ভারতের মণিপুর রাজ্য যে কারণে নিজেদের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে!

উত্তর পূর্ব ভারতের ৭ রাজ্যকে বলা হয় সেভেন সিস্টার। এই ৭ রাজ্যের কেউ কেউ স্বাধীনতাকামী তার মধ্যে অন্যতম মণিপুর রাজ্যটি। মূলত স্থানীয় আদিবাসী রাজারা এই রাজ্যগুলো শাসন করেন। এখানকার লোক অনেকদিন ধরেই স্বাধীনতার দাবি জানিয়ে আসছে কখনো প্রত্যক্ষ কখনো পরোক্ষভাবে।

এই তো এইবছরেরই ঘটনা। ভারতের স্বাধীনতা দিবসে মণিপুর রাজ্যে কয়েক হাজার লোক নাগা পতাকা উড়িয়ে স্বাধীন ভূমির পক্ষে সমর্থন দেয়। নিজেদের পতাকা উড়িয়ে তারা নিজেদের স্বতন্ত্রতা জানান দিয়েছিলেন।

কিছুদিন আগে জম্মু কাশ্মীরের বিশেষ ক্ষমতাকে মোদী সরকার বিলোপ করলেন ৩৭০ ধারা বাতিল করে, এরকম বিশেষ কিছু সুবিধা ভোগ করে উত্তর পূর্বের রাজ্যগুলিও। ৩৭১ ধারার অধীনে নাগাল্যান্ড, মণিপুর, আসাম, সিকিম সহ কয়েকটি রাজ্যকে বিশেষ সুবিধা দেয়া আছে। কিন্তু, ৩৭০ ধারা বাতিলের ধরণ ও মোদী সরকারের আচরণে তারা উদ্বিগ্ন তো বটেই, বিচ্ছিন্নতাবাদীদের স্বাধীনতার দাবিও জোরালো হচ্ছিলো এতে।

আর গতকালই আকস্মিকভাবে লন্ডন থেকে মণিপুর রাজ্যের স্বাধীনতাকামীদের পক্ষ থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা আসে। তারা নিজেদের স্বাধীন ঘোষণা দেন, এমনকি ইতিমধ্যে তারা লন্ডনে অন্তর্বর্তীকালীন প্রবাসী সরকারও গঠন করে ফেলেছেন।

রাজ্যটি ভারতের সাথে যুক্ত হয়েছিল ১৯৪৯ সালে। কিন্তু সবসময়ই এখানে একপক্ষ স্বাধীনতার দাবিতে সক্রিয় ছিলেন। ক্ষুদ্র এই রাজ্যটিতে ২৮ লক্ষ মানুষের বসবাস। এখানে ভারতীয় মিলিটারির অবস্থান সার্বক্ষণিক এবং মণিপুরের সাথে মায়ানমারের সীমান্ত আছে। নৃশংসতা এখানকার নিত্যদিনকার ঘটনা।

বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী এখানে বাস করে, তাদের সংস্কৃতিও ভিন্ন। কিন্তু, তারা মনে করছে নিয়ন্ত্রণমূলক যে জীবনে তারা বাধ্য এতে করে তাদের সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাদের ইতিহাস বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে তারা স্বতন্ত্র জাতি হিসেবেও বিলুপ্ত হয়ে যাবে, বিলুপ্ত হবে নিজস্ব সংস্কৃতিও। তাই তারা স্বাধীনতার দাবি তুলেছেন মূলত।

প্রবাসী সরকার মণিপুরে মানবাধিকার লঙ্গনের কথা তুলে ধরেছে। তাদের দাবি গত ১০ বছরে মণিপুরে ৪৫০০ মানুষকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তারা মণিপুরের আরো সমস্যার কথা তুলে ধরে বলেন, ভারতে থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা দিলে ভারত সরকার দ্বারা নির্যাতন বা গুম খুনের সম্ভাবনা থাকত। তাই তারা প্রবাসী সরকার গঠন করে রাজ্যের রাজার অনুমোদনে স্বাধীনতার ঘোষণা দিচ্ছেন।

মণিপুর রাজ্যের রাজার পক্ষে মণিপুরের স্বাধীনতার দাবিটি ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী ইয়ামবেন বিরেন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সমরজিত।
মণিপুরের প্রবাসী সরকারের পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রী সমরজিত জানান, তারা জাতিসংঘে মণিপুরের স্বাধীনতার স্বীকৃতি আদায়ের জন্যে চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। তারা প্রত্যাশা করছেন বিশ্ববাসী মণিপুরকে স্বীকৃতি দিবে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে, এই লক্ষ্যে তারা কূটনৈতিক চেষ্টা চলমান রাখবেন।

লন্ডন থেকে স্বাধীন মণিপুরের ঘোষণা

ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন মণিপুরের নেতারা। মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) লন্ডনে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাধীন মণিপুর স্টেট কাউন্সিল গঠন করার কথাও জানিয়েছেন তারা। খবর জিও নিউজ, আল জাজিরা, দ্য হিন্দু, হিন্দুস্থান টাইমস, বিজনেস রেকর্ডার।

সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা মতে ঘোষিত স্বাধীন মণিপুরের সরকার লন্ডনে নির্বাসিত থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত প্রতিনিধিরা মণিপুরের মহারাজার একটি অফিস আদেশ দেখান। ২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত একটি চিঠির মাধ্যমে মণিপুরের রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানের জন্য দুজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তারা হলেন ইয়ামবেন বাইরেন ও নারেংবাম সমরজিত।

সংবাদ সম্মেলনে তারা জানিয়েছেন, যেহেতু ভারতে অবস্থান করে স্বাধীনতার ঘোষণা দিলে তাদেরকে নানারকম হয়রানিসহ হত্যা করার সম্ভাবনাও ছিল, তাই তারা গত সেপ্টেম্বরেই যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছেন।

তারা আরও জানান, মণিপুরের স্বাধীনতা ঘোষণা করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে স্বীকৃতি আদায়ের জন্য এই সময়টাকেই তাদের সর্বোত্তম মনে হয়েছে। তবে তারা আরও বড় পরিসরে জাতিসংঘের কাছে এই নতুন রাষ্ট্রের স্বাধীনতার ব্যাপারে আলোচনা শুরু করবেন।

উল্লেখ্য ৩০ লাখ মণিপুরের মানুষ স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি চায়। তারা ভারতের সাথে মিলেমিশে একটি প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে থাকতে চায়। ঘৃণা এবং জিম্মি করে রাখার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে তারা নতুন এক অধ্যায় শুরু করতে আগ্রহী।

পালিয়ে বিয়ে করতে চাইলে সহায়তা দেবে পুলিশ!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পারিবারিক আপত্তিসহ নানা কারণে যারা বাড়ি থেকে পালিয়ে বিয়ে করতে বাধ্য হচ্ছেন তাদের পাশে দাঁড়াবে পুলিশ। সম্প্রতি এমনই জানানো হয়েছে ভারতের রাজস্থান পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে।

এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পারিবারিক আপত্তির কারণে বাড়ি থেকে পালিয়ে বিয়ে করতে হচ্ছে যে সব জুটিকে, তাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে রাজস্থান সরকারের পুলিশ দফতর।

ওই খবরে বলা হয়েছে, পলাতক দম্পতিদের জন্য ‘শেল্টার হোম’ তৈরির কথা ভাবছে রাজস্থান পুলিশ। সংবাদমাধ্যমকে দেয়া এক সক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর জেনারেল অব পুলিশ জঙ্গা শ্রীনিবাস রাও।

তিনি জানান, পলাতক দম্পতিদের যাতে কোনো বিপদে পড়তে না হয়, সেই কারণেই এই ‘শেল্টার হোম’ ভাবনা।

তিনি আরও জানান, রাজ্য পুলিশের সদর দফতর থেকে সব জেলার পুলিশ সদস্যদের জানানো হয়েছে, রাজ্যের যে কোনো প্রান্তে এমন সমস্যায় পড়া সদ্যবিবাহিতদেরযেন সর্বতোভাবে সাহায্য করা হয়। রাজস্থান হাইকোর্টের নির্দেশ মোতাবেক পলাতক দম্পতিদের জীবনের সুরক্ষা দেয়া একান্ত কর্তব্য।

এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, পলাতকদের সাহায্যের জন্য রাজ্যের সব পুলিশ রেঞ্জ ও জেলায় সিনিয়র স্তরের মহিলা পুলিশ অফিসার রাখা হবে।

প্রসঙ্গত, এই শেল্টার হোম ও অন্যান্য পদক্ষেপ সেই রাজ্যে ক্রমবর্ধমান অনার কিলিং বন্ধ করার সহায়ক হবে বলেই ধারণা রাজস্থান পুলিশের।

মণিপুরি মুসলমান কবি আবদুর রহমানের জীবন ও সাহিত্যকর্ম    

রফিকুল ইসলাম জসিম

যারা শুধু লিখতে এসেছিলেন, লেখার সঙ্গে জীবনকে বেঁধে ফেলেছিলেন, লেখার জন্য নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন, যাদের জীবন ও লেখা একাকার হয়ে গিয়েছিল, যাদের সৃষ্ট চরিত্রের সঙ্গে তাদের জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিল- তাদেরই একজন আবদুর রহমান।

রহমান শৈশব থেকেই গদ্য ও কবিতা রচনা শুরু করেছিলেন। একটি নিখুঁত গবেষকও ছিলেন। শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির এমন কোন শাখা নেই যেখানে তার বিচরণ ছিল না। আসাধারণ তার সাহিত্যকর্ম। তার অতূলনীয় সাহিত্যকর্ম বা সৃষ্টি সম্পর্কে স্বল্প পরিসরে বর্ণনা সম্ভব নয়। তিনি অন্যের সংস্কৃতিতে আগ্রহী হন এবং অন্যান্য সম্প্রদায়ের সাথে সমান আচরণ করেন। তাঁর কাছে মানুষের উচ্চ ও নিম্ন শ্রেণির কোনও বিভাজন নেই। তিনি ঐক্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী। সমাজ ও মনোবাস্তবতার রূপকার আবদুর রহমান। সাহিত্য সাধনায় তিনি ছিলেন সৎ পথের সন্ধানী। স্বপ্ন-বিলাসী মন তাঁর ছিল না, বরং সবরকম শোষণ, উৎপীড়ন ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন সোচ্চার। তাই সাহিত্য জীবনের প্রথম পর্বে মধ্যবিত্তের উপরিস্তরের আবরণকে তিনি উন্মোচন করেছেন অত্যন্ত সার্থকতার সঙ্গে।

মুহাম্মদ আবদুর রহমান ২ শে জানুয়ারী, ১৯৩৫ সালে ইম্ফাল পূর্ব জেলার ক্ষেত্রীগাও গ্রামে মণিপুরি মুসলমান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি কুঠিবেম সিফাত উল্লাহ (পিতা) এবং কুঠিবেম (ওঙ্গবি) মৈনাম জুহরা বিবি (মাতা) -এর জন্মগ্রহণ করেন। তার মা তিনটি সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন, যার মধ্যে রহমান বড় ছিলেন। তাঁর বাবা সিফাতুল্লাহ একজন নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবক ছিলেন এবং যিনি গজলের শিক্ষক হওয়ায় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি গভীর আগ্রহী ছিলেন এবং মেয়েদের শিক্ষার জন্য কেইখু বালিকা নিম্ন প্রাথমিক মাদ্রাসা (১৯৮৬) প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

শিক্ষা জীবন:

এম আবদুর রহমান ৪ থেকে ৫ বছর বয়সে আরবি কায়দা (ভিত্তি) দিয়ে ধর্মীয় শিক্ষা শুরু করেছিলেন। তাঁর বাবা ছিলেন তাঁর প্রথম শিক্ষক। আরবী ভাষা শেখার কারণ হ’ল পবিত্র কুরআন পাঠ করা, নামাজ (দৈনিক প্রার্থনা) করা এবং ধর্মীয় বিশ্বাস প্রতিষ্ঠা করা সক্ষম করা।

এরপরে, তিনি খেরগাও নিম্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিখতে শুরু করেছিলেন। তিনি ১৯৪২ সালে পোরম্প্যাট নিম্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন। এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সাথে মিলিত হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের স্লেটে উত্তর লেখার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল (হার্ড ফ্ল্যাট উপাদানের পাতলা টুকরো) এবং পরীক্ষার একই দিনে তাকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পাসের ঘোষণা করা হয়েছিল। তিনি চুরচাঁদ উচ্চ বিদ্যালয়ে তৃতীয় থেকে দশম (১৯৪৩থেকে ১৯৫০) পর্যন্ত ক্লাস করতে পারতেন।

পরে, তিনি গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক পরিচালিত ১৯৫১ সালে ম্যাট্রিক পরীক্ষা শেষ করতে পারেন। তারপরে, তিনি আইএ (ইন্টারমিডিয়েট অফ আর্টস) পড়ার জন্য ইম্ফালের ডিএম কলেজে ভর্তি হন। দারিদ্র্যের কারণে কলেজের কোর্স শেষ করতে পারেননি তিনি। তবে তিনি স্ব-অধ্যয়ন এবং স্ব-গবেষণা বন্ধ করেননি। তিনি হিন্দি ভাষার কোর্স ‘প্যারীচাই’ এবং ‘কোবিড’ সম্পন্ন করেছিলেন তাই তিনি উর্দু, হিন্দি এবং ইংরেজি বিষয়ে দক্ষ জ্ঞান অর্জন করতেন।

তিনি একজন সাহিত্যপ্রেমী ও পাঠক ছিলেন এবং তাঁর আগ্রহের অনেকগুলি বিষয় পড়তেন। তিনি জার্নাল / মাসিক যেমন পড়তেন। জাগ্রত (ট্রান্সওয়াল, দক্ষিণ আফ্রিকা), ইসলামিক পর্যালোচনা (ওকিং, ইংল্যান্ড), আল ইত্তেহাদ (ইউএসএ), দ্য লাইট (লাহোর, পাকিস্তান), ইসলামিক ভয়েস (ব্যাঙ্গালোর, ভারত), দ্য রেডিয়েন্স (নয়াদিল্লি, ভারত) ইত্যাদি তাঁর উত্তর তাঁর যোগ্যতা সম্পর্কে এক প্রশ্নের মুখে হাসি হ’ল, “আমি এখনও একজন ছাত্র”। তবুও তিনি খুব কঠোর পরিশ্রম করছেন এবং তিনি বিশ্বাস করেন যে এটি তার জ্ঞান বৃদ্ধি করেছে।

জীবন সংগ্রাম:

দারিদ্র্যের কারণে তিনি চাকরি সন্ধান করতেন। তিনি ইম্ফল পোস্ট অফিসে চাকরি পেয়েছিলেন এবং ক্ষেত্রীগাওয়ের ব্রাঞ্চ পোস্ট অফিসে কাজ শুরু করেন। কয়েক বছর পর তাকে জোড়াহাট পোস্ট অফিসে স্থানান্তর করা হয়। ততক্ষণে জোড়াহাট ডাকঘরটি ইম্ফল পোস্ট অফিসের অধীনে ছিল। বাড়িতে জনবলের অভাবে তিনি জোড়াহাটে যাননি। এইভাবে, তিনি তার কঠোর উপার্জনের কাজটি ছেড়ে দিয়েছেন। পরে তিনি ১৯৫৪ সালে ফাতেমা মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন। এখন, বিদ্যালয়ের অস্তিত্ব নেই।

অবশেষে তিনি কৃষি বিভাগে নিম্ন বিভাগের কেরানী হয়েছিলেন কেবল পরে অ্যাকাউন্ট অফিসার হওয়ার জন্য। তিনি হিসাবরক্ষণের ক্ষেত্রে অ্যাকাউন্টিং জেনারেল, শিলং (১৯৬৫-৬৬৬৬), সচিবালয় প্রশিক্ষণ ও পরিচালনা ইনস্টিটিউট, নয়াদিল্লি (১৭৭৮) এবং স্টেট অফ ট্রেনিং, ইম্ফল (১৯৮৯) থেকে অনেক প্রশিক্ষণ পান। ১৯৯৩ সালে তিনি তাঁর চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

বিবাহ জীবন:

১৯৫৪ সালে এম এ রহমান এফাম আমিনা খাতুন, ডি / ও কাজী সানাজোবা-র সাথে বিবাহ করেন। তাঁর শ্বশুর শাশুড়ি ছিলেন মহারাজা চুরচাঁদ সিংহের প্রাসাদে (১৮৮৬868-১41১১) একজন মনোনীত কাজী। রহমান উত্তরাধিকার সূত্রে পাঁচ ছেলে ও দুই কন্যা পেয়েছেন।

সামাজিক জীবন:

তিনি মূলত ১৯৫০ থেকে ১৯৬০ সালে সামাজিক জীবনে গভীর আগ্রহী ছিলেন। এটি তাঁর জীবনের সময়কালে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় ছিল। আতাউর রহমান খান এবং মৌলভী জহুরউদ্দিন খানের সাথে মেলামেশা করে তিনি নিম্নলিখিত রচনায় জড়িত ছিলেন – আনসারুল ইসলাম গ্রন্থাগার স্থাপন (বর্তমানে বিদ্যমান নেই) মূলত শিক্ষার্থী ও সমাজের উন্নয়নের জন্য পল্লী যুব সংগঠন প্রতিষ্ঠা (বর্তমানে নেই) মহররম ও মিলাদ-উন-নবী উদযাপন শুরু হয়েছে, লশানী শিশু কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা (বর্তমানে অস্তিত্বহীন) খেরগাও এম.ই. স্কুল থেকে জুনিয়র স্কুল ইত্যাদির রূপান্তর প্রচেষ্টাতে অংশ নিয়েছি

খেলাধুনা:

তিনি খেলাধুলায়ও গভীর আগ্রহী ছিলেন। তাঁর প্রিয় ক্রীড়া ইভেন্ট হকি এবং ফুটবল ছিল। সর্বোপরি তিনি মুকনা (ঐতিহ্যবাহী মণিপুরী কুস্তি) খেলতেন।

সংযুক্ত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন:

নিম্নলিখিত সংস্থা / সমিতিগুলি তার সাথে যুক্ত / ছিল।

কালচারাল ফোরাম, মণিপুর⇒ লিবার্টি পাবলিশিং সমিতি, মণিপুর, এমা লাইবাক প্রকাশনা বোর্ড, মণিপুর ⇒ ইসলামিক সাংস্কৃতিক ও গবেষণা সমিতি, মণিপুর। লেখক ইউনিয়ন, মণিপুর, ওয়াকফ বোর্ডের সদস্য (১৯৯৯থেকে ২০০৪ দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি লেখক হিসাবে:

তিনি অবিচ্ছিন্ন শেখা এবং গবেষণায় আগ্রহী হন। তাঁর মধ্যে এই অভ্যাসই তাকে লেখক হয়ে উঠেছে। তিনি তাঁর অবদানগুলি মূলত থৌডাং (১৯৫৭), পাইমে ইসলাম (১৯৬২), মিংসেল, ইতু ইত্যাদিতে তাঁর অবদানের সূচনা করেছিলেন ইতুতে তাঁর পাঙ্গাল ফোকসংয়ের অনুসন্ধান প্রকাশিত হয়েছিল।

পরে তিনি কায়মুদ্দিন পুখরিমায়ুমের সাথে “পাঙ্গালগী খুনুং এষেই” শিরোনামে একটি সম্পাদিত খণ্ড প্রকাশ করেন (১৯৮৬), লিবার্টি পাবলিশিং অ্যাসোসিয়েশন, ইম্ফল দ্বারা প্রকাশিত)। তিনি মনে করেন যে তিনি প্রচুর পরিমাণে মাইতেই পাঙ্গাল লেখক না থাকার শূন্যতা পূরণ করছেন।

তিনি মণিপুর ইউনিভার্সিটির মণিপুরী বিভাগে অনুষ্ঠিত সেমিনারে সাহিত্যের উপর ধারাবাহিক গবেষণা পত্র লিখতেন এবং পড়তেন। তিনি অনেক গবেষণা পন্ডিতকে সহায়তা করেছেন। তিনি ‘আলম’ নামে কলমে দৈনিকগুলিতে ইসলাম ভিত্তিক অনেক নিবন্ধ লিখেছিলেন।

প্রকাশিত বই এবং পুস্তিকা:

মণিপুরী ভাষায় তাঁর বই এবং পুস্তিকা দুটি বিভাগে যেমন উদাহরনঃ ইসলামী সাহিত্য এবং সাধারণ সাহিত্য। এগুলি নিম্নলিখিত হিসাবে রয়েছে।

ইসলামী সাহিত্য

(১) রোজা (১৯৮৬) (২) ইউসুফ-জুলেখা (১৯৮৭) (৩) ঈদ আনি (১৯৮৭) (৪) মোহাররম আমসাং কারবালাগী ল্যান (১৯৯২) (৫) ইসলাম (১৯৯৭) (৬) দুনিয়া আখিরাতকী লরোকফামনি, পুস্তিকা (১৯৯৯) (৭) খংফাম থোকপা ফারজ খারা (২০০০) (৮) ল্যাঙ্কোল (২০০৩) (৯) লাইরামেল, বুকলেট (২০০৬) (১০) খুতওয়াতুল ওয়াদা (২০০৯) (১১) খংবাদা কানবা (২০১৫)

সাধারণ সাহিত্য

(১) থম্মোজি খোলাও (১৯৮০) (২) পাঙ্গালগী খুনুং এষেই (এল.কায়ামউদ্দিন পুখরিয়ামের সহ-সম্পাদিত) (১৯৮৬)

(৩) পেলে তাইবাং (২০০০) (৪) এরাল্ডুবু কারিনো (২০০২)

(৫) শাহির সালিমা লুহংবা (২০০৪) (৬) নাগাক্লবা পুনশি (২০০৭) (৭) এচেল আমাসং খোঞ্জেল (২০১১) (৮) শোকলাবা ঠম্মোইগি খোলাও, কবিতা (২০১৭)

মণিপুরী সাহিত্যে তাঁর অবদান ছাড়াও তিনি ইংরেজী ভাষায়ও অবদান রেখেছিলেন যেমন, মণিপুরি মুসলমান (মাইটি পাঙ্গাল) সম্পর্কে লেখা অংশটি: এন.সানাজোবা (সম্পাদনা) মণিপুর অতীত এবং বর্তমান খণ্ড। চতুর্থ, মিত্তাল পাবলিকেশনস, নয়াদিল্লি।

আব্দুর রহমান দীর্ঘ দর্শন এবং কথার সংক্ষিপ্ত ব্যবহার করতেন। তিনি লেখকের প্রতি তাঁর আগ্রহকে একটি চ্যালেঞ্জ হিসাবে গ্রহণ করেছেন যে তিনি লেখালেখি বন্ধ করেননি। একজন লেখক হিসাবে তাঁর কেরিয়ারের সময় তিনি এই ক্ষেত্রে অন্যদের দ্বারা উপহাসের পরিমাণে বিলাসবহুল জীবনকে ত্যাগ করেছিলেন। সাহিত্যের ক্ষেত্রে তাঁর অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে বিভিন্ন সংগঠন থেকে তিনি আজ অবধি নিম্নলিখিত সম্মাননা পেয়েছিলেন।

⚛ সাহিত্যভূষণ ও পুরস্কার

মণিপুরী সাহিত্য সমৃদ্ধ করতে এবং মণিপুরীর মুসলমানদের মধ্যে মণিপুরী সাহিত্যের প্রচারে তাঁর অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান কর্তৃক আব্দুর রহমান বহু পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছেন।

⚛ ২০০৩ (মণিপুরী সাহিত্য পরিষদ প্রদত্ত মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য পুরষ্কার)।

⚛ ২০০৪ বর্ষসেরা লেখক (নাহারোল সাহিত্য প্রেমী সমিতি, ইম্ফল দ্বারা প্রদত্ত)

⚛ ২০০৯ জীবন সাহিত্যের ভূমিকা জন্য শংসাপত্র, (স্বর্ণজয়ন্তী উদযাপন কমিটি মণিপুর রাজ্য কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, ইম্ফল দ্বারা প্রদত্ত)

⚛ ২০১৪ আইসিআরএ লাইফ টাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড, (রাইটার্স ইউনিয়ন এবং ইসলামিক কুল্টু প্রদত্ত।

⚛ ২০১৯ মণিপুরী সাহিত্যে অবদানের জন্য আবদুর রাহমান খুটিয়ামকে গোপাল শর্মা পুরষ্কার ভূষিত।

আবদুর রহমানের দীর্ঘ একটা জীবন- যিনি সাহিত্যের জন্য বিছিয়ে রেখেছিলেন, মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য, অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকণের জন্য যিনি সারাটা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন- তাঁকে নিয়ে যে কোনো আলোচনা কেবল শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের প্রয়াস ছাড়া কিছু নয়।

ভূমিকা ও অনুবাদ:

রফিকুল ইসলাম জসিম

তথ্য সূত্রঃ

ই-পোও, মণিপুরি ভাষা অনুবাদিত।

রাসমোহন ভৌমিক স্মৃতি সম্মাননা পাচ্ছেন ৬ সংস্কৃতিজন

সংগীত-সরণি সংস্কৃতি চর্চাকেন্দ্রের দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশের ৬ গুণি সংস্কৃতিজনকে রাসমোহন ভৌমিক স্মৃতি সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হচ্ছে। আগামী ২৫ অক্টোবর শুক্রবার বিকেল ৫টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় সংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে প্রধান অতিথি হিসেবে গুণিজনদের হাতে এ পদক তুলে দেবেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

পদকপ্রাপ্ত গুণিজনেরা হলেন-ঝুনা চৌধুরী (থিয়েটার), মীর বরকত (আবৃত্তি), আশরাফুল আলম পপলু (চারুকলা), মুনমুন আহমেদ (নৃত্য), কমল খালিদ (সংগীত) ও গোলাম মোস্তফা (প্রবাসী সংস্কৃতিজন ও চলচ্চিত্র নির্মাতা)

এ ব্যাপারে সংগীত-সরণি সংস্কৃতি চর্চাকেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক শ্রাবন্তী পাল তন্বী আরটিভি অনলাইনকে বলেন, সংগীত-সরণির প্রতিষ্ঠাতা রাসমোহন ভৌমিক আমাদের ছেড়ে অকালে চলে গেছেন তার অনেক অসমাপ্ত কাজ রেখে। আমাদের সংগঠনের দশ বছর পূর্তি উপলক্ষে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরা তাঁর নামে এ সম্মাননা স্মারক চালু করতে যাচ্ছি। যাঁরা আমাদের এ সম্মান পাচ্ছেন তারাও দেশের স্বনামখ্যাত গুণিজন। আমরা প্রতি বছর এমন আয়োজনের প্রত্যাশা রাখি।

জানা গেছে, অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গোলাম কুদ্দুছ এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ঋত্বিক নাট্যজন লিয়াকত আলী লাকী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন সংগীত-সরণির প্রধান উপদেষ্টা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যাতিরিক্ত অধ্যাপক নিরঞ্জন অধিকারী।

এম/পি

জিরিবামে মণিপুরী কাব্য দিবস পালন

মণিপুরী সাহিত্য পরিষদ আয়োজিত “মণিপুরী কবিতা দিবস”, জিরীবাম টিচার্স কলোনি জিরিবামের রাজা রাম মোহন রায় লাইব্রেরী হলে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, “নুনশিবা আমাসং” শীর্ষক একটি কাব্যগ্রন্থ নিংতম লানমি “মুক্তিও পেয়েছিল।

মণিপুর ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন লিমিটেড, জিএম-এর ভাইস-চেয়ারম্যান কে শরৎ কুমার সিংহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন; এস খোগেন্দ্র সিং, সভাপতি মণিপুরী সাহিত্য পরিষদ জিরিবাম (এমএসপিজে); নংমাইথেম বঙ্কিম সিং, এডিসি / সিইও জিরিবাম এবং থ্রি আমুরাশি দেবী, জেডিও জিরিবম প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসাবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি কে শরতকুমার সিংহের আনুষ্ঠানিক প্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে এই অনুষ্ঠানের শুরু হয়, যখন জেনারেল সিকি এমএসপিজে, শরৎ থোকচম স্বাগত ও মূল বক্তব্য প্রদান করেন।

ডঃ এন বিজয়া দেবী, সহকারী অধ্যাপক জিরি কলেজ এবং নন্দেশ্বরী হিজাম, সহকারী অধ্যাপক জিরি কলেজ বিশেষত ডাঃ লামবাম কমল সিংহের জীবন এবং মণিপুরী সাহিত্যের বিকাশের জন্য তাঁর সেবা ও উত্সর্গের বিষয়ে বিশেষত সম্পদ ব্যক্তি হিসাবে বক্তব্য রাখেন।

পরে প্রধান অতিথির মাধ্যমে রোমিও মাইরাংথমে রচিত “নুংশিবা অমসুং নিংতম লানমি” শীর্ষক কাব্যগ্রন্থ এবং সিনাম তুনুবাবু সিংহের রচিত “অমঙ্গবা নং” প্রকাশিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি কে শরতকুমার সিং বলেন, মণিপুর আমাদের সমৃদ্ধ অতীত ও ঐতিহ্যের প্রতিফলন সমৃদ্ধ সাহিত্যে ধন্য।

সূত্র: সাঙ্গাই এক্সপ্রেস

কলকাতায় ‘মণিপুরি কবিতা দিবস’ পালিত!

কলকাতা প্রতিনিধি:

ভারতের কলকাতার মণিপুরী (এমআইকে) রবিবার মণিপুরের মণিপুর ভবনে মণিপুরের কবিতা ও ফিকশন ক্লাবের সহযোগিতায় “মণিপুরী কবিতা দিবস” পালন করেছে।

কলকাতায় মণিপুর ভবন, সহকারী আবাসিক জেলা প্রশাসক বিক্রম উপস্থিত ছিলেন এবং প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কলকাতার আইসিএআর-ইন্ডিয়ান অ্যাগ্রিকালচার্ট রিসার্চ, প্রিন্সিপাল সায়েন্টিষ্টস ডক্টর সুখাম মুনিলকুমার।

এন রঞ্জিতা সরকার, পুরষ্কার নংথম্বম কুঞ্জোমোহন অনুবাদ পুরষ্কার, ২০১৮, কবি বারজা কুমার সরকার এবং ল্যাশরাম গোপেশোর যথাক্রমে সম্মানিত অতিথি হিসাবে পালন করেছিলেন।

কলকাতায় মণিপুরী ‘মণিপুরী কাব্য দিবস’ পালনে উন্মুক্ত পাঠ অধিবেশনে মণিপুরী বিশিষ্ট লেখকগণ কবিতা আবৃত্তি করেছিলেন। উপস্থাপনায় এমআইকে কলকাতা জেনারেল সেক্রেটারি, রওশন খুমুকচাম করেছিলেন।

তাঁর বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে এমআইকে প্রথমবারের মতো এই সাহিত্য ইভেন্টে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং এটি আগামী বছরগুলিতে পর্যবেক্ষণ অব্যাহত থাকবে।

সভাপতি এবং প্রধান অতিথির ভাষায়, উল্লেখ করেছেন যে এটি কলকাতায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানের একটি খুব ভাল গান এবং কীর্তি, এবং এটি সবার জন্য উত্সাহিত হওয়া উচিত এবং এটি তরুণ এবং শিশুদের জন্যও খুব ভাল উদাহরণ।

মহিলা এবং শিশু নেতৃত্ব, ডাঃ নুনলেকপম প্রেমা দেবী ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে এই অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়েছিল।

বাংলাদেশের সকল সংবাদপত্র

Bangladeshi Newspaper
বাংলাদেশী সংবাদপত্র
বাংলা সংবাদপত্র

প্রথম আলো ই-পেপার

কালের কন্ঠ ই-পেপার

দৈনিক যুগান্তর ই-পেপার

দৈনিক ইত্তেফাক ই-পেপার

দৈনিক মানবজমিন ই-পেপার

দৈনিক জনকন্ঠ ই-পেপার

দৈনিক সমকাল ই-পেপার

দৈনিক ইনকিলাব ই-পেপার

দৈনিক ভোরের কাগজ ই-পেপার

দৈনিক নয়া দিগন্ত ই-পেপার

বাংলাদেশ প্রতিদিন ই-পেপার

দৈনিক আমার দেশ ই-পেপার

দৈনিক আমাদেরসময় ই-পেপার

দৈনিক সংবাদ ই-পেপার

দৈনিক মানবকন্ঠ ই-পেপার

দৈনিক দিনকাল ই-পেপার

দৈনিক যায়যায়দিন ই-পেপার

দৈনিক সংগ্রাম ই-পেপার

দৈনিক আজকালের খবর ই-পেপার

দৈনিক সকালের খবর ই-পেপার

দৈনিক আজকের পত্রিকা ই-পেপার

আলোকিত বাংলাদেশ ই-পেপার

English Newspapers

The Daily Star ePaper

The Independent ePaper

The daily Observer ePaper

The daily New Age ePaper

The Financial Express ePaper

The Bangladesh Today ePaper

News Today ePaper

Dhaka Tribune ePaper

The Daily Sun ePaper

News From Bangladesh ePaper

The Good Morning ePaper

Energy Bangla ePaper

Holiday ePaper

Prothom alo ePaper

জেলা ভিত্তিক পত্রিকা

চট্টগ্রামের প্রত্রিকাসমূহ / Chittagong Newspapers

দৈনিক পূর্বকোণ ই-পেপার

দৈনিক আজাদী ই-পেপার

দৈনিক পূর্বদেশ ই-পেপার

সুপ্রভাত বাংলাদেশ ই-পেপার

চিটাগাং ডেইলি ই-পেপার

দৈনিক দৈনন্দিন ই-পেপার

CTG Times.com
সিটিজি টাইমস্

bd News Times

পাক্ষিক খবরিকা ই-পেপার

সিটিজি বার্তা 24
CTG Barta24

Ctg News.com

CTG TRIBUNE

দৈনিক বাঁশখালী ই-পেপার

COX NEWS.com

পার্বত্য নিউজ
Parbatta News.com

রামু নিউজ ডট কম

Cox Bazar News.com

টেকনাফ নিউজ ডটকম

কক্সবাজার Live.com

কক্সবাজার টাইমস্ 24

দৈনিক ফেনীর সময় ই-পেপার

Cox’s Bazar 24

সিলেটের পত্রিকাসমূহ / Sylhet Newspapers

দৈনিক খোয়াই ই-পেপার

দৈনিক সিলেট ই-পেপার
Daily Sylhet

আমাদের সিলেট ডটকম

সিলেট রিপোর্ট

সুরমা টাইমস্

সিলেট বার্তা

সিলেট এক্সপ্রেস.com

সিলেটের সকাল

সিলেট নিউজ ওয়ার্ল্ড
Sylhet News World

সিলেট ওয়াচ24ডটকম

সিলেটের আলাপ
Sylheter Alap

সিলেট নিউজ টাইমস্

সিলেট নিউজ 24

দৈনিক পুণ্যভূমি ই-পেপার

সিলেটের সংবাদ

সিলেট ভিউ 24.com

সুনামগঞ্জ MIRROR

আমাদের নবীগঞ্জ

Daily হবিগঞ্জ

খুলনার পত্রিকাসমূহ / Khulna Newspapers

দৈনিক মাথাভাঙ্গা ই-পেপার

দৈনিক পূর্বাঞ্চল ই-পেপার

দৈনিক গ্রামের কাগজ ই-পেপার

দৈনিক পত্রদূত ই-পেপার

দৈনিক আন্দোলনের বাজার ই-পেপার

খুলনা নিউজ.com

বাগেরহাট নিউজ

যশোর নিউজ 24

মাগুলা নিউজ

ঝিনাইদহ নিউজ

কুষ্টিয়া নিউজ

মেহেরপুর সংবাদ

কুষ্টিয়া News 24

রাজশাহীর পত্রিকাসমূহ / Rajshahi Newspapers

দৈনিক করতোয়া ই-পেপার

দৈনিক সোনালী সংবাদ ই-পেপার

বগুড়া সংবাদ

দৈনিক সংবাদ কণিকা ই-পেপার

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

পাবনা বার্তা 24.com

ময়মনসিংহের পত্রিকাসমূহ / Mymensingh Newspapers

ময়মনসিংহ নিউজ ই-পেপার

দৈনিক ময়মনসিংহ বার্তা ই-পেপার

ভালুকা নিউজ.কম

দৈনিক আজকের জামালপুর ই-পেপার

শেরপুর নিউজ 24.com

বরিশালের পত্রিকাসমূহ / Barisal Newspaper

বরিশাল টুডে

আজকের বার্তা ই-পেপার

গৌরনদী.কম

পিরোজপুর নিউজ

পটুয়াখালী ওয়েব

রংপুরের পত্রিকাসমূহ / Rangpur Newspapers

দৈনিক রংপুর চিত্র ই-পেপার

রংপুর নিউজ 24.com

কুড়িগ্রাম নিউজ

দিনাজপুর নিউজ

দিনাজপুর 24.com

ঢাকার সংবাদপত্র / Dhaka Newspapers

বণিক বার্তা ই-পেপার

গাজীপুর 24.com

নারায়নগঞ্জ 24.com

নিউজ নারায়নগঞ্জ 24

দৈনিক মুন্সীগঞ্জের কাগজ ই-পেপার

মুন্সীগঞ্জ টাইমস্

কুমিল্লার পত্রিকাসমূহ / Comilla Newspapers

কুমিল্লার খবর

প্রথম খবর

কুমিল্লা ওয়েব

দৈনিক আমাদের কুমিল্লা ই-পেপার

কুমিল্লার বার্তা

(সাপ্তাহিক) আমোদ ই-পেপার

আমাদের ব্রাহ্মণবাড়ীয়া
Amader Brahmanbaria.Com

NEWS ব্রাহ্মণবাড়ীয়া.com

ব্রাহ্মণবাড়ীয়া 24.com

নোয়াখালী নিউজ

লক্ষ্মীপুর 24.com

চাঁদপুর ওয়েব.com

লোক সংবাদ

ফেনী সংবাদ

ফরিদপুরের পত্রিকা / Faridpur Newspapers

শরীয়তপুর নিউজ 24 ডটকম

রাজবাড়ী 24

রাজবাড়ী নিউজ 24

কমিউনিটি পত্রিকা / Community Newspapers

গ্লোবাল নিউজ ২৪
The GLOBAL NEWS 24

সংবাদ সংস্থা / News Agencies

News Agency of Bangladesh

UNB (United News of BANGLADESH)

বিদেশী বাংলা সংবাদপত্র

সেঞ্চুরি সংবাদ

গণদাবী

ONE INDIA BANGLA

Bangla Live.com

আমাদের মালদা

শেয়ার করুন

” বামডো’র গঠনতন্ত্র সংশোধন ও সমাজ উন্নয়ন “

🖋… রফিকুল ইসলাম জসিম

বাংলাদেশের বসবাসরত মণিপুরি মুসলিম (পাঙাল) এর জনসংখ্যা অনুমানিক ১৫ হাজার। বিগত ২০০ বছর ধরে নিজস্ব সমৃদ্ধ সমাজ, সংস্কৃতি, ধর্ম-ভাষা ও নৃতাত্ত্বিক পরিচিতি নিয়ে এদেশের বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে বসবাস করে আসছে। তাদের শাসনতান্ত্রিক ইতিহাস, সামাজিক রীতিনীতি, ভৌগোলিক পরিবেশ, দৈহিক-মানসিক গঠন, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় জীবনযাত্রা বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি জনগোষ্ঠী থেকে স্বতন্ত্র, তাই এদেশে বাঙালি ও অন্যান্য পারিপার্শ্বিক জাতি গোষ্ঠীর সাথে সম্পর্ক বজায় রেখে ” ইমান- একতা – প্রগতি “কে মূলমন্ত্র রেখে ১৯৯৮ সালে ‘বাংলাদেশ মণিপুরি মুসলিম ডেভেলপমেন্ট অর্গানইজেশন’ (বামডো) প্রতিষ্ঠিত হয়। সমাজ কাঠামোর আমূল পরিবর্তনে সামাজিক সংগঠনের বিকল্প নেই। সুশিক্ষিত নবীন প্রজন্ম এবং আধুনিক সমাজ বিনির্মাণের স্বার্থে মণিপুরি মুসলমানদের উদ্যোগে গড়ে তোলা একটি প্রাচীন ও বৃহৎ সংগঠন বামডো।
একটি সংগঠনকে টিকে রাখার জন্য এর গঠনতন্ত্রের ভূমিকা অপরিহার্য। গঠনতন্ত্র ছাড়া সংগঠন অচল। তাহলে গঠনতন্ত্র কি? গঠনতন্ত্র হল সংগঠনের বিধিবদ্ধ নীতিমালা যা এর নিয়ন্ত্রণকারী কর্ত্পক্ষের অনুমোদিত। গঠনতন্ত্র সংশোধন ব্যতিরেকে এর কোন ধারা লংঘন, অপরাধ হিসেবে পরিগনিত। সব সংগঠনেরই গঠনতন্ত্র থাকতে হয়, আর রেজিস্টার সংগঠনের জন্য তা বাধ্যতামূলক।
(এক)
সংগঠন প্রতিষ্ঠার ২ যুগ পর এই প্রথম গঠনতন্ত্র সংশোধন নিয়ে আলোচনাই আসে। বিভিন্ন প্রয়োজনে, এবং গঠনতন্ত্রের ধারা অনুসরণে অবহেলার কারণে সামঞ্জস্যহীনতার সৃষ্টি হয়েছে। এই সামঞ্জস্যহীনতা দূরিভূত করার জন্য পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি সাব কমিটি গঠন করা হয়। উক্ত কমিটি সমাজের বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ ও বামডো’র অভিজ্ঞ সদস্যদের সাথে আলোচনা করে একটি সংশোধনী প্রস্তাব কার্যপরিচালনা পরিষদের নিকট উপস্থাপন করা হয়, যা কার্যপরিচালনা পরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত হয়ে গত ৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় উপস্থাপন করা হয়। তেতই গাঁও রসিদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন ভবনে সকাল ১০ ঘটিকা থেকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়৷ সভায় উপস্থিত সদস্যগন গঠনতন্ত্র সংশোধনে তাঁদের সুনির্দিষ্ট সুপারিশ ও বক্তব্য উপস্থাপন করেন। অবশেষে বিষয়টির উপর পরবর্তীতে আরো বিস্তারিত আলোচনার জন্য ঐ দিনকার মত সভা মুলতবী করা হয়। প্রস্তাবিত সংশোধনী সমুহ নিম্নরূপ:
ভূমিকা : বাংলা একাডেমির বানানরীতি অনুযায়ী মণিপুরী বানানের স্থানে মণিপুরি করার প্রস্তাব। মণিপুরি মুসলমানদের ইতিহাস অনুযায়ী ৪০০ বছরের স্থানে ২০০ বছর করার প্রস্তাব। ২০০ বছর ধরে মণিপুরি ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং বৃহত্তর জনগোষ্ঠী সাথে এ দেশের আবহাওয়া, পরিবেশ, ও কৃষ্টি সংস্কৃতি সম্পক্ত হয়ে আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী নাগরিক হিসাবে বসবাস করে আসছে৷ এছাড়াও পর্য্যবসিত বানান ঠিক করা৷
ধারা- ৬ : কার্যক্রম
ধারা – ৭ : সংস্থা লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য :
১৫ নং মণিপুরি মুসলমানদের ইতিহাস, ঐতিহ্য সংস্কৃতি সংরক্ষণ উন্নয়ন, কার্যক্রম সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়নের একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা৷ (সংযোজন)
ধারা -৮ : সদস্যপদ, ভর্তি ফি – পরিমান বৃদ্ধি করণ ও দাতা সদস্য : ৩০০০ ( সংযোজন)
ধারা: ৯ অধিকার, দায়িত্ব, ক্ষমতা। ৩. দাতা সদস্যগন সাধারণ সদস্যদের সমান অধিকার ভোগ করবেন৷ ( সংযোজন)
ধারা -১০ সদস্যপদ বাতিল : (সংযোজন)- পরলোক গমন করলে বা মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটলে বা আদালত কতৃক সাজাপ্রাপ্ত হলে।
ধারা : ১২ কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠন : সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নূন্যতম যোগ্যতা এইচ এসসি পাস – বয়স -৪৫,
কার্যনির্বাহী সদস্যগণ এসএসসি পাস – বয়স -৪০.
কার্যনির্বাহী পরিষদে এক বছর বৃদ্ধি করে ৩ বছর মেয়াদ করা৷ সমাজকল্যাণ পদে প্রচার ও সমাজকল্যাণ সংযোজন করা। উপদেষ্টা পরিষদে মেয়াদ ২ বছর বৃদ্ধি করে ৩ বছর বহাল করা৷ উপদেষ্টা পরিষদে সদস্যগন কার্যনির্বাহী পরিষদ কতৃক মনোনীত ।
ধারা -১৭ নির্বাচন কমিশন গঠন মেয়াদ ২১ দিন থেকে ২ মাস বৃদ্ধি করার প্রস্তাব।
(দুই)
বামডো কার্যনির্বাহী কমিটি ১৯ জানুয়ারি ২০১৮ সনে সাধারণ সদস্যগন ভোট প্রয়োগের মাধ্যমে বর্তমান কার্যকরী পরিষদ নির্বাচিত লাভ করেন ঐ বছর ২২ ফেব্রুয়ারী পূর্ববর্তী কমিটি নিকট হতে বামডোর নতুন কার্যনির্বাহী পরিষদ দায়িত্ব গ্রহন করেন।
গত ৮ অক্টোবর সভায় সুনির্দিষ্ট সুপারিশ ও বক্তব্য উপস্থাপন করেন, বামডো সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুল হক স্বপন। বামডো’র দায়িত্বগ্রহনের পর কার্যক্রম সমূহ তিনি তুলে ধরেন তা হলো-
<> মণিপুরি কালচারাল কমপেক্স কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক মো: রফিকুর রহমানকে প্রধান অতিথি করে নতুন কমিটি অভিষেক অনুষ্ঠান।
<> সমাজসেবা অধিদপ্তরের ২৪৬ জন শিক্ষার্থী আবেদন,
<> আকষ্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০০ টি পাঙাল পরিবার ৫০০/- করে সর্বমোট ৫০,০০০ /- আর্থিক সাহায্য প্রদান।
<>জেলা প্রশাসক কর্তৃক ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী শুমারী ” বিষয়ক সেমিনার অংশগ্রহন।
<> সাবেক বিচারপতি এসকে সিনহার ” এ ব্রোকেন ড্রিম গ্রন্থের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত।
<> কমলগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা অফিসে শুনানিতে অংশগ্রহন।
<> বীর মুক্তিযোদ্ধা উপাধ্যক্ষ ড. মো আব্দুস শহীদ স্যারের সাথে সাক্ষাৎ।
<> শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সেমিনারে অংশগ্রহন।
<> জি,কে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বামডোর আয়োজনে ভারতের মণিপুর থেকে আগত মণিপুরি মুসলিম প্রতিনিধি আগমন উপলক্ষে Assembly of Manipur Muslim.
<> কমলগঞ্জ উপজেলা মিলনায়তনে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগদান বামডো নেতৃত্ববৃন্দ।
<> উপজেলা প্রশাসক কর্তৃক নতুন ডিসি মহোদয়ের সাথে মতবিনিময় সভার অংশগ্রহন।
<> মেডিকেল কলেজে উপজাতি কোটায় অ উপজাতি শিক্ষার্থী ভর্তির প্রতিবাদ
<> উপজাতি সনদ প্রদান এবং বিভিন্ন জাতীয় দিবস পালন করা৷
® আর্থিক আবেদন সমূহ :
<> জেলা পরিষদ প্রধান নির্বাহী কর্মকতা বরাবর আইসিটি ট্রেনিং প্রতিষ্ঠার জন্য ৩ লক্ষ টাকার আবেদন অনুমোদন। সহযোগিতায় – স্থানীয় সরকার উপ সচিব মো: নুরুল ইসলাম, এডভোকেট এ এস এম আজাদুর রহমান এবং সুপারিশ করেছেন উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি জনাব এম মোসাদ্দেক মানিক।
<> উপজেলা পরিষদ বরাবরে ফার্নিচার ক্রয়ের জন্য ১ লক্ষ টাকার আবেদন। সহযোগিতা – মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বিলকিস বেগম।
<> উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে কার্যালয় মেরামত ও সংস্কারের জন্য ১ লক্ষ টাকার আবেদন সহযোগিতা – মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বিলকিস বেগম।
<> মসজিদ ভিত্তিক মক্তব শিক্ষা চালুকরণ, ইসলামিক লাইব্রেরি স্থাপনের আর্থিক বরাদ্দ।
(তিন)
একটি জাতির অস্তিত্ব ও স্বকীয়তা রক্ষার জন্যে সংগঠন ও সংঘবদ্ধতার বিকল্প নেই। একতা, সংঘবদ্ধতা, ত্যাগ ও সংগ্রাম-সাধনার মাধ্যমেই কোনো জাতি হতে পারে বিজয়ী, গঠনতন্ত্র রক্ষার মধ্যেমে লাভ করতে পারে সম্মান, সাফল্য ও উন্নতি। যে কোন সংগঠনে মজবুতকরণে গঠনতন্ত্র শাসিত করার বিকল্প নেই। বাস্তব অবস্থার বাস্তব বিশ্লেষনে প্রয়োজনে গঠনতন্ত্র সংশোধন, পরিমার্জন, সংযোজন বিয়োজনও দরকার।গঠনতন্ত্রের কঠোর অনুশীলনই হতে পারে সামাজিক সংগঠন গুলোকে সুস্থ ধারায় ফিরিয়ে নিতে। সুতরাং গঠনতন্ত্রকে মূল ধরে আমাদের সমাজকে এগিয়ে নিতে হবে। এমনটি হলেই সুস্থধারার রাজনীতি এগুবে আর অসুস্থ ধারাটি পিছাবে।
‘বামডো ‘র গঠনতন্ত্র পরিমার্জন, সংশোধন সম্পর্কে কিছু করণীয় আছে কিনা, তা নিয়ে ক্রিয়াশীল সমাজের নেতৃত্ববৃন্দ সাথে গত ৮ অক্টোবর মতবিনিময় সভা ছিলো। এ বিষয়ে সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে সাধারণ সদস্যদের আলোচনা করা দরকার পড়েছে । বিদ্যমান গঠনতন্ত্রের কোথায় কোথায় সংশোধন করা দরকার, সে বিষয়ে পরবর্তী আলোচনা সভা করার সিদান্ত নেওয়া হয়৷ সভায় সমাজের জনসাধারণ সুনির্দিষ্ট মতামত দিবে । তবে, বামডো,র সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুল হক স্বপন বলেন, , ‘সবার বক্তব্য পর্যালোচনা করে বামডো গঠনতন্ত্র সংশোধন ও যুগোপযোগী করতে আগামী ২৩ অক্টোবর বুধবার আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ আলোচনা সভার উদ্দেশ্য হবে গঠনতন্ত্র সংশোধন মণিপুরি মুসলিম সমাজের সকলের মতামত গ্রহণ করবেন ।
বিদ্যমান গঠনতন্ত্রটি যা ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বামডো সংশোধন সেটি এর আগে আর সংশোধন করার প্রয়োজন হয়নি। এই প্রথম গঠনতন্ত্র সংশোধন, সময়ের পরির্বতনে গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করা জরুরি। গঠনতন্ত্রের মাধ্যমে সমাজ চিন্তা প্রত্যাশা রাখে যে, সে এর মাধ্যমে তার কাঙ্ক্ষিত কাজ এগিয়ে নেওয়ার মতো বোঝাপড়া এবং নতুন ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্করীতি গড়ে তোলার পথে এগিয়ে যেতে পারবে এবং পর্যায়ক্রমে কাজ ও অভিজ্ঞতার সারাংশার বুঝে খুব শীঘ্রই নতুন সমাজের স্বপ্ন বাস্তবায়নের উপযোগী বামডো সংগঠনের গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করতে সক্ষম হবে। মণিপুরি সমাজ দ্রুত গতিতে উন্নয়ন প্রতিফলন সম্ভব হবে।
লেখকঃ সাংবাদিক ও প্রবন্ধকার।

” বামডো’র গঠনতন্ত্র সংশোধন ও সমাজ উন্নয়ন “

🖋… রফিকুল ইসলাম জসিম

বাংলাদেশের বসবাসরত মণিপুরি মুসলিম (পাঙাল) এর জনসংখ্যা অনুমানিক ১৫ হাজার। বিগত ২০০ বছর ধরে নিজস্ব সমৃদ্ধ সমাজ, সংস্কৃতি, ধর্ম-ভাষা ও নৃতাত্ত্বিক পরিচিতি নিয়ে এদেশের বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে বসবাস করে আসছে। তাদের শাসনতান্ত্রিক ইতিহাস, সামাজিক রীতিনীতি, ভৌগোলিক পরিবেশ, দৈহিক-মানসিক গঠন, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় জীবনযাত্রা বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি জনগোষ্ঠী থেকে স্বতন্ত্র, তাই এদেশে বাঙালি ও অন্যান্য পারিপার্শ্বিক জাতি গোষ্ঠীর সাথে সম্পর্ক বজায় রেখে ” ইমান- একতা – প্রগতি “কে মূলমন্ত্র রেখে ১৯৯৮ সালে ‘বাংলাদেশ মণিপুরি মুসলিম ডেভেলপমেন্ট অর্গানইজেশন’ (বামডো) প্রতিষ্ঠিত হয়। সমাজ কাঠামোর আমূল পরিবর্তনে সামাজিক সংগঠনের বিকল্প নেই। সুশিক্ষিত নবীন প্রজন্ম এবং আধুনিক সমাজ বিনির্মাণের স্বার্থে মণিপুরি মুসলমানদের উদ্যোগে গড়ে তোলা একটি প্রাচীন ও বৃহৎ সংগঠন বামডো।
একটি সংগঠনকে টিকে রাখার জন্য এর গঠনতন্ত্রের ভূমিকা অপরিহার্য। গঠনতন্ত্র ছাড়া সংগঠন অচল। তাহলে গঠনতন্ত্র কি? গঠনতন্ত্র হল সংগঠনের বিধিবদ্ধ নীতিমালা যা এর নিয়ন্ত্রণকারী কর্ত্পক্ষের অনুমোদিত। গঠনতন্ত্র সংশোধন ব্যতিরেকে এর কোন ধারা লংঘন, অপরাধ হিসেবে পরিগনিত। সব সংগঠনেরই গঠনতন্ত্র থাকতে হয়, আর রেজিস্টার সংগঠনের জন্য তা বাধ্যতামূলক।

(এক)

সংগঠন প্রতিষ্ঠার ২ যুগ পর এই প্রথম গঠনতন্ত্র সংশোধন নিয়ে আলোচনাই আসে। বিভিন্ন প্রয়োজনে, এবং গঠনতন্ত্রের ধারা অনুসরণে অবহেলার কারণে সামঞ্জস্যহীনতার সৃষ্টি হয়েছে। এই সামঞ্জস্যহীনতা দূরিভূত করার জন্য পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি সাব কমিটি গঠন করা হয়। উক্ত কমিটি সমাজের বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ ও বামডো’র অভিজ্ঞ সদস্যদের সাথে আলোচনা করে একটি সংশোধনী প্রস্তাব কার্যপরিচালনা পরিষদের নিকট উপস্থাপন করা হয়, যা কার্যপরিচালনা পরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত হয়ে গত ৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় উপস্থাপন করা হয়। তেতই গাঁও রসিদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন ভবনে সকাল ১০ ঘটিকা থেকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়৷ সভায় উপস্থিত সদস্যগন গঠনতন্ত্র সংশোধনে তাঁদের সুনির্দিষ্ট সুপারিশ ও বক্তব্য উপস্থাপন করেন। অবশেষে বিষয়টির উপর পরবর্তীতে আরো বিস্তারিত আলোচনার জন্য ঐ দিনকার মত সভা মুলতবী করা হয়। প্রস্তাবিত সংশোধনী সমুহ নিম্নরূপ:
ভূমিকা : বাংলা একাডেমির বানানরীতি অনুযায়ী মণিপুরী বানানের স্থানে মণিপুরি করার প্রস্তাব। মণিপুরি মুসলমানদের ইতিহাস অনুযায়ী ৪০০ বছরের স্থানে ২০০ বছর করার প্রস্তাব। ২০০ বছর ধরে মণিপুরি ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং বৃহত্তর জনগোষ্ঠী সাথে এ দেশের আবহাওয়া, পরিবেশ, ও কৃষ্টি সংস্কৃতি সম্পক্ত হয়ে আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী নাগরিক হিসাবে বসবাস করে আসছে৷ এছাড়াও পর্য্যবসিত বানান ঠিক করা৷
ধারা- ৬ : কার্যক্রম
ধারা – ৭ : সংস্থা লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য :
১৫ নং মণিপুরি মুসলমানদের ইতিহাস, ঐতিহ্য সংস্কৃতি সংরক্ষণ উন্নয়ন, কার্যক্রম সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়নের একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা৷ (সংযোজন)
ধারা -৮ : সদস্যপদ, ভর্তি ফি – পরিমান বৃদ্ধি করণ ও দাতা সদস্য : ৩০০০ ( সংযোজন)
ধারা: ৯ অধিকার, দায়িত্ব, ক্ষমতা। ৩. দাতা সদস্যগন সাধারণ সদস্যদের সমান অধিকার ভোগ করবেন৷ ( সংযোজন)
ধারা -১০ সদস্যপদ বাতিল : (সংযোজন)- পরলোক গমন করলে বা মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটলে বা আদালত কতৃক সাজাপ্রাপ্ত হলে।
ধারা : ১২ কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠন : সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নূন্যতম যোগ্যতা এইচ এসসি পাস – বয়স -৪৫,
কার্যনির্বাহী সদস্যগণ এসএসসি পাস – বয়স -৪০.
কার্যনির্বাহী পরিষদে এক বছর বৃদ্ধি করে ৩ বছর মেয়াদ করা৷ সমাজকল্যাণ পদে প্রচার ও সমাজকল্যাণ সংযোজন করা। উপদেষ্টা পরিষদে মেয়াদ ২ বছর বৃদ্ধি করে ৩ বছর বহাল করা৷ উপদেষ্টা পরিষদে সদস্যগন কার্যনির্বাহী পরিষদ কতৃক মনোনীত ।
ধারা -১৭ নির্বাচন কমিশন গঠন মেয়াদ ২১ দিন থেকে ২ মাস বৃদ্ধি করার প্রস্তাব।
(দুই)
বামডো কার্যনির্বাহী কমিটি ১৯ জানুয়ারি ২০১৮ সনে সাধারণ সদস্যগন ভোট প্রয়োগের মাধ্যমে বর্তমান কার্যকরী পরিষদ নির্বাচিত লাভ করেন ঐ বছর ২২ ফেব্রুয়ারী পূর্ববর্তী কমিটি নিকট হতে বামডোর নতুন কার্যনির্বাহী পরিষদ দায়িত্ব গ্রহন করেন।
গত ৮ অক্টোবর সভায় সুনির্দিষ্ট সুপারিশ ও বক্তব্য উপস্থাপন করেন, বামডো সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুল হক স্বপন। বামডো’র দায়িত্বগ্রহনের পর কার্যক্রম সমূহ তিনি তুলে ধরেন তা হলো-
<> মণিপুরি কালচারাল কমপেক্স কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক মো: রফিকুর রহমানকে প্রধান অতিথি করে নতুন কমিটি অভিষেক অনুষ্ঠান।
<> সমাজসেবা অধিদপ্তরের ২৪৬ জন শিক্ষার্থী আবেদন,
<> আকষ্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০০ টি পাঙাল পরিবার ৫০০/- করে সর্বমোট ৫০,০০০ /- আর্থিক সাহায্য প্রদান।
<>জেলা প্রশাসক কর্তৃক ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী শুমারী ” বিষয়ক সেমিনার অংশগ্রহন।
<> সাবেক বিচারপতি এসকে সিনহার ” এ ব্রোকেন ড্রিম গ্রন্থের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত।
<> কমলগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা অফিসে শুনানিতে অংশগ্রহন।
<> বীর মুক্তিযোদ্ধা উপাধ্যক্ষ ড. মো আব্দুস শহীদ স্যারের সাথে সাক্ষাৎ।
<> শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সেমিনারে অংশগ্রহন।
<> জি,কে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বামডোর আয়োজনে ভারতের মণিপুর থেকে আগত মণিপুরি মুসলিম প্রতিনিধি আগমন উপলক্ষে Assembly of Manipur Muslim.
<> কমলগঞ্জ উপজেলা মিলনায়তনে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগদান বামডো নেতৃত্ববৃন্দ।
<> উপজেলা প্রশাসক কর্তৃক নতুন ডিসি মহোদয়ের সাথে মতবিনিময় সভার অংশগ্রহন।
<> মেডিকেল কলেজে উপজাতি কোটায় অ উপজাতি শিক্ষার্থী ভর্তির প্রতিবাদ
<> উপজাতি সনদ প্রদান এবং বিভিন্ন জাতীয় দিবস পালন করা৷
® আর্থিক আবেদন সমূহ :
<> জেলা পরিষদ প্রধান নির্বাহী কর্মকতা বরাবর আইসিটি ট্রেনিং প্রতিষ্ঠার জন্য ৩ লক্ষ টাকার আবেদন অনুমোদন। সহযোগিতায় – স্থানীয় সরকার উপ সচিব মো: নুরুল ইসলাম, এডভোকেট এ এস এম আজাদুর রহমান এবং সুপারিশ করেছেন উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি জনাব এম মোসাদ্দেক মানিক।
<> উপজেলা পরিষদ বরাবরে ফার্নিচার ক্রয়ের জন্য ১ লক্ষ টাকার আবেদন। সহযোগিতা – মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বিলকিস বেগম।
<> উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে কার্যালয় মেরামত ও সংস্কারের জন্য ১ লক্ষ টাকার আবেদন সহযোগিতা – মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বিলকিস বেগম।
<> মসজিদ ভিত্তিক মক্তব শিক্ষা চালুকরণ, ইসলামিক লাইব্রেরি স্থাপনের আর্থিক বরাদ্দ।
(তিন)
একটি জাতির অস্তিত্ব ও স্বকীয়তা রক্ষার জন্যে সংগঠন ও সংঘবদ্ধতার বিকল্প নেই। একতা, সংঘবদ্ধতা, ত্যাগ ও সংগ্রাম-সাধনার মাধ্যমেই কোনো জাতি হতে পারে বিজয়ী, গঠনতন্ত্র রক্ষার মধ্যেমে লাভ করতে পারে সম্মান, সাফল্য ও উন্নতি। যে কোন সংগঠনে মজবুতকরণে গঠনতন্ত্র শাসিত করার বিকল্প নেই। বাস্তব অবস্থার বাস্তব বিশ্লেষনে প্রয়োজনে গঠনতন্ত্র সংশোধন, পরিমার্জন, সংযোজন বিয়োজনও দরকার।গঠনতন্ত্রের কঠোর অনুশীলনই হতে পারে সামাজিক সংগঠন গুলোকে সুস্থ ধারায় ফিরিয়ে নিতে। সুতরাং গঠনতন্ত্রকে মূল ধরে আমাদের সমাজকে এগিয়ে নিতে হবে। এমনটি হলেই সুস্থধারার রাজনীতি এগুবে আর অসুস্থ ধারাটি পিছাবে।
‘বামডো ‘র গঠনতন্ত্র পরিমার্জন, সংশোধন সম্পর্কে কিছু করণীয় আছে কিনা, তা নিয়ে ক্রিয়াশীল সমাজের নেতৃত্ববৃন্দ সাথে গত ৮ অক্টোবর মতবিনিময় সভা ছিলো। এ বিষয়ে সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে সাধারণ সদস্যদের আলোচনা করা দরকার পড়েছে । বিদ্যমান গঠনতন্ত্রের কোথায় কোথায় সংশোধন করা দরকার, সে বিষয়ে পরবর্তী আলোচনা সভা করার সিদান্ত নেওয়া হয়৷ সভায় সমাজের জনসাধারণ সুনির্দিষ্ট মতামত দিবে । তবে, বামডো,র সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুল হক স্বপন বলেন, , ‘সবার বক্তব্য পর্যালোচনা করে বামডো গঠনতন্ত্র সংশোধন ও যুগোপযোগী করতে আগামী ২৩ অক্টোবর বুধবার আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ আলোচনা সভার উদ্দেশ্য হবে গঠনতন্ত্র সংশোধন মণিপুরি মুসলিম সমাজের সকলের মতামত গ্রহণ করবেন ।
বিদ্যমান গঠনতন্ত্রটি যা ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বামডো সংশোধন সেটি এর আগে আর সংশোধন করার প্রয়োজন হয়নি। এই প্রথম গঠনতন্ত্র সংশোধন, সময়ের পরির্বতনে গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করা জরুরি। গঠনতন্ত্রের মাধ্যমে সমাজ চিন্তা প্রত্যাশা রাখে যে, সে এর মাধ্যমে তার কাঙ্ক্ষিত কাজ এগিয়ে নেওয়ার মতো বোঝাপড়া এবং নতুন ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্করীতি গড়ে তোলার পথে এগিয়ে যেতে পারবে এবং পর্যায়ক্রমে কাজ ও অভিজ্ঞতার সারাংশার বুঝে খুব শীঘ্রই নতুন সমাজের স্বপ্ন বাস্তবায়নের উপযোগী বামডো সংগঠনের গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করতে সক্ষম হবে। মণিপুরি সমাজ দ্রুত গতিতে উন্নয়ন প্রতিফলন সম্ভব হবে।
লেখকঃ সাংবাদিক ও প্রবন্ধকার।

৮ দিন পর কোরআন সঙ্গে নিয়ে যাওয়া সেই মহাকাশচারী ফিরলেন

কোরআন সঙ্গে নিয়ে মহাকাশ সফরে গিয়েছিলেন হাজ্জাজ আল মানসুরি। ইতিহাসে নাম লেখিয়েছেন এই আরব্য যুবক।

প্রথম আরবীয় হয়ে মহাকাশ ভ্রমণে গেলেন হাজ্জাজ।

অবশেষে আটদিনের মহাকাশ সফর শেষে পৃথিবীতে পা রাখলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রথম মহাকাশচারী হাজ্জাজ-আল মানসুরি। খবর গালফ নিউজের।

শনিবার তাকে আমিরাতের রাজধানী আবু ধাবিতে লাল গালিচা সংবর্ধনা দিয়ে স্বাগত জানান আবু ধাবির ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান।

দেশের প্রথম নভোচারীকে এক পলক দেখতে সেদিন বিমানবন্দরে ভিড় জমায় অসংখ্য মানুষ।

লালগালিচার দু’পাশে লাইন ধরে নারী, পুরুষ, শিশুরা হাজ্জাজ আল মানসুরিকে স্বাগত জানায়।

শুধু তাই নয় ফুলের পালক ছিড়ে হাজ্জাজের ওপর বর্ষণ করে শিশুর। অনেক শিশু ফুলের তোড়া নিয়ে মানসুরির কাছে দৌঁড়ে গিয়ে তাকে জড়িয়েও ধরেন। এসময় হাজ্জাজের সম্মানে কিছু মানুষকে দেশটির ঐতিহ্যবাহী ইয়োলা নাচ প্রদর্শন করেন।

এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রভাবশালী দৈনিক গালফ নিউজ জানিয়েছিল, দেশটির জাতীয় পতাকার সঙ্গে মহাকাশে পবিত্র কোরআনের একখণ্ড পাণ্ডুলিপি নিয়ে গেছেন আল মানসুরি।

সে সময় আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মহাকাশ সফরে ১০ কেজি পণ্য বহন করতে পারবেন হাজ্জাজ আল মানসুরি। সে হিসাবে কোরআনের একখণ্ড পাণ্ডুলিপি, পারিবারিক ছবি, খাঁটি সিল্কে বোনা আরব আমিরাতের পতাকা, ‘কিসাতি’ (আমার গল্প) নামক একটি গ্রন্থ, শায়খ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহায়ানের ছবি এবং ‘আল গাফ’ গাছের ৩০টি বীজ মহাকাশে নিয়ে যাচ্ছেন এই আরবীয় নভোচারী।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘মোহাম্মদ বিন রশিদ স্পেস সেন্টারের’ সহকারী মহাপরিচালক সালেম আল মেরি বলেন, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রথম মহাকাশ নভোচারী হলেন হাজা আল মানসুরি। এটিই প্রথম আমাদের মহাকাশ কর্মসূচি। আমরা সফল হয়েছি। মহাকাশ ভ্রমণে সংযুক্ত আরব আমিরাত ১৯তম দেশ হিসেবে এখন গর্ব বোধ করতেই পারে।’

নাসার একটি সূত্র জানিয়েছে, ২০২১ সালের মধ্যে মঙ্গলগ্রহে মনুষ্যবিহীন যান পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে আরব আমিরাতের।

মণিপুরের সিরোই লিলির গল্প। বিশ্বের সবচেয়ে প্রিয় উদ্ভিদ

বানর গাছ শিরোহ লিলি ছবি

শিরুই লিলি বা শিরুই লিলি বিশ্বের অন্যতম বিরল উদ্ভিদ যা জুন-জুলাই মাসে ভারতের মণিপুরের শিরুই হিলের শীর্ষে পাওয়া যায়। এটা বিশ্বাস করা হয় যে ব্রিটিশ শাসনামলে ব্রিটিশরা এটিকে অন্য জায়গায় স্থানান্তরিত করার চেষ্টা করেছিল কিন্তু দীর্ঘ লড়াইয়ের পরে তারা এটিকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়ার ধারণা ত্যাগ করে। সেই সময় থেকে এটি বিশ্বাস করা হয় যে এই উদ্ভিদটি কেবল শিরুই শিখরের উপরে উঠতে পারে।

এই উদ্ভিদটি ১৯০০ সালের দিকে একজন ইংরেজ আবিষ্কার করেছিলেন এবং তিনি তার স্ত্রীর নামে নামকরণ করেছিলেন। এই উদ্ভিদটি ভারতের মণিপুরের রাজ্য ফুলেরও মর্যাদা পেয়েছে। একই কারণে, আপনি মণিপুরে এর নাম অনুসারে প্রচুর দোকান এবং রেস্তোঁরা খুঁজে পেতে পারেন।

“একসময় খুব সুন্দর ও আকর্ষণীয় রাজকন্যা (লিলি) তার প্রেমিকার সাথে এই জায়গায় থাকতেন শিরুই । একদিন শিরুই কোনও কাজের জন্য পাহাড়ে নেমেছিল কিন্তু সে আর কখনও বাড়ি ফিরেনি। লিলি সারা জীবন তার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে এবং অবশেষে এই জায়গায় মারা যায়। এটা বিশ্বাস করা হয় যে লিলি ফুল যা মাটি থেকে বের হয় কারণ এটি রাজকন্যাকে এখানে সমাধিস্থ করা হয়েছিল ”

কিছু লোক আরও বিশ্বাস করে যে রাজকন্যা এখনও শিরুই শীর্ষে বাস করে। তিনি রাস্তা পার হচ্ছেন সুদর্শন লোকদের আকর্ষণ করতে গান গায়। যদি কোনও লোক যদি তার গান শুনে এবং তাকে খুঁজে পেয়ে থাকে। ছেলেটি আর কখনও বাড়ি ফিরে যায়নি। আমার বন্ধু হিসাবে, কিছু মানুষ অতীতে এই অঞ্চল থেকে নিখোঁজ ছিল।

শিরোই লিলি ট্রেকের কোথাও সিরোহ হিলের শীর্ষে পৌঁছতে ৩ ঘন্টা সময় লাগে। প্রথম ঘন্টা চলাকালীন সময়ে এই ভাড়াটি খুব খাড়া হয় রাতে পর্বতের প্যানোরামিক দর্শন সহ, আপনি এই ৩ ঘন্টার একক পদক্ষেপের জন্য কখনই অনুশোচনা করবেন না। মাঝপথে, আপনি এমন একটি গাছ পাবেন যা অনেকের ধারণা ৪০০ মিটার প্রসারিত একমাত্র গাছ। আমি কারণটি জানি না তবে স্থানীয় লোকেরা এটিকে বানর গাছ হিসাবে নাম দিয়েছে এবং প্রত্যেকে শিরুই শিখরে যাওয়ার সাথে এটির ছবিতে ক্লিক করে।

অবাক করে জানা যায় যে এই জায়গায় কেউ শিরুই বীজ রাখে না। সঠিক সময়ে (জুন-জুলাই প্রায়) যখন তারা নিজেরাই আসে।

দীপ্ত জীবন উপাখ্যানের একটি বৃহৎ আলেখ্য

নজরুল ইসলাম তোফা

”ভোর হলো দোর খোল খুকু মনি উঠোরে” এভাবেই যেন ডেকে তাঁর বাবা খুব ভোরে কোলে নিয়ে আদর, সোহাগ করতেন। সে ডাকে নাকি ‘নজরুল ইসলাম তোফা’ সাড়া দিয়ে বাবার সাথে আধো আধো অস্পষ্ট কথায় যেন মগ্ন হয়ে থাকতেন। ছেলের ছোট্ট চোখে স্বপ্নও দেখতো তাঁর ‘বাবা’, তাকে ধরে রাখার তখন কোনো ক্যামেরা পান নি, ছোট্টবেলার সেই প্রতিটি মুহূর্ত ও প্রতিটি দিন, অতীতের বহু স্বপ্ন গুলো স্মৃতিরপটে তাকে ধরে রাখা বা না রাখাই যেন একেকটা ছবি বা চিত্র, মহামূল্যবান কাব্যতেই যেন রূপ নিত। তাঁর বুকের ভেতরের শ্বাস-প্রশ্বাসের যন্ত্রটাও যেন সারাপৃথিবীর সর্বোচ্চ বড় গুদাম, তাই তো সেখানে সুরকে বেঁধে রাখা কোনো এক পণ্যের বস্তার মতোই যে। আরো তো আছে ছেলে বেলার সেই সু-মধুর সময় নিয়ে কথা। তাঁর বাবার প্রিয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর অনেক ভক্ত ছিলেন, তাই তাঁর নামও হয়ে গেল নজরুল ইসলাম তোফা। কাজী নজরুলের-তোফা না কি তিনিই। সেই জাতীয় কবি-নজরুলের রেখে যাওয়া এমন তোফা কিংবা উপহারই যেন তিনি। তাঁর বাবার এ ধারণা নিয়েই সন্তানের ভবিষ্যৎ ও মঙ্গল কামনা করতেন। তাঁর চোখে মুখে শৈশব থেকেই দেখতে পেলেন যেন শিল্প সংস্কৃতির ছোঁয়া। তিনি দিনেদিনে বড় হচ্ছেন, বুঝতে বা জানতেও পারছেন বহুকিছু। তাঁর শুরু হয়ে যায় গাঁয়ের মেঠো পথ ধরে ভাবুক মনে একাকিত্বে হাঁটাহাঁটি। অনেক সকালেই সূর্য-উদয়ের আগে ঘুম থেকে উঠে যেন পথে-ঘাটে পড়ে থাকা ”ময়লা কাগজ” পড়া শুরু করেন। পড়ে থাকা সেই ময়লা যুক্ত কাগজের ছড়া বা কবিতা পছন্দ হলেই যেন তা কাটিংকরে ঘরে এনে আবৃত্তির পাশাপাশি সেগুলোর ভাব ধারায় অনেক কবিতা ও ছড়া খেলা লেখি করতেন এবং নিজের সে লেখাগুলোতে মনের মাধুরী দিয়ে নানা ধরনের ইলাসট্রেশন, ক্যালিগ্রাফি করা আরম্ভ করতেন। তাছাড়াও বইয়ের মলাটে প্রচ্ছদ অংঙ্কন সহ ছড়া কিংবা কবিতা লিখে নিজস্ব প্রতিভার আলোয় মনের অজান্তে ছুটে চলতেন। এইগুলো দেখে তাঁর বাবা আনন্দ পেতেন এবং তাঁর নিজের গ্রাম ‘পাঁজর ভাঙ্গা’ বাজার থেকে ক্রয় করে দিতেন কাজী নজরুল ইসলামের ছড়া ও কবিতার বই। সেই সময় বাবা মনে করেছিল, তরুণ জীবনে এমন শিল্প জ্ঞানহীন ছেলের প্রতিভার বিকাশ অমন্দ নয়, এক দিন তাকে শিল্পের মাস্টার তৈরি করবো। আজ তা সত্য হয়েই গেছে, তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এর চারুকলা বিভাগ থেকেই এমএফএ করেছেন। এখন তিনি কর্মরত আছেন কর্মরত রাজশাহী চারুকলা মহাবিদ্যালয় অর্থাৎ চারুকলার এক জন মাস্টার বা চিত্রশিল্পী।

‘শুনেছো- ঠিকই শুনেছো। তাঁর কেনো সুনাম থাকবে না, কেন বলো? কতকাল ধরে কৃতিত্বের সঙ্গে এ কাজ করে আসছি’ শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নাটক সংগ্রহ’ গ্রন্থের ‘স্বর্গে কিছুক্ষণ’ নাটকের সংলাপ এটি। এমন এ সংলাপ তাঁর অনেক ভালো লাগে। তাই মাঝেমধ্যেই এমন গ্রন্থটি বের করে তিনি পড়েন। কথা গুলো তিনি এক নাগাড়েই যেন বললেন। গ্রন্থ-প্রেমী, নাট্যকার এবং নাট্যাভিনেতা- নজরুল ইসলাম তোফা বলা যায় যে, তিনি সরল মনের মানুষ। তাঁর অভিনয়ে অবাধ বিচরণ ছিল গাঁয়ের মেঠো পথ ধরে বহমান আত্রাই নদী’র তীর। নওগাঁ জেলার ১৩ নং কশব ইউনিয়নেই স্থায়ী ঠিকানা। তাঁর পিতার হলেন, মোঃ কমর উদ্দীন শাহানা। তাঁর দ্বিতীয় সন্তান- নজরুল ইসলাম তোফা। তিনি পড়া শোনা করেন, গ্রামের স্কুলেই ৫ম শ্রেণী আর চকউলী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে এস এস সি’র পরপরই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা বিভাগে ভর্তি হন। তারপরে প্রচণ্ড স্বপ্নবাজ এমন গ্রন্থ-প্রেমী সাদা মনের মানুষটি নাট্যাঙ্গনের প্রতি মনোযোগী হয়েছেন। এ ভাবে দিনেদিনে নানা ধরনের নাটক নির্মাণ করার সহিত নানান নাটকের চরিত্রে অভিনয়ে মগ্ন থেকেছেন তিনি।

নজরুল ইসলাম তোফার জন্ম ০৫ জুলাই ১৯৭৫ সালে। তিনি এখন থাকেন রাজশাহীর বর্নালীর মোড়েই, হেতেম খাঁতেই অবস্থিত- “গ্রীন গার্ডেন টেকনিক্যাল এন্ড বি.এম কলেজের পার্শ্বে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এর চারুকলা বিভাগ থেকে পড়া শোনা শেষ করে রাজশাহী চারুকলা মহাবিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পাশাপাশিই অভিনয় করেন। গ্রন্থপ্রেমী নাট্যসমগ্র সংগ্রহে নেশা পূর্ণভাবে শুরু করেন। নান্দনিক দৃষ্টিতে ঘরে অসংখ্য পুস্তকের পসরা সাজিয়ে রেখেছেন। বই গুলো শুধু সংস্কৃতিমনা মানুষদের ভালো লাগবে মনে করি। শুধু বই ক্রয় করে সেলফে রাখেননি, কাজের ফাঁকে ফাঁকে প্রতিদিনই যেন একটি হলেও নাট্য পান্ডু লিপি পড়েন। জানা গেল, তাঁর মনের ক্ষুধা অনেক বড়। সেই ক্ষুধা মেটানোর জন্য তিনি যখনই সুযোগ পান তখনই বই পড়েন। শৈশবে নজরুল ইসলাম তোফা স্কুল ও পূঁজা-পার্বণেও যাত্রা করেছেন। তাঁর নিজ গ্রামে গ্রামে ঘুরে অভিনয় ও কৌতুক করে মানুষ হাঁসাতেন। সে যাত্রা কিংবা কৌতুক পরিবেশনের পাণ্ডু লিপি যেন তিনি কপি করতেন নিজ হাতে লিখে। আর তাঁর সঙ্গে যারা কৌতুক বা অভিনয় করতেন তাঁদের ‘প্রম্পট ও অভিনয়’ শিখিয়ে দিতেন। এইভাবেই তাঁকে বই পড়ার নেশাটি পেয়ে বসে। পরে ভিডিও নাটকে অভিনয় শুরু তাঁর। এইভাবেই বৃহৎ পরিসরে প্রতিশ্রুতিশীল ও প্রতিভাবান এই নাট্যাভিনেতা আলোচিত ব্যক্তি হয়ে উঠেন। এলাকাজুড়ে সমালোচিত হতেও শুরু করেন, কারণটি হলো এই তাঁর নিজ গ্রামের বাড়ির পাশে আত্রাই নদীর পাড় এবং সেখানেই স্কুলমাঠ আর সে মাঠে বিরাট কড়ই গাছ। গাছের গোড়ায় বসেই ঘন্টা পর ঘন্টা উচ্চস্বরে ও হেলে দুলে অভিনয় চর্চা আর মাঝে মাঝে বিরতি নিয়েই ‘ক্রিয়েটিভ চিত্রকর্ম’ চর্চা করে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। বলা যায় যে, সবই ছিল তাঁর পাগলের মতো। তারই ফলশ্রুতিতে প্রায় চার হাজার মতোই নাট্য সমগ্র গ্রন্থ তাঁর সংগ্রহে রয়েছে। যে কারণেই কোনো প্রহসন নয়, অনুপ্রেরণার গল্পই বলা চলে।

কোনো দুর্লভ এবং ব্যতিক্রমধর্মী নাট্য সমগ্র পুস্তকসমূহ সংগ্রহের প্রয়োজন পড়ে, সবার আগেই তিনি মনে করে রাজশাহীর বুক পয়েন্টের মালিক চন্দন দার কথা। তিনি কলকাতা ও ঢাকা গিয়ে তাঁকে মনের খোরাক মেটানোর জন্য নাট্য সমগ্র এনে দিতেন। নিজস্ব বুদ্ধিদ্বীপ্ত চেতনায় বই পাগল নাট্যপ্রেমী মানুষ বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলে নাটক করছেন এবং আগামীতেও দক্ষতার সহিত করে যাবেন। তাঁর নাট্য গুরু শিমুল সরকারের অবদান তিনি কখনোই অস্বীকার করতে পারেন না। কারণ- তাঁর গুরু ‘অনুপ্রেরণা বা সুযোগ’ না দিলে জীবনের অনেক অর্জন অপূর্ণ থেকেই যেত। গ্রন্থ-প্রেমী ‘নজরুল ইসলাম তোফা’ নিজের শৈল্পিক চিন্তায় বইয়ের মলাট করে রাখেন তুলি কলম দিয়ে পূর্নাঙ্গভাবেই প্রচ্ছদ অংকন করে। শুধু তাই নয়, সেই গ্রন্থ গুলোকে ক্রমিক নম্বরের আওতায় এনেই তা ডায়রিতে ক্রমিক নম্বর অনুযায়ী লিপিবন্ধ করেছেন।আর তিনি এমন রুচিশীল ব্যক্তি হবেনা কেন? তিনি তো চিত্রশিল্পী, চারুকলা কলেজের শিক্ষক। তিনি বলেছেন, প্রয়োজনে গ্রন্থ খুঁজে পেতে চমৎকার লেখাটি মনোযোগ আকর্ষণ করবে। নাট্যগ্রন্থ প্রেমী নজরুল ইসলাম তোফা দেশি-বিদেশের লেখকদের লেখা নাটকের সমগ্র সংগ্রহ করেন। বর্তমানে তার সংগ্রহে রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, উৎপল দত্ত, বাদল সরকার, বুদ্ধদেব দাশ গুপ্ত, বুদ্ধদেব বসু,শরবিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়, মনোজ মিত্র, অলোক রায়, রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত, শুম্ভ মিত্র, নভেন্দু সেন, চন্দন সেন, লোকনাথ ভট্টাচার্য, ধনঞ্জয় বৈরাগী, ব্রাত্যরাইসু, সেলিম আল দীন, আব্দুল্লাহ আল- মামুন, মান্নান হীরা, মামুনুর রশীদ,হুমায়ূন আহমেদ,মমতাজউদ্দীন আহমদ, রামেন্দ্র মজুমদার, আসাদুজ্জামান নূর, আলী যাকের,আহম্মেদ ছফা, আবুল হোসেন, সিকান্দার আবু জাফর, প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক সহ দেশি-বিদেশি খ্যাতিমান সব লেখকদের বাংলা ভাষায় লেখা নাটকের অনেক রুচিশীল নাটকসমগ্র। তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়া শোনা চলাকালীন থেকেই বহু ধরণের বই সংগ্রহের নেশায় মগ্ন ছিলেন। তাঁর সংগ্রহ শালাতে আজও রয়েছে ১ম শ্রেণী থেকেই আরম্ভ করে শিক্ষা জীবনের কেনা যত গুলি বই- সবগুলোই।

তবে তাঁর নাটকের সমগ্র সংগ্রহের নেশা তৈরি হয়েছিল- ১৯৯২ সালের দিকেই, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা বিভাগে ভর্তি হবার পরে। নাটকের গ্রন্থ সংগ্রহের বিষয়ে বলতে গিয়েই তিনি বলেছেন ২০১০ সালের দিকে আমি ধারাবাহিক ‘চোরকাব্য’ নাটকে কাজ করেছিলাম। তখন শ্যুটিং এর জন্যে ঢাকায় ছিলাম। সেইজন্য ‘টিভি নাটক সমগ্র’ গ্রন্থটি সংগ্রহ করার জন্যেই গিয়ে ছিলাম ঢাকার নীলক্ষেতে। আর সেখানে গিয়ে পড়তে হয় ভোগান্তিতে। আমার পরনের শার্টটি ছিঁড়ে যায় দ্রুত চলমান রিকশায় বেঁধে। সেই ছিঁড়া টিশার্ট পরেই মার্কেটের ভিতরে ঘুরতে থাকি। নতুন শার্ট কেনার জন্যে না, পছন্দের সেই গ্রন্থটি কেনার জন্যে। মনটা খারাপ হলেও টি-শার্ট কেনার জন্য কোনও আগ্রহ ছিল না। কারণ হলো শার্টের চেয়ে গ্রন্থটি বেশি প্রয়োজন ছিল তখন। আবেগ জড়িত কন্ঠেই তিনি আরো বলেন, আর একটা বিষয় হলো সেসময় চাইলেই হয়তো টি-শার্ট কিনে নিতেই পারতাম, তবে শার্ট কিনলে গ্রন্থটি কেনার টাকা হতো না। ‘ঢাকা থেকে বাড়ি’ ফিরতে বই কেনা টাকা ব্যতিত পকেটে ছিলো মাত্র ৫ শত টাকা। যাক অনেক কথাই তাঁর স্মৃতির পাতায় ভেসে উঠে, তাঁর বাবা হঠাৎ একদিন বলেই বসেছেন, এতো পুস্তক সংগ্রহ করছো কি হবে- এতো? উত্তরে তিনি বলেন, বই আমার অপূর্ণতাকে কাটিয়ে উঠার সহায়ক হচ্ছে, তা ছাড়া তুমি তো একদিন থাকবে না। তখন আমার ছেলেকে বলবো, আমার বাবা আমাকে এমন এ লাইব্রেরি করে দিয়েছে। তুমিও তোমার সন্তানদেরকে বলবে। আসলেই নজরুল ইসলাম তোফার বাবা সেইসময় কান্না জড়িত কন্ঠে তাঁর দিকে চেয়ে বলেন, তোমার চিন্তা-চেতনার জায়গা আমি বুঝি রে বাপ। তারপরে তাঁর বাবা বই সংগ্রহ নিয়ে কোন কথা বলেননি। এটি ছিলো তোফার পুস্তক সংগ্রহের বড় শক্তি।

গ্রন্থ সংগ্রহ করতে করতে বর্তমানে তার সংগ্রহে শুধুমাত্র নাটকের সমগ্র গ্রন্থ প্রায় ৪ হাজারের পাশাপাশি অন্যান্য বিষয়ের গ্রন্থও প্রয়োজনের তাগিদে কিনে থাকেন। তাঁর সংগৃহীত বইয়ের মধ্যে যেন আছে বাংলাদেশ, ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খ্যাতিমান লেখককের শুধু বাংলা ভাষায় লেখা নাট্য সমগ্র বা অনুবাদ করা নাট্যগ্রন্থ। সেই গ্রন্থগুলো দিয়েই নিজের বাড়িতে তৈরি করেছেন একটা সংগ্রহশালা। কেন তিনি এতো গুলো নাট্য সমগ্র সংগ্রহ করেছেন কিংবা এখনো তা সংগ্রহ করেই যাচ্ছেন এবং সেই গুলোকে সযত্নে সংরক্ষণ করেন জানতে চাইলেও নজরুল ইসলাম তোফা বলেছেন,- ‘’ছোট বেলা থেকেই নাটকে অভিনয় করি আর ‘নাটকের বই’ পড়ার দরকার পড়ে, সে চেতনা থেকেই নাটকের বই কিনি এবং পড়তে ভালোবাসি। স্কুলে পড়া কালে মঞ্চ নাটকের মধ্য দিয়েই শুরু হয় নাটক বা অভিনয় করা। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার পরেই নাট্যগুরু পরিচালক শিমুল সরকারের সঙ্গে থিয়েটারে যুক্ত হই। এই ভাবে নাটক করতে করতে এক সময় টিভি নাটকে কাজের সুযোগ আসে। সুতরাং- সেখানে গিয়ে কাজ করার সময়, নিজের ভিতরেই কিছু অপূর্ণতা আছে তা মনের মধ্যেই যেন জাগ্রত হওয়া শুরু করলো। অপূর্ণতাকে কাটিয়ে উঠতে, আর নাটক কিংবা অভিনয় সম্পর্কে আরো বেশি জ্ঞানার্জনের লক্ষ্যেই যেন বিভিন্ন খ্যাতিমান নাট্যকার ও লেখকদের লেখা নাট্যগ্রন্থ সংগ্রহ করে পড়তে শুরু করি। এভাবেই আমার সংগ্রহে জমা হতে থাকে একের পর এক নাট্যগ্রন্থ।

পৃথিবীতে অধিকাংশ মানুষের জীবন ভাবনা থাকে আর থাকে স্বপ্ন। কিছু মানুষ আছে যাদের মধ্যে স্বপ্নের জগৎ অনেক বড়। নজরুল ইসলাম তোফাও যেন সে ভবিষ্যত স্বপ্ন পরিকল্পনায় স্বপ্ন বাজদের দলেই। তিনি পথ নাটক, মঞ্চ নাটক এবং টেলিভিশনে শতাধিক নাটকে অভিনয় করে কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। তারমধ্যেই যেন টিভিতে তাঁর প্রচারিত নাটক- প্রায় তিরিশটার মতো। বর্তমানে একটি টেলিফিল্মে অভিনয় করেছেন। নাট্যকার ও পরিচালক শিমুল সরকারের সেই টেলিফিল্মের নাম- “গুপ্তধন এবং একজন বৃদ্ধ”। অভিনয়ের পাশাপাশি কয়েকটি নাটকও লিখেছেন। আগামীতেই একটি স্ক্রিপ্ট পরিচালক শিমুল সরকার পছন্দ করেছেন। সুতরাং- নাট্যগ্রন্থ সংগ্রহ তাঁর দিনে দিনেই কাজে দিচ্ছে। এই নাট্যগ্রন্হ নিয়ে ভবিষ্যতে কিছু করার পরিকল্পনা আছে কিনা তা জানতে চাইলেও তিনি বলেন, ‘এসব কাগজের গ্রন্থ তো বেশি দিন অক্ষত অবস্থায় সংরক্ষণ করা সম্ভব না। সেই জন্যে এসব দেশ বিদেশের ‘মূল্যবান গ্রন্থ গুলো’ অক্ষত অবস্থায় সংরক্ষণ করার জন্য ই-বুকে রুপান্তরিত করে একটি ‘ই-লাইব্রেরি বা অনলাইন আর্কাইভ’ তৈরির পরিকল্পনা আছে। যাতে সযত্নে নিজের সংগ্রহে রাখার পাশাপাশি গ্রন্থগুলো দ্বারা অন্যদের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে সহায়তাও করতে পারেন।

কমলগঞ্জে বিএমইটি মেধা বৃত্তি পরীক্ষা সমাপ্ত

রফিকুল ইসলাম জসিম :: নিজস্ব প্রতিবেদন ::

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে মণিপুরি মুসলিম শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে দুই দিনব্যাপী বিএমইটি মেধা বৃত্তি পরীক্ষা সমাপ্ত হয়েছে। বাংলাদেশ মণিপুরি মুসলিম এডুকেশন ট্রাস্টের (বি.এম.ই.টি) আয়োজনে এই বৃত্তি পরীক্ষায় ৫ম, ৮ম ও ১০ম শ্রেণির চারটি বিষয়ে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তিনটি শ্রেণিতে মোট ১৫৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। আজ শুক্রবার (৭ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৪টায় এই পরিক্ষা সমাপ্ত হয়েছে।

বি.এম.ই.টি বৃত্তি পরীক্ষা পরিদর্শন কালে বাংলাদেশ মণিপুরী মুসলিম ডেভেলাপমেন্ট অর্গানাইজেশন (বামডো)র সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুল হক স্বপন বলেন, ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মেধাবী মুখ গুলোকে খুঁজে বের করতে মণিপুরি মুসলিম এডুকেশন ট্রস্টের একটি অনন্য কাজ বি.এম.ই.টি বৃত্তি পরীক্ষা। আশা করি, এ বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা তাদের মেধা ও জ্ঞান দেশ, জাতি, সমাজের কল্যাণে নিবেদিত করবে।

বাংলাদেশ মণিপুরি মুসলিম এডুকেশন ট্রস্টের সভাপতি ও তেতইগাঁও রশিদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল মতিন বলেন, দেশজুড়ে প্রতিভাবান মণিপুরি মুসলিমরা স্বাক্ষর রাখছেন স্বীয় মেধা, যোগ্যতা আর প্রতিভার। এডুকেশন ট্রস্টে খুঁজে বের করতে চায় জাতির এ মেধাবী মুখ গুলোকে। বিগত বছর গুলোর ধারাবাহিকতায় এবারও সুন্দরভাবে মেধাবৃত্তি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।’

পরীক্ষায় কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ মণিপুরী মুসলিম এডুকেশন ট্রস্টের সভাপতি ও তেতইগাঁও রশিদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল মতিন এবং হল সুপারের দায়িত্ব পালন করেন মণিপুরী মুসলিম টিচার্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও মৌলভীবাজার আলী আমজদ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. শাহাব উদ্দিন।

উল্লেখ্য :: বাংলাদেশ মণিপুরী মুসলিম এডুকেশন ট্রাস্ট (বিএমইটি) ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠা, ২০০১ সন হতে শুধুমাত্র মুসলিম মণিপুরি শিক্ষার্থীদেরও নিয়ে এ পরীক্ষা শুরু হলেও ২০১৭ সন থেকে দশম শ্রেণিতে পাঙাল (মুসলিম মণিপুরি) শিক্ষার্থীর পাশাপাশি মীতৈ ও বিষ্ণুপ্রিয়া শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় শিক্ষানুরাগী, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বি.এম.ই.টি বৃত্তি পরীক্ষা পরিদর্শনে অংশগ্রহণ করেন।

কমলগঞ্জে দু’দিনব্যাপী বি.এম.ই.টি বৃত্তি পরীক্ষা শুরু

রফিকুল ইসলাম জসিম;

বাংলাদেশে বসবাসরত মণিপুরী মুসলিম জনগোষ্ঠীর শিক্ষামূলক সংগঠন বাংলাদেশ মণিপুরী মুসলিম এডুকেশন ট্রাস্ট (বিএমইটি) এর ব্যবস্থাপনায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর তেতইগাঁও রসিদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ২০১৯ সনে দু’দিনব্যাপী বি.এম.ই.টি বৃত্তি পরীক্ষা আজ শুক্রবার সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হয়েছে।

ছাত্র-ছাত্রীদের মেধা-বিকাশ ও শিক্ষার মান-উন্নয়নের লক্ষে প্রতি বছর মেধা বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করে আসছে বাংলাদেশে অবস্থানরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসমূহের মধ্যে স্বল্প পরিচিত মণিপুরি মুসলিম (পাঙাল) সম্প্রদায়ের সুপরিচিত শিক্ষা-সেবামূলক সংগঠন বাংলাদেশ মণিপুরী মুসলিম এডুকেশন ট্রাষ্ট এবারও এর ব্যতিক্রম নয়, প্রতি বছরের ন্যায় ঐতিহ্যবাহী তেতইগাঁও রসিদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে দু’দিনব্যাপী বি.এম.ই.টি বৃত্তি পরীক্ষা আজ ৪ অক্টোবর (শুক্রবার) সকাল সাড়ে ৯ থেকে শুরু হয়েছে। বি.এম.ই.টি’র দু’দিনব্যাপী বৃত্তি পরীক্ষা আগামী ৭ অক্টোবর সোমবার শেষ হবে।

বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও প্রাথমিক বিজ্ঞান এই চার বিষয়ে পরীক্ষা হচ্ছে। এই বছর ২০১৯ সনে বি.এম.ই.টি বৃত্তি পরীক্ষায় পঞ্চম শ্রেণির ৫৯ জন,অষ্টম শ্রেণির ৪৯ জন ও দশম শ্রেণির ৫১ জনসহ মোট ১৯১ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে৷

উল্লেখঃ ২০০১ সন হতে শুধুমাত্র মুসলিম মণিপুরি শিখক্ষার্থীদেও নিয়ে এ পরীক্ষা শুরু হলেও ২০১৭ সন থেকে দশম শ্রেণিতে পাঙাল (মুসলিম মণিপুরি) শিক্ষার্থীর পাশাপাশি মীতৈ ও বিষ্ণুপ্রিয়া শিক্ষার্থীরা অংশ গ্রহণ করছে জানিয়েছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শাহাজ উদ্দিন।

বৃত্তি পরীক্ষার কেন্দ্র সচিব বাংলাদেশ মণিপুরী মুসলিম এডুকেশন ট্রাস্ট এর সভাপতি ও তেতইগাঁও রশিদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক জনাব মো:আব্দুল মতিন এবং হল সুপারের বাংলাদেশ মণিপুরী মুসলিম টিচার্স ফোরামের সা: সম্পাদক ও আলী আমজদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, সহঃ শিক্ষক: জনাব মো:শাহাব উদ্দিন দায়িত্ব রয়েছে।

প্রথমদিনে পরীক্ষা চলাকালীন বিভিন্ন সময় হল পরিদর্শন করেন, জগৎসী জি. কে. এম. সাইফুর রহমান বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. নুরুল ইসলাম, বামডো এর সাধারণ সম্পাদক ও বিএমইটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাজ্জাদুল হক স্বপন, বামডো সম্মানিত উপদেষ্টা, লেখক ও গবেষক হাজী মো: আব্দুস সামাদ, বামডোর উপদেষ্টা ও মণিপুরী মুসলিম টিচার্স ফোরামের সভাপতি জনাব মো: খুরশেদ আলম ও তেতইগাঁও রশিদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আনোয়ার হোসেন রানা৷

এই সময় উপস্থিত ছিলেন বিএমইটি সহ সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম, বিএমইটি সাংগঠনিক সম্পাদক- মো: কামাল উদ্দিন বিএমইটি এর সাবেক সাধারণ: সম্পাদক জনাব আব্দুল খালেক, বিএমইটি যুগ্ম সাঃ সম্পাদক ফরিদ আহমদ, বিএমইটি কোষাধ্যক্ষ আজিজ আহমদ, সহ -সাংগঠনিক রসিদ উদ্দি, সহ- সাহিত্য সম্পাদক হুমায়ূন রেজা সোহেল।এছাড়াও বামডো জনপ্রতিনিধি, শিক্ষানুরাগী, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বি.এম.ই.টি বৃত্তি পরীক্ষা পরিদর্শনে অংশগ্রহণ করেন।

Design a site like this with WordPress.com
Get started