পুলিশের ওপর বোমা হামলার দায় স্বীকার আইএসের

মণিপুরি মুসলিম বিডি ডেস্ক: রাজধানীর সাইন্সল্যাব এলাকায় পুলিশের ওপর বোমা হামলার ঘটনা দায় স্বীকার করেছে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটস (আইএস)। জিহাদি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা সাইট ইন্টেলিজেন্সের মাধ্যমে শনিবার রাতে তারা এই দায় স্বীকার করে।

সাইট ইন্টেলিজেন্স জানায়, ঢাকায় পুলিশকে লক্ষ্য করে অত্যাধুনিক আইইডি (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে আইএস। এতে দুই পুলিশ আহত হয়েছে।

শনিবার রাতে রাজধানীর মিরপুর রোডের সাইন্সল্যাব মোড়ে দুর্বত্তরা পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় । এ ঘটনায় সেখানে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের কনস্টেবল আমিনুল ইসলাম ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর নিরাপত্তা দলের অফিসার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শাহাবুদ্দিন আহত হয়েছেন। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, আহত দুজন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলামের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। মন্ত্রীর  নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের গাড়িটি সামনে ছিল। একজন পুলিশ সদস্য প্রটেকশনের গাড়ি থেকে নেমে ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে যানজট নিরসনে কাজ করছিলেন। তখনই বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। মন্ত্রী সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রাজধানীতে পুলিশের ওপর বোমা হামলা, আহত ২

রাজধানীর মিরপুর রোডের সাইন্সল্যাব মোড়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এটি হাত বোমা নাকি অন্য কিছু এ বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

শনিবার (৩১ আগস্ট) রাত ৯টার দিকের এ ঘটনা ঘটে। এ সময় সেখানে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের কনস্টেবল আমিনুল ইসলাম (৩২), একজন মন্ত্রীর নিরাপত্তা দলের অফিসার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শাহাবুদ্দিন আহত হয়েছেন।

নিউ মার্কেট থানার ডিউটি অফিসার আবু সালেহ বলেন, বোমা বিস্ফোরণে পুলিশ সদস্য আহতের সংবাদ শুনেছি। তাদের নাম এখনও নিশ্চিত হতে পারিনি। ঘটনাস্থলে ওসিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত আছেন।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) বাচ্চু মিয়া বলেন, আমিনুল হাতের আঙুলে ও শাহবুদ্দীন দুই পায়ে আঘাত পেয়েছেন। তাদের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

এ ঘটনায় সাইন্সল্যাব মোড়ের ঘটনাস্থল কর্ডন করে রেখেছে পুলিশ। ওই রোডে আপাতত যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট বিষয়

সায়েন্সল্যাব বোমা পুলিশ

প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় কলেজছাত্রীকে রাস্তা ফেলে নির্যাতন

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে প্রেমে সায় না দেয়ায় বাড়ি ফেরার পথে বখাটের হামলায় আহত হয়েছে উপজেলার পতনঊষার স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক ছাত্রী। নিজ বাড়ির পাশে রাস্তা গতিরোধ করে টানা হেচড়ার পর মাটিতে ফেলে বুকের ওপর উঠে ছুরি দিয়ে আঘাতের চেষ্টাকালে সহপাঠীদের চিৎকারে রক্ষা পায় ওই ছাত্রী।

শনিবার বেলা আড়াইটায় পতনঊষার ইউনিয়নের শ্রীসূর্য্য টিলাগড় মসজিদের পাশে বর্বরোচিত এ ঘটনা ঘটে।

সরেজমিনে কলেজ শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতিদিনের মতো কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে বিউটি আক্তার (১৮) তার সহপাঠীসহ তিন শিক্ষার্থী টিলাগড় মসজিদের পাশে আসার সঙ্গে সঙ্গে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে টিলাগড় গ্রামের মিলন খানের ছেলে সাইফুল খান (২৩) মেয়েটির রাস্তা গতিরোধ করে। সেখানে তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়া হয়। এতে মেয়েটি সায় না দেয়ায় তাকে টানা হেচড়া করে মাটিতে ফেলে বুকের ওপর ছুরি দিয়ে আঘাতের চেষ্টা করে।

এ সময় অন্য শিক্ষার্থীদের চিৎকারে বিউটির স্বর্ণের চেইন, ঘড়ি, নাকফুল, কানের দুল নিয়ে পালিয়ে যায় ওই বখাটে। পরে সহপাঠী লোবনা বেগম, আকলিমা বেগম বিউটিকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যায়। বিউটি পতনঊষার স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী।

বিউটির বাবা আব্দুল করিম, স্থানীয় মুরুব্বি ওয়াজিদ মিয়া জানান, বিষয়টি কলেজ শিক্ষক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পুলিশ প্রশাসন ও কমলগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। আঘাতে মেয়ের শারীরিক অবস্থার কিছুটা অবনতি হওয়ায় সন্ধ্যায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

খবর পেয়ে শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় পতনঊষার স্কুল অ্যান্ড কলেজের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান তওফিক আহমদ বাবু, কলেজ অধ্যক্ষ ফয়েজ আহমদ, শমসেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আনজির ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ও মেয়ের জবানবন্দি গ্রহণ করেন।

পতনঊষার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও পতনঊষার স্কুল অ্যান্ড কলেজের সভাপতি তওফিক আহমদ বাবু ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। এ ধরনের ঘটনায় কোনো ছাড় দেয়া হবে না। এর আগেও ওই ছেলের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের উত্যক্ত করার অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় নির্যাতিত মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হবে এবং কোনো ছাড় দেয়া হবে না।

অভিযুক্ত সাইফুল খানের বাবা মিলন খান ছাত্রীর ওপর হামলার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমার ছেলেটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ছেলের যন্ত্রণায় আমি নিজেই অতিষ্ঠ। গত ঈদের দিনে সে তার মাকেও মারধর করেছে। তাকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া উচিত।

শমসেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আনজির বলেন, কলেজ ছাত্রীর ওপর হামলাকারী ছেলে খুবই খারাপ। ছেলের বাবার বিরুদ্ধেও আগে অনেক অভিযোগ রয়েছে। আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং মেয়ের বক্তব্য গ্রহণ করেছি। ছেলেকে পাওয়া যায়নি। অভিযোগ দেয়ার পর আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

কাশ্মীরে ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুঁখে দাড়াতে হবে : আল্লামা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী

মণিপুরি মুসলিম বিডি | ডেস্ক রিপোর্ট


বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীর আল্লামা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী বলেছেন, কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বিলোপ করার মাধ্যমে শুধু ভারত নয়, গোটা উপমহাদেশকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। বাবরী মসজিদ ধ্বংষের হোতা ও গুজরাটের কসাই উগ্র মোদি সরকার ভারতীয় সংবিধান পরিবর্তন করে কাশ্মীরীদের অধিকার খর্ব করেছে। সেখানে ভারতীয় সেনাবাহিনীর বর্বর নির্যাতন ও নৃশংস গণহত্যা চলছে। কাশ্মীরকে দখল এবং মুসলিম শূন্য করে হিন্দুত্ববাদী রামরাজ্য কায়েমের ষড়যন্ত্র চলছে। যা কোন শান্তিকামী মানুষ মেনে নিতে পারে না। কাশ্মীরীদের রক্ষায় বিশ্ববাসিকে জোড়ালো ভুমিকা রেখে কাশ্মীরীদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, ভারতের কাশ্মীর দখল এবং প্রতিবেশী দেশসমূহকে গ্রাস করার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে বিশ্ববাসীকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে।

আজ (৩১ আগষ্ট} শনিবার বিকালে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে কাশ্মীরে হত্যা ও নির্যাতন বন্ধ ও তাদের স্বাধীনতার দাবীতে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন, দলের মহাসচিব মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও ঢাকা মহানগরীর আমীর মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আব্দুল মান্নান, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি সুলতান মহিউদ্দীন, আলহাজ্ব আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সি, মাওলানা ফিরোজ আশরাফী, হাজী জালাল উদ্দিন বকুল, মাওলানা সাইফুল ইসলাম সুনামগঞ্জী, মুফতি মোর্শারফ হেসেন, মাওলানা মাহবুবুর রহমান,মাওলানা আখতারুজ্জামান সাদেকী, মাওলানা সাজেদুর রহমান ফয়েজী, জুনাঈদ আহমাদ কাটখালী, মুফতি ইলিয়াস মাদারীপুরী, মুফতি আ ফ ম আকরাম হুসাইন, মুফতি আব্দুর রহীম কাসেমী, মুফতি আলী হায়দার, মাওলানা শেখ সাদী,মাওলানা নুরুল্লাহ হাশেমী প্রমূখ।

মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী বলেন কাশ্মীর নিয়ে কোন যুদ্ধ দেখতে চাই না। অস্ত্রের জোরে কাশ্মীর মুসলমানদের স্বাধীনতা আন্দোলন স্তব্দ করা যাবে না। ভারতকে কাশ্মীরের শাসন ক্ষমতা তাদের হাতে ফিরিয়ে দিতে হবে।

মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী বলেন, ভারত সংবিধানের ৩৭০ ধারাই প্রমাণ করে কাশ্মীর ভারতের অধীনস্থ কোন রাজ্য নয়। এই ধারা বাতিলের অর্থ হচ্ছে পররাজ্য দখল ও আগ্রাসন। আজ কাশ্মীর দখল হলে কাল তারা প্রতিবেশী অন্য দেশ দখলের ষড়যন্ত্র করবে।

মুফতি সুলতান মহিউদ্দীন বলেন, রোহিঙ্গাদের মত কাশ্মীর ও আসামের লক্ষ লক্ষ নাগরিককে বিতাড়িত ও রাষ্ট্রহীন করার ষড়যন্ত্র করছে খুনি মোদী সরকার। যে কোন মূল্যে কাশ্মীর আজাদ করতে হবে। কাশ্মীরকে স্বাধীন রাষ্ট্র মেনে নেয়া না হলে ভারত ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে।

আলহাজ্ব আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সি বলেন, কাশ্মীর ইস্যু ভারতের অভ্যন্তরীন বিয়য় নয়, বরং এটি ফিলিস্তিনের মত একটি জাতীয় সমস্যা এবং বিশ্বশান্তি বিনষ্টের পায়তারা। মোদী সরকারের অধীনে ভারতে মুসলমানরা নিরাপদ নয়।

বক্তারা বলেন, সম্প্রতি বিজিপি ত্রিপুরায় ১১টি সমাবেশ করে পার্বত্য চট্টগ্রামকে ভারতের অংশ দাবী করেছে এবং তা দখলের হুমকি দিয়েছে। আসামের ৪০ লক্ষাধিক মুসলিম নাগরিকদেরকে বিদেশী (বাংলাদেশী) বলে তালিকা করেছে । তাদের নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার বতিল করা হয়েছে। সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোব মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি পল্টন মোড় হয়ে নাইটএঙ্গেল গিয়ে শেষ হয়েছে।

১০ সেপ্টেম্বর পবিত্র আশুরা

বাংলাদেশের আকাশে শনিবার সন্ধ্যায় পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা গেছে। রোববার (১ সেপ্টেম্বর) শুরু হচ্ছে নতুন বছর ১৪৪১ হিজরি। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার (১০ মহররম) পবিত্র আশুরা পালিত হবে।

রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে শনিবার সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি শেখ মো. আব্দুল্লাহ।

তিনি সভায় জানান, সকল জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর, মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র ও দূর অনুধাবন কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের আকাশে হিজরি ১৪৪১ সনের মহররম মাসের চাঁদ দেখা গেছে। রোববার থেকে মহররম মাস গণনা শুরু হবে। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর (১০ মহররম) পবিত্র আশুরা পালিত হবে।

হিজরি সনের প্রথম মাস হচ্ছে মহররম। আশুরার দিন দেশে নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি থাকে। শিয়ারা বিশেষভাবে আশুরা পালন করে থাকে।
কারবালা প্রান্তরে হজরত ইমাম হোসেন (রা.) এর শাহাদাতবরণের শোকাবহ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মূলত পালিত হয় আশুরা। তবে ইসলামের ইতিহাসে পবিত্র আশুরা অসংখ্য তাৎপর্যময় ঘটনায় উজ্জল হয়ে আছে।

এই দুনিয়া সৃষ্টি, হজরত আইয়ুব (আ.) এর কঠিন পীড়া থেকে মুক্তি, হজরত ঈসা (আ.) এর আসমানে জীবিত অবস্থায় উঠে যাওয়াসহ অসংখ্য ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে মহররমের ১০ তারিখ অবিস্মরণীয় ও মহিমান্বিত।

এই পৃথিবীর মহাপ্রলয় বা কিয়ামত মহররমের ১০ তারিখে ঘটবে বলে বিভিন্ন গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে।

সভায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্মসচিব মো. খলিলুর রহমান, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. জহির আহমদ, ওয়াকফ প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলাম, অতিরিক্ত প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফায়জুল হক, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সচিব কাজী নুরুল ইসলাম, সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়ার অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আলমগীর রহমান, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান শাহ মো. মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. আবদুর রহমান, বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, চকবাজার শাহী জামে মসজিদের খতীব মাওলানা শেখ নাঈম রেজওয়ান ও লালবাগ শাহী জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মুফতি নেয়ামত উল্লাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

দুই বাংলার কবি সম্মেলন!

নিজস্ব প্রতিবেদক, টাঙ্গাইল : ‘জনকের জন্য কবিতা’ শ্লোগানকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ও ভারতের কবিদের নিয়ে টাঙ্গাইলে দিনব্যাপী কবি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন স্বকাল পরিষদ এবং সাহিত্যের ছোটকাগজ ‘কথা’ শহরের সাধারণ গ্রন্থাগার মিলনায়তনে এই সম্মেলনের আয়োজন করে।

শনিবার সকালে টাঙ্গাইলের জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান ফারুক অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।

টাঙ্গাইল সাধারণ গ্রন্থাগারের সহ-সভাপতি খন্দকার নাজিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী পর্বে বক্তব্য রাখেন ষাট দশকের অন্যতম কবি ও মুক্তিযোদ্ধা কবি বুলবুল খান মাহবুব, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী কবি বুলবুল মহলানবীশ, বাংলাদেশ টেলিভিশন বার্তা সম্পাদক কবি নাছির আহম্মেদ, কলকাতা থেকে আগত কবি সৌমিত বসু, সত্তর দশকের অন্যতম কবি ফারুক মাহমুদ প্রমুখ। আলোচনা শেষে কবিতা পাঠে অংশ নেন কবিরা।

‘ আসমানি পিরিত ‘ নিয়ে হাজির মাহি

walton

চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি অভিনীত ‘অবতার’ মুক্তি পেতে যাচ্ছে ১৩ সেপ্টেম্বর। মুক্তিকে সামনে রেখে প্রকাশ পেয়েছে সিনেমাটির গান ‘আসমানি পিরিত’। বঙ্গবিডির ইউটিউব চ্যানেলে গানটি মুক্তি পেয়েছে।

php glass

সুফি ঘরনার গানটির কথা লিখছেন তারিক তুহিন। জাভেদ আহমেদ কিসলুর সুর ও সঙ্গীতায়োজনে গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন পুলক অধিকারী ও ইসরাত জাহান জুঁই। রোহান মাহমুদের কোরিওগ্রাফিতে গানটিতে পারফরমেন্স করেছেন অবতার নায়িকা মাহিয়া মাহি ও নায়ক জেএইচ রুশো। মাহমুদ হাসান শিকদারের পরিচালনায় দৃশ্যটি চিত্রায়ন করেছেন মেহেদী রনি। 

সাগা এন্টারটেইনমেন্টের প্রযোজনা ও পরিবেশনায় ‘অবতার’র সিনেমায় আরও অভিনয় করেছেন আমিন খান, মিশা সওদাগর, রাইসুল ইসলাম আসাদ, শিবা সানু, সুব্রত এবং নবাগত জে এইচ রুশো প্রমুখ।

**‘আসমানি পিরিত’ গান দেখতে ক্লিক করুন

আসমানি পিরিত

জানাযার নামাযের পর মুনাজাত দেয়া যাবে কি?

জিজ্ঞাসা–:hazrat , assalamu alaikum, murdarer janazar por doa kora bidat ki na , jante chai,

– mohammad mizanoor Rahman : mizu9941@gmail.com


জবাব: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
জানাযার নামাজ-ই মূলত দোয়া, তাই জানাযার নামাজের পর দোয়া-মুনাজাত করা যাবে না। তবে দাফন করার পর দোয়া করা শুধু জায়েজই নয় বরং উত্তম। (আবু দাউদ ২/৪৫৯)
তবে মৃতকে মাটিতে দাফন করার পর, তার কবরের পাশে কিবলামুখী হয়ে হাত তুলে দোয়া করা জায়েজ আছে। কেননা হাদিসে এসেছে,
عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ، قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، إِذَا فَرَغَ مِنْ دَفْنِ الْمَيِّتِ وَقَفَ عَلَيْهِ، فَقَالَ: «اسْتَغْفِرُوا لِأَخِيكُمْ، وَسَلُوا لَهُ بِالتَّثْبِيتِ، فَإِنَّهُ الْآنَ يُسْأَلُ
হযরত উসমান বিন আফফান রাযি‏.‏ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মৃতের দাফন থেকে ফারিগ হতেন, তখন তিনি সেখানে দাঁড়াতেন এবং বলতেন, তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য দোয়া কর, এবং তার জন্য দৃঢ়তার দোয়া কর। কেননা, এখনি তাকে সুওয়াল করা হবে।(সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৩২২১)
এ বিষয়ে সঊদী আরবের সর্বোচ্চ ফতওয়া বোর্ড ফাতাওয়া লাজনাহ আদ-দায়েমাকে জিজ্ঞেস করা হলে উত্তরে বলা হয়-
الدعاء عبادة من العبادات، والعبادات مبنية على التوقيف، فلا يجوز لأحد أن يتعبد بما لم يشرعه الله. ولم يثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم أنه دعا بصحابته على جنازة ما بعد الفراغ من الصلاة عليها، والثابت عنه صلى الله عليه وسلم أنه كان يقف على القبر بعد أن يسوى على صاحبه ويقول: استغفروا لأخيكم واسألوا له التثبيت، فإنه الآن يسأل- وبما تقدم يتبين أن الصواب: القول بعدم جواز الدعاء بصفة جماعية بعد الفراغ من الصلاة على الميت، وأن ذلك بدعة-
‘দোয়া অন্যতম ইবাদত। আর ইবাদত দলীলের উপর নির্ভরশীল। অতএব কারো জন্য শরী‘আত বহির্ভূত পন্থায় ইবাদত করা জায়েয হবে না। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সাব্যস্ত হয় নি যে, তিনি জানাযার নামাজের পরে সাহাবীদের নিয়ে দোয়া করেছেন। তাঁর থেকে যা সাব্যস্ত হয়েছে তা হল- তাঁর সাহাবীদের কবর সমান করা হলে তিনি কবরের পাশে দাঁড়িয়ে বলতেন, ‘তোমাদের ভাইয়ের জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং ঈমানের উপর দৃঢ় রাখার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া কর। কারণ এখনই তাকে প্রশ্ন করা হবে’। পূর্বের আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, মাইয়েতের জন্য নামাজ আদায় করার পর দলবদ্ধভাবে মুনাজাত করা জায়েয না হওয়াই সঠিক। কারণ তা বিদ‘আত’।(ফাতাওয়া লাজনাহ দায়েমাহ ৯/১৬, ফতওয়া নং ২২৫১)
والله اعلم بالصواب

উত্তর -মাওলানা উমায়ের কোব্বাদী

যে কারণে টেস্ট দলে নেই মোস্তাফিজ

সফরকারী আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের জন্য পনেরো সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তাতে বাদ পড়েছেন ‘কাটার মাস্টার’ মোস্তাফিজুর রহমান। তার জায়গায় দলে ডাক পেয়েছেন আরেক পেসার তাসকিন আহমেদ।

কন্ডিশনিং ক্যাম্প চলকালে পিটে চোট পেয়েছিলেন মোস্তাফিজ।এই চোটই তাকে আফগানিস্তানের বিপক্ষে দল থেকে ছিটকে দিয়েছে বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু জানালেন, সামনে অনেক খেলা থাকায় মোস্তাফিজকে নিয়ে কোন ঝুঁকি নিতে চান না তারা।

শুক্রবার ঘোষিত বাংলাদেশের পনেরো সদস্যের দলে পেস আক্রমণে তাসকিনের পাশাপাশি রয়েছেন আবু জায়েদ রাহি ও এবাদত হোসেন। মোস্তাফিজের না থাকার ব্যাখ্যায় প্রধান নির্বাচক বলেন, “কন্ডিশনিং ক্যাম্পের মধ্যে মোস্তাফিজের হালকা ইনজুরি পেয়েছি আমরা। সামনে অনেকগুলো টেস্ট ম্যাচ আছে। ভারত সফরও আছে। টি-টোয়েন্টি ত্রিদেশীয় সিরিজ আছে। এই কারণে তাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। ”

আগামী ৫ সেপ্টেম্বর সিরিজের একমাত্র টেস্টে চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান।এর আগে ১ সেপ্টেম্বর বিসিবি একাদশের বিপক্ষে দুদিনের একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে আফগানরা।

বাংলাদেশ টেস্ট দল

সৌম্য সরকার, সাদমান ইসলাম, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), লিটন দাস, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মোহাম্মদ মিঠুন, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, নাঈম হাসান, আবু জায়েদ, তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেন

Q

আসামে বাদ পড়াদের বিতাড়নে মোদি সরকারের কৌশল

ভারতের আসাম রাজ্যের চূড়ান্ত জাতীয় নাগরিক তালিকা (এনআরসি) প্রকাশ হয়েছে। শনিবার প্রকাশিত ওই তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ১৯ লাখ মানুষ। এনআরসি থেকে বাদ পড়াদের কীভাবে বিতাড়ন করা হবে সেই কৌশল নির্ধারণ করছে মোদি নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার।

আসামের মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেছেন, ‘অবৈধ অভিবাসীদের কীভাবে বিতাড়ন করতে পারি সে সম্পর্কে নতুন কৌশল গ্রহণে কেন্দ্র ও আসাম সরকার মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বিপুল সংখ্যক বাঙালি হিন্দুকে এনআরসি থেকে বাদ দেয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বহু বিজেপি নেতাও।’

তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ সলমারা ও ধুবরির মতো বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া জেলাগুলোতে মানুষের বাদ পড়ার হার সর্বনিম্ন অথচ ভূমিপুত্র জেলায় প্রচুর হিন্দু মানুষের নাম বাদ পড়েছে। এটি কীভাবে হতে পারে? আমরা বিষয়টি নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন।’

বিজেপি নেতা হিমন্ত বিশ্বশর্মা আরও বলেন, ‘আমরা খসড়া তালিকার ঠিক পরেই এনআরসি-র বর্তমান রূপ নিয়ে আশা হারিয়ে ফেলেছি। যখন এত সংখ্যক প্রকৃত ভারতীয়রাই তালিকার বাইরে থাকেন, তখন আপনি কীভাবে দাবি করতে পারেন যে, এই নাগরিক তালিকা অসমিয়া সমাজের মঙ্গল করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এনআরসি কোনও বাংলাদেশিকে বহিষ্কারের জন্য কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল বা ফাইনাল নয়। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন এবং আপনি বিজেপি আমলে এমন অনেক ফাইনাল দেখতে পাবেন।’

কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্য বলেছে, চূড়ান্ত নাগরিক তালিকায় স্থান না পাওয়া ব্যক্তিদের সব রকমের আইনি বিকল্প শেষ না হওয়া পর্যন্ত এখনই বিদেশি ঘোষণা করা যাবে না। বাদ পড়া প্রতিটি ব্যক্তি বিদেশি ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারেন। আবেদন করার সময়সীমা ৬০ থেকে বাড়িয়ে ১২০ দিন করা হয়েছে।

বিশ্বশর্মা বলেন, ‘আমরা কেবল শান্তিপূর্ণভাবে, ভালোভাবে এই এনআরসি তালিকা করার কাজ শেষ করতে চাই এবং আমরা এটি নিশ্চিতভাবেই করবো। তবে এই এনআরসি আমাদের বিদেশিদের হাত থেকে মুক্তি পেতে সহায়তা করবে না। ইতোমধ্যে আসাম ও কেন্দ্র সরকার অবৈধ অভিবাসীদের মোকাবিলার নতুন কৌশল নিয়ে আলোচনা করছে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ১৯৫১ সালে আসামে প্রথম প্রকাশিত এনআরসি হালনাগাদ করা হচ্ছে। আদালতের নির্দেশ অনুসারে আসামে বসবাসরত ভারতীয় নাগরিকদের মধ্যে যারা পৃথকভাবে ১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চের পরে বাংলাদেশ থেকে এই রাজ্যে প্রবেশ করেছেন তাদের আলাদা করা হচ্ছে।

আসামের প্রকৃত নাগরিকদের নামের তালিকা (এনআরসি) শনিবার প্রকাশিত হয়েছে। তালিকায় চূড়ান্তভাবে ঠাঁই হয়েছে ৩ কোটি ১১ লাখ লোকের। তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ১৯ লাখ ৬ হাজার মানুষ। আজ সকাল ১০টায় অনলাইনে তালিকা প্রকাশ করা হয়।

আসামের চূড়ান্ত নাগরিক তালিকায় বাদ পড়ছে ১৯ লাখের বেশি বাঙালি মানুষ

আজ সকালে আসামের চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এই তালিকা থেকে বাদ পড়ছে ১৯ লাখের বেশি বাঙালি মানুষ। আজ ৩১ আগস্ট শনিবার সকাল ১০টায় বহু প্রতীক্ষিত এই তালিকা প্রকাশ করা হলো। এনআরসি সেবা কেন্দ্র ও সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে এই তালিকা। এনআরসির চূড়ান্ত তালিকায় ৩ কোটি ১১ লাখ ২১ হাজার ৪ জনের নাম অন্তর্ভুক্তি হয়েছে।

এর আগেই রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ৫১ কোম্পানি সিএপিএফ মোতায়েন করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার থেকেই বিপুল সেনা ও পুলিশ মোতায়েন করেছে মোদি সরকার। গুয়াহাটিসহ রাজ্যের উত্তেজনাপ্রবণ এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

এদিকে রাজ্যটির ৪০ লাখ লোকের ভাগ্য নির্ধারণে বছর চারেক আগে এই তালিকা বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এতে আসামে ভারতীয়দের শনাক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

এ ব্যাপারে আসাম সরকার জানায়, অবৈধ বাংলাদেশিদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর লক্ষ্যেই জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

এদিকে তালিকায় নাম না-থাকাদের এখনই বের করে দেয়া হবে না বলে কর্মকর্তারা বারবার আশ্বস্ত করলেও এর মাধ্যমে আসামের সংখ্যালঘু বাঙালি বিশেষত মুসলমানদের উইচ হান্টিং-এর শিকার হতে হবে বলে আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকরা।

তাছাড়া সংশোধিত তালিকা থেকে বাদ পড়া আবেদনকারীরা তালিকায় নাম ওঠাতে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আপিল করতে পারবেন বলে আগেই জানিয়েছেন রেজিস্ট্রার জেনারেল অব ইন্ডিয়া শৈলেশ। তিনি বলেন, আপত্তি করার জন্য জনগণকে পর্যাপ্ত এবং যথেষ্ট সুযোগ দেয়া হবে।

এদিকে প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকের ভয় পাওয়ার কারণ নেই। আসামের করিমগঞ্জের আইনজীবী শিশির দে ডয়চে ভেলেকে জানান, ৩১ আগস্টের তালিকা থেকে যারা বাদ পড়বেন তাদের স্থানীয় এনআরসি অফিস থেকে প্রত্যাখ্যান সংক্রান্ত আদেশের অনুলিপি দেয়া হবে। এটি নিয়ে তারা ১২০ দিনের মধ্যে বিদেশি ট্রাইব্যুনালে আপিল করতে পারবেন।

এ ব্যাপারে ভারতের গণমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার সকাল ১০টায় আসাম এনআরসির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে তালিকা। যাদের ইন্টারনেট কানেকশন নেই, তারা এনআরসি সেবা কেন্দ্রে গিয়ে তালিকা দেখতে পারবেন।

এদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আসামজুড়ে প্রাথমিকভাবে এক হাজার ট্রাইব্যুনাল বসানো হবে। ইতিমধ্যে ১০০টি চালু রয়েছে। তালিকায় নাম উঠেনি এমন কেউ ট্রাইব্যুনালে আপিল করে হেরে গেলে হাইকোর্টে যেতে পারবেন। সেখান থেকে সুপ্রিমকোর্টে যাওয়ার সুযোগ থাকবে।

আসামে ১৪৪ ধারা জারি

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের বেশ কয়েকটি এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। শনিবার (৩১ আগস্ট) আসামের নাগরিকত্বের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশকে কেন্দ্র করে এ সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয়েছে।

ইতোমধ্যে গুয়াহাটিসহ রাজ্যের উত্তেজনাপ্রবণ এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। আসামের ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা কুলধর শইকিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান,  রাজ্যে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ৫১ কোম্পানি সিএপিএফ পাঠিয়েছে কেন্দ্র। তবে আগে থেকেই রাজ্যে ১৬৭ কোম্পানি সিএপিএফ মোতায়েন করে রাখা হয়েছে।

দেশটির সুপ্রিম কোর্ট নাগরিকত্বের তালিকা হালনাগদ করার প্রক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণ করছে।

এদিকে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ নিয়ে আসামের নাগরিকরা এখন উদ্বেগের মধ্যে আছেন।

এদিকে আসাম পুলিশ জানিয়েছে, রাজ্যজুড়ে থাকা প্রায় ২৫০০ এনআরসি সেবা কেন্দ্রের মধ্যে এক হাজার ২শ কেন্দ্রকে উত্তেজনাপ্রবণ হিসিবে চিহ্নিত করেছে।

তারা রাজ্যের মানুষকে সতর্ক করার পাশাপাশি নিরাপত্তার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে।

এদিকে গত বছর করা ওই রাজ্যে ‘প্রমাণিত নাগরিক’ তালিকা থেকে বাদ পড়াদের মধ্যে ‍উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নাগরিকত্বের তালিকা নিয়ে রয়েছে নানা মিশ্র প্রতিক্রিয়া। ভারত জুড়ে বহু হিন্দু আসামের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির প্রশংসা করে বলেছেন, অন্য রাজ্যগুলো সেটা করার ‘সাহস’ পায়নি, আসাম সেটাই করে দেখিয়েছে।

কিন্তু বিরোধী দলগুলো এই প্রক্রিয়ার কঠোর নিন্দা জানিয়েছে এবং বলেছে নরেন্দ্র মোদির সরকার বহু পরিবারকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে ও লাখ লাখ মানুষকে রাতারাতি রাষ্ট্রবিহীন নাগরিকে পরিণত করেছে।

বিরোধীদল কংগ্রেস পার্টির নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, এই তালিকা মানুষের মধ্যে ব্যাপক নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে।

প্রতিবেশী রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এই তালিকার সবচেয়ে সরব সমালোচকদের একজন। তিনি আশঙ্কা করছেন, এই প্রশ্নে ‘রক্তগঙ্গা’ বয়ে যাবে এবং এই প্রক্রিয়া গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে একটা পরিহাস।

বিশ্ব কাঁপানো ইউটিউবারের গল্প

রফিকুল ইসলাম জসিম : যদি কাউকে জিজ্ঞেস করা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে বিখ্যাত ইউটিউবার কে? সবাই এক শব্দে উত্তর দেবে ‘পিউডাইপাই’। সম্প্রতি ইউটিউবে তার সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা ১০০ মিলিয়ন ছাড়িয়েছে! ইউটিউবের ইতিহাসে সর্বপ্রথম একক ব্যক্তি হিসেবে তিনি এই মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। তবে তার এই বিশাল সাফল্য ‘পিউডাইপাই’ ফ্যানবেজের বাইরের লোকদের এখনো বিভ্রান্ত করে।

নিয়মিত পত্রিকার হেডলাইনের শিরোনাম হওয়া এই বিশ্ববিখ্যাত ইউটিউবার বিভিন্ন সময়ে নানান বিতর্কে জড়িয়েছেন। ইহুদিবিদ্বেষ এবং বর্ণবাদের মতো ঘোরতর অভিযোগও উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। তবে গত মার্চ মাসে নিউজিল্যাল্ডের ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে হামলাকারী উগ্রপন্থি তার নাম নেওয়ায় সবচেয়ে বেশি সমালোচনায় আসেন তিনি। ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলাকারী ব্রেন্টন টারান্ট হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্যে গুলি শুরু করার আগে ‘সাবস্ক্রাইব টু পিউডাইপাই’ অর্থাৎ ‘পিউডাইপাই সাবস্ক্রাইব করুন’ বলে জোরে চিৎকার করেছিল।

‘পিউডাইপাই’ আসলে কে এবং তিনি কি করেন?

ইউটিউবে ‘পিউডাইপাই’ হিসেবে পরিচিত মানুষটির আসল নাম ফিলিক্স কেইলবার্গ। তিনি সুইডেনের নাগরিক। ২৯ বছর বয়সী এই তরুণ ‘পিউডাইপাই’ ছদ্মনামে ইউটিউব চ্যানেল চালান। ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া তার এই অদ্ভুত নামটির ব্যাখ্যা করেছেন তিনি এভাবে- একসঙ্গে অনেকগুলো বন্দুক থেকে গুলি বের হলে যে শব্দ হয় তা শুনতে অনেকটা এরকম ‘পিউ’, তারপর পৃথিবী মরে যায় মানে ‘ডাই’ এবং সবশেষে ভালো বুঝাতে ব্যবহার করেছেন ‘পাই’।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশুনা একেবারেই বাদ দিয়ে ২৯ এপ্রিল, ২০১০ সালে তিনি ইউটিউবে গেমিং চ্যানেল খুলেন এবং ভিডিও গেম খেলে তা আপলোড দেয়া শুরু করেন। সন্তানের এমন সিদ্ধান্তে তার কর্পোরেট এক্সিকিউটিভ বাবা-মা তার উপর অনেক বিরক্ত ছিলেন।

সত্যি কথা বলতে কেইলবার্গ অল্পসময়েই ইউটিউবার হিসেবে একজন সফল ব্যক্তি হয়ে গিয়েছিলেন এবং অনেক টাকাও কামিয়েছেন। ইউটিউবে তিনি মূলত বিভিন্ন ভিডিও গেমস খেলে তা রেকর্ড করে আপলোড করতেন, অন্যদের গেইমপ্লে নিয়ে মজার মজার সব রিঅ্যাকশন ভিডিও তৈরি করতেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন ক্যাজুয়াল কন্টেন্ট, কমেন্ট্রি এবং ব্যাঙ্গ করেও অনেক ভিডিও তৈরি করতেন। উল্লেখ্য যে, শুরুর দিকে অনেক ছোটোখাটো গেমস কোম্পানির বানানো গেমস খেলে সেসব ভিডিও ইউটিউবে আপলোড করেও তিনি প্রচুর টাকা আয় করেছেন।

২০১৩ সালের আগস্ট মাসে তিনি ইউটিউবে সবচেয়ে বেশি সাবস্ক্রাইব হওয়া ব্যক্তি ছিলেন এবং ২০১০ সালে ইউটিউবের ইতিহাসে সর্বপ্রথম ব্যক্তি হয়ে যান যার ভিডিও ১০ বিলিয়নবার দেখা হয়েছে। সবশেষ ২০১৯ সালে সর্বপ্রথম ইউটিউবে তার চ্যানেল ১০০ মিলিয়ন মাইলফলক স্পর্শ করেছে।

কেইলবার্গের সব উদ্ভট ভিডিও কন্টেন্টের ভিড়ে তার একটি কথা এখনও সত্য হয়েই আছে। আর তা হলো- ‘আমার সাধারণ হাতে অনলাইন স্টাইল আমোদপ্রমোদ এবং আপত্তিকরের মধ্যকার রেখাটি ঝাপসা করে দেয়।’

কেইলবার্গ একজন মজার এবং মনোমুগ্ধকর মানুষ। তিনি জানেন কখন কিভাবে নিজেকে গড়তে হয়। তিনি গেমিংকে উপভোগ্য বিনোদন হিসেবে অন্যতম এক উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন। সাউথ পার্কের নির্মাতা ট্রে পার্কার ২০১৪ সালে তার একটি কার্টুনের গল্পে তাকে ফিচার করে লিখেছিলেন- ‘সময়, ২০১৬ সালের বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির মধ্যে একজন ইউটিউবারকে বরণ করে নিয়েছে।’

১০০ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার থাকার মানে আসলে কী?

সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যায় ‘পিউডাইপাই’ পৃথিবীর সব বাঘা বাঘা সেলিব্রিটিকেও ছাড়িয়ে গেছেন। ইউটিউবে জাস্টিন বিবার (৪৬ মিলিয়ন), এড শেরেন (৪১ মিলিয়ন) এবং আরিয়ানা গ্রান্ডের (৩৭ মিলিয়ন) মতো বিশ্ববিখ্যাত সেলিব্রিটিদের সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা তার অর্ধেকেরও কম।

সাবস্ক্রাইবার যেখানে আছে, সেখানে তো ডলারের ছড়াছড়ি থাকবেই। বিশ্ববিখ্যাত ফোর্বস ম্যাগাজিনের তথ্যমতে, ইউটিউব থেকে কেইলবার্গের গতবছরের মোট আয় ছিল ১৫.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এছাড়া স্পনসর্ড ভিডিওর বিভিন্ন বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছ থেকে পেয়েছেন আরো প্রায় সাড়ে ৪ লাখ মার্কিন ডলার। ফোর্বস ম্যাগাজিনে আরো উল্লেখ করা হয়, তার ভিডিও প্রতি ১ হাজার দর্শক দেখলে তিনি আয় করেন প্রায় ৫ মার্কিন ডলার।

কার জন্য তার কাজ?

কেইলবার্গের বেশিরভাগ দর্শকই তরুণ প্রজন্মের। ‘পিউডাইপাই’ চ্যানেল বিশ্লেষণ করে পাওয়া তথ্যমতে, দর্শকদের ৪৪ শতাংশই ১৮ থেকে ১৪ বছর বয়সী এবং ২৮ শতাংশ ২৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সী। তার দর্শকদের মাত্র ১ শতাংশ ৫৫ বা তার বেশি বয়সের। অর্থাৎ তিনি মূলত তরুণ প্রজন্মের জন্যই কন্টেন্ট তৈরি করেন।

অন্যান্য বাবা-মায়েদের মতো কেইলবার্গের নিজের মাও তার ছেলের ভিডিওগুলোর প্রতি খুব একটা আগ্রহ দেখান না। ‘আমি আমার ছেলের চ্যানেলে যাই, ভিডিওগুলো দেখি, কমেন্ট পড়ি কিন্তু হাস্যরসাত্মক তেমন কিছুই চোখে পড়ে না আমার।’- ২০১২ সালে এক সুইডিশ টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি একথা বলেছিলেন।

কিভাবে তিনি ১০০ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার পেলেন? 
শীর্ষ ইউটিউবার হওয়া স্বত্ত্বেও ‘পিউডাইপাই’ ২০১৮ সালের শেষের দিকে ভারতীয় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এবং মিউজিক কোম্পানি ‘টি-সিরিজ’ এর বিপরীতে একটা প্রচারণা চালায়। এই প্রচারণার শিরোনাম ছিল এরকম ‘সাবস্ক্রাইব টু পিউডাইপাই’।

২০১০ সাল থেকে ইউটিউবে আসার পর থেকে ‘টি-সিরিজ’ নিয়মিত কন্টেন্ট আপলোড করা শুরু করে এবং খুব দ্রুতই জনপ্রিয়তা পেয়ে যায়। খুব দ্রুত সাবস্ক্রাইবার বাড়তে থাকায় ইউটিউবে ‘টি-সিরিজ’ এবং ‘পিউডাইপাই’ এর মধ্যে একটা অলিখিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হয়ে যায়। এদিকে ইউটিউবের টপ পজিশনকে কর্পোরেটমুক্ত রাখতে তার নেতৃত্বে আরো অনেক ইউটিবার ‘সাবস্ক্রাইব টু পিউডাইপাই’ প্রচারণা শুরু করে। ‘টি-সিরিজ’ কে হেয় করে একটি র‌্যাপ গানও প্রকাশ করা হয়।

‘সাবস্ক্রাইব টু পিউডাইপাই’ প্রচারণাটি খুব দ্রুতই বিশ্রী রূপ ধারণ করে। সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট হ্যাক, ম্যালওয়্যার অ্যাটাক ইত্যাদি অভিযোগ উঠতে শুরু করায় কেইলবার্গ তার সমর্থক এবং ভিউয়ারদের ব্যাপারটি এখানেই থামিয়ে দিতে বলেন। কিন্তু ততক্ষণে তার অসংখ্য সাবস্ক্রাইবার বেড়ে গিয়েছিল। ২০১৮ সালে ওই প্রচারণা চলাকালীন কয়েকমাসে ‘পিউডাইপাই’ যে পরিমাণ সাবস্ক্রাইবার পেয়েছিল গোটা ২০১৭ সালেও সে পরিমাণ নতুন সাবস্ক্রাইবার পায়নি সে।

‘পিউডাইপাই’ চ্যানেলের নামে বিভিন্ন নেতিবাচক আলোচনা-সমালোচনার জন্য গত কয়েকমাস ধরে তিনি তার কন্টেন্টের বিষয়বস্তুর উপর উদার হয়েছেন। বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি মাইনক্রাফট গেমপ্লে নিয়ে কন্টেন্ট তৈরি করছেন, যা তাকে শুরু দিকে তুমুল জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছিল। এতে ‘পিউডাইপাই’ শিকড়ে ফিরেছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেছে।

গত সপ্তাহে যখন ‘পিউডাইপাই’ দীর্ঘদিনের প্রেমিকা মারজিয়া বিসগনিনের সঙ্গে তার বিয়ের একটি ভিডিও পোস্ট করে, ইউটিউব তখন তাকে ১০০ মিলিয়ন ল্যান্ডমার্ক ছোঁয়ার জন্য অভিবাদন জানায়। এর প্রতিক্রিয়ায় গতকাল ২৭ আগস্ট তিনি নিজের স্টাইলে তার ফলোয়ারদের জানান, ‘আমরা এটি করেছি, কি অবাস্তব এক কৃতিত্ব! আমি নিজেকে যোগ্য মনে করছি না কিন্তু আমি আজীবন কৃতজ্ঞ। কথা দিচ্ছি হানিমুন থেকে ফিরে এসেই লাইভস্ট্রিম করব।’

তথ্যসূত্র : দ্য সানডে মর্নিং হেরাল্ড
 

Walton AC

বিশ্বকাপে জায়গার লড়াইয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ

আইসিসি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাই পর্ব শুরু হচ্ছে আজ থেকে। আর উদ্বোধনী দিনে মাঠে নামবে বাংলাদেশের নারীরা। প্রথম ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ পাপুয়া নিউগিনি।

বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে বাংলাদেশের এই ম্যাচটি আরম্ভ হবে বিকাল তিনটায়।

বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে নামার আগে বাংলাদেশ কয়েকটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছিল যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল থাইল্যান্ড ও নেদারল্যান্ড। সবগুলো ম্যাচেই দুর্দান্ত পারফর্ম করে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে টাইগার নারীরা। আজ জয় দিয়েই বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব শুরু করতে তাই মরিয়া টাইগার নারীরা।

শেষ পর্যন্ত ৪ স্পিনার ৩ পেসারেই সাজানো হলো টেস্ট স্কোয়াড

জাগো নিউজের পাঠকরা আগেভাগেই জেনে গিয়েছিলেন, আফগানিস্তানের সাধে টেস্ট দলে থাকছে না কোন নতুন মুখ। সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত আর আফিফ হোসেন ধ্রুবকে নিয়ে কথা উঠলেও তারা কেউ থাকবেন না, তা আগেই জানা হয়ে গিয়েছিল। জানা ছিল, দল হবে ১৫ জনের। তাতে থাকবেন ৩ পেসার আর ৪ স্পিনার।

ঠিক তাই। গতকাল ৩০ আগস্ট শুক্রবার যে দল ঘোষণা হয়েছে, তাতে আছেন তিন পেসার-তাসকিন আহমেদ, আবু জায়েদ রাহি আর এবাদত হোসেন।

আর অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের সাথে স্পিনার হিসেবে দলে জায়গা হয়েছে আরেক বাঁহাতি তাইজুল ইসলাম এবং দুই অফস্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ ও নাইম হাসানের।

দল সম্পর্কে পূর্ব ধারণাটি মোটামুটি পরিষ্কার হলেও একটি জায়গায় হিসেবে মেলেনি শেষ পর্যন্ত। বলা হয়েছিল- তামিম ইকবাল যেহেতু নেই, ছুটিতে। তাই সাদমান ইসলামের সঙ্গী হিসেবে প্রথমে নবীন কাউকে নেয়ার ইচ্ছে থাকলেও পরে সেখান থেকে সরে এসে অভিজ্ঞ কাউকে দলে নেয়ার সিদ্ধান্তই ছিল চূড়ান্ত। প্রশ্ন ছিল জহুরুল ইসলাম অমি, না ইমরুল কায়েস?

শুরুতে জহুরুল ইসলাম অমির নাম বেশি শোনা গেলেও সময় গড়ানোর সাথে সাথে ইমরুল কায়েস চলে আসেন আলোচনায়। দল চূড়ান্ত করার ঠিক আগের দিন মানে ২৯ আগস্ট মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে যায়, সাদমান ইসলামের ওপেনিং পার্টনার হিসেবে আরেক বাঁহাতি ইমরুল কায়েসকেই রাখা হচ্ছে।

কিন্তু একদম শেষ মুহূর্তে সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন নির্বাচকরা। নেব নেব করেও শেষ পর্যন্ত ইমরুল কায়েসকে নেননি তারা। জহুরুল ইসলাম অমিও বিবেচনায় আসেননি। তার বদলে দলে রাখা হয়েছে মোহাম্মদ মিঠুনকে।

গতকাল শুক্রবার থেকে যে দুদিনের প্রস্তুতি ম্যাচ শুরু হয়েছে, তাতে সাকিবের নেতৃত্বাধীন লাল দলের হয়ে মিঠুন ওপেনও করেছেন। যদিও কিছুই করতে পারেননি। ১৪ বলে ১ রান করে আউট হয়ে গেছেন।

অর্থাৎ নির্বাচকরা সাদমানের সাথে কোন প্রতিষ্ঠিত টেস্ট ওপেনারকে নেননি। সাদমানের সঙ্গী হিসেবে মূলত সৌম্য সরকারের ওপরই নির্ভর করা হয়েছে। আর বিকল্প চিন্তা হিসেবে মিঠুনকে ধরা হয়েছে।

কেন শেষ মুহূর্তে ইমরুলের জায়গা হলো না? তার ব্যাখ্যা গতকাল দিয়ে দিয়েছেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু। ইমরুলের ছেলে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে। তার দেখভাল করতে হচ্ছে ইমরুলকেই। তাই শেষ মুহূর্তে অনুশীলন করা হচ্ছেনা এবং খুব স্বাভাবিকভাবে মনোযোগ আর মনোসংযোগটাও আছে ছেলের দিকে। তাই তাকে টেস্ট দলে না রাখাকেই উত্তম মনে করেছেন নির্বাচকরা। তাই ইমরুল নিজেকে খানিক দূর্ভাগা ভাবতেই পারেন।

ওদিকে তিন পেসার ফর্মুলা ঠিক আছে। কিন্তু যাকে অটোমেটিক চয়েজ ভাবা হচ্ছিল, সেই বাঁহাতি মোস্তাফিজুর রহমান নেই। তার দলে না থাকাও রীতিমত বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।

অবশ্য তাৎক্ষণিকভাবে তার জবাবও দিয়ে দিয়েছেন প্রধান নির্বাচক। মোস্তাফিজ কন্ডিশনিং ক্যাম্প মানে ফিজিক্যাল ট্রেনিংয়ের সময় পিঠে ব্যথা পেয়েছেন। নির্বাচকদের কথা শুনে মনে হলো ব্যথা যে খুব গুরুতর, তা নয়। তবে যেহেতু সামনেই তিন জাতি টি-টোয়েন্টি আর নভেম্বরের একদম প্রথমেই ভারত সফর (দুই টেস্ট এবং তিন টি-টোয়েন্টি ), তাই ভবিষ্যতের কথা ভেবে মোস্তাফিজকে বিশ্রাম দেয়া হয়েছে।

ইনজুরি মুক্ত হয়ে এখন ভাল বোলিং করার কারণে তাসকিন আহমেদকে বিবেচনায় আনা হয়েছে। আর আবু জায়েদ রাহি আগে ভাল করার কারণে থেকে গেছেন। খালেদ আহমেদও ছিলেন বিবেচনায়। কিন্তু এ বছর মার্চে নিউজিল্যান্ডে অভিষেক হওয়া এ দ্রুত গতির বোলার পুরোপুরি ফিট নন। তাকেও ইনজুরি গ্রাস করেছে। কাজেই তার বদলে আরেক দ্রুত গতির বোলার ইবাদত হোসেন জায়গা পেয়েছেন।

এর বাইরে কোনই চমক নেই। আর যাদের থাকার কথা, সেই অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের সাথে ওপেনার সাদমান ইসলাম, সৌম্য সরকার, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহীম, লিটন দাস, মাহমুদউল্লাহ, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ঠিকই আছেন। শুধু মিঠুনই তেমন আলোচনায় ছিলেন না। বোঝাই গেছে, তাকে আসলে বিকল্প ওপেনার হিসেবে চিন্তা করা হয়েছে।

Design a site like this with WordPress.com
Get started