অনলাইনে স্মার্ট কার্ড সংশোধন করবেন যেভাবে

স্মার্ট কার্ড নিয়ে কমবেশি অনেকেই বিড়ম্বনার মধ্যে পড়তে হয়। কারো কার্ডে তথ্য ভুল থাকতে পারে, আর এই ভুল কার্ড সংশোধনের জন্য অনেক রকম ঝামেলাও পোহাতে হয়। অনেকের পরিচয়পত্র ছিল, হারিয়ে গেছে বা পরিচয়পত্রে ভুল তথ্য রয়েছে সংশোধন করা প্রয়োজন—এমন অনেকেই আছেন বুঝতে পারছেন না, তারা কীভাবে নতুন পরিচয়পত্র পাবেন বা ভুল তথ্য ঠিক করবেন সেটাই এখানে জানানো হল।

জেনে নিন যেভাবে করবেন-

প্রথমে রেজিষ্ট্রেশন করতে এই লিংকে যান https://services.nidw.gov.bd/registration (এই সাইট https ফরম্যাটে হওয়াতে আপনার ফায়ারফক্স ব্রাউজারে এটা লেখা আসতে পারে This Connection is Untrusted সেক্ষেত্রে সমাধান হলো প্রথমে Understand the Risks ক্লিক করেন তারপর।

* On the warning page, click I Understand the Risks.

* Click “Add Exception‘…. The Add Security Exception dialog will appear.

* Click “Confirm Security Exception” ক্লিক করুন সাইট চলে আসবে। এরপর-

১. প্রয়োজনীয় তথ্যাবলী পূরণ করে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন।

২. আপনার কার্ডের তথ্য ও মোবাইলে প্রাপ্ত এক্টিভেশন কোড সহকারে লগ ইন করুন।

৩. তথ্য পরিবর্তনের ফর্মে তথ্য হালনাগাদ করে সেটির প্রিন্ট নিয়ে নিন।

৪. প্রিন্টকৃত ফর্মে স্বাক্ষর করে সেটির স্ক্যানকৃত কপি অনলাইনে জমা দিন।

৫. তথ্য পরিবর্তনের স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় দলিলাদি কালার স্ক্যান কপি অনলাইনে জমা দিন।

এবার “রেজিষ্ট্রেশনফরম পূরণ করতে চাই” ক্লিক করুন।

এবার ফরমটি সঠিক ভাবে পুরণ করুন-

* এন.আই.ডি নম্বরঃ (আপনার এন.আই.ডি নম্বর যদি ১৩ সংখ্যার হয় তবে অবশ্যই প্রথমে আপনার জন্মসাল দিয়ে নিবেন উদাহরণঃ আপনার কার্ড নাম্বার ১২৩৪৫৬৭৮৯১০০০ ও জন্মসাল ১৯৯০ আপনি এভাবে দিবেন১৯৯০১২৩৪৫৬৭৮৯১০০০)

* জন্ম তারিখঃ (কার্ড দেখে সিলেক্ট করুন)

*মোবাইল ফোন নম্বরঃ (আপনার সঠিক মোবাইল নাম্বার দিন কারণ মোবাইলে ভেরিফাই কোড পাঠাবে)

* ইমেইলঃ (ইচ্ছা হলে দিতে পারেন না দিলে সমস্যা নাই, ইমেইল আইডি দিলে পরবর্তীতে লগইন করার সময় ভেরিফাই কোড ইমেইলে সেন্ড করতে পারবেন যদি মোবাইল হাতের কাছে না থাকে)

* বর্তমান ঠিকানা: বিভাগ জেলা উপজেলা/থানা সিলেক্ট করুন ভোটার হবার সময় যা দিয়েছিলেন।

* স্থায়ী ঠিকানা: বিভাগ জেলা উপজেলা/থানা সিলেক্ট করুন ভোটার হবার সময় যা দিয়েছিলেন।

* লগইন পাসওয়ার্ড: পাসওয়ার্ড অবশ্যই ৮ সংখ্যার হতে হবে বড় হাতের অক্ষর ও সংখ্যা থাকতে হবে যেমনঃ InfoPedia71

এবার সঠিক ভাবে ক্যাপচার পূরণ করুন ছোট হাতের বড় হাতের অক্ষর বা সংখ্যা যা দেওয়া আছে তাই বসান তবে স্পেস দিতে হবেনা । এবার “রেজিষ্টার” বাটন ক্লিক করে দ্বিতীয় ধাপে চলে যান।

ফরম টি সঠিক ও সফল ভাবে রেজিস্টার করার পর দেখুন আপনার মোবাইলে ভেরিফাই কোড এসেছে ও ব্রাউজারে ঐ কোড সাবমিট করার অপশন এসেছে, নিচের ছবির মত স্থানে আপনার মোবাইলের ভেরিফিকেশন কোড বসান ও রেজিস্টার বাটনে ক্লিক করুন।

(২ মিনিটের মধ্যে মোবাইলে কোড না আসলে পুণরায় কোড পাঠান (SMS) ক্লিক করুন)

সঠিক ভাবে কোড প্রবেশ করার পর আপনার Account Active হয়ে যাবে এবার একটি পেইজ আসবে আপনাকে লগইন করতে বলা হবে অথবা লগইন লিংক https://services.nidw.gov.bd/login

লগইন করতে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর (১৩ সংখ্যার হলে অবশ্যই প্রথমে আপনার জন্মসাল দিয়ে নিবেন) জন্মতারিখ ও আপনার দেওয়া পাসওয়ার্ড দিয়ে ভেরিফাই কোড কিভাবে পেতে চান তা সিলেক্ট করতে হবে।

রেজিস্ট্রেশন করা মোবাইল নাম্বার আপনার হাতের কাছে থাকলে মোবাইলে তা না হলে ইমেইলে সিলেক্ট করুন।

এবার “সামনে” ক্লিক করুন।

এবার আপনার সিলেক্ট করা অপশন মোবাইলে বা ইমেইল থেকে ভেরিফাই কোড বসিয়ে লগইন করুন।

দুই মিনিটের মধ্যে যদি কোড না আসে তবে “পুনরায় কোড পাঠান” বাটনে ক্লিক করুন।

নির্বাচন কমিশনের কাছে থাকা আপনার ডাটাবেজের সব তথ্য দেখা যাবে এবার। নিচের যেকোনো অপশনে চাহিদা অনুযায়ী ক্লিক করুন আর তথ্য হালনাগাদ করুন। এভাবেই আপনি আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংশোধন কিংবা ছবি পরিবর্তন করতে পারবেন খুব সহজেই।

‘ভারত কাশ্মীরে যুদ্ধ শুরু করলে, পাকিস্তান দিল্লীতে নিয়ে সে যুদ্ধ শেষ করবে’

‘ভারত কাশ্মীরে যুদ্ধ শুরু করলে, পাকিস্তান দিল্লীতে নিয়ে সে যুদ্ধ শেষ করবে’

মনিপুরি মুসলিম বিডি | আন্তর্জাতিক ডেস্ক


পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু করবে না, তবে ভারত যদি  যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে কখনো, তবে পাকিস্তান সেই যুদ্ধ শেষ করবে। সেই যুদ্ধ শুধু শ্রীনগর অথবা জম্মুতে শেষ হবে না। তা শেষ হবে দিল্লীতে।

ভারতকে উদ্দেশ্য করে এমন কড়া বার্তা দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের তথ্য উপদেষ্টা ড. ফিরদাউস আশিক আওয়ান। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের হুমকির জবাবে এসব কথা বলেন।

ফিরদাউস আশিক আওয়ান শনিবার পাকিস্তানে গভর্নর হাউজে এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন।

সেখানে তিনি বলেন, পাকিস্তান কখনো যুদ্ধ শুরু করবে না। লঙ্ঘন করবে না আন্তর্জাতিক আইন। কিন্তু যদি যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়া হয় তাহলে সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি প্রতিজন পাকিস্তানি যুদ্ধ করবেন।

তিনি আন্তর্জাতিক সংগঠন ও মানবাধিকারের চ্যাম্পিয়নদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভারতের আসল চেহারা বিশ্বের সামনে তুলে ধরতেই হবে। কাশ্মীরে মুসলিমদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর জন্য তৈরি হচ্ছে ভারত।

তিনি আরো বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এরই মধ্যে কাশ্মীর ইস্যু আন্তর্জাতিক সব ফোরামে তুলে ধরেছেন। তিনি আগামী ২৭ শে সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে তার বক্তব্যে এ ইস্যুটি তুলে ধরবেন। ব্যাখ্যা করবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের মনোভাব। তারা কাশ্মীর উপত্যকাকে জেলে পরিণত করেছে। এ ছাড়া ইমরান খান জাতিসংঘকে তার ১১টি রেজ্যুলুশন বাস্তবায়নের আহ্বান জানাবেন।

সূত্র : ডন

থানায় মামলা-জিডি করতে ঘুষ নিলে ব্যবস্থা : এসপি ফাতিহা

‘থানায় মামলা এবং সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে টাকার প্রয়োজন হয় না। কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে থানায় মামলা অথবা জিডি করতে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।’

বৃহস্পতিবার ঝালকাঠি সদর থানা চত্বরে পুলিশের ‘ওপেন হাউজ ডে’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার (এসপি) ফাতিহা ইয়াসমিন এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, মাদক ও সামাজিক অপরাধ মুক্ত ঝালকাঠি গড়তে জিরো টলারেন্স নীতিতে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। পুলিশের পুরাতন মানসিকতা পরিহার করে জনগণের কাছাকাছি গিয়ে সেবা দিতে হবে।

ঝালকাঠি সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শোনিত কুমার গায়েনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মো. জাহাঙ্গীর আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) কাজী ছোয়াইব, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এমএম মাহমুদ হাসান, চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সালাহ উদ্দিন আহম্মেদ সালেক, সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. মঈন তালুকদার, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ইসরাত জাহান সোনালী, পৌর কাউন্সিলর তরুণ কর্মকার ও হাফিজ আল মাহমুদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।

পুলিশ সুপার ফাতিহা ইয়াসমিন বক্তাদের তুলে ধরা সমস্যাগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধানের আশ্বাস দিয়ে বলেন, সমাজের সকল অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবাইকে একযোগে এগিয়ে এসে কাজ করতে হবে। সকলের সহযোগিতায় সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য দেশ উপহার দিতে হবে।

একদিকে বন্দী কাশ্মীরিরা, অন্যদিকে আরব রাষ্ট্রগুলো থেকে সম্মাননা পেয়েই যাচ্ছেন মোদী


মনিপুরি মুসলিম বিডি.আন্তর্জাতিক সংবাদ

একদিকে বন্দী কাশ্মীরিরা, অন্যদিকে আরব রাষ্ট্রগুলো থেকে একের পর এক সম্মাননা পাচ্ছেন ভারতের হিন্দুত্ববাদি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

এবার বাহরাইন নরেন্দ্র মোদীকে তাদের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কারে ভূষিত করেছে।

শনিবার (২৪ আগস্ট) রাজধানী মানামায় মোদীর হাতে ‘দ্য কিং হামাদ অর্ডার অব দ্য রেনেসাঁস’ সম্মাননা তুলে দেন বাহরাইনের বাদশাহ হামাদ বিন ইসা আল খলিফা। প্রথম কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বাহরাইন সফরে গিয়ে এ পুরস্কার বাগিয়ে নিলেন মোদী।

এর আগে একইদিন আবুধাবিতে ‘দুই জাতির মধ্যে সম্পর্ক দৃঢ়করণে অনন্য প্রচেষ্টার স্বীকৃতি’ হিসেবে মোদীকে নিজেদের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার ‘অর্ডার অব জায়েদ’ প্রদান করে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন কেড়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তে মোদীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন পরিসরে যখন মোদীর বিরুদ্ধে তুমুল বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে মানুষ তখন এই দুই মুসলিম প্রধান দেশ তাকে পুরস্কারে ভূষিত করলো। যা নিয়ে চলছে সমালোচনা।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নরেন্দ্র মোদীকে আরও যেসব মুসলিম দেশ নিজেদের সর্ব্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কারে ভূষিত করে সেগুলো হলো- মালদ্বীপ, ফিলিস্তিন, আফগানিস্তান ও সৌদি আরব।

এর মধ্যে চলতি বছরের জুনে মোদী পান মালদ্বীপের ‘রুল অব নিশান ইজুদ্দিন’ পুরস্কার। তার আগে ২০১৮ সালে ফিলিস্তিনের ‘গ্রান্ড কলার অব দ্য স্টেট অব প্যালেস্টাইন’ পুরস্কার পান তিনি। তারও আগে ২০১৬ সালে আফগানিস্তান ও সৌদি আরবের কাছ থেকে পান যথাক্রমে ‘আমির আমানুল্লাহ খান অ্যাওয়ার্ড’ ও ‘কিং আব্দুল আজিজ সাশ অ্যাওয়ার্ড’।

নারীবাদী লেখিকা তসলিমা নাসরিনের জন্মদিন উদযাপন

নারীবাদী লেখিকা তসলিমা নাসরিনের জন্মদিন উদযাপন।

প্রতিবারের মত এবারও ২৫ আগস্ট প্রখ্যাত নারীবাদী লেখক তসলিমা নাসরিনের জন্মদিন উদযাপন করেছে ‘তসলিমা পক্ষ’। এবারের অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়েছে ঢাকা সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক ইশতিয়াক রেজা, সাংবাদিক শরীফা বুলবুল,  শিল্পী শতাব্দী ভব, মানবাধিকার কর্মী মাহমুদা শেলী, প্রকাশক রবিন আহম্মেদ, একটিভিস্ট খান আসাদুজ্জামান মাসুম, মাহফুজা হক সহ আরও অনেকেই।
শুধুমাত্র মতপ্রকাশের অপরাধে একজন লেখককে ২৫ বছর ধরে নির্বাসিত জীবনযাপন করতে বাধ্য করা হচ্ছে, তাঁর বইগুলো নিষিদ্ধ করা হয়েছে, এমনকি লেখকের সম্পত্তিগুলো তাঁর ছোটবোনকে পাওয়ার অফ এটর্নি দেয়ার ক্ষেত্রে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশের এম্বেসিগুলো অন্যায়ভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে আসছে। বক্তারা অনুষ্ঠানে তসলিমার বিরুদ্ধে হওয়া এসব অন্যায়ের প্রতিবাদ জানান এবং তাঁর নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার দাবী জানান। তসলিমার ভক্তরা জানান তাঁরা তসলিমা নাসরিনের নিষিদ্ধ বইগুলো পড়তে চান। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা নিয়ে লেখা উপন্যাস- লজ্জা, আত্মজীবনী মেয়েবেলা, উতল হাওয়া, ক ও সেইসব অন্ধকারের মত সাহসী বইগুলোর উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার দাবী জানানো হয়। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে তসলিমা নাসরিন লাইভে যুক্ত হলে ভক্তরা তাঁকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জানান। 
অনুষ্ঠানে সকলে তসলিমা নাসরিনের ছবি ও কোটেশান ‘নারী, তুমি সকল মিথ্যে সংস্কার ভুলে এবার মানুষ হও।’  সহ টিশার্ট পরেছেন, টি-শার্টটি ডিজাইন করেছেন শিল্পী চারু পিন্টু। 
পুরুষতান্ত্রিক সমাজ, ধর্মান্ধ সমাজ নারীকে নানা ভাবে দমন করে এসেছে। নারীর কথাগুলো যাতে উচ্চারিত না হয় সে জন্যই উপামহাদেশের শ্রেষ্ঠ নারীবাদী লেখককে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ নিষিদ্ধ করেছে। তসলিমা নাসরিনকে তাঁর নিজ ভূমি নির্বাসন দণ্ড দিলেও সভ্য দেশগুলো তাঁকে নানা ভাবে সম্মানিত করেছে। তসলিমা’কে নিষিদ্ধ করাতে তসলিমার খুব বেশি ক্ষতি না হলেও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাংলাদেশ। তসলিমা নাসরিনের নির্বাসন কেবল একজন মানুষ তসলিমার নির্বাসন নয়, এটি মুক্তবুদ্ধি, মুক্তচিন্তা আর মানবাধিকারের নির্বাসন। যেসব কথা বলা নিষেধ, সেসব কথাই তিনি জোর গলায় বলেছেন। যে শব্দ উচ্চারন করা মানা ছিল, সে শব্দই তিনি বারবার উচ্চারন করেছেন। আজ আমরা সেসব শব্দের-ভাষার প্রতিধ্বনি শুনতে পাই। তসলিমা নাসরিন এদেশের নারীদের কথা বলা শিখিয়েছেন, বাধা উপড়ে এগিয়ে চলতে শিখিয়েছেন। আজ আমরা কথা বলতে পারি, প্রতিবাদ করতে পারি। আমরা ভুলি নি তসলিমা নাসরিনকে। নিষিদ্ধ নামটিই আমরা গর্বের সাথে উচ্চারন করি। কারন এই নিষিদ্ধ নামেই আমরা আমাদের শক্তি খুঁজে পাই, প্রতিবাদ করার সাহস পাই।

শেষ হচ্ছে ‘হেরিটেজ ট্রাভেলার’ এলিজার ৬৪ জেলা ভ্রমণ

আর জেলা বাকি দুইটা, দিন বাকি ছয়টা। এই ছয় দিনে তিনি ভ্রমণ করবেন খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রাম। ইতোমধ্যে তার ৬২টি জেলা ভ্রমণ সমাপ্ত হয়েছে। এই দুই জেলা ভ্রমণের সঙ্গেই শেষ হবে এলিজার ৬৪ জেলা ভ্রমণ। এলিজা বিনতে এলাহি। হেরিটেজ ট্রাভেলার বা ‘বিশ্ব পর্যটক’ হিসেবে পরিচিত তিনি। পেশায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। নেশায় প্রত্নতাত্ত্বিক পর্যটক।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণের পাশাপাশি ঘুরে বেড়াচ্ছেন সারা বাংলাদেশ। ২৬ আগস্ট তিনি বের হচ্ছেন বাকি জেলা দুটি ভ্রমণে। শেষ হবে ৩১ আগস্ট।

বাংলাদেশ ভ্রমণে এলিজার উদ্দেশ্য, হেরিটেজ ট্যুরিজম বা প্রত্নতাত্ত্বিক পর্যটনের গুরুত্বকে তুলে ধরা। সেই লক্ষ্যে ভ্রমণপিপাসু এলিজা জেলাগুলো ভ্রমণের সময় দেশের প্রাচীনতম ইতিহাস ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর তথ্য, ভিডিওচিত্র ও স্থিরচিত্র সংগ্রহ করছেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি প্রতি জেলায় খুঁজে পেয়েছেন বিশ্বমানের অনেক স্থাপনা। যার মধ্যে প্রতিটি বিভাগ এবং সম্ভব হলে জেলাভিত্তিক বই ও স্থিরচিত্র দিয়ে তথ্যবহুল ছবির অ্যালবাম প্রকাশ করতে চান। টেলিভিশন ও ইন্টারনেটে ভিডিও ডকুমেন্টারি ও ট্রাভেল শো করার ইচ্ছে আছে বলেও জানালেন তিনি।

খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রাম ভ্রমণের মধ্য দিয়ে এবারের মতো ৬৪ জেলা ভ্রমণ সমাপ্ত হলেও পরবর্তীতে বিশদ গবেষণার জন্য আবারো বাংলাদেশ ভ্রমণে বের হবেন বলে জানিয়েছেন এই পর্যটক। ইংরেজি সাহিত্যের শিক্ষার্থী হলেও ইতিহাস, প্রত্নতত্ত্বের প্রতি অনুরাগ তার ছোটবেলা থেকেই। তিনি বলেন, ‘আমার পড়াশোনার বিষয় কখনও ইতিহাস বা প্রত্নতত্ত্ব ছিল না। নিজ ইচ্ছার তাগিদ বা শখের বিষয়কে আমি পড়াশোনার সঙ্গে সম্পৃক্ত করেছি।’

জানা যায়, ২০১৬ সালে ঢাকার বলধা গার্ডেন দিয়ে এলিজার বাংলাদেশ ভ্রমণ শুরু। তিনি এই ভ্রমণ প্রকল্পের নাম দিয়েছেন ‘কোয়েস্ট : এ হেরিটেজ জার্নি অব বাংলাদেশ’। নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে প্রকল্পটি।

এলিজা বিনতে এলাহী ১৯৯৯ সাল থেকে এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলো ভ্রমণ শুরু করেন। গত ২০ বছরে এলিজা ভ্রমণ করেন এশিয়া ও ইউরোপের ৪৭টি দেশ। ভ্রমণে সেসব দেশের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর খুঁটিনাটি বিষয় তিনি পরিদর্শন করেন। অচিরেই বাকী দেশগুলো ভ্রমণের ইচ্ছা আছে বলে জানালেন এই হেরিটেজ ট্রাভেলার। দেশগুলো ভ্রমণের সময় তিনি সংগ্রহ করেন সেখানকার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের নানা তথ্য-উপাত্ত। এশিয়া ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে ইতিমধ্যে তাঁর দুটি প্রকাশনা রয়েছে। এর একটি ‘এলিজাস ট্রাভেল ডায়েরি’ আরেকটি ‘এলিজাস ট্রাভেল ডায়েরি-২’।

তিনি ইতোমধ্যে নেদারল্যন্ডস এর দি হেগ ইউনিভার্সিটি অফ অ্যাপ্লাইড সায়েন্সেস-এ কম্যুনিকেশন ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধীনে ‘বাংলাদেশে হেরিটেজ ট্যুরিজম’-এর ওপর গবেষণা সমাপ্ত করেছেন। গবেষণাকর্ম ও হেরিটেজ ভ্রমণে গিয়ে তার মনে হয়েছে, বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোর ঐতিহাসিক অনেক গুরুত্ব রয়েছে। যা সঠিকভাবে সংরক্ষণ করলে শিক্ষা – গবেষণার পাশাপাশি দেশে পর্যটনশিল্প বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, প্রায় বিশ বছরের বিশ্বভ্রমণের যাত্রায় আমার নিজেকে সত্যিকার ট্রাভেলার মনে হয়েছে যখন আমি বাংলাদেশের কোনায় কোনায় গেছি। আমার দেশের সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য, মানুষ আমাকে যা আনন্দ দিয়েছে পৃথিবীর বড় বড় দেশ তা দিতে পারেনি। আমি দেখেছি গর্ব করার মত বিশ্বমানের ঐতিহ্য ও স্থাপনা আমাদেরও রয়েছে। প্রয়োজন শুধু সংরক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, প্রচার ও প্রসারের।

হিজাব কোনভাবেই ছাড়বো না: মার্কিন আইনপ্রণেতা ইলহান ওমর

: মার্কিন কংগ্রেসের মুসলিম সদস্য মার্কিন আইনপ্রণেতা ইলহান ওমর বলেছেন, তিনি হিজাব বা পর্দা কোনোভাবেই ছাড়বেন না।

আজ রোববার এক টুইটে আরও বলেছেন, হিজাবকে তিনি এক ধরণের প্রতিরোধ হিসেবে নিয়েছেন, তবে তা সব সময় খুব সহজ বিষয় নয়। ইলহান ওমর আরও লিখেছেন, তিনি শুধু ধর্মীয় বাধ্যবাধকতার কারণে হিজাব পরেন এমনটি নয় বরং হিজাব পরে আনন্দও পান।

ইলহান ওমর হচ্ছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথমবার নির্বাচিত দুই মুসলিম নারীর একজন যিনি হিজাব পরে কংগ্রেসে হাজির হয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছেন। শুধু তাই নয়, কুরআনে হাত রেখে শপথ নিয়ে আরেক নজির সৃষ্টি করেছেন তিনি।

সোমালিয় বংশোদ্ভূত এ মার্কিন কংগ্রেস প্রথম থেকেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একপেশে নীতির বিরোধিতা করে আসছেন। এর আগে তিনি ট্রাম্পকে ফ্যাসিস্ট হিসেবেও উল্লেখ করেছেন।

সোমালিয়া থেকে কিশোর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে উদ্বাস্তু হিসেবে আশ্রয় গ্রহণ করেন ইলহান ওমর। ১৭ বছর বয়সে মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেন তিনি। ২০১৮ সালে মিনেসোটা থেকে ডেমোক্রেটিক পার্টির সদস্য হিসেবে মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য নির্বাচিত হন।

-এটি

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ক্যাম্পে জঙ্গি ঘাঁটি!

আশ্রিত প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা! বৃহৎ এই সংখ্যা থেকে হাজার তিনেক রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসনের সিদ্ধান্ত হয়। দ্বিতীয় দফায় আশ্রিতদের অনাগ্রহে সেটিও থমকে গেলো। অনেকে এটাকে দেশীয় কূটনৈতিক ব্যর্থতা দাবি করলেও এর পেছনে মৌলিকভাবে জড়িত এনজিওগুলোর সম্পৃক্ততা।
প্রতিটি ক্যাম্পে ক্যাম্পে রয়েছে আন্তর্জাতিক এনজিওগুলোর কোটি কোটি টাকার প্রজেক্ট। রয়েছে তাদের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্য। হঠাৎ করে এই স্বল্পসংখ্যক রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হলে সংঘবদ্ধ জঙ্গি সংগঠনগুলো উগ্র হয়ে যাবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

এ জন্য এনজিওগুলো চাচ্ছে না রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কোনো আক্রমণাত্মক পরিস্থিতি তৈরির মাধ্যমে তাদের উদ্দেশ্য ও প্রজেক্ট বিফলে যাক। স্থানীয়, এনজিও এবং প্রশাসনের কাছে তথ্য রয়েছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পকে কেন্দ্র করে জঙ্গিদের সাংগঠনিক তৎপরতা সক্রিয়। রাখাইনে যে দুটি সংগঠন স্বাধীনতার দাবিতে উগ্রবাদী সেনাদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছিলো তারা এ দেশে এসে এখন সংঘবদ্ধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে!

কয়েকদিন পরপর কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত, রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপ, পুলিশের হয়রানি, চুরি-ডাকাতিসহ নানা অজানা আতঙ্কে এখন স্থানীয়দেরও ত্রাহি অবস্থা। রোহিঙ্গা চাপে পাহাড় ধ্বংস, জীবিকা নষ্ট, কমে গেছে শ্রমের মূল্য, চাষবাস, মাছ ধরা, পড়ালেখা এখন নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েই তারা শঙ্কিত। রাত ৮টার পর টেকনাফ-উখিয়া সড়ক জনশূন্য। সন্ধ্যা হলেই রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে আসে বাজি ফোটানোর শব্দ।

রাত গভীর হতে থাকলে সেই শব্দ আরও বিকট হতে থাকে। স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, বিকট শব্দগুলো গুলির মতোই মনে হয়। তাদের ধারণা জনশূন্য এলাকায় গভীর রাতে গ্রুপ হয়ে জঙ্গিরা প্রশিক্ষণ নেয়। এজন্য আশপাশের মানুষ সবসময় আতঙ্কে থাকে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, জঙ্গি গ্রুপগুলোও ক্যাম্পজুড়ে সক্রিয় নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। মাঝে মাঝে বিক্ষোভও করে। রোহিঙ্গা জঙ্গিদের পেছনে বড় কোনো মহল জড়িত আছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

মিয়ানমারের জঙ্গি সংগঠন আরসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে থেকে যুদ্ধে অংশ নেয়া, সুঠাম দেহের অধিকারী এমন ব্যক্তিদের বাছাই করে সদস্য সংগ্রহ করছে। আল কায়েদার পক্ষ থেকেও এর আগে এসেছে বেশ কয়েকটি হুমকি। তালেবান, সোমালিয়ার আল শাবাব গোষ্ঠী এবং ইসলামিক স্টেটপন্থি গ্রুপগুলো রোহিঙ্গা জঙ্গিদের নিয়ে তৎপর। মানবতাকে ইস্যু করে লোভের টোকে জঙ্গিদের নিজেদের ঘরে স্থান দিতে চাচ্ছেন।

এর আগে ইসলামপন্থি সংগঠনের পক্ষে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের হুমকিও প্রচার করা হয়েছে। এসব পর্যবেক্ষণ থেকে উখিয়া অঞ্চলে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের জন্য বড় হুমকি সৃষ্টি হয়েছে বলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

শুধু রোহিঙ্গাদের নিয়েই রয়েছে বেশ কয়েকটি জঙ্গি সংগঠন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ইসলামিক সলিডারিটি ফ্রন্ট, আরাকান রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন, আরাকান পিপলস আর্মি, আরাকান মুজাহিদ পার্টি, মিয়ানমার লিবারেশন ফোর্স, রোহিঙ্গা লিবারেশন ফোর্স, রোহিঙ্গা ইনডিপেন্ডেন্স পার্টি, রোহিঙ্গা প্যাট্রিয়টিক ফ্রন্ট।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, বাংলাদেশে ইসলামিপন্থি প্রায় সবগুলো দলের টিম রয়েছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। ইসলামপন্থি দেশগুলো থেকে অর্থ সংগ্রহ করে রোহিঙ্গাদের হাতে তুলে দিচ্ছেন তারা। পিছিয়ে থাকছে না দেশীয় জঙ্গি সংগঠনগুলোও।

দাওয়াতি কাফেলা, বাংলাদেশ এন্টি টেররিস্ট পার্টি, আল মারকাজুল আল ইসলামী, আল ইসলাম মার্টেনস ব্রিগেড, সত্যবাদ, মুসলিম মিল্লাত, শরিয়া কাউন্সিল, জমিয়তে আহলে হাদিস আন্দোলন, আহলে হাদিস আন্দোলন বাংলাদেশ, তাজির বাংলাদেশ, হায়াতুর ইলাহা, ফোরকান মুভমেন্ট, জামিয়াতুল এহজিয়া এরতাজ, আনজুমানে তালামিজ ইসলামিয়া, কলেমার জামাত, সাহাবা পরিষদ, কাতেল বাহিনী, মুজাহিদিন-ই-তাজিম, এশার বাহিনী, আল ফাহাদ, হরকাতুল মুজাহিদিন ও জাদিদ আল কায়দা, হিজবুল মাহদি, হিজবুল্লাহ ইসলামী সমাজ, তামীরউদ্দীন বাংলাদেশ মতো জঙ্গি সংগঠনগুলোও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থান নিয়ে ছোট ছোট টিম তৈরি করছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাম্পে আরাকানভিত্তিক জঙ্গি ও সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে বলে তথ্য প্রকাশ করেছেন মেজর জেনারেল (অব.) মুনীরুজ্জামান ও তার গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ। মুনীরুজ্জামান তার পর্যবেক্ষণে বলছেন, ‘রোহিঙ্গা সংকটের মধ্য দিয়ে বড় ধরনের উগ্র মতবাদ ছড়িয়ে দেয়ার একটা ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়েছে।

যেখানে বিভিন্ন গোষ্ঠী তাদের উগ্র মতবাদ দিয়ে নিরীহ রোহিঙ্গাদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে।’ বড় ধরনের উগ্র মতবাদ ছড়িয়ে দেয়ার ও বিস্তার লাভ করার একটা ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়েছে। একইসঙ্গে দেখা যাচ্ছে যে, এখান থেকে বিভিন্ন গোষ্ঠী সদস্য সংগ্রহ করার জন্য চেষ্টা করছে।

আমরা ইতোমধ্যে জানি, আরসা নামে যে সংগঠনটি রোহিঙ্গাদের মধ্যে সংগঠিত হয়েছে তারা রো

ভূস্বর্গ কাশ্মীরের একটি গ্রামের নাম ‘বাংলাদেশ’!

ভূস্বর্গ কাশ্মীরে ‘বাংলাদেশ’ নামে একটি গ্রাম রয়েছে। শুনতে অবাক লাগলেও বিষয়টি বাস্তব।

চারদিকে পানি, পেছনে সুউচ্চ পর্বত, সব মিলিয়ে অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এই গ্রামটির। বিখ্যাত উলার হৃদের তীরে এই গ্রামটি অবস্থিত।

অবস্থান
কাশ্মীরের বান্ডিপুরা জেলার আলুসা তহশিলে একটি গ্রামের নাম বাংলাদেশ। বান্ডিপুরা-সোপুরের মধ্য খান দিয়ে মাটির রাস্তা ধরে পাঁচ কিলোমিটার হাটলেই এই গ্রামটি দেখা যাবে।

যে কারণে গ্রামটির নাম হলো ‘বাংলাদেশ’
১৯৭১ সালে জুরিমন নামক এক গ্রামের ৫-৬টি ঘরে আগুন লাগে। গৃহহীন হয়ে পড়েন নিরীহ সাধারণ এই মানুষগুলো। তারা তখন পুড়ে যাওয়া জায়গা থেকে কিছুটা দূরে পার্শ্ববর্তী ফাঁকা জায়গায় সবাই মিলে ঘর তোলেন। সেই বছরই ডিসেম্বরে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম হয়। সেই একই সময় গৃহহীন মানুষগুলো দুঃসময় মোকাবেলা করে শুরু করেন তাদের নতুন জীবন। তাই তারাও তাদের নতুন গ্রামের নাম রাখেন ‘বাংলাদেশ’।

মর্যাদা লাভ
২০১০ সালে বান্ডিপুরার ডিসি অফিস ‘বাংলাদেশ’ নামক এই গ্রামটিকে আলাদা গ্রামের মর্যাদা দেন। ৫/৬ ঘর থেকে শুরু হওয়া বাংলাদেশ গ্রামে এখন আছে পঞ্চাশেরও বেশি ঘর!

জীবিকা নির্বাহ
বাংলাদেশ গ্রামের মানুষের মাছ ধরা মূলত প্রধান জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম। পাশাপাশি পানি বাদাম সংগ্রহ করাও গ্রামবাসীর অন্যতম প্রধান কাজ।

মৌলভীবাজারে ৫০টি দরিদ্র পরিবারকে নৌকা প্রদান!

রফিকুল ইসলাম জসিম::
দরিদ্র ও অসহায় মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাওয়া সেবামূলক বেসরকারি সংস্থা ক্যাপ ফাউন্ডেশন (কমিউনিটি এগেইন্সট পভার্টি) ৫০টি হতদরিদ্র পরিবারের মধ্যে ৫০টি নৌকা বিতরণ করেছে। এছাড়াও জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় গরীব ও অসহায় পরিবারকে সচ্ছল করতে ৬টি পরিবারকে ‘ক্যাপ ভিলেজ কর্নার শপ’ প্রজেক্টের আওতায় ৬টি দোকান কোটা ও দোকানের পণ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে ক্যাপ ফাউন্ডেশন।

শনিবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আকাইলকুড়া ইউনিয়নের বানেশ্রী গ্রামে কাওয়াদিঘীর হাওরে বসবাসরত অন্তেহরী, কাদিপুর, জুমাপুর, কালাইপুরা গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের জীবিকা নির্বাহের জন্য ‘ফিশ ফর লাইফ’ প্রজেক্টের আওতায় ৫০টি নৌকা ও মাছ ধরার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত, প্রবাসীদের অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে ক্যাপ ফাউন্ডেশন। কাওয়াদিঘী হাওরে বসবাসরত দরিদ্র পরিবারগুলো তাদের পরিবারের জীবিকা নির্বাহের জন্য এই নৌকা ও মাছ ধরার সামগ্রী পেয়ে অনেক আনন্দিত।

নৌকা বিতরণে উপস্থিত ছিলেন ক্যাপ ফাউন্ডেশনের (ইউ.কে) সি.ই.ও আব্দুল নূর হুমায়ুন, ক্যাপ ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি এন্ড ট্রেজারার আলম রুফ, এম্বাসেডর মালিক মিয়া, রুহুল তরফদার, প্রজেক্ট কো অরডিনেটর দিলওয়ার হোসেন, অফিস ম্যানেজম্যান্ট জুয়েল মিয়া,কামরুল ইসলাম,জুবায়ের আলী, সুমন আহমদ, জসিম উদ্দিন, শামীম আহমদ ও লিলু হাসান ।

এসময় ক্যাপ ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি এন্ড ট্রেজারার আলম রুফ বলেন, অসহায় পরিবারকে সচ্ছল করতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে ক্যাপ ফাউন্ডেশন। দরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফুটাতে পাড়লে এটাই আমাদের আনন্দ।

জাতীয় শোক দিবস ও গ্রেনেট হামলায় নিহতদের স্বরণে আলোচনা সভা ও শোক র‌্যালি

রফিকুল ইসলাম জসিম :: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে হাজার বছরের শ্রেষ্ট বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪ তম শাহাদৎ বার্ষিকী ও ২১ শে গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল হয়। ২৪ আগস্ট শনিবার বিকাল সাড়ে ৩টায় ভানুগাছ সাবরেজিষ্টার অফিস মাঠে উপজেলা আওয়ামীলীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের আয়োজনে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল হয়।

উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যক্ষ নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও অধ্যক্ষ হেলাল উদ্দিনের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক রফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামীলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মো. সিদ্দেক আলী, আইন বিষয়ক সম্পাদক এম আজাদুর রহমান, উপজেলা আওয়ামীলীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মো.রিয়াজুল ইসলাম, সাবেক জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য আব্দুল মুনিম তরফদার, উপজেলা অওয়ামীলীগের অর্থ সম্পাদক সোলেমান মিয়া।

অন্যান্য মধ্যে বক্তব্য রাখেন, মুন্সিবাজার ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতলিব তরফদার, শমশের নগর ইউপি চেয়ারম্যান মো. জুয়েল আহমেদ, উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক মুহিদ্দিন আহমেদ, সেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য মোশাহিদ আলী, উপজেলা ছাত্রলীগ সম্পাদক সাকের আলী সজীব প্রম‚খ। এছাড়াও উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

দশ বছর ধরে চলছে এই হিন্দি সিরিয়াল!

২০০৯ সালে প্রচারে আসে ‘ইয়ে রিশতা কেয়া কহলাতা হ্যায়’। দশ বছর পেরিয়েও ভারতীয় টিভি সিরিয়ালটি এখনো রয়েছে জনপ্রিয়তার শীর্ষে।

এক দশকে দর্শকদের মতো পরিবর্তন হয়েছে স্টার প্লাসের সিরিয়ালটির চরিত্রগুলোর জীবন পটে। নৈতিক ও অক্ষরাকে নিয়ে শুরু হয়েছিল গল্প, এখন কেন্দ্রীয় চরিত্রে তাদের মেয়ে ও জামাতা।

উদয়পুরের সিংহানিয়া পরিবারে বিয়ে হয়ে আসে মাহেশ্বরী পরিবারের মেয়ে অক্ষরা। একান্নবর্তী শ্বশুরবাড়িতে সবার প্রিয় বউ হয়ে ওঠার গল্প দিয়ে শুরু হয়েছিল ধারাবাহিক।

অক্ষরা ও নৈতিক এক সময়ে আদর্শ স্বামী-স্ত্রীর পোস্টার দম্পতি হয়ে ওঠেন ভারতের ঘরে ঘরে। হিনা খান ও করণ মেহরা পরিণত হন টেলিভিশনের সেরা জুটি।

এখন তাদের মেয়ে নায়রার জীবন নিয়েই ছুটে চলেছে গল্পের গাড়ি, যে চরিত্রে সত্যিই নিজেকে প্রমাণ করেছেন শিবাঙ্গী জোশি। তার সঙ্গে মোহসিন খানের জুটি হিনা-করণের মতোই সফল।

এখনো টিআরপি তালিকায় সেরা স্থানটি দখল করতে সক্ষম ‘ইয়ে রিশতা’। বলিউড লাইফের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সপ্তাহের হিন্দি টেলিভিশনের টিআরপি অনুযায়ী, সর্বোচ্চ স্থানে রয়েছে ‘ইয়ে রিশতা কেয়া কহলতা হ্যায়’।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ধারাবাহিকের চিত্রনাট্য টিম ঠিক জানে, কখন কেমন সংকট তৈরি করে গল্পের প্রতি দর্শককে চুম্বকের মতো টেনে রাখতে হয়।এই মুহূর্তে যেমন কার্তিক ও নায়রার জীবনে এক ধরনের ঝড় উঠেছে বলা যায়। ছেলে কায়রভের সার্জারি। কী হবে সার্জারির পরিণাম, সেই ভাবনায় অস্থির দুই চরিত্র। দর্শকের চোখ সে দিকে।

এমনকি ধারাবাহিকের গল্পের এই বিশেষ পর্যায়টির জন্য হ্যাশট্যাগও তৈরি হয়ে গেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। কায়রভের সার্জারি প্রসঙ্গে তৈরি হয়েছে নতুন হ্যাশট্যাগ– স্টে স্ট্রং কায়রা। বোঝাই যাচ্ছে, দর্শক আছেন বলেই তাদের জীবনের সমান্তরালে চলমান এই গল্প।

কমলগঞ্জে বর্ণাঢ্য নানা আয়োজনের মণিপুরি ভাষা দিবস পালিত!  


 রফিকুল ইসলাম জসিম ::  ২৩ আগস্ট (শুক্রবার) মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলাধীন তেতইগাঁওয়ে অবস্থিত মণিপুরী কালচারেল কমপ্লেক্স মিলনায়তনে সকাল ১০ ঘটিকায় বাংলাদেশে ‘মণিপুরী ভাষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা’ আয়োজনে  প্রতি বছরের মতো এবারেও  নানা আনুষ্ঠানিকতা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে মণিপুরী ভাষা দিবস উদযাপন করেন। 
২০ আগস্ট – মণিপুরী ভাষা দিবস।  দীর্ঘ এক রক্তক্ষয়ী আন্দোলন-সংগ্রামের ফলশ্রুতিতে শেষ পর্যন্ত ভারত সরকার মণিপুরী ভাষাকে ১৯৯২ সালের ২০ আগস্ট তারিখে সংবিধানের অষ্টম তপশীলে অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। একারণেই মণিপুরী ভাষাভাষী জনগণ ২০ আগস্টকে ‘মণিপুরী ভাষা দিবস’ হিসেবে পালন করে থাকে।

বাংলাদেশে ও ‘মণিপুরী ভাষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা’ গঠিত হওয়ার পর ২০১২ সাল থেকে প্রতি বছর নানা আনুষ্ঠানিকতা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে মণিপুরী ভাষা দিবস উদযাপন করে এসেছে। এবারও এই দিবস উপলক্ষে ২৩ আগষ্ট রোজ শুক্রবার দিনব্যাপী নানা কর্মসূচিসহ আলোচনা সভায়  মণিপুরি ভাষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা সভাপতি লেখক কবি এ কে শেরাম এর সভাপতিত্বেপ্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জে  স্থানীয় সরকার উপপরিচালক মো: নুরুল ইসলাম। 
বিশেষ অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন  বিভাগীয় কার্যালয় সিলেট সমাজসেবা পরিচালক সন্দীপ কুমার সিংহ, ঢাকা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এর উপ-করকমিশনার শান্ত কুমার সিংহ, কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বিলকিস বেগম,মণিপুরি কালচারাল কমপ্লেক্স এর আহ্বায়ক জয়ন্ত কুমার সিংহ। 
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মণিপুরী ভাষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এল ইবুংহাল শ্যামল। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, খোইরাম কামিনী সিংহ, আব্দুস সামাদ, মো. আবদুল মতিন, অহৈবম রণজিৎ, হিরন্ময় সিংহ, চন্দ্রজিৎ সিংহ, সমেন্দ্র সিংহ প্রমুখ।
আলোচনা সভায় সঞ্চালনায় ছিলেন কৃষ্ণচন্দ্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শান্ত কুমার সিংহ আরো উপস্থিত ছিলেন মীতৈ ও পাঙাল সম্প্রদায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও শিক্ষক সমাজ। পরে মণিপুরী লিপির উপর কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

 

এসময় বক্তারা বলেন, মণিপুরী জাতির মাতৃভাষার নাম ‘মণিপুরী ভাষা’। তিব্বত-ব্রহ্ম ভাষাপরিবারের অন্তর্গত এই ভাষা খুবই প্রাচীন এবং উৎকর্ষের মানদণ্ডেও যথেষ্ট সমাদৃত। অন্তত খ্রিষ্টীয় তৃতীয় শতাব্দী থেকেই মণিপুরী লিখিত সাহিত্যের সূচনা হয়েছে বলে পণ্ডিতেরা মনে করেন। মণিপুরীদের আদি ও মূলভূমি, এককালের স্বাধীন রাজ্য, বর্তমান ভারতের অন্যতম রাজ্য, মণিপুর। মণিপুর ছাড়াও ভারতের আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয়, নাগাল্যাণ্ডসহ বিভিন্ন রাজ্য এবং মায়ানমার ও বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মণিপুরী বসতি আছে। মণিপুরী ভাষাভাষীর সংখ্যা প্রায় ৩০ লক্ষ। 


মণিপুরী ভাষার নিজস্ব বর্ণমালা আছে। এই ভাষায় রচিত সাহিত্য মান ও সংখ্যার বিচারে খুবই উল্লেখযোগ্য। মণিপুরী ভাষায় রচিত হয়েছে চৌত্রিশ হাজার পদ সম্বলিত মহাকাব্য ‘খম্বা-থোইবী শৈরেং’। মণিপুরী ভাষা সেই প্রাচীনকাল থেকেই মণিপুরের রাজ্যভাষা হিসেবে প্রচলিত হয়ে এসেছে। কিন্তু ভারতে মণিপুরী ভাষা নানা কারণে উপেক্ষিত থাকায় মণিপুরীভাষীরা এই ভাষাকে ভারতীয় সংবিধানের অষ্টম তপশীলে অন্তর্ভুক্ত করে ভারতের অন্যতম জাতীয় ভাষা হিসেবে ১৯৯২ সালের ২০ আগস্ট তারিখে স্বীকৃতি লাভ করেন।  

ছবি ব্লগ – রিইউনিয়ন তেতই গাঁও রসিদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় S.S.C -২০১২ ব্যাচ -2019

“এসো মিলি ঐকতানে, আমাদেরই স্কুল প্রাঙ্গনে” এই স্লোগান নিয়ে গত ১৩ আগষ্ট তেতইগাঁও রসিদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রাক্তন শিক্ষার্থী ১২ ব্যাচের রিইউনিয়ন অনুষ্ঠিত হয়। এই স্লোগান যেন সত্যিই বাস্তবে রূপ নিয়েছিল।

বন্ধুত্ব নয় ভ্রাতৃত্ব এ চেতনাকে বুকে ধারনা করে কমলগঞ্জের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী তেতই গাঁও রসিদ উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি ২০১২ ব্যাচের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় এক পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের। এ জন্য বেছে নেওয়া হয় ঈদুল আযাহার দ্বিতীয় দিনকে। রিইউনিয়ন উপলক্ষে সারাদিনব্যাপী ছিল নানা আয়োজন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে প্রতিটা আয়োজনেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল স্কুল জীবনের স্মৃতিচারণ-

লিখেছেন – রফিকুল ইসলাম জসিম।

রিইউনিয়ন ছবি – স্যারদের সঙ্গে ১২ ব্যাচে সকলের সাথে। “

‘‘৭ বছর ধরে অনেকের সঙ্গেই ছিল না যোগাযোগ। অথচ স্কুল জীবনের এসব সহপাঠীদের সঙ্গে ছিল ভিন্ন ধরনের এক সম্পর্ক।

স্কুলে নতুন ভবনের সামনে তোলা ছবি।

বর্তমানের কর্ম আর ব্যস্ত জীবনে সেইসব বন্ধুদের কয়েকজনের সঙ্গে হয়তো নিয়মিত যোগাযোগ কিন্তু ক্লাসের বেঞ্চে বসে থাকা সেসব পুরানো বন্ধুদের অনেকের সঙ্গেই নেই দেখা। রয়ে গেছে দূরত্ব। তবে ৭ বছর পরেও সেই সম্পর্ক নষ্ট হয়নি। কমেনি নিজেদের মধ্যে পারস্পপরিক হৃদ্যতা।

মৌলভীবাজারের  কমলগঞ্জ  উপজেলায় আদমপুর বাজারে অবস্থিত তেতইগাঁও রসিদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের  প্রাক্তন  শিক্ষার্থী ২০১২ইং ব্যাচের পূর্ণমিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।  

শিক্ষকের সাথে  এসএসসি  ২০১২ ব্যাচের  কেক কেটে উদ্বোধনী

“এসো মিলি ঐকতানে, আমাদেরই স্কুল প্রাঙ্গনে ”  এই স্লোগান কে সামনে রেখে, গত ১৩ই আগষ্ট  ২০১৯ইং মঙ্গলবার সকাল ৯টায় মিলন মেলার  এসএসসি  ২০১২ ব্যাচের  কেক কেটে উদ্বোধনী করেন।

সেই স্কুল মাঠ, সেই ঘন্টা, সেই এসেম্বলি,সেই দুরন্তপনা, সেই চেনামুখ মাঝে কেটে গেছে সাতটা বছর। এ যেন পার করা স্মৃতিময় সময়কে আবার যেন টাইম মেশিনে করে ফিরিয়ে আনার একটুকরো প্রয়াস পাই রিইউনিয়নে।


দীর্ঘদিন যোগাযোগ না থাকা বন্ধুদের পেয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। খোঁজ নেন পরিবার-পরিজনের। অনেকের চেহারা চেনা চেনা লাগলেও পরিচয় জেনেই নিশ্চিত হতে হয়েছে তিনিই সেই ১২ ব্যাচের বন্ধু  বান্ধবী। 

২০১২ সালে নাহ? ২০১৯ সালে ৭ বছর পর দেখা সবার সাথে দেখাশুনা । কোন এক সময়ে যাদের ত্রুাশ খেলে মন ভরে যেত অনেকে । তাদের সাথে অনেক মিশতে কিন্তু ব্যাস্ততায় অনেক দিন দেখা হয় নাহ। সেদিন দেখা হাওয়ার পর পুরাতন ক্রাশ আবার ব্যাচের অনেকে পাগল হয়ে যায়।

২০১২ সালে এই স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেছেন। মাঠের এক কোণে আরেক বান্ধবীকে পেয়ে ছবি তুলে রাখতে ভোলেননি। ‘যখন শুনলাম, ঈদে পুনর্মিলনী হবে, তখন থেকেই অপেক্ষা করছিলাম কবে রিইউনিয়ন হবে। অনেক বন্ধুদের হারিয়ে ফেলেছিলাম। তাই অনেককেই আজ খুঁজে পেলাম। এ আনন্দ বলে বোঝানো যাবে না। ’

একত্রিত হওয়ার পর আবার গানে গানে বাদ্যযন্ত্রের তালে নাচে হারিয়ে যায় ক্ষণিক সময়ের রঙিন ভুবনে।’এভাবেই বাধ ভাঙা উল্লাস আর উচ্ছাসের মাধ্যমে পালিত হল তেতই গাঁও রসিদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০১২ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পূনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়। 

ছাত্ররা দুপুরে মেতে ওঠেন নিজেদের ভেতর আবীর খেলায়। দীর্ঘদিন পর সবাইকে একস্থানে পেয়ে যেন উচ্ছাসের বাধ ভেঙেছিল সবার মাঝেই। কে কাকে কত রং মাখিয়ে পারে এ প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠে সবাই। মুহুর্তের মধ্যেই সবার গেঞ্জি, হাত, মুখ নানা রংয়ের আবীরে ছেয়ে যায়। এ আবীর যেন দীর্ঘদিন পর ফিরে পাওয়া খুশিরই বহিঃপ্রকাশ।

তেতইগাঁও রসিদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের  মতবিনিময় সভা হয়। উক্ত সভায় তেতই গাঁও রসিদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

প্রাক্তন ছাএ আব্দুল মজিদ ও উর্মি সিনহা  এর সঞ্চালনায়  বক্তব্য  রাখেন শিক্ষক শান্তমনি সিনহা,  শিক্ষিকা শাহেনা বেগম, প্রাক্তন   শিক্ষক রসিদ উদ্দিন,শিক্ষক রণজিৎ সিংহ, শিক্ষক কামাল উদ্দিন, শিক্ষক ভুবনমোহন সিংহ।  

এসময় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ব্রজেন্দ্রকুমার সিংহ, হাফিজুর রহমান, মোঃ কমাল হোসেন, রবিকুমার সিংহ।প্রয়াত শিক্ষক ও ছাত্রদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করা হয়।

সারাদিন খেলাধুলা, আনন্দ ভাগাভাগিতে ব্যস্ত সময় কাটান ছাত্র শিক্ষকগন। এবারই প্রথম আনুষ্ঠানিক ভাবে পুনর্মিলনী পালন করা হয়, এর আগে অন্যান্য দুই ব্যাচ পুনর্মিলনী করলেও ১২ ইং ব্যাচের মত এতো জাকজমক পুর্ণ করতে পারেনি। শিক্ষকগণ এইধরনের অনুষ্ঠান  পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পরেন ও তাদের অনুভূতি এবং স্মৃতি চারণ করেন। 

আমাদের স্কুল টা আজও দাড়িয়ে আছে।  যখন স্কুলের সামনের  রাস্তা দিয়ে যাই স্কুলের দিকে তাকাতে পারি না  । মনে হয় যেন কোন স্নেহময়ী নারি আমায় হাত বাড়িয়ে ডাকছে। আমার ভিতরে তখন মোচড় দিয়ে ওঠে।স্কুল ছেড়ে এসেছি অনেক আগে, এত দিন পরেও সেই বন্ধুদের ভুলতে পারি না।

জীবনে আমি না শুধু , এই বিদ্যালয়ের প্রতিটা ছাত্র ছাত্রী ই চাইবে টাইম মেশিন পেলে সেই স্কুল লাইফ টায় ফির যেতে । অনেক অনেক বেশি মিস করি সেই দিনগুলি।

মৌলভীবাজারে এডিসি হলেন কানাইঘাটের ইউএনও তানিয়া

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া সুলতানা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসাবে পদোন্নতি পেয়েছেন। তাকে মৌলভীবাজার জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদে বদলি করা হয়েছে। 

জানা যায়, গত ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, মাঠ প্রশাসন শাখার-২ এর সিনিয়র সহকারী সচিব শেখ রাসেল হাসান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তানিয়া সুলতানাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা থেকে পদোন্নতি দিয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক করা হয়েছে। 

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া সুলতানা পদোন্নতি হওয়ায় বুধবার দিনভর তার কার্যালয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, সূধীজন ও সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীরা তার সাথে সাক্ষাত করে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

Design a site like this with WordPress.com
Get started