি পৃথিবীতে ফিরে আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

নাসায় প্রথম বাংলাদেশি নারী সিলেটের মাহজাবীন

মণিপুরি মুসলিম বিডি:

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণার প্রতিষ্ঠান নাসায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সিলেটের মেয়ে মাহজাবিন হক।

মাহজাবিন হক নাসায় নিয়োগ পাওয়া একমাত্র বাংলাদেশি নারী। তার পিতা সৈয়দ এনামুল হক পূবালী ব্যাংক লি. এর সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার। তাদের গ্রামের বাড়ি সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার কদমরসুল গ্রামে।

মাহজাবিন হক এ বছরই মিশিগান রাজ্যের ওয়েন স্টেইট ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে উচ্চতর ডিগ্রী সম্পন্ন করেছেন।

পেইন্টিং ও ডিজাইনে পারদর্শী মাহজাবীন হক ২০০৯ সালে পিতা-মাতার সাথে যুক্তরাষ্ট্রে যান। কর্মসূত্রে পিতা সৈয়দ এনামুল হক সিলেটে অবস্থান করলেও তার সাথে আছেন মা ফেরদৌসী চৌধুরী ও একমাত্র ভাই সৈয়দ সামিউল হক। সৈয়দ সামিউল হক ইউএস আর্মিতে কর্মরত। তারা সিলেট নগরীর কাজীটুলাস্থ হক ভবনের স্থায়ী বাসিন্দা।

মাহজাবীন হক ওয়েইন স্টেইট ইউনিভার্সিটি অধ্যয়নকালে দুই দফায় টেক্সাসের হিউস্টনে অবস্থিত নাসার জনসন স্পেস সেন্টারে ইন্টার্ণশীপ করেছেন। প্রথম দফায় তিনি ডাটা এনালিস্ট এবং দ্বিতীয় দফায় সফটওয়্যার ডেভেলপার হিসেবে মিশন কন্ট্রোলে কাজ করেন।

মাহজাবীন হক জানান, দু দফায় ৮ মাস দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে কাজ করেন তিনি। এই কাজের মাধ্যমে অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। নাসা অ্যামাজন সহ বিশ্বের অনেক খ্যাতনামা কোম্পনী থেকে তিনি চাকরির অফার পেয়েছেন। এর মধ্যে নাসাকেই বেছে নেন তিনি।

মৌলভীবাজারের মেয়ে বাংলাদেশ  বিমানের প্রধান ক্যাপ্টেন

বাংলাদেশ বিমানের প্রধান ক্যাপ্টেন আলেয়া মান্নান পিংকি মৌলভীবাজারের গিয়াসনগর এলাকার রনভীম গ্রামের লেফটেনেন্ট কর্ণেল মৃত এম. এ মান্নান ও বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) এর প্রথম ইংরেজী সংবাদ পাঠিকা, সাংবাদিক, ঢাকা লেডিস ক্লাবের দুই বারের সাবেক সভাপতি জাহানারা মান্নানের মেয়ে।

বাংলাদেশ বিমানের প্রধান ক্যাপ্টেন আলেয়া মান্নান পিংকি মৌলভীবাজারের গিয়াসনগর এলাকার রনভীম গ্রামের লেফটেনেন্ট কর্ণেল মৃত এম. এ মান্নান ও বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) এর প্রথম ইংরেজী সংবাদ পাঠিকা, সাংবাদিক, ঢাকা লেডিস ক্লাবের দুই বারের সাবেক সভাপতি জাহানারা মান্নানের মেয়ে।

মিসেস পিংকির চাচা বিশিষ্ট সমাজ সেবক যোদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মোহিত টুটু ও সোনালী ব্যাংক মৌলভীবাজারের প্রধান শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক এম. এ মজিদ।

বিনোদনের নামে ধর্মীয় পোশাকে কটাই-কাট্টুস আলীর নষ্টামি, জমিয়তের তীব্র প্রতিবাদ

বিনোদনের নামে ধর্মীয় পোষাকে নষ্টামির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সিলেট জেলা ও মহানগর জমিয়তের নেতৃবৃন্দ। রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে জমিয়ত নেতারা বলেছেন, দীর্ঘদিন থেকে সিলেটের বাসিন্দা হয়ে সিলেটি ঐতিহ্য রক্ষার নামে দাঁড়ি-টুপি, পাঞ্জাবি ইত্যাদি পোশাক নিয়ে ব্যাঙ্গ করে যাচ্ছে কটাই মিয়া আর কাট্টুস আলী নামের নাটকবাজরা। দিন দিন তাদের অপসংস্কৃতির মাত্রা বেড়েই চলেছে। যা আধ্যাত্মিক রাজধানী সিলেটের মুসলমানদের জন্য অশনিসংকেত।

বিবৃতিতে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম সিলেট জেলার সভাপতি মাওলানা শায়খ জিয়া উদ্দিন, মহানগর সভাপতি মাওলানা খলিলুর রহমান, জেলার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আতাউর রহমান, ও মহানগরের সাধারণ সম্পাদক হাফিজ মাওলানা ফখরুজামান এক বিবৃতিতে এসব অপসংস্কৃতির তীব্র প্রতিবাদ ও এদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য সিলেটবাসীর প্রতি আহবান জানান।

কনেযাত্রী এলেন বরের বাড়ি: প্রথা ভেঙ্গে বিয়ে করে আলোচনায় যে দম্পতি

কনে খাদিজা আক্তার খুশি এবং বর তরিকুল ইসলাম জয়।ছবির কপিরাইটUJJWAL MASUD
Image captionকনে খাদিজা আক্তার খুশি এবং বর তরিকুল ইসলাম জয়।

বাংলাদেশে বিয়ের যে প্রচলিত প্রথা সেটা ভেঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে চুয়াডাঙ্গার সদ্য বিবাহিত এক দম্পতি।

গত শনিবারের এই বিয়ের ছবি এবং ভিডিও ফেসবুকে অনেকেই শেয়ার করছেন।

বাংলাদেশের চিরাচরিত নিয়মানুযায়ী বর তার আত্মীয়-স্বজনসহ অন্যান্য সহযাত্রীদের নিয়ে কনের বাড়ি যান বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে। এবং সেখান থেকে কনেকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন।

কিন্তু চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলার হাজরাহাটি গ্রামের মেয়ে খাদিজা আক্তার খুশি এক্ষেত্রে উল্টো কাজটি করেছেন।

তিনি তার সহযাত্রীদের নিয়ে মেহেরপুর জেলার গাঙনি পৌরসভার চৌগাছা গ্রামের ব্যবসায়ী তরিকুল ইসলাম জয়ের বাড়িতে হাজির হন বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে।

বিয়ের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্রথাগতভাবে বিয়ের অনুষ্ঠানস্থলের প্রবেশমুখে যেভাবে বরকে বরণ করা হয়, তেমনি এই বিয়েতেও কনেকে ফুলের মালা পরিয়ে, মিষ্টি খাইয়ে বরণ করে নেন বরপক্ষের আত্মীয় স্বজন।

দেখুন ব্যতিক্রমধর্মী এই বিয়ের ভিডিও:

ব্যাতিক্রমধর্মী এই বিয়ে দেশজুড়ে বেশ সাড়া ফেলেছে

এরপর বর কনে আসনে বসে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। সব অতিথিদের আপ্যায়ন শেষে সন্ধ্যার দিকে বরকে নিয়ে কনে চলে যান তার বাবার বাড়িতে।

ব্যতিক্রমধর্মী এই বিয়ের অনুষ্ঠানকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উৎসাহের কমতি ছিলনা বলে জানিয়েছেন সেখানকার এক সাংবাদিক।

বিয়ের অনুষ্ঠান দেখতে বরের বাড়িতে যেমন উৎসাহী জনতা ভিড় ছিল তেমনি কনের বাড়িতে অনেক মানুষ জড়ো হন বলে তিনি জানান।

এই প্রথার বাইরের বিয়ের প্রস্তাবটি আসে মূলত বর তরিকুল ইসলাম জয়ের বাবা আবদুল মাবুদের পক্ষ থেকে।

“আমার বাবা ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সেক্রেটারি। তিনি অনেক জায়গায় বক্তব্য দিতে গিয়ে নারী পুরুষের সমান অধিকারের কথা বলেছেন। এবং তিনি কাজেও সেটা প্রমাণ করার জন্য আমাকে এভাবে বিয়ে দেয়ার চিন্তাভাবনা করেন।” বলেন বর তরিকুল ইসলাম।

তারা চেয়েছেন এই বিয়ের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নারী পুরুষের বৈষম্য দূর করার একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে।

এ ব্যাপারে কনে খাদিজা আক্তার বলেন, “ছেলেরা যদি পারে মেয়েদেরকে বিয়ে করে নিয়ে আসতে তাহলে মেয়েরা কেন পারবেনা। নতুন সিস্টেমে বিয়ে করতে পারে আমি অনেক খুশি। প্রথমে ভেবেছিলাম এভাবে বিয়ে করবো, ঠিক হবে কিনা। কিন্তু পরে আমি রাজী হই। এমন আনকমনভাবে বিয়ে এর আগে আর কেউ করেনি। বিয়েতে এজন্য অনেক আনন্দ হয়েছে।”

শুরুতে দুই পরিবারের আত্মীয়-স্বজন এবং পাড়া-প্রতিবেশী আপত্তি জানালেও পরে তারা রাজী হন। এবং সাদরেই এই প্রস্তাবকে গ্রহণ করেন।

বিয়ে বাড়ির অতিথিদের সঙ্গে বর কনে।ছবির কপিরাইটUJJWAL MASUD
Image captionবিয়ে বাড়ির অতিথিদের সঙ্গে বর কনে।

“অনেকে কোর্টে গিয়ে বিয়ে করেন, অনেকে মসজিদে বিয়ে করেন। আমরা ধর্ম মতে বিয়ে করেছি। কাজী ছিলেন, সাক্ষীরা ছিলেন। সেভাবেই বিয়ে রেজিস্ট্রি হয়েছে। বিয়ের আসল আনুষ্ঠানিকতা তো এটাই। সেটা তো আমরা ঠিকভাবেই করেছি। এখন অনুষ্ঠান কিভাবে হল না হল, সেটা নিয়ে কারা কী ভাবল, কী বলল সেটা আমাদের দেখার বিষয় না। একেক মানুষ একেকরকম ভাববে, এটা যার যার ব্যাপার” বলেন বর মিঃ ইসলাম।

বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে ফেরার সময় কনে ও তার পরিবার সাধারণ শোক বিহ্বল হয়ে কান্নাকাটি করেন।

কিন্তু এই বিয়েতে তাহলে ফেরার পরিবেশ কেমন। সেটা নিয়েও মানুষের আগ্রহের শেষ নেই।

এ ব্যাপারে মি: ইসলাম বলেন, “মা-বাবাকে ছেড়ে যেতে কষ্ট হয়েছে। তাদেরকে সালাম করে দোয়া চেয়ে ফিরেছি। পুরুষ মানুষ, সহজে চোখে পানি আসেনি ঠিক কিন্তু কষ্ট হয়েছে। তাই চুপচাপ ছিলাম।”

পুরুষ শাসিত সমাজে নারী পুরুষের সমান অধিকারের বহিঃপ্রকাশে এই প্রথা ভেঙ্গে বিয়ে করার বিষয়টিকে প্রতীকী বলে জানিয়েছেন কনে খাদিজা আক্তার।

বরের বাড়ি।ছবির কপিরাইটUJJWAL MASUD
Image captionচুয়াডাঙ্গায় বরের বাড়িতে সম্পন্ন হয় বিয়ের সব আনুষ্ঠানিকতা।

” সমাজ ও সাহিত্য ভাবনা ”  – হাজী মো. আব্দুস সামাদ !


সাহিত্য হচ্ছে সমাজের দর্পণ। জাতি, সমাজ, ব্যাক্তির প্রতিচ্ছবি। সাহিত্য মানেই সমাজ তথা জীবনের আয়না। যে কোনো দেশ, জাতি বা ব্যাক্তির আত্মপরিচয়ের মূলস্তম্ভ সংস্কৃতি। সংস্কৃতি প্রকাশ প্রায় সাহিত্য রচনার মাধ্যমে৷ সাহিত্যের সকল পাতায় অনিবার্যভাবেই উঠে আসে আমাদের সাংস্কৃতিক পরিচয়৷ যা মুলত সমাজ তথা জাতির ইতিহাসের বিরাট অংশ দাবি করা যায়। সাহিত্য আয়নায় জীবন ও সমাজের নানা ধরনের ভাঙা-গড়ার ইতিহাসের জীবন্ত চিত্র দেখতে পাওয়া যায়৷
আমাদের সমাজজীবনে সাহিত্যের অনেক প্রয়োজন। সাহিত্যের সাথে মানুষের সুগভীর সর্ম্পক। সাহিত্য ছাড়া মানুষ চলতে পারে না। সাহিত্যের মাঝে মানুষের সুখ, দুঃখ, হাসি, কান্না, ব্যথা-বেদনা, মান-অভিমান, মায়া-মমতা ও ভালোবাসা প্রকাশ পায়। ব্যক্তি, সমাজ, জাতি ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোড়ন তুলেন। সাহিত্যেই জীবন ও সমাজের প্রতিচ্ছবি। সাহিত্যিকেরা ইতিহাস, ঐতিহ্য, সভ্যতা, সংস্কৃতি, কৃষ্টি-কালচার, মানবতাবোধ এবং পৃথিবীর করুণ আর্তনাদ তুলে ধরার চেষ্টা করেন।
কবি, সাহিত্যিকেরা হলেন সমাজের মুখর চারণ। তাঁদের লেখনীতে ভাস্বর হয়ে ওঠে সমাজের সত্য, স্বরূপ। সাহিত্যের মুকুরে তাই দেখা যায় সমাজের সমসাময়িক প্রতিরূপ। আজকে বাংলাদেশে বসবাসরত মণিপুরি মুসলিম সম্প্রদায়ের একজন সাহিত্যিকের সমাজ ও সাহিত্য ভাবনা নিয়ে তুলে ধরা হলো-


হাজী মো.আব্দুস সামাদ: ৩০ জুলাই ১৯৫২ সনে বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলাধীন আদমপুর ইউনিয়নের কান্দিগাঁও গ্রামে মরহুম মো. আব্দুস সহিদ এর ঔরসে জন্মগ্রহণ করেন। কমার্স গ্র্যাজুয়েট আব্দুস সামাদ ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংক “সোনালী ব্যাংক লি:” এ যোগদান করেন। তিনি ২০১০ সালে সিনিয়র এক্সকিউটিভ অফিসার হিসাবে কর্মরত অবস্থায় অবসর,গ্রহণ করেন। বর্তমানে কান্দগাঁওস্থ নিজ আলয় ” পাঙাল নিবাস ‘ এ অবসর জীবনযাপন করছেন | বাংলাদেশের মণিপুরি সমাজের একজন কবি ও সাহিত্যিক হিসাব পরিচিত লেখকের প্রথম প্রকাশিত বই – মণিপুরি মুসলমানদের ইতিবৃত্ত (ইতিহাস বই) । সমাজ, সাহিত্য ও সংস্কৃতির নিবিড় অন্তলোকের উজ্জ্বল অনুসন্ধানে নিয়োোজিত এক বিরল ব্যক্তি হাজী মো. আব্দুস সামাদ। একজন উচ্চপদস্থ সরকারি চাকুরিজীবী হয়েও তিনি সমাজ ও সাহিত্য গবেষণার মতো কঠিন কাজে ব্যাপৃত রয়েছে । মণিপুরি মুসলিম সমাজের ইতিহাস- ঐতিহ্যকে গভীর ভাবে পর্যবেক্ষণ এবং মৌলিক তাত্ত্বিক বিশ্লেষণেে তিনি সুধী – পাঠকদের অনেক প্রশংসা কুড়িয়েছেন৷ সাহিত্য- সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে একজন সফল সংগঠক ও পৃষ্ঠপোষক হিসাবে তিনি যথেষ্ট ভূমিকা রেখেছেন৷ সাহিত্যের বিভিন্ন শাখা তার পদচারনায় মুখরিত!


এই গুনী লেখকের – সাক্ষাৎকার নিয়েছেন, – রফিকুল ইসলাম জসিম


প্রশ্ন : কেমন আছেন?


: মহান আল্লাহ রাব্বুল আ-লামিনের অশেষ মেহেরবানিতে ভালই আছি।


প্রশ্ন : লেখালেখির শুরুটা কিভাবে হলো এবং লেখার বিষয়বস্তু কি ছিল? এখন কি লিখছেন তা যদি বলতেন?


: লেখালেখির শুরু বাল্যকাল থেকেই, কিন্তু তা অনিয়মিত এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক। প্রাতিষ্ঠানিক লেখার শুরু চাকুরী জীবন থেকেই। লেখার বিষয়বস্তু ছিল সামাজিক অনুভূতি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা, কবিতা, ছোট গল্প, ডাইরী ইত্যাদি।। কিন্তু প্রকাশক বা মাধ্যমের অভাবে তার অনেকটাই হারিয়ে গেছে।

এখন আত্মজীবনী লেখার চেষ্টা করছি। পাশাপাশি আমার লেখা ইতিহাস গ্রন্থের ইংরেজী অনুবাদ। আর মন চাইলে মাঝেমধ্যে কবিতা আর ছোট ছোট অনুভূতি আর স্মৃতিকথা।


প্রশ্ন : আপনার অপ্রকাশিত লেখা গুলো প্রকাশনার অভাবে অনেকটা হারিয়ে গেছে। এই ব্যাপারে আপনি এখন নতুন কি পদক্ষেপ নিচ্ছেন একটু বলুন?


অযত্ন অবহেলায় অনেক লেখা চিরতরে হারিয়ে গেছে। আমার ফে বু একাউন্ট কিছু কবিতা সংরক্ষিত ছিল। ভাবছিলাম সেগুলো সংগ্রহ করে একটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করবো, কিন্তু বিধিবাম গত মাসে আমার ফে, বু হিসাবটি হঠাৎ ব্লক হয়ে যায়। হিসাবটি আর রিকভার করতে পারিনি। যে গুলো সংগ্রযোগ্য তা দিয়ে একটি বই প্রকাশ করা যায় কিনা ভাবছি।


প্রশ্ন : আপনার আত্নজীবনী বই ও মণিপুরি মুসলমানদের ইতিবৃত্ত ইংরেজি অনুবাদ বইটি বের করতে এত দীর্ঘ সময় নিলেন কেন?


: আমি কিন্তু বেশ কয়েক কালের সাক্ষীগোপাল। সেই পাকিস্থানী আমলে ঘটে যাওয়া অনেক ঘটনা থেকে শুরু করে বাংলাদেশের উত্থান, এর বিকাশ, দূর্যোগের ঘনঘটা, বিয়োগান্তক ঘটনা, রাজাকারের উত্থান, গনতন্ত্রের কালো অমানিশা, সর্বপরি বঙ্গবন্ধু কন্যা, জননেতৃ শেখ হাসিনার অক্লান্ত শ্রম ইত্যাদি। তাছাড়াও সামাজিক অনেক উত্থানপতন অবলোকন করার সুযোগ আমার হয়েছে। ভেবেছিলাম সেগুলো প্রকাশ করলে আগামী প্রজন্ম উপকৃত হবে। আবার আমার মত গোবেচারীর লেখা কে পড়বে, আদৌ কোন প্রকাশক পাওয়া যাবে কিনা? ইত্যাদি ভাবনা। যাকে বলে হিনোমন্যতা, পিছুটান, দুদুল্যমানতা আমার লেখাকে মন্থর করেছে। “মণিপুরি মুসলমানদের ইতিবৃত্ত” বইয়ের ক্ষেত্রেও একই!


প্রশ্ন: বর্তমানে আপনার সাহিত্য চর্চা কেমন
চলছে ? বয়স তো ৬৭ বছর পার হলো, এই দীর্ঘ জীবনের অনুভূতি আমাদের জানাবেন কি ?


: আভিধানিক অর্থে সাহিত্য চর্চা বলতে যা বুঝায়, তার চর্চা খুব একটা নেই বললেই চলে। বার্ধক্য এসেছে, তদুপরি সমাজ, সংসারকে কিছুটা সময় দিতে হয়। ধর্ম কর্মতো আছেই।

ছাত্র জীবনে ছাত্র রাজনীতি করেছি। আমি ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত আদমপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলাম। তাছাড়াও জীবনের দীর্ঘ একটা সময় ব্যাংকে চাকুরী করেছি। কোথাও কোন প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়নি, সর্বক্ষেত্রেই সহযোগিতা ও মূল্যায়ন পেয়েছি। তাই জীবনের অনুভূতি বলতে যা বুঝায় তা সুখকর।


প্রশ্ন : শিল্প- সংস্কৃতিসহ নানা শাখায় পদচারণা আপনার। একাধারে গল্প-ছড়া কবিতা লিখেছেন, আবার “মণিপুরি মুসলমানদের ইতিবৃত্ত নামে ইতিহাস গ্রন্থ লেখার আগ্রহ কীভাবে তৈরি হলো?


:আসলে শিকড়ের সন্ধান করতে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ, তথ্য সংগ্রহ করে দেখা গেল আমার শিকড় একটি মজবুট ভিত্তির উপর দাঁড়ানো। অথচ এ ইতিহাস আমাদের প্রতিবেশী বৃহত্তর জনগোষ্ঠী এমনকি আজকের মণিপুরি প্রজন্মের কাছে খুব একটা জ্ঞাত নয়। তার কারণ বাংলায় আমাদের কোন ইতিহাস গ্রন্থ না থাকা। তাৎক্ষনিকভাবে আমি সিদ্ধান্ত নিলাম গ্রন্থ লেখার।


প্রশ্ন : লেখালেখিতে মণিপুরি মুসলিম বা মৈতৈ পাঙানরা কিছুটা উপেক্ষিত এবং অবজ্ঞাত থেকেই গেছে ৷ আপনার লেখা মণিপুরি মুসলমানদের ইতিবৃত্ত বই সম্পর্কে কিছু বলবেন?


: লেখালেখিতে মণিপুরি মুসলমানরা উপেক্ষিত নয়, পশ্চাৎপদ, কিছুটা অনীহা। কারণ ভাষাগত এবং পরিবেশগত প্রতিকুলতা। এ প্রতিকুলতা দূর করা গেলে এবং অভ্যাস গড়ে তুলা হলে অদূর ভবিষ্যতে সাহিত্যমনা স্বজনের সন্ধান পাওয়া যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

আমার লেখা “মণিপুরি মুসলমানদের ইতিবৃত্ত” একটি ইতিহাস গ্রন্থ। তবে আমি চেষ্টা করেছি এর ভাষাগত মাধুর্য বিঘ্নিত না ঘটানোর, যাতে শ্রুতিমধুর হয়। কিন্তু তা মূল্যায়নের ভারতো আমার কাছে নয়, পাঠকদের উপর।


প্রশ্ন : ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির জায়গায় মণিপুরি মুসলমানদের অবস্থান সম্পর্কে আপনার বক্তব্য কি?


ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে মণিপুরি মুসলমানদের অবস্থান মূল্যায়ন করতে গেলে প্রথমেই বলতে হয়, আমাদের মাতৃভাষা মণিপুরি যা আমাদের first language, parrent language অথচ আমাদের লেখাপড়ার হাতেখড়ি বাংলা ভাষায়। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে ইউনিভার্সিটি পর্যন্ত শিক্ষার মাধ্যম বাংলা। অথচ বাংলা আমাদের second language, যার ফলশ্রুতিটে আমাদের সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যম খুব একটা মসৃন নয়।


প্রশ্ন: ইসলামী সমাজ ব্যবস্থার দিক থেকে মণিপুরি মুসলিম সমাজের বর্তমান বাস্তবতা এবং এর চলমান প্রক্রিয়া সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কি?


:“দুনিয়ার সমস্ত মানুষ একই বংশোদ্ভুত”-এ মতের উপরই ইসলামী সমাজ ব্যবস্থার বুনিয়াদ স্থাপিত হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা সর্বপ্রথম একজোড়া মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, তারপরে সেই জোড়া হতে দুনিয়ার সকল মানুষের জন্ম হয়েছে। প্রথম দিক দিয়ে একজোড়া মানুষের সন্তানগণ দীর্ঘকাল পর্যন্ত একই দল ও একই সমাজের অন্তর্ভূক্ত ছিল ; তাদের ভাষাও ছিল এক। কোন প্রকার বিরোধ-বৈষম্য তাদের মধ্যে ছিল না। কিন্তু তাদের সংখ্যা যতই বৃদ্ধি পেতে লাগল ততই তারা পৃথিবীর নানাদিকে ছড়িয়ে পড়তে লাগল এবং এ বিস্তৃতির ফলে তারা অতি স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন বংশ, জাতি ও গোত্রে বিভক্ত হয়ে পড়ল। তাদের ভাষা বিভিন্ন হয়ে গেল, পোশাক-পরিচ্ছদের দিক দিয়ে অনেক বৈষম্য ও বৈচিত্র দেখা দিল।

দৈনন্দিন জীবন যাপনের রীতিনীতিও আলাদা হয়ে গেল এবং বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন আবহাওয়ায় তাদের রং, রূপ ও আকার-আকৃতি পর্যন্ত বদলিয়ে গেল। এসব পার্থক্য একেবারেই স্বাভাবিক, বাস্তব দুনিয়ায়ই এটা বর্তমান। আর মণিপুরি সমাজ ব্যবস্থার সৃষ্টিও একই প্রক্রিয়ায়। এটাই বাস্তবতা। কাজেই চলমান সমাজ যাতে আরো সুন্দর হয়, সচল হয় তার জন্য আমাদের সবার কাজ করা উচিত।


প্রশ্ন: যে কোন জাতির উন্নতির ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষ সমভাবে এগিয়ে যেতে হয়৷ মণিপুরি মুসলিম সমাজ গঠনে নারীর অংশগ্রহণ অথবা অবদান কতটুকু?


: বিশ্বের বর্তমান জনসখ্যার দিকে তাকালে দেখা যায় মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী, একবিংশ শতাব্দীর নারীরা এগিয়ে এসেছেন সমাজ উন্নয়নের নানা ক্ষেত্রে। সামাজিক নানা বাধাবিপত্তি থাকা সত্ত্বেও ঘড়ে-বাইরে পুরুষের সংগে সমান তালে কাজ করছেন। কৃষি থেকে শিল্পকারখানা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আফিস আদালত সব জায়গায় তারা নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করছেন । আর মণিপুরি সমাজও এর ব্যতিক্রম নয়। তারা আজ গৃহস্থালী কাজের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশার চাকুরী ও ব্যবসায় সম্পৃক্ত। বেশ কয়েকজন ডাক্তারতো রয়েছেই তদুপরি কলেজ শিক্ষক এবং পররাষ্ট্র কেডারে চাকরীর উদাহরণও তারা সৃষ্টি করেছেন। অনাদি কাল থেকে মণিপুরি নারীরা বয়ন শিল্পের সাথে সম্পৃক্ত। তাছাড়াও মণিপুরি মুসলিম নারীরা সংসারের অর্থনীতির চাকাকে সবল রাখতে কুটির শিল্প ও রবিশষ্য আবাদে বিশেষ অবদান রেখে আসছে।


প্রশ্ন : মুক্তিযুদ্ধ কালে আপনার বয়স কত ছিল? কিভাবে দেখেন মুক্তিযুদ্ধকে?
মুক্তিযুদ্ধে মণিপুরি মুসলমানদের ভুমিকাকে আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করেন?


: মুক্তিযুদ্ধকালে আমার বয়স ২০ বছর। আমি মুক্তিযুদ্ধ সরাসরি দেখেছি। একজন ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে আমি এলাকায় মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত করেছি। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারিনি। মহান মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জাতির ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গৌরবময় ঘটনা। অথচ আদমপুরের মত প্রায় মুক্তাঞ্চলে (এখানে কোন সেনা কেম্প ছিলনা এ অর্থে) থেকেও মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে না পারা আমার জীবনের চরম ব্যর্থতা এবং কষ্টের।

বিভিন্ন সময় সংঘঠিত বাংলার জনগনের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে এ দেশের সকল মণিপুরি জনতাও ছিল তাদের সহগামী। ১৯৭১ সালেও ছিলনা তার ব্যত্যয়। আমাদের সমাজে মুক্তিযুদ্ধার যে সংখ্যা রয়েছে তা প্রতিবেশী বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর তুলনায় কোন অংশে কম নয়। সত্তরের নির্বাচনেও মণিপুরি মুসলমানরা ১০০% ভোট মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি আওয়ামী লীগকেই প্রদান করেছে। তাই এদেশের মণিপুরি মুসলমানরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি।


প্রশ্ন : আপনি কি এমন কোন সমাজের স্বপ্ন দেখেন, যেখানে জাতি, ধর্ম, বর্ণ বা গোত্র ভেদে মানুষে মানুষে কোনরূপ পার্থক্য থাকবে না?


তুমিতো জান আমি ধর্মে বিশ্বাসী। ইসলাম ধর্মের একজন অনুসারী হিসাবে আমরা অন্য ধর্মাবলম্বীদেরকে কখনো অবজ্ঞা করি না। ইসলাম ধর্মের দিক্ষাই হচ্ছে পরমতসহিষ্ণুতা, অন্যের বিশ্বাসের উপর সম্মান প্রদর্শন করা। যদিও আমরা বিশ্বাস করি ইসলামই আল্লাহ তাআলার একমাত্র মনোনিত ধর্ম। আর জাত, বর্ণ, গোত্র এগুলোতো আল্লাহর সৃষ্ট। আল্লাহ তায়ালাই আমাদেরকে বিভিন্ন সমাজ ও, জাতিতে বিভক্ত করেছেন। যাতে আমরা আমাদের আত্মপরিচয় দিতে পারি। আমার জন্মে আমারতো কোন হাত নেই।

হাঁ আমি সুষণমুক্ত এক সমাজের স্বপ্ন দেখি, যেখানে ইনসাফ কায়েম থাকবে।


প্রশ্ন : বাংলাদেশ বহু জাতি, ধর্ম, বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত এক বৈচিত্র্যপূর্ণ দেশ, তবে কি দেশের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ সমানধিকার ভোগ করে? আপনি একজন সচেতন সৃজনশীল মানুষ হিসাবে বর্তমান প্রেক্ষাপতে দেশের মণিপুরি জনগোষ্ঠী অধিকন্তু বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সার্বিক অবস্থা কিভাবে মূল্যায়ন করেন?


: বাংলাদেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী হচ্ছে বাঙ্গালী। তবে এদেশে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনেক জাতি সত্বা র‍য়েছে, তারা সমস্তিগত ভাবে পশ্চাদপদ। শিক্ষা দীক্ষায়, জীবন যাত্রার মান অর্থাৎ সার্বিক দিক থেকে এরা পশ্চাদপদ, এ অনুধাবন থেকেই সরকার এ অনুন্নত জাতি সত্বার জন্য কোটা ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। কিন্ত তাও আজ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

এদেশের মণিপুরিরা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর। বেশির ভাগ জনগোষ্ঠী কৃষিজীবি। এদের মধ্যে আজো নেই কোন শিল্পপতি বা ব্যবসায়ী। আমি বলছিনা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কোন লোক নেই। থাকলেও এদের মধ্যে উচ্চশিক্ষিত, শিল্পপতি, ব্যবসায়ী ভূড়িভূড়ি রয়েছে। অর্থাৎ বৃহত্তর জনগোষ্ঠী সার্বিকভাবে পশ্চাদপদ নয়, আর মণিপুরি জনগোষ্ঠী সার্বিকভাবে পশ্চাদপদ।


প্রশ্ন: আপনি বিভিন্ন সময় নানা ধরণের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন। সে অভিজ্ঞতার আলোকে একজন কবি, সাহিত্যিক হিসেবে মণিপুরি মুসলিম সমাজের একটা সার্বিক চিত্র তুলে ধরবেন কি ?


:হ্যাঁ, তুমি ঠিকই বলেছ। শুধু অংশগ্রহণই নয়, যৌবনে আমি সিলেট স্বারদা স্মৃতি ভবনে মঞ্চস্থ “অন্যন্যা” ও “পাথর বাড়ী” দুইটি নাটকেও অভিনয় করেছি। আর সেটা ছিল স্রেফ বিনোদনের জন্য। আর এখন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করি নিজের দায়বদ্ধতা থেকে। যে সমাজে আমি জন্মগ্রহণ করেছি, বড় হয়েছি সে সমাজকে আমার কিছু দেওয়া উচিত এ অনুভূতি থেকে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে থাকি। যেমন এস,কে সিনহার ষড়যন্ত্রকে রূখতে সংবাদ সম্মেলন, ছাত্র জনতার মানব বন্ধনে স্বারকলিপি লিখে দেওয়া ইত্যাদি।

কবি সাহিত্যিক হিসাবে মণিপুরি মুসলমানদের আমার মুল্যায়ন হচ্ছে, এরা খুবই সাহসী, চৌকস, উদ্যমী, সৎ ও ধর্মপ্রাণ জাতি।


প্রশ্ন : মণিপুরি মুসলিম সমাজকে ঘিরে আপনার কোন স্বপ্ন আছে কি? তরুন প্রজন্মের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন?


: মানুষ মননশীল। অন্যান্য প্রাণীদের মত সে শুধু খেয়ে-পরে বাঁচতে পারে না। বাঁচার জন্য তার মননশীলতার চর্চারও প্রয়োজন।এই মননশীলতার চর্চা করতে গিয়েই সে সৃষ্টি করেছে সাহিত্য ,বিজ্ঞান,শিল্প প্রভৃতি বিষয়।এগুলির কোনটিকেই তার জীবন থেকে বাদ দেওয়া চলে না। তাই মণিপুরি মুসলিম সমাজ ঘিরে আমার স্বপ্ন শুধু বিজ্ঞান নয়, সাহিত্য, শিল্প প্রভৃতি বিষয়ের চর্চাকেও তারা যেন জীবনে গুরুত্ব দেয়। তরুণ প্রজন্মের প্রতিও আমার একই আহ্বান তারা বিজ্ঞান, সাহিত্য শিল্প প্রভৃতির চর্চায় যেন আরো মনোনিবেশ করে।


প্রশ্ন : আপনার জীবনেে বা লেখায় কোনো কবি বা সাহিত্যকের প্রভাব পড়ছে কি? অর্থাৎ কোনো কবি বা সাহিত্যিক থেকে কি কোনো প্রেরণা পেয়েছেন?


:আমার বাল্যকালে আমার গ্রামে আব্দুল বারেক নামে একব্যক্তি ছিল, যিনি অন্ধ কিন্তু খেয়াঘাটের মাঝি, ধলাই নদীর দুই তীরে টানানো রশি ধরে ধরে তিনি নৌকা পারাপার করতেন আর শীতকালে নদীতে বাঁশেরপুল তৈরী করে দিতেন আর নদীর তীরে বসে টোল আদায় করতেন। তিনি ছিলেন চারণকবি, সাহিত্যিক। তিনি আমাদেরকে জমায়েত করে অনর্গল নিজের বানানো গান গাইতেন আর গল্প বলতেন। আমরাও সময় পেলে তার পাশে গিয়ে বসতাম। হয়তো তার কিছুটা প্রভাব আমার উপর পরে থাকতে পারে। তাছারাও কর্মক্ষেত্রে অনেক লেখক, কবিকে সহকর্মী হিসেবে পেয়েছি তাদেরও কিছুটা প্রভাব র‍য়েছে। তদুপরি বন্ধুবান্ধব, শুভাকাঙ্ক্ষীদের উৎসাহ, উৎদ্দীপনাতো সব সময়েই রয়েছে।


প্রশ্ন: বাংলাদেশের মণিপুরি মুসলমানদের ইতিহাস নিয়ে প্রথম বই আপনিই লিখেছে, জীবনে প্রথম বই ইতিহাস লেখার সিদ্ধান্ত নিলেন কেন? ইতিহাস লেখার ক্ষেত্রে প্রধান চ্যানেলগুলো কী কী ?


আসলে সময়ই কথা বলে। আমি অনিয়মিত সাহিত্য চর্চা করতাম, আর তা ছিল সখের বসে। আমাদের মত অনিয়মিত লেখকের বই প্রকাশে প্রকাশকদের অনাগ্রহ সবসময়েই ছিল। তার মধ্যে হঠাৎ শিকড়ের সন্ধ্যানে লেগে গেলাম। আর তাৎক্ষনিক সিদ্ধান্তে নিজ খরচে বই প্রকাশ। ইতিহাস লেখার ক্ষেত্রে প্রধান চ্যালেঞ্জ তথ্য, উপাত্ত সংগ্রহ।


প্রশ্ন: চাকুরি থেকে অবসর গ্রহণের পর আপনি বই প্রকাশ করেছেন, চাকুরীরত অবস্থায় বই প্রকাশ করেননি কেন? ৬৭ বছরের জীবনে প্রাপ্তি- অপ্রাপ্তি নিয়ে কিছু কথা বলবেন?


: আমার ইতিহাসের বইটির পান্ডুলিপি প্রায় এক দশক আগে লেখা হয়েছিল।চাকুরীকালীন সময়ে কর্মব্যস্ততার কারনে বই প্রকাশের ব্যাপারে আন্তরিক (serious) হতে পারি নি। তবে অবসরের পর আন্তরিক হয়েছি বলেই বই প্রকাশে উদ্যোগী হয়েছি।

৬৭ বছরের জীবনে অপ্রাপ্তির চেয়ে প্রাপ্তির ব্যপকতা অনেক বেশী। সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি মানুষের ভালবাসা। আমার সমাজ, বন্ধুবান্ধব ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা অফুরান ভালবাসা দিয়ে আমাকে সিক্ত করেছে।


প্রশ্ন: আপনি দীর্ঘ সময় ধরে সাহিত্য চর্চা করে আসছেন। সে আলোকে আপনার এমন কোন স্বপ্ন আছে কি ? যা বাস্তবায়নের অপেক্ষায়।


: আমার একটাই স্বপ্ন, মণিপুরি মুসলমান যুবকরা তাদের সামাজিক অবক্ষয় দূর করার জন্য অস্ত্র হিসাবে কলমকে যেন ব্যবহার করে।


রফিকুল ইসলাম জসিম : আপনাকে ধন্যবাদ।


হাজী মো. আব্দুস সামাদ : আপনাকে ও ধন্যবাদ।

” সমাজ ও সাহিত্য ভাবনা ”  – হাজী মো. আব্দুস সামাদ !


সাহিত্যের সঙ্গে সমাজ গঠনের সম্পর্কও নিবিড়। বাস্তব সমাজের ভঙ্গিমার বিশ্বস্ত প্রতিফলনে আবার সেই বাস্তবসমাজকে সমালোচনার মাধ্যমে সমাজ বদলানোর প্রয়াসের মধ্যে সাহিত্যের সমাজগঠনের অভিপ্রায় ফুটে ওঠে। এই দ্বিমুখী উদ্দেশ্যময়তা কখনো সমান্তরালভাবে কখনো পরস্পর প্রবিষ্টতায় মূর্ত হয়ে ওঠে। সাহিত্যকর্মী সমাজে হস্তক্ষেপ করেন পরস্পর প্রবিষ্টতার পথেই। রবীন্দ্রনাথ এবং নজরুল, শরৎচন্দ্র এবং মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় তারা তাদের বলয়ে থেকে সমাজে হস্তক্ষেপ করেছেন নানান অবয়বে। সাহিত্যে হস্তক্ষেপের মধ্যে সমাজ গঠনের ক্রিয়াশীলতা এবং পরিবর্ধনশীলতার প্রতি একটা সচেতন নিয়ন্ত্রণ প্রবণতা কাজ করে বলেই এর মধ্যে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সম্পৃক্তাও অনায়াসে এসে যায়।

হাজী মো.আব্দুস সামাদ: ৩০ জুলাই ১৯৫২ সনে বাংলাদেশ সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার অন্তর্গত গ্রাম আদমপুর ইউনিয়নের কান্দি গাঁও গ্রামে মরহুম মো. আব্দুস সহিদ এর ঔরসে জন্মগ্রহণ করেন। কমার্স গ্র্যাজুয়েট আব্দুস সামাদ ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় “সোনালী ব্যাংক লি: এ যোগদান করেন। ২০১০ সালে সিনিয়র এক্সকিউটিভ অফিসার হিসাবে কর্মরত অবস্থায় অবসর,গ্রহন করেন। বর্তমানে কান্দগাঁওস্থ নিজ আলয় ” পাঙাল নিবাস ‘ এ অবসর জীবনযাপন করছেন | বাংলাদেশের মণিপুরি সমাজের একজন কবি ও সাহিত্যিক হিসাব পরিচিত লাভ করেন৷ লেখকের প্রথম প্রকাশিত বই – মণিপুরি মুসলমানদের ইতিবৃত্ত (ইতিহাস বই) ।

সমাজ, সাহিত্য ও সংস্কৃতির নিবিড় অন্তলোকের উজ্জ্বল অনুসন্ধানে নিয়োোজিত এক বিরল ব্যক্তি হাজী মো. আব্দুস সামাদ। একজন উচ্চপদস্থ সরকারি চাকুরিজীবী হয়েও তিনি সমাজ, সাহিত্য গবেষণার মতো কঠিন কাজে ব্যাপৃত রয়েছে ।
মণিপুরি মুসলিম সমাজের ইতিহাস- ঐতিহ্যকে গভীর ভাবে পর্যবেক্ষণ এবং মৌলিক তাত্ত্বিক বিশ্লেষণেে তিনি সুধী – পাঠকদের অনেক প্রশংসা কুড়িয়েছেন৷ সাহিত্য- সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে একজন সফল সংগঠন ও পৃষ্ঠপোষক হিসাবেও তিনি যথেষ্ট ভূমিকা রেখেছেন৷

তিনি সাহিত্যের বিভিন্ন শাখা তার পদচারনায় মুখরিত!

এই গুনী লেখকের – সাক্ষাৎকার নিয়েছেন, – রফিকুল ইসলাম জসিম

প্রশ্ন : কেমন আছেন?

: মহান আল্লাহ রাব্বুল আ-লামিনের অশেষ মেহেরবানিতে ভালই আছি।


প্রশ্ন : লেখালেখির শুরুটা কিভাবে হলো এবং লেখার বিষয়বস্তু কি ছিল? এখন কি লিখছেন তা যদি বলতেন?

: লেখালেখির শুরু বাল্যকাল থেকেই, কিন্তু তা অনিয়মিত এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক। প্রাতিষ্ঠানিক লেখার শুরু চাকুরী জীবন থেকেই। লেখার বিষয়বস্তু ছিল সামাজিক অনুভূতি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা, কবিতা, ছোট গল্প, ডাইরী ইত্যাদি।। কিন্তু প্রকাশক বা মাধ্যমের অভাবে তার অনেকটাই হারিয়ে গেছে।

এখন আত্মজীবনী লেখার চেষ্টা করছি। পাশাপাশি আমার লেখা ইতিহাস গ্রন্থের ইংরেজী অনুবাদ। আর মন চাইলে মাঝেমধ্যে কবিতা আর ছোট ছোট অনুভূতি আর স্মৃতিকথা।


প্রশ্ন : আপনার অপ্রকাশিত লেখা গুলো প্রকাশনার অভাবে অনেকটা হারিয়ে গেছে। এই ব্যাপারে আপনি এখন নতুন কি পদক্ষেপ নিচ্ছেন একটু বলুন?

অযত্ন অবহেলায় অনেক লেখা চিরতরে হারিয়ে গেছে। আমার ফে বু আকাউন্টে কিছু কবিতা সংরক্ষিত ছিল। ভাবছিলাম সেগুলো সংগ্রহ করে একটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করবো, কিন্তু বিধিবাম গত মাসে আমার ফে, বু হিসাবটি হঠাৎ ব্লক হয়ে যায়। হিসাবটি আর রিকভারী করতে পারিনি। যে গুলো সংগ্রযোগ্য তা দিয়ে একটি বই প্রকাশ করা যায় কিনা ভাবছি।


প্রশ্ন : আপনার আত্নজীবনী বই ও মণিপুরি মুসলমানদের ইতিবৃত্ত ইংরেজি অনুবাদ বইটি বের করতে এত দীর্ঘ সময় নিলেন কেন?

: আমি কিন্তু বেশ কয়েক কালের সাক্ষীগোপাল। সেই পাকিস্থানী আমলে ঘটে যাওয়া অনেক ঘটনা থেকে শুরু করে বাংলাদেশের উত্থান, এর বিকাশ, দূর্যোগের ঘনঘটা, বিয়োগান্তক ঘটনা, রাজাকারের উত্থান, গনতন্ত্রের কালো অমানিশা, সর্বপরি বঙ্গবন্ধু কন্যা, জননেতৃ শেখ হাসিনার অক্লান্ত শ্রম ইত্যাদি। তাছাড়াও সামাজিক অনেক উত্থানপতন অবলোকন করার সুযোগ আমার হয়েছে। ভেবেছিলাম সেগুলো প্রকাশ করলে আগামী প্রজন্ম উপকৃত হবে। আবার আমার মত গোবেচারীর লেখা কে পড়বে, আদৌ কোন প্রকাশক পাওয়া যাবে কিনা? ইত্যাদি ভাবনা। যাকে বলে হিনোমন্যতা, পিছুটান, দুদুল্যমানতা আমার লেখাকে মন্থর করেছে। “মণিপুরি মুসলমানদের ইতিবৃত্ত” বইয়ের ক্ষেত্রেও একই!


প্রশ্ন: বর্তমানে আপনার সাহিত্য চর্চা কেমন চলছে ? বয়স তো ৬৭ বছর পার হলো, এই দীর্ঘ জীবনের অনুভূতি আমাদের জানাবেন কি ?

: আভিধানিক অর্থে সাহিত্য চর্চা বলতে যা বুঝায়, তার চর্চা খুব একটা নেই বললেই চলে। বার্ধক্য এসেছে, তদুপরি সমাজ, সংসারকে কিছুটা সময় দিতে হয়। ধর্ম কর্মতো আছেই।

ছাত্র জীবনে ছাত্র রাজনীতি করেছি। আমি ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত আদমপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলাম। তাছাড়াও জীবনের দীর্ঘ একটা সময় ব্যাংকে চাকুরী করেছি। কোথাও কোন প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়নি, সর্বক্ষেত্রেই সহযোগিতা ও মূল্যায়ন পেয়েছি। তাই জীবনের অনুভূতি বলতে যা বুঝায় তা সুখকর।


প্রশ্ন : শিল্প- সংস্কৃতিসহ নানা শাখায় পদচারণা আপনার। একাধারে গল্প-ছড়া কবিতা লিখেছে, আবার “মণিপুরি মুসলমানদের ইতিবৃত্ত নামে ইতিহাস গ্রন্থ লেখার আগ্রহ কীভাবে তৈরি হলো?

:আসলে শিকড়ের সন্ধান করতে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ, তথ্য সংগ্রহ করে দেখা গেল আমার শিকড় একটি মজবুট ভিত্তির উপর দাঁড়ানো। অথচ এ ইতিহাস আমাদের প্রতিবেশী বৃহত্তর জনগোষ্ঠী এমনকি আজকের মণিপুরি প্রজন্মের কাছে খুব একটা জ্ঞাত নয়। তার কারণ বাংলায় আমাদের কোন ইতিহাস গ্রন্থ না থাকা। তাৎক্ষনিকভাবে আমি সিদ্ধান্ত নিলাম গ্রন্থ লেখার।


প্রশ্ন : লেখালেখিতে মণিপুরি মুসলিম বা মৈতৈ পাঙানরা কিছুটা উপেক্ষিত এবং অবজ্ঞাত থেকেই গেছে ৷ আপনার লেখা মণিপুরি মুসলমানদের ইতিবৃত্ত বই সম্পর্কে কিছু বলবেন?

: লেখালেখিতে মণিপুরি মুসলমানরা উপেক্ষিত নয়, পশ্চাৎপদ, কিছুটা অনীহা। কারণ ভাষাগত এবং পরিবেশগত প্রতিকুলতা। এ প্রতিকুলতা দূর করা গেলে এবং অভ্যাস গড়ে তুলা হলে অদূর ভবিষ্যতে সাহিত্যমনা স্বজনের সন্ধান পাওয়া যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

আমার লেখা “মণিপুরি মুসলমানদের ইতিবৃত্ত” একটি ইতিহাস গ্রন্থ। তবে আমি চেষ্টা করেছি এর ভাষাগত মাধুর্য বিঘ্নিত না ঘটানোর, যাতে শ্রুতিমধুর হয়। কিন্তু তা মূল্যায়নের ভারতো আমার কাছে নয়, পাঠকদের উপর।


প্রশ্ন : ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির জায়গায় মণিপুরি মুসলমানদের অবস্থান সম্পর্কে আপনার বক্তব্য কি?

ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে মণিপুরি মুসলমানদের অবস্থান মূল্যায়ন করতে গেলে প্রথমেই বলতে হয়, আমাদের মাতৃভাষা মণিপুরি যা আমাদের first language, parrent language অথচ আমাদের লেখাপড়ার হাতেখড়ি বাংলা ভাষায়। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে ইউনিভার্সিটি পর্যন্ত শিক্ষার মাধ্যম বাংলায়। অথচ বাংলা আমাদের second language, যার ফলশ্রুতিটে আমাদের সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যম খুব একটা মসৃন নয়।


প্রশ্ন: ইসলামী সমাজ ব্যবস্থার দিক থেকে মণিপুরি মুসলিম সমাজের বর্তমান বাস্তবতা এবং এর চলমান প্রক্রিয়া সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কি?

:“দুনিয়ার সমস্ত মানুষ একই বংশোদ্ভুত”-এ মতের উপরই ইসলামী সমাজ ব্যবস্থার বুনিয়াদ স্থাপিত হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা সর্বপ্রথম একজোড়া মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, তারপরে সেই জোড়া হতে দুনিয়ার সকল মানুষের জন্ম হয়েছে। প্রথম দিক দিয়ে একজোড়া মানুষের সন্তানগণ দীর্ঘকাল পর্যন্ত একই দল ও একই সমাজের অন্তর্ভূক্ত ছিল ; তাদের ভাষাও ছিল এক। কোন প্রকার বিরোধ-বৈষম্য তাদের মধ্যে ছিল না। কিন্তু তাদের সংখ্যা যতই বৃদ্ধি পেতে লাগল ততই তারা পৃথিবীর নানাদিকে ছড়িয়ে পড়তে লাগল এবং এ বিস্তৃতির ফলে তারা অতি স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন বংশ, জাতি ও গোত্রে বিভক্ত হয়ে পড়ল। তাদের ভাষা বিভিন্ন হয়ে গেল, পোশাক-পরিচ্ছদের দিক দিয়ে অনেক বৈষম্য ও বৈচিত্র দেখা দিল।

দৈনন্দিন জীবন যাপনের রীতিনীতিও আলাদা হয়ে গেল এবং বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন আবহাওয়ায় তাদের রং, রূপ ও আকার-আকৃতি পর্যন্ত বদলিয়ে গেল। এসব পার্থক্য একেবারেই স্বাভাবিক, বাস্তব দুনিয়ায়ই এটা বর্তমান। আর মণিপুরি সমাজ ব্যবস্থার সৃষ্টিও একই প্রক্রিয়ায়। এটাই বাস্তবতা। কাজেই চলমান সমাজ যাতে আরো সুন্দর হয়, সচল হয় তার জন্য আমাদের সবার কাজ করা উচিত।


প্রশ্ন: যে কোন জাতির উন্নতির ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষ সমভাবে এগিয়ে যেতে হয়৷ মণিপুরি মুসলিম সমাজ গঠনে নারীর অংশগ্রহণ অথবা অবদান কতটুকু?

: বিশ্বের বর্তমান জনসখ্যার দিকে তাকালে দেখা যায় মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী, একবিংশ শতাব্দীর নারীরা এগিয়ে এসেছেন সমাজ উন্নয়নের নানা ক্ষেত্রে। সামাজিক নানা বাধাবিপত্তি থাকা সত্ত্বেও ঘড়ে-বাইরে পুরুষের সংগে সমান তালে কাজ করছেন। কৃষি থেকে শিল্পকারখানা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আফিস আদালত সব জায়গায় তারা নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করছেন । আর মণিপুরি সমাজও এর ব্যতিক্রম নয়। তারা আজ গৃহস্থালী কাজের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশার চাকুরী ও ব্যবসায় সম্পৃক্ত। বেশ কয়েকজন ডাক্তারতো রয়েছেই তদুপরি কলেজ শিক্ষক এবং পররাষ্ট্র কেডারে চাকরীর উদাহরণও তারা সৃষ্টি করেছেন। অনাদি কাল থেকে মণিপুরি নারীরা বয়ন শিল্পের সাথে সম্পৃক্ত। তাছাড়াও মণিপুরি মুসলিম নারীরা সংসারের অর্থনীতির চাকাকে সবল রাখতে কুটির শিল্প ও রবিশষ্য আবাদে বিশেষ অবদান রেখে আসছে।


প্রশ্ন : মুক্তিযুদ্ধ কালে আপনার বয়স কত ছিল? কিভাবে দেখেন মুক্তিযুদ্ধকে?
মুক্তিযুদ্ধে মণিপুরি মুসলমানদের ভুমিকাকে আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করেন?

: মুক্তিযুদ্ধকালে আমার বয়স ২০ বছর। আমি মুক্তিযুদ্ধ সরাসরি দেখেছি। একজন ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে আমি এলাকায় মুক্তিযুদ্ধ সংঘঠিতও করেছি। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারিনি। মহান মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জাতির ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গৌরবময় ঘটনা। অথচ আদমপুরের মত প্রায় মুক্তাঞ্চলে (এখানে কোন সেনা কেম্প ছিলনা এ অর্থে) থেকেও মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে না পারা আমার জীবনের চরম ব্যর্থতা এবং কষ্টের।

বিভিন্ন সময় সংঘঠিত বাংলার জনগনের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে এ দেশের সকল মণিপুরি জনতাও ছিল তাদের সহগামী। ১৯৭১ সালেও ছিলনা তার ব্যত্যয়। আমাদের সমাজে মুক্তিযুদ্ধার যে সংখ্যা রয়েছে তা প্রতিবেশী বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর তুলনায় কোন অংশে কম নয়। সত্তরের নির্বাচনেও মণিপুরি মুসলমানরা ১০০% ভোট মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি আওয়ামী লীগকেই প্রদান করেছে। তাই এদেশের মণিপুরি মুসলমানরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি।


প্রশ্ন : আপনি কি এমন কোন সমাজের স্বপ্ন দেখেন, যেখানে জাতি, ধর্ম, বর্ণ বা গোত্র ভেদে মানুষে মানুষে কোনরূপ পার্থক্য থাকবে না?

তুমিতো জান আমি ধর্মে বিশ্বাসী। ইসলাম ধর্মের একজন অনুসারী হিসাবে আমরা অন্য ধর্মাবলম্বীদেরকে কখনো অবজ্ঞা করি না। ইসলাম ধর্মের দিক্ষাই হচ্ছে পরমতসহিষ্ণুতা, অন্যের বিশ্বাসের উপর সম্মান প্রদর্শন করা। যদিও আমরা বিশ্বাস করি ইসলামই আল্লাহ তাআলার একমাত্র মনোনিত ধর্ম। আর জাত, বর্ণ, গোত্র এগুলোতো আল্লাহর সৃষ্ট। আল্লাহ তায়ালাই আমাদেরকে বিভিন্ন সমাজ ও, জাতিতে বিভক্ত করেছেন। যাতে আমরা আমাদের আত্মপরিচয় দিতে পারি। আমার জন্মে আমারতো কোন হাত নেই।

হাঁ আমি সুষণমুক্ত এক সমাজের স্বপ্ন দেখি, যেখানে ইনসাফ কায়েম থাকবে।


প্রশ্ন : বাংলাদেশ বহু জাতি, ধর্ম, বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত এক বৈচিত্র্যপূর্ণ দেশ, তবে কি দেশের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ সমানধিকার ভোগ করে? আপনি একজন সচেতন সৃজনশীল মানুষ হিসাবে বর্তমান প্রেক্ষাপতে দেশের মণিপুরি জনগোষ্ঠী অধিকন্তু বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সার্বিক অবস্থা কিভাবে মূল্যায়ন করেন?

: বাংলাদেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী হচ্ছে বাঙ্গালী। তবে এদেশে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনেক জাতি সত্বা র‍য়েছে, তারা সমস্তিগত ভাবে পশ্চাদপদ। শিক্ষা দীক্ষায়, জীবন যাত্রার মান অর্থাৎ সার্বিক দিক থেকে এরা পশ্চাদপদ, এ অনুধাবন থেকেই সরকার এ অনুন্নত জাতি সত্বার জন্য কোটা ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। কিন্ত তাও আজ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

এদেশের মণিপুরিরা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর। বেশির ভাগ জনগোষ্ঠী কৃষিজীবি। এদের মধ্যে আজো নেই কোন শিল্পপতি বা ব্যবসায়ী। আমি বলছিনা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কোন লোক নেই। থাকলেও এদের মধ্যে উচ্চশিক্ষিত, শিল্পপতি, ব্যবসায়ী ভূড়িভূড়ি রয়েছে। অর্থাৎ বৃহত্তর জনগোষ্ঠী সার্বিকভাবে পশ্চাদপদ নয়, আর মণিপুরি জনগোষ্ঠী সার্বিকভাবে পশ্চাদপদ।


প্রশ্ন: আপনি বিভিন্ন সময় নানা ধরণের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন। সে অভিজ্ঞতার আলোকে একজন কবি, সাহিত্যিক হিসেবে মণিপুরি মুসলিম সমাজের একটা সার্বিক চিত্র তুলে ধরবেন কি ?

:হ্যাঁ, তুমি ঠিকই বলেছ। শুধু অংশগ্রহণই নয়, যৌবনে আমি সিলেট স্বারদা স্মৃতি ভবনে মঞ্চস্থ “অন্যন্যা” ও “পাথর বাড়ী” দুইটি নাটকেও অভিনয় করেছি। আর সেটা ছিল স্রেফ বিনোদনের জন্য। আর এখন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করি নিজের দায়বদ্ধতা থেকে। যে সমাজে আমি জন্মগ্রহণ করেছি, বড় হয়েছি সে সমাজকে আমার কিছু দেওয়া উচিত এ অনুভূতি থেকে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে থাকি। যেমন এস,কে সিনহার ষড়যন্ত্রকে রূখতে সংবাদ সম্মেলন, ছাত্র জনতার মানব বন্ধনে স্বারকলিপি লিখে দেওয়া ইত্যাদি।

কবি সাহিত্যিক হিসাবে মণিপুরি মুসলমানদের আমার মুল্যায়ন হচ্ছে, এরা খুবই সাহসী, চৌকস, উদ্যমী, সৎ ও ধর্মপ্রাণ জাতি।


প্রশ্ন : মণিপুরি মুসলিম সমাজকে ঘিরে আপনার কোন স্বপ্ন আছে কি? তরুন প্রজন্মের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন?

: মানুষ মননশীল। অন্যান্য প্রাণীদের মত সে শুধু খেয়ে-পরে বাঁচতে পারে না। বাঁচার জন্য তার মননশীলতার চর্চারও প্রয়োজন।এই মননশীলতার চর্চা করতে গিয়েই সে সৃষ্টি করেছে সাহিত্য ,বিজ্ঞান,শিল্প প্রভৃতি বিষয়।এগুলির কোনটিকেই তার জীবন থেকে বাদ দেওয়া চলে না। তাই মণিপুরি মুসলিম সমাজ ঘিরে আমার স্বপ্ন শুধু বিজ্ঞান নয়, সাহিত্য, শিল্প প্রভৃতি বিষয়ের চর্চাকেও তারা যেন জীবনে গুরুত্ব দেয়। তরুণ প্রজন্মের প্রতিও আমার একই আহ্বান তারা বিজ্ঞান, সাহিত্য শিল্প প্রভৃতির চর্চায় যেন আরো মনোনিবেশ করে।


প্রশ্ন : আপনার জীবনেে বা লেখায় কোনো কবি বা সাহিত্যকের প্রভাব পড়ছে কি? অর্থাৎ কোনো কবি বা সাহিত্যিক থেকে কি কোনো প্রেরণা পেয়েছেন?

:আমার বাল্যকালে আমার গ্রামে আব্দুল বারেক নামে একব্যক্তি ছিল, যিনি অন্ধ কিন্তু খেয়াঘাটের মাঝি, ধলাই নদীর দুই তীরে টানানো রশি ধরে ধরে তিনি নৌকা পারাপার করতেন আর শীতকালে নদীতে বাঁশেরপুল তৈরী করে দিতেন আর নদীর তীরে বসে টোল আদায় করতেন। তিনি ছিলেন চারণকবি, সাহিত্যিক। তিনি আমাদেরকে জমায়েত করে অনর্গল নিজের বানানো গান গাইতেন আর গল্প বলতেন। আমরাও সময় পেলে তার পাশে গিয়ে বসতাম। হয়তো তার কিছুটা প্রভাব আমার উপর পরে থাকতে পারে। তাছারাও কর্মক্ষেত্রে অনেক লেখক, কবিকে সহকর্মী হিসেবে পেয়েছি তাদেরও কিছুটা প্রভাব র‍য়েছে। তদুপরি বন্ধুবান্ধব, শুভাকাঙ্ক্ষীদের উৎসাহ, উৎদ্দীপনাতো সব সময়েই রয়েছে।


প্রশ্ন: বাংলাদেশের মণিপুরি মুসলমানদের ইতিহাস নিয়ে প্রথম বই আপনিই লিখেছে, জীবনে প্রথম বই ইতিহাস লেখার সিদ্ধান্ত নিলেন কেন? ইতিহাস লেখার ক্ষেত্রে প্রধান চ্যানেলগুলো কী কী ?

আসলে সময়ই কথা বলে। আমি অনিয়মিত সাহিত্য চর্চা করতাম, আর তা ছিল সখের বসে। আমাদের মত অনিয়মিত লেখকের বই প্রকাশে প্রকাশকদের অনাগ্রহ সবসময়েই ছিল। তার মধ্যে হঠাৎ শিকড়ের সন্ধ্যানে লেগে গেলাম। আর তাৎক্ষনিক সিদ্ধান্তে নিজ খরচে বই প্রকাশ। ইতিহাস লেখার ক্ষেত্রে প্রধান চ্যালেঞ্জ তথ্য, উপাত্ত সংগ্রহ।


প্রশ্ন: চাকুরি থেকে অবসর গ্রহণের পর আপনি বই প্রকাশ করেছেন, চাকুরীরত অবস্থায় বই প্রকাশ করেননি কেন? ৬৭ বছরের জীবনে প্রাপ্তি- অপ্রাপ্তি নিয়ে কিছু কথা বলবেন?

: আমার ইতিহাসের বইটির পান্ডুলিপি প্রায় এক দশক আগে লেখা হয়েছিল।চাকুরীকালীন সময়ে কর্মব্যস্ততার কারনে বই প্রকাশের ব্যাপারে আন্তরিক (serious) হতে পারি নি। তবে অবসরের পর আন্তরিক হয়েছি বলেই বই প্রকাশে উদ্যোগী হয়েছি।

৬৭ বছরের জীবনে অপ্রাপ্তির চেয়ে প্রাপ্তির ব্যপকতা অনেক বেশী। সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি মানুষের ভালবাসা। আমার সমাজ, বন্ধুবান্ধব ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা অফুরান ভালবাসা দিয়ে আমাকে সিক্ত করেছে।


প্রশ্ন: আপনি দীর্ঘ সময় ধরে সাহিত্য চর্চা করে আসছেন। সে আলোকে আপনার এমন কোন স্বপ্ন আছে কি ? যা বাস্তবায়নের অপেক্ষায়।

: আমার একটাই স্বপ্ন, মণিপুরি মুসলমান যুবকরা তাদের সামাজিক অবক্ষয় দূর করার জন্য অস্ত্র হিসাবে কলমকে যেন ব্যবহার করে।


রফিকুল ইসলাম জসিম : আপনাকে ধন্যবাদ।
হাজী মো. আব্দুস সামাদ : আপনাকে ও ধন্যবাদ।

জয় ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, লেখক সম্পাদক

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির সভাপতি শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক রব্বানীকে সরিয়ে আল নাহিয়ান খান জয়কে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং লেখক ভট্টাচার্যকেসাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর)রাতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার পর এমন তথ্য জানা যায়।

দলটির সম্পাদকমণ্ডলীর একাধিক নেতা দাবি করেন, বর্তমান সভাপতি মো. রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে সরিয়ে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে কেন্দ্রীয় এই দুইনেতাকেদায়িত্ব দেয়া হয়।

এর আগে বেশ কিছু বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন শোভন ও রব্বানী।

Design a site like this with WordPress.com
Get started