এবার বাংলাদেশের সিনেমায় সানি লিওন!





বিনোদন ডেস্ক: সানি লিওন। ছিলেন পর্ন তারকা, এখন তিনি বলিউড অভিনেত্রী। পেশা বদলের পরেও নিজের ক্যারিয়ার ধরে রেখেছেন এই তারকা। জয় করেছেন বলিউড। যদিও পথটা সহজ ছিল না। বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য নতুন খবর হচ্ছে- সানিকে এবার দেখা যাবে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে। তবে কোন বিশেষ চরিত্রে নয়, দেখা যাবে একটি সিনেমার আইটেম গানে। ইতিমধ্যে ভারতের মুম্বাইতে ‘বিক্ষোভ’ নামের একটি সিনেমার জন্য তাকে চুক্তিবদ্ধ করা হয়েছে।
সিনেমাটির পরিচালক শামীম আহমেদ রনি বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। সিনেমাটি প্রযোজনা করবে শাপলা মিডিয়া। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার সেলিম খান ও পরিচালক রনি এখন মুম্বাইতে অবস্থান করছেন।
পরিচালক শামীম আহমেদ রনি বলেন, ‘বিক্ষোভ’ সিনেমাতে চমকটির জন্য আমরা অনেক দিন ধরেই সানির ম্যানেজারের সঙ্গে আলাপ চালিয়ে যাচ্ছিলাম। অবশেষে সোমবার সানির সঙ্গে আমাদের মিটিং হয়। আমাদের অ্যারেজমেন্ট ও পরিকল্পনার কথা তাকে বলার পর তিনি পছন্দ করেছেন। পরে চুক্তি সাক্ষর করেন তিনি।’
এই সিনেমার মাধ্যমে বাংলাদেশের কোন চলচ্চিত্রে প্রথম কাজ করতে যাচ্ছেন সানি লিওন। যদিও এর আগে বেশ কয়েকটি সিনেমার প্রস্তাব পেয়েছিলেন তিনি। তবে নানা কারণে সেগুলো করা হয়নি।
এদিকে আগামী ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মুম্বাইতেই সেট তৈরি করে গানটির শুটিং হবে। গানে সানি লিওনির সঙ্গে দেখা যাবে মুম্বাইয়ের রাহুল দেবকে।

শুভ জন্মদিন পূজা চেরি


১৯ -এ পা রাখলেন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী পূজা চেরি রায়। ২০০০ সালের আজকের এই দিনে খুলনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। মিডিয়ায় শুরু’তে শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ করলেও এখন পুরোদস্তুর চিত্রনায়িকা হিসেবে সবার কাছে বেশী পরিচিত। ২০১২ সালে জাজ মাল্টিমিডিয়া ব্যানারে ‘ভালোবাসার রঙ’ সিনেমা দিয়ে শিশুশিল্পী পূজা চেরির অভিষেক হয়। এরপর বেশকিছু সিনেমায় তিনি শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ করেন। 
২০১৮ সালে প্রথমবারের মতো নায়িকারূপে ধরা দেন ‘নূরজাহান’ সিনেমা দিয়ে। একই বছর তিনি সিয়াম আহমেদের সাথে জুটিবদ্ধ হয়ে ‘পোড়ামন-২’ ও ‘দহন’ দুটি ব্যবসা সফল সিনেমা উপহার দিয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করে আলোচনায় চলে আসেন। বর্তমানে তিনি সিয়াম আহমেদের সাথে ‘শান’ সিনেমা নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন, পাশাপাশি জিন নামে একটি নতুন সিনেমায় কাজ করতে চলেছেন তিনি।
ইন্টারমিডিয়েট প্রথম বর্ষে পড়ছেন তিনি। প্রচন্ড ব্যস্ত থাকতে হয় তাকে। এতো ব্যস্ততার মাঝে আজ জন্মদিনে কি করছেন তা জানালেন গোনিউজ’কে। পূজা বললেন, গতরাত থেকেই অনেকের কাছ থেকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা পাচ্ছি, খুব ভালো লাগছে। মায়ের কাছ থেকে কি গিফট পেলেন সেটা জানতে চাইলে বলেন, এখনো পাইনি, তবে একটা সারপ্রাইজ গিফট পাবো সেটা জানি। 


কি আয়োজন রেখেছেন আজ? সেটা পূজা জানালেন, কাছের মানুষদের’কে নিয়ে ঘুরতে যাবো আর রেস্টুরেন্টে খাওয়া-দাওয়া করবো। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য জন্মদিন কবে ছিলো জানতে চাইলে পূজা বলেন, গতবছর। 
গতবছর খুব বড় পরিসরে অনেক মজা করে আনন্দ করে জন্মদিন অনুষ্ঠান করেছিলাম। ছোট্টবেলার জন্মদিন বেশী আনন্দের ছিলো নাকি এই সময়ের জন্মদিন বেশী আনন্দের হয়? এই প্রশ্নের জবাবে পূজা বলেন, দুই সময়েরটাই। ছোট্ট বেলায় যেমন ভালো লাগতো, এখনো খুব ভালো লাগে। আমাকে কেউ জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানালে এবং গিফট পেলে ভীষণ ভালো লাগে আমার। 

পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের প্রস্তুতি! গোপন কথা ফাঁস করলেন ভারতীয় সেনাপ্রধান




আন্তর্জাতিক ডেস্ক- কাশ্মীর নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ফের যুদ্ধ-যুদ্ধ আবহ উসকে দিলেন ভারতের সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াত। এবার খুলেই বললেন, পুলওয়ামার বদলায় বালাকোটই শুধু নয়, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পুরোদমে যুদ্ধের জন্য মুখিয়ে ছিল সেনা।
পাক ভূখণ্ডে ঢুকে শিক্ষা দেওয়ার সমস্ত প্রস্তুতিই সারা হয়ে গিয়েছিল। সেইসঙ্গে বিকল্প একাধিক পথও ভেবে রাখা হয়েছিল। বালাকোট দিয়ে আকাশপথে হামলাও সেই বিকল্প ভাবনার মধ্যেই ছিল এবং তা দিয়েই পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটাতে চেয়েছিল ভারতীয় সেনা।

সোমবার দিল্লিতে অবসরপ্রাপ্ত সেনা আধিকারিকদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে নিজেদের স্ট্র্যাটেজির কথা এভাবে ভাগ করে নিলেন সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াত। আর তারপরই ফের যুদ্ধ নিয়ে উত্তেজনার চোরাস্রোত বইতে শুরু করেছে।
মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) ভারতীয় গণমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে বলা হয়, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে নানা বিষয়ে চাপে রাখলেও, যুদ্ধের মতো বড়সড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিস্তর ভাবতে হয় ভারতকে। সেদেশের তরফে উসকানি একেবারে চরম পর্যায়ে না পৌঁছলে ভারতও সরাসরি রণক্ষেত্রে নামবে না। কারণ, যুদ্ধের ভয়াবহতা তার চেনা, জানা। পাকিস্তানেরও ধর্ম, বাইরে শান্তিস্থাপনের কথা বলে চিরকাল চুপিসাড়ে সন্ত্রাসবাদকে লালন করা। আর তাকে ভারতের ক্ষতিসাধনে সর্বপ্রকারে প্রয়োগ করা।
সাম্প্রতিক সময়ে তাদের এই প্রবণতা এতটাই বেড়েছে যে বারবার সন্ত্রাসে দীর্ণ হতে হয়েছে এদেশের মাটিকে। তারই একটা বড় উদাহরণ, ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামায় সিআরপিএফ কনভয়ের উপর ভয়ংকর আত্মঘাতী জঙ্গি হামলা। কাশ্মীর উপত্যকার তুষারাবৃত পথঘাট এক লহমায় ভেসে গিয়েছিল ৪৯ জন শহিদ জওয়ানের রক্তে।
এরপর আর স্থির থাকতে পারেননি কেউ। শুরু হয়ে যায় শিক্ষা দেওয়ার প্রস্তুতি। সিআরপিএফ জওয়ানদের মৃত্যুর বদলা নিতে পাকিস্তানের উপর ঝাঁপাতে মরিয়া হয়েছিল ভারতীয় সেনা। পাকিস্তানকে শিক্ষা দিতে একেবারে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছিল।
সেনাসূত্রে খবর, পাকিস্তানের তরফে গত কয়েকবছর ধরে যে আক্রমণ এসেছে ভারতের মাটিতে, তার পরিপ্রেক্ষিতেই একটু একটু প্রস্তুতি চলছিল। ১১হাজার কোটি টাকার আগ্নেয়াস্ত্র মজুত করা ছিল সেনাশিবিরে, যা কিনা মোট প্রয়োজনের ৯৫ শতাংশ। পুলওয়ামা হামলার পর আরও ৭ হাজার কোটি টাকা বিশেষ আগ্নেয়াস্ত্রের বরাত দেওয়া হয়েছিল, যাতে যুদ্ধক্ষেত্রে একেবারে পূর্ণ শক্তি নিয়ে লড়াই চালাতে পারে। আর এসব নিয়েই যুদ্ধেই ঝাঁপাতে চেয়েছিল সেনাবাহিনী। তৈরি ছিল বিকল্প পদক্ষেপের নীল নকশাও।
শেষমেশ অবশ্য সরাসরি যুদ্ধে যাওয়ার দরকার হয়নি। হামলার ১২দিন পর, ২৬ ফেব্রুয়ারি ভোরে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বালাকোট সীমান্তে ঢুকে বিমান হামলা চালিয়ে সীমান্তের জঙ্গি ঘাঁটিগুলি গুঁড়িয়ে দেয় ভারতীয় বায়ুসেনা বাহিনী। প্রয়োজনে আরও অগ্রসর হওয়াই যেত, যদি পাকিস্তানের তরফে খুব বড়রকমের কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হত।
তবে এতগুলো জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংসে কার্যত নড়ে গিয়েছিলেন ইমরান সরকার। তাই বালাকোটের পালটায় বিশেষ কিছু করা সম্ভব হয়নি। তাই যুদ্ধ থেকে বিরত থেকেছে সেনা।
সোমবার বিপিন রাওয়াত নিজেই এসব প্রকাশ্যে এনেছেন। আর বুঝিয়ে দিয়েছেন, যুদ্ধে পিছপা হবে না ভারতীয় সেনা। বরং প্রয়োজনে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধই হবে।

কাশ্মীরি নারীদের সুরক্ষা দেয়া ধর্মীয় দায়িত্ব: সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান শিখদের



আন্তর্জাতিক ডেস্ক
কাশ্মীরি নারীদের সুরক্ষা দেয়া ধর্মীয় দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন শিখ নেতারা।
ভারতের ন্যাশনাল হেরাল্ড পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, শিখ নেতারা তাদের সম্প্রদায়কে ধর্মীয় দায়িত্ব হিসেবে কাশ্মীরি মেয়েদের সম্ভ্রম রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
শিখ অকাল তখতের জাঠেদার গৈনি হারপিট সিং এক বিবৃতিতে বলেছেন, কাশ্মীরি মেয়েদের নিয়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সামাজিক মাধ্যমে যেসব নির্দেশনা দিচ্ছেন, তা কেবল অবমাননাকরই না; ক্ষমার অযোগ্য।
গৈনি হারপিট সিং বলেন, কিছু লোক কাশ্মীরি কন্যাদের ছবি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করছেন, এতে দেশের ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। এতে নারীদের অবমাননা করা হয়।


তিনি বলেন, ‘এ ছাড়া এসব লোকজন ভুলে যাচ্ছেন যে, একজন নারী হচ্ছেন- একজন মা, একজন কন্যা, একজন বোন ও একজন স্ত্রী। নারীদের সন্তান ভূমিষ্ঠের ক্ষমতা আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘০কাশ্মীরি নারীরা আমাদের সমাজেরই অংশ। কাজেই তাদের সম্মান রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। কাশ্মীরি নারীদের সম্ভ্রম রক্ষায় শিখদের এগিয়ে আসতে হবে। এটিই আমাদের দায়িত্ব, এটিই আমাদের ইতিহাস।’
উল্লেখ্য, কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর কাশ্মীরি নারীদের নিয়ে কয়েকজন হিন্দুত্ববাদি বিজেপি নেতা কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে।

বিশালকার আটক কেন্দ্র নির্মাণ করতে যাচ্ছে ভারত; মুসলিমরা আতংকিত



আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারত সরকারের কট্টরহিন্দুবাদী এজেন্ডা বাস্তবায়নের মুখে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে চার মিলিয়নের বেশির মানুষ, যাদের বেশিরভাগ আবার মুসলমান, নাগরিকত্ব হারিয়ে বিদেশী অভিবাসী হিসেবে ঘোষিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। এই এজেন্ডা দেশটির বহুত্ববাদী ঐহিহ্যের প্রতি হুমকি সৃষ্টির পাশাপাশি ভারতের সংজ্ঞাকে নতুন করে নির্ধারণ করতে চাচ্ছে।
বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী দারিদ্রপীড়িত ও পার্বত্য এই অঞ্চলে ‘অভিবাসী খেদাও’ উদ্যোগ বাস্তাবয়ন করা হচ্ছে। যেসব মানুষের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে তাদের বেশিরভাগের জন্ম ভারতেই এবং তারা বিভিন্ন নির্বাচনে ভোটও দিয়েছেন।
রাজ্য কর্তৃপক্ষ দ্রুত ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বৃদ্ধি ও বিশালাকার নতুন আটক কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে। অবৈধ অভিবাসী সন্দেহে এরই মধ্যে হাজার হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে – এদের মধ্যে একজন অবসরপ্রাপ্ত মুসলমান সেনা কর্মকর্তাও রয়েছেন। স্থানীয় এক্টিভিস্টরা জানিয়েছেন যে প্রাথমিক তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত না হওয়া ও কারাগারে পাঠানো হতে পারে আশংকায় কয়েক ডজন মানুষ এরইমধ্যে আত্মহত্যা করেছেন।
কিন্তু এতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্ষমতাসীন দলের কোন উদ্বেগ নেই। বরং তারা ভারতের অন্যান্য রাজ্যের জনগণকেও নাগরিক হিসেবে প্রমাণের জন্য বাধ্য করতে আগ্রহী। গত মে মাসে মোদির পুনর্নির্বাচন এই সুদূরপ্রসারী হিন্দু জাতীয়তাবাদী কর্মসূচী বাস্তবায়নের কাজটি আরো বেগবান করেছে।
ফলে সংখ্যালঘু মুসলিম সম্পদায় দিনে দিনে চরম আতংকিত হয়ে পড়ছে। আসামে জাতীয় নাগরিকত্ব তালিকা (এনআরসি) তৈরির কাজটি এক বছরের বেশি সময় আগে শুরু হয়েছে এবং আগামী ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে। যা আসাম থেকে হাজার মাইলের বেশি দূরত্বে সংঘটিত মুসলমানদের জন্য আরেকটি বিপত্তির প্রায় কাছাকাছি সময়ে ঘটতে চলেছে।
প্রায় দুই সপ্তাহ আগে মোদি একতরফা ভারতের মুসলিম সংখ্যাগুরু রাজ্য জম্মু-কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল করে একে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করেন। এ কাজ করার জন্য স্থানীয় রাজনীতিক নেতাদের সঙ্গে মোদি সরকার কোন আলোচনা করেনি ওই ঘটনার পর থেকে কাশ্মীরে নির্বিচার ধরপাকড় চলছে।
সমালোচকরা বলছেন যে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে মোদি জোর করে যে দুটি জায়গায় তার বিভক্তিসৃষ্টিকারী হিন্দুবাদী এজেন্ডা বলপূর্বক বাস্তবায়নের কাজে হাত দিয়েছেন তাহলো কাশ্মীর ও আসাম। আগামীতে আরো অনেক রাজ্য একই পরিণতি দেখতে পারে।
আসামে কাজটি করা হচ্ছে বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসী বাছাই করার অযুহাতে। ভারতের অতি ক্ষমতাধর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এদেরকে বারবার ‘ঘুণপোকা’ হিসেবে অভিহিত করেন।
আসামের ৩৩ মিলিয়ন অধিবাসীর ঘারে নিজেদের নাগরিকত্ব প্রমাণের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নরেন্দ্র মোদি একটি বিপজ্জনক খেলা শুরু করছেন। তিনি ভারতের শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্য ভেঙে ও সামাজিক বিচ্ছেদ তৈরি করছেন। মোদির রাজনৈতিক শেকড় কট্টরপন্থী হিন্দুত্ববাদী সংগঠনে গাঁথা। আরএসএস সবকিছুর ঊর্ধ্বে উগ্র হিন্দুত্ববাদকে স্থান দেয়। তাদের এই দৃষ্টিভঙ্গির ফলে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ ভারতে একাধিক মুসলিমবিরোধী দাঙ্গার ঘটনা ঘটেছে।
এক সময়ের সরকারি কর্মকর্তা থেকে মানবাধিকার কর্মীতে পরিণত হওয়া হার্শ মান্দার বলেন, আসাম ও কাশ্মীরে যা ঘটছে তা ভারত, ভারতের স্বাধীনতাযুদ্ধ ও সংবিধানের ওপর হামলা। দেশের সবাই সমান- এমন ধারণার ওপর আঘাত। মুসলমানরা এখন শত্রু। সরকারের এমন আচরণ কার্যত ভারতীয় সংবিধানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল।

সাউথ এশিয়ান মনিটর

বাংলাদেশে মণিপুরি মুসলিম পাঙালদের ঈদ উৎসব!




রফিকুল ইসলাম জসিম, ::
মানব সভ্যতার শুরু থেকেই বিভিন্ন সমাজ ও সম্প্রদায়ের উৎসবের প্রথা রয়েছে। তবে আমেজ ও আচারে রয়েছে ভিন্নতা। ঈদ অপরাপর ধর্ম, সংস্কৃতি, জাতি ও দেশের উৎসব অনুষ্ঠান থেকে ভিন্নতর। এটাই ইসলামের স্বাতন্ত্র্য ও অনন্য বেশিষ্ট্য। ঈদের গুরুত্ব ও মহত্ত্ব অন্যান্য ধর্মীয় উৎসবের চেয়ে অনেক গুন বেশি। ঈদ শুধু একটি জাতি কিংবা একটি দেশের সৌভ্রাতৃত্বের কথা বলে না; ঈদ বিশ্বের সব জাতি মানুষের সম্প্রীতি ও সৌভ্রাতৃত্বের কথা বলে।
ঈদ মুসলমাদের আনন্দমুখর উৎসব, তবে ঈদ কিন্তু নিছক উৎসব নয়। ঈদে ব্যক্তিগত আনন্দ বা ফুর্তির যে আমেজ, তার চেয়ে সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে সামাজিক সন্তুোষে রুপান্তরিত হয়। বাংলাদেশে বৃহত্তর জনসমষ্টির বাঙালি মুসলিমদের নিকট ঈদুল ফিতর তেমনি দেশের অতি স্বল্প পরিচিত নৃ-গোষ্ঠী মণিপুরি মুসলিম (পাঙাল) সম্প্রাদায়ের এক আনন্দঘন অনুষ্ঠান।
ঈদ পাঙনদের বড় ধর্মীয় উৎসব। ঈদের দিনে গোত্র বংশ নির্বিশেষে সব শ্রেণীর পাঙন এক কাতারে সমবেত হয় এই বিশেষ দিনটিকে উদযাপন করার জন্য। ঈদের জামাতও নির্দিষ্ট স্থানে অনুষ্ঠিত হয়। মসজিদে, দোকানে, হাটবাজারে, খেয়াঘাটে সবখানে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পালা চলে। আত্মীয় স্বজন ও পরিচিত জনদের দাওয়াত দিয়ে খাওয়ানো হয়। পরিবারের সবার জন্য নতুন জামাকাপড়ের ব্যবস্থা করা হয়। এদিন মেয়েদের জন্য পর্দা কিছুটা শিথিল থাকে। ঈদের দিনে পাঙন মেয়েদের ঐতিহ্যবাহী পোষাক পরে দল বেঁধে আত্মীয় স্বজনের বাড়ী বেড়াতে যাওয়ার দৃশ্য তাকিয়ে দেখার মতো।
পাঙ্গালরা সুন্নী মুসলমান। ধর্মীয় বিশ্বাস এক হলেও স্থানীয় বাঙালী মুসলিম জনগোষ্ঠির সঙ্গে সামাজিক কোন সম্পর্ক নেই বললেই চলে। তাদের ধর্মাচরন, সমাজব্যবস্থা ও রীতিনীতির সঙ্গে বাঙালী মুসলমানদের যথেষ্ঠ পার্থক্য। প্রচন্ড ধর্মভীরু ও রক্ষনশীল তারা। পাঙন মেয়েরা কঠোর পর্দপ্রথা মেনে চলে। নিজেদের সম্প্রদায়ের বাইরে বৈবাহিক সম্পর্ক পাঙন সমাজ অনুমোদন দেয় না। নানান সামজিক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে মাতৃভাষা ও ঐতিহ্যকে গুরুত্ত্ব দিয়ে থাকে। তাদের সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা বিয়ের অনুষ্ঠানগুলোতে কোরান শরীফের তর্জমা ও তাফসীর, হাদিসের পাঠ ও ব্যাখ্যা সবকিছু মাতৃভাষায় করা হয়ে থাকে। এছাড়া বিয়ের দিনে “কাসিদা” নামে পরিচিত এক ধরনের লোক ঐতিহ্যবাহী বিয়ের গান ও নাচের অনুষ্ঠান থাকে যা পাঙলদের একান্ত নিজস্ব।
সপ্তদশ শতকের প্রথম দিকে (১৬০৬ খ্রি:) হবিগঞ্জের তরফ অঞ্চলে পাঠান শাসক খাজা ওসমানের সেনাপতি মোহাম্মদ সানীর নেতৃত্বে ইসলাম ধর্মের অনুসারী একদল সৈন্য মণিপুর রাজ্যে অভিযান চালায়। এই যুদ্ধের ফলাফল সম্পর্কে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতানৈক্য রয়েছে। অনেক ঐতিহাসিক মতে এই যুদ্ধে মোহাম্মদ সানীর বাহিনী পরাজয় বরণ করে এবং ৩০টি হাতি, অসংখ্য হাতবন্দুকসহ মহারাজ খাগেম্বার হাতে বন্দি হন। আবার ভিন্ন মতাবলম্বীদের মধ্যে ঐ ব্যাপক যুদ্ধের অবসান ঘটেছিল সন্ধির মাধ্যমে। অধিকাংশ ঐতিহাসিকদের মতে তখনকার মণিপুরের রাজা খাগেম্বার সাথে এক সন্ধির ফলে সেনাপতি মোহাম্মদ সানী মহারাজা খাগেম্বার ছোট রানীকে বিয়ে করেছিলেন। ফলে সৃষ্টি হয় ‘মাতা মণিপুরি ও পিতা মুসলমান’ এর সমন্বয়ে নতুন এক সম্প্রদায়, যার নাম মৈতৈ পাঙাল বা মণিপুরি মুসলিম (পাঙাল)।
ভিন্ন ভিন্ন সময়ে মণিপুরের রাজপরিবারের পারিবারিক কলহ, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক, বিশেষ করে যুদ্ধবিগ্রহের কারণে মণিপুরিরা উপমহাদেশে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলশ্রুতি হিসাবে বর্তমানে বাংলাদেশে সিলেট বিভাগে মৌলভীবাজারে কমলগঞ্জে প্রায় পঁচিশ হাজার মণিপুরী মুসলিম বাস করে।
ইতিহাসবিদদের ধারনা “পাঙন” শব্দটি এসেছে “পাঙ্গাল” শব্দ থেকে যার উৎপত্তি “মুঘল” থেকে (পাঙ্গাল>মুঙ্গাল>মুঘল এভাবে)। অনেকে আবার পাঙ্গাল শব্দটিকে “বাঙ্গাল” শব্দের বিবর্তিত রূপ বলেও মনে করেন। পাঙনদের শারীরিক গঠন ও দেহাবয়ব মণিপুরী বিষ্ণুপ্রিয়াদের মতোই মিশ্র আর্য। তাদের মাতৃভাষা মণিপুরী মৈতৈ ভাষারই একটি রূপ।
পাঙনরা প্রচন্ড পরিশ্রমী জাতি। ভিক্ষাবৃত্তিকে এরা ঘৃণ্যতম পেশা মনে করে। কৃষিকাজ ছাড়াও তারা বাঁশ ও বেত দিয়ে বিভিন্ন ধরনের কৃষি যন্ত্রপাতি ও আসবাব তৈরীতে দক্ষ।পাঙন মেয়েরা কৃষিকাজে পুরুষের সমান পারদর্শী। এছাড়া কোমর তাঁতে কাপড় বোনা এবং সুচিকর্মে পাঙন মেয়েদের দক্ষতা রয়েছে। মণিপুরীদের পরিধেয় ফানেক বা চাকসাবির উপর পাঙন মেয়েদের সুঁই সুতার সুক্ষ কারুকাজ দেখলে বিস্মিত হতে হয়।
ইসলাম ধর্মাবলম্বী হওয়া সত্ত্বেও পাঙ্গানরা তাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং ঐতিহ্য আজও বজায় রেখেছে। তাদের ঘরবাড়ি, পোষাক-পরিচ্ছদ, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনধারা স্বতন্ত্র এবং বৈচিত্রে ভরপুর।#

লেখক ও সাংবাদিক ; মোবা : ০১৭৭৯৬৬৬৯৩২
Design a site like this with WordPress.com
Get started